গোবিন্দ হালদার : বাঙালীর আবেগ,মুক্তিযুদ্ধ

579 doctorate of pharmacy online

বার পঠিত

আজ (১৭ জানুয়ারি ২০১৫) শনিবার সকালে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সঙ্গীত স্রষ্টা গোবিন্দ হালদারের মৃত্যু হয় বলে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মোফাকখারুল ইকবাল জানিয়েছেন। গত দুই মাস ধরে কলকাতার মানিকতলায় জেএন রায় সেবা ভবন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গোবিন্দ হালদারকে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। renal scan mag3 with lasix

স্বাধীন বাংলা বেতারের এই গীতিকার ও সুরকারের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শোক জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ডিসেম্বরের শেষভাগে ভারত সফরকালে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গীতিকার গোবিন্দ হালদারকে দেখতে যান।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ডিসেম্বরের শেষভাগে ভারত সফরকালে কলকাতার

একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গীতিকার গোবিন্দ হালদারকে দেখতে যান। [সৌজন্যেঃ বিডি নিউজ২৪]

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীন বাংলা বেতারে সম্প্রচারিত গোবিন্দ হালদারের অনেক গান মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করত। ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’- কালজয়ী এই গান ছাড়াও ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা’, ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’র মতো সাড়া জাগানো গানেরও রচয়িতা গোবিন্দ হালদার।

 ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা’

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে,
বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।
দুঃসহ বেদনার কন্টক পথ বেয়ে
শোষণের নাগপাশ ছিঁড়লে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।

যুগের এ নিষ্ঠুর বন্ধন হতে
মুক্তির এ বারতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।

কিষাণ কিষাণীর গানে গানে,
পদ্মা, মেঘনার কলতানে,
বাউলের একতারাতে আনন্দ ঝঙ্কারে
তোমাদের নাম ঝংকৃত হবে।

নতুন স্বদেশ গড়ার পথে
তোমরা চিরদিন দিশারী রবে
আমরা তোমাদের ভুলব না।”

নিঃসন্দেহে আমাদের বাঙ্গালীদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা,সবচেয়ে বড় ঘটনা হল আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ। শুধু দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধই নয়,আরো অনেক ত্যাগ এর বিবিময়ে আমরা আমাদের এ দেশটি পেয়েছি। নিজের দেশ। বিষয়টা বলতেই কেমন জানি গর্বে বুকটা ফুলে উঠে। চোখ ছলছল করে। একাত্তরের বিষয়টা বলি। একাত্তরে বলতে গেলে আমাদের কাছে কিছুই ছিল না। পাকিস্তানী বাহিনী ছিল আধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত, তাদের ছিল দীর্ঘ প্রশিক্ষণ। সেই হিসেবে আমাদের কিছুই ছিলনা। আসলে কিছু ছিলনা বললে ভুল হবে। আমাদের ছিল সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার তাগিত,আবেগ,অদম্য দেশপ্রেম আর প্রচন্ড সাহস। আর বলে না? ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়,আর সেই উপায় আমরা বের করে নিয়েছি। সেই সময় আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের, সাধারণ মানুষের সাহস, আবেগ,দেশপ্রেম বাড়ানোর কাজ করত এমনই কিছু দেশাত্মবোধক গান। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি,মানুষ মানুষের জন্য, জয় বাংলা বাংলার জয়, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, লেফট রাইট লেফট রাইট, হুঁশিয়ার হুঁশিয়ার, পদ্মা মেঘনা যমুনা, চলো বীর সৈনিক, হুঁশিয়ার, হুঁশিয়ার বাংলার মাটি অন্যতম। তখন কি, এখনও এই গানগুলো শুনলে গায়ের রোম শিউরে উঠে। অদম্য সাহস জুগিয়েছিল তখন গানগুলি।

‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’

মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি
মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি।।
যে মাটির চির মমতা আমার অঙ্গে মাখা
যার নদী জল ফুলে ফুলে মোর স্বপ্ন আঁকা।
যে দেশের নীল অম্বরে মন মেলছে পাখা
সারাটি জনম সে মাটির টানে অস্ত্র ধরি।।
মোরা নতুন একটি কবিতা লিখতে যুদ্ধ করি―
মোরা নতুন একটি গানের জন্য যুদ্ধ করি
মোরা একখানা ভালো ছবির জন্য যুদ্ধ করি
মোরা সারা বিশ্বের শান্তি বাঁচাতে আজকে লড়ি।।

যে নারীর মধু প্রেমেতে আমার রক্ত দোলে
যে শিশুর মায়া হাসিতে আমার বিশ্ব ভোলে
যে গৃহ কপোত সুখ স্বর্গের দুয়ার খোলে
সেই শান্তির শিবির বাঁচাতে শপথ করি।।
মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি
মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি।।

এরকম কয়েকটি গানের গীতিকার হলেন গোবিন্দ হালদার। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতারে সম্প্রচারিত তার লেখা গানসমূহ মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করতো। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার রচিত উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, লেফট রাইট লেফট রাইট, হুঁশিয়ার হুঁশিয়ার, পদ্মা মেঘনা যমুনা, চলো বীর সৈনিক, হুঁশিয়ার, হুঁশিয়ার বাংলার মাটি অন্যতম।তিনি ভারতের আকাশবাণী বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার ছিলেন।

অসুস্থ গোবিন্দ হালদার
বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ১৩ নভেম্বর কলকাতার ওই হাসপাতালে ভর্তি হন গোবিন্দ হালদার। এ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মানিকতলার জিতেন্দ্রনাথ রায় হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। পরবর্তীতে টার কিডনির অসুস্থতায় তিনি আরও দুর্বল হয়ে পরেন । তাঁকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছিল। তাঁকে এক পর্যায়ে রাইস টিউব দিয়ে খাওয়ানো হয়েছিল। গোবিন্দ হালদারের বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। চোখেও কম দেখতেন। ২০০৬ সালের গোটা মার্চ মাস জুড়ে বিবিসি বাংলার শ্রোতারা তাঁদের বিচারে সেরা যে পাঁচটি গান মনোনয়ন করেছেন, তার ভিত্তিতে বিবিসি বাংলা তৈরী করেছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কুড়িটি বাংলা গানের তালিকা। এর মধ্যে দুটি গান হলো গোবিন্দ হালদারের-
১। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনল যারা : সুরকার – আপেল মাহমুদ; গীতিকার – গোবিন্দ হালদার
২। মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি : গীতিকার – গোবিন্দ হালদার; সুরকার ও শিল্পী – আপেল মাহমুদ

গোবিন্দ হালদার

আয়কর বিভাগে কর্মরত অবস্থায় বন্ধু কামাল আহমেদের অনুপ্রেরণায় এবং উৎসাহে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর গান রচনা করেন। কামাল আহমেদ তাকে স্বাধীন বাংলা বেতারের কর্ণধার কামাল লোহানীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তার হাতে ১৫টি গানের একটি খাতা দেন। এ গানগুলোর মধ্যে স্বাধীন বেতারে প্রথম প্রচারিত হয় সমর দাসের সুরারোপিত পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে গানটি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই তার আরও কিছু গান স্বাধীন বেতারে সম্প্রচারিত হয়। পাক বাহিনীর আত্মসমর্থনের খবর পাওয়ার পরপরই সন্ধ্যায় ১৬ই ডিসেম্বর প্রচারিত হয় এক সাগর রক্তের বিনিময়ে গানটি যা সুর দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী আপেল মাহমুদ এবং মূল কণ্ঠ দিয়েছিলেন স্বপ্না রায়। আরও কণ্ঠ দিয়েছিলেন আপেল মাহমুদ এবং সহশিল্পীরা।
YouTube Preview Image

তাঁর মত সুর স্রষ্টা বেঁচে থাকবেন তাঁর কাজের মাঝে আজীবন, যতদিন টিকে থাকবে এই বাঙলা। তাঁর প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

kamagra pastillas

You may also like...

  1. তারিক লিংকন বলছেনঃ

    সময়োপযুগী এই পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ।
    অনন্য এই কণ্ঠযোদ্ধার জন্য শ্রদ্ধাবনত শত সহস্র শুভ কামনা রইলো…
    আশাকরি শিগ্রই তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন

  2. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    আমি এটা নিয়ে লিখব ভাবছিলাম। সময় হচ্ছিল না।
    ধন্যবাদ লিখার জন্য,

    শুভ কামনা রইল তার জন্য।

  3. একাত্তরের এই বীর কণ্ঠ যোদ্ধার প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা রইল। প্রার্থনা করি, তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন খুব দ্রুতই…

    সমউপযোগী লেখাটার জন্য ধন্যবাদ … viagra en uk

  4. গোবিন্দ হালদার আর নেই। একাত্তরের সেই মহান সুরস্রস্টা কলকাতার এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন আজ… প্রাপ্য সম্মান দেওয়া দূরে থাক, আমরা অনেকেই এই একাত্তরের এই বীর শব্দসৈনিককে চিনি না, চেনার চেষ্টাও নেই…

    নিদারুণ দুর্ভাগা আমরা, এভাবেই ভুলে যাই আমাদের গর্বগুলোকে, অহংকারগুলোকে… অবহেলায় আর অনাদরে হারিয়ে যেতে দেই নীরবে… metformin tablet

    তারপর একদিন হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াই শেকড়টা, পরিচয়টা… আক্ষেপে পুড়ি… ঘুর্নাক্ষরেও টের পাই না, বহু আগেই হারিয়ে ফেলেছি শেকড়ের খোঁজ, অমার্জনীয় অবহেলায়…

    গোবিন্দ হালদার, ভালো থাকবেন… ক্ষমা চাইব না, অকৃতজ্ঞ আমাদের ক্ষমা করার প্রয়োজন নেই… আমরা ক্ষমার যোগ্য নই…

  5. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    তাঁর প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা………

  6. হৃদয়ের গভীর থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি রইলো তাঁর জন্য…

  7. ইলেকট্রন রিটার্নস বলছেনঃ

    হৃদয়ের গভীর থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি। আমরা ক্ষমার অযোগ্য। আমাদের ক্ষমা করার প্রয়োজন নেই গোবিন্দ হালদার। :(

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

achat viagra cialis france

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong> walgreens pharmacy technician application online

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

cialis new c 100
private dermatologist london accutane