ভালবাসা- একটি অদ্ভুত অনুভুতির নাম…..

958 about cialis tablets

বার পঠিত

এক.

:- রাতুল, একটু বুঝতে চেষ্টা কর… মাত্র তো অল্প কয়েকটা দিনের ব্যাপার ।
:- হৃদি, তোমার আন্দাজ পর্যন্ত নেই তুমি কি বলছ ।
:- কি এমন বলেছি ? মালিহার সাথে কিছুদিন প্রেমের অভিনয় করবে… এই তো ।
:- কিন্তু আমি তোমাকে ভালবাসি । আমি কেন শুধু শুধু মৃত্যু পথযাত্রী ঐ মেয়েটাকে ধোঁকা দেবো ?
:- এখানে ধোঁকার কথা আসছে কেন ? মেয়েটার ক্যান্সার, ডাক্তার ওর সময় বেঁধে দিয়েছে । বড়জোর মাস ছয়েক বাঁচবে আর । তাছাড়া তুমি তো জানই, মেয়েটা সেই ফার্স্ট ইয়ার থেকেই তোমাকে মনে মনে ভালবাসে । কখনো প্রকাশ করেনি…এই যাহ ! তোমার কি উচিত না জীবনের শেষ কয়েকটা দিন এই মেয়েটার পাশে একটু দাঁড়ানো ?
:- তুমি কি এসব মালিহার জন্য করছ ? নাকি তোমার নিজের জন্য ?
:- দেখো রাতুল… আমাদেরকে বাস্তববাদী হতে হবে । মালিহার বাবার অনেক টাকা, আর মালিহা তাদের একমাত্র মেয়ে । কিছুদিনের মধ্যে সেও মারা যাচ্ছে । এত টাকা তারা কি করবে ? তুমি যদি এই শেষ সময়টাতে মালিহার পাশে থাকো তবে মালিহার মৃত্যুর পর আঙ্কেল সমস্ত সম্পত্তি তোমার নামে করে দেবে । একটু ভাবো রাতুল, আমরা একসাথে কত স্বপ্ন দেখেছি । সব হয়ত পূরণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় । কিন্তু আমরা যদি আঙ্কেলের টাকাটা পেয়ে যাই তাহলে খুব সহজে আমাদের প্রতিটি স্বপ্ন আমরা সত্যি করতে পারবো ।
:- ছিঃ হৃদি ! তুমি এতটা নীচ জানা ছিল না আগে ।
:- সাধু সেজো না রাতুল । তাছাড়া নীচ হওয়ার প্রশ্ন আসছে কেন ? আমি তো এসব আমার নিজের জন্য করছি না । আমি যা করছি সব তো আমাদের জন্যই, আমাদের অপূর্ণ স্বপ্নগুলোর জন্যই করছি ।
:- তাই বলে এভাবে….
:- রাতুল, মানুষ তার ভালবাসার মানুষের জন্য কত কিছুই না করে, তুমি কি আমার জন্য এটুকু করতে পারবে না ? অল্প কয়েকটা দিন ঐমেয়েটার সাথে অভিনয় করতে পারবে না ? এই তোমার ভালবাসার নমুনা ?
:- ভালবাসার দোহাই দিলে ? ঠিক আছে, তবে তাই হবে । আমি কালই মালিহার সাথে দেখা করবো ।
:- থ্যাঙ্কু রাতুল । আলাভু !

নিজের অজান্তেই একটি দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল রাতুলের । কিন্তু হৃদির আতিশায্যে সেটা সে খেয়াল করল না ।

দুই.

:- কি বললে রাতুল ? তুমি আমাকে ভালবাসো ! আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না !
:- বিশ্বাস করো মালিহা, সত্যি বলছি আমি । সেই ফার্স্ট ইয়ার থেকেই তোমাকে ভালবাসি ।
:- কচু । তাহলে বলনি কেন ?
:- সাহস হয় নি । যদি ফিরিয়ে দাও…
:- কিন্তু কোন দিন তো ভালবাসার দৃষ্টি নিয়ে আমার দিকে একটু তাকাও ও নি ।
:- ভয় হত আমার, ভীষণ ভয় হত । তোমার চোখের ঐ গভীরতায় আমি খড়কুটোর মত ভেসে যেতাম । তাই তাকাতে ভয় হত ।
:- আর হৃদি ? ওর সাথে এত মাখামাখি কেন তোমার ?
:- আরে হৃদি ? ধুর ! ও তো আমার স্কুল ফ্রেন্ড । আমরা একসাথে খেলেছি, পড়েছি, বড় হয়েছি । ওর সাথে তো একটু ঘনিষ্ঠতা থাকবেই । তবে ও জাস্ট আমার ফ্রেন্ড । এর বেশী কিছু না ।
:- তুমি সত্যিই আমায় ভালবাসো তো রাতুল ?
:- সত্যি বলছি মালিহা । বল, আমি কি করলে তুমি আমার কথা বিশ্বাস করবে ?

ধীর পায়ে রাতুলের দিকে এগিয়ে এল মালিহা । তারপর আলতো করে রাতুলকে জড়িয়ে ধরল ।

:- কিছু করতে হবে না । তুমি মুখে বলেছ, এটাই যথেষ্ট । আই লাভ ইউ, রাতুল ।
:- লাভ ইউ টু, মালিহা ।

বলার সময় রাতুলের কন্ঠটা একটু কেঁপে উঠল । কিন্তু আনন্দের আতিশায্যে মালিহা সেটা খেয়াল করল না ।

তিন.

ছোট্ট কিন্তু সুন্দর একটা কক্ষ । অসংখ্য যন্ত্রপাতিতে ঠাসা কিন্তু ছিমছাম । কেবিনে একটাই বেড । মালিহা তাতে শুয়ে, পাশে বসা রাতুল । মালিহার শীর্ণ একটি হাত রাতুলের হাতে বন্দি ।

:- রাতুল…
:- হু ।
:- আমি মরে গেলে তুমি আমাকে ভুলে যাবে । তাই না ?
:- চুপ করো তো ।
:- আমাকে তুমি ভুলে যেও রাতুল । টুকটুকে লক্ষী একটা মেয়ে দেখে বিয়ে করো, যে তোমাকে অনেক ভালবাসবে ।
:- তুমি থামবে ?
:- জানো রাতুল, আমার না একটুও মরতে ইচ্ছে করছে না । তোমার সাথে অনেক বছর বাঁচতে ইচ্ছে করছে ।
:- কিচ্ছু হবে না তোমার । আমি তোমার সাথে আছি ।
:- সত্যি বলছ ?
:- হ্যা সত্যি বলছি । আমরা একসাথে অনেক বছর বাঁচব ।
:- জানো রাতুল, আমার না একটা স্বপ্ন আছে ! আমাদের যখন বিয়ে হবে তখন আমাদের এত্তগুলা বাচ্চা হবে । ৬ টা ! তারা সারাদিন আমাদের ড্রয়িং রুমটা মাতিয়ে রাখবে । আমরা অনেক অনেক ভালবাসা দিয়ে তাদের বড় করবো । তাই না রাতুল ?
:- হ্যা তাই । তোমার প্রতিটি স্বপ্ন আমি পূরণ করবো । তোমার কিচ্ছু হবে না । আমি তোমার কিচ্ছু হতে দেবো না । আমার সমস্ত ভালবাসা দিয়ে আমি তোমাকে আগলে রাখবো । তোমাকে কোথাও যেতে দেবো না ।
:- সত্যি বলছ ?
:- হ্যা সত্যি বলছি । এখন বেশী কথা বলো না । লক্ষী মেয়ের মত ঘুমাও ।

মালিহার মাথাটা রাতুল নিজের কোলে নিয়ে জড়িয়ে ধরল । মালিহাও আর কথা বাড়াল না । লক্ষী মেয়ের মত রাতুলের কোলে চুপটি করে শুয়ে থাকল ।

রাতুল এরই ফাঁকে অন্য একটা জিনিস লক্ষ করল । এ পর্যন্ত সে যতবার মালিহাকে ভালবাসি বলেছে, যতবার মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছে- প্রত্যেকবারই তার গলা একটু হলেও কেঁপে উঠেছে । কিন্তু এই প্রথম বারের মত তার গলা কাঁপে নি ।

চার.

:- বাবা রাতুল…
:- জি আঙ্কেল ?
:- মালিহা ছিল আমাদের একমাত্র মেয়ে । আজ সে নেই, কিছুদিন পর আমরা বুড়ো-বুড়িও চলে যাবো । আমার এত প্রপার্টি… কি হবে এসবের ? তাই আমি চাইছিলাম তুমি এর দায়ভার গ্রহণ করো ।
:- না আঙ্কেল । আমি এটা পারবো না ।
:- দেখো বাবা, আমাদের কোন ভবিষ্যত নেই । এক মেয়ের সাথে সাথে আমাদের সব আশা-ভরসা শেষ হয়ে গেছে । কিন্তু তোমার সামনে পুরো জীবন পড়ে রয়েছে । তুমি হচ্ছ সেই ছেলে যাকে এই পৃথিবীতে মালিহা সবচেয়ে বেশী ভালবাসত । তুমি তো আমার ছেলের মতই । আমার মেয়েটা যদি আজ বেঁচে থাকত তাহলে তোমার সাথেই তো তার বিয়ে হত । মালিহাই বলেছিল, তার মৃত্যুর পর সমস্ত সম্পত্তি যাতে তোমার নামে উইল করে দিই ।
:- কিন্তু আঙ্কেল, আমি….
:- তুমি আর আপত্তি করো না বাবা । ধরে নাও, এটাই আমার মালিহার শেষ ইচ্ছে ছিল । আমি উকিল সাহেবকে বলে দিয়েছি । তিনি তোমাকে পাওয়ার অব অ্যান্টর্নির সব কাগজ পত্র বুঝিয়ে দেবেন ।

কাঁপা কাঁপা হাতে রাতুল উইলের কাগজ নিল ।
তার চোখে দুফোঁটা অশ্রু দেখা গেল ।
নাহ ! এ অশ্রু আনন্দের অশ্রু না । এ অশ্রু অভিষ্ট লক্ষ অর্জনের অশ্রু না ।
এ অশ্রু গভীর হতাশার । এ অশ্রু তীব্র কষ্টের…..

পাঁচ.

:- আই লাভিউ… লাভিউ… লাভিউ… রাতুল….!

হৃদি দৌড়ে এসে রাতুলকে ঝাপটে ধরল । কিন্তু রাতুল নিশ্চুপ, নিথর ।

:- কি ব্যাপার ? কোন সমস্যা ?
:- নাহ ।
:- তাহলে মুখটা এমন বাংলার পাঁচের মত করে রেখছ কেন ?
:- এমনি ।
:- আচ্ছা বাদ দাও । আমাদের উদ্দেশ্য তো সফল । এখন বল বিয়েটা কবে হচ্ছে ?
:- হচ্ছে না ।
:- মানে ?
:- মানে খুব সহজ । আমি তোমাকে বিয়ে করছি না ।
:- রাতুল, জোক করো না । আমি কিন্তু সিরিয়াস ।
:- আমি তো সিরিয়াসলিই বলছি ! আমি তোমাকে বিয়ে করছি না ।
:- বাহ ! সম্পত্তি পাওয়ার আগে আমাকে ছাড়া তুমি বাঁচবে না । আর সম্পত্তি হাতে আসতেই আমাকে ভুলে গেলে ?
:- ধরে নাও…. তাই ।
:- রাতুল, ইউ ক্যান্ট ডু দিস টু মি ।
:- আই ক্যান ।
:- আমাকে তুমি ভালবাসো । আমার সাথে এমনটা করতে পারো না তুমি !
:- হৃদি, আমি তোমাকে ভালবাসি না । তোমার প্রতি আমার যে আকর্ষণটা ছিল সেটা হচ্ছে মোহ । মালিহার নিষ্পাপ ভালবাসার সংস্পর্শে এসে আমার সে মোহ কেটে গেছে । বেটার হবে, যদি আমাকে তুমি ভুলে যাও ।
:- একটা কথা শুনে রাখ রাতুল । এই বিশ্বাসঘাতকতার পরিণাম কিন্তু ভাল হবে না । আমি মালিহার আব্বুকে সব বলে দেবো । বলে দেবো যে তুমি সম্পত্তির লোভেই মালিহার সাথে প্রেমের অভিনয় করেছ । তখন তিনি তোমার পাওয়ার অব অ্যান্টর্নি ক্যান্সেল করে দেবেন ।

রাতুল কিছুক্ষণ হৃদির দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকল । তারপর সে হো হো করে হেসে উঠল । হাসতে হাসতেই বলল- তা তুমি করতেই পারো । তবে আমার মনে হয়না তিনি তোমার কথা বিশ্বাস করবেন । কারণ, গত ছয়টি মাস তিনি মালিহার বেডের কাছে আমাকেই পড়ে থাকতে দেখেছেন, তোমাকে নয় !

মুখে হাসির রেশটি ধরে রেখে রাতুল ধীর পায়ে হৃদির দিকে এগিয়ে গেল । কন্ঠে যথাসম্ভব মমতা ফুটিয়ে বলল- হৃদি, তুমি যদি ভেবে থাকো আমি সম্পত্তির জন্য তোমার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি, তবে তোমার ধারণা ভুল । প্রশ্নটা এখানে ভালবাসার, সম্পত্তির নয় !

হৃদির অনুসন্ধানী দৃষ্টির সামনে রাতুল বলে চলল- জানো হৃদি, মালিহা বাচ্চাদের ভীষণ পছন্দ করত । তাদের জন্য সবসময়ই কিছু করতে চাইত । আমার সাথে তো পুরো হাফ ডজন বাচ্চা নেয়ার প্রোগ্রাম বানিয়েছিল সে ! আমি ওকে ভালবাসি । মৃত্যুশয্যায় ওকে কথা দিয়েছিলাম, ওর সব স্বপ্ন আমি পূরণ করবো । তবে ওর এই স্বপ্নটা আমি কিভাবে অপূর্ণ রাখি বল ? এজন্য ওর স্বপ্ন পূরণের চমত্কার একটি ব্যবস্থা করেছি । কি করেছি জানতে চাও ?

:- কি ?
:- “অনির্বাণ” একটি বেসরকারি সামাজিক সংস্থা । এটি পথশিশুদের নিয়ে কাজ করে । তাদের থাকার ব্যবস্থা করে, শিক্ষার ব্যবস্থা করে, জীবিকার ব্যবস্থা করে । মালিহাদের বর্তমান বাড়িটা ছাড়া আঙ্কেলের কাছ থেকে প্রাপ্ত পুরো সম্পত্তিটা আমি অনির্বাণের ডোনেশান ফান্ডে জমা করে দিয়েছি ।
:- রাতুল….!
:- হুম হৃদি । মালিহার জন্য তো আমি কিছু করতে পারি নি । তবে ওর স্বপ্ন পূরণের জন্য এই কাজটা করার সুযোগ আমি হাতছাড়া করতে চাইনি । আঙ্কেলের সামনেই আমি কাজটা করেছি । তারও পূর্ণ সমর্থন ছিল এতে । চাইলে তুমি খোঁজ নিয়ে দেখতে পারো ।
:- রাতুল….
:- হুম । আমি তোমাকে আগেই বলেছিলাম, ব্যাপারটা এখানে ভালবাসার, সম্পত্তির নয় । তবে একটা থ্যাংকস্ তো তুমি পেতেই পারো । তোমার জন্যই তো মালিহার কাছে গিয়েছিলাম । পেয়েছিলাম প্রকৃত ভালবাসার আস্বাদ ।
:- রাতুল আমি….
:- একটা কথা বলব হৃদি ?
:- হুম বল ।
:- ভালবাসা এক অদ্ভুত সম্পর্কের নাম । এটি কখন, কবে, কোথায়, কিভাবে, কার সাথে হয়ে যায়- এটা বোধহয় স্বয়ং স্রষ্ট্রাও জানে না । তাই ভালবাসাকে কখনো চ্যালেন্জ্ঞ করতে নেই । তাহলেই হারতে হয়, হারাতে হয় ।

রাতুল চলে গেল ।
হৃদি একবার পেছন থেকে ডেকে থামানোর চেষ্টা করেছিল ।
কিন্তু রাতুল শোনে নি । রাতুল থামে নি ।
রাতুলরা কখনো থামে না । তারা চলে যায় ।

শেষ.

ড্রয়িং রুমের মেঝেতে রাতুল শুয়ে আছে । তার চারপাশে ছয়টা বাচ্চা, বিভিন্ন বয়সী । তাদের কিচিরমিচিরে পুরো ঘর যেন ছোট্ট এক পাঠশালায় রূপ নিয়েছে ।

রাতুলই ওদের তুলে এনেছে বিভিন্ন অরপানেজ থেকে । এখন রাতুলই ওদের বাবা, রাতুলই ওদের মা । রাতুলের ভালবাসায়ই ওরা বড় হচ্ছে স্বর্গীয় এই ভালবাসার উদ্যানে ।

মালিহা নেই তো কি হয়েছে ? তার স্বপ্ন তো আছে, তার স্মৃতি তো আছে ।
একটাই তো জীবন মাত্র । একা কাটিয়ে দিতে আর কি লাগে ?

(Date: August, 2013)

zithromax azithromycin 250 mg

You may also like...

  1. আসলেই এক অদ্ভুত অনুভূতির নাম ভালোবাসা… :)
    দারুণ লিখেছেন। kamagra pastillas

    cialis new c 100
  2. মাশিয়াত খান বলছেনঃ

    খুবই ভাল লেগেছে। ভয়ও লেগেছে… ভালবাসা এরকম করে হয়???

  3. তারিক লিংকন বলছেনঃ

    কিছু বলব না! অদ্ভুত ভালো লাগায় ভরে গেলো মন…

  4. মালিহা নেই তো কি হয়েছে ? তার স্বপ্ন
    তো আছে, তার স্মৃতি তো আছে ।
    একটাই তো জীবন মাত্র ।
    একা কাটিয়ে দিতে আর কি লাগে ?

    আপনি অসাধরণ লেখক!! ভাই অসাধারণ!! প্রত্যেকটা গল্পই সেই রকমে ভাল!!

    metformin synthesis wikipedia
  5. অস্থির ভাই কি বলবো ভাই।। আসলে ভালোবাসা যে কি সেটা সবাই বুঝবেনা।। accutane prices

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

will metformin help me lose weight fast