ত্রিনিদাদের পুজা এবং বাংলাদেশের পাগলাবাবার কানাডা অভিবাসি বিষয়ক কথন

1056 generico levitra orosolubile

বার পঠিত

অবৈধ পথে কানাডা গিয়ে যেভাবে স্থায়ী হলেন ‘পাগলাবাবা’]

[সত্য ঘটনা অবলম্বনে লিখিত]

ব্লগে লেখালেখির সূত্রে টরেন্টো প্রবাসি ‘পাগলা বাবা’র সাথে পরিচয় হয় আমার গত বছর নেটে। সেই সূত্রে ২-মাস আগে বাংলাদেশে এলে আমার বাসায় অবস্থান করে ‘পাগলাবাবা’। অনেক গল্প, অনেক কথা, অনেক হাসি-কান্নার অভিজ্ঞতা আর জীবন সংগ্রামের এক নাটকিয় কাহিনি শোনায় আমার প্রিয় বন্ধু ‘পাগালাবাবা’। কেমন করে প্রায় ১-বছর ধরে নানা অবৈধ পথে আমেরিকা ঢুকতে না পেরে, কিভাবে ঢুকলেন ক্যানাডাতে প্রায় ২৫-বছর আগে – তারই এক নাটকিয়, বিস্ময়কর, হৃদয়ঘন, আবেগ আপ্লুত, আর কৌতুহল উদ্দিপক জীবনময়তার অনবদ্য কথকতা আজকের লেখা। সে এখন আমার খুব প্রিয় বন্ধু! তাকে এয়ারপোর্টে বিদায় জানাতে যেতে হয় আমাকে অফিস ছেড়ে হলেও!

ঐ বন্ধুর অন্য একটা “রায়’ পদবির নাম থাকলেও, তাকে আমি ‘পাগলাবাবা’ বলে সম্বোধন করি, সেও তা পছন্দ করে খু্বই। ছাত্রাবস্থা থেকেই পাগলাবাবার ইচ্ছে, যে কোন ভাবে আমেরিকা যাবে সে বৈধ কিংবা অবৈধ পথে। খুঁজতে থাকে নানা ফাঁক ফোঁকড়। একজনের কাছে জানতে পারে ‘বাহামা’ থেকে ৩১-কিলোমিটার সমুদ্র-পথ যুক্তরাষ্ট্রের ‘মায়ামি’র। ঐ পথটুকু স্পিড বোটে পাড় হওয়া তেমন জটিল কাজ নয়, সাঁতার জানা এ বাঙালি পাগলাবাবার কাছে। কিন্তু বাহামা যাবে কিভাবে? নানা বইপুস্তক আর তথ্য উপাত্ত ঘেটে (তখন ফেসবুক ছিলনা) বের করে যে, বাংলাদেশের নাগরিকদের ‘বাহামা’ যেতে কোন ভিসা লাগেনা, কেবল রিটার্ন টিকেট আর পর্যাপ্ত ডলার শো’করলেই বাহামা এয়ারপোর্টে ৬-মাসের ভিসা দেয় বাংলাদেশিদের। আরো জানলো যে, বাহামা হচ্ছে একটা পর্যটন প্রধান দেশ, প্রতি বছর কয়েক লাখ মানুষ বাহামা বেড়াতে যায় পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে।

প্লান মোতাবেক ঢাকা-লন্ডন-বাহামা রিটার্ন টিকেট কেটে বিমানবন্দরে যথাসময়ে হাজির হলো পাগলাবাবা। সাথে নিল ডলার, বাংলাদেশের অনেক ডাকটিকেট, আর ২/৫/১০/২০ টাকার বাংলাদেশি অনেক নতুন নোট। কারণটা হচ্ছে, বাহামার পর্যটকদের কাছ ডাকটিকেট ও বাংলাদেশি কমদামি নোট বিক্রি করা। চমৎকার বুদ্ধি পাগলাবাবার কিন্তু বুদ্ধি মার খেল ঢাকা বিমানবন্দরে। সব ঠিক থাকা সত্বেও তাকে ছাড়লো না বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন। কারণ দেখালো, তার মত পাগলাবাবার বাহামা ঘুরতে যাওয়া অযৌক্তিক, এটা অবৈধ পথে আমেরিকা যাওয়ার বাহানা মাত্র, অত্রএব ‘রিটার্ন টু ব্যাক হোম’।

কিন্তু দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, হার না মানা, যুদ্ধবাজ ‘পাগলাবাবা’ এবার ট্রাভেলে গিয়ে অন্য রকম করলো টিকেট। কোলকাতা-বোম্বে-লন্ডন-বাহামা, আর সাথে ঢাকা-কোলকাতার ১টা আলাদা টিকেট। এবার বাহামার কথা গোপন করে চলে গেল কোলকাতা। সেখান থেকে পরদিন প্লান মোতাবেক সোজা ২-দিনের দীর্ঘ আর ক্লান্তিকর পথ জার্নি শেষ করলো বাহামার ‘নাসাউ’ বিমানবন্দরে। কিছুই তেমন জানতে চাইলো না কেবল ডলার আছে কিনা এবং ক’দিন থাকতে চান বাহামা? ব্যাস ভিসা! বাহামার ভিসা!!

একটা কমদামি ছোট মোটেলে উঠলো পাগলাবাবা। রাতে থাকে সেখানে, আর দিনে খোঁজ করে মায়ামি যাত্রার পথ ঘাট, রুট। ১-মাসের মধ্যেই দালাল পেয়ে যায় ১০০০ ডলারে যাত্রার, যারা রাতে মায়ামি উপকূলে নামিয়ে দেবে তাকে ও অন্যদের। অনেক পর্যটকের কাছে বাংলাদেশি ডাকটিকেট ও মুদ্রা এক ডলার করে বিক্রি করে প্রায় ৩০০০ ডলার আয় করে পাগলাবাবা। একদিন সত্যিই ২-ইঞ্জিনচালিত “টার্বো-ক্যাটে” রাত ১-টায় ‘নাসাউ’ ছাড়ে পাগলাবাবারা ২৪-জন। এ বিজন জলসমুদ্রে সে একাই বাঙালি, আর সব অন্যান্য দেশের বিশেষত আফ্রিকান। প্রচণ্ড গতির ‘টার্বোজেট’ জলমালাকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে বর্ণিত সময়ের আগেই পৌঁছে মার্কিন জলসীমায়। মায়ামির ১০/১৫ কিলোমিটারের কাছাকাছি পৌঁছতেই মার্কিন রণতরী থেকে গোলা নিক্ষেপ করে টার্বোজেটের দিকে। হায় বিপদ ! মার্কিন রণতরীর চোখে পড়ে গেছে টার্বো। সব বাতি নিভিয়ে কিয়ামতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে মুহূর্তে জেট ঘুরিয়ে দেয় অথৈ নীল সমুদ্রে, সোজা দক্ষিণে কিউবা-ক্যারিবিয়ানের দিকে। অন্ধকার প্রবল স্রোত, ঢেউ আর প্রচণ্ড জলকেলিতে টার্বো গিয়ে ওঠে জনমানবহীন ‘বিমিনি’ দ্বীপে। সারারাত অন্ধকার বালুরাশিতে বসে থাকে ২৪-জনের পাগলাবাবার দল শেষ বিচারের প্রতিক্ষায় যেন !

সূর্যালোকে টার্বো-মাঝিরা আবার সবাইকে নিয়ে যাত্রা করে মূল বাহামার দিকে। ১০০০-ডলারের সারারাতের যাত্রা শেষে দুপুরে অভুক্ত ২৪-স্বাপ্নিক আমেরিকাবাসী ক্লান্তি, শ্রান্তি আর একরাশ বিষণ্নতাকে সাথী করে নাসাউর রাস্তায় ঘুরতে থাকে পথহীন পথিকের মত! পাগলাবাবার হৃদয়ে বাজে ক্লান্ত করুণ ঘুঘুর ডাক। fluoxetine 20 milligrams

১০/১২ দিন পর হঠাৎ সৈকতে এক বাঙালি ললনার দিকে চোখ পড়ে পাগলাবাবার। কথা হলে বুঝতে পারে সে ‘ত্রিনিদাদ ও টোবাগো’র নাগরিক। তার পূর্বপুরুষ ভারতের ভুপালের। অল্প হিন্দিও জানে মেয়েটি কিন্তু ভারতীয় এথেনিক বিধায় চেহারা বাঙালি ললনার মতই। তার সাথে বন্ধুত্ব করার চেষ্টা করে পাগলাবাবা, সুন্দর চেহারাখানি এখানে প্লাস পয়েন্টের ভূমিকা পালন করে দারুণ। একদিন মায়ামি যাত্রার সব কথা খুলে বলে ত্রিনিদাদ-কন্যা ফিউচার বন্ধু ‘পুজা রত্নাকর’-কে। কেন যেন মায়া কিংবা প্রেম হয় পাগলাবাবার প্রতি পুজার। সে তাকে তার সাথে ত্রিনিদাদ যেতে বলে এবং ওখানের পাসপোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ঢোকা সহজতর বিধায়, তাকে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পাসপোর্ট করে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। পাগলাবাবা যেন রাজ্য আর রাজকন্যা হাতে পায় এক লটারিতেই। অতএব সানন্দে পুজার সহগামি হয় ঢাকার পাগলা!

পুজার হাতে ধরে ত্রিনিদাদের ‘পিয়ারকো’ বিমানবন্দরে নেমে সোজা চলে যায় পুজার গ্রামের বাড়ি ‘সিপারিয়ায়’, যেখানের অধিকাংশ মানুষই কথা বলে হিন্দি আর ভুপালিতে, যারা ভারত থেকে গিয়েছিল ঐ অঞ্চলে পরিজায়ি পাখির মত অনেক বছর আগে। আখ ক্ষেতের পাশে দরিদ্র পুজাদের কাঠের পাটাতন ঘরে লবনাক্ত সমুদ্রের উথাল বাতাসে আনন্দে দিন কাটে পাগলা বাবার। পুজার পরামর্শে পাগলাবাবা তার বাংলাদেশি পরিচয় গোপন করে কোলকাতার বাঙালি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়, যাতে পুজার বাবা সহায়তা করে পাসপোর্টে করতে। ৩-মাসের মাথায় পরিচয়ের সব কাগজপত্র পুজাই ঠিক করে একদিন ‘পোর্ট অব স্পেনে’র পাসপোর্ট অফিস হাজির হয় পাগলাবাবাকে নিয়ে। এর মাঝে হিন্দিতে কথা শিখিয়ে দেয় পাগলাবাবাকে। পুজা পাসপোর্ট অফিসে পাগলাবাবাকে তার ‘স্পাউস’ হিসেবে পরিচয় দেয় ভারত থেকে আসা ‘নবাগত ফিঁয়াসে’ হিসেবে। ৫-দিনের মাথায় পুজা নিয়ে আসে তার “মানবিক স্পাউসের” নতুন দেশের পাসপোর্ট বিনা স্বার্থে, কেবল হয়তো মন কিংবা হৃদয়জনিত কারণে। হায়রে হৃদয় তুই কি বাণিজ্য শিখলি না, এমন কেন হলি?

পাসপোর্ট পেয়ে উতলা পাগলাবাবা পাড়ি জমাতে উদগ্রিব থাকে যুক্তরাষ্ট্রে। ফসলি মাঠের বিদীর্ণ সামুদ্রিক বাতাসে নিজ চোখের চিকচিকে জল চেপে পুজা পাগলাবাবাকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ক্যানাডা যেতে পরামর্শ দেয়। একদিন ক্যানাডিয়ান এয়ারে বিদায় জানাতে পুজা আসে ত্রিনিদাদের ‘পিয়ারকো’ এয়ারপোর্টে। বোর্ডিংসহ সব নিজেই ঠিক করে দিয়ে, বিদায়ক্ষণে ত্রিনিদাদ-কন্যা আকস্মিক বাঙালি গ্রাম্য নদী-তীরবর্তী কিশোরিতে রূপান্তরিত হয়ে পিয়ারকো বন্দরের বাতাসকে ক্লেদাক্ত করে রিণরিণে কান্নায়। শ্রাবণের অঝোর জলধারায় পাগলাবাবা বুঝতে পারেনা সে কি সিপারিয়ার আখ ক্ষেতের ঝিরঝিরে ছায়ায় ফিরে গিয়ে পুজার হাত ধরবে? নাকি দেশে ফেলে আসা চিন্তিত স্বজনদের মুখে হাসি দেখবে? ঢাকায় প্রায় বছরব্যাপী চিন্তিত স্বজনের মুখ চেয়ে পুজার হাত ছেড়ে ইমিগ্রেশনে এগিয়ে যায় পাগলাবাবা। একটিবারও ফিরে তাকায়না পেছনে এক মুহূর্তের জন্যেও, হয়তো অফ্রিয়াসের সাইরেনের বাঁশির মত পুজা তাকে আটকে দেবে এ ত্রিনিদাদে। হায় হৃদয় ! হায় প্রেম ! তুই কেন এলে বিশ্বে?

বোয়িং ৭৪৭-এ৩ সুপরিসর জ্যাম্বোজেটে কিছুই মুখে দিতে পারেনা পাগলাবাবা। পুজা বিমানের সর্বত্র তাকে ছিন্নভিন্ন আর রক্তাক্ত করতেই থাকে। চালক, ক্রু আর বিমানবালা হয়ে পুজা বিমানকে লণ্ডভণ্ড করে ক্রমাগত ক্যারিবিয়ান সামুদ্রিক ঝড় হয়ে। হঠাৎ বুক ফেটে প্রচণ্ড শব্দে তা প্রকাশিত হয় পাগলাবাবার হৃদয় জুড়ে! পাশের সিটে বসা বিদেশি সহযাত্রী বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করে, “Any thing wrong”? অনেকটা ধাক্কা দিয়ে ককপিট থেকে পুজাকে পিয়ারকোতে ফেলে এক সময় টরোন্টোতে নামে ব্যোমযান। নানা প্রশ্নের পর পুলসিরাত পার হয় পাগলাবাবা। নানা সংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত, জেল-জীবন আর দু:খের সাথে লড়াই করতে করতে প্রায় ৪-বছর চলে যায় ওন্টারিও আর টরেন্টোতে। অবশেষে একদিন পেয়ে যান কানাডার পাসপোর্ট। এক সময় স্ত্রী আর সন্তানকে নিয়ে যান সেখানে জীবন বাস্তবতায়। ছেলেটি এখন বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে ভাল বেতনে জব করে টরোন্টোতে, আর মেয়েটি পড়ে পাবলিক স্কুলের গ্রেড-টেনে। আমিও হয়তো একদিন দেখতে যাব তার টরেন্টোর সংসার, পাগলাবাবার এমনই ইচ্ছে আমাকে নেয়ার।

সময়ের পেন্ডুলামে ২৫-বছর কাটানোর পর এ লেখকের সাথে এ গল্প যখন বলছিলো ‘পাগলাবাবা’ তার ঢাকার ফ্লাটে, তখন পুজা আর তার সিপারিয়া গাঁয়ের স্মৃতিতে এ পৌঢ় বয়সেও অঝোরে কাঁদলো ‘পাগলাবাবা’। জানিনা এক অচেনা বন্ধু ‘পাগলাবাবা’ আর তার ত্রিনিদাদ বন্ধু ‘পুজা’র জন্যে এ লেখকের চোখও কেন আংশিক ভিজে উঠেছিল সেদিন? এ কথা কি জানে এ মহাবিশ্বের পুজা, সিপারিয়া গাঁ, আর ত্রিনিদাদের মানুষ? পুজা কি এখনো বাস করে পাগলাবাবার স্মৃতি নিয়ে সিপারিয়া গাঁয়ে? এখনো কি সেখানের সামুদ্রিক বাতাস পুজা আর পাগলাবাবার ম্মৃতিগুলোকে উড়িয়ে নিয়ে ঘুরতে থাকে সিপারিয়া গাঁ আর ক্যারিবিয় সাগরে? এ বাতাস কি ছুঁয়ে যায় টরেন্টোর পাগলবাবাকে আর সিপারিয়ার পুজাকে?

ব্লগারের ফেসবুক লিংক : https://www.facebook.com/logicalbengali

  trying to conceive with metformin

You may also like...

  1. অংকুর বলছেনঃ

    নেশা ধরানো গল্প ভাই । পড়ে ভালো লাগল । লিখতে থাকুন ।

    cipro ciprofloxacin generic levitra price
  2. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    মন খারাপ হচ্ছে পূজার জন্য!
    ভাই লেখায় টুক টাক ভুল আছে, পড়ে ঠিক করে নিয়েন……

    স্বাগতম সভ্যতা’য় ……

    tadalafil 20 mg prezzo
    viagra 100 mg pret farmacie
  3. :গোলাপ নিন: :গোলাপ নিন: :গোলাপ নিন: স্বাগতম সভ্যতায় :গোলাপ নিন: :গোলাপ নিন:

    propecia 0.5 mg eod
  4. সভ্যতায় স্বাগতম… :গোলাপ নিন: :গোলাপ নিন: :গোলাপ নিন:

    ভালো লাগলো গল্পটি পড়ে। চালিয়ে যান… :-bd =D>

  5. তারিক লিংকন বলছেনঃ

    ঐতিহাসিক-দা আপনাকে সভ্যতায় পেয়ে ভাল লাগছে।
    আসলেই আপনার বন্ধুর বাস্তব কাহিনী গল্পের মত…
    চমৎকার সুখপাঠ্য হয়েছে। পড়ে আরাম পেয়েছি!!

    :কুপায়ালাইছ মামা-ভিক্টরি: :কুপায়ালাইছ মামা-ভিক্টরি: :কুপায়ালাইছ মামা-ভিক্টরি:
    :-bd :-bd :-bd :-bd

    acheter du viagra sur paris sans ordonnance
  6. কিরন শেখর বলছেনঃ

    প্রথমে শিরোনাম দেখে বুঝতে পারিনাই। ঘুরে আসতে ইচ্ছে করছে পূজার গ্রাম থেকে। ভালো লেগেছে।

    kamagra viagra cialis levitra

প্রতিমন্তব্যঅংকুর বাতিল

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong> enteric coated prednisolone

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

viagra actress age how to treat doxycycline sun rash