জামালপুরের ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ

206

বার পঠিত

জামালপুর জেলা পরিচিতিঃ-২০৩১.৯৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তন নিয়ে জামালপুর জেলার অবস্থান।১৯৭৮ সালে ২৬ ডিসেম্বর জামালপুরকে বাংলাদেশের ২০তম জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।এর আগে জামালপুর বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার অন্তরভুক্ত ছিল। এ জেলার ভৌগলিক অবস্থান খুবই মনোমুগ্ধকর। বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তে গারো পাহাড়ের পাদদেশে নৈসর্গিক দৃশ্য ও নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক লীলাভূমি যমুনা, ব্রক্ষ্মপুত্র,ঝিনজিরাম, ঝিনাই ও বানার নদীর পলি বিধৌত অববাহিকায় প্রখ্যাত সাধক আউলিয়া হযরত শাহ্ জামাল (রহ:) ও হযরত শাহ্ কামাল (রহ:) এর পূণ্য স্মৃতিধন্য ভূমিতে জামালপুর জেলার অবস্থান।এই ছোট্র জেলা শহর টিতে রয়েছে-০৭ টি উপজেলা এবং ০৮ টি থানা।(তথ্য-গোগল সার্চ )
ভাষা আন্দোলনে জামালপুর বাসির অবদানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ :বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলনে জামালপুর জেলারও এক ঐতিহ্যমন্ডিত অবদান রেখেছে । ১৯৪৮ সালের ১৪ আগস্ট জামালপুরের স্কুল ছাত্র আব্দুস ছোবহান ” ইয়ে আজাদী ঝুট হ্যায় ” মর্মে এক প্রবন্ধ পাঠ করেন। তাকেঁ স্কুল থেকে টি সি দেয়া হয়। তার ভাই আব্দুস সাত্তারকে গ্রেফতার করে ১ মাসের ডিটেনশন দেয়া হয় । ১৯৫১ সালে জামালপুরে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে “প্রবাহ সাহিত্য মজলিশ” নামে একটি সংগঠন গড়ে উঠে। সৈয়দ ইমামুর রশিদ, আব্দুস সোবহান, আব্দুস সাত্তার, ক্ষিতিশ তালুকদার, অরুন তালুকদার, অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম প্রমূখ এর সাথে জড়িত ছিলেন । ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ নেতা আলী আহমদকে সভাপতি করে আশেক মাহমুদ কলেজে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ।এতে অংশ নেন বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাত আরা, সিংহজানী স্কুলের কাদের, কুদ্দুস, স্টেশন রোডের কুদ্দুস মল্লিক, ছনকান্দার কালু, শাহপুরের সামাদ মন্ডলসহ অনেকে।
১৯৫২ এর ২১ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট ডাকা হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি বিরাট মিছিল হয়। এর ফলে আখতারুজ্জামান মতি,দিদারুল আলম খুররম, সৈয়দ আব্দুস সোবহান প্রমূখ নেতাদের নামে পুলিশ হুলিয়া জারি করে ।জামালপুর, ইসলামপুর, সরিষাবাড়ী, মেলান্দহ থানায় ধমর্ঘট আংশিক সফলভাবে পালিত হয়। মেলান্দহে ছাত্রদের উপর পুলিশ নিমর্মভাবে হামলা চালায় । ২২ ফেব্রুয়ারি জামালপুরে শ্লোগান ওঠে ” রক্তের বদলে রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই নূরুল আমীনের কল্লা চাই “। ডাকঘর ছাড়া শহরের সমস্ত অফিস বন্ধ করে দেয়া হয়। ছেলেরা মিছিল নিয়ে সরকারী হাই স্কুলে (বতর্মান জিলা স্কুল) যাওয়ার পথে পুলিশ ফাড়িঁর অফিসার খুরশিদ জাহান ছাত্রনেতা দিদারুল আলম খুররমকে গ্রেফতার করে। এরপর ঐ রাতে আরও ৮ জন ছাত্রনেতাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের ৭ দিন জামালপুর জেলে রেখে ১ মাসের ডিটেনশন দিয়ে ময়মনসিংহ জেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
২৩ ফেব্রুয়ারি পিংনা হাইস্কুল মাঠে হাতেম আলী খানের সভাপতিত্বে এর বিরাট সভা হয়। ২৪ শে ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন থানায় সভা হয় এবং শোভাযাত্রা বের হয়। ২৫ তারিখ গোপালদত্তের মাঠ এবং হিন্দু বোর্ডিং মাঠে বিশাল সমাবেশ হয় । ২৭ ফেব্রুয়ারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল্যাহ আল মামুনের পিতা এ,এইচ,এম কুদ্দুসের সভাপতিত্তে এক সভায় বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা ঘোষনার দাবী জানান হয়। জামালপুরের থানাগুলোর মধ্যে সরিষাবাড়ী বিশেষ ভূমিকা রাখে । এখানকার হাতেম আলী খান, হরুনর রশীদ তালুকদার, আব্দুস সাত্তার প্রমূখ উজ্জল ভূমিকা রাখেন। এছাড়া জামালপুরের ওস্তাদ ফজলুল হক, মো: আছাদ, আশরাফ ফারুকী, এন, আর জামালী প্রমূখ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।
মুক্তিযুদ্ধে জামালপুর বাসির অবদানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ :একটা মানুষের বড় জিনিস হচ্ছে তার দেশের স্বার্থ।আর এ স্বার্থ যে অস্বিকার করে,দেশের প্রতি অসম্মান করে সে অন্যকোন সম্পরকের প্রতি কোন সম্মান দেখাতে পারবেনা বলে আমি মনে করি।আর এদেশে স্বার্থের জন্য ৫২র ভাষা আন্দোলন,৬৯ এর গনঅভ্যূস্থান এবং ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে প্রান দিয়েছে আমাদেরই লাখবীর বাংলামায়ের দামাল সন্তানেরা।আনুয়ারুল আজিম তেমনি একজন বাংলার দামাল সন্তান যে সর্বপ্রথম বঙ্গঁবন্ধুর ৭ মার্চ ভাষণের পর ৮ মার্চ জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় সর্বপ্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং তরুনদের নিয়ে সংগঠিত করতে থাকে মুক্তিবাহিনী।কিন্তু এর মধ্যে সেখানে পাকিস্তানি আর্মিরা পৌঁছে যায় এবং ক্যাম্পে অবস্থিত কিছু বিহারিদের নিয়ে পাকবাহিনীর অভিযানে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার উপর অমানসিক নির্যাতনের ফলে সে ৬মে শহিদ হন।পরবর্তীতে-
মুক্তিযুদ্ধের তথ্যসূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই অঞ্চলে ১১নং সেক্টর জেড ফোর্স অধীনায়ক মেজর জিয়াউর রহমানের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। বকশীগঞ্জের ধানুয়া কামালপুর থেকে মাত্র ২ কিঃমিঃ অদুরে ভারতের মহেন্দ্রগঞ্জ ১১নং সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল। যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সেক্টরের দায়িত্ব প্রাপ্ত অন্যতম বীর সেনানী মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল আবু তাহের বীর উত্তম ১১নং সেক্টরকে আটটি সাবসেক্টরে বিভক্ত করেন। সাবসেক্টর গুলো হচ্ছে, মহেন্দ্রগঞ্জ, মানকারচর, পুরাকাশিয়া, ডালু, বাগমারা, শিববাড়ী, রংড়া এবং মহেশখোলা। ১১নং সেক্টরের ২ কিলোমিটার অদুরেই ছিল ধানুয়া কামালপুর একটি শক্তিশালী দুর্ভেদ্য সুরক্ষিত পাকসেনাদের ঘাঁটি। ১১নং সেক্টরের অধীনে নিয়মিত ৩ হাজার ও গনবাহিনী ১৯ হাজারসহ মোট মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন প্রায় ২২ হাজার। কর্ণেল আবু তাহেরের নেতৃত্বে কামালপুর শত্র“ ক্যাম্পে আক্রমন করে ১৪ নভেম্বর পাকসেনাদের মর্টার সেলের আঘাতে কর্ণেল আবু তাহের বাম পায়ে গুরুত্বর আহত হলে ১৫ নভেম্বর থেকে সেক্টর কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন উইংকমান্ডার হামিদুল্লাহ খান। সামরিক অভিযানের এই এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকসেনাদের কমপক্ষে ১০ বার সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছে। ৩ ডিসেম্বর উইংকমান্ডার হামিদুল্লাহ খানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর সদস্যরা একযোগে পাকসেনা ক্যাম্প ঘিরে ফেলে। সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধা বশীর আহমদ (বীর প্রতীক) এবং মুক্তিযোদ্ধা সঞ্জু দু’জনকে দিয়ে আত্মসমর্পণের চিঠি পাঠায়। পর পর দু’জন চিঠি নিয়ে গেলে পাকসেনা কমান্ডার অগ্নিমূর্তি হয়ে দু’জনকে গাছের সাথে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন চালায়। খবর পেয়ে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যোদ্ধারা তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ওই রাতে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা পাকসেনা ক্যাম্পের কাছাকাছি অবস্থান নেয়। এ সময় তাদের দলের ওয়্যারলেসটি নষ্ট হলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ভুলবশত মিত্রবাহিনী তাদেরকে লক্ষ্য করে সেল নিক্ষেপ করে। সেলের আঘাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিনসহ ৪৯৭জন মুক্তিযোদ্ধা ঘটনাস্থলে শাহাদাত্ বরণ করেন। সারারাত সংঘর্ষের পর পাকিস্তানী গ্যারিসন অফিসার আহসান মালিকসহ ১৬২ জন বেলুচ, পাঠান ও পাঞ্জাবি সৈন্যে আত্মসমর্পণ করে।তত্কালীন ময়মনসিংহ জেলার জামালপুর মহকুমার ধানুয়া মুক্তিযোদ্ধাগণ মরণপন যুদ্ধে হানাদার বাহিনী দীর্ঘ ২১ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর ৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ পূর্ব রণাঙ্গনের হানাদার বাহিনীর সুরক্ষিত ঘাঁটি কামালপুরের পতন হয় এবং শত্রুমুক্ত হয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা বশির ও সঞ্জু উভয়ে লাল সবুজের বিজয়ী পতাকা প্রথম উত্তোলন করেন।এরই সুত্র ধরে একের পর এক জেলার দেওয়ানগঞ্জে ৬ ডিসেম্বর, ইসলামপুর ৭ডিসেম্বর, মেলান্দহ ৮ডিসেম্বর, জামালপুর সদর ১১ডিসেম্বর এবং সরিষাবাড়ী উপজেলা ১২ ডিসেম্বর শত্র“মুক্ত হয়ে বিজয়ের পতাকা আকাশে উড়ে।

buy kamagra oral jelly paypal uk

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

achat viagra cialis france

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

missed several doses of synthroid
venta de cialis en lima peru
acquistare viagra in internet
about cialis tablets
viagra vs viagra plus