দুই প্রতারক

448

বার পঠিত

১.||……………
“না..না..না.. ইমপসিবল, এ আমার দ্বারা কিছুতেই সম্ভব না, তুমি ভাবলে কি করে মাত্র ১ লাখে আমি ওই বিজ্ঞাপনে কাজ করবো, আশ্চর্য্যওওও”, গলাখানা কিঞ্চিৎ উচুঁ করেই ননস্টপ এভাবেই ফোনে কাউকে ঝারি মেরে যাচ্ছিলেন মডেল শুমু। অপর প্রান্তে কে আছে বোঝা মুশকিল তবে এ প্রান্তে শুমু ছাড়াও আরো এক ব্যাক্তি যে উপস্থিত তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। হালকা ক্রোধ সহযোগে গলার স্বর খানিকটা উঁচু করে বলা কথাগুলো ফোনের ওপ্রান্তের বদলে এপ্রান্তের লোকটাকে শুনিয়ে ভালোমতো শক লাগিয়ে দেওয়ার প্ল্যান মোটামুটি সাকসেসফুল। পাশের সোফায় বসে অবাক বিস্ময়ে হা করে সেল্ফ ক্লেইমড সুপারস্টরের কথা শুনে চলেছে সে। উদাস বদন ও চোখ মুখের চাহনি দেখে অনুমান করা যায় নার্ভাস ফিল করছেন তিনি। কিন্তু সে জানেনা ফোনে বাতচিতে রত ত্রিশ ছুই ছুই রমনীটির আসল নাম সানজিদা সুলতানা সুমা। বরাবরই নিজেকে এদেশীয় ফ্যাশন ওয়ার্ল্ডের একজন পুরোনো মডেল শুমু হিসেবে পরিচয় দেয়া মেয়েটিকে স্থানীয় এলাকাবাসী অনেকেই ডাকে চাচী চাপাবাজ বলে।(যে অল্পসংখ্যক জনগণ তার সম্পর্কে অবগত)।

শহুরে কিংবা আধ শহুরে মানুষগুলো ঝলক দেখতে খুব বেশি পছন্দ করে, উপরের চাকচিক্যময় মোহগুলো তাদেরকে চুম্বকের ন্যায় আকর্ষণ করে, উপরের দিকটা দেখেই তারা ভেতরের ব্যাক্তিত্বটাকে ধরে ফেলতে চায়। ভালো উচ্চবিত্ত কিসিমের পোশাক, বিদেশী গল্প, সাজসজ্জা, টিপিক্যাল রাজধানী মেয়েগুলোর মত ন্যাকামী ভরা বাংলিশ, আর সাথে কিছু চাপাবাজীর সুনিপুণ সংমিশ্রণ একটা শিকার কে কুপোকাত করার জন্য অনেকটাই যথেষ্ট বলে ধারণা শুমুর।

তার এই সুক্ষ্ম ধারণারগুলোর পেছনের কারিগর হচ্ছে তার বয়ফ্রেন্ড তছু, পুরো নাম কাজী মোহাম্মদ তাসিন হোসেন। বয়স তেত্রিশ। যে শুমুর এইসব অনৈতিক কাজের নির্ভরযোগ্য সহযোগী। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও স্বামী স্ত্রী পরিচয় টা অধিকাংশ সময় গোপন রাখতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করে তছু ও শুমু উভয়েই। এতে নাকি অনেক সময় জায়গামতো অনেক উপকার পাওয়া যায়।

তছুর অনেকগুলি কু-স্বভাবের মধ্যে অন্যতম একটা হচ্ছে, ফেসবুকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে মেয়ের নাম নিয়ে ফুল-লতা-পাতা কখনো বা অন্য মেয়ের ছবি ব্যাবহার করে একের পর এক আইডি খোলা। তার লাইক পেতে খুব ভালো লাগে। জেন্ডারে ফিমেল দেখলে নাকি এক শ্রেণীর মানুষ বেশি লাইক দেয়। মাঝেমধ্যে অটোলাইকও ব্যাবহার করে সে। হামেশা মেয়ে হয়েই চ্যাট করে যায় ফেইসবুকারদের সাথে। ফোনে দুই একবার শুমু তার মিষ্টি কন্ঠ শুনিয়ে দিলেই অনলাইন শিকার টা ধরেই নেয় মেয়ে আইডি, এবার কোনমতে ফাঁদে ফেলতে পারলেই হয়। ব্যাস, কেল্লাফতে। এইতো সেদিন এক বড়লোক বালকের পকেট কেটে ৫০০০ খসিয়েছে সে। মাঝেমধ্যে সাহায্যের নামে কিছু চাইলেও অনেকেই নিরাশ করে না।

শুধু অনলাইনে কেনো, অফলাইনেও কম যায় না শুমু-তাসু জুটি। মাসখানেক আগে এক লোকের ৯৫ হাজার টাকা ও এক ছেলের দামী বাইক হাতিয়ে নিয়েছে শুমু। অনলাইনে যেমন তছু সামনে থেকে এক একটা মিশন কিংবা অপারেশনে নেতৃত্ব দেয়, অফলাইনে সেটা সম্পূর্ণ ই ব্যাতিক্রম। এখানে তছু নেতৃত্ব দেয় একদম পেছন থেকে, সে থাকে খোলসবন্দী, প্রয়োজনমতো বিভিন্ন রুপে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে সে। অন্যদিকে সামনে থাকে শুমু, সেই শিকার গুলো কে তার চাপার জোরে বাগিয়ে নিয়ে আসে, এবং সুযোগ বুঝে দেয় চম্পট।

আজকাল নেশার চাহিদাটাও কেমন যেন বড্ড বেশি বেশি লাগে, যত পাই আরো চাই মতো অবস্থা তাদের। একদিন নেশা না করলে হাত – পা সমস্ত শরীর কেমন ঘামতে থাকে, শরীরের ভেতরটায় কেমন যেন খাঁ খাঁ করে আর কামড়াতে থাকে। তাই দরকার নেশা। আর তার জন্য প্রয়োজন টাকা। চুরি, ছিনতাই, ব্ল্যাকমেইল, যা কিছু করেই হোক তাদের অনেক অনেক টাকার প্রয়োজন। এজন্য তারা যেগুলো তে রিস্ক সচরাচর কম সেগুলোই করতে থাকে। কিন্তু এটা তারা ভালোভাবেই অবগত যে রিস্ক যতো বেশি আয় তত বেশি।

এদিকে প্রচুর ধার করা হয়ে গেছে, পাওনাদার রা রীতিমতো হুমকি দিচ্ছে, কিন্তু প্রতিবারই কথার কৌশল আর মিথ্যার মারপ্যাচে বোনা জাল একটা সরু গলি বানিয়ে ঠিকই বের করে আনে তাদের।

বছর তিনেক ধরে এই কাজগুলো করতে করতে এখন অনেকটাই পাকাপোক্ত তারা। তারপরও মাঝেমধ্যে ভুল হয়ে যায় তাদের, এই যেমন গত সপ্তাহে বড়লোকের এক ছেলেকে কিডন্যাপ করার কথা থাকলেও সামান্য একটা ভুলে ব্যার্থতায় পর্যবসিত হয় সমস্ত পরিকল্পনা।

কিন্তু এবার আর মোটেই কোনরকম ভুল করতে চায় না শুমু, সে বন্দুকের গুলির মতো কথা চালিয়ে যাচ্ছে ফোনে, এদিকে সোফায় বসে থাকা লোকটা তা শুনছে …

“শোনো, তুমি তো আমাকে ভালো মতো চেন, তাই না, এই মডেল শুমু এককথার মানুষ, দুনিয়া উল্টে গেলেও তার কথার কখনো হেরফের হয় না, আমি বলছি সব বাড়তি খরচ সহ ৫ লাখ চাই, সেখানে কিছু কম করতে পারো…..এই একটু হোল্ড করো..নয়তো কয়েক মিনিট পরে ফোন দাও”..

ফোন রেখেই শুমু এগিয়ে যেতে থাকলো সোফায় বসা লোকটার দিকে। হালকা জীর্ণশীর্ণ পোশাক ও আধছেড়া স্যান্ডেল সজ্জিত লোকটাকে নিতান্ত বোকাসোকাই ধরে নিলো শুমু। রুমে গিয়ে একরকম বাজখাই গলাতেই চেচামেচি আরম্ভ করে দিলো এবং বিরতিহীন ভাবে ডাকতে থাকলো, “দারোয়ান, এই দাড়োয়ান, বুয়া, বুয়া, ম্যানেজার…আশ্চর্য্য, একটাকেও কাজের সময় পাওয়া যায় না, কাকে না কাকে বাড়িতে ঢুকিয়ে বসে আছে?” এমন সময় রুমের ভেতর ম্যানেজারের প্রবেশ..

“জ্বি, ম্যাডাম, বলুন, কিছু লাগবে” pastilla generica del viagra

“হ্যাঁ, লাগবে, বাইরে থেকে একটা কুড়াল এনে আমার মাথায় চোট দাও, একে তো মাত্র দুদিন হলো পোল্যান্ড থেকে ফিরলাম, পরের সপ্তাহে আবারো যেতে হবে ওখানে শ্যুটিংয়ে, তার মধ্যে বাড়ি ফিরে যদি দেখি তোমাদের এমন অত্যাচার, কোনো কাজের ঠিক নাই, কাউকে সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না, তাহলে কার মেজাজ টা ঠিক থাকে?? স্টুপিড একেকটা, পয়সা দিয়ে তোমাদের রেখেছি কি ছাগলের ঘাস কাটার জন্য?”

“সরি, ম্যাডাম, পেট ভীষণ খারাপ করেছে, বারবার যাওয়া আসা করতে করতে অবস্থা কাহিল, তাই একটু … আপনার কি লাগবে বলেন এনে দেই”, মাথাটা চুলকালো ম্যানেজার। (এবার তছু ম্যানেজারের রুপ নিয়ে সামনে এসেছে, তবে তার পেট খারাপ হওয়ার ঘটনা সত্য)

“আহ্, তোমাদের নিয়ে পারিনা, এত দামী দামী খাবার থাকার পরও তোমরা যদি বাসি পচা খাও তাহলে তো টয়লেট গলায় ঝুলিয়ে নিতেই হবে, তোমাদের কি আমি কিছুর কমতি রাখছি ”

এই বলে তার ব্যাগ থেকে একটা কড়কড়ে ১হাজার টাকার নোট বের করে দিলো শুমু এবং বলল,

“যাও, এটা দিয়ে যা ঔষধ পত্র কেনার, চিকিৎসা লাগলেও করিয়ে নাও তাড়াতাড়ি, আমি জাস্ট এইসব টলারেট করতে পারছি না, আর এটা কাকে এনে ঢুকিয়েছো রুমে, বলা নেই কওয়া দেই, রুমে ঢুকতে দিলে।” cd 17 clomid no ovulation

“ছরি, ম্যাডাম, আমার পেট খারাপ ছিলো তাই, ভুল হয়ে গেছে, আর হবেনা”

এমন সময়, তছু কে হঠাৎই তার পেটে হাত দিয়ে কোঁকাতে দেখা গেলো, এবং শুমুর প্রায় কাছাকাছি থাকায়, শুমু তার পেটের ঘড়্ঘড়ড়ড়..ঘড়ড়র..টাইপের বিদঘুটে শব্দ শুনতে পাচ্ছিলো, সম্ভবত তখনো পেটে অদ্ভুত কোনো কিছুর বিক্রিয়া চলছে। এমতাবস্থায়..তছু কিঞ্চিৎ চেঁচিয়ে উঠলো,

“উহু.হু.হু.হু, ম্যাডাম, আমার অবস্থা প্রচন্ড খারাপ, ভেতরে মোচড় দিতেছে, এক্ষুনি যেতে হবে, নয়তো এখানেই কাপড় চোপড় নস্ট হয়ে যাবে”,

“যাও, যাও, যাও, তাড়াতাড়ি দূর হও আমার চোখের সামনে থেকে, খাচ্চর কোথাকার”, নাক চেপে ধরে, একরকম রাগে দাঁত কটমট করতে করতে বললো শুমু।” acheter cialis 20mg pas cher

(পরে গলা খানিকটা নিচু করে বললো, “উফফফফফফফফ, পেট খারাপ হওয়ার আর সময় পেলোনা, প্ল্যান মাঠেমারা না গেলে হয়”)

এদিকে তছু প্রচন্ড গতিতে দিলো এক ভো-দৌড়, তার এ দৌড় দেখে গতিমানব উসাইন বোল্টও নির্ঘাৎ কচু গাছের সাথে ফাঁস দেওয়ার চিন্তা করতো। তছুর গন্তব্য এখন টয়লেট। তবে গন্তব্যে পৌছনোর পূর্বেই তার কাপড় চোপড় নস্ট হয়েছিল কিনা তা জানা যায় নাই। silnejsie ako viagra

তছুর চলে যাবার পর, খানিকটা রাগ নিয়েই লোকটার নিকট এগিয়ে গেলো, শুমু.. pills like viagra in stores

“এক্সকিউজ মি কি চাই এখানে”

উত্তরে মৃদু হাসিমুখে অনেকটা নমনীয় স্বরেই জবাব দিলো লোকটা, “আফা, আমি মোহাম্মদ আবুল কাশেম, ঐ যে সেদিন আমাকে এফ ডি সি তে কাজ দেওয়ার কথা বলেসিলেন” online pharmacy in perth australia

“কোনদিন?, আমি তো আপনাকে আগে কোথাও দেখেছি বলে তো মনে পড়ে না “, অনেকটা তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতেই বললো শুমু।

“আফা, ঐ আমি সেদিনও আপনার বাড়িতে এসেছিলাম, আপনি বলেছিলেন, আজ পোল্যান্ড যাবো ৪/৫ দিন পরে আসো”

“ওওও, আচ্ছা, আপনি? কিন্তু আমার হাতে একদম ই সময় নেই, কি বলবেন তাড়াতাড়ি বলুন?” is viagra safe for diabetics

“আফা, আমার একটা চাকরির খুব দরকার, যদি এফ ডি সি তে একটা ব্যাবস্থা করে দিতেন”

“সেদিন কবে কখন বলেছিলাম কে জানে?, চাকুরী কি ছেলের হাতের মোয়া নাকি গাছে ধরা আম যে চাইলেই গাছ থেকে পেরে দিলাম” buy viagra alternatives uk

“না, প্লিজ, আফা, আপনি বলেছিলেন, চাকরি হবে, সেদিন আপনার ম্যানেজার এই বলে আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকাও নিয়েছে, এখন আপনি কিছু একটা করেন আফা”, কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো লোকটি।

“উফফফ, এই আপনাদের নিয়ে পারিনা, পরশু রাতে আমার পোল্যান্ডের ফ্লাইট, এদিকে আজকে আমার হাজারখানেক ইউরো গচ্চা গেছে। তাছাড়া, শ্যুটিং নিয়ে এমনিতেই আছি মহা টেনশনে, তারমাঝে আপনাদের যন্ত্রণা, আহ্, আচ্ছা শুনুন, চাকরি তো সবাই চায়, কিন্তু সবাই কি পায়?? পায় না। বড় সাইজের মানিব্যাগওয়ালারাই চাকুরী পায়, তা আপনার মানিব্যাগে জোর আছে তো??”

এসব শুনে লোকটার করুণ মুখখানা আরো করুণ হয়ে গেল। সে বললো,

“তারমানে?? কি, আমায় টাকা দিতে হবে??”

“এই তো বুঝে ফেলেছেন?, একটু হেসে বললো শুমু।

“কি পরিমাণ খরচ হতে পারে? যদি একটু বলতেন?”

“ধরে রাখুন, তা প্রায় লাখ তিনেক তো লাগবেই, আরে আরো বেশি লাগতো, শুধুমাত্র আমার এই নামটা আছে, এর জন্যই মনে করুন আপনার দু লাখ বেচে গেলো”

“কিন্তু আফা, আমাকে বেচলেও ১ লাখ টাকা আনা সম্ভব না, সেখানে ৩ লাখ কিভাবে দিবো?”

“যে করেই হোক দিতে তো হবেই, এতো ভালো চাকরি পাচ্ছেন আর কিছু দেবেন না তা কি করে হয়?” bird antibiotics doxycycline

“আফা, আমি সবকিছু বেচে ৮০/৯০ হাজারের মতো দিতে পারবো”

“তাহলে আর কি, আমি ভাবছিলাম, অন্তত দু আড়াই লাখ বলবেন, আপনি তো এমন বলছেন যেন কাচের দামে হীরে কিনতে চাইছেন, ওকে বিদায় নিন, আমি বোধহয় আর পারলাম না আপনার উপকার টা করতে” lasix tabletten

এরপরও লোকটি অনেক কাকুতি মিনতি করলো কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হলো না, মডেল কন্যার পাথর হৃদয় গলে নি। তাই এবার লোকটা ব্যাথাতুর হৃদয়ে দরজার উদ্দেশ্যে হাটা ধরলো,..

“অন্তত দেড় লাখ হলেও বইলেন কিন্তু”, পেছন হতে চেঁচালো শুমু।

কিন্তু লোকটা আর পেছনে ফিরে না তাকিয়েই দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে ধীর পায়ে হেঁটেই চলল। এদিকে শুমু মনে মনে ভাবলো, বাড়াবাড়ি টা বোধহয় একটু বেশিই হয়ে গেলো। নাহ্, এভাবে হাতে আসা শিকার, একদম কাছ থেকে চলে যেতে দেয়া উচিৎ হবে না।

লোকটা ততক্ষণে একদম দরজার কাছে পৌঁছে গেছে, হঠাৎই পেছন থেকে ছুটে গিয়ে লোকটার পথ রোধ করলো শুমু এবং অনেকটা নমনীয় স্বরে বললো, “শুনুন, আমার বাসা হতে আমি কখনোই কাউকে খালি হাতে ফিরতে দেই নি, আমি চাইনা আপনিও ফিরে যান। ১লাখ দিতে পারবেন তো?? নাকি এবার তারও ক্ষমতা হবেনা?”

লোকটা স্মিত হেসে বললো, “পারবো”

লোকটার হাসিতে নিশ্চিতভাবে কিছু একটা পাওয়ার আনন্দ ছিলো। অদ্ভুত রহস্যময় সে হাসি।

“ওকে, তো কবে টাকা জমা করছেন”

“আজই, ঘন্টা তিনেক পর”, হাসি হাসি মুখ করে বললো লোকটা।

“এতো তাড়াতাড়ি, বেশ ভালো”

“আগে থেকেই জোগাড় করে রাখা ছিলো অনেক টা”

২.|||||…………

৩ ঘন্টা পর …>>>

লোকটা একটা ব্যাগ হাতে হাজির হলো..

“টাকা সব ঠিকঠাক মতো এনেছেন তো”

“গুনে দেখুন”

“ম্যাডামের টাকা গোণার অভ্যেস নেই”, পাশ থেকে ছোঁ মেরে টাকার ব্যাগটা নিয়ে নিলো তছু।

“আপনার পেটের অবস্থা এখন কেমন, ম্যানেজার সাহেব”, অনেকটা ঠাট্টার সুরেই জিজ্ঞেস করলো লোকটি।

কিন্তু একরকম বিনা উত্তরেই ব্যাগটা বগলদাবা করে সিড়ি বেয়ে দ্রুতপদে উপরে চলে গেলো তছু।

“আফা, টাকা তো জমা হলো, এবার তাহলে আমার চাকুরী টা??” clomid dosage for low testosterone

“আহ্, থামুন তো, এতো অস্থির হলে হয়। হবে, হবে ধৈর্য্য ধরুন হবে।”

“কিন্তু, আমার অতি দ্রুতই এই চাকরি টা দরকার”

শুমু তাচ্ছিল্যের সুরে উত্তর দিলো, “ঠিক আছে, কাল সকালে আসুন একবার, দেখি যদি কিছু করা যায়”

পরদিন সকালে ………

কলিং বেল বাজতেই দরজা খুলে দিলো বাড়ির কাজের বুয়া। ভেতরে গেস্ট রুমে কিছুক্ষণ বসে থেকে শুমুুর দেখা পাওয়ার আশায় চারপাশে চোখ ঘুরাতে লাগলেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই দর্শন মিললো শুমুর।

“আফা, আমি এসেছি, ঐযে আমার চাকুরী টা”

“ওওও..হ্যাঁ, কিন্তু যেখানে আপনাকে নেয়ার কথা ছিলো উনি তো বাসায় নেই”

“কিন্তু, ম্যাডাম, আপনি বলেছিলেন, আজকেই কোন একটা ব্যাবস্থা করে দিবেন” ampicillin working concentration e coli

“আহ্? কথা বুঝেন না কেনো? যান, পরে আসবেন, পরে দেখি কি করতে পারি, আমি এখন একটু ব্যাস্ত”, বেশ ধমকের সুরেই বললো শুমু।

“আফা, আমি বহু কস্টে টাকাগুলো যোগাড় করেছি, চাকরীটা না হলে পথে বসবো”

হঠাৎই তছুর প্রবেশ..

তছু দাঁত মুখ খিঁচিয়ে অনেকটা নির্দয়ভাবে বললো, “এই যে, মিয়া, কথা বুঝেন না?? আপনাকে ম্যাডাম বললো, যে উনি এখন ব্যাস্ত, তারপরও প্যান প্যান করছেন কেনো, বিদায় হোন এখন??”

“ঠিক আছে, চাকুরী না দিলে তাহলে আমার টাকা ফেরত দিন”

“আশ্চর্য !! এ লোক তো দেখছি নাছোড়বান্দা, একদম ই কথা শুনছে না, এইযে আপনাকে পরে আসতে বললাম না”, বললো শুমু

“না, আমি আজই চাকরি চাই”

“তর চাকরি দিচ্ছি!, খাড়া তুই”, এবার রেগে গেল তছু।

“ম্যানেজার, তুমি আমার সাথে আসো, এই লোকের সাথে খামোখা তর্ক করে লাভ নেই, বরং ড্রাইভার কে গাড়ি টা বের করতে বলো আর বুয়া কে রুম লক করতে বলে দাও, একটু বাইরে যাওয়া দরকার”

“কিন্তু ম্যাডাম, ড্রাইভার তো নেই, বাইরে গেছে, আর গাড়িও নস্ট, তাই ট্যাক্সি করেই যেতে হবে।”

“আচ্ছা, ঠিক আছে, চলো।”

এদিকে নাছোড়বান্দা ভদ্রলোক তার চাকুরী চেয়েই যাচ্ছে, কখনো ফেরত চাচ্ছে তার টাকা। কখনো কখনো দাঁত মুখ খিঁচিয়ে গালি দিচ্ছে তছু, একবার গায়ে হাত তুলতে তুলতেও তুললো না। হাতে দুটো স্যুটকেস হাতে বেরিয়ে সিড়ি বেয়ে নিচে নামলো শুমু ও তছু। এবং তছু একটা গুন্ডা মার্কা হাসি দিয়ে বললোঃ

“এই যে এখনো আপনি যান নি, আচ্ছা আমরা বাইরে যাচ্ছি, আপনি প্যান প্যান না করে পারলে বাড়ি গিয়ে ঘুম দেন, অনেক কাজে লাগবে”

“আপনারা যাওয়ার আগে আমার টাকা টা ফেরত দিয়ে যান”

“টাকা?? কিসের টাকা? কার টাকা? কে দিসে? কাকে দিসে? কখন দিসে? কোনো প্রমাণ আছে?? নাই। হেহেহেহেহ। অতএব চাকুরীর জন্য অপেক্ষা করুন, নয়তো গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার আগে কেটে পড়ুন।, তছু এই কথাগুলো বলে শুমু কে সঙ্গে নিয়ে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দরজার দিকে পা বাড়ালো…হাঁটতে লাগলো তারা..

কিন্তু আচমকাই একটা ভারী মতন গলার চিৎকার তাদেরকে থামতে বাধ্য করলো,

“স্টপ, আই সেইড স্টপ। টাকাগুলো ফেরত দিয়ে যান”

একটা উজ্জ্বল কালো রঙের রিভলবার উঁচিয়ে সেই লোকটিই বলে চলেছে কথাগুলো। মুখে মৃদু হাসি। চাকরি না পাওয়ার কষ্টের ছাপটা এখন আর তার চোখেমুখে নেই।

নিজেদের কে রিভলবারের নলের সম্মুখে দেখে, বিস্ময়ে হতবাক বনে গেল দুই প্রতারক। মাত্র কিছুক্ষণ আগের দুজনের মুখের অট্টহাসির জায়গাটা দখল করে নিয়েছে এক অজানা শংকা আর তীব্র উতকন্ঠা।

লোকটি আর তাদের মাঝখানের দুরত্ব, মাত্র আড়াই মিটার। রীতিমতো ভয়ে কাপছে তারা। এবার রিভলবারটা নামিয়ে একটা বিশাল অট্টহাসি দিয়ে লোকটি বললোঃ

“শক লেগেছে তাই না?? হাহাহাহাহা। লাগারই কথা। আপনারা নকল, ঐ টাকাগুলোও নকল কিন্তু এই রিভলবার টা আসল। একটু এদিক সেদিক হলেই দুটো বিচি ঢুকে যাবে একদম জায়গামতো। তাহলে আর কেনই বা গোপন করা, পরিচয় টা এবার তাহলে দিয়েই দিই আপনাদের। আমি মোহাম্মদ আবুল কাসেম নই, আমি আব্দুল্লাহ আল নাজিম, স্থানীয় থানার সাব ইন্সপেক্টর। আপনাদের খাতির যত্ন করতে আরো পুলিশ আসছে, সিগন্যাল গিয়েছে।”

চরম বিস্ফারিত চোখে তছু বললো, “আপনি তাহলে পুলিশের লোক, কিন্তু এখানে এভাবে চাকুরী চাইছিলেন কেন?” crushing synthroid tablets

এমন সময় দরজা দিয়ে হালকা অস্ত্র সজ্জিত ৮জন পুলিশ ও ৫জন মহিলা পুলিশ প্রবেশ করলো। সাথে কয়েকজন ক্যামেরা ক্রু ও ক্যামেরাম্যানসহ একজন রিপোর্টার। বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে গেল শুমু ও তছু।

এবার লোকটি(পুলিশ) বললো, “বলছি, প্রায় বহুদিন যাবৎ আপনাদের সম্পর্কে প্রতারণার বহুরকমের অভিযোগ আসছিলো। সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেলের অপরাধ অনুসন্ধানমূলক প্রোগ্রামের একটি দল বিষয় টি আমাদের নজরে আনে, অনুসন্ধানে আপনাদের নানাবিধ অপকর্মের অভিনব সব কৌশল ও কাহিনী আমাদের সামনে আসে। ওসি সাহেবের নির্দেশে আমরা সপ্তাহখানেক আগেই, এসব কিছু পরিকল্পনা করি। পুলিশ সবসময়ই আপনাদের আশেপাশেই ছিলো। আপনাদের সাথে আমার যা কিছু হয়েছে, টাকা প্রদান, কথা বার্তা থেকে শুরু করে প্রায় সবকিছুই আমার কাছে থাকা এই গোপণ ক্যামেরায় রেকর্ড হয়েছে। এবং আপনাদের হাতে নাতে ধরতে পারা গেছে। আশা করছি রিমান্ডে নেয়া হলে বাকি সমস্ত অপকর্মের তথ্য বেরিয়ে আসবে।” cialis 20 mg prix pharmacie

এই মূহুর্তে, তছু ও শুমুর সমস্ত শরীর ঠান্ডা হয়ে আসছে। হাত পা ভয়ে কাঁপছে। অসাড় হয়ে থাকা পা গুলোও নড়তে চড়তে চাইছেনা। চারদিকে শুধুই অন্ধকার দেখছে তারা। তারা জানে যে তারা ধরা পড়ে গেছে। পালাবার আর কোনো পথ নেই। কাছেই থাকা সাংবাদিকটা ক্যামেরাম্যান কে সাথে করে এবার এগিয়ে গেলেন তাদের দিকে ..

রিপোর্টারঃ “আচ্ছা আপনাদের এইসব প্রতারণার মধ্যে লিডারের দায়িত্ব পালন করতেন কে?”

“আমি, তবে মাঝেমাঝে ও(তছু) সবকিছু পরিকল্পনা করতো”, অনেকটা বিমর্ষভাবে উত্তর দিলো শুমু।

রসিক রিপোর্টার এবার প্রশ্ন করলো, “আচ্ছা, আমি শুনলাম অনেকেই নাকি এখানে আপনাকে চাচী বা চাচী চাপাবাজ বলে ডাকে বলে ডাকে, এটা কেনো? আপনি কি খুব বেশি চাপাবাজি দেন বা মিথ্যা বলেন এজন্য, নাকি আপনার বয়স একটু বেশি এজন্য”

“আমি জানিনা”, চটপট উত্তর দিলো শুমু।

“আচ্ছা, আপনারা যে অনলাইনে প্রতারণার আশ্রয় নিতেন, কাজগুলো কিভাব করতেন, এব্যাপারে কিছু বলুন?”

“আমি, ফেসবুক তেমন একটা চালাই না, এই কাজগুলো ও(তছু) করতো”, বললো শুমু।

তছুর দিকে ইঙ্গিত করে সাংবাদিক বললেন,
“তো এইযে, আপনি বলুন ওই কাজগুলো কিভাবে করতেন?”

ঘটনার এরকম ফলাফলে খুবই বিমর্ষ তছু একটু নিশ্চুপ, উত্তরে মাথা নিচু করেই রইলো।

এমতাবস্থায়, ধড়াম করে তছুর পশ্চাদ্দেশ বরাবর একটা লাথি মেরে বসলো পাশে দাড়ানো কনস্টেবল, এবং বললো,
“এই হারামজাদা, কথা বাইর হয় না ক্যা, তরে জিজ্ঞাসা করতেছে, কথা কানে যায় না”
(কনস্টেবল সাংবাদিকের একদম কাছে এসে গায়ে গা ঘেষে আস্তে করে বললো, “ভাই, লাথি মারাটা ফুটেজ থেকে কাইট্টা দিয়েন, বুঝেন ই তো, একটু আধটু না দিলে, কথা বাহির হবে না”)

এবার কিছুটা বলতে লাগলো তছু… তার বক্তব্য থেকে জানা গেলো অনলাইনে মূলত ফেসবুকে যথেষ্ট পরিমাণে অপকর্ম করেছে সে। মেয়েদের ব্ল্যাকমেইলিং, নামে বেনামে শত শত মেয়ে আইডি খুলে মানুষের সাথে প্রতারণা করা, কিংবা যে কোনো ব্যাক্তির দূর্বলতার সুযোগে তার ব্যাক্তিগত অভ্যন্তরীণ তথ্য সংগ্রহ করে হয়রানি করা, বানোয়াট, উদ্ভট ও বড়বড় মিথ্যাচারের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ সহ অনেক রকমের অপকর্ম সে করেছে। যে টাকার একটা বিরাট অংশ খরচ হতো তাদের নেশার কাজে। doxycycline monohydrate mechanism of action

রিপোর্টার এবার ক্যামেরাম্যান কে বলল ওপাশে ক্যামেরা ঠিক করেই সিগন্যাল দিতে, ফিনিশিং টা দিতে হবে।

ওদিকে, তছু ও শুমু এই দুই প্রতারকেও হাতকড়া পরিয়ে হাজতে নিয়ে যাবার জন্য প্রস্তুত করা হল। যেতে যেতে তারা এবার নিজেদের মধ্যেই কথা বলছে অনেকটা তর্কের সুরে,

“তছু, তোকে এইজন্যই বলসিলাম, বেশি খাইতে চাইস না, এখন খা বেশি কইরা”

তছু রাগে গজগজ করে বললো, “ওও, এখন সব দোষ আমার, এইজন্যেই শালা মাইয়া মাইনষের বুদ্ধি শুনতে নাই”

কনস্টেবল কে বলতে শোনা গেলো, “এই কথা কম বল, তাড়াতাড়ি নড়ছিস না কেন?, তাড়াতাড়ি আগাও”

এদিকে ক্যামেরাম্যান রিপোর্টার কে সিগন্যাল দিয়ে দিয়েছে, এবং রিপোর্টারও তার রিপোর্টে ফিনিশিং টাচ দিতে লাগলো,

…এই সেই কুখ্যাত চাচী চাপাবাজের আস্তানা, যার আসল নাম সানজিদা সুলতানা সুমা ওরফে কথিত মডেল শুমু, যার একনিষ্ঠ সহযোগী ছিলো তারই বয়ফ্রেন্ড বা কথিত হাজব্যান্ড কাজী মোহাম্মদ তাসিন হোসেন ওরফে তছু। অসংখ্য মানুষ যাদের প্রতারণার শিকার। এখান থেকে পুলিশ ৪ লক্ষ নগদ টাকা,ছয়টি মোবাইল ফোন, ২৫টি ব্যবহৃত ও ১৮টি অব্যবহৃত সিমকার্ড, একটি দেশি পিস্তল, ৬ রাউন্ড গুলি, দুটি ল্যাপটপ সহ কিছু মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। ইনচার্জ পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন তারা এব্যাপারে বিস্তারিত তদন্ত করে দেখবেন যে এদের সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা।

অমল সরকার, চ্যানেল চুয়ান্ন, ঢাকা। …
(সমাপ্ত)

— সালমান আমিন(বিষমবাহু চতুর্ভূজ)

You may also like...

  1. উপস্থাপনায় ভিন্নতা আছে। কিন্তু, এন্ডিংটা বেশ আগে থেকেই অনুমান করা গিয়েছিল। গল্পের মাঝে হিন্ট (যেমন: লোকটার হাসিতে নিশ্চিতভাবে কিছু একটা পাওয়ার আনন্দ ছিলো। অদ্ভুত রহস্যময় সে হাসি।) দেয়াটা হিসেব করে করলে আরও ভাল হবে আশা করি।

প্রতিমন্তব্যবিসমবাহু চতুর্ভূজ বাতিল

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

lasix dosage pulmonary edema
use metolazone before lasix