সাত্বিক স্বাধীনতা

1012

বার পঠিত

ষাটের দশকের শুরুর দিকে, সদ্যস্বাধীন ইজরায়েলে দ্রুত জনপ্রিয় হতে থাকে স্তালাগ ফিকশন নামের একধরণের যৌণউত্তেজক পত্রিকা। নাজি সেনারা কিভাবে মেয়েদের যৌণ অত্যাচার করতো, তার রগরগে বর্ণনা থাকতো সেখানে। এবং সেগুলো অল্পবয়েসী তরুণদের মাঝে জনপ্রিয় হতে থাকে, বিশেষ করে সদ্য বয়ঃসন্ধিতে প্রবেশ করা ইজরায়েলীরা এই বিকৃত চেতনাগুলোকে আপন করে নেয়া শুরু করে। ইজরায়েল সরকার এসব নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত হয়ে পরে এবং সেগুলোর প্রকাশনা নিষিদ্ধ করে দেয়। এইখম্যান ট্রায়ালের সময় স্তালাগ ফিকশন সম্পূর্ণরূপে বাজেয়াপ্ত করা হয়। জাতিগত হীনমন্যতা, নাজি অত্যাচারের ভয়াবহতা এবং কন্সেনট্রেশন ক্যাম্পের অস্বাভাবিক মুহুর্তগুলো ভিকটিমদের মধ্যে একধরণের সাররিয়েল অনুভূতির জন্ম দেয় বলে গবেষকেরা মনে করেন। অপরাধীর প্রতি একধরণের মমত্ববোধ জন্মায়, বিকৃত যৌণতাড়নার সৃষ্টি হয়। কষ্ট পেতে, অত্যাচারিত হতে, ডমিনেটেড হতে চায় তখন মানুষ। স্বাভাবিক চিন্তাচেতনা তাদের লোপ পায়, এরকম যুদ্ধপরবর্তী ট্রমা মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে অস্বাভাবিক কিছু না। irbesartan hydrochlorothiazide 150 mg

Fotor1224234639

ইজরায়েল রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা সেসব মাথায় রেখে হলোকাস্ট ডিনায়াল আইন চালু করে। শুধু আইন করেই না, যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে দিয়ে যারা গি­­­য়েছেন তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা এবং নরহত্যার পরেই আছে একাত্তরে স্বাধীনতার জন্যে বাঙালির লড়াই, পাকিস্তান বাংলাদেশ যুদ্ধর অবস্থান। নয়মাস সময়সীমায় তিরিশ লক্ষাধিক মানুষকে হত্যা করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, চার লক্ষেরও বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হন। কিন্তু স্বাধীনতার পরে, যুদ্ধপরবর্তী যেসব পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিলো, তার কিছুই করা সম্ভব হয়নি। যুদ্ধবিদ্ধস্থ দেশে খাবার নেই, কাপড় নেই, ব্যাংকে অর্থ নেই। বুদ্ধিজীবিদের একটা বড় অংশকে হত্যা করা হয়েছে। নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আগমুহুর্তে বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার যুদ্ধটা জিতে যায় সত্য, কিন্তু তার  জন্যে যা কিছুর প্রয়োজন, তার কিছুই ছিলো না। একাত্তর পরবর্তী সময়টুকুতে সাধারণ মানুষের পাওয়ার চেয়ে না পাওয়ার সংখ্যা শুধু বেড়েই চলেছিলো। ইজরায়েল যে ভয়ংকর পরিস্থিতি সামলে নিতে পেরেছিলো, বাংলাদেশ তা পারলো না। বরং দেশজুড়ে অন্যায় অবিচার আর স্বজনপ্রীতি সাধারণ মানুষের মধ্যে সূক্ষ্ণভাবে এই মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে থাকে যে তারা পাকিস্তান আমলেই ভালো ছিলো। যে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের শোষণ আর বঞ্চণার হাত থেকে বাঙালিজাতিকে মুক্ত করে আনলেন, তার বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়তে থাকলো। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানপন্থী দলগুলো অবাধে আবারো বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রবেশ করতে থাকলে মুক্তিযুদ্ধ একটা বিস্মৃত ইতিহাসে পরিণত হতে থাকে। এমনকি যে মানুষগুলো যুদ্ধচলাকালীন প্রত্যক্ষ ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন, তারাও যুদ্ধকালীন ট্রমা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পেলেন না। পাকিস্তানী সৈন্যদের দ্বারা ধর্ষিত নারীদের সমাজ গ্রহণ করলো না, রাষ্ট্র তাদের আশ্রয় দিতে অস্বীকৃতি জানালো। যুদ্ধশিশুদের একটা অংশ দেশের বাইরে চলে গেলো, অন্যেরা এমন একটা পাপের বোঝা নিয়ে বড় হতে লাগলো যেটা সম্পর্কে তারা কিছুই জানতো না। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর পর, আজও বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুরা এদেশে অনেকাংশেই অচ্ছুৎ। মুক্তিযুদ্ধের ঠিক পরবর্তীসময়ে যে আইন করা উচিত ছিলো, সেটা চারদশকেও করতে না পারার ফলে পাকিস্তানপন্থী মনোভাব সারাদেশে ছড়িয়ে গেলো। পাকিস্তানের প্রতি এই যে ভালোবাসা, এই যে মমত্ববোধ, এটা যে একধরণের মানসিক ভারসাম্যহীনতা, এটা যে জাতিগত হীনমন্যতার প্রকাশ সেটা স্তালাগ ফিকশনের আদলে পাকিস্তানের প্রতি নিশর্ত সমর্থন দেখলেই বোঝা যায়। দেরীতে হলেও তাই এসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালার প্রয়োজন। সে আইনের প্রয়োগ বা সুফল যে খুব দ্রুত আমরা পাব তেমন নয়। বরং আরো তিনদশক সেই বিস্মৃত সত্য, সেই অবিকৃত ইতিহাস এদেশের মানুষকে মনে করিয়ে দিলেও, আইন প্রয়োগ করলেও কিছু মানুষ তখনও থেকে যাবে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলার জন্যে। তারমানে এই না যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিরোধে আইনের প্রয়োজন নেই, বরং তার মানে এই যে এই আইনের প্রয়োজনীয়তা এখনই সবচেয়ে বেশি। viagra vs viagra plus

আমাদের মুক্তিযুদ্ধটা ছিলো এনার্কি, প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন এনার্কিস্ট। এটা সত্য এসব ভারীশব্দের অর্থ তাদের সিংহভাগই জানতেন না, এটাও সত্য তাদের এই লড়াইটা ছিলো মরণপন জীবনযুদ্ধের আক্ষরিক অর্থেই মুক্তির জন্যে সংগ্রাম। যে শোষণ আর বঞ্চণায় সিকিশতাব্দী পাকিস্তানের প্রদেশ হয়ে থাকতে হলো তাদের, সেটা অন্য কোনো জাতির সাথে হলে আরো আগেই মুক্তির সংগ্রাম শুরু করতো তারা। এমনকি পুরো মার্চজুড়ে যখন ইয়াহিয়া একের পর এক সেনা রেজিমেন্ট বাংলাদেশে নিয়ে আসতে থাকেন, শেখ মুজিব তখনও চেষ্টা করেছেন রক্তপাত ছাড়া সমস্যার সমাধান করতে। পাকিস্তানের সে ইচ্ছে ছিলো না, মার্চের পুরো সময়ে তারা বাঙালি সেনা অফিসারদের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দিতে থাকে। অনেককেই বন্দী করা হয়। তারপরেও, এতোকিছুর পরেও সাধারণ মানুষের সর্বোচ্চ চাওয়াটুকু ছিলো কেবল মানুষ হিসেবে বাচতে পারার অধিকার। পাকিস্তান সেটুকুও দিতে চাইলো না। বন্দুকের নলকে ক্ষমতার উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলো। এমনকি পঁচিশ মার্চের গণহত্যার পরেও মানুষ পালটা আঘাতের সম্ভবনা নিয়ে কমই ভেবেছে। কিন্তু একটা সময় মানুষ বুঝতে পারলো আর রাস্তা নাই, পিছু হটার পথ নাই, সংগ্রাম ছাড়া মুক্তি নাই। আমাদের মুক্তিযুদ্ধটা কিন্তু স্বাভাবিক অর্থে দেশপ্রেমও ছিলো না। কারণ তখন দেশ হচ্ছে পাকিস্তান, পাকিস্তানের পক্ষে লড়াই করাটাই দেশপ্রেম গণ্য হতো। মুক্তিযুদ্ধ ছিলো দেশদ্রোহীতা, পাকিস্তান নামক অন্যায় রাষ্ট্রের অবিচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। আর প্রত্যেক দেশদ্রোহী বিপ্লবীই তার নিজের দেশের দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মের জন্যে যে লড়াই, প্রচলিত সমাজের নিয়ম আর অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে মানুষের আদিমতম যে টিকে থাকার লড়াই, তারই বহিঃপ্রকাশ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ।  পৃথিবীর আর সব স্বাধীনতার যুদ্ধের মতোই আমাদের যুদ্ধটাও ছিলো সমসাময়িক সমাজ আইন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মুক্তির সংগ্রাম। মানুষের তৈরী নিয়মকানুন যখন মানুষের বিরুদ্ধে চলে যায়, মুক্তির জন্যে মানুষ তখনই লড়াই করে। সে লড়াইয়ে তাদের মরে যেতেও আপত্তি থাকে না। আগ্রাসী যুদ্ধ আর মুক্তিসংগ্রামে বিস্তর ফারাক আছে। অনেকটা আনন্দের জন্যে শিকার করতে আসা শিকারীর হাত থেকে বাঁচতে ভীত হরিণের মরণপন লড়াইয়ের মত।

উর্দু মূলত দেশভাগের সময় ভারত থেকে পাকিস্তানে যাওয়া মোহাজেরদের মাতৃভাষা। এবং ঐতিহাসিকভাবে উর্দু এবং ভারত উপমহাদেশের পশ্চিমাংশ অর্থাৎ পাকিস্তান ব্রিটিশ আমলে তুলনামূলক বেশি শোষিত ছিলো। সমাজের শ্রমিকশ্রেণীর বহুল ব্যবহৃত ভাষা ছিলো উর্দু। উর্দুর ধাতুমূল সংস্কৃত আর প্রাকৃত হলেও আরবি আর পারসির প্রভাবে তার বিস্তার ঘটে, রাজারাজরাদের পাইক পেয়াদাদের ভাষা হিসেবে সেটা প্রবাহিত হয় অনেকদিন। সেই বঞ্চিত মানুষেরা যখন নিজেদের একটা দেশ পেলো পাকিস্তান, এতোদিন যাদের উচুশ্রেণীর মানুষদের ভক্তি করতে হয়েছে, রাতারাতি তারাই উচুশ্রেণীতে পরিণত হলো, তখন তা একটা সর্বগ্রাসী রূপ নিলো। ভারত যেমন তার ভাষা আর সংস্কৃতির বৈচিত্রকে নিজের শক্তিমত্তা হিসেবে গ্রহণ করলো, সদ্য জাতে ওঠা পাকিস্তানি উর্দুভাষীরা তা করতে চাইলো না। এটা সত্য যে পাকিস্তানের জন্মটাও ছিলো বিপ্লব, আমাদের দেশের অনেক কবি লেখক বুদ্ধিজীবি, অনেক রাজনীতিবিদ পাকিস্তানের স্বাধীনতার পক্ষে লড়েছেন। সেই পাকিস্তান যখন শোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো, তখন রক্তপাত অনিবার্য ছিলো। তা রক্ত ঝরলোও, বাঙলায়, বেলুচিস্তানে। প্রতিটি বিপ্লবের একটা প্রতিবিপ্লব থাকে। পাকিস্তান বিপ্লবের বিপরীত বিপ্লব ছিলো আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। সে সংগ্রামে আমাদের জয় হয়েছে, দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু সংগ্রাম পূর্ণতা পায়নি, মুক্তির সংগ্রাম বেহাত বিপ্লবে পরিণত হয়েছে। যে সম্মুখযুদ্ধে একাত্তরে বাঙালিয়ানা জিতাছিলো, সংস্কৃতি আর রাজনীতির যুদ্ধে সেই বাঙালিয়ানা পাকিস্তানি প্রেতাত্মার কাছে হারতে থাকলো, তাও স্বাধীন দেশে।  কোনো এককালে শোষিত পাকিস্তান আর কিছু হারাতে চাইলো না বলেই বাংলায় রক্তের বন্যা বইয়ে দিলো। অথচ বাংলাও তাদের মতোই শোষিত, নির্যাতিত সেটা তারা বুঝতে চাইলো না। আমরা যুদ্ধটা জিতে তাই থেমে গেলেও পাকিস্তানি চেতনা তাই থেমে গেলো না। পাকিস্তান হচ্ছে একটা ধারণার নাম, দেশের নাম বাংলাদেশ হলেও তাই তার চরিত্র পাকিস্তানের মতো হওয়া সম্ভব; যদি না পাকিস্তান বিপ্লবের প্রতিবিপ্লব, পাকিস্তান চেতনার বিপরীত চেতনা বাঙালিত্ব দিয়ে তার মোকাবিলা করা যায়। আমাদের দুর্ভাগ্য স্বাধীনতার পরে সে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় নাই। সুযোগও ছিলো না। তাতে অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে বটে, তবে সবকিছু শেষ হয়ে যায় নাই। পরিবর্তন আর নবজাগরণের ঢেউ দিয়ে একাত্তরের অসমাপ্ত যুদ্ধটা শেষ করতে হবে, আর সেই রেনেসাঁর প্রথম পদক্ষেপ হবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিরোধে করা আইন।

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে, আমরা এখন সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে আছি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন। দেশের মেরুদণ্ড অর্থনীতিও আগের যেকোনোসময়ের চেয়ে বেশি বলিষ্ঠ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন হচ্ছে, উন্নয়নের অন্যান্য সূচকেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেই সাথে পুরোনো পাকিস্তানি ভূত দেখা দিচ্ছে নতুনভাবে। উগ্রধর্মীয় জনগোষ্ঠী, পাকিস্তানীচরিত্রের রাজনীতি, সামাজিক ভারসাম্যহীনতাও বাড়ছে। ইতিহাসবিকৃত রোধে করা আইন হবে এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঘুরে দাড়ানোর অস্ত্র। তার সঠিক প্রয়োগ, একই সাথে সামাজিক সাংস্কৃতিক বিপ্লব স্বাধীনতার অর্থকে পূর্ণতা দিতে পারবে। তা না হলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধটার কোনো মূল্য থাকবে না একসময়, দেশের নামটাই থাকবে বাংলাদেশ, চরিত্র হবে সেই পাকিস্তান বা অন্যসব শোষক নিপীড়ক রাষ্ট্রের মতো।

will metformin help me lose weight fast

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong> buy kamagra oral jelly paypal uk

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

renal scan mag3 with lasix
can you tan after accutane