ডেসফ্রুরাটা ফিয়াস্তে

300 use metolazone before lasix

বার পঠিত

#১

মিরান্ডা ডি এব্রো স্পেনের সীমান্তের কাছাকাছি একটি শহর। মাদ্রিদ থেকে ৪৮০ কিমি দূরে। সমুদ্র উপকূলীয় সিটি। ফলে নির্জন আর শান্ত। সমুদ্রের গর্জন চলে আসে শহরের রাজপথে। ট্রাফিক নেই, সংবাদ হওয়ার মত নিউজ নেই। চুপচাপ আর কোমল এ শহরের মানুষগুলো। আহাদ অবশ্য এ শহরের আসতেই চায়নি। মাদ্রিদ ছেড়ে কে আসতে চায় এ মফস্বলে? ফেঞ্চ বস স্ট্রেইট জানিয়ে দিল, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে অফিসটা তবে ছেড়ে দাও। মাইনেটা বেশ রিচ। তাই তল্পিতল্পা সহ সমুদ্র-ঘেষা এ শহরে চলে আসা। ছেড়ে আসার পর প্রথম দিকে মাদ্রিদের কোলাহল তাকে টেনেছে। প্রতিদিন বিষন্নতায় মুষড়ে পড়েছে। মাসখানের ভিতর সব ইজি হয়ে গেছে। বেঁচে থাকতে টাকা লাগে। গার্ল ফ্রেন্ড না, শহর না, দেশ না। স্রেফ টাকা।

গত দেড় মাস হলো তার একটা বাজে অভ্যাস হয়েছে। শেষ বিকালে অফিস থেকে ফিরবার সময় সমুদ্রের ধারে কাঠের তৈরী কাঁচ ঘেরা একটা বারে বসে ওয়াইনের গ্লাস চুমুক দিয়ে সমুদ্রের ঢেউ দেখে। বড় ভালো লাগে তার। পৃথিবীর সব শিশুদের বাবলিং এক-এটা যেমন সত্য, সব সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন এক-এটাও তেমন সত্য।

গত প্রায় চারদিন হলো লক্ষ্য করছে একটাই মেয়ে এসে তাকে ওয়াইন সার্ভ করছে। সোনালী চুলে মাথা ছেয়ে আছে। বিশাল বক্ষটাকে ঢেকে রেখেছে ছোট্ট একটা গোলাপি-সাদা ডোরা শার্ট। বুকের নীচটায় এসে গিড়ু দেয়া। উরুটার সামান্য অংশ ঢাকা একটা সমুদ্র নীল ডেনিম সর্ট স্কার্টে। বয়স কম, বাইশ তেইশ হবে তাই চেহেরায় লাবন্যের ছড়াছড়ি। ত্রিশের পর এটা আর থাকবেনা। ধাই করে বুড়ি হয়ে যাবে। সাদা চামড়ার মেয়েগুলো কেন যে ত্রিশের পর হুট করে বুড়ি হয়ে যায় কে জানে!

মেয়েটা এসে আজ তার পাশে বসলো। ক্যাশ কাউন্টারে চোখ বুলালো আহাদ। বৃদ্ধ মালিকটা সেখানে নেই। খালী। শুক্রবার এই সময় বারটা প্রায় খালী থাকে সে আগেও লক্ষ্য করেছে। মেয়েটা এসে হাত উঁচিয়ে চুলের খোপা ঠিক করে। মিনি শার্টের কোন বোতাম নেই। ভিতরে বক্ষবন্ধনী না থাকায় খাঁজ থেকে শুরু করে অনেকটাই দেখতে পায় আহাদ। সে চোখ সরিয়ে ওয়াইনের গ্লাসে চুমুক দেয়। সমুদ্রের গর্জন শুনে। চোখ মেলে বিশালাকার ঢেউ দেখে।

স্পেনিশ নীল চোখের অধিকারিণী এই মেয়েটা বলে, তুমি কি আমায় চিনতে পারছো সেনোর?

আহাদ মেয়েটাকে পূর্ণ চোখে দেখে। দু’দিকে মাথা নেড়ে বলে, নো সেনোরিটা।

মেয়েটা চোখ আকাশে উঠিয়ে বলে, দুষ্টু, মিথ্যা কেন বলছো?

আহাদের ভিতরটা একটু সাবধান হয়। চারপাশে কত ধরনের ট্রাপ আছে। জগৎটাই যে ফাঁদ পাতা। কে জানি লিখেছিলেন, ‘ফাঁদ পাতা এ ভূবনে তুমি আমি/পেতেছে ফাঁদ অন্তর্যামী।’

অস্ফুটভাবে আহাদ বলে, তোমাকে কি চেনার কথা?

মেয়েটা খিলখিলিয়ে হেসে উঠে। হাসি থামাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। আহাদ মেয়েটার হাসির শব্দে নার্ভাস হয়ে পড়ে। হচ্ছেটা কি এসব? আজব! acquistare viagra online consigli

হাসি থামিয়ে মেয়েটা বলে, তোমার ঠিক পাশের ফ্ল্যাটে আমি থাকি, মিষ্টার। মধ্যরাতে প্রায়ই তুমি মিউজিক সিস্টেম বেশ ঘটা করে চালাও। পাশের বুড়িটা তাই তোমাকে শাপ দেয়। hcg nolvadex pct cycle

আহাদ খানিকটা চমকে উঠে। তবে এই কি সেই মেয়ে? প্রতিরাতে নতুন নতুন বয় ফ্রেন্ড জুটিয়ে ফ্ল্যাটে আসে। আহাদ চার তলার উইন্ডো দিয়ে প্রায়ই দেখে মাথায় ঘোমটার মত টানা এই মেয়ে একেক দিন একেকটা ছোকড়া বা প্রৌঢ় নিয়ে তাদের বিল্ডিংয়ের দিকে আসছে। তিনমাস হয় এ ফ্ল্যাটটা অফিস থেকে তাকে দিয়েছে। দুই কামড়ার ফ্ল্যাট। ড্রংয়িং কাম ডাইনিং এবং একটা বিশাল বেডরুম। প্রায় রাতেই তার ঘুম নষ্ট হয়েছে মেয়েলী কামার্ত চিৎকারে। প্রথমে ভেবেছে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটে হয়তো পর্ণ মুভি দেখছে। বাট পুরুষের ফিসফিস শুনে সে বুঝেছে ইটস রিয়েল। প্রতিদিন মেয়েটার সংগী বদল দেখে তার মনেও ভাবনা এসেছিল মেয়েটা প্রসটিটিউট। পরে ভাবনা বদলেছে। এটা ভদ্র একটা পাড়া। এই পাড়ায় এগুলো হওয়া প্রায় অসম্ভব। শীৎকারের হাত থেকে বাঁচতে সে প্রায়ই মিউজিক স্টোরিওতে গান ছেড়েছে। তার ডান দিকের একলা থাকা নিঃসংগ বুড়ির ভাংগা গলার চেঁচানির খপ্পরে পড়ে সে গান থামিয়েছে। পাশের ফ্ল্যাটের যুবতীর উচ্চস্বরের ব্যাঙ্গাত্মক হাসিতে তার গা জ্বলেছে।

মেয়েটার কথায় তার হুশ আসে, কি চিনতে পারছো আমাকে?

আহাদ লম্বা টানে ওয়াইনের গ্লাসটা শেষ করে। মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে।

মেয়েটা আহাদের উরুতে হাত বুলায়। স্পষ্ট করে বলে, তুমি যা ভাবছো আমি তা না। সাউথ মাদ্রিদে আমার বাবার সিল্ক তৈরীর একটা টেক্সটাইল আছে। সামান্য কিছু প্রবলেমের কারণে বাবা থেকে আমি ডিজাষ্ট হয়ে আছি। মতবিরোধ বলতে পারো।

আহাদ মেয়েটার হাতটা নিজের উরু থেকে সরিয়ে দেয়, মতবিরোধ কি নিয়ে, তোমার মানসিক প্রবলেম নিয়ে নিশ্চয়ই? using zithromax for strep throat

মেয়ে ভ্রুকুটি করে বলে, মানে?

আহাদ বাঁকা হেসে বলে, এই যে পার নাইট সংঙ্গী বদল?

মেয়েটা হেসে ফেলে আহাদের কথা শুনে, হুমম, তুমি বেশ বুদ্ধিমান। দেখতে অবশ্য বোকা দেখায়। আমার একটা আবদার আছে রাখবে? prednisone 10mg dose pack poison ivy

আহাদ পকেট থেকে তিন ইউরো বের করে গ্লাস চাপা দেয়। কোমল গলায় বলে, দুঃখিত, তোমার এক রাতের কামবাসনার সঙ্গী আমি হতে পারবোনা।

মেয়েটা আহত স্বরে বলে, আমার বড় ইচ্ছে ইন্ডিয়ান কোন ছেলের সাথে একটা রাত স্টে করব। acheter cialis 20mg pas cher

আহাদ হেসে বলে, আমি ইন্ডিয়ান নই।

মেয়েটা চোখ ছোট করে বলে, তবে? ম্যাক্সিকান?

আহাদ জ্যাকেটের জিপার লাগায়, না। বাংলাদেশী।

মেয়েটা চমকে অবাক হয়ে বলে, সেটা আবার কই?

আহাদ উঠে দাঁড়ায়, যেদিন আমার দেশটাকে চিনবে সেদিন তোমাকে একদিন কফি খাওয়াবো। ঠিক আছে?

মেয়েটার ঠোঁট উল্টানো মুখ দেখতে পায় সে। হাঁটা শুরু করে। শীতের হাওয়া বইছে চারপাশে। এই তো আর অল্প কিছু দিন। তারপর স্পেনের প্রতিটা শহর তুষারে আবৃত হবে।

-২

ছুটির দিনে আহাদ বাসাতেই থাকে সারাদিন। গার্ল ফ্রেন্ড নেই তাই লং ড্রাইভে যাওয়ার দরকারও নেই। একটু বেলা করে ঘুম থেকে উঠে। ওয়াশিং মেশিনে সারা সপ্তাহের জমা নোংরা কাপড় ধুয়ে শুকিয়ে আইরন। এর ফাঁকে ভালো কিছু দেশী রান্না। ঝাল করে রাঁধে গরুর মাংস, সেই সাথে খিচুড়ি বা পোলাও। কোন দিন ঘিয়ে ভাজা পরোটার সাথে গরুর কলিজা। স্পেনের ঘিয়ে অবশ্য অতোটা ফ্লেভার নেই। এবার দেশে গিয়ে কেজিখানেক খাঁটি ঘি আনতে হবে। চুলায় দিলে যেন রাজপথে ফ্লেভার চলে যায়।

পেয়াজ কাটছিলো আহাদ। এ দেশের পিয়াজগুলো কেমন মিষ্টি মিষ্টি। ঝাঁজ কম। অদ্ভুত স্বাদ বাট দেখতে বিশাল একেকটা। কলিং বেল বেজ উঠলো। আহাদের মেজাজ তিরিক্ষি হয়। পাশের ফ্ল্যাটের লোনলি বৃদ্ধ নিশ্চয়ই? ব্যাটা পেনশনের টাকায় ভালোই আছে। ফ্ল্যাটটা আগেই কিনে রেখেছিল। তাই দিব্যি চলতে পারছে। বারোশো ইউরো পাচ্ছে পেনশন। খেয়ে দেয়ে দূর্দান্ত কাটছে ব্যাটার। প্রতি ছুটির দিন এই সময়টাতে আহাদের ফ্ল্যাটের কলিং বেল বেজে উঠে। কোন সপ্তাহে আহাদের থেকে বিয়ার ধার নেয়। তার পরের সপ্তাহে এসে ফেরৎ দেয়। চুপচাপ এই বৃদ্ধটি খুব লাজুক মুখে বিয়ার চায়, মাই ডিয়ার সান, হবে একটা বিয়ার? সাত সকালে সিঁড়ি ভাঙ্গতে ইচ্ছে করছেনা। cialis 20 mg prix pharmacie

ঠিক পরের সপ্তাহে একই সময়ে বিয়ার ফেরৎ দিতে আসে। আহাদ না না বল্লেও শুনেনা। বিয়ার সে ফেরৎ দেবেই। আহাদ ভেবে দেখেছে এই বিয়ার নেয়া এবং ফেরৎ দেয়াটা বৃদ্ধের কাছে একটা খেলা। নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ মানুষের অনেক ধরণের প্রবলেম থাকে। বেঁচে থাকাতে হলে প্রতিক্ষার প্রহর গুনতে হয়। আনন্দ বা বেদনার কিংবা ঈশ্বর দর্শনের প্রহর।

আহাদ হাত ধুয়ে ড্রইংরুমে এসে দরজা খুলেই চমকে উঠে। সেই মেয়েটা। পড়নে একটা পাতলা সফেদ স্যান্ডো গেঞ্জি। ভিতরে গোলাপী কালারের ব্রা স্পষ্ট হয়ে আছে। কোমর থেকে থাই পর্যন্ত একটি আকাশী রঙের ডেনিম সেক্সি সর্টস। ভ্রু কুঞ্চিত মুখে আহাদ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকে।

মেয়েটা লাজুক হেসে বলে, পোয়েডে মে প্রেসটার উনা তাছা দে আছুকার পরফাভর?

আহাদ দরজা থেকে সরে দাঁড়ায়। এক কাপ চিনি চাইছে মেয়েটা। ভিতরে ঢুকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে মেয়েটা। আহাদ হাত থেকে কাপ নেয়। জিজ্ঞাস করে, স্রেফ এক কাপ চিনিতে চলবে? levitra generico acquisto

মেয়েটা হাসিমুখে জবাব দেয়, চলবে। কফি খাব। cialis new c 100

আহাদ রান্নাঘরে যাওয়ার আগে বলে, বসো এক মিনিট। নিয়ে আসছি।

আহাদ ভালো করেই জানে এই চিনি নিতে আসা একটা বাহানা। মেয়েটাকে ঘরে ঢুকতেই দেয়াই ভুল হয়েছে। এই খাতিরকে কেন্দ্র করে প্রায়ই এই মেয়ে কলিংবেল বাজাবে। হাই হ্যালো করবে। ভুল হয়ে গেলো। মুখের উপর না বল্লেই বেটার ছিল।

মধ্যরাতে এই মেয়ে মাতাল হয়ে একেক দিন একেক সঙ্গী নিয়ে এসে কলিংবেল বাজাবে-এটা সুখ বয়ে আনবেনা। ধ্যাৎ!

কাপ ভর্তি চিনি নিয়ে এসে আহাদ দেখে পূবের জানালা ধরে দাঁড়িয়ে মেয়েটা। শীতের মিষ্টি রোদ এসে গালে চুমু খেয়ে ফিরে যাচ্ছে। হাওয়ায় উড়ছে রেশমী চুল। দৃশ্যটির মধ্যে অদ্ভুত এক মায়া আছে। আহাদ মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। দাঁড়িয়ে দেখে মেয়েটাকে। ভাবে এতো ইনোসেন্ট দেখতে একটা মেয়ের এহেন মানসিক বিকারগ্রস্ততা কেন?

মেয়েটা ঘুরে দাঁড়িয়ে সলজ্জ হাসি হেসে বলে, আজ সকালটা দূর্দান্ত। চমৎকার রোদ হাসছে চারপাশে। কি অদ্ভত মিষ্টি রোদ, আহা!

আহাদ জবাব দেয়না। জবাব দিলেই কথা বাড়বে। তার কথা বাড়ানোর ইচ্ছে নেই। স্পেনে আজ সে ছ’বছর। প্রবাস জীবনে সামান্য যা জ্ঞান অর্জিত হয়েছে তাতে বুঝেছে স্পেনের মেয়েগুলো মেক্সিমামই একটু ক্রেজি। ফরাসী মেয়েদের মত। নিজের জেদের জন্য তারা ধরাকে সরা করতে পারে। prednisolone injection spc

আহাদ হাতে রাখা চিনি ভর্তি কাপটা বাড়িয়ে বলে, তোমার চিনি।

হাত বাড়িয়ে কাপটা নেয় মেয়েটা। আহাদের মনেহয় নীল চোখ মেলে মেয়েটা তার ভেতরটা দেখার চেষ্টা করছে। পড়তে শুরু করেছে তার বহু পুরানো অতীত। তার সেই পুরুনো গলি, রাস্তায় ফেলে রাখা ঠেলা গাড়ি, জরাজীর্ণ পলেস্তার খসা পাকিস্তান পিরিয়ডের বাড়ি। তার মায়ের হাতে মাখা লোকমা দেয়া ভাত, হলদেটে শাড়ি, মায়াময় ঘর্মাক্ত মুখ, ভাইয়ের টিফিন বক্স, বাবার রঙচটা ছাতা, চকচকে বাটা সু। চোখ সরিয়ে নেয় সে। আবিস্কার করে শিহরনে ভিতরে একটা কাঁপন সৃষ্টি হয়েছে।

মেয়েটা ধন্যবাদ দিয়ে বেরিয়ে যেতেই দুম করে দরজা বন্ধ করে দৌড়ে রান্নাঘরে চলে আসে আহাদ। সে অতীত ভুলে থাকতে চায়। যে অতীত খুব সন্তর্পনে নিজের কাছে লুকিয়ে রেখেছে সে।

বেশ ফুরফুরে মন নিয়ে আহাদ অফিসের টানা বারান্দায় এসে সিগারেট ধরায়। তার তিনশো ইউরো ইনক্রিমেন্ট হয়েছে। মোট গিয়ে দাঁড়ালো ২৩০০ ইউরোতে। যখন সে এই বীমা কোম্পানীতে ঢুকে তখন সে মাঠ পর্যায়ের কর্মী। বেতন খুব নগন্য। সারা মাস খেটে পেতে ৬৫০ ইউরো। চলতে খুব কষ্ট হয়েছে সে সময়। বাড়ি ভাড়া দেয়ার পর যৎসামান্যই থাকতো তার কাছে। একটা বছর স্ট্রিট ফুডের উপর বেঁচে ছিল সে। দাঁতে দাঁত চেপে প্রতিজ্ঞা করেছিলো এই কোম্পানির শেষ ধাপটা না দেখে আমি ছাড়ছিনা। দৃঢ় সংকল্প মানুষকে অনেক দূর নিয়ে যায়, নিয়ে যেতে বাধ্য। আহাদের বেলায়ও ব্যতিক্রম হয়নি। তাই আজ সে এই মফস্বল অঞ্চলের জোনাল ম্যানেজার। বীমা কোম্পানীতে বেতন তখনি বাড়ে যখন ক্লায়েন্ট তার মাসিক কিস্তি ঠিক মত পরিশোধ করে এবং নতুন ক্লায়েন্ট প্রচুর আসে। আহাদ সেদিক দিয়ে সাকসেস। মফস্বলের এই অফিসের নারী পুরুষ মিলিয়ে আঠারো জন কর্মী আছে। প্রত্যেকেই কর্মঠ। প্রতিটি স্টাফই চাচ্ছে মাদ্রিদ বা বার্সায় ট্রান্সফার হতে। শহরে জীবনের মজাই আলাদা। পারফর্ম করে তাই শহুরে লু হাওয়া খুঁজে নেয়া। হাসে আহাদ, ফ্রেঞ্চ খচ্চর বুড়ো বসটা টোপ ভালোই দিয়েছে।

লুলিয়ানার ডাকে সম্বিৎ ফিরে আহাদের। ছ’ফুটের মত লম্বা এই একাউন্টস সেকশন দেখা মেয়েটা এসে জানায় আহাদের মোবাইল ক্রমাগত বাজছে। আহাদ মিষ্টি হেসে ওয়ালে রাখা ছোট্ট এসট্রেতে সিগারেট চেপে নিভিয়ে হাঁটা ধরে তার অফিস কামড়ার দিকে।

আননোন নাম্বার হতে ফোন, রিসিভ করতেই কিশোরী এক কন্ঠ হড়বড় করে বলে, আহাদ, আমি এলিনা বলছি, তোমার পাশের ফ্ল্যাটের। হাতে সময় কম, কুইক নুন্সা হাসপাতালে চলে এসো। তোমার পাশের ফ্ল্যাটের বৃদ্ধা বার্নড হয়েছেন। যেনোতেনো অবস্থা। তোমাকে দেখতে চাইছেন।

উত্তর দেয়ার আগেই লাইন কেটে যায়। আহাদ কি করবে ভেবে পায়না। বৃদ্ধার সংগে খুব একটা খাতির ছিলোনা তার। হাই হ্যালো আর অভিশম্পাত ব্যাতিত। তাকে দেখতে চাচ্ছে কেন? এটা ঠিক নিঃসংগ বুড়ি। হয়তো হৃদয়ের গোপন কুঠরীতে সামান্যতম মাতৃস্নেহ ছিল। সে উঠে দাঁড়ায়। হ্যাংগার ষ্ট্যান্ড থেকে ব্লেজার নিয়ে গায়ে চাপায়। নিজের রুম থেকে বেরিয়ে অফিস ছাড়ার আগে বলে যায়, আমি একটু নুন্সা হাসপাতালে যাচ্ছি। পাশের ফ্ল্যাটের মিস প্যানিয়ানু বার্নড হয়েছেন।

লুলিয়ানা বেশ আহত গলায় বলে, গড সেভ হার।

কম বয়সী বীমা অফিসার পেড্রো বলে উঠে, স্যার উনি কি আমাদের ক্লায়ান্ট ছিল?

আহাদ জবাব দেয়না। ক্রুদ্ধ চোখে একবার দেখে পেড্রোকে।

তার অফিস থেকে দূর নয় নুন্সা হাসপাতাল। ছোট্ট শহর। মিনিট পাঁচেক গাড়ি ড্রাইভ করেই সে চলে আসে। সিম্পল একটা দোতলা হাসপাতাল। রোগীর চেয়ে ডাক্তার বেশী। রিসেপশনে বসে ছিল লোনলি বৃদ্ধ মিঃআদ্রিয়ানো। আহাদকে দেখে উঠে দাঁড়ায়। ধীর পায়ে হেটে আসেন। মৃদু গলায় বলেন, বাঁচবেনা। ম্যাক্সিমাম অংশ পুড়ে অংগার।

আহাদ দীর্ঘশ্বাস গোপন করে বলে, ডাক্তার কি বল্লো?

বৃদ্ধ আফসোসের স্বরে বলে, ওই, ঘন্টা দুইয়েকের মধ্যে প্রানবায়ু বেরিয়ে যাবে। does propranolol cause high cholesterol

আহাদের মনটা খারাপ হয়ে যায়। মার্তৃসম এই মহিলা তার কেউ না। খুব বেশী অন্তরঙ্গতাও ছিলোনা তার সংগে। যে কোন মৃর্ত্যুই যে কারো জন্য কষ্টকর।

মিঃআদ্রিয়ানো আপন মনে বলে, বুঝলে তোমার এই বুড়ি মাকে বলেছিলাম, থাকো আমার সাথে। দু’টো মানুষ একত্রে থাকলে খরচ কমবে। বুড়ির ফ্ল্যাট ভাড়াটা বাঁচতো। আমার বাঁচতো খাবার খরচ। তার উপর দু’টো মানুষ একসাথে থাকলে বিপদ আপদে কাছাকাছি থাকা যায়। অসুখ বিসুখ আছে। এই যে বার্ণড হলো আমার সাথে থাকলে হতো বল? হতো না। কে শুনেছে কার কথা? উল্টো আমাকে এমন গালাগাল করলো যা শুনলে সাত মাসের পোয়াতি বমি করি বাচ্চা নষ্ট করতো।

আহাদ অস্ফুটস্বরে বলে, উনার কেবিন কোথায়?

বুড়োটা আহাদের দিকে হতাশ দৃষ্টি নিয়ে তাকায়। বলে, দোতলার সাত নাম্বার কেবিনে চলে যাও। এলিনা আছে বুড়ির সাথে।

ক্লান্ত পায়ে সিঁড়ি ভাংগে আহাদ। হুট করে কেন এই ক্লান্তি বুঝার চেষ্টা করে সে। ভেতর থেকে উত্তর আসেনা। ভাবে এলিনা তার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার পেলো কোথায়? ভাবনাটা তাকে আচ্ছন্ন করে। অফিসের নাম্বারে ফোন দিলে বুঝা যেত ছোট্ট শহর পুলিশ ষ্টেশনে ফোন দিয়ে জেনে নিয়েছে। দোতলায় উঠতেই এলিনাকে দেখতে পায় সে। মাথায় সোনালি চুলের বদলে একরাশ কালো চুল। কালো রঙের ড্রাই হেয়ার ব্যাবহারের ফলে মেয়েটাকে আরো বেশী চেনা দেখাচ্ছে। রূপটাও যেন বেড়েছে। মেয়েটা তাকে দেখতে পেয়ে উঠে দাঁড়ায়। স্মিত হাসে। কালো জিন্স কালো জ্যাকেটে অদ্ভত সুন্দর দেখাচ্ছে। মুখোমুখী হয়ে আহাদ বলে, কি অবস্থা? বাঁচবে?

দীর্ঘশ্বাস ফেলে এলিনা বলে, শরীরের 98% পুড়ে গেছে। ডাক্তাররা কনফার্ম দিতে পারছেনা।

হতাশ কন্ঠে আহাদ বলে, মাদ্রিদে ট্রান্সফার করলে বেটার হতো না?

এলিনা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, বুড়ি রাজি ছিলোনা। সে নাকি এখানেই মরতে চায়।

উষ্মা গলায় আহাদ বলে উঠে, মরার প্রশ্ন কেন?

এলিনা মৃদুস্বরে বলে, তুমি কি দেখবে? দেখলে ভয় পাবে। না দেখোনা। বুড়ির মার্তৃ চেহেরাটাই বরং তোমার মনে থাকুক। উফ, কি ভয়ংকরভাবে বার্ণড হয়েছে।

আহাদ জিজ্ঞাস করে, গ্যাস সিলিন্ডারে প্রবলেম ছিল?

এলিনা জবাব দেয়, আরে না। বেখেয়ালে পড়নের এপ্রোনে আগুন ধরে। সম্ভবত ড্রিংক খুব বেশী করেছিল বুড়ি। মিঃ আদ্রিয়ানো সবাইকে খবর না দিলে পুরো বিল্ডিংটাতে আগুন ধরতো।

আহাদ কিছু বলেনা। চুপ করে থাকে। pastilla generica del viagra

এলিনা বলে, পুলিশ এসেছিল। গেল কিছুক্ষণ আগে। তোমাকে তাই ফোন দিতে দেরী হল।

প্যাটিয়ানুর ছেলেমেয়ে বা আত্মীয় স্বজনকে খবর দেয়া হয়েছে? জিজ্ঞাস করে আহাদ।

এলিনা জানায়, পুলিশ যোগাযোগ করেছে। বিয়ে করেননি মিস প্যাটিয়ানু। এক বোন এবং বোনপো আছে মাদ্রিদে। তারা। আসতে আসতে বিকেল। doxycycline monohydrate mechanism of action

আহাদ চুপ করে থাকে। কি বলবে ভেবে পায়না। বোন এবং বোনপো এসে মৃতার দাফন কার্য কমপ্লিট করে যাবে। ধার দেনা সব শোধাবে। কি অদ্ভত জীবন। কান্নাকাটির মানুষ নেই, পাশে থাকার মানুষ নেই। জীবন এখানে সহজ, জীবন ধারণও সহজ। মৃর্ত্যু খুব বেদনা নিয়ে আসেনা। জীবনকে থামিয়ে দেয়ার জন্য আসেনা।

এলিনা বলে, তুমি কি অফিসে ফিরে যাবে? লাঞ্চ করেছো? আর হ্যাঁ, আমি কিন্ত তোমার স্বদেশকে জেনেছি। সাউথ এশিয়ার ভারত সাগরের পাশে বঙ্গপোসাগর তার তীর ঘেষা তোমাদের দেশ। অনেক জনসংখ্যা তোমাদের ওখানে। আর ঢাকা হলো তোমাদের ক্যাপিটাল।

হাসপাতালের করিডোরে এই মৃর্ত্যুর জন্য প্রতীক্ষার মাঝেও আহাদের হাসি পায়। অতিকষ্টে হাসি চেপে বলে, অনেক বেশী জেনে ফেলেছো তুমি। কেবল কফি না। তোমাকে তো পুরো লাঞ্চ করাতে হবে।

এক নার্স এসে তাদের দু’জনকে আস্তে কথা বলতে অনুরোধ করে। তারা ঘার নেড়ে সন্মতি দেয়। আহাদ বলে, চলো নীচে যাই। মিঃআদ্রিয়ানোকে নিয়ে কোন রেষ্টুরেন্টে গিয়ে লাঞ্চ করি গিয়ে।

এলিনা চোখ ছোট করে বলে, এদিকে কে থাকবে?

আহাদ বলে, ডাক্তার আছে নার্স আছে। তুমি আমি তো কিছুই করতে পারবো না। না পারবো?

এলিনা জবাব দিতে গিয়েও কি যেন ভাবে। আহাদ বুঝতে পারে তা। বলে, প্রবলেম?

এলিনা ভ্রুকুঞ্চিত করে বলে, বুড়োটাকে আমার পছন্দ নয়। চোখ বড় খারাপ।

আহাদের এই মৃর্ত্যুঘন পরিবেশে ফের হাসি পায়। হাসি সামলে বলে, এক কাজ করোনা, বুড়োটাকে না হয় তোমার খোয়াড়ে নিয়ে ঢুকাও। ব্যাটার চোখের তৃষ্ণা কমুক।আর তোমার বাছবিচার তো নেই।

এলিনা কপট রাগ দেখিয়ে বলে, তুমি চাষাদের মত করে কথা বলো। বড্ড দুষ্টু তুমি। চলো আমরা ওপাশের সিঁড়ি দিয়ে নামি। বুড়োটা টের পাবেনা।

আহাদ চিন্তিত মুখে বলে, সেটা কি ভালো হবে?

এলিনা আহাদের হাত ধরে টেনে বলে, দু’টো ইয়াংয়ের মাঝে একটা খচ্চর বুড়ো করবেটা কি?

হাত ছাড়িয়ে নেয় আহাদ। বলে,দাঁড়াও ডাক্তারের সাথে একবার কথা বলে নেই। দেখি উনারা কি বলে। ডাক্তারের রুম কোথায়?

এলিনা অবাক চোখে আহাদের দিকে তাকায়। মাথা নীচু করে বলে, আসো আমার সাথে।

ডাক্তার তাঁর চেম্বারেই ছিলো। কম বয়সী একটা মেয়ে। ধবধবে গায়ের রং। কালো চোখ। তার উপর ভারী চশমা। আহাদ ধীর গলায় লাষ্ট কন্ডিশন জিজ্ঞাস করে।

ডাক্তার মেয়েটা স্মিত হেসে জবাব দেয়, খুব বেশী বার্ণড হয়ে গেছে। বাঁচবেনা। আর বাঁচলে মিরাকল। বৃদ্ধার আত্মীয়দের খবর দেয়া হয়েছে। ওরা বিকাল নাগাদ চলে আসবে। আপনারা ইচ্ছে করলে যেতে পারেন। এলিনা অনেক করেছে মিস প্যাটিয়ানুর জন্য। ধন্যবাদ এলিনা।

ওপাশের সিঁড়ি বেয়ে নামতে আহাদের মনে সায় দিচ্ছিলো না। তবু নামলো সে। একটা প্রশ্ন সেই কখন থেকে মনের ভিতর খঁচখঁচ করছিলো, মেয়েটা তার ব্যক্তিগত ফোন নাম্বার পেল কোথায়?

সিঁড়ি বেয়ে নেমে মেয়েটাকে দাঁড়াতে বল্লো আহাদ। হেঁটে গিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিল। খুব সাবধানে ব্যাকে নিয়ে এসে এলিনার সামনে এনে গাড়িটা স্থির করলো। ইশারা করে চড়ে বসতে। চড়ে বসে মেয়েটা এবং খুব অন্তরিক ভঙ্গিতে বলে, ওয়াও, নাইস কার। কত দিয়ে নিলে?

আহাদ এলিনার দিকে তাকায়। বুঝতে পারে মেয়েটা চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। বার্ণড পেসেন্ট নিয়ে সারাদিন দৌড়ঝাপ করেছে ও। ঝামেলা কম ছিলোনা। সব ভুলে যাবার সহজ উপায় হলো বর্তমান নিয়ে মেতে থাকা। মেয়েটা তাই করছে। স্মিত হেসে আহাদ বলে, মারসিটিজ কোম্পানির কম্প্রেসার ব্র্যান্ড। নিউ কিনতে গেলে ২৫ হাজার ডলার মিনিমাম। এটা সেকেন্ড হ্যান্ড, নিউ না।

এলিনা চোখ নাচিয়ে বলে, বাট লুকিং নিউ।

আহাদ হেসে বলে, নিউই বলা যায়। আমাকে দেবার আগে ছ’মাস চলছে মাত্র। অলমোষ্ট নিউ। হ্যাঁ, কি খেতে ভালবাসো তুমি? ইটালিয়ান খাবার খাবে? লিনান রোডে একটা রেস্টুরেন্ট আছে। খুব ভালো ইটালিয়ান খাবার রাঁধে। যাবে?

এলিনা হেসে কাধ নাড়ায়। ছাদ খোলা মার্সিটিজ কম্প্রেসার হু হু করে ছুটে চলে। রাস্তার দু’ধারে পাইন বন। অদূর থেকে ভেসে আসে সমুদ্রের গর্জন। বাতাসে বসন্তের আগমনি বার্তা। নীল আকাশে পাক খায় আলব্রাট্রাস। সবকিছুই জীবনের কথা বলে।

।-৪

রেষ্টুরেন্টটা সমুদ্র তীর ঘেষে। নাম ফিদান্ছাতো। ইটালিয়ান এই শব্দটার মানে জানে আহাদ। মানে বাগদত্তা। তার অফিস স্টাফ লিলিয়ানা তাকে মাসখানেক আগে এখানে নিয়ে এসেছিলো। ওই জানিয়েছে মানেটা। মানে জানিয়ে আহাদকে হতভম্ব করে খুব হেসেছিল মেয়েটা। কেন কে জানে? এখানে সামুদ্রিক মাছটা খুব ভালো রাঁধে। লবস্ট্যারটা বেষ্ট। সমুদ্র বসে দেখা যায় এমন একটা কোনে বসলো তারা দু’জন। লাঞ্চ টাইম তাই বিস্তর কাপল এসেছে। তাই দেখছিল আহাদ। কাপল দেখতে তার ভালো লাগে। এলিনা জানালা গলিয়ে সমুদ্র দেখে। মুখটা থমথমে, বিষন্ন। মৃদু স্বরে আহাদ বলে, তোমার উপর আজ ভালোই ধকল গেলো।

মুখ না ফিরিয়ে এরিনা বলে, সকালে আমি তখন ঘুমাচ্ছিলাম। আর্তনাদ শুনে ঘুম ভাংগলো। আমার কি মনেহয় জানো? যা করেছি ঘুমের ঘোরে করেছি। স্বাভাবিক অবস্থায় আগুন নেভানো, হসপিটিলাইজড করা আমার পক্ষে কখনোই সম্ভব হতোনা। viagra lowest price

আহাদ হাসে। হেসে পরিবেশটা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে, কি খাবে বল?

এলিনা শান্ত গলায় বলে, তুমি অর্ডার দাও। আমার বাছ-বিচার কম। একটা হলেই হয়।

আহাদ টিপ্পনি কাটে, তাতো জানি।

এলিনা বলে, তুমি এমন খোঁচা মেরে কথা বলো কেন? চাষাদের কথাও এর থেকে ভালো।

হাসে আহাদ। বলে, তোমার পরিবর্তন দরকার জানো? এটা পোর্ট সিটি। হাজার দেশের নাবিক এখানে আসে। তাদের শরীরে মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ থাকে।

এলিনা হতাশ গলায় বলে, জানি। জানি বলেই এই অদ্ভুত খেলায় মেতেছি আমি। অনলি ডাই ম্যাচ।

আহাদ অবাক গলায় বলে, মানে? প্রবলেম কি?

ছলছল চোখ করে ওর দিকে তাকায় এরিনা। নীল চোখের দিকের বেশীক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারেনা আহাদ। অদ্ভত এক শিহরণ পিঠ বেয়ে নেমে যায়। বড় ভয় হয় আহাদের। হুট করে মনেহয় তার ভয়ংকর অতীত এই মেয়ে পড়তে পারছে। চোখ সরিয়ে বলে, আজ আমি তোমার ক্ষোভের কাহিনী শুনবো। শুনাবে?

এলিনা বিষন্ন কন্ঠে বলে, শুনে কি হবে?

আহাদ জবাব দেয়, শেয়ারিং চাপ কমায়।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে এলিনা বলে, আমি আজো এ সত্য কাউকে বলিনি। খুব চাপা একটা ব্যাপার। আই ক্যান্ট শেয়ার ইট! pastillas cytotec en valencia venezuela

আহাদ গম্ভির স্বরে বলে, বলবে। কারণ তুমি খুলে বল্লেই দেখবে ভিতরে অদ্ভত এক আলো ফুঁটে উঠবে। ইট সরে গেলে যেমন সতেজ হয় চাপা পড়া হলদেটে ঘাস। তার আগে চলো আমরা কিছু খাই। আমি নিশ্চিত সকাল থেকে তুমি না খাওয়া।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে এলিনা, বাট আমার কিছু খেতে ইচ্ছা করছেনা। মনেহচ্ছে এখানে বসে কেবল সমুদ্র দেখি। pharmacie belge en ligne viagra

এই প্রথম আহাদ এলিনার হাত স্পর্ষ করে। বাম হাতটা ডান হাতের মুঠোয় নিয়ে হাল্কা চাপ দেয়। আলতো চোখে ওকে দেখে এরিনা। কিছু বলেনা। চোখ সরিয়ে নেয়। সমুদ্র দেখে। crushing synthroid tablets

বেয়ারাকে ডেকে খাবারের অর্ডার দেয় আহাদ। রিচ ফুড সামান্য। সব স্যুপের অর্ডার। ও জানে এমন পরিস্থিতিতে সলিড ফুড খাওয়া কষ্টকর। বেয়ারা অর্ডার নিয়ে চলে যেতেই বলে, এলিনা, তুমি আমার সেল নাম্বার পেলে কোথায়?

এলিনা সমুদ্রের দিকে চোখ স্থির রেখে বলে, খচ্চর বুড়োটা দিয়েছে। তোমাদের অফিসে বুড়োর এক ভাইপো জব করে।

উত্তর শুনে চুপ করে যায় আহাদ। ব্যাপারটা নিয়ে খামাখা ভেবেছে । সামান্য ব্যাপার বাট মাথায় কেবল কিলবিল করছিল। স্পেনে ঢুকেই বড় একটা অপরাধ করেছিলো সে। বেঁচে থাকার তাগিদে করতে হয়েছিল। পুরো ব্যাপারটাকে সে ভুলে থাকতে চায়। কাজটা করার ফলে দেড় বছরের মাথায় শর্তানুযায়ী লিগ্যাল পার্মিট পায় সে। পিআরও। তাই হুট করে এলিনাকে তার গোয়েন্দা বিভাগের মেয়ে মনে হয়েছিল। যে বারে ও জব করে সেখানে খবর নিয়েছে সে। আড়াই মাস হয় সেখানে কাজ করছে মেয়েটা। একেবারে রিক্রুট। কোন গ্লাসের কি নাম তাই নাকি জানতোনা এলিনা। বৃদ্ধ মালিক চোখ টিপে সব বলেছে তাকে।

খাবার আসতেই বেড়ে পরিবেশন করে আহাদ। ঝিনুকের স্যুপটা ভালো বানায় এখানে। প্রথমে খেলে খিদেটা বাড়ে জম্পেশ। এরিনাকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে আহাদ বলে, স্যুপটা খাও। ভালো লাগবে। metformin er max daily dose

এলিনা স্যুপ নেয়। চামচ দিয়ে নাড়াচাড়া করে কিছুক্ষণ। মুখে নেয়না। আহাদ আড়চোখে দেখে। বলে, নাও খাও। ইয়ু নিড ইট।

এলিনা মুখে তুলে নেয়। বলে, লাঞ্চ করানোর জন্য ধন্যবাদ।

হাসে আহাদ, শেষ হোক আগে। তার উপর কফিটা তো আছেই।

এলিনা শব্দ করে হাসে। হাসির শব্দ সমুদ্রের গর্জনের সাথে মিশে অদ্ভত শোনায়। বড় ভালো লাগে আহাদের।

-৫

তারা সমুদ্রের পাড়ে পাথরের উপর পা ছড়িয়ে বসে আছে। সুর্য্যটা ডুবছে। মায়াময় আলো চারপাশে। এখানে আসার আগে আহাদ দু’প্যাকেট মালবরো নিয়ে এসেছিল। ধুমসে সিগারেট টেনছে তারা। আহাদ তার পাশে এসে বসে। মুখোমুখী। বলে, বলবে, কি সমস্যা চলছে তোমার বাবার সাথে?

এরিনা কপালের এলোমেলো চুল ঠিক করে খোঁপা বাঁধে, সমস্যাটা শুধুমাত্র আমার বাবার সাথে না। সমস্যাটা আমার মায়ের সাথেও।

-কি সেটা?

-তুমি শুনে কি করবে? clomid dosage for low testosterone

-কিছুই না। অনেক সময় চাপা কথা বলতে পারলে মানুষ হাল্কা হয়। তাই বলছি।

-সন্তান হিসেবে আমি জারজ।

আচমকা এলিনার এই কথাটি শুনে আহাদ চমকে উঠে। বিস্মিত কন্ঠে বলে, সরি! খুলে বলবে। আপত্তি থাকলে থাক।

-না। ঠিক আছে। আমার মায়ের সন্তান হচ্ছিলো না। দোষটা মায়ের না। পুরো প্রবলেমটাই বাবার। তাই মা মার্তৃত্বের স্বাদ নিতে একটা অবৈধ সম্পর্ক করে।

-তোমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এটা তো গুরুতর কিছু না। তাই না?

-যদি বলি আমার ছেচল্লিশটা ক্রোমজমের তেইশটা তোমার দেশের মানুষের এবং আমার সত্যিকার বাবাকে বাবা বলে ডাকতে পারিনি। ডাকতে দেয়া হয়নি সেটা কি দুঃখজনক নয়?

এবার দ্বিগুন চমকায় আহাদ। বলে, তুমি শিওর কি করে হলে যে আমার দেশের মানুষটাই তোমার বাবা?

অবজ্ঞার হাসি হেসে মেয়েটা বলে, তুমি যেদিন প্রথম বাংলাদেশ সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করলে সেদিন আমি বেশ অবাক হয়েছিলাম। চমকে উঠেছিলাম। আমার চমকানোটা তুমি লক্ষ্য করোনি। আর শিউর কি করে হলাম দেখবে?

আহাদ ঘার কাত করে সন্মতি দেয়। এলিনা পকেট হতে মোবাইল বের করে একটা গ্রুপ ছবি দেখায়। নীল চোখের একজন নারী মাঝে কিশোরী এলিনা তার ডানপাশে ইন্ডিয়ান দেখতে এক ভদ্রলোক। ভদ্রলোকের নাক কপাল ঠোঁট অবিকল এলিনার মত। বদলানো যাবে। আহাদের চোখের সামনে অন্ধকার এক অতীত ভেসে উঠে। সে তখন স্পেনে নতুন। সাউথ মাদ্রিদের এক ধনকুবের তাকে কাগজ করে দেবে এই শর্তে ইন্ডিয়ান এক ভদ্রলোককে খুন করতে বলে। না করে উপায় ছিলোনা। তাকে যে দালাল স্পেনে নিয়ে আসে তার ক্রমাগত চাপ ছিল নয় হাজার ইউরো শোধাবার। ছ’মাস চলে গেছে স্পেনে সে। খেয়ে না খেয়ে মাদ্রিদের রাস্তায় পড়ে থাকে। কাগজপাতি নেই। কেউ কাজও দেয়না। ডাষ্টবিন থেকে খাবার কুড়িয়ে খেয়েও সে দিন পার করেছে। বড় ছন্নছাড়া জীবন। দালালের ইউরো শোধাবার যাতনায় ঢুকে যায় এক স্ট্রিট গ্যাংয়ে। যারা রেলস্টেশনে দলবেঁধে ছোটখাটো চুরি হাইজ্যাক করতো। আসলে উপায় ছিলোনা। তখনি একদিন দুপুরে তার সামনে সফেদ দামি একটা গাড়ি এসে থামে। অত্যন্ত অভিজাত এক ভদ্রলোক লোভনীয় অফার দেয় তাকে।

আহাদ অবাক হয়ে বলেছিলো, আমাকে সিলেক্ট ক্যানো? এগুলো করে বড় বড় মাফিয়ারা।

ভদ্রলোক খেঁকিয়ে বলেছিলো, ওরা আমাকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে। তুমি করবে কিনা বলো? নগদ দশ হাজার ইউরো সাথে পিআরও করে দেব। কি রাজী?

আহাদ দ্বিধা সত্বেও রাজি হয়। না হয়ে উপায় ছিলোনা। এমন না যে দেশে সে খুব ভদ্র জীবনযাপন করেছে। ছাত্র রাজনীতি করে মামলা খেয়ে চলে আসে সাইপ্রাস। ওখান থেকে স্পেন। পরদিন রাতেই জমশেদ নামক ভদ্রলোককে খুব কাছ থেকে গুলি করে সে। একা। পুরো কাজটা করেছিল গ্যাংকে না জানিয়ে। স্পেনের ধনকুবেরের শর্ত ছিল তাই।

সে আলতো করে এলিনার ডান হাত নিজের বাম হাতের মুঠোতে নেয়। কিছু বলেনা। কি বলবে ভেবে পায়না।

-৬

এলিনা এখন আহাদের ফ্ল্যাটেই থাকে। ডিপার্টম্যান্টাল এক স্টোরে জব করে সে। সকাল ন’টা থেকে রাত আটটা অবধি। আহাদের অফিস ছুটি হয় বিকেল ছ’টায়। আহাদ সেই বারে গিয়ে বসে। একা একা ওয়াইন খায়। আটটা বাজার কিছুক্ষণ আগে বার থেকে বের হয়ে এলিনার ডিপার্টম্যান্টাল স্টোরে চলে যায়। ওখান থেকে তারা ফিরে আসে ফ্ল্যাটে। টুকটাক রান্নাবান্না করে। এলিনা খুব ঝাল খাওয়া শিখেছে ইদানিং। বড় অবলিলায় ঝাল মাংস চিবোয়। তা দেখে আহাদ অবাক হয়। ছ’মাসে বাংলাদেশী খাবারের ভালো পোকা হয়েছে মেয়েটা। খুব ভালো রাঁধেও। ছুটির দিনে তারা লং ড্রাইভে বের হয়। হু হু করে গাড়ি ছুটে। বাতাসে উড়ে এলিনার কালো চুল। নীল চোখ বেয়ে পানি ঝড়ে। জিজ্ঞাস করলে বলে, এ বড় সুখের কান্না, আহাদ। ডোন্ট অরি!

free sample of generic viagra

You may also like...

  1. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    এই কাহিনী!!
    এত বড় কেন!!

    পুরোটা পড়েছি। ভাল লেগেছে ভাই……

  2. চমৎকার লাগলো… তবে বড় গল্পগুলো পর্বে ভাগ করে দিলে পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি হবার আশংকা তাকে না। তারপরেও আমার কাছে দারুণ লেগেচে লেখাটা…

  3. কিছু বানান ভুল ছিল তার জন্য ্রলেখক দুঃখিত।

প্রতিমন্তব্যহুমায়ুন রনি। বাতিল

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

aborto cytotec 9 semanas
propranolol hydrochloride tablets 10mg