রিভিউ-সাম্ভালা ট্রিলজি

398

বার পঠিত

রিভিউ-সাম্ভালা ট্রিলজি

বাংলাদেশের হাজার হাজার গ্রামের মধ্যে অতি সাধারন এক গ্রাম।কাহিনীর শুরু হয় সেখান থেকেই।কিন্তু এই অসাধারন কাহিনী আটকে থাকেনি ঐ সাধারন গ্রামে।আটকে থাকেনি সময়ের বেড়াজালেও।বাংলাদেশের নানা জায়গা থেকে বিশ্বের নানা স্থানে পৌঁছে গেছে কাহিনীর পরিধি,পৌঁছে গেছে বর্তমান থেকে সুদূর অতীতে।

zithromax azithromycin 250 mg

কাহিনী সংক্ষেপ-
একটি শব্দ-যাকে ঘিরে আবির্ভূত হচ্ছে রহস্য।“সাম্ভালা”।কি এই সাম্ভালার অর্থ?এটা কি কোন জিনিসের নাম?কোন জায়গার নাম?কোন মানুষের নাম?কোন জাতির নাম? নাকি অন্য কিছু!বেশ কিছু মানুষ নেমেছে এই সাম্ভালার খোঁজে।তবে প্রত্যেকেরই উদ্দেশ্য ভিন্ন।

সাম্ভালা-
অদ্ভুত এক লোক।হাজার বছর ধরে পথ চলছে সে।অন্যদিকে এক শয়তানের সাধক আর তার একনিষ্ঠ বাহিনী।আর সাধারণ ছেলে রাশেদ।নিজ বন্ধুকে হত্যার মিথ্যা অভিযোগে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাকে।পিছনে লেগেছে পুলিশ।শুধু পুলিশ নয় তার বন্ধুকে যারা মেরেছে তারাও তাকে খুঁজছে।

সাম্ভালা দ্বিতীয় যাত্রা-
হাজার বছরের পরিব্রাজক নেমেছেন সাম্ভালার সন্ধানে।তার পিছে লেগেছে তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।আবার ডঃ কারসন এবং ডঃ আরেফিনও নেমেছেন সাম্ভালার খোঁজে।অন্যদিকে রাশেদের যেন বিপদ পিছু ছাড়ছে না।জড়িয়ে পড়েছে গুপ্তধন উদ্ধারে।বন্ধুকে বাঁচাতে হলে তাকে খুঁজে বের করতেই হবে ঐ গুপ্তধন।

সাম্ভালা শেষ যাত্রা-
সাম্ভালার খোঁজে তিব্বতে এসে উধাও ডঃ আরেফিন।তাকে খুঁজে বের করতে বন্ধুকে নিয়ে রাশেদও হাজির হল তিব্বতে।কিন্তু সে জানেনা তাদের পিছনে পিছনেই চলেছে বিপদ।পরিব্রাজক লখানিয়া সিংও আছেন সাম্ভালার খোঁজে।কিন্তু তার প্রতিদ্বন্দ্বীও তার থেকে খুব একটা পিছিয়ে নেই।

এই সিরিজটি পড়ার সময় বা পড়া শেষে প্রথম যে ভাবনাগুলো মাথায় আসে তার মধ্যে অন্যতম হল এই সিরিজটাকে কোন জেনারে ফেলা যায়।কখনো মনে হবে ফ্যান্টাসি,কখনো এডভেঞ্চার।আসলে এই সিরিজটি ফ্যান্টাসি,অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার,থৃলার,গুপ্তধন,সিক্রেট সোসাইটি সব কিছুর সংমিশ্রণের একটি অনন্য উদাহরণ।অনেক সময় এতকিছু একত্রে আনতে গিয়ে অনেক লেখক একটা জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ফেলেন।কিন্তু এক্ষেত্রে লেখক বিন্দুমাত্র ভুল করেননি।সব মিলিয়ে একটি চরম উপভোগ্য লেখা উপহার দিয়েছেন।

লেখক শরীফুল হাসান এর কয়েকটা গল্প পড়া ছিল শুধু,যেগুলো মূলত থৃলার গল্প সংকলন ১,২ এ ছিল।সেই গল্পগুলো পড়ে ভাল লেগেছিল।আর সাম্ভালা সিরিজের কথা যে কতবার বিভিন্ন মানুষের কাছে শুনেছি,কত প্রশংসা শুনেছি তার ইয়ত্তা নেই।তাই সব মিলিয়ে সাম্ভালা পড়ার জন্য বেশ আগ্রহ ছিল।এখন পড়ার শেষে বলতে পারি বিন্দুমাত্র হতাশ হতে হয়নি।

শরীফুল হাসান এর প্রথম মৌলিক উপন্যাস সাম্ভালা।আর প্রথম লেখাতেই তিনি যে জটিল প্লট নিয়ে কাজ করেছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।আসলে এধরনের বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের কোন লেখকই আগে লেখেননি।তিনিই প্রথম লিখেছেন।আর কাহিনীর পরিধিও সুবিশাল।একসাথে অনেকগুলো ঘটনা তিনি বর্ননা করে গিয়েছেন।অনেকগুলো চরিত্রের কথা পাশাপাশি বলেছেন।এক কথায় বলতে তিনি একটি বহুস্তরবিশিষ্ট কাহিনী আমাদের শুনিয়েছেন।ভাবতে অবাক লাগে এতসব ঘটনা,চরিত্র তিনি কিভাবে মাথায় রেখে লিখেছিলেন।আমি মাঝেমাঝেই সময়,কাল,চরিত্রের খেই হারাচ্ছিলাম।কিন্তু তিনি খেই হারাননি।যথেষ্ট দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে কাহিনীকে এগিয়ে গিয়েছেন পরিণতির দিকে।

সাম্ভালা প্রথম পর্বে লেখকের লেখনী কিছুটা দুর্বল বলা চলে।কিন্তু দ্বিতীয় এবং শেষ যাত্রার ক্ষেত্রে তা বলা যাবেনা।দ্বিতীয় এবং শেষ যাত্রায় এসে লেখকের লেখার ভাষা পেয়েছে সাবলীলতা,প্রাঞ্জলতা,আর কাহিনী পেয়েছে গতি।প্রথম পর্বে এছাড়াও তিনি সময় ব্যাবধানে কিছুটা ভুল করেছেন।যেমন এক জায়গায় দেখা যায় একদিনের মধ্যেই তিনি প্রথমে সকালের ঘটনা লিখে,তারপর রাতের ঘটনা লেখার পর আবার ফিরে গিয়েছেন দিনের ঘটনায়।

সিরিজটিতে একই সাথে ঘটে চলেছে অজস্র ঘটনা।কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘটনাগুলোর পিছনে যে যুক্তি,যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তা যথেষ্ট দুর্বল মনে হয়েছে।কোন কোন ক্ষেত্রে কোন ব্যাখ্যাই দেওয়া হয়নি।যেমন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি রাশেদ কিভাবে তিন তিনবার তিনতলা থেকে লাফ দিয়েও অক্ষত থাকে।শেষবার অবশ্য একটু পা মচকেছিল!সিরিজের আরেকটি খামতির জায়গা হল কিছু কিছু জায়গায় ডিটেইলিংস এর অভাব।যেমন প্রথম পর্বের এক জায়গায় দেখা যাবে রাশেদ সি.এন.জি তে।তাকে ধাওয়া করা হয়েছে।কিছুক্ষণ পর দেখা যাবে রাশেদ সেখান থেকে রক্ষা পেয়েছে।কিন্তু কিভাবে পেয়েছে সে সম্পর্কে শুধু বলা হয়েছে সি.এন.জি চালকের দক্ষতায় সে বেঁচেছে।আর কিছু বলা হয়নি।

যে ব্যাপারটা পুরো সিরিজে সবচেয়ে চোখে লেগেছে তা হল বেশকিছু অসঙ্গতি।আর অবাক করার ব্যাপার হল প্রথম পর্বে এগুলো খুবই কম ছিল,দ্বিতীয় এবং শেষ যাত্রায় প্রচণ্ডভাবে বেড়ে গিয়েছিল।আমি সবগুলো বলতে গেলে হয়ত স্পয়লার হয়ে যাবে।তাই শুধু ৩ টি উদাহরণ দিচ্ছি।দ্বিতীয় যাত্রার ১৭১-১৭২ পৃষ্ঠা পড়ার সময় এক জায়গায় দেখা যাবে রাশেদ মোবাইল বের করে সময় দেখছে।পরের মুহূর্তেই দেখা যাবে সাথে মোবাইল না থাকায় সে কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারছে না!!আর বইটির বেশকিছু জায়গায় বিনোদ চরিত্রটিকে আকাশ বলা হয়েছে।আবার শেষ যাত্রায় কিছু জায়গায় একটি চরিত্রের নাম কখনো চরনদাস কখনো রামচরন বলা হয়েছে।

এসব মাইনাস পয়েন্ট দেখে মনে হতে পারে বইটা আমার ভাল লাগেনি।কিন্তু আগেই বলেছি বইটা আমার ভাল লেগেছে,সত্যি বলতে কি দুর্দান্ত লেগেছে।আর এই মাইনাস পয়েন্টগুলো সংখ্যায় নগণ্য।বইটির প্লাস পয়েন্টই বেশি।বইটির সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হল আপনি একবার পড়া শুরু করলে শেষ পর্যন্ত পড়তে বাধ্য।আপনি প্রথম পর্ব শেষ করলে এটি আপনাকে বাধ্য করবে দ্বিতীয় পর্ব হাতে না আসা পর্যন্ত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে।বাধ্য করবে হাতে আসা মাত্র পড়া শুরু করতে।

ট্রিলজিটি সব মিলিয়ে ৮০০ পৃষ্ঠার মত।আমি প্রত্যেকটি বইই এক বসায় শেষ করেছি।কারন একবার শুরু করার পর না শেষ করে উঠতে ইচ্ছে করছিল না।লেখক প্রায় পুরো সময়ই রহস্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।কেউ প্রথম পর্ব শেষ করার পর বিন্দুমাত্র ধারনা করতে পারবে না দ্বিতীয় পর্বে কাহিনী কোনদিকে এগোবে।তবে প্রথম দুইটি পর্ব পড়ার পর মনে বেশ কিছু প্রশ্ন জাগে।ট্রিলজিটা শেষ হবার পর অনেক প্রশ্নের যেমন যথাযথ উত্তর মিলেছে তেমনি পাওয়া যাবে না অনেক প্রশ্নেরই উত্তর।

বাতিঘরের বই পড়তে গেলে আমার মাথায় প্রথম যে কথাটা আসে,এই প্রকাশনীর সম্ভবত কোন প্রুফরিডার নেই!কারন তাদের আমি যে কয়টি বই পড়েছি তাতে রয়েছে বাড়াবাড়ি ধরনের বানান ভুলের মিছিল।এই সিরিজটিতেও রয়েছে বানান ভুলের অজস্র উদাহরণ।তবে বিস্ময়করভাবে এই সিরিজটিতে আমার মনে হয়েছে তুলনামূলক বানান ভুল কম রয়েছে।যাই হোক এর ফলে বইগুলোর মাহাত্য বিন্দুমাত্র কমে না। can levitra and viagra be taken together

বাতিঘর প্রকাশনীকে অজস্র ধন্যবাদ আমাদের এই মানসম্পন্ন মৌলিক লেখা উপহার দেবার জন্য।তারা গত কিছু সময় ধরেই অনুবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন মৌলিক লেখা প্রকাশ করে চলেছে।যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।তবে এই সিরিজটির জন্য প্রকৃত ধন্যবাদ প্রাপ্য শরীফুল হাসান এর।প্রত্যেকটি পর্বই তিনি অত্যন্ত যত্নের সাথে এবং পরিশ্রম করে লিখেছেন বোঝা যায়।সিরিজটির লেখার জন্য তিনি অনেক গবেষণা করেছেন তার পরিস্কার ছাপও তার লেখায় পাওয়া যায়।আশা করি এধরনের আরও অনেক মৌলিক লেখা তার কাছ থেকে ভবিষ্যতে পাব। renal scan mag3 with lasix

এক নজরে
বইয়ের নাম-সাম্ভালা ট্রিলজি
লেখক-শরীফুল হাসান
প্রকাশক-বাতিঘর প্রকাশনী
প্রকাশকাল-বইমেলা ২০১২,২০১৩,২০১৪
গায়ের মূল্য-২০০+২২০+২৪০ টাকা
আমার রেটিং-৪.২৫/৫

পরিশেষে বলতে পারি যারা এখনো ট্রিলজিটি পড়েননি পড়ে ফেলুন,বিন্দুমাত্র হতাশ হবেন না। acne doxycycline dosage

viagra vs viagra plus
doctorate of pharmacy online

You may also like...

  1. ণ

    বলছেনঃ

    সাম্ভালা

    নিকট অতীতে পড়া বইয়ের মধ্যে অন্যতম প্রিয়

  2. এই বইটার আলোচনা সমালোচনা শুনতে শুনতে ক্লান্ত। কবে যে পড়ার সময় পাব!

    clomid over the counter

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

wirkung viagra oder cialis

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

nolvadex and clomid prices

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

zoloft birth defects 2013