শহীদ জননী জাহানারা ইমাম

425

বার পঠিত tome cytotec y solo sangro cuando orino

কথাসাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং ঘাতক দালাল বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ১৯২৯ সালের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন। একাত্তরে তার জ্যেষ্ঠ পুত্র শফি ইমাম রুমী কয়েকটি গেরিলা অপারেশনের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। পরবর্তী সময়ে নির্মমভাবে শহীদ হন। বিজয় লাভের পর রুমীর বন্ধুরা রুমীর মা জাহানারা ইমামকে সকল ‘মুক্তিযোদ্ধার মা’ হিসেবে বরণ করে নেন। রুমীর শহীদ হওয়ার সূত্রেই তিনি “শহীদ জননী”র মযার্দায় ভূষিত হন।

জন্ম, শৈশব ও শিক্ষাঃ
জাহানারা ইমামের জন্ম ১৯২৯ সালের ৩ মে মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে। ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের রক্ষণশীল বাঙালী মুসলমান পরিবার বলতে যা বোঝায়, সেরকম একটি পরিবারেই তিনি জন্মেছিলেন। তাঁর পুরো নাম জাহানারা বেগম ওরফে জুড়ু। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।পরে জুড়ু-কে জাহান নামে ডাকা হতো। জাহানারা যখন কিশোরী, তখন খুব পর্দা মানতে হতো মেয়েদের। কোথাও যেতে হলে বাহন ছিল গরুর গাড়ি। বিশাল পরিবার ছিলো তাঁদের। একান্নবর্তি না হলেও শব-ই-বরাত থেকে রোজা-বকরী ঈদ-টানা তিন চার মাস গ্রামে দাদার বাড়িতে গিয়ে থাকতে হতো সবাইকে। দশ থেকে বারো বছর বয়স পর্যন্ত জাহানারার কেটেছে কুড়িগ্রামে। কুড়িগ্রামে থাকাকালীন জাহানারা ফ্রক পরে রীতিমতো সাইকেল চালিয়ে হুল্লোড়ে মেতে থাকতেন। জাহানারার বয়স বারো পেরোতেই সাইকেল চালানো বন্ধ হয়ে গেলো। নিষিদ্ধ হয়ে গেলো বাড়ির বাইরে পা ফেলা। বাবার বদলির চাকরির সুবাদে জায়গা বদল করতে হয়েছে বহুবার- কখনো সেতাবগঞ্জ, কখনো ঠাকুরগাঁ, কখনো খেপুপাড়া।
বয়ঃসন্ধিকালে জাহানারার প্রধান আশ্রয় ছিলো বই। নভেল। ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট বাবার কল্যাণে বাড়িতে নিয়মিত আসতো পত্রপত্রিকা। জাহানারার পাঠতৃষ্ণাকে উসকে দিয়েছিল দৈনিক আনন্দবাজার, অমৃতবাজার, আজাদ, ষ্টেটসম্যান, সাপ্তাহিক শনিবারের চিঠি, ইলাষ্ট্রেটেড উইকলি অব ইন্ডিয়া, মাসিক ভারতবর্ষ, প্রবাসী, বসুমতি আর মোহাম্মদী। বাড়িতে কলের গান ছিলো। আর ছিলো হারমোনিয়াম। সপ্তাহে দু’দিন গানের মাস্টার এসে গান শিখিয়ে যেতেন। এ সময় জাহানারার সকাল দুপুর সন্ধ্যা ছিলো মাস্টার দিয়ে ঠাঁসা। একজন মাসলা-মাসায়েল শরা শরীয়তে হেদায়েত করেন তো আরেক জন আসেন উর্দু পড়াতে। পাঠ্য বইয়ের মাস্টার তো আছেনই। এ সময় জাহানারার জীবনে বিনোদন বলতে শুধু কলের গান। তাঁর বাবা হিজ মাস্টারস ভয়েস-এর একটা গ্রামোফোন ও রেকর্ড কিনে আনবার পর আঙ্গুরবালা, ইন্দুবালা, হরিমতী, কৃষ্ণচন্দ্র দে, কমলা ঝরিয়া, আব্বাসউদ্দিন আহমদ, কনক দাস, শাহানা দেবী, যুথিকা রায়ের গান হয়ে উঠলো বিনোদনের সঙ্গী। গ্রামের দুরন্ত কিশোরী জাহানারাকে মটকা চাচা (বাবার বন্ধু) বেছে বেছে এমন সব বই উপহার দিতেন যেগুলো তাঁর মেধা ও মননের জগৎকে আলোকিত করেছে। দৃষ্টিকে করেছে দিগন্তবিস্তৃত। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, নারী শিক্ষা আন্দোলন, মুসলিম সমাজের জাগরণের প্রচেষ্টা, বেগম রোকেয়ার সাধনা- এসব বিষয়ের ওপর রচিত বইগুলো মটকা চাচাই নিয়ে আসতেন জাহানারার জন্যে। আর বাংলা সাহিত্য এবং বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে জাহানারার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন একজন গৃহশিক্ষক। জাহানারা তখন ক্লাস সেভেনের ছাত্রী। গৃহশিক্ষকের দায়িত্ব ছিলো ইংরেজী, বাংলা, অঙ্ক, ভূগোল আর ইতিহাস পড়ানোর। এই মাস্টারমশাই ছিলেন সাহিত্যপাগল। এই মাস্টারমশাই-এর কল্যাণেই, ওই বয়সেই টলস্টয়, ডস্টয়েভস্কি, ভিকটর হুগো, সেলমা লেগারলফ, শেক্সপীয়র, বার্নাড শ, ন্যুট হামসুন-এর অনেক বইয়ের বাংলা অনুবাদ জাহানারার পড়া হয়ে গিয়েছিলো। রবীন্দ্রনাথ এবং শান্তিনিকেতন বিষয়েও জাহানারাকে প্রবলভাবে আগ্রহী করে তুলেছিলেন মাস্টারমশাই। জাহানারার স্বপ্ন ছিলো- বড় হয়ে শান্তিনিকেতনে পড়তে যাবে। কিন্তু সে স্বপ্ন তাঁর সফল হয়নি। মটকা চাচা বাবাকে বলে কয়ে রাজিও করিয়ে ফেলেছিলেন। ডাকযোগে শান্তিনিকেতনে ভর্তির প্রসপেকটাসও এসে পড়েছিলো। কিন্তু ১৯৪১ সালের ৯ আগস্ট পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর খবর পড়ে জাহানারার শান্তিনিকেতন যাবার স্বপ্নেরও মৃত্যু ঘটলো।
বাড়িতে বাবার কাছেই তাঁর শিক্ষা জীবনের শুরু। শিক্ষা জীবনে তাঁর বাবা সব ধরনের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। পড়াশুনা করতে জাহানারার ভালো লাগতো না। ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়তেই তিনি অস্থির- আর পড়বেন না এরকম একটা সিদ্ধান্ত যখন প্রায় পাকা, তখনই মটকা চাচার (বাবার বন্ধু) কাছে পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর উচ্চ শিক্ষিতা, সভা- সমিতিতে বক্তৃতা দিতে পটু এবং সাহেব-সুবোদের সঙ্গে কথাবার্তায় চৌকস বোন বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিতের ছবি দেখে মুগ্ধ জাহানারা সিদ্ধান্ত পাল্টালেন- ‘আমিও বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিতের মতো লেখাপড়া শিখব।’-এভাবেই একজন বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত গাঁয়ের দুরন্ত কিশোরী জাহানারা বেগম ওরফে জুড়ুর জীবনে প্রেরণার উৎস হয়ে তাঁর চিন্তায় মননে ও মেধায় জ্বেলে দিয়েছেন আলোর প্রদীপ।
জাহানারা ষষ্ঠ শ্রেণীর দরজা উতরে গেলেন। তারপর স্কুলে যাওয়া বন্ধ। কারণ, তখন কুড়িগ্রামে মেয়েদের স্কুল ছিল না তাই ছেলেদের স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে জাহানের নাম থাকবে। সময়মতো তিনি পরীক্ষাও দেবেন; কিন্তু ক্লাস করতে হবে না। বাড়িতে অবশ্য শিক্ষক নিয়োগ করা হলো। দু’জন শিক্ষক। তাঁরা দু’বেলা এসে জাহানারাকে পড়িয়ে যান। ১৯৪১ সালে কুড়িগ্রাম থেকে বদলি হয়ে তাঁরা চলে এলেন লালমনিরহাটে। লালমনিরহাটে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেবার সেন্টার ছিলো না। জাহানারা ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিলেন রংপুর থেকে। দ্বিতীয় বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করলেন জাহানারা ১৯৪২ সালে। ম্যাট্রিক পাস করে জাহানারা ভর্তি হলেন রংপুর কারমাইকেল কলেজে। সেখান থেকে আই.এ. পাস করে ১৯৪৫ সালে ভর্তি হন কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ন কলেজে। লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে বি.এ. পাস করেন ১৯৪৭ সালে। ১৯৬০ সালে বি.এড. ডিগ্রি অর্জন করেন টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণীতে। ১৯৬৪ সালে ফুলব্রাইট স্কলারশীপ পেয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সানডিয়াগো স্টেট কলেজ থেকে সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে ১৯৬৫ সালে বাংলায় এম.এ. পাস করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। capital coast resort and spa hotel cipro

কর্মজীবনঃ
জাহানারা ইমামের কর্মজীবন শুরু হয় শিক্ষকতার মাধ্যমে। সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে ১৯৪৮-১৯৪৯ পর্যন্ত তিনি ময়মনসিংহ- এর বিদ্যাময়ী গার্লস হাই স্কুলে কর্মরত ছিলেন। বিয়ের পর ঢাকায় এসে ১৯৫২ সালে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলে সরাসরি প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৬০ সাল পর্যন্ত তিনি এ পদে আসীন ছিলেন। এরপর তিনি বুলবুল একাডেমির কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষয়িত্রী সহ আরও দুইটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। ১৯৬৪ সালে ফুলব্রাইট স্কলার জাহানারা ইমাম আমেরিকা থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এসময় জাহানারা ইমাম নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বাংলা একাডেমীর কার্যনির্বাহী পরিষদে জুলাই ১৯৮০ সাল থেকে জুলাই ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সদস্য ছিলেন। ক্যান্সার অপারেশনের আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ইনস্টিটিউটে খন্ডকালীন চাকরি করেছেন। এছাড়াও জাহানারা ইমাম ১৯৬০ সালে এডুকেশনাল বোর্ডের প্রতিনিধি হয়ে সিলেবাস সেমিনারে যান পশ্চিম পাকিস্তানের পেশোয়ারে। পাকিস্তান অলিম্পিক গেমস্-এ খেলোয়াড়দের নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। জাহানারা ইমাম ‘গার্লস গাইড’, ‘পাকিস্তান উইমেন্স ন্যাশনাল গার্ড’, ‘খেলাধুলা’, ‘অল পাকিস্তান উইমেন্স এসোসিয়েশন’ এবং বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি ঢাকা বেতারে উপস্থাপিকা হিসেবে অনেক দিন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন। জাহানারা ইমাম বাংলাদেশ টেলিভিশনে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন। তিনি ‘ব্রিটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরি মঞ্চে’ শেক্সপিয়ারের একটি নাটকে অভিনয়ও করেছিলেন।

সংসার জীবনঃ
রংপুরের মুন্সিপাড়ার মোহাম্মদ আলী উকিলের কনিষ্ঠ ছেলে শরীফ। এই শরীফের সঙ্গে জাহান-এর একসময় হৃদয় বিনিময় হয়ে যায়। সেকালে দুজন তরুণ-তরুণীর প্রেম ভালোবাসা ব্যাপারটি এখনকার মতো এতোটা সহজ স্বাভাবিকভাবে দেখা হতো না। বিষয়টি উভয় পরিবারে আলাপ আলোচনার পর শরীফ-জাহানারার প্রেম অবশেষে পারিবারিক স্বীকৃতি পেলো।
শরীফুল আলম ইমাম আহমদের সঙ্গে জাহানারা বেগমের বিয়ে সম্পন্ন হলো ১৯৪৮ সালের ৯ আগস্ট। শরীফ ইমাম ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার।
১৯৫১ সালের ২৯ মার্চ জাহানারা ইমামের কোল জুড়ে আসে শাফী ইমাম রুমী। এই রুমীই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন দুঃসাহসী গেরিলার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে অমানুষিক নির্যাতন ভোগ করে শাহাদৎ বরণ করেন। স্বাধীনতার পর শহীদ রুমী বীরবিক্রম (মরণোত্তর) উপাধিতে ভূষিত হন। প্রাণপ্রিয় সন্তান রুমীকে ঘিরেই জাহানারা ইমাম রচনা করেন অমর গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’। জাহানারা ইমামের স্বামী শরীফ ইমামকেও পাকিস্তানী হানাদাররা নির্মম নির্যাতন করে আহত অবস্থায় মুক্তি দেয়। বিজয়ের মাত্র একদিন আগে শরীফ ইমাম হৃদরোগে ইন্তেকাল করেন।
জাহানারা ইমামের জীবিত একমাত্র সন্তান সাইফ ইমাম জামীর জন্ম ১৯৫৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর। জামী বর্তমানে বিদেশিনী স্ত্রী ও দুই কন্যাসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

রাজনৈতিক জীবনঃ
ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি সচেতন ছিলেন জাহানারা ইমাম। কলেজের সহপাঠী অঞ্জলির কাছে কমিউনিজমের পাঠ নেন তিনি। তাঁর বাবা মেয়ের হাতে কমিউনিস্টদের পত্রিকা ‘জনযুদ্ধ’ দেখে ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। মেয়ে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকুক এটা তাঁর বাবা চাননি। স্বামী শরীফও চাননি। তাই রাজনীতির সাথে যুক্ত হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কিন্তু একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কেড়ে নিলো তাঁর বুকের মানিক রুমীকে, প্রিয়তম স্বামী শরীফকে। পুত্র এবং স্বামী হারানোর কষ্টকে বুকে ধারণ করে বেঁচে ছিলেন তিনি।
আশির দশকের শুরুতে, ১৯৮২ সালে তিনি আক্রান্ত হলেন দুরারোগ্য ব্যাধি ওরাল ক্যান্সারে। প্রতি বছর একবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হতো তাঁকে। এভাবেই কাটছিল তাঁর দিন। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ছিল তার সপ্রতিভ উপস্থিতি। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে যাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী, যারা সন্তান শহীদ রুমীকে পাক বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল সেই স্বাধীনতা বিরোধী চক্র একাত্তরের ঘাতক দালাল রাজাকার আলবদর তথা জামায়াত বিভিন্ন সামরিক সরকারের ছায়ায় লালিত পালিত হয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে এমন একটা অবস্থানে চলে আসলো বিএনপি কে সরকার গঠন করতে হলো জামায়াতের সমর্থনে। সরকার গঠনে সমর্থন দিয়ে তারা আবারও উঠে পড়ে লাগলো একাত্তরের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে শুরু হলো রগ কাটার পৈশাচিক রাজনীতি। তাঁদের পৈশাচিকতা জাতিকে আবারও স্মরণ করিয়ে দিলো একাত্তরের দুঃসহ দিনগুলির কথা। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের লোভ ও অদূরদর্শিতার কারণে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র একাত্তরের ঘাতক, দালাল, রাজাকার, আলবদরদের ক্রমশ উত্থান একজন শহীদ মাতা হিসেবে তাঁকে বিচলিত করে তুলেছিলো। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী- মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির এই উত্থানকে রুখে দিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়ালেন জাহানারা ইমাম, আশ্চর্য সাংগঠনিক দক্ষতায়। মাতৃত্ব থেকে অবলীলায় তিনি চলে এলেন নেতৃত্বে।

গণ আদালত ও জাহানারা ইমামঃ
১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারী ১০১ সদস্যবিশিষ্ট ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ গঠিত হয় জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে। এরপর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী প্রতিরোধ মঞ্চ, ১৪টি ছাত্র সংগঠন, প্রধান প্রধান রাজনৈতিক জোট, শ্রমিক-কৃষক-নারী এবং সাংস্কৃতিক জোটসহ ৭০টি সংগঠনের সমন্বয়ে পরবর্তীতে ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ গঠনে তিনিই মূল ভূমিকা রাখেন। আহ্বায়ক নির্বাচিত হন জাহানারা ইমাম। দেশের লাখ লাখ মানুষ শামিল হয় নতুন এই প্লাটফর্মে। এই কমিটি ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ ‘গণআদালত’-এর মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একাত্তরের নরঘাতক গোলাম আযমের ঐতিহাসিক বিচার অনুষ্ঠিত করে। গণ আদালতে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দশটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ১২ জন বিচারক সমন্বয়ে গঠিত গণআদালতের চেয়ারম্যান জাহানারা ইমাম গোলাম আযমের ১০টি অপরাধ মৃত্যুদণ্ড যোগ্য বলে ঘোষণা করেন। সমবেত লক্ষ লক্ষ মানুষের পক্ষ থেকে জাহানারা ইমাম গণ আদালতের রায় কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। এই গণ আদালতের সদস্য ছিলেন- এডভোকেট গাজীউল হক, ড.আহমদ শরীফ, স্থপতি মাজহারুল ইসলাম, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, বেগম সুফিয়া কামাল, কবীর চৌধুরী, কলিম শরাফী, শওকত ওসমান, লেঃ কর্নেল (অবঃ) কাজী নুরুজ্জামান, লেঃ কর্নেল (অবঃ) আবু ওসমান চৌধুরী এবং ব্যারিস্টার শওকত আলী খান। সেদিন পুলিশ ও বিডিআরের কঠিন ব্যারিকেড ভেঙ্গে বিশাল জনস্রোত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢুকে পড়েছিলো। সেই বিশৃঙ্খল পরিবেশে বর্ষীয়ান কবি বেগম সুফিয়া কামাল ও কথাশিল্পী শওকত ওসমানকে গণআদালত মঞ্চে (ট্রাকে) উপস্থিত করা সম্ভব হয়নি বলে মাওলানা আবদুল আউয়ালকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে গণআদালত সদস্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
গণআদালত অনুষ্ঠিত হবার পর সরকার ২৪জন বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ জাহানারা ইমামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে অ-জামিনযোগ্য মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ২৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করেন। তারপর লাখো জনতার পদযাত্রার মাধ্যমে জাহানারা ইমাম ১২এপ্রিল ১৯৯২ গণ আদালতের রায় কার্যকর করার দাবী সংবলিত স্মারকলিপি নিয়ে জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পীকার, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার কাছে পেশ করেন। চিন্তায় চেতনায় মননে ও মেধায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালনকারী ১০০ জন সাংসদ গণ আদালতের রায়ের পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করলে আন্দোলনে যুক্ত হয় নতুন মাত্রা। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর, গণ সমাবেশ, মানববন্ধন, সংসদ যাত্রা, অবস্থান ধর্মঘট, মহা সমাবেশ ইত্যাদি কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে আন্দোলন আরো বেগবান হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে সরকার ৩০ জুন ১৯৯২ সংসদে ৪ দফা চুক্তি করতে বাধ্য হয়। তবে এ চুক্তি কার্যকর হয়নি আজও। ২৮ মার্চ ১৯৯৩ নির্মূল কমিটির সমাবেশে পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জে আহত হন জাহানারা ইমাম। তিনি প্রায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান রাজপথে। সহযোদ্ধারা তাঁকে ধরাধরি করে নিয়ে যান পিজি হাসপাতালে। ক্যান্সার আক্রান্ত বর্ষীয়ান শ্রদ্ধেয়া জননেত্রী চিকিৎসকদের আন্তরিক সেবায় সেরে ওঠেন। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমনকি বিদেশেও গঠিত হয় নির্মূল কমিটি এবং শুরু হয় ব্যাপক আন্দোলন। পত্র পত্রিকায় সংবাদ শিরোনাম হয়ে উঠলে আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন জাহানারা ইমাম।
গোলাম আযমসহ একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবির আন্দোলনকে সমর্থন দেয় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে। ২৬ মার্চ ১৯৯৩ স্বাধীনতা দিসবে গণ আদালত বার্ষিকীতে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণ তদন্ত কমিটি ঘোষিত হয় এবং আরো ৮ জন যুদ্ধাপরাধীর নাম ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৪ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে গণ আদালতের ২য় বার্ষিকীতে গণ তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান কবি বেগম সুফিয়া কামাল ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের সামনে রাজপথের বিশাল জনসমাবেশে জাহানারা ইমামের হাতে জাতীয় গণ তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট হস্তান্তর করেন। গণ তদন্ত কমিশনের সদস্যরা হচ্ছেন- শওকত ওসমান, কে এম সোবহান, সালাহউদ্দিন ইউসুফ, অনুপম সেন, দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য, খান সারওয়ার মুরশিদ, শামসুর রাহমান, শফিক আহমেদ, আবদুল খালেক এবং সদরুদ্দিন। এই সমাবেশে আরো ৮ জন যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে তদন্ত অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়া হয়।

মহা নায়িকার মহা প্রয়ানঃ
খুব দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে ২ এপ্রিল ১৯৯৪ চিকিৎসার জন্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান ডেট্রয়েট হাসপাতালের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন জাহানারা ইমাম। ২২ এপ্রিল ওখানকার চিকিৎসকরা জানান, চিকিৎসার আওতার সম্পূর্ণ বাইরে চলে গেছেন তিনি। মৃত্যুশয্যায় শায়িত থেকেও মনোবল হারাননি জাহানারা ইমাম। হাসপাতালের শুভ্র বিছানায় শায়িত থেকেও কাঁপা কাঁপা অস্পষ্ট হাতে ডায়রি লিখতেন। বাকশক্তি হারিয়ে কথা বলা বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো তাঁর। এ সময় ছোট ছোট চিরকুট লিখে প্রিয়জনদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কথাবার্তা চালিয়ে যেতেন। সুলিখিত চিঠিতে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিতেন আন্দোলন বিষয়ে। রসিকতাও করতেন ঐ চিরকুটের মাধ্যমেই। ২২ জুনের পর থেকে শহীদ জননীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে। অবশেষে দেশবাসীকে অশ্রুসাগরে ভাসিয়ে ২৬ জুন ১৯৯৪ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় মিশিগানের ডেট্রয়েট নগরীর সাইনাই হাসপাতালে ৬৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক শহীদ জননী জাহানারা ইমাম।
৪ জুলাই বিকেলে শহীদ জননীর মরদেহ বাংলাদেশে আসে এবং ৫ জুলাই সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদ জননীর কফিন রাখা হয় জনগণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্যে। দুপুরে যোহরের নামাযের পর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাযে জানাযা শেষে শহীদ জননীকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা গোরস্থানে সমাহিত করা হয় এ সময় মুক্তিযুদ্ধের ৮জন সেক্টর কমান্ডার শহীদ জননীকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। walgreens pharmacy technician application online

শহীদ জননীর সাহিত্যকর্ম :
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম একজন সু সাহিত্যিকও ছিলেন। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে লেখক জাহানারা ইমামের আত্মপ্রকাশ। প্রথমে তাঁর পরিচয় ছিলো একজন শিশুসাহিত্যিক হিসেবে। ছোটদের জন্যে খুব প্রয়োজনীয় কয়েকটি বই তিনি অনুবাদ করেন। বইগুলো পাঠক সমাদৃত হয়। তবে ‘একাত্তরের দিনগুলি’ রচনা করে তিনি পৌঁছে যান পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে। তাঁর রচনার মধ্যে রয়েছে-
১। ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয় লরা ইঙ্গলস ওয়াইল্ডারের ‘লিটল হাউস অন দ্য প্রেইরীর’ সিরিজের অনুবাদ ‘তেপান্তরের ছোট্ট শহর’।
২। ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয় একই সিরিজের ‘অন দ্য ব্যাঙ্ক অব প্লাম ক্রীক’ এর অনুবাদ ‘নদীর তীরে ফুলের মেলা’।
৩। ১৯৬৭ সালে সাতটি কিশোর গল্পের সংকলন ‘সাতটি তারার ঝিকিমিকি’ প্রকাশিত হয়।
৪। ১৯৬৮ সালে কনরাড রিক্টার-এর ‘দ্য টাউন’-এর অনুবাদ ‘নগরী’ প্রকাশিত হয়।
৫। ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয় কিশোর উপন্যাস ‘গজকচ্ছপ’।
৬। ১৯৮৩ সালে বিদেশীদের বাংলা শেখার বই ‘এ্যান ইনট্রোডাকশন টু বেঙ্গলী ল্যাংগুয়েজ এ্যান্ড লিটারেচার’ (পার্ট ওয়ান) প্রকাশিত হয়।
৭। ১৯৮৩ সালে ‘ডালাস’ অনুবাদ করেন।
৮। ১৯৮৫ সালে শৈশব এবং যৌবনের স্মৃতিকথা ‘অন্য জীবন’ প্রকাশিত হয়।
৯। ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয় ৭জন বীরশ্রেষ্ঠকে নিয়ে জীবনী গ্রন্থ ‘বীরশ্রষ্ঠ’।
১০। ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয় ‘বুকের ভেতর আগুন’।
১১। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় ডায়েরি আকারে লেখা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় স্মৃতিকথা ‘একাত্তরের দিনগুলি’। এই গ্রন্থটির কারণে জাহানারা ইমাম দেশে- বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন ।
১২। ১৯৮৮ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্পের বই ‘জীবন মৃত্যু’ প্রকাশিত হয় ।
১৩। ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় ‘একাত্তরের দিনগুলি’-র কিশোর সংস্করণ ‘বিদায় দে মা ঘুরে আসি’।
১৪। ১৯৮৯ সালে শেক্সপীয়ারের ‘ট্রাজেডি’-র কিশোর সংস্করণ ‘চিরায়ত সাহিত্য’ প্রকাশিত হয়।
১৫। ১৯৯০ সালে ‘নাটকের অবসানে’ প্রকাশিত হয়।
১৬। ১৯৯০ সালে ‘দুই মেরু’ প্রকাশিত হয়।
১৭। ১৯৯০ সালে ‘নিঃসঙ্গ পাইন’ প্রকাশিত হয়।
১৮। ১৯৯০ সালে ‘নয় এ মধুর খেলা’ প্রকাশিত হয়।
১৯। ১৯৯০ সালে একাত্তরের দিনগুলির ইংরেজি অনুবাদ ‘অব ব্লাড এন্ড ফায়ার’ প্রকাশিত হয়। অনুবাদ করেন প্রয়াত পররাষ্ট্র সচিব মুস্তাফিজুর রহমান।
২০। ‘মূল ধারায় চলেছি’ ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।
২১। ১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘ক্যান্সারের সাথে বসবাস’।
২২। ১৯৯২ সালে ডায়েরি আকারে লেখা স্মৃতিকথা ‘প্রবাসের দিনলিপি’ প্রকাশিত হয়।
সংসার জীবন এবং লেখক জীবনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জাহানারা ইমাম নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছিলেন। সাংবাদিকতার সংগেও যুক্ত ছিলেন। কলাম লিখতেন দৈনিক বাংলায়। টিভি সমালোচনা লিখেছেন সাপ্তাহিক বিচিত্রায়। টেলিভিশনে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে দর্শকদের সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছিলেন মিষ্টভাষী সুদর্শনা জাহানারা ইমাম। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার আগে অর্থাৎ পাকিস্তান টেলিভিশনে প্রায় নিয়মিতই টিভি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন; কিন্তু স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে অনুষ্ঠান করার ব্যাপারে জাহানারা ইমাম আগ্রহ বোধ করেননি।

জাহানারা ইমামের জীবন দর্শন ও সাহিত্য বৈশিষ্ট্য :
তিনি তাঁর নিজের জীবনকে দূর থেকে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে অবলোকন করবার ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। নির্মোহ দৃষ্টি নিয়ে নিজেকে অবলোকন করার অনন্য দৃষ্টান্ত ‘অন্যজীবন’ ও ‘ক্যান্সারের সাথে বসবাস’ বই দুটি। মুক্তিযুদ্ধের দলিল ‘একাত্তরের দিনগুলি’-তে রুমী শুধু প্রতীক, মা জাহানারা কেবল প্রতিনিধি। এটি সকল মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কাহিনী, সমগ্র বাংলাদেশের পুত্রহারা জননীদের বেদনার ইতিহাস। জাহানারা ইমামের জীবন দর্শন ছিল, বাংলাদেশকে রাজাকারমুক্ত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করে যাওয়া। জীবনবোধ ছিল অসাম্প্রদায়িক। আমরা সবাই মানুষ, সাম্প্রদায়িকতামুক্ত জীবনবোধ শান্তির পারাবত। একতাই বল, এটা তিনি বিশ্বাস করতেন। তিনি জানতেন সকল শক্তির উৎস জনতা। জনতার রায় কখনো মিথ্যা হতে পারে না। তাই তিনি জনতার সাথে রাজপথে নেমে গিয়েছিলেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি তাঁর জীবন দর্শন থেকে, জীবনের আদর্শ থেকে একচুল সরে যাননি। জনতার হাতে তাঁর সংগ্রামের ভার সঁপে দিয়ে গেছেন। side effects of quitting prednisone cold turkey

সম্মাননাঃ
জাহানারা ইমাম বিভিন্ন সময় নিম্নোক্ত পুরস্কার/পদকে ভূষিত হন-
১। বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পুরস্কার – ১৯৮৮ সালে।
২। কমর মুশতরী সাহিত্য পুরস্কার – ১৯৮৮ সালে।
৩। বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার – ১৯৯১ সালে।
৪। আজকের কাগজ হতে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা পুরস্কার – ১ বৈশাখ, ১৪০১ সনে।
৫। নারী গ্রন্থ প্রবর্তনা – মার্চ, ১৯৯৪ সালে।
৬। স্বাধীনতা পদক – ১৯৯৭ সালে।
৭। রোকেয়া পদক – ডিসেম্বর, ১৯৯৮ সালে।
৮। অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার – অক্টোবর, ২০০১ সালে।
৯। ইউনিভার্সাল শিল্পী গোষ্ঠী পুরস্কার – ২০০১ সালে।
১০। মাস্টারদা সূর্যসেন পদক।

শহীদ জননীর শেষ বাণী :
মৃত্যুর পূর্বে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী জনগণের উদ্দেশ্যে “বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমার আবেদন এবং নির্দেশনা” শীর্ষক একটি শেষ বাণী দিয়ে যান। যা শহীদ জননীর শেষ বাণী হিসেবে খ্যাত। নীচে তাঁর সেই শেষ বাণীটা হুবহু তুলে দিলামঃ
“প্রিয় সহযোদ্ধারা,
গত তিন বছর ধরে আপনার গোলাম আযম ও তার সহযোগী ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের এবং স্বাধীনতার শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছেন। বাঙালী জাতির প্রেক্ষাপটে আপনাদের একতা এবং সাহস ছিলো অতুলনীয়। আমাদের এই সংগ্রামের শুরুতে আমি আপনাদের সঙ্গী ছিলাম। আমাদের প্রতিজ্ঞা ছিলো যতক্ষণ না লক্ষ্য অর্জন হচ্ছে ততক্ষণ এই যুদ্ধ চলবে। মরণ ব্যাধি ক্যান্সারে শয্যাশায়ী হয়ে আমি আমার জীবনের শেষ দিনগুলো গুনছি।
আমি আমার প্রতিজ্ঞা রেখেছি। আমি লড়াই থেকে পিছু হটিনি। কিন্তু মৃত্যুর দিকে এই অবশ্যম্ভাবী যাত্রা আমি ঠেকাতে অক্ষম। সে কারণেই আমি লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার শপথটা আপনাদের আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। আপনাদের অবশ্যই এই অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে। আপনাদের অবশ্যই একতাবদ্ধ থাকতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত লড়তে হবে। যদিও আমি আপনাদের সঙ্গে থাকতে পারব না। কিন্তু নিশ্চিত জানব- আমার লাখো বাঙালী ছেলেমেয়ে- একটি স্বাধীন সোনার বাংলায় আপনাদের ছেলে মেয়ের সঙ্গে বাস করছে।
আমাদের সামনের পথ এখনও দীর্ঘ এবং বন্ধুর। এই যুদ্ধে আমরা সর্বস্তরের জনগণকে পাশে পেয়েছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা, নারী, ছাত্র এবং যুবকরা এই লড়াইয়ে সামিল হওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে। আর আমি জানি জনগণের চেয়ে দৃঢ়চেতা আর কেউ নয়। জনগণই সব শক্তির মূলে। তাই আমি গোলাম আযম এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ভার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার দায়িত্ব তুলে দিয়ে যাচ্ছি আপনাদের হাতে, বাংলাদেশের জনগণের হাতে। নিশ্চিত জানবেন, জয় আমাদের হবেই।
-জাহানারা ইমাম।” venta de cialis en lima peru

সার্বভৌম বাংলাদেশে স্বাধীনতার সূর্যটি যখন অস্তমিত হতে বসেছিল ঠিক তখনই শহীদ মাতা এর হাল ধরেছিলেন। দাউ দাউ করে আবার জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন দেশপ্রেমের অগ্নিশিখা। যতদিন এর একটি কণাও প্রজ্জ্বলিত থাকবে, ততদিন এই মাটিতে শ্রদ্ধাভরে উচ্চারিত হবে শহীদ মাতার নাম।
মা, তুমি লও সালাম।

তথ্যসূত্রঃইন্টারনেট। about cialis tablets

side effects of drinking alcohol on accutane

You may also like...

  1. আম্মার জন্য অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শ্রদ্ধা। আমাদের মাঝে তিনি না থাকলে হয়তো একাত্তরের ক্যান্সারগুলো অবলীলা আমাদের শরীরে মিশে যেত। তিনি প্রবল বিক্রমে আমাদের শিখিয়েছেন, আমাদের জানিয়েছেন জাতির পচে যাওয়া অংশগুলো কারা। অথচ, তিনি নিজের জীবনই সমর্পন করলেন ক্যান্সারের কাছে। মহাত্ব বোধহয় একেই বলে।
    কামিনী রায়ের কথা যথার্থই তার জীবনে ফলিয়েছেন – পরের কারণে মরনেও সুখ। buy kamagra oral jelly paypal uk

  2. আম্মাকে স্মরণ করি গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায়… ^:)^ ^:)^ ^:)^ viagra en uk

    ভাল লিখেছেন ভাই, কিপ ইট আপ… :-bd

  3. আম্মাকে নিয়ে লেখার অনেক কিছু আছে। লেখাটা উইকিপিডিয়া থেকে কাটছাঁট করা হয়েছে। অফিশিয়াল ভাষায় না লিখে সহজভাবে চেষ্টা করুন।অন্তত যাদের সম্পরকে সহজভাবে লিখা যায়। আর তিনি যদি হন আম্মা। আম্মাকে শ্রদ্ধা না,আম্মাকে ভালোবাসা। অনেক ভালোবাসা

    • আসলে হাতে সময় ছিল না :(
      আম্মাকে নিয়ে লেখার জন্য যে পরিমাণ পড়াশোনা, চিন্তা-ভাবনা এবং সময়ের দরকার কোনটাই আমার ছিল না। একটা ম্যাগাজিনের জন্য এই লেখাটা লিখেছি, একদিনের মাঝে শেষ করতে হয়েছে।
      এজন্য উইকিপিডিয়া আর কয়েকটা ব্লগপোষ্ট থেকে তথ্য নিয়ে কোনমতে দাঁড় করিয়েছি লেখাটা।

      তবে আম্মাকে নিয়ে লিখব। হাতে অনেক সময় নিয়ে একটি একটি লাইন করে লিখব। এজন্য প্রিপারেশান নিচ্ছি।

  4. আম্মার প্রতি অনেক অনেক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা ^:)^

  5. শহীদ জননীকে দারুন একটা লিখা পড়লাম, স্যালুট আপনাকে para que sirve el amoxil pediatrico

    অনেক অনেক ভালবাসা শহীদ জননীর প্রতি irbesartan hydrochlorothiazide 150 mg

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন * zoloft birth defects 2013

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong> ovulate twice on clomid

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

will metformin help me lose weight fast
posologie prednisolone 20mg zentiva