যুদ্ধশিশু

71

বার পঠিত

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে বিপুল সংখ্যক গর্ভবতী নারীর গর্ভপাতের জন্য WHO এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় অস্ট্রেলিয়ান ডক্টর জিওফ্রে ডেভিস। বীনা ডি কস্টা বলে এক ভদ্রমহিলা ২০০২সালে ডক্টর জিওফ্রে ডেভিসের সিডনিতে একটা সাক্ষাৎকার নেন যুদ্ধ পরবর্তী এদেশের নারীদের অবস্থা জানার জন্য। সে সাক্ষাৎকারে জিওফ্রে ডেভিস জানান দিনে ১০০ জনের মত সবমিলিয়ে লাখের উপর মেয়েদের গর্ভপাত করেছেন তিনি তার ছয় মাসের বাংলাদেশ অবস্থান কালে। মূলত তিনি ৩০ সপ্তাহের কম বয়সী গর্ভবতীদের গর্ভপাত করতেন। এই এক লাখের পরেও আর অনেক মেয়েই ছিল যাদের সময় অনেক বেশি হয়ে যাওয়ায় গর্ভপাত করা সম্ভব হয় নি। ঠিক কত জনের বাচ্চা হয়েছিল তা বলতে পারেন নি ডক্টর জিওফ্রে ডেভিস। কিন্তু ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার সফর করে ঢাকায় ইউনিসেফ কর্মকর্তা ও লীগ অব রেড ক্রস সোসাইটিস প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর অটোয়ায় সদর দপ্তরে ফিরে দেওয়া প্রতিবেদনে এ দেশে যুদ্ধশিশুর সংখ্যা ১০ হাজার বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু এ সংখ্যাটা সর্বজন স্বীকৃত নয় বলে সঠিক সংখ্যাটা বলা যাচ্ছে না। সন্তান প্রসবের ঘটনা গোপন রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল সন্তান ও মায়ের কথা চিন্তা করেই। এমনকি তাদের বিদেশে দত্তক দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ-সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়। কারণ কোন যুদ্ধশিশু কোন দেশে কোন ধর্মে কেমন পরিবেশে বেড়ে উঠবে তা জানাজানি হওয়াটা ছিল খুবই স্পর্শকাতর। তাই আর জানা যায় নি ঠিক কতজন যুদ্ধ শিশু ছিল আর কোথায় আছে তারা আর কেমনই বা আছে।

বাংলাদেশের যুদ্ধশিশুদের দত্তক নেওয়ার বিষয়ে প্রথম আগ্রহ প্রকাশ করে কানাডা। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী মাদার তেরেসা ও তাঁর মিশনারিজ অব চ্যারিটির সহকর্মীদের ব্যক্তিগত চেষ্টা এবং বাংলাদেশের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুটি কানাডীয় সংগঠন দত্তক গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়। এ সংগঠন দুটির একটি হচ্ছে মন্ট্রিয়লভিত্তিক আন্তর্দেশীয় দত্তকবিষয়ক সংস্থা ফ্যামিলিজ ফর চিলড্রেন এবং অন্যটি টরন্টোভিত্তিক বিশ্বের নির্যাতিত শিশুদের কল্যাণে নিয়োজিত ত্রাণ প্রতিষ্ঠান কুয়ান-ইন ফাউন্ডেশন। জানা যায় ১৯৭২ সালের ১৭ জুলাই যুদ্ধ শিশুদের প্রথম দলটি কানাডায় রওনা দেয়। পুরান ঢাকায় মিশনারিজ অব চ্যারিটির শিশু ভবন থেকে ১৫টি যুদ্ধশিশু নয়াদিল্লি ও নিউ ইয়র্ক হয়ে টরন্টো পৌঁছায়, যাতে সময় লেগে যায় প্রায় দুই দিন। সেখানে যুদ্ধ শিশু ছিল ২১ জনের মত। এই একুশজন থেকে সুস্থ সবল দেখেই ১৫ জনকে নেয়া হয়। জানা যায় বাকি ৬ জনের কেউই পরবর্তীতে বেঁচে ছিল না। viagra in india medical stores

রায়ান বাদল গুড

বাংলাদেশ থেকে প্রথম যে দলটা কানাডা যায় তার একজন রায়ান গুড। ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ ও সম্পদের উপর ডিগ্রি নিয়ে বাবা মাকে সাথে করে ১৯৮৯ সালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে এসে সপ্তাহ থাকেন। পরবর্তীতে আসল মায়ের খোঁজে বান্ধবীকে নিয়ে আবারও আসেন ১৯৯১ সালে। সেবার পুরান ঢাকার সেই মিশনারিজে মায়ের খোঁজ করেন কিন্তু কেউই বলতে পারে নি তার ঠিকানা। শুধু কেউ একজন বলেছিলেন তার মা বরিশালের মেয়ে ছিলেন। পরে বিরিশালেও যান কিন্তু মাকে আর খুঁজে পান নি। সেবার ব্যার্থ হয়েই ফিরে যান। কিন্তু যাবার আগে নিজেকে বাংলাদেশী বলে নাগরিকত্বের আবেদন করেন এবং পেয়েও যান। তখন তার নাম ছিল রায়ান বাথল গুড। আসলে মিশনারিজে রায়ানের নাম লেখা ছিল বাথল। তাই রায়ানের দত্তক বাবা মা তার এই বাথল নামটি রেখে দেন রায়ান এর মিডেল নেম হিসেবে। তখন বাংলাদেশ সরকার জানায় বাথল নামে বাংলাদেশে কোন নাম হয় না এটা খুব সম্ভবত বাদল হবে। পরে এটাকে এফিডেবিট করে রায়ান বাংলাদেশী রায়ান বাদল গুড নাম নিয়ে কানাডায় ফিরে যান। ১৯৯৮ সালে আবার বাংলাদেশে থাকার ইচ্ছায় বাংলাদেশে আসেন। একবছর থেকেও এখানকার সমাজ,সংস্কৃতি আর পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে না পেরে আবার কানাডায় ফিরে যান।।

রানী জয় মরাল synthroid drug interactions calcium

রানীকে দত্তক নেন স্যাসকাট্যুন শহরের ইউনিভার্সিটি অব সাসকাচিওয়ানের অধ্যাপক ড. রবিন মরাল ও বারবারা মরাল দম্পতি। ছোটবেলা থেকেই মিউজিকের প্রতি আকর্ষণ ছিল রানীর। খুব ভাল কবিতাও লিখতো। রানির বাবা মাও তার অতীত তার থেকে কখনো গোপন করেনি। ১৬ বছর হওয়ার পর থেকেই রানীর মধ্যে একটা চেঞ্জ আসা শুরু করে। বারবার শুধু নিজের আসল মা কে খুঁজে ফিরে। মরাল দম্পত্তি ভাবে হয়তো বাংলাদেশ ঘুরে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তাই ১৯৮৯ সালে রানীকে নিয়ে তারা বাংলাদেশে আসেন। কিন্তু রানীও তার মাকে খুঁজে পায় নি। ফিরে গিয়ে রানির অবস্থা আর খারাপ হতে থাকে। তার প্রায়ই মনে হতে থাকে তার আসল মা তার আসেপাশেই ঘুরছে। কিন্তু সে দেখতে পারছে না। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, তাঁর বাইপোলার ডিজঅর্ডার হয়েছে। দীর্ঘ সাত বছর চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৯৯৯ সালের ৭ জুন ২৭ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন রানী। যাবার আগে একটা কবিতা লিখে যায় রানী

নদীর সন্তান’ venta de cialis en lima peru

ত্যাগ করেছিলে তুমি আমাকে যখন আমি শিশু
কেন তা জানি না আমি, কখনো জানব না
কিন্তু তুমি সারাক্ষণ থাকবে মা আমার ভাবনায়,
ভালোবাসবোই জেনো, যেমন এখনও ভালোবাসি।
ছিলাম বিষণ্ন সদা, কেঁদেছি তোমার জন্য কত,
জর্জর ব্যথায় ভরা কত যে রাত্রিতে,
তোমাকে ছোঁবার আগে, জড়িয়ে ধরার আগে
মনে হতো এই ব্যথা কখনো যাবার নয় আর ।

আসলে বিষয়টা এতটাই স্পর্শকাতর ছিল যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছিল, এ-সংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে। কার গর্ভজাত সন্তান এটা যেমন প্রকাশ করা যাবে না, তেমনি কোন দেশে, কোন ধর্মে বেড়ে উঠবে সেটাও গোপন রাখার বিষয় ছিল। এ ছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে যেখানে কোনো প্রশাসনই ছিল না সেখানে বঙ্গবন্ধু সরকার একসঙ্গে অনেক কাজে ব্যস্ত ছিল। সে কারণেই হয়তো ডকুমেন্ট সংরক্ষণ সম্ভব হয়নি। মোহাম্মদ জমির মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তীকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পরিচালক হিসেবে এ-সংক্রান্ত কাজে দায়িত্ব পালন করেন। acquistare viagra in internet

যুদ্ধশিশুদের বিষয়টি দেশে কখনোই তেমন আলোচিত হয়নি। তবে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে দেওয়া ফাঁসির রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেন, ‘একাত্তরে যেসব নারী ধর্ষিত হয়েছেন এবং যুদ্ধশিশু হিসেবে যাদের জন্ম হয়েছে তারা আমাদের জাতীয় বীর। সমাজ ও রাষ্ট্র আমরা কেউই তাদের প্রতি মনোযোগী হইনি। একাত্তরে নির্যাতিত নারী ও যুদ্ধশিশুদের পুনর্বাসনের জন্য একটি সোশ্যাল সার্ভিস প্যাকেজ চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয় রায়ে। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রথম সারির বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুদের শনাক্ত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও বলেন ট্রাইব্যুনাল। কায়সারের বিরুদ্ধে ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্য দেন হবিগঞ্জের একজন বীরাঙ্গনা ও তাঁর যুদ্ধশিশু।

zoloft birth defects 2013

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

can your doctor prescribe accutane

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

about cialis tablets
side effects of drinking alcohol on accutane
doctus viagra