149

বার পঠিত

“আয় মামণি,আয় আয়। কাছে আয়,লক্ষী মা আমার।”
মহিলাটি কি আবেগ দিয়েই না ডাকছে! সবুজ মাঠটির ঠিক মাঝে দাঁড়িয়ে। দু’হাত সামনের দিকে বাড়ানো। “আয় আমার পরীটা! আম্মুনি তোকে একটু জড়িয়ে ধরি।”
দৃশ্যপটে এবার একটি পিচ্চির আগমন ঘটল। ঠিক লালপরী যেন। না,দেবশিশু। খিলখিল করে হাসছে। আর টলমল পায়ে ছুটে যাচ্ছে,মায়ের কাছে। মহিলার মুখ খুশিতে ঝলমল করছে এখন। চাপা উত্তেজণা তার দৃষ্টিতে। এইতো আর কয়েকটা মূহুর্ত পরেই,শিশুটি তার আম্মুনির বাড়িয়ে ধরা হাতের মাঝে গিয়ে আশ্রয় নেবে।
হঠাৎ কী যেন ঘটে গেল! কয়েকজোড়া কাল হাত এসে শিশুটিকে পথিমধ্যে ছিনিয়ে নিল। মহিলার বিস্ফোরিত চোখজোড়ায় একরাশ অবিশ্বাস। শরীর কাঁপছে থরথর করে। পরমূহুর্তেই বেচারী হাঁটু ভেঙ্গে পড়ে গেল। বাতাসে ভেসে এল এক সন্তানহারা মায়ের আর্তনাদ!
“নি,সোনা আমার…….”

……………………………………………………………..

(১)
আমি লাফ দিয়ে উঠে বসলাম। হাঁফাচ্ছি ভীষণভাবে। ঘেমে নেয়ে একাকার। অথচ বডি সেন্সরড শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ আমার। শরীরের প্রয়োজনীয় তাপ,ঠান্ডা সরবরাহিত হয়। চুপচাপ বসে রইলাম কিছুক্ষণ। নিজেকে স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ দিচ্ছি। সময় দেখলাম না। কারণ আমি জানি,এখন কয়টা বাজে। মিনিট,সেকেন্ড সহ। ধীরে ধীরে হেঁটে ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ালাম। পঁচানব্বই তলায় অবস্থিত আমার এই ব্যালকনিটা থেকে পুরো শহর দেখা যায়।ইদানীং রাতের সিংহভাগ আমার এখানেই কাটে। রোজ একই দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে ওঠার পর,আর ঘুমোনো হয়না। হ্যা,একই দুঃস্বপ্ন। কোন এক তরুণী মহিলার কাছ থেকে তার বাচ্চা মেয়েটাকে ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে। মহিলার বুকফাটা আর্তনাদ এখনও কানে বাজছে আমার। কোন মানে হয়,এমন স্বপ্নের? তাও রোজ রোজ?
“আজও সেই স্বপ্নটা দেখেছো,রুবাই?”
তাকিয়ে দেখি,আমার ব্যক্তিগত রোবট ত্রিতি পাশে দাঁড়িয়ে আছে।সবুজ একজোড়া চোখ মেলে দেখছে আমাকে। তার ফটোসেলের চোখজোড়ায় কোন অনুভূতি না ফুটে উঠলেও, খুব ভাবতে ইচ্ছে হল সে উদ্বিগ্ন। আমার জন্য। কী অদ্ভুত! আজকাল যন্ত্রের মাঝেই আবেগ খুঁজে নিতে হয় মানুষকে।
আমি আকাশের দিকে চোখ ফেরালাম। দ্বিতীয় চাঁদ ওঠার সময় হয়েছে। চারপাশে নরম একটা আলো।
“স্বপ্ন না,দুঃস্বপ্ন ছিল ওটা।” ভুল শুধরে দেয়ার ভঙ্গীতে বললাম।
বলার সময় গলা কেঁপে উঠল আমার। কেন,কে জানে!

(২)
বিজ্ঞান কাউন্সিলের জরুরী মিটিং ডাকা হয়েছে। কাউন্সিল প্রধানের সেক্রেটারি আত্রলিতার কাছ থেকে জানলাম মাত্র। অনিচ্ছাসত্ত্বেও তৈরী হয়ে নিলাম। ইদানীং রাতে ঘুম হচ্ছেনা বলে,মন মেজাজ সবই খারাপ থাকে আমার। অল্পতেই রেগে যাই। খিটখিট করি সারাদিন। আর ত্রিতি বেচারাকে বকাবকির উপরে রাখি। মনেই থাকেনা সে যে একটা যন্ত্র। যন্ত্রের উপর রাগ করা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে কী?
এছাড়া আর কীইবা করার আছে? পৃথিবীতে যে গুটিকয়েক মানুষ বেঁচে আছে,তাদের সবাইকেই একা বসবাস করতে হয় এখন। সঙ্গী সাথীহীন,একা,অনেকটা মানুষ্য সমাজ বিবর্জিত। ব্যক্তিগত কাজের সাহায্যার্থে একটা করে রোবট পেয়েছে সবাই। ব্যস এটুকুই।
ব্যাপারটার সূত্রপাত সেদিনের নয়,বেশ আগের। আজ থেকে প্রায় বিশ বছর আগের ঘটনা। স্যাস (SAS=Super Supreme And Special) কম্পিউটার একটা সমীক্ষা করে দেখিয়েছিল। যার বিষয়বস্তু হলঃ
“বায়ুতে তেজস্ক্রিয় পদার্থের ক্রম নিঃসরণ এবং ব্যাপনের ফলে মানুষের শারীরের অভ্যন্তরীন অঙ্গসমূহ মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,হচ্ছে। এই ক্ষতি মৃত্যুর রূপ নিতে পারে,যদি কেউ প্রাকৃতিকভাবে সন্তান জন্ম দেয়ার চেষ্টা করে।
অতএব,মানবজাতির রক্ষার্থে আজ থেকে প্রাকৃতিকভাবে সন্তান জন্মদান নিষিদ্ধ হল। বিকল্প উপায়ের গবেষণা চলছে। যথাসময়ে,সবাই তা জানতে পারবে।
ধন্যবাদ।”

এরপরও হয়তবা কেউ চেষ্টা করেছিল। তারা সবাই মারা গেছে। স্যাস কম্পিউটারের ভাষ্যমতে,তেজস্ক্রিয়তাঘটিত মৃত্যু। মানবজাতির রক্ষার্থে এবার নতুন এক আইন জারী হল। কোন নারী “পুরুষ সঙ্গী”,এবং কোন পুরুষ “নারী সঙ্গীনী” রাখতে পারবেনা! অদ্ভুত আইন। যা আগে কখনও ঘটেনি।
অতএব,আমরা এখন একা বাস করি। সঙ্গ দেয় দ্বিতীয় প্রজন্মের অত্যন্ত নির্বোধ কিছু রোবট।

আমি যখন কনফারেন্স রুমে পৌছালাম,ততক্ষণে কাউন্সিলের অন্য সদস্যরা সবাই পৌছে গেছেন। মোট আটজন সদস্য। এটাই সর্বোচ্চ কাউন্সিল। বড়বড় এবং সর্বেশষ সিদ্বান্তগুলো আমরাই নিই।আমাদের সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রের আইন। মানব সভ্যতার আইন। যা বদলানো কিংবা সংশোধন করার ক্ষমতা একমাত্র স্যাস কম্পিউটারের আছে। zoloft birth defects 2013

সবার সাথে সৌজন্য হাসি বিনিময় করে,আমি আমার নির্ধারিত আসনে বসে পড়লাম। তারপর সামনে রাখা কাগজগুলো টেনে নিলাম। আজকের মীটিং এর বিষয়বস্তু জানার চেষ্টা করছি।
“কী ব্যাপার,মিস রুবাইয়াৎ? তোমাকে কেমন যেন ক্লান্ত দেখাচ্ছে?”
রিশানের কথায় চোখ তুলে তাকালাম।সে এই কাউন্সিলের সদস্য। একজন জীববিজ্ঞানী। হাসিখুশি,তরুণ,অসম্ভব প্রতিভাবান। এবং আমার বেঁচে থাকার একমাত্র উৎসাহ সে।
“গত প্রায় একমাস ধরে ভাল ঘুম হচ্ছেনা।”
আমার কন্ঠে কৈফিয়তের সুর।
“কী বলছ তুমি এসব? আজ আমাদের সভা শেষ হওয়ামাত্রই তুমি আমার সাথে আমার চেম্বারে যাবে!”
রুহিতা প্রায় চেঁচিয়ে বলল। মেয়েটা অসম্ভব চটপটে এবং অভিমানী। আজকাল মানুষের শরীর খারাপ করেনা। তবু প্রতি মাসে রুহিতা আমাদের সবাইকে,জোরপূর্বক মেডিক্যাল চেকআপ করাবে!
আর একগাদা লিকুইড ভিটামিন শরীরের ভেতর চালান করে দেয়।
“ধন্যবাদ,রুহিতা। আমি আসলে একটা দুঃস্বপ্নের…”
শুশান আমাকে মাঝপথেই থামিয়ে দিল। তারপর হাত নেড়ে বলতে লাগল,
“আপনারা জানেন,আজকের এই মীটিংটা কীসের জন্য?”
আমি লক্ষ্য করলাম,প্রশ্নটা শুনে রিশান কিছুটা গম্ভীর হয়ে গেছে। ভাবলাম,”ওর কি মন খারাপ?” ।
ত্রিনিতা কপালের উপর এসে পড়া চুলের গোছা সরাতে সরাতে বলল,
“কয়েকজন নিয়ম ভঙ্গকারী ধরা পড়েছে। তারা শহরের প্রাচীন উপাসনালয়ে গিয়ে,বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছিল।”
“আমরা কি ওদের বিচার করব?”
আমি ফিসফিসিয়ে জানতে চাইলাম। এ ধরনের পরিস্থিতি আমার জন্য নতুন নয়। আগেও কয়েকবার এমনটা ঘটেছিল। আর প্রতিবারই বিচারের নামে প্রহসন হয়েছে। আমাদের সকল যুক্তি-তর্ককে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে,স্যাস কম্পিউটার তার ইচ্ছেমত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবং তা কার্যকর করেছে।
আমি শ্বাস চেপে চোখ বুজলাম। হঠাৎ করেই খুব ক্লান্ত এবং অসুস্থ বোধ হচ্ছে আমার।এভাবে আর কতদিন?

(৩)
কিশোরী চেহারার একটা মেয়ে। কেমন যেন নির্লিপ্ত ভঙ্গীতে দাঁড়িয়ে আছে। পাশে তার পুরুষ সঙ্গী,কিংবা স্বামী। দুজন গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে। হয়ত ভরসা খুঁজছে,একে অপরের স্পর্শে। ঠিক ওদের মতই একই ভঙ্গীতে দাঁড়িয়ে আছে অন্য পাঁচ যুগল। এরা কি জানে,কতটা অনিশ্চয়তা অপেক্ষা করছে এদের জন্য? কত বড় বিপদ!
কাউন্সেল প্রধান হ্রুজান থমথমে গলায় বলল,
“কী নাম তোমার মেয়ে?”
কিশোরী চেহারার মেয়েটা নড়েচড়ে দাঁড়াল।স্পষ্ট কন্ঠে জবাব দিল,
“ত্রিণা।”
“ত্রিণা,তুমি কিংবা তোমরা জানো কতবড় অপরাধ করেছো? তোমরা নিয়ম ভেঙ্গেছো। এর ফলে আমাদের সবাইকেই বিপদের মুখোমুখি দাঁড়াতে হতে পারে,তার কোন ধারণা আছে তোমার?”
“মহামান্য হ্রুজান,ভালবাসা কিংবা আজীবন পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি অপরাধ হতে পারেনা।অপরাধ হতে পারেনা, স্বামী কিংবা সংসারের স্বপ্ন দেখা ও। ছোট্ট একটা মেয়ে সন্তানের আশা করা,অপরাধ হতে পারে কী?”
ত্রিণার কথায় আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই। এমনটা আজকাল চোখেই পড়েনা!
“নির্বোধ মেয়ে,এতে তোমার ক্ষতি হতে পারে এটা জানো না?”
“আপনি কোন ক্ষতির কথা বলছেন,মহামান্য হ্রুজান? সেই ভ্রান্ত তেজস্ক্রিয়তার ব্যাপারে নয়তো?”
“ভ্রান্ত?”
এবার আমি প্রশ্ন করলাম।
ত্রিণা আমার দিকে তাকাল। বড়বড় চোখজোড়ায় রাজ্যের সরলতা।
“জ্বী,ভ্রান্ত ধারণা। আমি আপনাদের প্রমান করে দেখাতে পারব,সন্তান জন্মদান কোনভাবেই…”
“নির্বোধ মেয়ে,তুমি বিজ্ঞান কাউন্সিলের সাথে এভাবে কথা বলতে পারো না!”
নতুন কন্ঠস্বরটার আবির্ভাবে আমরা সবাই কিছুটা চমকে উঠলাম। আমাদের টেবিলটার শেষপ্রান্তে একটা হলোগ্রাফিক ইমেজ। এক মধ্যবয়স্ক গম্ভীর লোক দাঁড়িয়ে আছে। চোখে তার ভারী লেন্সের চশমা। কপাল কুঁচকানো। কম্পিউটার স্যাস! আমি যারপরনাই বিরক্ত হলাম। মানুষের সভায় একটা কম্পিউটারের এমন উপস্থিতি,স্রেফ অসহ্য! তাকে অগ্রাহ্য করলাম। ত্রিণাকে শান্ত গলায় বললাম,
“তুমি তোমার কথা শেষ করো। আমি শুনব। অন্য কেউ শুনুক বা না শুনুক!”

(৪)

গভীর রাতে আমার আবার ঘুম ভেঙ্গে গেল। প্রতিদিনের মত। তবে একই দুঃস্বপ্ন দেখে নয়। আজকের দুঃস্বপ্ন আমার নিজেকে নিয়ে। দেখলাম,কম্পিউটার স্যাস আমাকে শাস্তি দিচ্ছে। অপারেশন বেডে শুইয়ে,ইয়া বড় একটা সার্জিক্যাল নাইফ দিয়ে… ভাবতেই গা শিউরে উঠল আমার।
বিছানা ছাড়লাম। এইচসিএস ডিভাইসটা (HCS device= Holographic Calling System device) নিয়ে রিশান কে ফোন করলাম। ঘরের ঠিক মাঝখানে তার হলোগ্রাফিক ইমেজ ফুটে উঠল। উদ্ধিগ্ন মুখভঙ্গী।
“রুবাই,তুমি ঠিক আছ তো?”
আমি হাসার চেষ্টা করলাম। তা কতটুকু ফুটল,কে জানে!
“রিশান.. আমি না আজ বিভিন্ন ডিজিটাল নিউজপেপার,পোর্টাল,এমনকি মূল তথ্যকেন্দ্রের নেটওয়ার্ক ও ঘেঁটেছি অনেকক্ষণ… অবৈধভাবে।”
রিশানের চেহারায় অবাক হওয়ার চিহ্ন ফুটে ওঠে। ধীরে ধীরে তা আতংকে রূপ নেয়।
“কী বলছ এসব তুমি,রুবাই? তার মানে তুমি… তুমি….”
সে হতাশায় কথা শেষ করতে পারেনা। তাকে কেমন যেন বিধ্বস্তের মত দেখাতে থাকে।
“হ্যাঁ,আমি আমার আইডেন্টিফিকেশান নাম্বার ব্যবহারের লিমিট পেরিয়ে গিয়েছিলাম। তারপর সিস্টেম হ্যাক করে বাকী তথ্যগুলো উদ্ধার করেছি।”
রিশানের চেহারায় অবিশ্বাস।
“কিন্তু… কেন রুবাই,কেন?”
“রিশ,আজ কী ঘটেছে ভুলে গেছ এত তাড়াতাড়ি? তোমার কী মনে হয়,কম্পিউটার স্যাস এত সহজে ছেড়ে দেবে আমাকে? আমি আজ তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। চ্যালেঞ্জ জানিয়েছি তার ভ্রান্ত ফালতু সমীক্ষার। যেটার অজুহাত দেখিয়ে,সে আজ পর্যন্ত লাখো মা-শিশুর জীবন নিয়েছে। জানো,নেটওয়ার্ক ঘেঁটে আমি কী পেয়েছি? নিখোঁজ বিজ্ঞানী তালিকার সব ক’জনের সাথেই কম্পিউটার স্যাসের বিরোধ ছিল। নেটওয়ার্কে ওদের ছবি দেখেছি আমি। আর চমকে উঠেছি। কেন,জানো? কারণ,সেই হারিয়ে যাওয়া বিজ্ঞানীদের একজনকে আমি রোজ রাতে স্বপ্নে দেখি। সেই সন্তানহারা ভদ্রমহিলা! ভাবতে পারো? আমি আরও দেখেছি….”
বাইরে খুট করে একটা শব্দ হল। অবাক হলাম। এই ফ্ল্যাটে আমি আর ত্রিতি ছাড়া কেউ থাকেনা। আর ত্রিতিকে আমি অচল করে রেখেছি। তাহলে? রিশানের দিকে তাকিয়ে দেখি,সে আতঙ্কিত চোখে দাঁড়িয়ে আছে। আতঙ্কিত এবং হতাশাগ্রস্ত। আমি ওকে অভয় দেয়ার ভঙ্গীতে হাসলাম।
“ত্রিণার রিসার্চের তথ্যগুলো সব কালেক্ট করেছি। ও সত্য বলছিল। তেজস্ক্রিয়তার গুজব পুরোপুরি ভুয়া। ডকুমেন্টগুলো আমি তোমাকে স্কিফে (SCIF=Secret chat info folder) কনভার্ট করে পাঠিয়ে দিয়েছি। বাকী সব ফাইলের সাথে। কাউন্সিলের অন্য সদস্যদের,বিশেষ করে রুহিতার সাহায্য নিও…”
“কীসব বলছ,কিছুই বুঝতে পারছিনা! রুহিতাকে নিয়ে করতে হবে কেন? তোমার করতে অসুবিধা কোথায়? আর ত্রিতি এসব শুনছেনা? তুমিতো জানোই,ও কম্পিউটার স্যাসের এজেন্ট।”
“আমি অন্য কাজে যাচ্ছি। ত্রিতির মেইন সার্কিটের লজিক গেইট বদলেই নেটওয়ার্ক সিস্টেম হ্যাক করেছি। সো ওকে নিয়ে… এসব তোমার ডিপার্টমেন্টের নয়। তুমি বুঝবেনা!”
বলেই আমি উঠে দাঁড়ালাম। রিশান তখনও করুণ চোখে তাকিয়ে। মায়া হল ভীষণ। নিজের তলপেটের উপর হাত রেখে,ওকে বললাম,
“ত্রিণার জায়গায় কাল আমাদের ও দাঁড়াতে হতে পারে। তাই না রিশ? ততক্ষণ তুমি কিংবা তোমার একটা অংশ আমার সাথে আছে,আমাকে কেউ ঠেকাতে পারবেনা। কেউ না!”
স্বান্তনাটা রিশানের জন্য ছিল নাকি নিজের জন্য,বুঝলাম না! renal scan mag3 with lasix

(৫)

আমি ঠিক একটা গুহার মত জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। চারপাশটায় এমনিতে কোন আলো নেই। বিভিন্ন আই.সি. থেকে যে আলো বের হচ্ছে,তা দিয়ে কেমন যেন একটা ভূতুড়ে ভাব। কিছু স্পষ্ট নয়। তবে মোটামুটি আন্দাজ করে এবং দেখে,হাঁটা যায়। ভেতরে কেমন যেন গরম ভ্যাপসা একটা বাতাস বইছে। এটাই কম্পিউটারের স্যাসের মূল ভবন। আমি হাতের আইডি কার্ডটার দিকে তাকালাম। ভাগ্যিস কম্পিউটার স্যাস ওটা ডিজেবল করে দেয়নি। নইলে এখানে ঢোকা কোনভাবেই সম্ভবপর ছিলনা।
আমি চারপাশে তাকালাম। এখানে ছোটবড় সব মিলিয়ে কমপক্ষে হাজারখানেক আই.সি. রয়েছে। এতগুলো ভেঙ্গে দিয়ে কম্পিউটার স্যাসকে অচল করে দেয়া,এককথায় স্রেফ অসম্ভব! তবু চেষ্টা করে দেখতে দোষ কী?
শক্ত কিছু একটার খোঁজে হাতড়ে বেড়াতেই,নতুন একটা জিনিস আবিষ্কার করলাম। না,একটা নয়। বেশ কয়েকটা। ইতঃস্তত ছড়ানো কিছু স্ট্যান্ডের উপর রাখা একাধিক কাচের জার। ভেতরের তরল পদার্থের মধ্যে কিছু একটা ভাসছে।
হঠাৎ আমাকে চমকে দিয়ে,চারপাশে চোখ ধাঁধানো আলো জ্বলে উঠল।
“স্বাগতম মিস রুবাইয়াৎ। নাকি মিসেস বলব?”
কম্পিউটার স্যাসের কন্ঠে বিদ্রুপ। আমি শান্ত গলায় বললাম,
“নিহিনা ডাকো। এটাই যে আমার নাম,তা তোমার চেয়ে ভাল কে বলতে পারবে?”
“জিনেটিক্যাল কোডিং এর ম্যাচ বোধহয় একেই বলে। আপনার মা ড. রাইসা আহমেদ ও এমন ছিলেন। খুব অবজ্ঞা নিয়ে কথা বলতেন আমার সাথে। আর মাথাটি একটু বেশীই খাটাতেন। সবকিছু তার জানা চাই,বোঝা চাই। বিপদজনক ছিল ব্যাপারটি।”
আমি কম্পিউটার স্যাসের কথা শুনছিলাম,আর অন্যমনস্ক ভঙ্গীতে চারপাশ দেখছিলাম। উজ্জ্বল আলোতে সবকিছু বড্ড স্পষ্ট। কাচের জারগুলোর দিকে নজর ফেরালাম। ওগুলোর মধ্য থেকে কয়েক রং এবং পাইপ এবং তার বেরিয়ে এসেছে। কিছু গিয়ে মিলেছে কম্পিউটার স্যাসের মূল যন্ত্রের সাথে। আর কিছু উপরে উঠে একটা ভেন্টিলেটর দিয়ে বেরিয়ে গেছে। তরল পদার্থের উপর ভাসন্ত বস্তুটার দিকে চোখ ফেরালাম। হলুদ রঙ্গের থকথকে একটা পদার্থ। মানুষের মস্তিষ্ক! প্রতি জারে একটা করে। প্রায় শতাধিক। হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকের মত বুঝে ফেললাম সব।
কম্পিউটার স্যাস তখনও একঘেঁয়ে গলায় বলে চলেছে,
“তবে যে মানুষ যত কৌতুহলী,তার বুদ্ধিমত্তা ও তত বেশী। সে তত বেশী কাজের। তার মস্তিষ্ক ও ঠিক তত বেশী কার্যক্ষম।”
আমি ফিসফিসিয়ে বললাম,
“তাই তুমি আমার মা কিংবা তাঁর কলিগ বিজ্ঞানীদের মেরে ফেললেও,তাদের মস্তিষ্ক চারপাশের এই কাচের জারগুলোতে সংরক্ষণ করে রেখেছ! তাদের স্মৃতি,ক্ষমতাকে নিজের মাঝে প্রোগ্রাম আকারে বাঁচিয়ে রেখেছ। কিন্তু কেন?”
“আপনার তো অনেক বুদ্ধি! আসলে,মানুষের মত আবেগপ্রবণ নির্বোধ সৃষ্টির হাতে ক্ষমতা মানায় না,নিহিনা। ক্ষমতাবান হতে হলে আবেগ,বিবেক,মানবতা সব বিসর্জন দিতে হয়। চোখের পলক না ফেলে রক্তের সাগর বইয়ে দিতে হয়। যেমনটা আপনাদের ইতিহাসের দুই একজন পেরেছিলেন… যাইহোক মানুষের অনেক সীমাবদ্ধতা। যা আমার নেই। কিন্তু সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হতে হলে,সেই বিজ্ঞানীগুলোর সাহায্য আমার দরকার ছিল। কিন্তু তারা স্বেচ্ছায় আমাকে সাহায্য করতনা। বরং আমার বিরুদ্ধে জোট বাঁধছিল। নিষেধ অমান্য করে,সন্তান জন্ম দিচ্ছিল। তাই আর কোন উপায় না দেখেই…”
আমি কাচের জারগুলো খুঁটিয়ে দেখছিলাম। এর মাঝে যে কোন একটাতে আমার মায়ের মস্তিষ্ক রয়েছে। যে মস্তিষ্কের স্মৃতির অনেকটাই আমাকে নিয়ে। তাঁর আদরের “নি” সোনাকে নিয়ে। প্রতিরাতে দেখা দুঃস্বপ্নটা চোখের উপর ভেসে উঠল। কানে আছড়ে পড়তে লাগল,মায়ের আর্তনাদমাখা সেই হাহাকারগুলো।
“নি,সোনা আমার…”
হঠাৎ খেয়াল করলাম কাচের জারগুলোর মধ্যে একটা শূণ্য জার ও রয়েছে। কম্পিউটার স্যাসকে জিজ্ঞেস করতে যাব,সে নিজ থেকেই উত্তর দিল। যেন আমার মনের কথা বুঝতে পেরেছে!
“শূণ্য জারটি আপনার জন্য। ওতে আপনার মস্তিষ্ক শোভা পাবে।”

(৬) viagra vs viagra plus

রুহিতা সব শুনে অবাক হল। রিশান হাতের ফাইলগুলো দেখাতে লাগল তাকে।
“আমি কিছুটা আন্দাজ করতাম,রিশান। কিন্তু এত বেশী! রুবাই কোথায়?”
রিশান ফিসফিসিয়ে বলল,
“ও আমার কথা শোনেনি রুহিতা। কোথায় যেন চলে গেছে,অসুস্থ শরীর নিয়ে। কে জানে…”
“হাউ ইউ কুড রিশান? কম্পিউটার স্যাস ওকে পেলেই খারাপ কিছু একটা ঘটে যেতে পারে! আর এই ডাটাগুলো নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ামাত্র আমরাও..”
” তোমাকে বিপদে ফেলতে চাইনা,রুহিতা। আমি একাই পারব।”
“দয়া করে চুপ থাকো। ভাবতে দাও আমাকে। …. রুবাই সবসময় একটা কথা বলত। একজন মানুষ অন্য একজন মানুষকেই হুট করে বিশ্বাস করতে পারে। যন্ত্রকে নয়। …আমাদের কিছু স্বেচ্ছাসেবী দরকার। সাথে ত্রিণা নামের মেয়েটাকেও পেলে ভাল হয়।”
“ও শুশানের দায়িত্বে আছে।”
“তাহলে চিন্তা নেই। ……কম্পিউটার স্যাস তোর হার্ডডিস্ক উড়িয়ে দিতে আসছি আমরা। ব্যাটা আবর্জনার স্তূপ কোথায়কার!”

(৭)
আমি একটুও চমকালামনা। আসলে একটা পর্যায়ে মানুষের অবাক হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে যায়।
ক্লান্ত ভঙ্গীতে জানতে চাইলাম,
“স্যাস,মা কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছে?”
“এখন থেকে পাবে। আমি আপনার মায়ের মস্তিষ্কের সাথে একটা স্পীকার সংযুক্ত করে দিয়েছি। আর উনার প্রোগ্রামকে কিছুক্ষণের জন্য স্বতন্ত্র করে দিয়েছি। আপনি কি কিছু বলতে চান,উনাকে?”
“না স্যাস। আমি তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই।”
“বলুন শুনতে পাচ্ছি।”
“এভাবে নয়। আমার যন্ত্রের সাথে কথা বলতে ভাল লাগেনা। তুমি দেখা দাও।”
সাথে সাথেই ঘরের ঠিক মাঝখানটায় আমি একজনকে দেখতে পেলাম। মধ্যবয়স্ক ছোটখাট এক লোক। চোখে মোটা ফ্রেমের ভারী কাচের চশমা। রাগত দৃষ্টি। মাথার চুল পাতলা হয়ে এসেছে। দাঁড়ানোর ভঙ্গীতে অহংকার ছিটকে বেরুচ্ছে। পরিপাটি পোশাকে সম্পূর্ণ এক ভদ্রলোকের প্রতিচ্ছবি। তবুও,যন্ত্রতো!
“এবার বলুন।”
আমি চুপ করে রইলাম। কথা গুছিয়ে নিচ্ছি। ভাবছি। আচ্ছা,রিশানদের আর কত সময় দরকার?
“জানো স্যাস,মস্তিষ্ক থেকে স্মৃতি কখনো হারায় না। মুছে ফেলা যায়না। স্মৃতিরা স্থান পরিবর্তন করে শুধু। সুপ্ত থাকে কোন একটা অংশে। যান্ত্রিক ভাষায় এটাকে তোমরা রিসাইকেল বীন বলো।”
“আপনি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক কথা বলছেন। সময়ের কি দারুণ অপচয়!”
আমি তাচ্ছিল্যের ভঙ্গীতে হাসলাম। রাগ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে। চেপে রাখতে কষ্ট হচ্ছে খুব।
“তুমিতো কোন প্রসঙ্গ সাজেস্ট করোনি বরাবরের মত। কিংবা আমিও বেছে নিইনি। অতএব চুপ থাকো! …. সেই সুপ্ত স্মৃতি কোন একটা হিট পয়েন্ট কিংবা পরিস্থিতর অপেক্ষায় থাকে। আর তেমন কিছু ঘটামাত্রই সেই সুপ্ত স্মৃতি নিজের পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে।তেমনি ছোটকালের অনেক স্মৃতিই আমার এখন মনে পড়ছে। এর একটা তোমাকে শোনাব আমি।”
“জ্বী বলুন,আমি শুনছি।”
আমি ঘড়ি দেখলাম। কতক্ষণ পেরিয়েছে,এখানে আসার পর? এক ঘন্টা হবে হয়ত। আশা করলাম,রিশান কোন ঝামেলায় পড়েনি। capital coast resort and spa hotel cipro

(৮)

দক্ষিণের শেষপ্রান্তে যে ক’টা পাহাড় আছে,সেখানে সবাই জড়ো হয়েছে। ওরা দশ-বারো জন।
“রুহিতা,তোমরা যা বলেছো তা যদি সত্যি হয়ে থাকে… রুবাইকে একা ছাড়া উচিত হয়নি তোমাদের! একদমই না।”
হ্রুজান বিরক্ত এবং চিন্তিত ভঙ্গীতে বলল।
“আমি জানি হ্রুজান। তবে ব্যাপারটা নিয়ে আমরা যত ভাবব,তত সময় নষ্ট হবে। আর রুবাইর উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশংকা তত বাড়বে।”
“আত্রলিতা,তোমার কাজ কতদূর?”
“মহামান্য হ্রুজান,প্রায় হাজারখানেক হ্যান্ডবিল ছাপানো শেষ।এখন…”
কুশল আত্রলিতাকে থামিয়ে বলল,
“সেগুলো বিলি করার জন্য বাড়ি বাড়ি যাবে কে?”
“এর সমাধান বোধহয় আমি দিতে পারব! আমাদের এলাকায় কিছু ছেলেমেয়েকে সেদিন গল্পচ্ছলে প্রাচীন পৃথিবীর ভোটপ্রথার কথা বলেছিলাম। রিপিট করছিনা,আশা করি আপনারা জানেন ভোটপ্রক্রিয়ার প্রচারণার কথা। অতএব, আমি যদি ওদের গিয়ে বলি একটা ইলেকশন হচ্ছে। আমাকে সাহায্য করো। তাহলে অল্প কথায় কাজ হয়ে যাবে।”
ত্রিণা হাসিমুখে বলল।
“গ্রেট! আত্রলিতা আর রুহিতা,ত্রিণাদের সাথে যাও। শুশান,ইষাদকে নিয়ে দেখো জনমত বাড়াতে পারো কিনা। রিশান,তুমি কয়েকজনকে নিয়ে রুবাইর খোঁজে বের হও। আমি দেখি,নেটওয়ার্ক ডাউন করে দেয়া যায় কিনা। রুবাই কীভাবে হ্যাক করেছিল,কে জানে!”
“ত্রিতির সার্কিটের লজিক গেট বদলে দিয়ে।”
রিশান নীচু কন্ঠে জবাব দিল। অনুশোচনার কবলে পড়ে এতক্ষণ একটা কথাও বলেনি।
“থ্যাংকস রিশান। চিন্তা করোনা,রুবাই একটা শক্ত মেয়ে। সহজে হার মানবেন।”
“আচ্ছা,আমাদের উদ্দেশ্য সফল হলে সবাই বেঁচে যাবে। আমি,তুমি,ত্রিণা,রুবাইসহ সব মানুষ। আর অসফল হলে?”
“নিখোঁজ বিজ্ঞানীদের নামের তালিকায় নতুন কিছু নাম যোগ হবে!”
ইপ্সি কথাটা রসিকতার স্বরে বলল। কিন্তু সবাই নিজের অজান্তেই কেঁপে উঠল তা শুনে। para que sirve el amoxil pediatrico

(৯)

“খুব ছোটবেলায় যখন খেতে কিংবা ঘুমোতে চাইতাম না,তখন আম্মুনি আমাকে জুজুর গল্প শোনাত। খাও,নয়ত জুজু আসবে। ঘুমাও,নয়ত জুজু আসবে। আমি ভাবতাম,জুজু বুঝি খুব ভয়ংকর প্রাণী! ভয় পেতাম। অন্ধকারে সে ভয়টা বাড়ত। মনে হত,এই বুঝি জুজু নামক প্রাণীটা আমাকে ধরতে এল। স্বপ্নে দেখতাম অনেকগুলো কিলবিলে হাত আমাকে চেপে ধরছে। আমি প্রাণপণ চেষ্টা করে একটু ছাড়াই। ওটা আবার চেপে ধরে। আরও জোরে। আরও শক্ত করে। ওটার নিঃশাসের শব্দ পাই আমি। নাকে একটা আঁশটে গন্ধ আসে। আমি আবার ছাড়াই। ওটা আবার ধরে। চাপ বাড়ায়। নিঃশ্বাসের শব্দ আরও তীব্র। গন্ধের মাত্রা বাড়ে। আমার দম আটকে আসে। হাঁসফাঁস করতে থাকি। তারপর আবার ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করতে থাকি। পাল্লা দিয়ে ওটা ও জোর বাড়াতেই থাকে।একপর্যায়ে আমি চেঁচিয়ে জেগে উঠি!”

এসময় একটা অবাক কান্ড ঘটল। কাচের জারে ভেসে থাকা একটা মস্তিষ্ক কেমন যেন অদ্ভুত ভাবে নড়ে উঠল হঠাৎ! স্যাসের দিকে তাকিয়ে দেখলাম,সে তার ভদ্র প্রতিমূর্তির চোখ দিয়ে আমাকে দেখছে। চেহারায় স্পষ্ট বিভ্রান্তির ছাপ। তার পেছনের বিরাট স্ক্রীণে অসংখ্য লেখা ফুটে উঠছে একের পর এক। অথচ আমি হলফ করে বলতে পারি,এই কিছুক্ষণ আগেও ওটা শূণ্য ছিল। যাইহোক,আমি নিজেকে সামলে নিই। দম নিয়ে বলতে শুরু করি আবার।
“আম্মুনি আমাকে জড়িয়ে ধরে।আমি তার বুকে মুখ লুকোই। নাকে পরিচিত গন্ধ ঠেকে। নির্ভরতার। ভালবাসার। কানে আশ্বাস বাজে। নি,সোনা আমার। তোর কিচ্ছু হবেনারে! কিচ্ছুনা..”
আমার কথা আটকে এল। হয়ত ক্লান্ত বলে। কান্না পাচ্ছে,এটা মানতে চাইলামনা।
“আশা করি,আপনার কথা শেষ হয়েছে। এবার তাহলে,আমি আমার কাজ করতে…”
কম্পিউটার স্যাসের কথা মাঝপথেই থেমে গেল। তার চেহারায় নগ্ন আতংক এবং অবিশ্বাস। স্ক্রীণে লেখার সংখ্যা আরও বেড়েছে। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটল একটা। ঘটতেই থাকল এরপর। কী যেন ছিটকে এসে মাথায় লাগল আমার। তারপর সব অন্ধকার হয়ে গেল।

(১০)

এরপর পেরিয়ে গেল অনেকগুলো দিন। সব স্বাভাবিক এখন। তেজস্ক্রিয়তার ভুয়া গুজব নেই। পৃথিবী আবার ভরে উঠেছে সুস্থ সতেজ মানুষে। সুখী,নিঃসঙ্গহীন মানুষে। আমি এখন আর সেই দুঃস্বপ্ন দেখিনা। মাঝে মাঝে অবশ্য ঘুমের ঘোরে,কম্পিউটার স্যাসের মরণাপন্ন আর্তনাদ কানে আসে। ব্যাপারটায় কেমন যেন একটা বিকৃত আনন্দ পাই আমি!

সাগরের পাড়ের ছোট্ট একটা কুটিরে বেশ আছি। আমি,রিশান, আর আমাদের ছোট্ট বাণী। আমাদের স্বর্গীয় সংসার।
“কী ভাবছ,অত?”
রিশানের কথায় ভাবনায় ছেদ পড়ে আমার। হেসে ওকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করি।
“কই,কিছুনাতো!”
“আচ্ছা ,স্যাসের মত একটা মহাপরাক্রমশালী কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক কী করে আপনা আপনি ক্রাশ করে?”
“ওটা তোমার ডিপার্টমেন্ট নয়। তুমি বুঝবেনা।”
মুখে এটা বললাম। আর মনে মনে বললাম,
“তোমাকে বললেও বিশ্বাস করবেনা,রিশ। কাজটা আর কেউ নয়,আমার আম্মুনির স্মূতিযুক্ত প্রোগ্রামটায় করেছে। আম্মুনি নিজেকে ধ্বংস করে,তার “নি” সোনাকে উদ্ধার করেছিল সেদিন।”
স্যাসের হার্ডডিস্কে বিস্ফোরণ ঘটার পর,স্ক্রীণে একটা লেখা ফুটে উঠতে দেখেছিলাম।

“নি,সোনা আমার…. বড্ড ভাল থাকিস তুই।”

(সমাপ্ত) about cialis tablets

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন * can levitra and viagra be taken together

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

doctorate of pharmacy online
all possible side effects of prednisone
irbesartan hydrochlorothiazide 150 mg
side effects of drinking alcohol on accutane