১৯৭১-এর ধর্ষণঃ ডাক্তার জিওফ্রে ডেভিসের সাক্ষাৎকার

1062

বার পঠিত cara menggugurkan kandungan 2 bulan dengan cytotec

জিওফ্রে ডেভিস।

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এই ডাক্তার ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন ধর্ষিতদের গর্ভপাত ঘটানোর জন্য। যুদ্ধপরবর্তীকালে বাঙালী নারীদের সাহায্য করার জন্য এই পদক্ষেপটি ছিলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত পৈশাচিকতার একজন প্রকৃত সাক্ষী। স্বাধীনতার ৩২ বছর পর, ২০০২ সালে সিডনিতে উনার এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষক ডঃ বীণা ডি’কস্তা। মূল বিষয় ছিলো, যুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনা এবং যুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশে তার ফলাফল। sildenafil efectos secundarios

ডানে ডাঃ ডেভিস (১৯৭২ সালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে অবকাশের সময় একজন বাঙালী মাঠকর্মকর্তার সঙ্গে)

ডানে ডাঃ ডেভিস (১৯৭২ সালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে অবকাশের সময় একজন বাঙালী মাঠকর্মকর্তার সঙ্গে)

ডাঃ ডেভিস বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান ধর্ষিতদের “War Heroine” হিসেবে সমাজে পরিচিত করতে চেয়েছিলেন যেন তারা সমাজে ফিরতে পারে। কিন্তু এটা তেমনভাবে কাজ করে নি। পাকিস্তানি সৈন্যদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার পর বাঙালী নারীরা হয়ে পড়েছিলেন সম্পূর্ণভাবে একঘরে। অনেকে আত্মহত্যা করেছিলেন, অনেকে তাদের অনাকাংখিত সন্তানকে নিজেই হত্যা করেছিলেন, অনেককে তাদের হাজব্যান্ডরা মেরে ফেলেছিলো। রেইপ ক্যাম্পে বন্দী কোনো কোনো নারী পরিবারে ফেরার ব্যাপারে এতোটাই আতংকিত ছিলেন যে, তারা বন্দীকর্তাদের বলেছিলেন যেন তারা বন্দীদের নিয়েই পাকিস্তানে ফিরে যায়।

নিউ সাউথ ওয়েলস থেকে পাশ করা ডেভিস বাংলাদেশে ছিলেন মার্চ ১৯৭২ থেকে মাস ছয়েক। ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যানড প্যারেন্টহুড, ইউএনএফপিএ এবং হু’র তত্ত্বাবধানে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর কাজের ধরণের স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে এসব সংগঠনের কেউ তাকে নিজেদের একজন বলে স্বীকৃতি দেয় নি।

উনি স্মরণ করেছেন, “পশ্চিম পাকিস্তানী সেনাদের পাশবিকতা থেকে বেঁচে যাওয়া মেয়েদের জন্য কিছু করতেই আমি ছিলাম সেখানে। যাদেরকে সম্ভব গর্ভপাত করানো হয়েছে। সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় যাদের সম্ভব হয়নি, তাদের প্রসবে সাহায্য করা হয়েছে। সেটা সাফল্যের সঙ্গেই আমরা করেছি। বাংলাদেশে তখন সংখাতত্ত্বে সবকিছুই ছিল বড় রকমের। আমি ক্ষয়ক্ষতির কথা বলছি। যখন সেখানে পৌঁছলাম, এদের অনেকেই হয়তো মারা গেছে, নয়তো পরিবারে ফিরে গেছে। এটাই সবাইকে আতঙ্কিত করে তুলেছিল। আমাদের কিছু করা দরকার। আমরা ভেবে উপায় বের করার চেষ্টায় ছিলাম। ইংল্যান্ডের একজন ছিল আমার সঙ্গে। পরে আর তার হদিশ পাইনি। অদ্ভুত এক ব্যাপার।” mycoplasma pneumoniae et zithromax

ডক্টর ডেভিসের সাক্ষাৎকার

[সাক্ষাৎকারটি আমারব্লগে প্রকাশিত অমি রহমান পিয়ালের পোস্ট থেকে সংগৃহীত এবং কিঞ্চিৎ পরিমার্জিত। তিনি জিওফ্রে ডেভিসের ডায়েরীও অনুবাদ করেছেন, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি ডেভিস লিখে রেখেছিলেন। পড়তে পারেন এখানে – https://www.amarblog.com/index.php?q=omipial/posts/147588]

বীণা: আপনি কি স্বেচ্ছায় গিয়েছিলেন?
ডেভিস : হ্যাঁ।

বীণা: কেন আপনি আগ্রহী হলেন?
ডেভিস : অ্যাডভান্সড প্রেগনেন্সি (গর্ভপাতের নিরাপদ সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়া) টার্মিনেটিংয়ে আমার বিশেষ একটি টেকনিক ছিল। আমি মূলত যুক্তরাজ্য থেকে ট্রেনিং নিয়েছি। যা হোক, আমি সাধারণত ৩০ সপ্তাহের নিচের গর্ভবতীদের গর্ভপাত করিয়েছি। can you die if you take too much metformin

বীণা: ঢাকায় কোথায় কাজ করেছেন?
ডেভিস : ধানমন্ডির একটি ক্লিনিকে। এছাড়া আরো অনেক শহরেই কাজ করেছি যেখানে হাসপাতাল বলতে কিছু অবশিষ্ট ছিল। যেহেতু সংখ্যাটা অনেক বেশি, তাই মূলত আমি স্থানীয়দের শিখিয়ে দিচ্ছিলাম কীভাবে কী করতে হবে। তারা শিখে নিলে আমি অন্য কোথাও চলে যেতাম একই কাজ করতে। pharmacy tech practice test online free

বীণা: তথ্য সংরক্ষণের স্বার্থেই জানতে চাচ্ছি, ঠিক কী ধরণের কাজ করতেন ওখানে? নির্দিষ্ট করে বলবেন কি?
ডেভিস : আমি বাংলাদেশে আসার ঠিক আগে নারী পুনর্বাসন কেন্দ্র নামে একটা সংস্থা গড়ে উঠেছিলো, যার দায়িত্বে ছিলেন বিচারপতি সোবহান। তারা চেষ্টা করছিলেন গর্ভবতী সব মেয়েদের নিরাপদ কোনো এক জায়গায় জড়ো করতে। যাদের গর্ভপাত করানো সম্ভব, করাতে। আর বাচ্চা হলে তাদেরকে ইন্টারন্যাশনাল সোসাল সার্ভিসের হাতে তুলে দিতে।

বীণা: সেসময় আপনার সঙ্গে কাজ করেছেন এমন কারো নাম মনে আছে?
ডেভিস : যুদ্ধপুনর্বাসন সংস্থার প্রধান ছিলেন বিচারপতি সোবহান আর এ ব্যাপারে সবচেয়ে তৎপর মানুষটি ছিলেন ফন শুখ। তাঁর নামের প্রথম অংশটা স্মরণ করতে পারছি না। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল সম্ভবত ম্যারি। তাঁরা আর্থিক সহায়তা দিচ্ছিলেন। বাঙ্গালী কর্মকর্তাদের নাম আমার মনে নেই। তাছাড়া ইতিহাসের এই অংশটুকু কেউই মনে রাখতে চাইছিল না।

বীণা: এ কথা কেনো বললেন?
ডেভিস : ওহ, কারণ পুরো ব্যাপারটা গর্ভপাত এবং বাচ্চাদের দত্তকের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। আরেকটা প্রেক্ষাপট হচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তান কমনওয়েলথভুক্ত দেশ ছিল। তাদের সব অফিসাররাই ইংল্যান্ডে ট্রেনিং নেওয়া। এটা এক অর্থে ব্রিটিশ সরকারের জন্যও ছিল বিব্রতকর। পশ্চিম পাকিস্তানী কর্মকর্তারা বুঝতে পারছিল না এ নিয়ে এত হৈচৈ করার কী আছে! আামি ওদের অনেকের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। কুমিল্লার একটি কারাগারে আটক ছিল তারা এবং খুবই বাজে অবস্থায়। ওরা বলত, ‘এসব কী হচ্ছে? আমরা আর কী করতে পারতাম? যুদ্ধ হচ্ছিল তো!’ blueberry 100 sildenafil review

বীণা: মেয়েদের ধর্ষণ করাকে কীভাবে তারা ন্যায়সঙ্গত ভাবল?
ডেভিস : টিক্কা খান নাকি তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বুঝিয়েছিলেন যে, একজন ভালো মুসলমান তার পিতা ছাড়া আর সবার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে! তাই তারা যতজন সম্ভব বাঙ্গালী মেয়েদের গর্ভবতী করার চেষ্টা করেছে। এটাই ছিল ওদের থিওরি।

বীণা: মেয়েদের কেন গর্ভবতী করতে হতো? তার কারণ বলেছে আপনাকে?
ডেভিস : হ্যাঁ, এর ফলে গোটা পূর্ব পাকিস্তানে একটা নতুন প্রজন্ম জন্ম নেবে যাদের শরীরে থাকবে পশ্চিম পাকিস্তানী রক্ত। সেটাই তো ওরা বলল।

বীণা: পাকিস্তানের অনেক তথ্য উপাত্তে দেখা যাচ্ছে ধর্ষণের সংখ্যা নাকি ইচ্ছা করেই বাড়িয়ে বলা হয়েছে। আপনি কি তা সত্যি মানেন?
ডেভিস : না না, প্রশ্নই ওঠে না। বরং তারা যা করেছে সেটাই রক্ষণশীলতার কারণে অনেকখানি চেপে যাওয়া হয়েছে। ওরা কীভাবে শহর দখল করত তাঁর বর্ণনা খুবই চমকপ্রদ। পদাতিকদের পেছনে রেখে গোলন্দাজদের দিয়ে হাসপাতাল ও স্কুলে কামান দাগত। এতে গোটা শহরে একটা ভীতিকর আতঙ্ক তৈরি হতো। আর তারপরই পদাতিকরা ঢুকে মেয়েদের ওপর হামলা চালাত। একদম ছোট শিশু বাদ দিলে, একটু পরিণত মেয়েদের তারা শিকার বানাত। বাকিরা অংশ নিত শহর জ্বালানো পোড়ানোয়। পূর্ব পাকিস্তান সরকার এবং আওয়ামী লীগের সমর্থক সবাইকে গুলি করে মারা হতো। আর মেয়েদের সশস্ত্র পাহারায় রাখা হতো কোনো জায়গায় যাতে সৈন্যরা তাদের ব্যবহার করতে পারে। বিভৎস একটা ব্যাপার। এমন কোনো ঘটনা আগে ঘটেছিল বলে আমার অন্তত জানানেই। তারপরও ঠিক এমনটাই ঘটত।

বীণা: যুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে ক্লিনিকের নারী-পুরষ বা সমাজকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন কখনো? নির্দিষ্ট করে বললে ধর্ষণের শিকার মেয়েদের সঙ্গে?
ডেভিস : হ্যাঁ, প্রায় সবসময়ই শুনতাম। তাদের কিছু গল্প ছিল মর্মস্পর্শী। বিশালাকৃতির পাঠান সৈন্যরা একের পর এক ওদের ধর্ষণ করে যাচ্ছে। বিশ্বাসই হয় না কেউ অমন করতে পারে। স্বচ্ছল ঘরের এবং সুন্দরী মেয়েদের অফিসারদের জন্য রেখে দেওয়া হতো। বাকিদের বাটোয়ারা করে দেওয়া হতো অন্যদের মাঝে। আর মেয়েদের ওপর বর্বরতার কোনো সীমা ছিল না। ওদের ঠিকমতো খেতে দেওয়া হতো না, অসুস্থ্ হলে ওষুধ ছিল না। অনেকে ক্যাম্পেই মরে গেছে। পুরো ব্যাপারটা নিয়ে অবিশ্বাসের একটা আবহ ছিল। কেউ স্বীকার করতে চাইত না ঘটনাগুলো সত্যি ঘটেছে! কিন্তু চাক্ষুষ প্রমাণ বলে দিচ্ছিল যা ঘটেছিল, সত্যিই ঘটেছিল। price comparison cialis levitra viagra

বীণা: বুঝতে পারছি আপনি কী বলতে চাইছেন। কারণ আমি গত চার বছর ধরে ইনাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেহেতু সংখ্যাটা বিশাল ছিল তাই তাঁদের অনেককেই পাওয়ার কথা। কিন্তু অনেক খেটে মাত্র কয়েকজনের দেখা পেয়েছি।
ডেভিস : সেটাই, কারো স্বীকার করার কথা না। তারা স্রেফ চেপে গেছে, ভুলে গেছে। এমনটাই হয়।

বীণা: কিন্তু তখন কি ব্যাপারটা অন্যরকম ছিল? মানে যুদ্ধের পরপর? কেউ কি তাদের দুঃসহ স্মৃতির কথা বলেছিল?
ডেভিস : না, কেউই ব্যাপারটা নিয়ে মুখ খুলতে চায়নি। প্রশ্ন করলে একটা উত্তরই মিলত। বেশিরভাগ সময়ই তা ছিল, তাদের মনে নেই। আর পুরুষরাও এ ব্যাপারে একদমই কথা বলতে চাইত না! কারণ তাদের চোখে এসব মেয়ে ভ্রষ্টা হয়ে গেছে। আর বাংলাদেশে এমনিতেও মেয়েদের অবস্থান সামাজিক পর্যায়ে অনেক নিচে। ভ্রষ্টা হয়ে যাওয়া মানে তাদের এমনিতেই আর কোনো মর্যাদা রইল না। তাদের মরে যাওয়াই ভালো। আর পুরুষরা তাদের মেরেও ফেলত। বিশ্বাস হচ্ছিল না। এটা পশ্চিমা সমাজের একদমই বিপরীত! একদমই উল্টো!

বীণা: আপনি নিশ্চয়ই বাংলা জানতেন না। যোগাযোগে সমস্যা হতো না?
ডেভিস : না, আমার একজন দোভাষী ছিল। তারা খুব দ্রুতই সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করেছিল।আমাকে একটা ল্যান্ড রোভার, একজন ড্রাইভার ও ফিল্ড অফিসার দেওয়া হয়েছিল যিনি দোভাষীর কাজও করতেন। ড্রাইভারের নাম মমতাজ। ফিল্ড অফিসার একজন সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন, নাম মনে নেই। তাছাড়া ওদের বেশিরভাগই ভালো ইংরেজি বলতে পারত। rx drugs online pharmacy

বীণা: আপনার মতে মেয়েগুলো কেনো নির্বাক থাকত?
ডেভিস : বুঝতেই পারছেন, আতঙ্কে। তারা সবাই দুঃস্বপ্নের ভেতর ছিল। সেটা সামলে ওঠা তো কঠিন কাজ! বেশিরভাগই ছিল চরম উদ্বেগে। কারণ আমরা ছিলাম বিদেশী এবং ওরা কেউই বিদেশীদের বিশ্বাস করত না। আমরা ওদের কী করব সেটাই ওরা বুঝতে পারছিল না…

বীণা: রেপ ক্যাম্প ছিল এমন জায়গাগুলোতে গিয়েছেন কখনো?
ডেভিস : ধর্ষণ শিবিরগুলো বিলুপ্ত হয়েছিল, পুনর্বাসন কর্মীরা মেয়েদের তাদের গ্রামে বা শহরে পাঠানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু এমন ঘটনা অনেক ঘটেছে যে, কোনো মেয়েকে তার স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পর সে তাকে মেরে ফেলেছে। কারণ সে ভ্রষ্টা। অনেক ক্ষেত্রে তারা জানতেই চাইত না কী হয়েছে। এছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোয় নদীতে (ডেভিস শুধু যমুনার উল্লেখ করেছেন) প্রচুর লাশ পাওয়া যেত। এসব ঘটনাই ইউরোপের মানুষকে উৎকণ্ঠিত করে তুলেছিল।

বীণা: মেয়েগুলোর কথা মনে আছে? কতজনের গর্ভপাত করিয়েছেন?
ডেভিস : সঠিক পরিসংখ্যান মনে করা কঠিন। তবে দিনে শ’খানেক তো বটেই।

বীণা: ঢাকায় নাকি অন্যান্য শহরেও?
ডেভিস : আসলে একটা নির্দিষ্ট সংখ্যায় আনাটা কঠিন ব্যাপার। ঢাকায় প্রতিদিন শ’খানেক আর ঢাকার বাইরে এর কম-বেশি হতো। আর অনেকেই কলকাতায় গিয়েছিল।

বীণা: আপনার কি আনুপাতিক হারটা মনে আছে? যেমন ধরুন শ্রেণী ভেদে, ধর্মভেদে কতজন নারীকে দেখেছেন আপনি?
ডেভিস : শ্রেণীভেদে ঠিক আছে, কিন্তু কারো ধর্ম আমরা বিবেচনায় আনিনি। আমাদের একটাই লক্ষ্য ছিল তাদের বিপদমুক্ত করা। সাধারণভাবে ধনী পরিবারের মেয়েরা যুদ্ধ থামার পরপরই কলকাতায় চলে গিয়েছিল গর্ভপাত করাতে।

বীণা: মেয়েদের কি জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তারা গর্ভপাত চায় কিনা? তাদের কি কোনো মতামত নেওয়া হয়েছিল?
ডেভিস : হ্যাঁ অবশ্যই। আমাদের কাছে আসা সব মেয়েই গর্ভপাত ঘটাতে চেয়েছিল। আমাদের তো মনে পড়ে না এর ব্যতিক্রম কখনো ঘটেছে। অন্তত আমার চোখে পড়ে নি। যাদের বাচ্চা হয়েছে, তারা শিশুদের তুলে দিয়েছে পুনর্বাসন কর্মীদের হাতে। এভাবেই এসব শিশু আইএসএস-এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় পেয়েছে। কতজন, সংখ্যাটা বলতে পারব না। side effects after stopping accutane

বীণা: ক্ষমা চাইছি এ ব্যাপারে আরেকটু খুঁটিনাটি জানার জন্য। কিন্তু আমি খুবই আগ্রহী এটা জানতে যে মেয়েরা এই পুনর্বাসনের ব্যাপারটায় সত্যিই সম্মত ছিল কিনা। আপনার কি মনে পড়ে কোনো মেয়ে গর্ভপাত ঘটাতে না চেয়ে কান্নাকাটি করেছিল কিনা?
ডেভিস : না, কেউ কাঁদেনি। তারা এ ব্যাপারে খুবই কঠোর ছিল। একদমই চোখের জল ফেলেনি। চুপচাপ সয়ে গেছে। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, আমাদের কাজ অনেক সহজ হয়েছে তাতে!

বীণা:আপনি বলেছেন যেসব মায়েরা শুধু গর্ভপাত ঘটাতে চাইত, তাদেরকেই আপনি সাহায্য করেছেন। আমি সেই প্রসঙ্গে ফিরছি। মেয়েরা কাদের কাছে তাদের সম্মতি জানাত? সংশ্লিষ্ট ডাক্তার, নার্স বা সমাজকর্মীদের কাছে?
ডেভিস : হ্যাঁ।

বীণা: তাদের কি কোনো কাগজপত্রে স্বাক্ষর দিতে হতো?
ডেভিস : আমার ধারণা তাদের একটা সম্মতিপত্রে সই দিতে হতো, যদিও নিশ্চিত নই। সরকার পরোক্ষভাবে সেটা ব্যবস্থা করত। মূলত পুরোটার দায়িত্বে ছিল পুনর্বাসন সংস্থা এবং নারী সংস্থা। এটা নিশ্চিত, গর্ভপাত করাতে চায় না এমন কেউ ক্লিনিকের ধারে কাছে ঘেঁষত না। তাই এটা কোনো ইস্যু নয়।

বীণা: আপনি কি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গর্ভপাতই করিয়ে গেছেন? সে সময় অনেকেই কি অ্যাডভান্সড স্টেটে ছিলো না?
ডেভিস : হ্যাঁ। যে ছয় মাস ছিলাম, আমি শুধু গর্ভপাতই করে গেছি। তাদের অপুষ্টি এমন ছিল যে ৪০ সপ্তাহের ভ্রূণও দেখতে অন্য কোনো জায়গার ১৮ সপ্তাহর ভ্রূণের মতো ছিল।

বীণা: আপনার কি মনে পড়ে সেসব নারীদের কোনো রকম মানসিক সাহায্য করা হয়েছিল কিনা?
ডেভিস : কাউন্সেলিং? হ্যাঁ, পুনর্বাসন সংস্থাগুলার দায়িত্ব ছিল সেটা। নারী সমাজকর্মীরা এ নিয়ে ওদের সঙ্গে কথা বলতন। তবে আমার মনে হয় না এতে কোনো কাজ হতো। কারণ সবাই ছিল অপুষ্টির শিকার। ভয়ানক ধরণের অপুষ্টি সংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত ছিলো তারা। যৌন রোগও বাসা বেঁধেছিলো দেহে। নারকীয় অবস্থা। দেশে তখন ওষুধ, সুবিধাদি বা সংশ্লিষ্ট রসদও অপ্রতুল। যা ছিল তাও বরাদ্দ ছিল আহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। মেয়েদের জন্য তেমন কিছুই না। আমরা আমাদের নিজেদের ওষুধপত্র নিয়ে কাজ করছি।

বীণা: আপনি কোথা থেকে পেতেন? তা কি যথেষ্ট ছিল?
ডেভিস : ইংল্যান্ড থেকে। আমাকে বলা হয়েছিল নিজের জিনিস নিয়ে আসতে। এছাড়াও আমি দুই সেট যন্ত্রপাতি ও অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে এসেছিলাম।

বীণা: আপনি এই দুই সেট ইন্সট্রুমেন্ট গোটা ছয় মাস ব্যবহার করেছেন?
ডেভিস : হ্যাঁ। বেশিরভাগ হাসপাতালের যন্ত্রপাতিই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। খুব বেশী কিছু ছিল না। আর ওষুধপত্র সব বরাদ্দ ছিল যুদ্ধাহত পুরুষদের জন্য।

বীণা: ব্যাপারটা কি নিরাপদ ছিল?
ডেভিস : হ্যাঁ। যে সব রোগাক্রান্ত ছিল মেয়েগুলো, তার তুলনায় নিরাপদ তো বটেই। বিশেষ করে অল্পবয়সীদের জন্য। sildenafil basics 100 mg filmtabletten

বীণা: তাহল আপনি একই সঙ্গে গর্ভপাত এবং দত্তকদানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন?
ডেভিস : হ্যাঁ। তবে দত্তক কর্মসূচীর কথা উঠলে সেটা শুধুমাত্র আইএসএসকে দিয়ে দেওয়াতেই সীমাবদ্ধ ছিল। যেকোনো শিশু এমনকি নবজাতকও – এক হিসাবে কম নয়। কারণ সংখ্যাটা ছিল বিশাল। যুদ্ধের সময় যে জায়গায় এসব মেয়েদের রাখা হতো তা নিশ্চয়ই বেশ বড় ছিল। কিন্তু আমি যখন ওখানে গেছি, সেসব ছিল পরিত্যক্ত।

এই কিশোরী মা তার অনাকাংখিত সন্তানকে তুলে দিতে এসেছেন মাদার তেরেসা সম্প্রদায়ের হাতে

এই কিশোরী মা তার অনাকাংখিত সন্তানকে তুলে দিতে এসেছেন মাদার তেরেসা সম্প্রদায়ের হাতে

বীণা: ঢাকা শহরের বাইরে যেসব জায়গায় গিয়েছিলেন তাঁর কথা বলুনসেখানকার সুবিধাদি কেমন ছিল?
ডেভিস : হাসপাতাল আর পুনর্বাসন সংস্থা… নাম মনে নেই সেটার। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা পুনর্বাসন কেন্দ্র বা সেরকম কিছু হবে। বেশিরভাগ বড় শাখাগুলো ছিল তাদের অধীনে। আর আমি যাওয়ার আগে গর্ভপাতের সংখ্যা ছিল কম। কারণ কেউই সেটা করতে চাচ্ছিলো না। বেশিরভাগ চিকিৎসাকর্মীর মতই ব্যাপারটা ছিল অনৈতিক। যা হোক, আমি স্বরাষ্ট্রসচিব রব চৌধুরীর একটা অথোরাইজেশন লেটার নিয়ে কাজ শুরু করে দিলাম। এতে লেখাছিল, আমি যা-ই করব তা আইনগতভাবে বৈধ এবং তারা যেন আমাকে সর্বাত্মকসহযোগিতা দেয়। চিঠিটা খুঁজে পাইনি আর। আছে হয়তো কোথাও…। বাংলাদেশের অনেককাগজ পত্র…। আমি যত্ন করে তুলে রেখেছিলাম। কারণ বেঁচে থাকতে এমন কিছুরঅভিজ্ঞতা কখনো হবে বলে মনে হয়নি আর। তাই রেখে দিয়েছিলাম। সে সময়টাতেব্যাপারটা ছিল কঠিন, নারকীয় এক অভিজ্ঞতা।

বীণা: সব মেয়েই কি গর্ভপাত বা সন্তান দিয়ে দিতে রাজি ছিল? একজনও কি বাচ্চা রেখে দিতে চায় নি?
ডেভিস : সত্যি বলতে, কয়েকজন চেয়েছে।

বীণা: তাদের কী হয়েছিল জানেন?
ডেভিস : আমারকোনো ধারণা নেই। আইএসএস ওখানে ছিল যতগুলো সম্ভব শিশু দত্তক নিতে। কারণআমেরিকা ও পশ্চিম ইউরাপে দত্তক শিশুর আকাল পড়েছিল।আর সে ঘাটতিটা তারা পূরণকরতে চাইছিল।

বীণা: ইন্টরন্যাশনাল সোশাল সার্ভিস?
ডেভিস : হ্যাঁ।এটা ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক। দত্তকের ব্যাপার সংশ্লিষ্ট বিশাল এক সংগঠন।

বীণা: সেই মায়েদের কী হয়েছিল?
ডেভিস : গর্ভপাতকিংবা ডেলিভারির পর তারা কিছুকাল ক্লিনিকে থাকত। তারপর পুনর্বাসন কেন্দ্রেরহেফাজতে যেতো। সেখানে তারা যতদিন ইচ্ছা থাকতে পারত। আর তারপর তাদের নানাধরণের ট্রেনিং দেওয়া হতো। আমি কয়েকজনকে দেখেছি। পুঁজি নিয়ে তারা কাপড়বানাচ্ছে ঢাকা, দিনাজপুর, রংপুর, নোয়াখালিতে। viagra sildenafil generic

(শেষ কথা : ইন্টারভিউ শেষে বাংলাদেশে ফেরার ব্যাপারে বীণার সঙ্গে অনেক আলাপ করেছেন ডেভিস। তাঁদের আলোচনার একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল যুদ্ধাপরাধীদের সম্ভাব্য বিচার। জিওফ্রে বীণার হাত শক্ত করে ধরে নিজের বুকে রাখলেন। চোখে জল নিয়ে জানালেন তাঁর সামর্থ্যের পুরোটা দিয়েই তিনি বাংলাদেশকে ন্যায়বিচার পেতে সাহায্য করবেন।)

[অন্যান্য সূত্রঃ ১। http://www.forbes.com/sites/worldviews/2012/05/21/1971-rapes-bangladesh-cannot-hide-history/

২। http://opinion.bdnews24.com/2010/12/15/1971-rape-and-its-consequences/] otc viagra uk

You may also like...

  1. সেই পুরনো নির্ঝর রুথকে ফিরে পেয়ে অসাধারন লাগছে… বরাবরের মতই চমৎকার ভাষার কারুকার্যে অসাধারনভাবে তুলে এনেছেন সেই রক্তাক্ত জন্ম ইতিহাসের অজানা অধ্যায়… স্যালুট রইল আপু… malaria doxycycline 100mg

  2. আপু আপনার লিখা আমি এই প্রথম পড়লাম, এবং এই সাক্ষাতকারও প্রথম পড়লাম। আমাদের ইতিহাসের বীরঙ্গনাদের অবদান অস্বীকার্য। অনেক কিছু জানানোর জন্য ধন্যবাদ নির্ঝর রুথ আপু।

  3. articles on kamagra polo
  4. তারিক লিংকন বলছেনঃ

    অনেক কিছুই জানা ছিল না!! অফুরন্ত ধইন্যা রুথ…
    আপনাকে অনেকদিন পর আবার লিখতে দেখে ভাল লাগছে

প্রতিমন্তব্যনির্ঝর রুথ বাতিল

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong> prednisone side effects in dogs long term

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

cialis online pharmacy forum
soulcysters net metformin
diflucan one time dose yeast infection