সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় : আজ নীল লোহিতের জন্মদিন

445

বার পঠিত

পিতা তার ছেলেকে টেনিসনের একটা কাব্যগ্রন্থ দিয়ে বলেছিলেন, প্রতিদিন সেখান থেকে দু’টি করে কবিতা অনুবাদ করতে হবে। এটা করেছিলেন যাতে ছেলে দুপুরে বাইরে যেতে না পারেন। ছেলে তাই করতেন। বন্ধুরা যখন সিনেমা দেখত, বিড়ি ফুঁকত ছেলেটি তখন পিতৃ-আজ্ঞা শিরোধার্য করে দুপুরে কবিতা অনুবাদ করতেন। অনুবাদ একঘেয়ে উঠলে তিনিই নিজেই লিখতে শুরু করলেন। ছেলেবেলার প্রেমিকাকে উদ্দেশ্য করা লেখা একটি কবিতা তিনি দেশ পত্রিকায় পাঠালে তা ছাপা হয়। এই ছেলেটিই হল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। আর আজ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিন।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ সালে (২১ ভাদ্র, ১৩৪১ বঙ্গাব্দ) বাংলাদেশের ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি বড় হয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। পড়াশুনা করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান মি. পলেন কলকাতায় এলে সুনীলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয় হয়। সেই সূত্রে মার্কিন মুলুকে গেলেন সুনীল ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসাবে । ডিগ্রী হয়ে গেলে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপগ্রন্থাগারিক হিসাবে কিছুদিন কাজ করেন সুনীল।Untitled

মৃত্যুর পূর্ববর্তী চার দশক তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা-ব্যক্তিত্ব হিসাবে সর্ববৈশ্বিক বাংলা ভাষা-ভাষী জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। বাংলাভাষী এই সাহিত্যিক একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, সম্পাদক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট হিসাবে অজস্র স্মরণীয় রচনা উপহার দিয়েছেন। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার জীবনানন্দ-পরবর্তী পর্যায়ের অন্যতম প্রধান কবি। একই সঙ্গে তিনি আধুনিক ও রোমান্টিক। তাঁর কবিতার বহু পঙক্তি সাধারণ মানুষের মুখস্থ। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় “নীললোহিত”, “সনাতন পাঠক” ও “নীল উপাধ্যায়” ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নীললোহিতের মাধ্যমে নিজের একটি পৃথক সত্তা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন । নীললোহিতের সব কাহিনীতেই নীললোহিতই কেন্দ্রীয় চরিত্র । সে নিজেই কাহিনীটি বলে চলে আত্মকথার ভঙ্গিতে । সব কাহিনীতেই নীললোহিতের বয়স সাতাশ । সাতাশের বেশী তার বয়েস বাড়ে না । বিভিন্ন কাহিনীতে দেখা যায় নীললোহিত চিরবেকার । চাকরিতে ঢুকলেও সে বেশীদিন টেঁকে না । তার বাড়িতে মা এবং দাদা বৌদি রয়েছেন । নীললোহিতের বহু কাহিনীতেই দিকশূন্যপুর বলে একটি জায়গার কথা শোনা যায় । যেখানে বহু শিক্ষিত সফল মানুষ কিন্তু জীবন সম্পর্কে নিঃস্পৃহ একাকী জীবন যাপন করেন ।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বেশ কিছু গল্প-উপন্যাসের কাহিনী দ্বারা চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত অরণ্যের দিনরাত্রি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী উল্লেখযোগ্য। এছাড়া কাকাবাবু চরিত্রের তিনটি কাহিনী সবুজ দ্বীপের রাজা, কাকাবাবু হেরে গেলেন এবং মিশর রহস্য চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। হঠাৎ নীরার জন্য ওনার লিখিত আরেকটি ছবি।

সুনীলের অন্যতম জনপ্রিয় একটি কবিতা হল ‘কেউ কথা রাখেনি’। কবিতাটির কয়েকটি পঙক্তি নিম্নে দেয়া হল-

কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো কেউ কথা রাখেনি
ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমি তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিলো
শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে
তারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা এসে চলে গেল, কিন্তু সেই
বোষ্টুমি আর এলো না
পঁচিশ বছর প্রতীক্ষায় আছি ।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বিভিন্ন পুরষ্কারে ভূষিত হন এর মধ্যে অন্যতম হল ১৯৭২ ও ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে আনন্দ পুরষ্কার এবং ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার।
তিনি ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

cialis canada free trial

You may also like...

  1. শঙ্খনীল কারাগার বলছেনঃ

    funny viagra stories

    সুনীল সব সময় আমাকে প্রভাবিত করে। তার প্রথম আলো, সেই সময়, পূর্ব পশ্চিম, মনের মানুষ উপন্যাস গুল। তবে তার কবিতা গুলো আমাকে বেশী প্রভাবিত করেছে। তার একটা গাছের তলায় কবিতাটি আমার সকল ভাবনা গুলো ওলট পালট করে দেয়।

    বলতে বাধা নেই, সুনীলের অনেক কিছুই আমাকে প্রভাবিত করেছে। ‘প্রথম আলো’, ‘সেই সময়’, ‘পূর্ব পশ্চিম’, ‘মনের মানুষ’ এর মতো গল্প উপন্যাস তো আছেই, তালিকায় আছে অগনিত কবিতাও। ‘কেউ কথা রাখেনি’ কিংবা ‘আমি কীরকম ভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ’ এর মত কবিতাগুলো আমাকে আচ্ছন্ন করতো,
    এখনো করে পুরোমাত্রায়। আমার মনে আছে আমার অবিশ্বাসের দর্শন বইটার ‘বিজ্ঞানময় কিতাব’ অধ্যায়টায় উল্লেখ করেছিলাম সুনীলের ‘একটা গাছ তলায় দাঁড়িয়ে’ কবিতার সেই বিখ্যাত লাইনগুলো – ‘ … এতগুলো শতাব্দী গড়িয়ে গেল, মানুষ তবু ছেলেমানুষ রয়ে গেল
    কিছুতেই বড় হতে চায় না
    এখনো বুঝলো না ‘আকাশ’ শব্দটার মানে
    চট্টগ্রাম
    বা বাঁকুড়া জেলার আকাশ নয়
    মানুষ শব্দটাতে কোন কাঁটাতারের বেড়া নেই
    ঈশ্বর নামে কোন বড় বাবু এই বিশ্ব সংসার চালাচ্ছেন না
    ধর্মগুলো সব রূপকথা
    যারা এই রূপকথায় বিভোর হয়ে থাকে
    তারা প্রতিবেশীর উঠোনের
    ধুলোমাখা শিশুটির কান্না শুনতে পায় না
    তারা গর্জন বিলাসী … ’

  2. তারিক লিংকন বলছেনঃ

    ভাল লাগলো! আরও বিস্তারিত হতে পারত পোস্টটি!! ধন্যবাদ মনে করে স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্যে…
    একটা প্রিয় কবিতা শেয়ার না করে পারছি নাঃ

    আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি
    =======================

    আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ
    এই কি মানুষজন্ম ? নাকি শেষ
    পুরোহিত-কঙ্কালের পাশা খেলা ! প্রতি সন্ধেবেলা
    আমার বুকের মধ্যে হাওয়া ঘুরে ওঠে, হৃদয়কে অবহেলা
    করে রক্ত; আমি মানুষের পায়ের কাছে কুকুর হয়ে বসে
    থাকি – তার ভেতরের কুকুরটা দেখব বলে। আমি আক্রশে
    হেসে উঠি না, আমি ছারপোকার পাশে ছারপোকা হয়ে হাঁটি,
    মশা হয়ে উড়ি একদল মশার সঙ্গে; খাঁটি
    অন্ধকারে স্ত্রীলোকের খুব মধ্যে ডুব দিয়ে দেখেছি দেশলাই জ্বেলে –
    (ও গাঁয়ে আমার কোনো ঘরবাড়ি নেই !)
    আমি স্বপ্নের মধ্যে বাবুদের বাড়ির ছেলে
    সেজে গেছি রঙ্গালয়ে, পরাগের মতো ফুঁ দিয়ে উড়েয়েছি দৃশ্যলোক
    ঘামে ছিল না এমন গন্ধক
    যাতে ক্রোধে জ্বলে উঠতে পারি । নিখিলেশ, তুই একে
    কী বলবি? আমি শোবার ঘরে নিজের দুই হাত পেরেকে
    বিঁধে দেখতে চেয়েছিলাম যীশুর কষ্ট খুব বেশী ছিল কি না ।
    আমি ফুলের পাশে ফুল হয়ে ফুটে দেখেছি, তাকে ভালবাসতে পারি না ।
    আমি কপাল থেকে ঘামের মতন মুছে নিয়েছি পিতামহের নাম,
    আমি শ্মশানে গিয়ে মরে যাবার বদলে, মাইরি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম ।
    নিখিলেশ, আমি এই রকম ভাবে বেঁচে আছি, তোর সঙ্গে
    জীবন বদল করে কোনো লাভ হলো না আমার – এ কি নদীর তরঙ্গে
    ছেলেবেলার মতো দুব সাঁতার ? – অথবা চশমা বদলের মতো
    কয়েক মিনিট আলোড়ন ? অথবা গভীর রাত্রে সঙ্গমনিরত
    দম্পতির পাশে শুয়ে পুনরায় জন্ম ভিক্ষা ? কেননা সময় নেই,
    আমার ঘরের
    দেয়ালের চুন-ভাঙা দাগটিও বড় প্রিয় । মৃত গাছটির পাশে উত্তরের
    হাওয়ায় কিছুটা মায়া লেগে আছে । ভুল নাম, ভুল স্বপ্ন থেকে বাইরে এসে
    দেখি উইপোকায় খেয়ে গেছে চিঠির বাণ্ডিল, তবুও অক্লেশে
    হলুদকে হলুদ বলে ডাকতে পারি । আমি সর্বস্ব বন্ধক দিয়ে একবার
    একটি মুহূর্ত চেয়েছিলাম, একটি …, ব্যক্তিগত জিরো আওয়ার;
    ইচ্ছে ছিলো না জানাবার
    এই বিশেষ কথাটা তোকে । তবু, ক্রমশই বেশি করে আসে শীত, রাত্রে
    এ রকম জলচেষ্টা আর কখনও পেতো না, রোজ অন্ধকার হাতড়ে
    টের পাই তিনটে ইঁদুর । ইঁদুর নয় মূষিক ? তা হলে কি প্রতীক্ষায়
    আছে অদূরেই সংস্কৃত শ্লোক ? পাপ ও দুঃখের কথা ছাড়া আর এই
    অবেলায়
    কিছুই মনে পড়ে না । আমার পূজা ও নারী হত্যার ভিতরে
    বেজে উঠে সাইরেন । নিজের দু’হাত যখন নিজেদের ইচ্ছে মতো
    কাজ করে
    তখন মনে হয় ওরা সত্যিকারের । আজকাল আমার
    নিজের চোখ দুটোও মনে হয় এক পলক সত্যি চোখ । এ রকম সত্য
    পৃথিবীতে খুব বেশি নেই আর ।

  3. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    নেট ঘেটে বেশি কিছু পেলাম না, সাথে সময়ের স্বল্পতা ছিল।

    পড়বার জন্য ধন্যবাদ।

levitra 10 mg in holland kaufen

প্রতিমন্তব্যতারিক লিংকন বাতিল

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

cialis british columbia

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

viagra spray side effects
cialis generika per nachnahme kaufen
bula viagra cialis