কিছু কথা, প্রসঙ্গ : প্রবাদ ও প্রবচন

314

বার পঠিত

কবে থেকে প্রবাদ -প্রবচন শব্দ শুনে আসছি মনে নেই। বইতে হু হু অনেক উদাহরণ আছে প্রবাদ প্রবচনের। এদের পার্থক্যটা কি? দেখতে শুনতে তো প্রায় একই রকম, তাহলে চলুন শুরু করি ——-।
প্রবাদ নিয়ে ব্যাপক মন্থনের পর প্রবাদের কতকগুলো বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা যায় এভাবে-

০১. প্রবাদ হলো একটি সংক্ষিপ্ত
কিন্তু পূর্ণাঙ্গ বাক্য।
০২. প্রবাদের উদ্ভবে লোকের বাস্তব
অভিজ্ঞতা আছে।
০৩. বাচ্যার্থ নয়, ব্যঞ্জনার্থই
প্রবাদের অর্থ। এই অর্থে প্রবাদ
রূপকধর্মী রচনা।
০৪. প্রবাদে বুদ্ধির বা চিন্তার ছাপ
থাকে।
০৫. সংগীত গান করা হয়, ছড়া আবৃত্তি
করা হয়, মন্ত্র বলা হয়, ধাঁধা ধরা হয়,
প্রবাদ বাক্যালাপে, বক্তৃতায় অথবা
লেখায় প্রসঙ্গক্রমে উচ্চারিত হয়।
প্রবাদের স্বাধীন সত্তা আছে,
কিন্তু স্বাধীন প্রয়োগ নেই। প্রবাদ
বক্তব্যকে তীক্ষ্ণ, যুক্তিকে
জোরালো ও প্রকাশকে অর্থবহ করে
তোলে।
০৬. প্রবাদের শিকড় ঐতিহ্যে
প্রোথিত। ঐতিহ্য থেকে রস সঞ্চয়
করে প্রবাদ অর্থপূর্ণ হয় ও ভাষার মধ্যে
বহমান থেকে তাকে প্রাণবন্ত করে
তোলে।

অর্থাৎ প্রবাদের অবয়ব ক্ষুদ্র হলেও এর
একটি বিষয় আছে, অর্থ আছে।
বিষয়টি রূপক-সংকেতের ভাষায়
শব্দচিত্রে আরোপিত হয়, আর অর্থ হয়
ব্যঞ্জিত। যেমন – ‘ধান ভানতে শিবের গীত’
এর নিহিতার্থ হলো, সাধারণ এক
কাজ করতে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক অন্য
বড় বিষয়ের অবতারণা করা বা
জড়িয়ে যাওয়া। ‘ধান ভানা’ ও
‘শিবের গীত’ দুটি বিপরীতধর্মী
বাক্য দ্বারা এই অর্থ প্রকাশ করা
হয়েছে। একইভাবে প্রবাদের
আরেকটি উদাহরণ টানা যায়- ‘ঝড়ে
বক মরে, ফকিরের কেরামতি বাড়ে।’
এর নিহিতার্থ হলো, অন্যের
কৃতিত্বকে নিজের কৃতিত্ব বলে
জাহির করা।

অন্যদিকে প্রবচনের
যে বৈশিষ্ট্যগুলো নির্ধারণ করা যায়,
তা হলো-

০১. প্রবচনে জাতির দৈনন্দিন
জীবনের অভিজ্ঞতার কথা এক বা
একাধিক বাক্যে সংহত রূপে
প্রকাশিত হয়।
০২. সাধারণ গদ্যে অথবা
অন্ত্যমিলযুক্ত ছন্দোবদ্ধ পদ্যে প্রবচন
রচিত হয়।
০৩. প্রবচন মূলত বাচ্যার্থনির্ভর; এতে
রূপক, প্রতীক, সংকেত, চিত্রকল্পের
স্থান নেই।
০৪. প্রবচনের আবেদন প্রত্যক্ষ, সরস ও
সহজবোধ্য।
০৫. প্রবাদ অপেক্ষা প্রবচন আকারে-
প্রকারে বড় হয়। প্রবাদের অর্থের ধার
বেশি, প্রবচনের অর্থের ভার বেশি।
০৬. প্রবচনের বিচিত্র অর্থ ধারণ ও বহন
ক্ষমতা আছে। তবে এসব অর্থ একটি
কেন্দ্রীয় ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ থাকে।
০৭. প্রবচন রচনায় স্বাধীনতা আছে;
এজন্য এতে আবেগ, আনন্দ ও রসের
স্থান আছে।

অর্থাৎ প্রবচন বাচ্যার্থনির্ভর; একটি
একক বা কেন্দ্রীয় বক্তব্যকে অবলম্বন
করে প্রবচন রচিত হয়। অন্ত্যঃমিল যুক্ত
দুটো চরণ নিয়ে প্রধানত প্রবচনের
অবয়ব গড়ে উঠে। এতে ছড়ার ছন্দের
প্রাধান্য আছে। গদ্যাশ্রিত সরল ও
যৌগিক বাক্যের প্রবচনও আছে। ছন্দ,
চরণ, অন্ত্যমিল সহযোগে পদ্যের
আঙ্গিক পরিলক্ষিত হলেও প্রবচন
কবিতা নয়। মূলত শ্রুতিমধুর ও স্মৃতি-সুখকর
করার জন্য প্রবচন পদ্যান্বিত হয়ে
থাকে। কবিতা-পাঠের আনন্দ
প্রবচনে নেই। লেখায়, বক্তৃতায় বা
আলোচনায় উপযুক্ত স্থানে উপযুক্ত
সময়ে প্রবচন উচ্চারণে আনন্দ নিহিত
থাকে।যেমন – ‘পরের ধনে পোদ্দারি,
লোকে বলে লক্ষ্মীশ্বরী।’ এই
প্রবচনটিতে কোন ব্যঞ্জনার্থ নিহিত
নেই। বরং বাচ্যার্থ বা আরিক
অর্থের মধ্যেই প্রবচনের বক্তব্য স্পষ্ট।
অন্যের সম্পদ ভোগ-ব্যবহারের
মাধ্যমে অহমিকা প্রদর্শনের
প্রবণতাকে শ্লেষার্থে এই প্রবচনে
সরস উপস্থাপন করা হয়েছে।

উৎসর্গ – শ্রদ্ধাভাজন সেই মহীয়সী নারীকে যিনি আমাকে শ্রোতার সারি থেকে বক্তার সারিতে এনেছিলেন। সেই শ্রদ্ধেয় ম্যাম – মোসা. পারভীন সুলতানাকে।

puedo quedar embarazada despues de un aborto con cytotec

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন * zoloft birth defects 2013

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

renal scan mag3 with lasix

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

half a viagra didnt work
side effects of quitting prednisone cold turkey
side effects of drinking alcohol on accutane
doctus viagra