“শিউলী ফুলের মালা” (আমার লেখা প্রথম গল্প)

294

বার পঠিত

ইদানিং দুটো রোগের নাম খুব শোনা যাচ্ছে।ডায়াবেটিস আর হাই ব্লাড প্রেসার।এগুলো নাকি ধনী ব্যাক্তিদের পরিচয় বহন করে।আর এদুটো রোগই আমার শরীরে খুব ভালভাবে বাসা বেধেছে।আমার মত সামান্য প্রাইভেট কলেজের টিচারের কপালে এ রোগ কিভাবে জুটলো বুঝলাম না।এর কারন হয়তো আমার অলসতা।কারন আমি হাঁটাহাটি তেমন পছন্দ করি না।বাসা থেকে কলেজের পাচঁ মিনিটের পথটাও রিক্সায় চড়ে যাই।কিন্তু কথায় আছে যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই রাত পোহায়।ডাক্তারের কথামত এখন আমাকে রোজ সকাল-বিকাল একঘন্টা করে হাঁটাতে হচ্ছে।
কিন্তু গত চার দিন যাবৎ অসুস্থ বোধ করায় হাঁটতে বের হইনি।আজকেও শরীরটা খুব বেশী ভাল লাগছে না।কিন্তু একা একা ঘরে বসে থাকতে ভাল লাগছে না।মনের টানে ঘরে তাই থাকতে পারলাম না।ফজরের নামাজ পরেই হাঁটতে বের হয়ে গেলাম।জব্বার চেয়েছিল আমার সাথে আসতে।কিন্তু আমি ঘোর আপত্তি করেছি।আজ আমি একা সময় কাটাবো।তাছাড়া হন্টন-সঙ্গী হিসেবে চাকর-বাকররা খুবই বিরক্তকর।তারা সাথে থাকবে আর কথা শুনবে।যা বলা হোক তার জবাবে শুধু স্যার-স্যার বলবে।যেমন-জ্বি স্যার, ইয়েস স্যার,ঠিক বলেছেন স্যার,ইত্যাদি।

হন্টন-সঙ্গী হিসেবে সবসময় সুন্দরী রমনীরাই উপযুক্ত।তাদের সাথে হাঁটায় অন্যরকম মজা আছে।এখন অবশ্য আমার সাথে হাঁটার মত কেউ নেই।শিউলী যখন ছিল তখন দুজন এক সাথেই হাটতাম।আসপাশের মানুষ তখন হা করে তাকিয়ে থাকত।শিউলী অসম্ভব সুন্দরী ছিল।ওর কোমল মুখটা যে কারো নজর কাড়তো।কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর হচ্ছে ওর হাসি।আমার মতে যদি ‘বিশ্ব সুন্দর হাসি প্রতিযোগিতা’ হত তাহলে নিসন্দেহে প্রথম হত ও।

পার্কের গেট দিয়ে ঢ়ুকতেই দেখলাম আরও অনেকেই হাঁটাহাটি করছে।ওদের হাঁটার ভঙ্গি দেখে হাসি পায় আমার। অনেকটা আর্মি স্টাইলে লেফট-রাইটের ভঙ্গিতে হাত পা ছুড়ে ছুড়ে হাটে এরা।ডাক্তার আমাকেও এভাবে হাঁটতে বলেছে।প্রথমদিন এভাবে হেটেছিলাম।কিন্তু অন্যদের হাঁটতে দেখে যখন হাসি পেল তখন থেকে আর এভাবে হাটি না।আমার বয়সী অনেক বুড়ো-বুড়িই হাটছে।তাদের কয়েকজনকে দেখে মনে হল স্বামী-স্ত্রী।এই জায়গাটা অবশ্য কাপলদের জন্য পারফেক্ট।বিকেলবেলায় গার্ডেনটা কলেজ-ভার্সিটি পড়ুয়া অল্পবয়সী প্রেমিক-প্রেমিকাদের পদচারনায় মুখরিত থাকে।ওরা পরস্পরের হাত ধরে হাঁটাহাটি করে।ওদের মাঝে থাকে কাছে আসার প্রবল আকর্ষন।কিন্তু এই বুড়ো-বুড়িগুলো যেভাবে হাত-পা ছুড়ে ছুড়ে হাটছে তাতে তাদের হাতের মিলন অসম্ভব।বয়স আর রোগের কারনে আজ তারা কাছে আসার আনন্দ থেকে বঞ্ছিত।বয়স যত বাড়ে আকর্ষন কি ততই কমে নাকি?আমার আর শিউলীর ক্ষেত্রেও কি এমন হত?এখনও কি শিউলী আর আমি হাত ধরে হাটতাম?

শিউলী আমার হাত ধরে হাটতো আর শুধু গল্প করতো।পাশের বাড়ির বেড়ালের কয়টা বাচ্চা হল,কয়টার চোখ ফুটেছে এমন নানা গল্প চলতেই থাকতো।একটা শেষ তো আর একটা শুরু।প্রথমবার শিউলীর হাত ধরার স্মৃতি এখনও মনে আছে। about cialis tablets

আমাদের বাসর রাত।খাটের মাঝখানে ছোট করে ঘোমটা টেনে বসে আছে শিউলী।আমি খাটের একপাশে পা ঝুলিয়ে সাত-পাঁচ ভাবছি।কিভাবে শুরু করবো?আগে কথা বলবো?নাকি হাত ধরবো?পাছে যদি আমার ইমেজ নষ্ট হয়ে যায়?যদি বেহায়া ভাবে?শত হোক ছেলে মানুষ,দাম থাকা উচিত।নতুন বউয়ের সাথে কথা না বলে এসব ছেলে মানুষী চিন্তা করছিলাম।
হঠাৎ শিউলী চিৎকার করে ওর ডান হাতটা ধরে বলল,
“উফ! হাতটা গেল বুঝি।”
“কি হয়েছে?” আমি হন্তদন্ত হয়ে বললাম।
“ব্যাথা পেয়েছি।” আদুরে কন্ঠে বলল ও।
আমি ওর হাতটা ধরতে গিয়েও ধরলাম না।
“কোখায় ব্যাথা পেয়েছেন?”
শিউলীর নিজেই ডান হাতটা আমার দিকে এগিয়ে দিল।কিন্তু ওর কোমল ফর্সা হাতে কোন ক্ষত চিন্হই পেলাম না।আমি ওর মুখের দিকে তাকাতেই দেখি খিলখিল করে হাসছে।বুঝলাম এটা ওর দুষ্টমী।
“এই আমার হাতটা একটু ধর তো।” কেমন যেন ধমকের সুরে বলল ও।
আমি অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম।কি বলব বুঝতে পাছিলাম না তখন।মেয়ে নিজেই দেখি হাত ধরতে বলছে? অত না ভেবে আলতো করে ওর হাতের আঙ্গুলে আমার আঙ্গুল ছোঁয়ালাম।এই প্রথম ওর স্পর্শ পেলাম।এক অদ্ভুত অনুভূতি আমার শরীরে বয়ে গেল।
“এভাবে কেউ নিজের স্ত্রীর হাত ধরে নাকি?” আবারও ধমকের সুরে বলল।আমি বুঝে গেলাম এই মেয়ে সারা জীবন আমার নাকে দড়ি দিয়ে নাঁচাবে।
“তাহলে কিভাবে ধরবো?”
“এই যে এইভাবে।” এই বলে শিউলী নিজেই শক্ত করে আমার হাত ধরল।
সেদিনই আমি প্রথম ওর হাত ধরেছিলাম।

সকাল বেলার পরিবেশটা খুব সুন্দর লাগছে।নাগরিক কোলাহল থেকে সম্পূর্ন মুক্ত, প্রকৃতির নিবিড় সংস্পর্শে এসে মনটা ভরে উঠল।ডায়াবেটিস ব্যাটাকে একশো ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছে করছে।পাখির দল কিচিরমিচির শুরু করে দিয়েছে।এখন সকালটাকে সকাল বলে মনে হচ্ছে।পাখির ডাক ছাড়া কি আর সকাল মনে হয়? গ্রামে যখন ছিলাম, অজস্র পাখির মধুর কল-কাকলিতে ঘুম ভাঙ্গতো।কিন্তু এখন এর্লামের কর্কশ শব্দে ঘুম ভাঙ্গে আমাদের।শহরে তো বাইনোকুলার দিয়ে খুঁজেও পাখির দেখা পাওয়া দুষ্কর।পাখি বলতে যা বোঝায় তা হচ্ছে খাঁচায় বন্দি লাভ বার্ড,ককাটেল ইত্যাদি।ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ডাস্টবিনের কল্যানে কাক নামে পাখিটি দেখা গেলেও একসময় হয়তো সেটাও কমে যাবে।আমার এক কলিগের চার বছরের একটি নাতনি আছে।সে নাকি পাখি বলতে একমাত্র কাকই চেনে।এজন্য তাকে দুটো টিয়া পাখি এনে দেখা হয়েছিল।কিন্তু সেগুলোকেও সে কাক বলে।যতই বলা হোক এটা কাক না টিয়াপাখি, সে কিছূতেই মানতে চায় না।একসময় সে মানতে রাজি হল যে এটা সবুজ কাক।কি সুন্দর ক্রিয়েটিভিটি!
হাঁটতে হাঁটতে গার্ডেনের বেশ ভেতরেই চলে এলাম।এদিকটার পরিবেশটা একেবারে শান্ত।মনে মনে যেটা খুঁজছিলাম পেয়ে গেলাম।শিউলী ফুলের গাছ।আমার স্ত্রীর অতি প্রিয় ফুল।নিজের নামের সাথে মিল বলেই হয়তো এত প্রিয়।গার্ডেনে হাঁটাতে হাঁটতে হঠাৎ একদিন গাছটা পেয়ে যাই।তারপর থেকে একটা অভ্যাস হয়ে গেছে আমার।এখানে যখনই আসি গাছটার সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষন জোরে জোরে নিঃশ্বাস নেই।

গাছের নিচে অসংখ্য সাদা শিউলী ফুল বিছিয়ে রয়েছে।যেন প্রকৃতির শুভ্র গালিচা।একটি মেয়ে এক মনে গাছের নিচে ফুল কুড়াচ্ছে আর কুড়ানো ফুলগুলো ওড়নায় তুলে রাখছে।আমাকে দেখেই ও মুখ টিপে হাসল।তারপর আবার ফুল কুড়ানোয় মন দিলো।এইতো সেই বেয়াদব মেয়েটি!একে প্রতিদিনই ফুল কুড়াতে দেখি।এর কারনেই কদিন থেকে ঠিক মত করতে ধ্যান পারছি না।আজ বিরক্ত করলে কিছু একটা বলেই ছাড়বো।মেয়েটাকে এক পলক দেখে নিলাম।গুন গুন করে গান গাইছে আর ফুল কুড়াচ্ছে।যা ইচ্ছা করুক।আমাকে বিরক্ত না করলেই হয়।গাছটার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম।তারপর হাতদুটো দুপাশে ছড়িয়ে চোখ দুটো বন্ধ করলাম।ধীরে ধীরে শব্দ করে নিশ্বাস নিতে লাগলাম।এটা আমি শিখেছি শিউলীর কাছ থেকে।

বিয়ের পরের কথা।হানিমুনে যাওয়ার প্লান চলছে।আমার এক বড়ভাই বলেছিল হানিমুনের জন্য দার্জিলিং নাকি সবচেয়ে উত্তম জায়গা।তখন থেকেই ঠিক করেছিলাম বিয়ের পর হানিমুনে ওখানেই যাবো।কিন্তু শিউলী অন্য বায়না ধরল।সে আমাদের গ্রামের বাড়ি যাবে।শহরের মেয়ে সে,কখনো নাকি গ্রামে যায়নি।আমি প্রথমে অমত করেছিলাম।কিন্তু শিউলীও নাছোড়বান্দা।ওর একগুয়েমির কারনে সেবার আর দার্জিলিং যাওয়া হল না।

গ্রামে গিয়ে শিউলীর সেকি ছেলেমানুষী।যা দেখে তা নিয়েই লাফালাফি করে।ও সবচেয়ে মজা পেয়েছিল গরুর বাছুর দেখে।লম্বা লম্বা পায়ের বাছুরটাকে ধরার জন্য বেশ কিছুক্ষন দৌড়াদৌড়িও করেছিল।তারপর ধরতে না পেরে হাঁপাতে হাঁপাতে ফিরে আসে।বাছুরকে বেধে গাভির দুধ দোয়ানো দেখে তার সেকি কষ্ট।বাছুরকে বেধে রেখে কেন দুধ দোয়ানো হবে এটা নিয়ে সে তুমুল হইচই শুরু করে দিল।রাখালরা ওর কান্ড দেখে ভীষন মজা পেয়েছিল।ওর অনুরোধেই সেদিন বাছুরটা তার মায়ের দুধ তৃপ্তি করে খেয়েছিল।
আমাদের বাড়ির পেছন দিকে একটা শিউলী ফুলের গাছ ছিল।একদম সকালবেলা ওকে ওখানে নিয়ে গেলাম।ওর আনন্দ তখন দেখার মত ছিল।এক দৌড়ে গাছের নিচে গিয়ে শাড়ির আচলে করে ফুল কুড়াতে লেগে গেল।আমি পাশে দাড়িয়ে ওর আনন্দের খানিকটা উপভোগ করছিলাম।আর মনে মনে ভাবছিলাম সৃষ্টিকর্তা আমার ভাগ্যে এত মিষ্টি একটা বৌ রেখেছে!

হঠাৎ কি মনে করে ফুলগুলো শাড়ির আচলে বেধে রেখে গাছটার সামনে গিয়ে দাড়ালো।তারপর চোখ বন্ধ করে দু হাত দু দিকে ছড়িয়ে দিয়ে জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে লাগল।কিছুক্ষন পর ঘাড় ঘুরিয়ে আমাকে ডাকল।
“এই শোন, এদিকে এসে আমার পাশে দাড়াও।”
আমি ওর কাছে গিয়ে দাড়ালাম।ওর দিকে তাকাতেই মিষ্টি একটা হাসি দিলো।তারপর আমাকে ওর মত করতে বলল।আমি জানি ওর কথা না শুনে নিস্তার নেই।তাই দুহাত দুদিকে ছড়িয়ে চোখ বন্ধ করে নিশ্বাস নিতে লাগলাম।
“উহু হয়নি।আরও জোরে জোরে নিশ্বাস নাও।মুখ দিয়ে নয়, নাক দিয়ে নাও।আরও জোরে।”
আমি জোরো জোরে নিশ্বাস নিতে লাগলাম।ফুলের মিষ্টি গন্ধটা আমার নাকে এসে ঠেকল।কেমন যেন ঘোরের মধ্যে চলে গেলাম…….।

হঠাৎ একটা হাসির শব্দে চিন্তায় ছেদ পড়ল।চোখ খুলে দেখি আমার বা দিকে সেই ফুল কুড়ানো মেয়েটি দাড়িয়ে আছে।ওর সাথে চোখাচোখি হতেই হাসি থামিয়ে দিল।আমি পাত্তা না দিয়ে চোখ বন্ধ করে পুনরায় ধ্যানে মন দিলাম।কিছুক্ষন পর আবার সেই হাসির শব্দ।আমি মেয়েটার দিকে তাকাতেই ও মুখে হাত চেপে হাসি থামিয়ে দিল।কিন্তু পরক্ষনেই ফিক করে হেসে উঠল।নাহ! এবার তো কিছু বলতেই হয়।

আমি এবার মেয়েটার দিকে ভাল করে খেয়াল করলাম।আঠারো-উনিশ বছরের একটি মেয়ে।পরনে লাল প্রিন্টের পুরোনো একটা সালোয়ার-কামিজ।চুল বেণী করে লাল ফিতা দিয়ে বাধা।এই সাত-সকালেও চোখে কাজল আর ঠোটে কড়া লাল লিপস্টিক দিয়েছে।মুখে মেকআপের পরিমান দেখে মনে হচ্ছে এর পেছনে পুরো এক কৌটা পাউডার খরচ করা হয়েছে। puedo quedar embarazada despues de un aborto con cytotec

“কি ব্যাপার তুমি প্রতিদিন আমার সামনে এসে এভাবে হাসো কেন?” আমি কন্ঠ ভারী করে প্রশ্ন করলাম।
মেয়েটা আমার কথা শুনে আবারও হাসলো।হাসতে হাসতেই বলল,
“আপনেরে দেইখা হাসি গো।”
“আমাকে দেখে হাসার কি আছে?” ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করলাম।
“আফনের কান্ড দেইখা হাসি গো।” এই বলে সে আবারও হাসতে লাগল।মেয়েটার কি পাগল নাকি? এভাবে হাসছে কেন?
“আমি আবার কি কান্ড করলাম?”
“এই যে, পক্ষীর লাহান পাখনা মেইলা খাড়াইয়া রইছেন।আবার গুইসাপের মতন ফোস ফোস করতাসেন।আপনেরে দেইখা যে কারও হাসি আইবো।” মেয়েটা শরীর দুলিয়ে এমনভাবে হাসল যে তার হাত থেকে কিছু ফুল মাটিতে পরে গেল।
“দেখলেন?আপনের লাইগা আমার ফুল গুলান মাটিতে পইরা গেল।” এই বলে সে পরে যাওয়া ফুলগুলো কুড়াতে লাগল।
আমি বুঝলাম না আমার কারনে কি করে ওর ফুল পড়ে গেল।
“তুমি কি প্রতিদিনই ফুল কুড়াতে আসো?”
“হু।পইত্যেক দিনই আহি।”
“নাম কি তোমার?”
“নাম দিয়া কি করবেন গো?”
মেয়েটার সমস্যাটা কি? এরকম বিশ্রী ভাবে গো গো করে কেউ কথা বলে নাকি? আমি ওর হাতের ফুলগুলো দেখিয়ে বললাম,
“এগুলো দিয়ে কি করবে?”
“ফুল দিয়া আবার কি করুম? মালা গাথুম।” ওড়নায় ফুলগুলো রাখতে রাখতে বলল সে।
“আমাকে একটা মালা গেথে দেবে? টাকা দিয়ে দেব।”
আমার কথা শুনে মেয়েটির মুখের হাসি চলে গেল।আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
“এইডা আমার শখের জিনিষ।শখের জিনিষ বেচা যায় না।।আর আমি এমনেও আফনেরে মালা গাইথা দিমুও না।”
“কেন?” আমি অবাক হয়ে গেলাম।
“এমনেই।আফনেরে আমার ভালা লাগে নাই।ফুল লাগলে লন, নিজেই সুই-সুতা দিয়া মালা গাইত্তা লইয়েন।” এই বলে আমার হাতে একগাদা ফুল দিয়ে পেছনে ফিরে হাঁটা শুরু করল।যাওয়ার আগে ঘাড় ঘুড়িয়ে বলল,
“আমার নাম ডলি।সবার সাথে খেলি।” শেষবারের মত একটা হাসি দিয়ে চলে গেল।

আমি অবাক হয়ে মেয়েটার গমন পথের দিকে তাকিয়ে থাকলাম।ঘড়িতে সাড়ে সাতটা বাজে।এবার ফিরতে হবে।মেয়েটির দেয়া ফুলগুলো কি করবো ভেবে পাচ্ছি না।শিউলী থাকলে ওর জন্য নিয়ে যেতে পারতাম।ও শিউলী ফুলের মালা গাঁথতে খুবই পছন্দ করতো।কিন্তু এখন এগুলো হাতে নিয়ে হাঁটতে অসহ্য লাগছে কেন যেন।রাস্তার একপাশে তাই ছুড়ে ফেলে দিলাম ফুলগুলো।

বিকালবেলা বারান্দায় বসে কিছুক্ষন পেপার পড়লাম।একটু আগে জব্বার চা দিয়ে গিয়েছে।চুমুক দিয়েই বিরক্ত হয়ে গেলাম। চিনি ছাড়া চা খাওয়া যায় নাকি?কিন্তু ডায়বেটিসের কারনে চিনি ছাড়াই খেতে হচ্ছে।চা’টা শেষ করে উঠে পড়লাম।কদিন থেকে নিজেকে খুব একা লাগছে।পাশে গল্প করার মত কেউ নেই।জব্বারের সাথে যে দুটো কথা বলব তাতেও মজা নেই।সব কথাতেই স্যার-স্যার করে ও।ইদানিং অল্পবয়সী ছেলে-মেয়ে দেখলে তাদের সাথে গল্প করতে ইচ্ছা করে।কেউ কেউ কথা বলে কেউ আছে কথাই বলে না।বুড়োদের সাথে তারা কথা বলতে চায় না।কোন কাজ না থাকায় হাঁটতে বেরিয়ে পরলাম।
অন্যদিনের চেয়ে আজকের বিকেলটায় গার্ডেনে লোকজন কম মনে হচ্ছে।কয়েকজন প্রেমিক-প্রেমিকাকে দেখলাম হাত ধরে হাটছে।দু চারজন স্বাস্থ সচেতন ছেলেও চোখে পড়ে গেল।স্পোটর্স ড্রেস পরে জগিং করছে তারা।ওদের সাথে পাল্লা দিয়ে কিছুক্ষন দৌড়ালাম।কিন্তু শরীরটা মনে করিয়ে দিল যে, গত জন্মদিনের কেকে পঞ্চাশটা মোমবাতি লেগেছিল।

হাঁটতে হাঁটতে আবারও সেই গাছটার কাছে চলে এলাম।এখন আর মেয়েটা নেই।কিন্তু জানি আসেপাশেই আছে।আমি খেয়াল করেছি মেয়েটা শুধু এই গাছটার আসেপাশেই ঘুরঘুর করে।বেয়াদবি করলেও খুবই মিষ্টি একটা মেয়ে।কিন্তু কেন যে সারাক্ষন মেকআপ দিয়ে থাকে বুঝি না।মুখের মায়া মায়া ভাবটা ঢাকা পড়ে যায়।ওর উপর হাল্কা মায়া পড়ে গেছে।আজ হয়তো আমার এরকম একটা মেয়ে থাকতে পারতো।ইদানিং আঠারো-উনিশ বছরের ছেলে-মেয়েদের দেখলেই মনটা কেমন যেন করে।

কি নাম বলেছিল যেন মেয়েটা? মলি বা পলি জাতীয় কিছু একটা হবে।এখন মনে পড়ছে না।বুড়ো বয়সের এই এক যন্ত্রনা।বয়স যত বাড়ে স্মৃতি শক্তি ততই কমতে থাকে।যেন সংকেত দিচ্ছে মৃত্যু নিকটে। half a viagra didnt work

গাছটার সামনে দাড়িয়ে দু হাত প্রসারিত করে দম নিতে লাগলাম।ইদানিং নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় ।নিয়মিত ঔষুধেও কাজ হচ্ছে না।একটুতেই বুকে ব্যাথা শুরু হয়ে গেল।ধ্যান আর করা গেলা না।

ফিরতি পথে সেই ফুল কুড়ানী মেয়েটাকে দেখলাম।দূরে একটা গাছের নিচে বেঞ্চে বসে আছে।আমাকে দেখে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষন।চিনতে পেরে চট করে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ ডললো।কাঁদছে নাকি মেয়েটা? আমি ওর দিকে এগিয়ে গেলাম।
“কেমন আছো?”
মেয়েটা কিছু না বলে মাথা কাত করে বুঝালো ভাল আছে।
“কি ব্যাপার, আজ ফুল কুড়াতে যাওনি?”
মেয়েটা কোন কথাই বলল না।শুধু হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল।
“কাঁদছিলে কেন?কেউ কিছু বলেছে?”
মেয়েটা জোরে জোরে মাথা নাড়লো।মনে হল ঠোট চেপে কান্না থামানোর চেষ্টা করছে।
“না বলতে চাইলে থাক।আমি যাই তাহলে ।এই বলে আমি ঘুরতে যাবো দেখি মেয়েটার চোখ বেয়ে দু ফোটা পানি গড়িয়ে পরল।ওর দিকে ভাল করে তাকাতেই দেখি বাম গালে লালচে দাগ।কেউ যেন জোরে চড় মেরেছে।মেয়েটাকে দেখে খুবই মায়া লাগল।আমি ওর পাশে বসলাম।
“মা, কি হয়েছে তোমার? কেউ কি মেরেছে?”
আমার কথা শুনে মেয়েটা কেমন যেন চমকে উঠল।যেন এভাবে কথা শুনতে সে অভস্ত নয়।
“জে, গার্ডেনের দারোয়ান ব্যাটায় মারছে আমারে।”
“কি এমন করলে যে তোমায় মারল?”
“আমি খারাপ মাইয়া যে হেই জইন্যে।”
“মানে?” আমি একটু অবাক হলাম।
“মানে অইল আমি খারাপ মেয়ে মানুষ।টেকার বদলে বেটা-ছেলেদের মন মজাই।
মেয়েটার কথা শুনে এক মুহুর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলাম।তার মানে আমি একটা পতিতার সাথে কথা বলছি? আমি অবাক হয়ে গেলাম এই ভেবে যে এত ফুটফুটে একটা মেয়ে কিনা পতিতা?
“সবাই আমারে ঘেণ্যা করে।আফনেও আমারে এহন ঘেণ্যা করা শুরু করছেন,তাই না?” মেয়েটা ভাবল আমি হয়তো ওকে ঘৃনা করা শুরু করেছি।
“না-না।সেটা না।আমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম।জীবনে প্রথমবারের মত পতিতা দেখছি।এমনকি সামনে বসে কথাও বলছি।
“আফনেই প্রথম যে কিনা আমার লগে ভালা কইরা দুইটা কথা কইল।প্রথম যে দিন আফনেরে দেখছি নতুন কাস্টোমার মনে কইরাই কথা কইছি।কিন্তু কথা কইয়াই বুঝছি আফনে হেমন মানুষ না।
“কেমন মানুষ?
“ভালা মানুষ।
এরপর কি কথা বলবো ভেবে পেলাম না।কিছুক্ষন চুপ থেকে বললাম,
“এই পেশায় কেন এলে?” বলেই বুঝলাম বোকার মত প্রশ্নটা করা হয়ে গেছে।
“আফনের কি মনে হয় আমি শখে এই কামে আইছি?” রেগে গেল ও।
“আমি দুঃখিত।তবে কিভাবে এলে এই পেশায়?জানতে পারি?”
“আফনে কি সাংবাদিক?”
“কেন?”
“অনেক সাংবাদিক আমার ইন্টারভু নিছিলো।”
“নাহ।আমি সাংবাদিক না।আগ্রহের কারনেই জানতে চাচ্ছি।”
“তয় শুনেন।আমি আফনাকে মিছা কইছি।আমার আসল নাম শেফালী।”
নামটা শুনে আমি চমকে উঠলাম।শিউলী আর একটা নাম ছিল শেফালী।কি অদ্ভুত মিল!
শেফালী বলতে লাগলো,
“তিন বছর আগে কথা।গেরামে আমাগো অনেক জমি ছিল।কিন্তু নদীতে যহন সব ভাইংগা নিয়া গেল, আমরা এক্কেরে পথের ফকির অইয়া গেলাম।বাপজানে এই কষ্ট সইতে পারল না।একদিন দুপুরবেলা কি জানি হইল।বাপে আমার ধপ কইরা পইরা গেল।এরপর থেইকা নড়তে চড়তে পারে না।ডাক্তার কইছে প্যারাসিস না কি যেন হইছে।”
“প্যারালাইসিস।” আমি শুধরে দিলাম।
“হ অইডাই।তখন বাপের উপরে পুরা সংসার চলত।মায়ে আমার চোখে আন্দার দেখল।একদিন মিয়া বাড়ির বড় পোলা বাবুইল্লায় আমার মারে কইল যে আমারে যেন শহরে কামে দেয়।গার্মেন্সে নাকি মেলা বেতন পাওয়া যায়।সংসারের অবস্থা দেইখা আমি রাজি অইয়া গেলাম।কিন্তু মা রাজি অইল না।পরে বাবুল মিয়া মায়ের হাতে তিন হাজার টেকা দিয়া কইল যে কাম করলে নাকি আরও পাওয়া যাইবো।মায়ে পরে বিশ্বাস কইরা রাজি অইল।বাবুইল্লার লগে লঞ্চে কইরা ঢাকায় ওর বাড়িতে আইলাম।আসার পরথম দিনেই ওই হালার পুতে একটা ঘরের মইধ্যে আটকাইয়া জোর কইরা আমারে নষ্ট করল।দুই দিন আমারে ওই রুমে আটকাইয়া রাখছিল।আমি দরজা বাইরাইয়া বাইরাইয়া মা-বাপ কইরা কত যে কানলাম।কিন্তু কেউ আমার কথা হুনলো না।তিন দিনের মাথায় একটা বেডারে আমার ঘরে ঢুকাইয়া দিল।ওই বেডায়ও জোর কইরা আমারে নষ্ট করল।আমি কানতে লাগলাম।গেরামের কথা,বাপ-মায়ের কথা, আমার বাছুরডার কথা মনে পরতে লাগল।কান্দন ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না আমার।এরপর থেইকা রোজ রোজ দুই-তিনডা পোলারে আমার ঘরে ঢুকাইয়া দিত।এই কাম করার লেইগা প্রথমে টেকার লোভ দেখাইলো।রাজি না হওনে ইচ্ছামত বেত দিয়া পিডান শুরু করল।হেতেও কাম না হওনে ঘুমের বড়ি খাওয়াইয়া দিতো।এইগুলান আর কত সহ্য করা যায়? একসময় নিজে থেইকাই করা শুরু করলাম।টেকাও পাইতে লাগলাম।এহন গেরামে মাসে মাসে টেকা পাডাই।মায়ের কাছে মোবাইল করলে আমার লেইগা দোয়া করে।কিযে কান্দন আহে।কিন্তু কানতে পারি না।মোবাইল কানে দইরা মুখ চাইপ্পা চোখের পানি ফালাই।সবচেয়ে কষ্ট লাগে যহন দেহি সমাজের মানুষ আমাগোরে ঘেন্যা করে।কিন্তু হেই সমাজের মানুষই রাইতের বেলা আমাগো কোলের উপরে হুইয়া থাকে।” viagra en uk

খুব সহজেই কথাগুলো বলে ফেলল শেফালী।যেন কিছুই হয়নি।শুধু দুচোখ বেয়ে অঝোরে পানি পরতে লাগল।হঠাৎ করে শেফালীর প্রতি আমার প্রচন্ড মায়া জেগে উঠল।আজ হয়তো ওর মত একটা মেয়ে থাকতো আমার।কিন্তু একুশ বছর আগে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাতটা সবকিছু ওলট-পালট করে দিল।

হৃদয়ের সবটুকু উজার করে যাকে ভালবেসেছিলাম, আমার জগৎটা যাকে কেন্দ্র করে ছিল, সেই আমার স্ত্রী শিউলী একুশ বছর আগে আজকের এই দিনে আমার জগৎটাকে শূন্য করে, সেই যে না ফেরার দেশে চলে গেল; আর এল না।যে দিন মারা গেল তার আগের দিন রাতে ওর বেডের পাশে বসে ছিলাম।প্রসব ব্যাথা থাকার সত্বেও কত কথাই না বলেছিল আমাকে।কিন্তু সবই ছিল আগোছালো।একটা কথা কিছুক্ষন বলে পরক্ষনেই অন্য কথায় চলে যাচ্ছিল।বুঝতে পারছিলাম ও ভয় পাচ্ছে।ওকে অভয় দিলাম,হাত ধরে বসে থাকলাম সারা রাত।মাঝরাতের দিকে একটুখানি চোখ বুজে আসলো।হঠাৎ ওর কথা শুনে উঠে পরলাম।
“কি ব্যাপার,কি হয়েছে?”
“একটা গান শোনাবে?”
আমি ওর কথা শুনে চমকে উঠলাম।যে কিনা সব সময় আদেশের সুরে কথা বলে আজ সে কিনা অনুরোধ করছে?
“কোনটা গাইবো?”
“ওই যে ওইটা…।” ওর মুখে এক চিলতে হাসি দেখতে পেলাম।
আমি শিউলীর জন্য একটা গান লিখেছিলাম।কিন্তু গানটা ভাল করে কখনোই গাইতে পারিনি আমি।এটা নিয়ে শিউলী বহুবার আমাকে খোটা দিয়েছে।আমি তবুও গাওয়ার চেষ্টা করলাম।

তুমিই আমার ভোরের পাখি , মিষ্টি মধুর ধ্বনি…..তুমিই আমার স্বপ্নছবি, সুখের হাতছানি…..তুমিই আমার রঙ্গীন ঘুড়ি, নাটাই সুতার খেলা…..তুমিই আমার দূর আকাশের, হাজার তারার মেলা…..তুমিই আমার বর্ষা ঋতু,ইষ্টি-বৃষ্টি বেলা…..তুমিই আমার স্বর্গপরী, স্বর্গ সুখের ভেলা…..তুমিই আমার শেষ বিকেলের, শেষ গল্পের ছায়া…..তুমিই আমার অবুঝ মনের, ভালবাসার মায়া…….। missed several doses of synthroid

গানটা শেষ হওয়ার আগেই শিউলীর প্রচন্ড ব্যাথা শুরু হয়ে গেল।দ্রুত ওকে অপারেশন রুমে নিয়ে গেল ডাক্তাররা।ওটিতে নিয়ে যাওয়ার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত ওর হাত ধরে ছিলাম আমি।তখন যদি জানতাম শিউলীর সাথে এটিই আমার শেষ কথা।ডেলিভারির সময় বাচ্চাটার পা আগে ছিল।ডাক্তাররা অনেক চেষ্টা করেও দুজনের কাউকেই বাচাতে পারেনি।অপারেশন থিয়েটারেই আমার শিউলী শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করল।

“কি চিন্তা করেন?”
“নাহ, কিছু না।আচ্ছা, তুমি এ কাজ ছেড়ে দিতে পারো না?”
“ছাড়লে খামু কি? অন্য কোন কামও পারি না।আর চাইলেও কেউ আমাগোরে কামে রাখবো না।তাইলে কন কেমনে ছাড়মু?”
“তোমাকে এটা অনুরোধ করবো, রাখবে?”
“কন দেহি।”
“তুমি আমার সাথে চল।আমি তোমাকে ভাল কাজ দেব।”
আমার কথা শুনে শেফালী আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইল।
“হ্যাঁ।সত্যিই দেব।”
“কি কাম দিবেন? আমি তো খালি একটা কামই করতে পারি।” এই বলে ও মুচকি হাসলো।
“আমার সাথে ফাজলামো করবে না।” আমার কথার কাঠিন্যটা বুঝতে পেরে হাসি থামিয়ে দিল ও।
“কামডা কি?”
“তেমন কিছু না।আমার বাসায় থেকে টুকটাক কাজ করে দেবে আর আমার সাথে বসে গল্প করবে।তাছাড়া বুড়ো হয়ে গেছি।তার উপর একা মানুষ,নিজের প্রতি খেয়াল রাখতে পারি না।”
“কেন, আফনের বউ-পুলাপান নাই?”
“না নেই।একুশ বছর আগে আমার স্ত্রী সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা গিয়েছিল।এরপর আর বিয়ে করিনি।”
“ইশ! কি দু:খ!” মুখে দুঃখী ভাবটা প্রকাশ করলেও দেখে মনে হল ওর কোন দুঃখই হয়নি।কারন ওকে এখন আর কোন আবেগ স্পর্শ করে না।
“কেমনে মারা গেছিল তারা?”
“সেটা অন্য একসময় বলব।তুমি কি আমার সাথে যাবে?”
শেফালী কিছুক্ষন চিন্তা করে বলল,
“বেতন কত দিবেন?”
“সেটা তুমি ঠিক করে নিও।থাকা খাওয়ার ভাল সুবিধা পাবে।চাইলে পড়াশোনার ব্যবস্থাও করে দেব।মোট কথা এই নরকের জীবন থেকে মুক্তি পাবে।”
“আফনে আমার লাইগা এইসব কেন করবেন?”
“সেটা তুমি বুঝবে না।আসলে বুড়ো হয়ে গেছি তো।একা-একা ভাল লাগে না।কথা বলার মানুষের অভাব।বাসায় জব্বার নামে একটা ছেলেটা আছে।কিন্তু ওর সাথে কথা বলে মজা নেই,শুধু স্যার-স্যার করে।আর তোমাকে আমি কাজের লোক হিসেবে নয়,নিজের মেয়ে হিসেবেই রাখবো।”
শেফালী মাথা নিচু করে আরও কিছুক্ষন চিন্তা করল।তিন বছর আগে একজন অধিক আয়ের লোভ দেখিয়ে ওর জীবন নষ্ট করেছে।এখন আবার একজন তাকে নতুন জীবনের আহ্ববান করছে।কিন্তু এবার আর শেফালীর জীবনে নষ্ট হওয়ার মত কিছুই নেই।তাই হয়তো স্বীধান্ত নিতে দেরি করল না সে।
“হ যামু।আফনেরে বিশ্বাস করলাম।”
শেফালী রাজি হওয়াতে খুব ভাল লাগল আমার।আজকের এই বিশেষ দিনে শেফালির মত অন্তত একটা মেয়েকে সুন্দর জীবনে নিয়ে যাচ্ছি।তবে আমার থেকে শিউলীই বেশী খুশি।উপর থেকে হয়তো আমাকে দেখছে আর হাসছে।
আমি উঠে দাঁড়াতেই ও বলল,
“খারান।আফনেরে একটা জিনিস দেই।” এই বলে শেফালী ওর খোঁপা থেকে শিউলী ফুলের মালাটা খুলে আমার হাতে দিল। মালাটা হাতে নিয়ে আমি কিছুক্ষন দাড়িয়ে রইলাম।কেন যেন খুবই কান্না পাচ্ছে।বহু বছরের একাকিত্বের কষ্টে হয়তো।মুখ থেকে এমনিতেই কথাটা বের হয়ে এল,
“আমার কোন সন্তান নেই।জীবনে কোনদিনও বাবা ডাক শুনতে পারিনি।আজ শুনতে ইচ্ছে করছে খুব।তুমি কি আমাকে বাবা বলে ডাকবে?”
আমার কথা শুনে শেফালী কিছুই বলল না।শুধু অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।যেন বিশ্বাস করতে পারছে না, ওর জীবনের অন্ধকার কালো রাতের সমাপ্তি ঘটেছে।ভোরের এক চিলতে আলো দেখতে পেয়েও তাই শেফালীর চোখ বেয়ে দু ফোটা জল গড়িয়ে পরল।তবে আমি শিওর, এ অশ্রুজল দুঃখের নয়,আনন্দের।নতুন জীবনের আনন্দ অশ্রু!

সূর্য অস্ত যাচ্ছে।দিনের শেষে রাতের আগমন হচ্ছে।ভোরের আলোর মত যে শিউলী আমার জীবনে এসেছিল,তার মৃত্যতে ঠিক এভাবেই আমার জীবনে একাকিত্বের ছায়া ঘনিয়ে আসে।
আমি শেফালীর হাত ধরে রওনা দিলাম।আমার এক হাতে শেফালীর হাত,আর এক হাতে শিউলী ফুলের মালা।আমার এখন সেই গানটার শেষ লাইনদুটো মনে পড়ছে।

তুমিই আমার শেষ বিকেলের, শেষ গল্পের ছায়া…..তুমিই আমার অবুঝ মনের, ভালবাসার মায়া…….।

——————-***********——————— zithromax azithromycin 250 mg

—————————————————-
এই গল্পের মাধ্যমেই আমার গদ্য জগতে প্রবেশ।তার আগে দু-চার খানা বস্তাপঁচা কবিতা লিখতাম।
গত বছর এপ্রিলের ঘটনা।একদিন নেট ঘাটতে ঘাটতে হঠাৎ গল্প-কবিতা ডট কম নামের একটি সাইটের সন্ধান পাই। তার দুদিন পর ১৫ এপ্রিলে গল্পটি লেখা শুরু করি।যথারীতি লেখাটি সাইটে প্রকাশ পায় এবং বিচারক ভোটে তৃতীয় হয়( কিন্তু পাঠক ভোট কম পাওয়ায় সম্মিলিত ভোটে পঞ্চম হয়) ।

(একদম কাঁচা হাতের লেখা….আশা করি পাঠক নিজ গুনে ক্ষমা করবেন) :P
—————————————————- doctorate of pharmacy online

glyburide metformin 2.5 500mg tabs

You may also like...

  1. অনুস্বার বলছেনঃ

    চমৎকারআপনার জীবনের প্রথম গল্পখানা চমৎকার লাগলো… =D> %%- :-bd এরকম আরও চাই… :-bd :-bd :-w

    side effects of drinking alcohol on accutane
  2. চাতক বলছেনঃ

    বিশাল গল্প কেউ সাহস করে পুরাটা পড়ে নি। দুই পর্বে দিলেই বরং ভাল হত।
    খুবই ভাল লাগলো আপনার গল্প। চমৎকার লিখেছেন। =D> =D> =D> =D> m/ m/ m/

    • সেসময় লেখা গল্পগুলো ৩০০০-৪৫০০ শব্দের নিচে নামাতে পারতাম না। :P

      এখন অবশ্য তার উল্টো। ৩০০-৮০০ শব্দের ভেতরেই কিভাবে যেন গল্প শেষ হয়ে যায়। :(

      একবার চিন্তা করেছিলাম, দুই পর্বে দিব। কিন্তু ইচ্ছে হয় নি…. মন যা বলে তাই করি তো ভাই…. :D

      ধন্যবাদ চাতক ভাই…!! নতুন স্টাইলে লেখা গল্পগুলো ফুরুৎ করে শেষ করে ফেলতে পারেন…. :D nolvadex and clomid prices

      অসংখ্য ধন্যবাদ…ধৈর্য্য সহকারে গল্পটি পড়ার জন্য…. :D

  3. zovirax vs. valtrex vs. famvir
  4. অংকুর বলছেনঃ

    অনেক সুন্দর লিখেছেন ভাইয়া । :-bd :-bd :-bd :-bd :-bd

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

accutane prices
side effects of quitting prednisone cold turkey