সায়েন্স ফিকশন – একদিন সত্যের ভোর…।

477

বার পঠিত

কম্পিউটার স্ক্রীনটার দিকে অবাক চোখে চেয়ে আছে অনামিকা। বাংলাদেশ নামক সবুজ একটা দেশের রাজধানী ঢাকার ভিকারুন্নিসা নূন স্কুলে পড়ে সে। এবার দশম শ্রেণীতে উঠল। স্বপ্ন সাংবাদিকতায় পেশা গড়ার। অনেক বড় হবে সে। প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে একবার ল্যাপটপটা খুলে না বসলে অনামিকার শান্তি হয়না। প্রতিদিনের পড়াশুনার খুঁটিনাটি বিষয় যেমন সে দেখতে ভালোবাসে ইন্টারনেটে, তেমনি ফেসবুকে কাজ করতেও মন্দ লাগে না। আর ফেসবুক কি আজ আর সেই ফেসবুক আছে? শুধু আড্ডা দেয়াই নয়। অনামিকার বয়সী ছেলেমেয়েরা ফেসবুক দিয়ে এখন দেশ পাল্টে দিতে পারে। মূমুর্ষ রোগীর রক্ত যোগাড় করা থেকে শুরু করে রাজাকারবিরোধী আন্দোলন – সবই তো হয় আজকে ফেসবুকের নীল দুনিয়ায়।

আজকের ব্যাপারটা একটু ভিন্ন রকম। সকাল থেকে দিনটা তো ভালোই চলছিল। কিন্তু ব্রাউজার ওপেন করার সাথে সাথেই অনামিকার সামনে একটা মেসেজ ওপেন হয়। এরকম অদ্ভুত ভাষার মেসেজ সে আর কখনোই দেখে নি। গুগল ট্রান্সলেটর এ দিয়েও কোনো কাজ হল না। হাজার হলেও, গুগল ও তো মানুষেরই আবিষ্কার। মানুষ যে ভাষা জানেনা তা গুগল জানবে কেমন করে! পরপর তিনবার এরকম অদ্ভূত ভাষার মেসেজ পেল অনামিকা। শীতের দিন। হট চকলেট এ চুমুক দিতে দিতে ভয়টাকে জয় করার চেষ্টা চালাতে লাগলো সে। তবে যতটা না ভয়, তার চেয়ে অনেক বেশি কৌতুহল হচ্ছে অনামিকার। কি করা যায়, কিভাবে এই মেসেজ এর মর্মার্থ উদ্ধার করা যায় ভাবতে ভাবতেই ঘুমের অতলে তলিয়ে গেল সে।

একই সময় একই দিনে একই রকম মেসেজ মাথা খারাপ করে দিচ্ছিল ধানমন্ডির সারা, কমলাপুরের মনিকা আর বসুন্ধরার সায়মার ও।

পরদিন সকালে উঠে স্কুলে যাওয়ার জন্য রেডি হতে গিয়ে অনামিকার মনে পরে যে আজ তো দূর্গাপূজা। স্কুল বন্ধ। সামনে পরীক্ষা, কিছু পড়াশুনা করা দরকার। ফিজিক্স বইটা খুলে দেখতেই অনামিকার মনে পরে যায় আগের দিনের মেসেজ টার কথা। পড়াশুনা মাথায় ওঠে। মেসেজ টা খুলে  অর্থ উদ্ধার করার চেষ্টা করতে থাকে সে। হঠাৎ একটা বুদ্ধি মাথায় আসে তার। মেসেজটা না বুঝলেও মেসেজ টার রিপ্লাই করে সে। ইংরেজিতে লিখে দেয় – ” তুমি যে ই হও না কেন, ভাষা বুঝতে পারছি না তোমার। বাংলায় নয় ইংরেজিতে লেখ, বুঝতে পারব। ” রিপ্লাই করে সে পড়তে বসে সত্যি, কিন্তু পড়ায় কি আর মন বসে?  বারবার ল্যাপটপ খুলে খুলে চেক করা – মেসেজ টার কোনো রিপ্লাই কি এসেছে?

হঠাত বিকেলবেলা নোটিফিকেশন বাটন টা জ্বলজ্বল করে ওঠে। চেক করার পর অনামিকার মনে হয় – দুনিয়াতে এই বুঝি দেখবার বাকি ছিল! সাহস করে দুইবার মেসেজটা পড়ে ফেলে একদম স্তব্ধ হয়ে যায় অনামিকা। কি লেখা ছিল সেই মেসেজে?  পরিষ্কার বাংলা ভাষায় লেখা ছিল – ” আমি তোমাদের ই প্রতিবেশী। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতেই আমাদের বসবাস। তবে তোমাদের থেকে অনেক দূরে। কিয়েটো নক্ষত্রের সামুরাই গ্রহে আমরা থাকি। তোমাদের পৃথিবীটা অনেক নীল। আমাদেরটা তেমন নয়। এখানে তিনভাগ স্থল আর একভাগ জল। পৃথিবীকে কখনো ভেতর থেকে দেখিনি,  তবে এবার তোমাদের রেডিও সিগন্যাল পেয়ে মনে হল যোগাযোগ করি। কি জানি যদি পৃথিবী ঘুরে আসার একটা সুযোগ পেয়ে যাই!!!”

হাজার বছর আগে নাসার বিজ্ঞানীদের পাঠানো রেডিও সিগন্যাল এর যে এত বছর পর এভাবে রিপ্লাই আসবে তাই বা কে জানত!!

এর পরে কয়েকদিন গেল অনামিকার শুধু ওই এলিয়েন এর সাথে বন্ধুত্ব করতে। মনে মনে এলিয়েন টার একটা নাম ও দিয়েছে অনামিকা। রবার্ট। টোয়াইলাইট এর নায়ক। অনামিকার স্বপ্নের রাজকুমার।  এলিয়েন টার সাথে কথা বলে সে যা বুঝল তা হল – ওরা সব ভাষা পারে। নারী পুরুষের ভেদাভেদ থাকলেও নাম ব্যাপারটায় ওরা এখনো ঠিক অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেনি। প্রথম কয়েকদিন এভাবে চলল। কিন্তু এবার?  এলিয়েনটা যে পৃথিবী দেখতে চায়। ওদের সামুরাই গ্রহে রঙের বৈচিত্র নেই। নীল আর সবুজের মায়ামাখা নেই। তাই সেই গ্রহের প্রাণীরা জীবনে একবার পৃথিবী ঘুরে যেতে পারলে ধন্য বোধ করে। এ সব কিছুই অনামিকাকে জানিয়েছে রবার্ট। পৃথিবীতে তো ও আসতেই পারে। কিন্তু এখানে তাকে আশ্রয় দেবে কে?  ফলশ্রুতিতে সেই দায়িত্ব নিতে হল অনামিকাকেই।

একদিন রাতের খাবার খেয়ে বাসার সবাই ঘুমিয়ে পরেছে। চুপি চুপি পায়ে হেটে অনামিকা ছাদে যায়। আগেই রবার্ট কে জানিয়ে দেয়া হয়েছে অনামিকাদের বাসার অক্ষরেখা দ্রাঘিমারেখা। রাত ১২ টা ১ মিনিট।  ছোট্ট আপেল সাইজের একটা স্পেসক্রাফট চোখে পরে অনামিকার। আস্তে আস্তে বড় হতে হতে সেটা এরপ্লেনের আকৃতি নেয়। অনামিকাদের ছাদে ল্যান্ড করে। আর সেই স্পেসক্রাফট থেকে নেমে আসে অনামিকার কল্পনার রাজপুত্রের চেয়েও অনেক গুণ সুন্দর একটা প্রাণী। গল্প উপন্যাসে এলিয়েন দের যেরকম ভয়াবহ চেহারা দেয়া হয় রবার্ট মোটেও সেরকম নয়। অনেক বেশি সুন্দর আর বন্ধুবৎসল।  স্পেসক্রাফট এ করে পৃথিবী ঘুরতে বের হয় তারা। সাথে যোগ দেয় মনিকা,  সায়মারাও। আলোর চেয়ে দ্রুতগতিতে চলে এই স্পেসক্রাফট।  তাই ওরা অতীতেও যেতে পারে। প্রথমেই অনামিকা তাই রবার্টকে দেখিয়ে আনে বাংলাদেশের ইতিহাস। ৫২, ৬৬, ৬৯, ৭১, ৯২ আর ২০১৩….। walgreens pharmacy technician application online

রবার্ট এর হৃদপিন্ড পাথর আর গাছপালা দিয়ে তৈরি। মানবীয় অনুভূতি খুব সহজে তাকে স্পর্শ করেনা। সেই পাথরের হৃদয় ফেটেও জল আসে এত রক্তে লেখা বাংলাদেশ দেখে। ওরা ঘুরে আসে ১৬ ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ আর ১২ ডিসেম্বর, ২০১৩। তবু নয় মাসের ছায়াটা যেন ঘন হয়েই থাকে। শেষে অনামিকা বলে – এত রক্ত, এত অশ্রুর দামে পাওয়া আমাদের এই স্বাধীনতা,  এত জীবনের দামে পাওয়া এই এক একটা বিজয় যে বিজয়ের আনন্দ হারিয়ে যায় শহীদ মাতার অশ্রুর আড়ালে…। ওরা প্রজন্ম  চত্বর দেখে। গ্রামের মেঠোপথে কৃষকের মুখে সোনালি হাসি দেখে। শহীদ মিনার থেকে স্মৃতিসৌধ,  টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া হয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে পুরো পৃথিবী ঘুরে আসে ওরা। স্ট্যাচু অফ লিবার্টি,  মিশরের পিরামিড আর রাজস্থানি দুর্গ – রবার্ট এর সামনে যেন জীবনের চিত্র তুলে ধরে। এ জীবনের সাথে তার কখনই পরিচয় হয়নি।

যাত্রা শেষ হয় হিমালয়ের চুড়ায় এসে। ততক্ষণে রাত ভোর হয়ে এসেছে। রবার্ট কে ফিরে যেতে হবে তার নিজের জগতে। অনামিকা রবার্ট কে উপহার দেয় প্রজন্ম চত্বর এর এক মুঠো মাটি আর একটা লাল সবুজের পতাকা। পৃথিবীর স্মৃতি হয়ে রবার্ট এর কাছে থাকুক এগুলো। ওদের জগতে তো কোনো লাল সবুজ নেই। কোনো প্রজন্ম চত্বর নেই। কোনো বাংলাদেশ নেই…।

missed several doses of synthroid
zithromax azithromycin 250 mg

You may also like...

  1. কি লাভ হল দেখিয়ে!! এই ওদের যদি ২০১৪ এর ১৭ই সেপ্টেম্বর দেখানো হত তবে ওরা আমাদের ঘৃণাই করত!!

  2. ণ

    বলছেনঃ

    সমালোচনায় যাওয়া যায়, যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা যায়, কিন্তু মনে হলো, থাকুক না কিছু ভুল, কিছু পাগলামি। সবচেয়ে সুন্দর যে গয়না, তারও খাদ আছে, চাঁদের সৌন্দর্যর অংশ হলো তার কলঙ্ক।

    লিখে যান, মাঝে মাঝে এলিয়েন ছাড়া বাস্তবেরও কয়েকটা ছেলে চরিত্র দিয়েন।
    জয় বাংলা viagra en uk

  3. ভাল। তয়-
    আমার সন্দেহ ভীনগ্রহীরা দেখতে কেমন হবে?
    আপনি বলেছেন- ওদের গ্রহে রঙের বাহার নেই। তাহলে তো ওদের গ্রহে আলো খুব বেশি। সেক্ষেত্রে তো ওদের চোখ জোড়া (অবশ্য যদি জোড়া হয়ে থাকে আরকি) হবার কথা অতি ক্ষুদ্র সাইজের।!!
    নাকি ভুল বকলাম? will metformin help me lose weight fast

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment. side effects of drinking alcohol on accutane

tome cytotec y solo sangro cuando orino
all possible side effects of prednisone