শৈশবে হুমায়ুন

305

বার পঠিত

হুমায়ূন আহমেদ, আমাদের সকলেরই পরিচিত একটি নাম। শুধু কি পরিচিত! খুব প্রিয় একটি মানুষ তিনি। তার হৃদয়স্পর্শী লেখা দিয়ে তিনি আমাদের কাঁদিয়েছেন, আবার হাসিয়েছেনও। কখন বা নিয়ে গিয়েছেন কল্পনার জগতে। পরপারে চলে যাওয়া লেখক হুমায়ূন সম্পর্কে আমরা কম বেশি সকলই জানি, কিন্তু তার শৈশব নিয়ে কতটুকুই বা জানি? শৈশবের হুমায়ূন কেমন ছিলেন, মনে এমন প্রশ্ন আসাটা অস্বাভাবিক নয়।

হুমায়ূন আহমেদ তার শৈশব কেমনে করে কাটিয়েছেন, তিনি কি সারাদিন বই পড়তেন, তিনি কি খুব শান্ত ছিলেন নাকি ছিলেন দুরন্ত? এসব প্রশ্ন চলে আসে যখন আমরা তার শৈশবের কথা ভাবি। তিনি ছিলেন তার বাবা মায়ের প্রথম সন্তান। ছেলেবেলায় তার বাবা ফয়জুর রহমানের নামের সাথে মিল রেখে তার নাম রাখা হয়েছিল শামসুর রহমান। বিভূতি ভূষণের লেখা পথের পাঁচালি বই’য়ের অপুর স্ত্রীর মৃত্যুর পর তার ছেলের নাম রাখা হয়েছিল কাজল। এদিকে হুমায়ূনের মা দ্বিতীয় বারের মত টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে ডাক্তার তার বেচে থাকার আশা ছেড়ে দেন। এ কারণে তার ডাক নাম রাখা হল কাজল। nolvadex and clomid prices

শামসুর রহমান থেকে হুমায়ূন আহমেদ হবার ঘটনাটা খুবই মজার। হুমায়ূন আহমেদের বাবা তার সন্তানদের নাম বদলাতে ভালবাসতেন। হুমায়ূনের বয়স যখন ছয় পেরিয়ে সাত হল তখন তার নাম রাখা হল হুমায়ূন আহমেদ। এর দু বছর পর আবার তার বাবা নাম বদলাতে চাইলে তার কঠোর আপত্তির কারণে আর বদলাতে পারেন নি ফয়জুর রহমান।

স্কুল জীবনের প্রথম দিন। এদিনটি প্রায় সবারই মনে থাকে। আমাদের প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ এর স্কুল জীবনের প্রথম দিনটি ছিল খুব মজার। তার দুরন্তপনা ও দুষ্টুমি বন্ধ করবার জন্য তাকে স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করে দেয়া হয়। এ উপলক্ষে তাকে একটি খাকি রঙের প্যান্ট কিনে দেয়া হয়। কিন্তু মজার ব্যাপার হল সেই প্যান্টে কোন জিপার ছিল না। তাই ভেতরের সব কিছুই দেখা যেত অনায়াসে। স্কুলের প্রথম দিনে তাকে শ্রেণী কক্ষে নেয়া হল। তখন মেঝেতে পাটি বিছিয়ে ছাত্রছাত্রীদের বসবার ব্যবস্থা করা ছিল। তিনি দেখে সবচেয়ে সুন্দর মেয়েটির পাশে বসলেন। মেয়েটি সিলেটী ভাষায় তাকে তুই সম্বোধন করে বলল ‘তোর প্যান্টের ভেতরে সব দেখা যায়’ ক্লাসের সবাই হেসে ফেলল। মেয়েদের উপর তা আর হাত তোলা যায় না। আমাদের হুমায়ূন তখন ঝাঁপিয়ে পড়লেন সেই ছেলেটির উপর যে কিনা সবচেয়ে বেশি হেসেছিল। ছেলেটির একটি দাঁত ভেঙ্গে ফেলেছিলেন তিনি। শাস্তি হিসেবে পুরো ক্লাস কানে ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল তাকে। এর পরদিন মেয়েদের মাঝে বসবার কারণে আবার কানে ধরে দাঁড়িয়ে থাকা। কানে ধরে দাঁড়িয়ে থাকাটা বলা হয় দানে দানে তিন দান। তৃতীয় দিন বালক হুমায়ূনকে কানে ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। তার অপরাধ ছিল সহপাঠীর স্লেট ভেঙ্গে ফেলা। এরপর থকে কানে ধরে দাঁড়িয়ে থাকাটা রীতিতে রূপ নেয়। প্রথম শ্রেণী পুরোটা তিনি কানে ধরে দাড়িয়েই কাটিয়েছেন।

বৃষ্টিতে ভিজতে কার না ভালো লাগে বলতো? আচ্ছা বৃষ্টি নিয়ে আমাদের কোন স্মৃতি নেই এমন কি হতে পারে? নিশ্চয়ই না। আর আমাদের সবার প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ এর শৈশবে বৃষ্টি নিয়ে স্মৃতি থাকবে না তা কি করে হয়! হুমায়ূন আহমেদ তাঁর শৈশব নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু বই এ। বৃষ্টি নিয়ে তাঁর একটি স্মৃতির কথা তিনি লিখেছেন কিছু শৈশব  বই এ। প্রেক্ষাপট অনেকটা এমন ছিল যে, পাঁচটা চিনামাটির প্লেট ভাঙ্গার শাস্তি হিসেবে সাধারণ চড়-থাপ্পড় তার উপর কোন প্রভাব বিস্তার করতো না। তাই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাকে মানসিক শাস্তি দেয়ার। তাই তাকে শাস্তি দেয়া হয় ছুটির দিনে ঘরে আটকে রাখবার। যথারীতি তাকে ঘরে আটকে রাখা হয়। সে দিন বৃষ্টি হচ্ছিল ঝুম বৃষ্টি। মন মরা হয়ে তিনি জানালার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তার তদারকিতে আবার মাঝে মাঝেই দেখে যাচ্ছিল পরিবারের অন্য সদস্যরা ও কাজের ছেলে রফিক। খাবার খাবার জন্য তাকে মুক্তি দেয়া হলে তিনি দৌড়ে বাইরে চলে যান। বৃষ্টিতে ভিজেন, মাঠে যান, মাঠের নিচু জায়গার জমাট বাধা পানিতে লাফা লাফি করেন। এর পর তাকে ধরে আনার জন্য পাঠানো হয় রফিককে। কিন্তু রফিক তাকে ধরে আনার বদলে তারই সাথে ভিজতে থাকেন বৃষ্টিতে। রফিকের নেতৃত্বে বৃষ্টি বিলাস উদযাপনের আরও অংশ হল সিলেটের মীরাবাজারেরই প্রফেসর সাহেবের বাসার আম বাগানের পড়ে থাকা আম কুড়ানো সহ আরও কিছু। বৃষ্টিতে ভিজে বাসায় ফিরলে তাদের বিচার হবার কথা থাকলেও কোন এক কারণে তা হয়ে ওঠে  নি।

হুমায়ূন আহমেদ ছোট থেকেই ছিলেন খুব দুষ্টু ও অভিমানী। তাকে তাঁর দুষ্টুমির জন্য কম শাস্তি পেতে হয়নি! তাকে শাস্তি হিসেবে চড় থাপ্পড় দেয়া হল না। তাঁকে শাস্তি দেবার জন্য যা করা হত তা হল এক হাতে তাঁকে কুয়ায় ঝুলিয়ে রাখা হত। এ কথা তাঁর বাবা জানতেন না। তিনি জানবার পর এ শাস্তি দিতে নিষেধ করে দেয়া হয়। এছাড়া তিনি মাকড়সা খুব ভয় পেতেন। শুধু তিনি নয় তাঁর সব ভাই বোনই মাকড়সা খুব ভয় পায়। তিনি ঘুমাতে না চাইলে তাঁর মা তাঁর মেঝো চাচাকে ডাকতেন। তিনি হুমায়ূনকে কোলে করে নিয়ে যেতেন বাড়ির উঠানে কাঁঠাল গাছের কাছে। সেখানে বড় বড় মাকড়সা ছিল। তিনি মাকড়সা দেখে ঘুমিয়ে যেতেন।

একটু মনে করি তো, আমাদের কোন এক বন্ধু আমাদের কিছু বলল আর আমরা তা বিশ্বাস করে কান্না জুড়ে বসলাম। এমন তো আমাদের সাথে কতই হয়েছে হুমায়ূন আহমেদ এর শৈশবে এমন টি হয়েছিল, তিনিও ব্যতিক্রম নন। তার ছেলেবেলার খেলার সাথী টগর। খেলাধুলা মারামারিতে অপটু হলেও জ্ঞান দানে পারদর্শী সে। টগর একদিন শিশু হুমায়ূন কে বলল ‘আমার গায়ের রঙ কালো, আল্লাহ আমাকে বানিয়েছেন মাটি দিয়ে। আর তোদের গায়ের রঙ সাদা আল্লাহ তোদের বানিয়েছেন গু দিয়ে। বিশ্বাস না হলে ভাল করে গায়ের গন্ধ শুকে দেখ’ হুমায়ূন নিজের গায়ের গন্ধ শুকলো, সত্যি গু’এর মত গন্ধ আসছে। তিনি বিশ্বাস করে ফেললেন যে আল্লাহ তাকে গু দিয়ে বানিয়েছে। বাসায় গিয়ে তিনি তার মাকে জিজ্ঞেস করলেন আল্লাহ তাকে গু দিয়ে বানিয়েছেন কি না। এ নিয়ে বাসায় বিশাল হাসাহাসি হয়ে গেল। missed several doses of synthroid

টগরের জ্ঞান দানের আরেকটি ঘটনা হল টগর বলেছিল আকাশ দিয়ে যখন প্লেন উড়ে যায় তখন যেন সবাই গাছ তলায় আশ্রয় নেয় অথবা বাড়ি চলে যায়। এর কারণ হল আকাশ দিয়ে প্লেন যাবার সময় কেউ যদি টয়লেট ব্যবহার করে তবে সেই  বর্জ্য নিচে পড়বে। ঠিক ট্রেনে যেমনটি পড়ে। সবাই তা বিশ্বাস করে এবং তারপর থেকে যখনই আকাশ দিয়ে প্লেন উড়ে যেত, তখনই সবাই ছুটে পালাত মাথার উপর পায়খানা পড়ার ভয়ে। হুমায়ূন আহমেদ তার কিছু শৈশব বইয়ে টগর বললেও আমার ছেলেবেলা বই’য়ে এই বন্ধুটির নাম বলেছেন ‘উনু’।

সিলেট থেকে ফয়জুর রহমান প্রমোশন পেয়ে বদলি হন দিনাজপুরের জগদ্দলে। সে সময় দেশে খুব খাদ্যাভাব দেখা দেয়। সিলেটে মীরাবাজারে হুমায়ূনদের বাড়ির পাশে মাঠে লঙ্গরখানা খোলা হল। সেখানে ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দেয়া হয়। বড় বড় ডেকচিতে রান্না হত খিচুরি। হুমায়ূন দুপুরে সেখানেই খেতেন। এক দুপুরে তাঁর বোন সেফুকে নিয়ে খাবার খাবার সময় তিনি ধরা পড়েন। তাঁর বাসায় বিচার দেয়া হয়। হুমায়ূন আহমেদের মা খুব রাগ করলেন কারণ তাঁর ছেলে তাঁদের সম্মান নষ্ট করেছে। ফয়জুর রহমান ফিরলে তাঁর কাছে বিচার দেয়া হয়, তিনি হুমায়ূন আহমেদকে কিছুই বললেন না। এর পর ফয়জুর রহমান হুমায়ূনের মাকে বলেছিলেন ‘চল আমরা একদিন দুপুরে খেয়ে আসি’।

স্কুলের পড়া লেখার প্রতি তাঁর মন কখন আকৃষ্ট হয়নি। কিন্তু তিনি ছিলেন অনেক মেধাবী একজন ছাত্র। ঘটনা টা তখনকার যখন তিনি ছিলেন তৃতীয় শ্রেণীতে। তাঁর বন্ধু সংকরের মা সংকরকে বলেছিল সে যদি পাশ করে চতুর্থ শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হতে পারে তবে তাঁকে ফুটবল কিনে দেয়া হবে। হুমায়ূন আহমেদ একথা শুনবার পর শঙ্করকে পড়াতে লাগলেন। এজন্য তাঁকে আগে নিজের পড়ে নিতে হল। শঙ্কর পাশ না করলেও স্কুলের সব শিক্ষক শিক্ষিকাকে চমকে দিয়ে তিনি হয়েছিলেন প্রথম। কিন্তু পাশ করেন নি তাই ফুটবল পাবেন না তাঁরা এজন্য বাড়ি ফিরেছিলেন কাঁদতে কাঁদতে। পরে অবশ্য শঙ্করকে বিশেষ বিবেচনায় পরবর্তী শ্রেণীতে প্রমোশন দেয়া হয়। চৌকশ এ ছাত্র মেট্রিক পরীক্ষায় পাঁচটি বিষয়ে লেটার পেয়ে বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন।

হুমায়ূনের শৈশব কেটেছে সুখ দুঃখের মিশ্রণে। নানাবাড়িতে কাটিয়েছেন স্বাধীন সময় পক্ষান্তরে দাদাবাড়ীতে দাদার কড়া শাসন। বাবার বার বার বদলির কারণে যেতে হয়েছে বহু যায়গায়। বড় মামার গল্প শুনে পার করেছেন বহু সময়। অর্থাভাবে কেটেছে তাঁর শৈশবের দিন গুলো, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তির উপার্জন যথেষ্ট না থাকায় অতি সাধারণ জীবন অতিবাহিত করতে হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের পরিবারকে।

শৈশবের দুরন্ত হুমায়ূন আহমেদ পরবর্তীতে তাঁর দুর্দান্ত সব লেখনীর কারণে জায়গা করে নিয়েছে সকলের মনে। তিনি ছোট বেলায় জন্মদিন উৎসব পালন করতে চাইলে তাঁর বাবা তাঁকে বলেছিলেন এমন কিছু হবার চেষ্টা কর যেন সারা দেশ তোমার জন্মদিন পালন করে। আজ হুমায়ূন আহমেদ শুধু হুমায়ূন আহমেদ নয়। তিনি আমাদের সকলের প্রিয়  হুমায়ূন। আজ আমরা ঘটা করে পালন করি তাঁর জন্মদিন উৎসব, নিজেদের ভাবি তাঁর জন্ম দেয়া হিমু হিসেবে। তিনি এ পর্যায়ে এসেছেন শুধু তাঁর প্রতিভার কারণে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ‘টিনের ছোট ছিদ্র দিয়েও সূর্যালোক প্রবেশ করে’ হুমায়ূন আহমেদ তা প্রমাণ করে গিয়েছেন।

একজন অনন্য অসাধারণ কথাসাহিত্যিক হবার পরেও হুমায়ূন আহমেদের শৈশব ছিল আর দশটা দুরন্ত শৈশবের মতই। তার সেই অসম্ভব দুরন্ত ছেলেবেলাই জানান দিচ্ছিল  একজন জীবন সংসারের একজন কালজয়ী শিল্পীর আগমনবার্তা। তিনি বেচে রইবেন আমাদের হৃদয়ে, অমলিন হয়ে, চিরকাল।

You may also like...

  1. খুবই ভালো লিখেছেন। প্রিয় ব্যক্তিত্ব হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে জানতে পারলাম অনেক কিছু :)

  2. ঘটনাগুলো সুন্দর করে সাজিয়ে লিখেছেন, পড়তে খুব ভালো লাগলো… >:D< কথাজাদুকর হুমায়ূনের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা… ^:)^

    নিয়মিত আরও লেখা চাই আপনার… :-w

    tome cytotec y solo sangro cuando orino
  3. হুমায়ুন আহমেদের শৈশব নিয়ে লেখার পরিমাণ আসলেই কম। ধন্যবাদ আপনাকে সেদিকে দৃষ্টিপাত করার জন্য।

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

wirkung viagra oder cialis

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong> ovulate twice on clomid

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

thuoc viagra cho nam
will i gain or lose weight on zoloft