বাইয়া

347 venta de cialis en lima peru

বার পঠিত

আসু। মানে আসমান। আমাদের বড় ছেলে। পুরোটা স্কুল জীবন কাটিয়েছে একা একা। বন্ধুবান্ধব কখনও তেমন ছিল না। খুব একটা মিশুক ছিল না কখনই। ছেলে আড্ডাবাজ হলে বাবা-মা বরাবরই বিরক্ত হয়। তাই বলে ছেলে অতি ঘরকুনো হলে যে সেটা কোন বাবা-মা পছন্দ করে তাও নয়। আমরাই আসুকে বলতাম, বাইরে গিয়ে একটু খেললেও পারিস কিংবা তোর কোন বন্ধুবান্ধবকে বাসায় আনলেও তো পারিস। আসু খানিকটা অভিমান জড়ানো গলায় বলত, “বাইরে যাব কেন? আমার বাসায় খেলার মত কেউ নাই কেন? সবার ভাইবোন থাকে, আমার কেন নাই?”

প্রথমদিকে আমি বা রাত্রি মুখ টিপে হাসতাম। কিন্তু, পরে ব্যাপারটা শুধু মুখ টিপে হাসার মধ্যে থাকল না। আসু যতই বড় হচ্ছিল, একটা বোনের জন্য হাহাকার ওর মধ্যে ততই তীব্র হয়ে উঠছিল। স্কুল থেকে ফেরার পরই ব্যাগ ছুঁড়ে ফেলে চুপচাপ কম্পিউটারের সামনে বসে থাকত। কখনও উৎফুল্ল হয়ে রাত্রিকে বলত, “আম্মু, জানো আজকে কী হয়েছে? সাগরের যে ছোট বোনটা আছে না? ও রান্না করতে শিখে গেছে। আজকে ক্লাসের সবার জন্য গাজরের হালুয়া রান্না করে পাঠিয়েছে। টিফিন পিরিয়ডে সবাই মিলে সেটা খেলাম। যা মজা হয়েছে না।” সেই মজা করার কথা বলতে বলতেই হঠাৎ করে মুখ গোমড়া হয়ে যেত। রাত্রি কিছু বলত না। কারণ জানত, কারণ জিজ্ঞেস করলেই আসু দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে বলবে, “আমার কোন ছোট বোন নাই কেন?” কিংবা কোনদিন স্কুলে যেত না। কারণ জিজ্ঞেস করলে বলত, “আজকে সিয়ামের বোনের বার্থডে। সবাই ছুটির পর সেখানে যাবে।”
-তাতে তোর স্কুলে না যাবার কী হল? সবার সাথে তুইও যাবি।
:আমি যাব না, যাব না, যাব না। আমি অন্যদের বোনের বার্থডেতে যাব কেন? আমার বোনের বার্থডেতে কেন কেউ আসবে না?
-ছিঃ আসু। তুই না বড় হয়েছিস। ক্লাস নাইনে পড়িস। এখনও বাচ্চাদের মত করলে চলে?
:আমি তো বাচ্চাই। সব সময় বাচ্চা। একটা ছোট বোন থাকলে তবেই তো আমি তার চেয়ে বড় হব।
রাত্রি এটা সেটা বলে প্রবোধ দেয়ার চেষ্টা করত। তাতে কোন কাজ হত না।

আসমানের জন্মের আগেই আমরা ঠিক করে ফেলেছিলাম, আমাদের সন্তানের জন্য কোন কিছুর কমতি আমরা রাখব না। আরেকটা সন্তান হলে দু’জনকে দেখাশোনা কিংবা খেয়াল রাখায় সমস্যা হতে পারে ভেবে আর কোন সন্তান নিলাম না। আমাদের সব আদর, স্নেহ আর ভালবাসা বরাদ্দ করেছিলাম একজনের জন্যেই। কে জানত, এই একমাত্র সন্তান হওয়াটাই তার সবচেয়ে অপছন্দের বিষয় হবে? ছোটবেলায় যখন ‘বোন বোন’ বলে বাড়ি মাথায় তুলত – ভাবতাম, এসব ছেলেমানুষি ফ্যান্টাসি। বড় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু, বড় হলে তা কমার কোন লক্ষণই দেখা গেল না। বরঞ্চ বলা যায় আরও বেড়ে গেল। শেষ পর্যন্ত দু’জনে সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলাম, আরেকটা সন্তান নেব। অবশ্য আসুর বোন হবে না ভাই হবে সেটা আল্লাহ’র হাতে। আসু যেদিন জানতে পেরেছিল, তার সঙ্গী হতে আরেকজন আসছে সেদিন থেকেই সবকিছুতে চূড়ান্ত বেখেয়ালি আসু নিয়ম করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে শুরু করল। নামাজ শেষে মোনাজাত একটাই – “আল্লাহ, তুমি আমাকে একটা পরীর মত ফুটফুটে বোন দিও।” সম্ভবত, আল্লাহও আসুর প্রার্থনা শুনেছিল। সেদিন ছিল আসুর এসএসসি পরীক্ষার শেষদিন। পরীক্ষা শেষে বাসায় ফিরে বাসায় তালা দেয়া পেল। আমাকে কল করেই সোজা হসপিটালে। আসু যখন দৌড়ে হাসপাতালের গেট দিয়ে ঢুকল আমি তখন তাসু, আমাদের পরিবারের সবচেয়ে ছোট্ট সদস্যটিকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। আসু দৌড়ে আমার সামনে আসতেই থমকে দাঁড়িয়ে গেল। রীতিমতো হাসফাস করছে। বাসা থেকে আসার জন্য যে একটা রিকশা নেয়া যায়, উত্তেজনায় ভুলে গেছে সেটাও। পুরোটা পথ দৌড়েই এসেছে। আস্তে আমার হাত থেকে তাসুকে কোলে নিলো। তাসুর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, “আমার পরীটা!”

তারপর থেকে আসু তাসুকে এই নামেই ডাকত। “আমার পরীটা কই রে?” বলে ডাকলেই ঘরের যে কোনাতেই থাকুক, সেখানে থপ থপ করে তাসু এসে আধো আধো বুলিতে বলত, “আই যে।” puedo quedar embarazada despues de un aborto con cytotec

আর দশটা বাচ্চার থেকে যে তাসু বেশ তড়িৎকর্মা ছিল তা বেশ বোঝা যায়। ছয় মাস বয়সে যেখানে আর দশটা বাচ্চাদের কেবল সুজির মত সাধারণ খাবার খাওয়ানো শুরু করার কথা, সেখানে তাসু আমাদের সবার সাথে বসে বসে আমরা যা খাই তাই খেত। এক বছর বয়সেই টলমলে পায়ে বাড়ি চক্কর দেয়া শুরু করল। কথাও বলতে শিখেছিল আর সবার চেয়ে দ্রুত।

তাসুর প্রথম বলা কথাটাও আর দশটা বাচ্চার মত ছিল না। কারণ হতে পারে তাসুও বুঝত, এই ঘরে তার জন্য সবচেয়ে বেশি মমতা লালন করে যে মানুষটা, সে আসু। তাই হয়তো, অন্য সব বাচ্চারা যেখানে সবার আগে শেখে আআ, মা, দাদা এর মত সহজ শব্দগুলো, সেখানে তাসুর উচ্চারণ করা প্রথম শব্দ ছিল ‘বাইয়া।’ বেশ অস্বাভাবিক ঘটনাই বলা যায়। তাসুর মুখে প্রথম ডাক শোনার পর আসু খুশিতে এমন চিৎকার দেয় যে, তাসু ভয়ে কেঁদেই ফেলেছিল। তাসুকে নিয়ে লাফাতে লাফাতে পুরো বাড়ি চক্কর দিচ্ছিল। আমি আর রাত্রি ভয়ে ছিলাম, কখন না তাসুকে পড়েই যায়। পরদিন নিজের পকেট খরচ থেকে আসু ক্লাসের সবাইকে মিষ্টি খাইয়েছিল।

আসুর সারাটা দিন কাটত তাসুকে নিয়েই। কলেজে যাবার আগে তাসুর কপালে চুমু খেয়ে বেরুত। ফিরে কাপড় না ছেড়েই সবার আগে তাসুকে কোলে নিত। বিকেল পাঁচটার দিকে কলিং বেল এর শব্দ শুনলেই তাসু ‘বাইয়া… বাইয়া…’ বলতে বলতে দরজার দিকে ছুট দিত। আসু কোলে নিতেই ওর পকেটে হাত ঢুকিয়ে চকলেট বের করে নিত। সম্ভবত, তাসুর ধারণা ছিল আসুর পকেট একটা চকলেটের ফ্যাক্টরি। অবশ্য, সেটাকে তাই বলাও যায়। আসুর পকেটে হাত দিয়ে চকলেট পাওয়া যায় নি, এমন কখনও হত না। জন্মের পর তাসু রাতে আমাদের সাথে ছিল মাত্র মাস ছয়েক। তারপর থেকেই প্রতি রাতে আসুর সাথেই ঘুমোত। আসুর সবকিছুতে মিশে ছিল তাসু। এবং তাসুর সবকিছুতে মিশে ছিল আসু, ওর ‘বাইয়া’। ‘বাইয়া’ ছাড়া অন্য কোন শব্দ উচ্চারণ করতে তাসুর অনেক সময় লেগেছিল। আর যখনও বা আরও দু’চারটে শব্দ বলতে শিখেছিল, সারাক্ষণ কারণে-অকারণে ‘বাইয়া’ শব্দটাই বলে যেত। তাসুকে যাই বলা হোক, যে প্রশ্নই করা হোক, উত্তর – ‘বাইয়া।’
রাত্রি জিজ্ঞেস করত, “তোকে সবচেয়ে কে বেশি আদর করে?”
উত্তর আসত – ‘বাইয়া।’
“এই, আমি তোমাকে আদর করি না?” বলে রাত্রি কপট রাগ দেখিয়ে আমার কোলে দিয়ে দিত। তাসু তার ছোট্ট দাঁতে হেসে ফেলত। সাথে আমরা সবাই।
আমি জিজ্ঞেস করতাম, “ঘর ভরে এভাবে ভাত ছিটিয়েছে কে?”
উত্তর আসত – ‘বাইয়া।’
“বোতলের পানি ফেলে ঘর ভাসিয়ে দিল কে রে?”
উত্তর আসত – ‘বাইয়া।’ আসু গাল ফুলিয়ে বলত,
“এহ সবকিছু আমি করেছি?” বলতে বলতে তাসুকে কোলে নিয়ে বলত, “আমার পরীটা কাকে বেশি ভালবাসে রে?”
তাসু আসুর বুকে হাত রেখে বলত, “বাইয়া”। এক অপার্থিব খুশিতে আসুর মুখটা ভরে যেত।

ঘরের মাঝে আসুর একঘেয়েমি ভাব দূর হয়ে যাওয়ার প্রভাব ঘরের বাইরেও পড়তে শুরু করল। প্রচণ্ড অমিশুক আসু সবার সাথে মিশতে শুরু করল। কলেজে ওঠার পর তার বন্ধু সংখ্যার রীতিমতো বিস্ফোরণ হল। সেই সাথে একটু আধটু রাজনীতিও শুরু করে দিল। বিভিন্ন সভা-সেমিনার, মিটিং-মিছিল, মানববন্ধনে অংশ নিত। আমি মানা করতাম না। এ বয়সের ছেলেরা একটু আধটু বিপ্লবী হয়ই। আর এখনই বাইরের দুনিয়াটাকে ভাল করে চিনতে না পারলে, বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে মানিয়ে নিতে অসুবিধা হবে। কিন্তু, রাত্রি এসবে প্রচণ্ড ভয় পেত। আসু যতক্ষণ বাসার বাইরে থাকত রাত্রির দুশ্চিন্তা কমত না – এই বুঝি কোন দুঃসংবাদ এলো। কে জানতো, রাত্রির আশঙ্কাটাই সত্যি হবে।

সেদিন ছিল আসুর এইচএসসি পরীক্ষার শেষদিন। বেরোবার আগেই বলেছিল ফিরতে দেরী হবে। পরীক্ষা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন স্বাভাবিকভাবেই সবাই একটু উড়নচণ্ডী হয়ে যায়। তাই আমিও কিছু বললাম না। তাসুর কপালে চুমু খেয়ে আসু বের হতে যেতেই তাসু আসুর শার্ট টেনে ধরে কোলে ওঠার জন্য কান্নাকাটি শুরু করে দিল। আসু বেরোবার সময় তাসু এমন মাঝে মধ্যেই করে। তখন সাধারণত আসু খানিকটা দেরি করে। তাসুকে কিছুক্ষণ কোলে রাখে। কিন্তু, সেদিন পরীক্ষায় দেরি হয়ে যাবে। তাই আসু বেরিয়ে গেল। তাসু পেছনে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করল- “বাইয়া… বাইয়া…”। রাত্রি তাসুকে সামলাতে সামলাতে আসু বেরোবার আগ পর্যন্ত উপদেশ দিতে লাগল, “মাথা ঠাণ্ডা রাখবি। না পারলে যা খুশি লিখে আসবি। খাতা খালি রাখবি না…।” আসু বেরিয়ে গেল।

পরীক্ষা শেষ বারোটার দিকে। ফিরতে ফিরতে বড়জোর বিকেল হতে পারে। কিন্তু, আসু ফিরছিল না। রাত্রি বিকেল থেকেই দুশ্চিন্তা করতে শুরু করল। আমি গুরুত্ব দিলাম না। হয়তো বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে সময়ের খেয়াল নেই। ফেরার পর খানিকটা বকে দিলেই চলবে। কিন্তু, সন্ধ্যার সময়ও যখন ফিরল না, আমারও দুশ্চিন্তা শুরু হল। বেরিয়ে পড়লাম। পরীক্ষা কেন্দ্রে খোঁজ নিলাম। কলেজে খোঁজ নিলাম। কোন খবর পাওয়া গেল না। পরিচিত কয়েকজন বন্ধুর কাছে খোঁজ নিলাম। জানা গেল, পরীক্ষা শেষ হবার পর তাদের অপরিচিত কয়েকজনের সাথে আসু চলে গেছে। সম্ভবত কোন রাজনৈতিক কর্মসূচী আছে। আমার কপালের ভাঁজ বাড়তে শুরু করল।

সব পরিষ্কার হল রাত আটটায় একটা কল আসার পর। কলেজের আইডি কার্ড থেকে একটা লাশ আইডেন্টিফাই করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, লাশটার বাবা আমি। আসুর লাশটাকে পেলাম ঢাকা মেডিকেলের মর্গে। আসু চুপচাপ ঘুমিয়ে আছে। সবকিছুই স্বাভাবিক। অস্বাভাবিক হচ্ছে পাশে তাসু নেই। আর অস্বাভাবিক হচ্ছে, আসুর গলাটা জবাই করা। অস্বাভাবিক হচ্ছে, আমার মাথাটা কেমন যেন ফাকা ফাকা লাগল। অস্বাভাবিক হচ্ছে, আমি কোন অনুভূতিই অনুভব করতে পারলাম না। আমার সামনে আমার ছেলের জবাই করা লাশ পড়ে আছে। আমার ডাক ছেড়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। আমি কাঁদতে পারছি না। আমার অশ্রু সব হারিয়ে গেছে। সন্তানের জন্য শোকের চেয়েও আমার কাছে বড় হয়ে উঠল রাত্রি কিংবা তাসুকে কীভাবে সামলাব। জানা ছিল না তার কিছুই।

তারপর আর দশটা পরিবারের মতই সব হল। কান্নার রোল উঠল। বাড়িতে আত্মীয়-প্রতিবেশীর ঢল নামল। মামলা হল। পোস্ট-মর্টেম হল। জানাজা হল। দাফন হল।

এতকিছুর মাঝেও আমার সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা হচ্ছিল তাসুকে নিয়ে। রাত্রির কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি শুকিয়ে ফেলা কিংবা একটু পরপর মূর্ছা যাওয়া নিয়েও ততটা চিন্তিত ছিলাম না যতটা চিন্তা হচ্ছিল তাসুকে নিয়ে। কিন্তু, তাকেই দেখা গেল সবচেয়ে স্বাভাবিক। বাসায় মানুষের ঢল নেমেছে। কিছু একটা হচ্ছে বুঝতে পারছে। বুঝতে পারছে, তার ‘বাইয়া’ এখানে নেই। সবার মাঝে ‘বাইয়া’কে খুঁজছে। কিন্তু, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।

এমনকি আসুর দাফনের সময়ও তাসু সেখানে ছিল। কেউ একজন কবরস্থানে মেয়েদের প্রবেশ নিয়ে খানিকটা উচ্চবাচ্য করতে চেয়েছিল। আমলে নিই নি। তাসু চুপচাপ দাড়িয়ে সবকিছু দেখেছে। এমন কি আর সবার দেখাদেখি আসুর কবরে মাটিও দিয়েছে। এবং দু’দিন যেতেই সবকিছু ভুলে গেছে। চকলেটের কথা, পরীর কথা, আদরের কথা, ভালবাসার কথা, আর তার ‘বাইয়া’র কথা। অবশ্য হওয়ারও ছিল তাই। দু’বছরের একটা বাচ্চার স্মৃতি এর চেয়ে বেশি শক্তিশালী হবার কথাও না। বন্ধ হয়ে গেল সবকিছুর উত্তরেই ‘বাইয়া’ বলা। আমিও হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।

তারপর মোটামুটি একটা বছর কেটে গেল। আমাদের তিনজনের মাঝে আসু ফিকে হতে হতে ক্রমশ মিলিয়ে গেল। সংসারে যে কেউই অপরিহার্য নয়, সেটা বেশ স্পষ্ট বুঝতে পারলাম। আসুকে ছাড়া আমি-রাত্রি কিংবা অন্তত তাসুর বেঁচে থাকা যে রীতিমত অসম্ভব সেটা নিয়ে কারও বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না। অথচ, আমরা সবাই দিব্যি বেঁচে আছি। খাচ্ছি-দাচ্ছি-ঘুমোচ্ছি। পারিবারিক, সামাজিক বা ধর্মীয় উৎসবে আনন্দ করছি। মাঝে মাঝে আসু মনের কোণায় উঁকি দেয়ার চেষ্টা করছে। সেটাকে সাথে সাথে ঝেড়ে ফেলছি।

আগেই বলেছি, আসু যখন মারা যায় তখন তাসুর বয়স মাত্র দুই বছর। স্বভাবতই গত এক বছরে তাসু আসুর সব স্মৃতিই ভুলে গিয়েছে। শুধু আসু না। ছোটবেলার সব স্মৃতিই ভুলে গিয়েছে। এক বছরে আধো আধো বুলি থেকে রীতিমত গড়গড় করে কথা বলতে শিখেছে। ‘বাইয়া’ থেকে ভাইয়া ডাকতে শিখেছে। আর তার ‘বাইয়া’র কথা ভুলে গেছে। সবকিছু ঠিকঠাক। নিরুত্তাপ।

তারপর, হটাৎ একদিন সেই নিরুত্তাপ সবকিছু ঘোলা হয়ে গেল।

তখন সন্ধ্যে বেলা। রাত্রি রবীন্দ্র সংগীত শুনতে শুনতে চা খাচ্ছিল। হঠাৎ, কোত্থেকে তাসু এসে রাত্রিকে জিজ্ঞেস করল, “আম্মু, আমার ভাইয়া কোথায়?”
রাত্রি ভাবল কোন পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে হয়তো আসুর কথা কিছু শুনেছে। তাই বলল, “হ্যাঁ, তোমার ভাইয়া আকাশের তারা হয়ে গেছে।”
তাসু খানিকক্ষণ চুপ করে থাকল। যেন গভীর কিছু ভাবছে। ঠিক আসুও এমন করে কথার মাঝখানে চুপ করে যেত। তারপর হঠাৎই বলে উঠল, “আচ্ছা, ভাইয়া কি ইচ্ছে করলে আকাশ থেকে নেমে আমার সাথে দেখা করতে পারবে?”
রাত্রি কী বলবে খানিকক্ষণ ভেবে পেল না। খানিকপর বলল, “হ্যাঁ, পারবে। কিন্তু, তোমার ভাইয়া তো পচা। তাই আসে না। পচা ভাইয়ার কথা এত চিন্তা করতে হবে না। দেখি গুনতে শুরু কর তো। কত পর্যন্ত পারো?
তাসু বলতে শুরু করল, “এক, দুই, তিন, ছয়… আম্মু জানো, ভাইয়া না আজকে বিকেলে আমার সাথে দেখা করেছে। এই যে আমাকে একটা চকলেটও দিয়েছে।”
রাত্রি চমকে উঠে তাসুর দিকে তাকাল। ওর সারা শরীর থরথর করে কাঁপতে শুরু করল। রীতিমত দৌড়ে আমার কাছে এলো। আমি পাশের রুমেই অফিসের কিছু কাগজপত্র দেখতে দেখতে চা খাচ্ছিলাম। রাত্রির কথা শুনে হেসে ফেললাম। বাসার দরজা প্রায়শই খোলা থাকে আর তাসু সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করে। তখনই হয়তো কারও সাথে দেখা হয়েছে। ছোট বাচ্চা দেখে আদর করে তাসুকে চকলেট ধরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু, তাসুকে আমরা ভাল করে শিখিয়েছি অপরিচিত কারও থেকে যেন কিছু না নেয়। তাসুও হয়তো নিতে চায় নি। তখন লোকটা হয়তো বলেছে, আমি তোমার ভাইয়া হই কিংবা এমনই কিছু।
রাত্রিকে বললাম, আমার ধারণার কথা। তবু রাত্রি নিশ্চিন্ত হতে পারল না। বলল, “তুমি একটু তাসুর কাছে চল। আমার কেমন যেন লাগছে।”
আমি হাসতে হাসতে বললাম, “তোমার কী মনে হয়? আসু আকাশের তারা থেকে নেমে এসে তাসুর সাথে কথা বলে গেছে? ওকে চকলেট দিয়ে গেছে?”
রাত্রি অধৈর্যের মত বলল, “আমি কিছু জানি না। তুমি তাসুর কাছে চল।” বলে ঠেলতে ঠেলতে আমাকে তাসুর কাছে নিয়ে গেল।

আমি তাসুর কাছে গিয়ে বললাম, “তাসুমনি! আজকে তোমার কার সাথে দেখা হয়েছিল?”
তাসু বেশ জোরের সাথেই বলল, “ভাইয়া।”
রাত্রি আমার দিকে শঙ্কিত চোখে তাকাল। তাসুকে আবার জিজ্ঞেস করলাম, “তোমার ভাইয়া এসেছিল কোনখান দিয়ে?”
“ওই যে” তাসু জানালার দিকে আঙ্গুল দেখাল।
আমি সাথে সাথে হেসে উঠলাম। রাত্রির দিকে তাকিয়ে বললাম, “তোমার মেয়ের ভাইয়া কি ছিঁচকে চোর না’কি? জানালার কার্নিশ বেয়ে উঠে চকলেট দিয়ে যায়?”
রাত্রিকে বিভ্রান্ত দেখাল। যেন কিছুই বুঝতে পারছে না। কিন্তু, তাসু প্রতিবাদ করে উঠল, “আমার ভাইয়া চোর না। আমার ভাইয়া ভাল।”
আমি হাসতে হাসতে পাশের রুমে চলে গেলাম। ভেবেছিলাম, সবকিছু ওখানেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু, হল না। synthroid drug interactions calcium

মাঝরাতে হঠাৎই ঘুম ভেঙ্গে গেল। আড়মোড়া ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে বুঝতে পারলাম, ঘুম ভেঙ্গেছে তাসুর চিৎকারে। ও চিৎকার করে বলছে, “আমি তোমাদের সাথে ঘুমোব না। আমি তো প্রতিদিন ভাইয়ার সাথে ঘুমোই। আমি ভাইয়ার সাথে ঘুমোব।”

ততক্ষণে রাত্রিও জেগে গেছে। আলো-আধারিতে ওর মুখ ঠিকমত দেখতে পেলাম না। কিন্তু, বুঝতে পারলাম এক দৃষ্টিতে ও তাসুর দিকে তাকিয়ে আছে। বিছানায় উঠে বসে তাসুকে জড়িয়ে ধরে বললাম, “তুমি রাতে ভাইয়ার সাথে ঘুমোতে – এটা কে বলেছে তোমাকে? তুমি তো প্রতিদিনই আমাদের সাথে ঘুমোও।”
তাসু সাথে সাথে হাত-পা ছুঁড়ে চিৎকার করতে করতে বলল, “না না, আমি ভাইয়ার সাথে ঘুমোই। আমি তোমাদের সাথে ঘুমোব না। আমি ভাইয়ার সাথে ঘুমোব।”

আমি আর রাত্রি মুখ চাওয়াচাওয়ি করলাম। অন্ধকারে কারও শঙ্কিত মুখই কেউ দেখতে পেলাম না। মোটামুটি ঘণ্টা দেড়েকের চিৎকার-কান্নাকাটির পর তাসু ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে গেল। রাত্রি কিছু বলতে চাইছিল। সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে, চুপচাপ ঘুমিয়ে গেলাম।

তারপর দু’টো দিন স্বাভাবিকভাবেই কেটে গেল। দু’দিন পর আসুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। আমি আর রাত্রি দু’জনেই ঠিক করেছিলাম, আসুর কথা বিন্দুমাত্র মাথায় রাখব না। আর তাসু যা শুরু করেছে, তাতে তো ঘরে আসুকে নিয়ে কথাবার্তার তো প্রশ্নই আসে না। স্রেফ বিকেলের দিকে একটা মিলাদ মাহফিল করা হবে। levitra 20mg nebenwirkungen

সকালে আমি প্রতিদিন তাসু ওঠার আগেই অফিসে চলে যাই। যাবার আগে আমার ‘ঘুমন্ত রাজকন্যে’র কপালে একটা চুমু খেয়ে যাই। আজকেও তাই করতে যেতেই তাসু লাফিয়ে ঘুম থেকে উঠেই বলল, “ভাইয়া, এসেছ?” কিন্তু, চোখ খুলে আমাকে দেখেই হতাশ হয়ে গেল। রাগী রাগী গলায় বলল, “ভাইয়া কই?” এভাবে আগে কখনও তাসুকে কথা বলতে শুনি নি। অন্য সময় হয়তো ওর ইচ্ছেমত কিছু না হলে, গলায় খানিকটা অভিমান মেশানো থাকত। কিন্তু, আজকে নিখাদ রাগ। ovulate twice on clomid

ঠিক করে ফেললাম আজকে আর অফিসে যাচ্ছি না। শার্টের ইন ছেড়ে তাসুর সামনে বসলাম। বললাম, “তাসুমনি, তোমার ভাইয়াকে নিয়া তোমার কী কী মনে আছে, বল তো।” তাসু উঠেছে বুঝতে পেরে রাত্রি রান্নাঘর থেকে এসে আমাদের পাশে বসল। can you tan after accutane

তাসু এক নিঃশ্বাসে বলতে শুরু করল। আমি আর রাত্রি অবাক হয়ে তাসুর দিকে তাকিয়ে রইলাম। তাসু বলতে থাকল। আসুর কথা, পরীর কথা, চকলেটের কথা, আদরের কথা, আসুর ডাকে যে কোন জায়গা থেকে ছুটে আসার কথা, আসুর ফেরার সময় হলে তাসুর দৌড়ে দরজার কাছে ছুটে যাবার কথা, সব অভিযোগ আসুর ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার কথা। বলল, সবকিছু। শুধু বলল না আসুর মারা যাবার কথা। viagra en uk

তাসুর সবকথা শুনে রাত্রি ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল। তাসু অবাক হয়ে রাত্রির দিকে তাকিয়ে রইল। মা এভাবে কেঁদে ফেলল কেন, ঠিক বুঝতে পারল না। খানিকক্ষণ পরে আবার চিৎকার করে উঠল, “ভাইয়া, এখনও আসে নাই কেন?”
আমি তাসুকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম, “তাসুমনি, তোমার ভাইয়া তো তারার কাছে চলে গেছে। আর আসবে না কখনও। এবার লক্ষ্মী মেয়ের মত ঘুমিয়ে…।”
“না না না, আমি ঘুমোব না। ভাইয়া বলেছে, আজকে আসবে। এসে আমাকে ভাইয়ার কাছে নিয়ে যাবে।” তাসু আবার চিৎকার করে উঠল। তাসুর কথা শুনে রাত্রি হতভম্ব হয়ে তাসুর দিকে তাকিয়ে রইল। যেন কথা বলতেও ভুলে গেল। বুঝতে পারলাম ‘ভাইয়ার কাছে যাওয়া’ রাত্রি কোন অর্থে নিয়েছে।
তাসুকে সামলানো রীতিমত অসম্ভব হয়ে উঠল। দুপুর গড়িয়ে গেল। তাসুর কান্নাকাটি বিন্দুমাত্র থামল না। আছরের আজান দিয়ে দিল। রাত্রির ঘরের কাজ সব পড়ে আছে। দুপুরেই কারও কিছু খাওয়া হয় নি। বাদ মাগরিব মিলাদ মাহফিল। ঘরদোর একেবারে অগোছালো। অগত্যা তাসুকে কাশির সিরাপ ফেনারগান ফিডারে করে খাই য়ে দিলাম। এমনিতেই ক্লান্ত ছিল। ঘুমিয়ে পড়তে বেশি দেরি হল না।

ঘুমিয়ে যাওয়ার পর আমি আর রাত্রি একদৃষ্টে তাসুর দিকে তাকিয়ে রইলাম। কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না। তাসুর যদি সবকিছু মনেই থাকবে, তাহলে এতদিন এই নিয়ে কোন কথা বলেনি কেন? একটু পরে রাত্রি রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। বাদ মাগরিব মিলাদ মাহফিল। রান্নাবান্না এখনও কিচ্ছুটি হয় নি। আমি বসে বসে পুরো ঘটনাটা কীভাবে ঘটেছে, তা ভাবার চেষ্টা করলাম। কোন কূল কিনারা করতে পারলাম না।

হঠাৎ কলিং বেল এ শব্দ হল। বুঝলাম মিলাদের জন্য অন্য ফ্লাটের মানুষেরা আসতে শুরু করেছে। দরজা খুলতে উঠলাম। কিন্তু, কলিং বেলের শব্দ শুনে তাসুও ঘুম থেকে উঠে গেল। আমি যাবার আগেই দৌড়ে দরজার কাছে ছুটে গেল। কিন্তু, দরজার নব এর এর নাগাল পেল না। রান্নাঘর থেকে রাত্রিও চলে এলো। আমি তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে এক হাতে তাসুকে ধরে অন্য হাতে দরজা খুললাম। যা ভেবেছিলাম তাই – পাশের ফ্লাটের ডক্টর ফ্যামিলি চলে এসেছে। ড. রায়হান আর ড. রেহনুমা। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই ডাক্তার বলে এলাকায় এই পরিবারের নাম ডক্টর ফ্যামিলি। আমি তাদের দেখে একটা হাসি ফুটিয়ে ভেতরে আসতে বলব, কিন্তু তার আগেই তাদের দেখে তাসু চিৎকার করে উঠল, “এরা এসেছে কেন? ভাইয়া কই?” walgreens pharmacy technician application online

তাসুর আচরণ দেখে তারা ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলেন। আমি তাদের কিছু একটা বলে বুঝ দিতে যাব, সেই সুযোগে তাসু আমার হাত থেকে ওর হাত ছুটিয়ে “ভাইয়া ভাইয়া” বলতে বলতে সামনের দিকে ছুট দেয়। এক মুহূর্ত হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে আমি আর রাত্রিও তাসুর পেছনে ছুট দিলাম। কিন্তু, ততক্ষণে যা হবার হয়ে গেল। দৌড়াতে গিয়ে পা হড়কে তাসু সিঁড়ি দিয়ে গড়িয়ে পড়ে গেল। হঠাৎ করে আমি বজ্রাহতের মত তাকিয়ে রইলাম। তাসু সিঁড়ি থেকে উল্টে পড়ে যাচ্ছে। এক সিঁড়ি দুই সিঁড়ি করে একেবারে নিচের সিঁড়ি। স্থানুর মত দাড়িয়ে আছি বিস্ফোরিত চোখে তাসুর পড়ে যাওয়া দেখছি সম্বিত ফিরল রাত্রির চিৎকার শুনে!

সম্বিত ফিরে পেতেই দ্রুত সিঁড়ি ভেঙ্গে নিচে নামলাম। তাসু জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। রক্তে থৈ থৈ চারপাশ। ওর ডান হাতটা অস্বাভাবিকরকম বেঁকে পিঠের তলায় ঢুকে আছে। সিঁড়িতে রক্ত। পিছনে রাত্রির রিনরিনে কন্ঠের চিৎকার। আমি পিছন ফিরতেই দেখলাম, রাত্রি মাথা ঘুরে ডাক্তার সাহেবের স্ত্রীর গায়ের উপর লুটিয়ে পড়ছে। ভদ্রমহিলা একটু হতভম্ব হলেও পরক্ষনেই সামলে নিলেন। রাত্রিকে কোনমতে ধরে রেখে সিঁড়িতেই বসে পড়লেন।

আমি তাসুকে কোলে নিলাম । শার্ট রক্তে ভিজে যাচ্ছে।

ড. রায়হান নিচে নেমে এলেন। উপর থেকে ড. রেহনুমা শান্তকন্ঠে বললেন, “ভাইসাহেব তাসুকে রায়হানের কাছে দিন। দ্রুত ব্লিডিং বন্ধ করতে হবে। আপনি ফার্মেসি থেকে আইভি স্যালাইন কিনি নিয়ে আসুন। অনেক ব্লাড গেছে শকে চলে যেতে পারে। আই ভি ইনফিউশন করতে হবে। আমাদের ড্রাইভার নিচেই আছে বলবেন গাড়ি বের করতে। এম্বুলেন্স ডাকতে গেলে দেরি হয়ে যাবে। একদম ধৈর্য হারাবেন না। আমি ভাবিকে দেখছি”।

আমি দিশাহারার মত রায়হান সাহেবের দিকে তাকালাম। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করতেই বোধহয় আমার কাঁধে হাত রাখলেন। আমার গা কাঁপছে টের পেলেন উনি। উনার কোটের পকেটে প্যাড আর কলম ছিল। প্যাডে খুব দ্রুত কিছু একটা লিখলেন । কাগজটা ছিঁড়ে আমার পকেটে ঢুকিয়ে বললেন, এগুলো কিনে নিয়ে আসুন। তাসুর ভাঙ্গা হাতটা সাবধানে এড়িয়ে ওকে আমার কোল থেকে নিজের কোলে তুলে নিলেন তিনি। “ব্লাড গ্রুপ জানা আছে ওর?”
আমি মাথা নাড়লাম। জানা নেই। ড. রায়হান তাসুকে মেঝেতে শুইয়ে দিলেন। পালস চেক করলেন ওর। একটু পরেই টিস্যু দিয়ে তাসুর নাক মুখে লেগে থাকা রক্ত মুছলেন। মুখটা পরিষ্কার করার পর কোথায় ফেটেছে বোঝা গেল । কপালের বাম পাশ থেকে গলগল করে রক্ত বের হচ্ছে তখনো। উপরের ঠোঁটে কেঁটে ঝুলে আছে। রায়হান সাহেব ফাটা জায়গায় একটা আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরে রাখলেন। আমার মনে হল আমি দাড়িয়ে থাকতে পারবনা আর। পড়ে যাব। নিজের অজান্তেই কাঁপা কাঁপা স্বরে বললাম, “তাসু কি মারা যাচ্ছে?”
ড.রায়হান একটু ধমকের স্বরে বললেন, “আপনি যাননি এখনো!”
আমি চোখে পানি মুছে উঠে দাঁড়ালা। বের হতে যাব, এমন সময় হঠাৎ তাসু বিড়বিড় করে বলল, “ভাইয়া… তুমি এসেছ?” para que sirve el amoxil pediatrico

চমকে তাসুর দিকে তাকালাম। হঠাৎ কী ভেবে আমি বাসার ভেতরে দৌড় দিলাম। ড. রায়হান ভাবলেন বোধ হয় অ্যাম্বুলেন্স কল করতে যাচ্ছি। তাই পেছন থেকে বললেন, “অ্যাম্বুলেন্স ডাকার মত সময় নেই। আমার গাড়িতে করেই নিয়ে চলুন।”

আমি কোন কথায় কান দিলাম না। দৌড়ে সোজা আমাদের শোবার ঘরে চলে গেলাম। জানালার দিকে তাকালাম। হঠাৎ, আমার কেন যেন মনে হল, আসুর ছায়াটা ওখান থেকে সরে গেল।

You may also like...

  1. :grin: :grin: ভালোই লেগেছে।
    তবে প্রথম দিকে আসুর কাহিনী একটু দীর্ঘ লেগেছে ।

    thuoc viagra cho nam

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment. side effects of drinking alcohol on accutane

tome cytotec y solo sangro cuando orino