চিঠি

886

বার পঠিত

‘তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়’ – কোন নেতার এমন উদাত্ত আহ্বানের সাথে তাঁর দেশের জনগণের এই যে স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন সেটা একাত্তরের বাংলাদেশ ছাড়া আর কোন জায়গায় এত প্রবলভাবে দেখা দিয়েছিল কি না সন্দেহ হয়। আক্ষরিক অর্থেই একাত্তরের মুক্তির সংগ্রাম হয়ে উঠে এক ‘জনযুদ্ধ’ – যেখানে অংশ নিয়েছিলেন সমাজের প্রতিটি শ্রেণীর জনগন। যেমন ছিলেন সামরিক প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত যোদ্ধা, তেমনি ছিলেন ‘সমর’ বিষয়ক পূর্ণ অজ্ঞ জনসাধারণ। আমাদের সামরিক মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিলেন যুদ্ধ বিষয়ক তাদের অর্জিত জ্ঞান দিয়ে, আর সাধারণ মানুষগুলো পাকি জানোয়ারদের মুখোমুখি হয়েছিল তাদের বুকের আবগকে সর্বশ্রেষ্ঠ অস্ত্র বানিয়ে। সেই আবেগের সাথে যখন মিলিত হয়েছিল রিভলবার, বন্দুক, কামান – তখন তারা হয়ে উঠেছিল দুর্দমনীয়। metformin tablet

 

আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সে আবেগটা বুঝতে পারা কখনোই সম্ভব নয়। তবে সে আবেগের কিছু ছিটেফোটা পাওয়া যায় তাদের লেখা সে সময়ের চিঠি পত্রে। এতেই আমরা নিজেকে ধন্য মনে করি। মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে লিখিত চিঠিগুলো সংকলন করে “একাত্তরের চিঠি” নামে একটা মূল্যবান বই প্রথমা প্রকাশনী থেকে বের হয়েছিল ২০০৯ সালে। দেখা যায়, সে সময়ের বেশির ভাগই চিঠিই মায়ের কাছে লেখা। তাদের চিঠিতে ‘মা’, ‘মাতৃকা’, ‘দেশমাতৃকা’, ‘মাটি’ – সব যেন মিলে মিশে একাকার। এই চিঠিগুলোর মাঝে কখনো কখনো ধরা পড়েছে একাত্তরের ভয়াবহতার কিছু দৃশ্য; তবে বেশীরভাগ চিঠিই একান্ত ব্যাক্তিগত আবেগে ভরপুর, সে আবেগের মাঝে খুজে পাওয়া যায় দেশের প্রতি গভীর টান, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ববোধের চেতনা, এবং পরিশেষে ভবিষ্যৎ সন্তানকে স্বাধীনতার আস্বাদ গ্রহনের সুযোগ দেয়ার গভীর আকাঙ্ক্ষা।

একাত্তরের চিঠি – প্রথমা প্রকাশনী

 

শহীদ মোস্তাক, পুরো নাম মীর মোস্তাক হোসেন ছিন্টু। বরিশালের পেস্কারবাড়ি পাড়ার মীর মোয়াজ্জেম হোসেনের ৬ষ্ট পুত্র। একাত্তরের উত্তাল সময়ে তাঁর বয়স ছিল আঠারো, তখন তিনি আই.এ. পরীক্ষার্থী।

অনেকটা বাবা মায়ের অবাধ্য হয়েই মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন।

বাংলার বুকে তখন স্বাধীনতার সূর্য উঠি উঠি করছে; তীব্র অন্ধকারের পর ধীরে ধীরে আলোর রেখা দেখা শুরু হয়েছে। বিজয়ের মাত্র সপ্তাহখানেক আগে , ৭ ডিসেম্বরে “আঠারো বছর বয়সী” বাংলার এই বীর ছেলে বাকেরগঞ্জ থানার ডাকবাংলোর সামনে এক সম্মুখ লড়াইয়ে পাকিস্তানি ও রাজাকারদের গুলিতে শহীদ হন। তখন ভোর সাতটা! tome cytotec y solo sangro cuando orino

মোস্তাকের পাশেই তখন যুদ্ধ করছিল তাঁরই ছোট ভাই ‘নান্টু’। ভাইয়ের পাশে থেকেই রাইফেল চালাতে থাকে নান্টু যেন ভাইয়ের লাশটা পাকিরা না নিয়ে যেতে পারে। অনেক্ষণ পর অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা এসে মোস্তাকের লাশ উদ্ধার করেন।

মায়ের কাছে শহীদ মোস্তাক চিঠি লিখতেন নিয়মিত। এই চিঠি ছিল তার মায়ের কাছে লেখা শেষ চিঠি।

মাকে লেখা মোস্তাকের সেই চিঠিঃ

আম্মা,

শ্রদ্ধেয় ছালাম জানবে। দোয়া করো। পাক সেনারা আসলে নিরীহ গ্রাম বাংলার মানুষকে হত্যা করতে চায় তাই ওদের প্রতিকারে বসে আছি। একবার দেখলেও হয়তো তোমার ভয় করবে। কিন্তু তোমার ছেলে ভয় পায় না ইনশাল্লাহ। ওদের বিষদাত ভেঙ্গে দিতে হবে। ওরা বুঝে নিক বাংলার ছেলেরা বীরের জাত।

দোয়া করো। হয়তো এই লেখা তোমার হাতে গিয়ে নাও পৌছাতে পারে। তোমার মতো কত মায়ের ছেলেকে ওরা খুন করেছে। আজ আমি যদি শহীদ হই তুমি দুঃখ পেওনা। গর্ব করে বলবে যে আমার ছেলে বাংলার জন্য আত্ন উৎসর্গ করেছে। মা আজ এই মুহূর্তে বার বার শুধু তোমার কথা মনে পড়ছে। তুমি দোয়া করবে।

  doctus viagra

শহীদ মোস্তাকের লেখা চিঠি – দৈনিক পূর্বদেশ

সূত্রঃ “দৈনিক পূর্বদেশ” – ২০ জানুয়ারী, ১৯৭২

 

এই চিঠিটা লিখেছেন মুক্তিযোদ্ধা দুলাল, পুরো পরিচয় জানা যায় নি। ফুলবাড়িয়ার সম্মুখযুদ্ধে আহত হন, পরে মারা যান। তাঁর বুক পকেটে চিঠিটা পাওয়া যায়। এটি পরে মুক্তিযুদ্ধকালে প্রকাশিত ‘জাগ্রত বাংলা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। will i gain or lose weight on zoloft

মায়ের কাছে লেখা চিঠিটা মায়ের কাছে পৌছায় নি; কেননা, মায়ের পরিচয়ও জানা সম্ভব হয় নাই।

এই চিঠিটা আমার ব্যাক্তিগত খুবই প্রিয় – যতবারই পড়ি প্রেরকের লেখার ধরণ, চিঠির ভেতরে লুকায়িত আবেগ, স্বপ্নের উচ্ছ্বাস – সবই আমাকে মুগ্ধ করে; আমার চোখ জলে ভিজে উঠতে বাধ্য করে।

মাগো, viagra in india medical stores

সবেমাত্র রণাঙ্গন থেকে ফিরে এসে শিবিরে বিশ্রাম নিচ্ছি। একটা বিস্তীর্ণ এলাকা শত্রুমুক্ত করতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছি। মনটা তাই বেশ উৎফুল্ল। হঠাৎ মনে পড়ল তোমাকে। বাড়ি থেকে আসার পর এই প্রথম তোমাকে লিখছি। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তোমায় লিখতে পারিনি। বাঙ্কারে বসে আছি। বাইরে ভীষণ বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি আর বাতাসের শব্দ মিলে একটা চাপা আর্তনাদ ভেসে আসছে।

 

মাগো, আজ মনে পড়ছে বিদায় নেবার বেলায় তোমার করুণ হাসি মুখ। সাদা ধবধবে শাড়িটাইয় বেশ মানিয়েছিল তোমাকে। সেদিনের পূর্ব দিগন্তের সূর্যটা বেশ লাল মনে হয়েছিল। আমার কি মনে হয়েছিল জানো মা? অসংখ্য বাঙ্গালীর রক্তে রঞ্জিত ঐ লাল সূর্যটা। ওর প্রতিটি কিরণচ্ছটা পৃথিবীতে জন্ম দিচ্ছে অগ্নি শপথে বলীয়ান, স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত এক একটা বাঙ্গালী সন্তান। মাগো – তোমার কোলে জন্মে আমি ধন্য। শহীদের রক্তরাঙা পথে তোমার আদুরে ছেলেকে এগিয়ে দিয়েছেক্ষনিকের জন্যও তোমার বুক কাঁপেনি, স্নেহের বন্ধন – দেশ মাতৃকার ডাক উপেক্ষার করতে পারোনি। মা, তুমি শুনে খুশি হবে যে তোমারই মতো অসংখ্য জননী তাঁদের স্নেহ ও ভালোবাসার ধন-পুত্র – স্বামী, আত্নীয় –সর্বস্ব হারিয়েও শোকে মূহ্যমান হয়নি; বরং ইস্পাত কঠিন মনোবল নিয়ে আজ অগ্নি শপথে বলীয়ান।  

 

মাগো – বাংলার প্রতিটি জননী কি তাঁদের ছেলেকে দেশের তরে দান করতে পারে না – পারে না মা – বোনেরা ভাইয়েদের পাশে এসে দাঁড়াতে? তুমিই তো একদিন বলেছিলে, সেদিন বেশি দূরে নয় – যেদিন এ দেশের শিশুরা মা – বাবার কাছে বিস্কুট – চকলেট না চেয়ে চাইবে পিস্তল রিভলবার। সেদিনের আশায় পথ চেয়ে আছে বাংলার প্রতিটি সন্তান, যেদিন বাংলার স্বাধীনতার সূর্য প্রতিফলিত হবে, অধিকারবঞ্চিত, শোষিত, নিপীড়িত, বুভুক্ষ, সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীর আশা – আকাঙ্ক্ষা। যে মনোবল নিয়ে প্রথম তোমা থেকে বিদায় নিয়েছিলাম, তা আজ শতগুন বেড়ে গেছে। শুধু আমার নয়, প্রতিটি বাঙ্গালী খুনের হানছে মাতোয়ারা। তাই তো বাংলার আনাচে কানাচে এক মহাশক্তিতে বলীয়ান তোমার অবুঝ শিশুগুলোই আজ হানাদার বাহিনীকে চরম আঘাত হেনেছে – পান করছে হানাদার পশুদের তাজা রক্ত। ওরা মানুষ হত্যা করছে – আর আমরা পশু হত্যা করছি।

 

মা, মাগো। দুটি পায়ে পড়ি। তোমার ছেলে ও মেয়েকে দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে ঘরে আটকে রেখো না। ছেড়ে দাও স্বাধীনতার উত্তপ্ত রক্তপথে। শহীদ হয়ে অমর হব; গাজী হয়ে তোমারই কোলে ফিরে আসব মা।

মাগো – জয়ী আমরা হবই। দোয়া রেখো। জয় বাংলা।

তোমারই

দুলাল

  metformin synthesis wikipedia

মুক্তিযোদ্ধা দুলালের লেখা চিঠি

মুক্তিযোদ্ধা দুলালের লেখা চিঠি

সূত্রঃ একাত্তরের চিঠি zithromax azithromycin 250 mg

 

venta de cialis en lima peru

এই চিঠির লেখক শহীদ সোলেমান – সিলেটের বিশ্বনাথে জন্মগ্রহণ করেন, যুদ্ধ করতেন ৪ নম্বরসেক্টরে। ১৯৭১ এর ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানিরা তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যাকরে।

চিঠিটা তাঁর মায়ের কাছে লেখা। zoloft birth defects 2013

মা,
পত্রে আমার ভক্তিপূর্ণ সালাম গ্রহণ করবেন। আশাকরি খোদার অশেষ কৃপায় সবাই ভালো। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। মা আমাদেরজন্য আপনাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এবং আরো কষ্ট করতে হবে। আমার বিশ্বাসআমার মা কখনও এই কষ্টে ভেঙ্গে পড়বেন না।

বড় ভাই সাহেবকে দেশে পাঠালাম। কারণ তিনি বেসামরিক উপায়ে দেশ সেবা করতে পারবেন। আপনাদের অবস্থা সম্পর্কে আমরা অনেকদিন ধরে অজ্ঞাত। তাই মন বড়ই চিন্তিত। যাক এসব চিন্তার কোন ফল নাই। শুধু আপনারা বেঁচে থাকলেই হয়।… … …


মা আজকে আপনার সবচেয়ে বড়গোরব যে, আপনার ছেলে সত্যিকারের দেশসেবার উপায় পেয়েছে। বিবরণ ভাই সাহেবেরকাছ থেকে জানতে পারবেন। সত্যিকারের দেশ সেবা করে যদি প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়সেটা ভালো। যাক আমার জন্য কোন চিন্তা করবেন না।, অদূর ভবিষ্যতেই দেখা হবে।আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের আর বেশী বাকি নয়। … viagra vs viagra plus

 

যাক আর কিছু লিখলাম না। সম্ভব হলে পরে পত্র দেব। দাদাজীর কাছে আমার সালাম রইলো। বাড়ির অন্যান্যদের কাছে শ্রেণীমত সালাম রইলো।


ইতি
আপনাদের স্নেহের সোলেমান

 

মাকে লেখা শহীদ সোলেমানের চিঠি

  buy kamagra oral jelly paypal uk

সূত্রঃ  ‘চিঠিপত্রে মুক্তিযুদ্ধ’- দীপংকর মোহান্তর

 

লেখাটা শেষ করি একটা ঘটনা বলে।

জুন মাস; রোহনপুর;

পাকিস্তানিদের হাতে এক বালক – মুক্তিযোদ্ধাধরা পড়ে। খবর বের করার জন্যে বন্দী শিবিরে তাঁর উপর চালানো হয় অকথ্যনির্যাতন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে বুকের সঙ্গে স্টেনগান লাগিয়ে পাকিস্তানিমেজর বলে, “এই তোর শেষ সুযোগ!”

ছেলেটি তখন হাটু গেড়ে মাথা নুইয়েভূমি চুম্বন করে বললো, “আমি মরতে প্রস্তুত। আমার রক্ত নিশ্চয় আমার পবিত্রভূমির মুক্তিকে ত্বরান্বিত করবে”।

এই ছেলেটার কথা উল্লেখ করেছেন স্বয়ং পাকিস্তানি সেনা সিদ্দিক সালিক তার “witness to surrender” বইতে।

“I am ready to die, now. My blood will certainly hasten the liberation of my sacred land.”

বাংলার মাটি পরম আদরে তার বীর সন্তানকে ধারণ করেছে। জোছনার রাতে সে তারবীর সন্তানদের কবরে অপূর্ব নকশা তৈরী করে। গভীর বেদনায় বলে, আহারে! আহারে!” [“জোছনা ও জননীর গল্প”]

  glyburide metformin 2.5 500mg tabs

[বিঃদ্রঃ লেখাটা এর আগে 'শব্দনীড়' ব্লগে পোস্ট করা হয়েছিল]

can you tan after accutane
doctorate of pharmacy online

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment. can your doctor prescribe accutane

acne doxycycline dosage
para que sirve el amoxil pediatrico