জাতীয় কলঙ্কময় জেল হত্যা দিবস

95

বার পঠিত

১৯৪৭ সালে যে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তা নির্ধারণ করে ভারত ভাগ হয়েছিল, পাকিস্থান নামের এক নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল, সেই দ্বিজাতি তত্ত্ব যে এদেশের মানুষের কোন মঙ্গল বয়ে আনতে পারেনি তা অচিরেই প্রমাণিত হয়ে গিয়েছিল। এই তথাকথিত দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্ট পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্থানের মাঝে পরিলক্ষিত হচ্ছিল নানা রকম অসঙ্গতি আর অসন্তোষের। ফলশ্রুতিতে পূর্ব পাকিস্থানের বিলুপ্তি ঘটলো, জন্ম হলো ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরে স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশ নামক নতুন আরেকটি দেশের ।
স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্বাহ্নেই শোষক পাকিস্তানী প্রশাসন বুঝতে পেরেছিল এদেশের সহজ-সরল মানুষগুলোকে আর শাসন-শোষন করা যাবেনা।বাঙ্গালী জেগে উঠেছে। এদেশে পাকিস্তানী স্বৈরশাসকদের পতন অনিবার্য।এটা কেবল কিছু সময়ের ব্যাপার মাত্র।এই পরাজয়কে সহজে মেনে নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব ছিলনা।তাই হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী আর তাদের এদেশীয় দোসর বিশ্বাসঘাতক স্বাধীনতাবিরোধী চক্র–জামাত,আল বদর, আল শামস, রাজাকারদের নজিরবিহীন নৃশংসতা এবং এক ভয়ংকর নীলনকশা বাস্তবায়নের একটি প্রামাণ্য দলিল করে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসম্বর বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করে জাতিকে মেধাশূন্য করার জন্য।১৪ই ডিসেম্বরের হত্যাকাণ্ড ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে এক জঘন্য বর্বর ঘটনা, যা বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী মানুষকে স্তম্ভিত করেছিল।
নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু ছিলেন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি। কিন্তু যুদ্ধরত জাতি নেতৃত্বশূন্য ছিলনা। যে চার মহান নেতা সেই সময়ে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতির শূন্যস্থান পূরণ করে রেখেছিলেন অত্যন্ত সফলভাবে তাঁরা হলেন – সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ,এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামান । বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন তাঁরা বঙ্গবন্ধুর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। তাঁরা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আজীবন সহচর।পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে এসেই বঙ্গবন্ধু দেশগড়ার কাজে মনোনিবেশ করেন। কাজটা সহজ ছিলনা।সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত একটা দেশের অবকাঠামো পুনর্গঠন , বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে আবার উজ্জীবিত করে তোলার জন্য প্রচুর সময়ের প্রয়োজন ছিল।কিন্তু ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মম -নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো বঙ্গবন্ধুকে।বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭৫এর ইতিহাস একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এক সামরিক জান্তার ক্ষমতা দখলের ইতিহাস।সেদিনের সেই ঘৃণ্য হত্যাকান্ডে শুধু বঙ্গবন্ধু অথবা বঙ্গবন্ধু পরিবারকেই হত্যা করা হয়নি, হত্যা করা হয়েছিল সদ্য স্বাধীনতালব্ধ একটি দেশের অগ্রযাত্রার সমস্ত সম্ভাবনাকে।
১৫ই আগস্ট সপরিবারে জাতির জনকের নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের পরে সংঘবদ্ধ খুনীচক্র ৩রা নভেম্বর জেলের ভিতরেই হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের চার স্তম্ভ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী চার জাতীয় নেতা -তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, আ.হ.ম কামরুজ্জামান এবং মনসুর আলীকে।এই হত্যাকান্ড করা হয় মুলত জাতীকে নেতৃত্ব শূন্য করার লক্ষেই।
১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর,জেল খানাতে যে নগণ্য কর্মকাণ্ড ঘটেছিল তার সাথে তুলনা দেওয়ার মত ঘটনা আরো আছে কিনা তা আমার জানা নাই।১৯৭১ এর বর্বরতা মানা যায় কারন তখন দেশ স্বাধীন হয়নি।কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই বর্বর কাহিনি তাদের সাথেই ঘটল যারা এই দেশের স্বাধীনতা এনেছিল।যাদের নেতৃত্ব আর অবদান ছাড়া এ সোনার বাংলা হয়তো কল্পনাতীত থেকে যেত।
ইতিহাসের বর্বরোচিত, নিষ্ঠুরতম কালো অধ্যায়,যা মানবতার ইতিহাসে নজিরবিহীন ‘কলঙ্ক তিলক’ হয়ে থাকা এ দিবসটি।ইতিহাসের ঘৃণ্যতম বিচার বহির্ভূত হত্যার নিকৃষ্টতম উদাহরণ হয়ে থাকবে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত দু’টি জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এর একটি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ড এবং অপরটি ঢাকা জেলখানায় নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে অন্তরিন থাকা অবস্থায় জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা। ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের শোক মুছতে না মুছতেই জাতির জীবনে আরেকটি কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটে আজকের এ দিনে (৩ নভেম্বর)। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ,গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এএইচএম কামরুজ্জামান ও মন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনসুর আলী- এ চার নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আজ ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস।বাঙালী জাতির আরেকটি গভীর শোকের দিন।এ জাতিকে পুরোপুরি পঙ্গু করার জন্যই ঘাতকরা সেদিন রাতের আঁধারে পৃথিবীর জঘন্যতম এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।এ শোকের কি শেষ আছে।রক্তের দাগ না শুকাতেই খুনিরা এ মর্মান্তিক হত্যাকান্ড ঘটালো। এবার যাদেরকে হত্যা করা হলো, তারা হলেন বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী সফল অধিনায়ক। ১৯৭৫ সালের এই দিনটির সূচনালগ্নে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি অবস্থায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী চার জাতীয় নেতা বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে। দিনটি জাতির ইতিহাসের অন্যতম বেদনাবিধুর দিন। এর আগে একই বছরের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তার ঘনিষ্ঠ এ চার সহকর্মীকে গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করা হয়। পরবর্তী অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রক্তাক্ত অধ্যায়ে ৩ নভেম্বর সংঘটিত হয় জেল হত্যাকাণ্ড। সেই থেকে প্রতি বছর রক্তক্ষরা এই দিনটি জেলহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে ঘাতকচক্র স্বাধীনতার নেতৃত্ব দানকারী আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করেছিল। আর সেই চক্রান্তকারীদের পাঠানো ঘাতকরাই আইনের প্রতি কোনো রকম তোয়াক্কা না করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢুকে ফজরের আজানের সময় নির্মমভাবে হত্যা করে জাতির চার সূর্যসন্তানকে। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় এমন জঘন্য, নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।ঘাতকরা জানতো এই জাতীয় চার নেতা জীবিত থাকলে তারা কোন দিন পার পাবেনা। তাই তারা ৩রা নভেম্বর এ জগন্যতম হত্যাকান্ডে মেতে উঠলো।খুনিরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেও নিজেদেরকে নিরাপদ ভাবতে পারেনি, সব সময় আতঙ্কে ছিল কখন জনতা ফুঁসে উঠে।
কলঙ্ককময় ইতিহাস সৃষ্টির সাথে জড়িত যারা এরাতো এদেশেরই মিরজাফরদের দোসর।যতদিন এই বাংলাদেশ থাকবে , ততদিন ওরা ঘৃণিত হয়ে থাকবে এই বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে।কে কবে শুনেছে জেলখানায় বিনা বিচারে আবদ্ধ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করতে।এ হত্যার কাহিনী হিটলারের নিষ্ঠুরতাকেও ছাড়িয়ে যায়।ষড়যন্ত্রকারীরা কারাগারের নিরাপত্তা বেষ্টনির ভিতরে ঢুকে চার নেতাকে প্রথমে গুলি করে মেরেই সন্তোষ্ট হয়নি।পরে আবার বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমআনন্দ লাভ করে।
কিন্তু খুনিরা এবং তাদের পালিত বর্তমান দালালেরা জেনে রাখ, তাঁরা নিজেরাই নিজেদের মৃত্যুদন্ড দিয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে।তোমাদের মত কাপুরুষেরাই এমন হত্যাকান্ড করতে পারে।তোমরা পারনি আমাদের দমিয়ে রাখতে।তোমাদের এই নির্মম হত্যাকান্ড গুলোই আমাদের আরও উজ্জীবিত করে দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার,দেশকে ভালোবাসার।আমাদের পূর্ব পুরুষেরা ১৯৭১ এ প্রমাণ করে দেখিয়েছে সৎসাহস থাকলে যে কোন শক্তিকে মোকাবেলা করা যায়।আজ সময় হয়েছে আমাদের সবার সচেতন হবার। যাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী চক্র আর যেন ফুলে উঠতে না পারে।সে জন্য আমাদের সকলের জেগে উঠতে হবে। কারণ,এ জাতিকে বার বার স্বাধীনতা বিরোধী চক্ররা দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে কিন্তু সফল হতে পারেনি,আর পারবেও না।
জয় বাংলা।

private dermatologist london accutane

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

metformin tablet

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment. capital coast resort and spa hotel cipro

viagra in india medical stores
metformin gliclazide sitagliptin