গণহত্যা’৭১:কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া কিছু ইতিহাস(পর্ব-০৩)

881

বার পঠিত

স্বাধীনতার ৪৩ বছরে পাল্টে গেছে অনেক কিছুই। বিকৃত হয়েছে এবং হয়ে চলছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসগুলো। এমনকি কালের বিবর্তনে হারিয়েও গেছে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাস।আমাদের জন্য অনেক লজ্জার হলেও সত্যি যে আমরা এতোটাই অকৃতজ্ঞ একটা জাতি যে, নিজেরা বহাল তাবিয়াতে চললেও আমাদের অনেক মুক্তিযোদ্ধা পিতা-মাতা আজ দিনাতিপাত করছে চরম দারিদ্র আর অবহেলার সাথে লড়াই করে।  সেই সাথে আমাদের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর ও বধ্যভূমিগুলো আজো অবহেলায় পড়ে আছে।এমনকি হারিয়ে গেছে, মাটির সাথে মিশে গেছে অনেক গণকবরের স্মৃতিচিহ্ন। বিভিন্ন সময়ে দেশের গুটিকয়েক বধ্যভূমি সরকারি উদ্যোগে চিহ্নিত এবং সংরক্ষণ করা হলেও সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের অগণিত স্মৃতিচিহ্ন এখনও চিহ্নিত করা হয়নি। এর অধিকাংশই এখন নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ১৯৭১ সালে পাকিহানাদার বাহিনীর হাতে নিহত ৩০ লাখ শহীদদের অধিকাংশেরই তখন আলাদা কবরের ভাগ্য জুটেনি। একসাথে একই স্থানে অনেক জনকে হত্যা করে গণকবর দেয়া হয়েছে।  দেশের স্বাধীনতার জন্য বলি হওয়া অসংখ্য শহীদের স্মৃতি ধারণ করে আছে এদেশের অসংখ্য গণকবর এবং বধ্যভূমি। বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের এসব স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষণের অভাবে খোদ রাজধানী ঢাকা এবং এর আশেপাশের ৭০টিরও বেশি বধ্যভূমি নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে। ইতিহাসবিদরা সংশয় প্রকাশ করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা ইতিহাস রক্ষনাবেক্ষণ না করলে একদিন জাতির ইতিহাস থেকে বিজয়ের গৌরব অধ্যায় ধূসর হয়ে যাবে। এ প্রসঙ্গে ইতিহাসবিদ ড. মুনতাসীর মামুন বলেন,

১৯৭১ সালে গোটা বাংলাদেশই ছিল একটা বধ্যভূমি। মানুষকে ধরে নিয়ে যেসব জায়গায় বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা স্মরণ করার জন্যই এগুলো সংরক্ষণ করতে হবে’’

এর আগের পর্ব দুটিতে আমি তুলে ধরেছিলাম বরইতলা, বাবলাবন, পাগলা দেওয়ান এবং চুকনগর বধ্যভূমির কিছু ইতিহাস। এই পর্বে আমি তুলে ধরার চেষ্টা করবো স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকি জানোয়ারদের বর্বরতার অন্যতম সাক্ষী মিরপুরের ২ টি বধ্যভূমির কথা। এই পর্বটিতে রয়েছে মিরপুর বাঙলা কলেজ বধ্যভূমি এবং জল্লাদখানা বধ্যভূমির কিছু ইতিহাস।

বাঙলা কলেজ বধ্যভূমি, মিরপুর 

bg

বাংলাদশে ১৬ ডিসেম্বের ১৯৭১ -এ আনুষ্ঠানিক বিজয় লাভ করলেও ঢাকার মিরপুর হানাদার মুক্ত হয় সবচেয়ে দেরিতে – ৩১ জানুয়ারি ১৯৭২ -এ। মিরপুর এলাকা বিহারী অধ্যুষতি হওয়ায় এখানে হত্যাকান্ডের ব্যাপকতাও ছিল বেশী। মিরপুর ছিল মুক্তিযুদ্ধের শেষ রণক্ষেত্র। বাঙলা কলেজ বধ্যভূমি শুধু মিরপুরেই নয়, বাংলাদেশর অন্যতম একটি বধ্যভূমি।বাঙলা কলেজ একটি সুপরিচিত  শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান। ভাষাসৈনিক প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম ১৯৬২ সালে বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন যা ১৯৬৮ সালে মিরপুরের র্বতমান অবস্থানে স্থানান্তরিত হয়।

১৯৭১ -এ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় সহযোগীরা বাঙলা কলেজে ক্যাম্প স্থাপন করে অজস্র মুক্তিকামী মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।  বর্তমান বিন্যাস অনুযায়ী, কলেজের অভ্যন্তরে বড় গেট ও শহীদ মিনারের মাঝামাঝি প্রাচীর সংলগ্ন স্থানে ১৯৭১-এ পুকুর ছিল এবং হানাদার বাহিনী তার পাশে মুক্তিকামী মানুষ-কে লাইন ধরে দাড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করত। মূল প্রশাসনিক ভবনের অনেক কক্ষই ছিল নির্যাতন কক্ষ। হোস্টেলের পাশের নিচু জমিতে আটকদের লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করা হতো। অধ্যক্ষের বাসভবন সংলগ্ন বাগানে আম গাছের মোটা শিকড়ের গোঁড়ায় মাথা চেপে ধরে জবাই করা হতো, ফলে হত্যার পর এক পাশে গড়িয়ে পড়তো মাথাগুলো, অন্যপাশে পড়ে থাকত দেহগুলো। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় জুড়েই বাঙলা কলেজ ও আশেপাশে নৃশংস হত্যাকান্ড চলেছে, হয়েছে নারী নির্যাতন। কলেজের বর্তমান বিশালায়তন মাঠটি তখন ছিল ঝোপ-জঙ্গলে ভর্তি। বিজয়ের মূহুর্তে তখন এই মাঠসহ পুরো এলাকা ও কলেজ জুড়ে পড়ে ছিল অজস্র জবাই করা দেহ, নরকংকাল, পঁচা গলা লাশ। বিভীষিকাময় গণহত্যার চিহ্ন ফুটে ছিল সর্বত্র।

  laktacidose metformin

জল্লাদখানা বধ্যভূমি,মিরপুর 

মিরপুর জল্লাদখানা বধ্যভূমি, দেশের অন্যতম বৃহত্তর একটি বধ্যভূমি। যেটি এখন একাত্তরে পাকিদের বীভৎসতা আর নৃশংসতার সাক্ষী বহন করে। শরীরের লোমগুলো দাঁড়িয়ে যায় বধ্যভূমিটির প্রবেশমুখে দাঁড়ালে। প্রচণ্ড এক ঘৃণা আর ক্ষোভ কাজ করে ভেতরে। জল্লাদখানা বধ্যভূমি বা পাম্পহাউজ বধ্যভূমি ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বরে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম একটি বধ্যভূমি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক নীরিহ বাঙালিদের নির্যতনের পর এখানেই গণকবর দেওয়া হয়েছিল। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বধ্যভূমিগুলোর একটি।১৯৭১ সালে পাকি জানোয়ারদের সেই  নারকীয় হত্যাযজ্ঞ আর বীভৎসতার ইতিসাস উন্মোচিত হয় ১৫ই নভেম্বর ১৯৯৯ সালে। অর্থাৎ এই দিন থেকেই এই বধ্যভূমিটির উদ্ধারকাজ শুরু হয়।এখান থেকে প্রায় ৭০ টি মাথার খুলি , ৫৩৯২ টি অস্থিখণ্ড এবং শহীদের ব্যবহার্য নানা সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, ১৯৭১ সালে জনবিরল এই এলাকায় একটি পাম্প হাউজ ছিল, যেটিকে পাকিরা বধ্যভূমি হিসেবে বেছে নিয়েছিলো। নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের একের পর এক জবাই করে হত্যা করে কূপের মধ্যে ফেলা হয় তাঁদের মাথা আর দেহকে হেঁচকা টানে ফেলে দেয়া হয় মাটিতে। জল্লাদখানা বধ্যভূমির এই নৃশংসতার চিত্র ছবি ও বর্ণনার মাধ্যমে তুলে ধরলাম  কিছুটাঃ

mmb;

এটা হল জল্লাদখানা বধ্যভূমির প্রবেশদ্বার।

প্রবেশদ্বারেই লেখা রয়েছে-

“কান পেতে শুনি কি বলতে চাইছে জল্লাদখানা বধ্যভূমি’’ এবং “একাত্তরের গণহত্যা ও শহীদের কথা বলবে শতকণ্ঠে জল্লাদখানা বধ্যভূমি স্মৃতিপীঠ’’

কথা দুটি পরে শুরুতেই শরীরে কেমন একটা শিহরন অনুভব করলাম। এরপরে প্রবেশ করলাম বধ্যভূমির ভেতর। viagra billig kaufen deutschland

bgb

এটা হল বধ্যভূমিতে প্রবেশের সিঁড়ি। 

jv

প্রকৃতিগতভাবে বিভক্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বধ্যভূমির মাটি এভাবে আলাদা পাত্রে সংগ্রহ করা হয়েছে এখানে।

প্রতিটি পাত্রের মাটিতে মিশে আছে আমাদের অগনিত শহীদ পিতা মাতার রক্ত,মাংস। আর আমাদের শহীদ পিতা মাতাদের রক্তে মাংসে মিশ্রিত মাটিই হল আমাদের এই জন্মভূমির মাটি।

vfdj

এটি হল ভাস্কর রফিকুন্নবী এবং মনিরুজ্জামান নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ “জীবন অবিনশ্বর’’ 

এত নিছক কোন স্মৃতিস্তম্ভই নয়। এর তাৎপর্য অপরিসীম। একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে যে এখানে ৬ জন মানুষের লাশ রয়েছে; যাদের প্রত্যেকের মাথা থেকে দেহ বিচ্ছিন্ন। কারণ এই বধ্যভূমিতে সবাইকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছিলো। রয়েছে একটি সূর্য, যার মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের সূর্যকে নির্দেশ করা হচ্ছে। স্মৃতিস্তম্ভটির রঙ এর ক্ষেত্রেও রয়েছে এক বিশাল তাৎপর্য। দেখা যাচ্ছে, এর কিছু অংশে রয়েছে প্লাস্টারবিহীন লাল রঙের ইট এবং কিছু অংশ প্লাস্টার করা। এখানে লাল ইটগুলো হচ্ছে লাখ শহীদের রক্তের প্রতীক এবং প্লাস্টার করা অংশটি আমাদের দেশের মানচিত্রকে নির্দেশ করছে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে-লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই ভূখণ্ড, এই মানচিত্র।

mdkbkl

দেয়ালে অংকিত বিভিন্ন সময়ে বিশ্বে সংগঠিত সব গণহত্যার তথ্য এটি। 

vnnb

এটা একটি কূপ। যেখানে লাল রঙ দিয়ে লেখা রয়েছে- “মাথা নত করে শ্রদ্ধা নিবেদন করি সকল শহীদের প্রতি’’  নাহ্‌… কূপ বললে ভুল হবে এটা একটু মৃত্যুকূপ।

এরকম ২ টি কূপ রয়েছে বধ্যভূমিতে। এই কূপের মুখে মাথা রেখে “আল্লাহ আকবর’’ বলতে বলতে এক নিমিষের জবাই করা হতো নিরীহ বাঙালিদের কে। মাথাটা গিয়ে পড়তো কূপের ভেতর আর দেহটাকে রাখা হতো আলাদা স্থানে। জানা যায়, জবাই করতে করতে একটি কূপ ভরে ফেলার পর পাশেই আরেকটি কূপ তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে সেই কূপটিও পূর্ণ হয়ে যায় মাথার খুলিতে।

bvkbv

কালো পাথরে ঢাকা এই স্থানটি হচ্ছে সেই স্থান যেখানে মাথাবিহীন দেহগুলোকে রাখা হয়েছিল স্তুপ আকারে। 

nbg

বধ্যভূমির মাটির নিচ থেকে উদ্ধারকৃত শহীদের ব্যবহার্য সোয়েটার, জুতা, তজবি সংরক্ষিত রয়েছে এখানে। পেছনের দেয়ালে টানানো রয়েছে উদ্ধারকৃত মাথার খুলির ছবি। 

vnnj

সেই কূপ আর কালো স্থানটি যেই ঘরে রয়েছে সেই ঘরের প্রবেশমুখে রয়েছে এই ঘণ্টাটি।

এই ঘণ্টাটি মূলত একটি প্রতীকী ঘণ্টা। বলা হয়ে থাকে, যখন এই ঘণ্টাটিকে আমরা স্পর্শ করি, যখন আমাদের স্পর্শে এই ঘণ্টার ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয় তখন আমাদের নতুন প্রজন্মের আত্মার সাথে এক অদৃশ্য সম্পর্ক স্থাপন হয় আমাদের শহীদ পিতাদের আত্মার। তাঁরা আমাদের কে জানান দেয় তাঁদের অদৃশ্য উপস্থিতি। তাঁরা সাক্ষী দেয় একাত্তরে পাকিদের নির্মমতার।

মিরপুর জল্লাদখানা বধ্যভূমির উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিলাম এখানে। তাছাড়াও সেখানে রয়েছে সারাদেশের সকল বধ্যভূমির নাম, যেসব শহীদের পরিচয় পাওয়া গেছে তাঁদের নাম এবং জীবনী।

যারা মিরপুর কিংবা ঢাকায় রয়েছেন তাঁদের কাছে আমার অনুরোধ সারাদিনের সকল কর্মব্যস্ততার মাঝ থেকে মাত্র ২ ঘণ্টা সময় নিয়ে ঘুরে আসবেন জল্লাদখানা থেকে। অন্তত্য কিছুটা হলেও তাহলে অনুভব করতে পারবেন পাকিদের নির্মমতা আর আমাদের শহীদের ত্যাগকে।

[চলবে... ]

১ম পর্বঃ- http://sovyota.com/node/3335

২য় পর্বঃ- http://sovyota.com/node/3491

তথ্যসূত্রঃ-

 

 

 

viagra tablets for sale in pakistan

You may also like...

  1. মাশিয়াত খান বলছেনঃ

    অসাধারণ একটী পোস্ট… আগের দু’টি পর্ব যদিও পড়া হয়নি। পড়ে নিব

  2. অংকুর বলছেনঃ

    মিরপুরের জল্লাদখানা বদ্ধভূমিটি দেখার শুযোগ হয়েছে। অসাধারণ এই পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ

  3. অনেক তথ্যবহুল এবং অসাধারণ পোস্ট টির জন্য ধন্যবাদ আপু। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস এভাবেই বারবার ফিরে ফিরে আসবে আমাদের সামনে। শুনিয়ে যাবে রক্তাক্ত ইতিহাসের ঘন্টাধ্বনি।

  4. শঙ্খনীল কারাগার বলছেনঃ

    2.5 mg cialis daily

    চমৎকার কাজ করেছেন ফাতেমা। ধারাবাহিক তথ্যচিত্র সম্বলিত পোস্ট। অসাধারণ ভাল হয়েছে। পিছনের পোস্ট দুটো সময় করে পড়ে নেবো। আর চতুর্থ পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। kanamycin ampicillin

  5. অংকুর বলছেনঃ

    যখন কেউ বলে, “রাজাকাররা কি করছে এইটা নিয়ে এত চিল্লাফাল্লা কেন? “ইচ্ছা হয় ওইগুলার পিছন দিকে……

  6. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    এই ঘণ্টাটি মূলত একটি প্রতীকী ঘণ্টা। বলা হয়ে থাকে, যখন এই ঘণ্টাটিকে আমরা স্পর্শ করি, যখন আমাদের স্পর্শে এই ঘণ্টার ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয় তখন আমাদের নতুন প্রজন্মের আত্মার সাথে এক অদৃশ্য সম্পর্ক স্থাপন হয় আমাদের শহীদ পিতাদের আত্মার। তাঁরা আমাদের কে জানান দেয় তাঁদের অদৃশ্য উপস্থিতি। তাঁরা সাক্ষী দেয় একাত্তরে পাকিদের নির্মমতার।

    পড়লাম পোস্টটি আর জল্লাদখানাবধ্য ভুমিতে গিয়েছিলাম… generic vardenafil canadian pharmacy

প্রতিমন্তব্যফাতেমা জোহরা বাতিল

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন * media tableta de viagra

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

silagra 100 wikipedia

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

viagra online kaufen mit paypal bezahlen
cipro cause c diff