শহীদ নূর হোসেন দিবস (‘গণতন্ত্র মুক্তিপাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’)

99 viagra in india medical stores

বার পঠিত zovirax vs. valtrex vs. famvir

আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথ কখনো মসৃণ ছিল না। স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্রের হাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের আপনজনদের নৃশংসভাবে হত্যা,৩ নভেম্বর জেলের ভিতরেই হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের চার স্তম্ভ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী চার জাতীয় নেতা -তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, আ.হ.ম কামরুজ্জামান এবং মনসুর আলীকে।এবং ৩ নভেম্বরের ধারাবাহিকতায় সংঘটিত হয় ৭ নভেম্বর সিপাহী বিপ্লবের মত জগন্যতম ইতিহাস।যার মধ্যদিয়ে এ দেশে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা রুদ্ধ হয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বাংলার জনগণ আন্দোলন করে।

১৯৮৭ সালের নভেম্বর মাস। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর ছিলো অবরোধ দিবস। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলন-সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এক দিন। সারা দেশ থেকে দলে দলে মানুষ এসে জড়ো হয়েছিলো ঢাকায়।মিছিলে মিছিলে উত্তাল হয়ে উঠেছিলো সেদিন ঢাকা নগরী। দিনটি বাঙ্গালী জাতির ইতিহাসে কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। ১৯৮৭ সালের এই দিনে স্বৈরাচারী এরশাদ তার ক্ষুদার্ত সৈন্যবাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছিল অসহায় বাঙ্গালীর উপর।হাজারো প্রতিবাদী যুবকের সঙ্গে জীবন্ত পোস্টার হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন যুবলীগের কর্মী নূর হোসেন।শহীদ নূর হোসেন খালি গায়ে বের হয়েছিল কারফিউ ভঙ্গ করে। তার বুকে সাদা হরফে লিখা ছিল “স্বৈরাচার নিপাত যাক” আর পিঠে লিখা ছিল “গনতন্ত্র মুক্তি পাক”। হাজারো প্রতিবাদী যুবকের সঙ্গে জীবন্ত পোস্টার হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন যুবলীগের কর্মী নূর হোসেন।

গুলিস্তান-বংগবন্ধু এভিনিউ-বায়তুল মোকারম এলাকায় জনতার ভিড়ে,সমস্ত জনতাকে ছাপিয়ে বারবার একটি মুখই উদয় হচ্ছিলো। আর সেটি নূর হোসেনের খালি গা,জিন্সের প্যান্ট পরনে। নূর হোসেন তাঁর বুকে ও পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তিপাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান উৎকীর্ণ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫-দলীয় ঐক্যজোটের মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন।সে ছুটছিলো এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে।থামছিলো না সে খানিকক্ষণের জন্যেও।ডিউটিরত পুলিশদের অনেকেই ক্ষুব্ধ হচ্ছিলো তার কর্মকান্ডে।এক পর্যায়ে সেই পথ দিয়ে আওয়ামী-লীগের নেত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে যাচ্ছিলো।যুবকটিকে দেখে গাড়ি থামিয়ে তিনি তাকে ডাকলেন। বললেন,শিগগির জামা গায়ে দাও, পুলিশ তো তোমাকে গুলি করবে।উদোম-উদ্দাম বুকে পিঠে স্লোগান লেখা সেই যুবক তার প্রিয় নেত্রিকে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলো। তারপর স্লোগান দিতে দিতে হারিয়ে গেলো জনতার ভেতরে।এর কিছুক্ষণ পরেই গুলির শব্দ। মিছিলটি যখন জিরো পয়েন্টে পৌঁছে, তখন স্বৈরাচার সরকারের নির্দেশে মিছিল লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করা হয়। বুলেট নূর হোসেনের বুক ঝাঁঝরা করে দেয়।নূর হোসেনের সঙ্গে আরও আত্মাহুতি দেন যুবলীগের নেতা নুরুল হুদা ও কিশোরগঞ্জ বাজিতপুরের ক্ষেতমজুর নেতা আমিনুল হুদা।তাঁর এই আত্মত্যাগ তৎকালীন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলকে বেগবান করে।গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই সংগ্রামে বাবুল, ফাত্তাহসহ অগণিত গণতন্ত্রকামী মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ ফিরে পায় ভোট ও ভাতের অধিকার।

বায়তুল মোকারম গেইটের কাছে পুলিশের গুলিতে ঢলে পড়লো সেই যুবক।জনতা কিছুটা ছত্রভংগ।এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই পুনরায় সংগঠিত।আবারো গুলির শব্দ।নূর হোসেনের লাশ ছিনিয়ে নিয়েছিলো পুলিশ। নূর হোসেনের লাশ তার গরিব বাবা মাকে একটিবার দেখতেও দেয়া হয় নি। গোপনে রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে তাকে মাটিচাপা দেয়া হয়েছে।জীবন্ত নূর হোসেনকে স্বৈরাচার এরশাদ যতোটা ভয় পেয়েছিলো তার চেয়ে বেশি ভয় পেয়েছিলো তাঁর লাশকে। আর তাই দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিলো তাঁর সমাধিকে।কিন্তু এরশাদ জানতো না—এ লাশ মাটির তলায় থাকবে না।জেগে উঠবেই।এরশাদ কি জানতো যে নূর হোসেনরা কখনো মরে না।নূর হোসেনরা চলে যাবার আগে বলে যায়—‘আমরা সহস্র হবো অজস্র মৃত্যুতে। missed several doses of synthroid

নূর হোসেনের মা বলেছিলেন,”কত থানায় গিয়া তার বাপে কান্নাকাটি করছে, পোলার লাশ দেখতে চাইছে। কেউ তার কথা শোনে নাই।সে যে শহীদ হইছে এইটা পরথম জানবার পারি পেপারে ফটো দেখার পর। রাইতে বিবিসির খবরে তার কথা কয়। আমার অবস্থা তো তখন বুঝেন। হায় হায় কইরা বুক চাপড়াইলাম। কিন্তু কেউ লাশটার খোঁজ দিলো না। আমি নামাজ পইড়া আল্লার কাছে কইলাম, যে জালিম আমার পোলার লাশ পর্যন্ত দেখতে দিলো না, তার উপর য্যান গজব নাজিল হয়।“

মিছিলের পুরোভাগে থাকা এই অকুতোভয় যোদ্ধা অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে গেছেন। নূর হোসেনের এ আত্মদান স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। তাঁর আত্মাহুতির ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ এর ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। সেদিনের সেই ২৬ বছরের যুবক আবার ফিরে আসুক অন্য কোন বেশে, অন্য কোন নূর হয়ে। জাতির এই ক্রান্তি লগ্নে এই হোক আমাদের কামনা।
এর পর থেকে প্রতিবছর দিনটি শহীদ নূর হোসেন দিবস বা গণতন্ত্র মুক্তি দিবস হিসেবে পালন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

viagra en uk

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন * posologie prednisolone 20mg zentiva

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

acquistare viagra in internet
will metformin help me lose weight fast
para que sirve el amoxil pediatrico
half a viagra didnt work