মুক্তিযুদ্ধের দলিল-দস্তাবেজ সংরক্ষনের দাবী…

445

বার পঠিত

ক্ষমতার পালাবদল ঘটে, ঘটবেই। গনতান্ত্রিক রাজনীতিতে যে কোন দলই ক্ষমতায় আসতে পারে এবং সেটা স্বাভাবিক ও অবশ্যই সমর্থনযোগ্য। ভয়টা হল অন্য জায়গায়! যদি স্বাধীনতা বিরুধীরা আরেকবার জয়ী হতে পারে তবে এই ইতিহাস বিকৃতিকারীরা মুক্তিযুদ্ধের কোন ডকুমেন্টই তারা আর অবশিষ্ট রাখবে না। কেননা অতীতেও তারা এরকম করেছে। মুক্তিযুদ্ধের অনেক মুল্যবান আলামত ও দলিল-দস্তাবেজ তারা নষ্ট করেছে।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলা একাডেমি ও আদালতে বর্তমানে যে সব ডকুমেন্ট বা দলিল-দস্তাবেজ রয়েছে তাও পুরোপুরি সংরক্ষিত অবস্থায় নেই।যে কোন দুর্ঘটনা বা অগ্নি সংযোগে হারিয়ে যেতে পারে মুল্যবান দলিল সমুহ। সরকার ও এসব দলিল পত্র সংরক্ষনে এখন পর্যন্ত কার্যকরি কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। কালের কন্ঠ পত্রিকার একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায়,

স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্পের আওতায় সংগৃহীত দুই লাখ ৩৮ হাজার পৃষ্ঠার অমূল্য দলিল অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হয়ে গেছে। জাতীয় জাদুঘরের বদ্ধ ঘরে কোনো রকমে অবশিষ্ট থাকা এক হাজার ৫৫১টি ফাইলের প্রায় এক লাখ ১২ হাজার পৃষ্ঠার দলিলকে অবশেষে মুক্ত করে ডিজিটালাইজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান সরকারের শাসনামলে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ প্রকল্পের আওতায় ১৫ খণ্ডে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র’ এবং এক খণ্ডে অ্যালবাম প্রকাশ করে কাজ অসমাপ্ত রেখেই ১৯৮৮ সালের জুন মাসে প্রকল্প বিলুপ্ত করা হয়। প্রকল্পের আওতায় সংগৃহীত দলিল-দস্তাবেজ বস্তাবন্দি করে রাখা হয় চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) গ্যারেজে। অযত্ন-অবহেলা এবং ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার কারণে মহামূল্যবান অনেক দলিল নষ্ট হয়ে যায়। সুত্রমতে, দুই লাখ ৩৮ হাজার পৃষ্ঠার দলিলের মধ্যে জাদুঘরে সংগৃহীত অবশিষ্ট এক হাজার ৫৫১টি ফাইলে প্রায় এক লাখ ১২ হাজার পৃষ্ঠার দলিল সংরক্ষিত থাকলেও সেগুলোও খুব ভালো অবস্থায় নেই!

বিস্তারিত দেখুন… http://www.kalerkantho.com/print-edition/last-page/2014/03/27/66006 ।
সরকারের তরফ থেকে আর্কাইভ তৈরী করে এসব মুল্যবান দলিল-দস্তাবেজ সংরক্ষনের কথা একবার শোনা গেলেও পরবর্তীতে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়ছে কিনা তা জানা যায় নি।
দলিল হারিয়ে যাবার বিষয়ে অতীতের লজ্জাজনক ইতিহাস ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মুল্যবান দলিল-দস্তাবেজ সমুহ এই মুহুর্তে সংরক্ষন করা অত্যন্ত জরুরী।
বেশ কয়েক বছর আগে(দিন তারিখ মনে নেই)সিলেটের স্থানীয় পত্রিকা ‘দৈনিক সিলেটের ডাক’ পত্রিকার একটি কলামে পড়েছিলাম, “বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের আগে-পরে বিভিন্ন সেনা অফিসারদের ভুমিকা ও স্বাধীনতা পরবর্তী সেনা অফিসারদের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কথা বিস্তারিত বিবরন সহ মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্নেল এম এ জি ওসমানী একটি বই লিখেছিলেন। সেই বইটি তিনি মৃত্যুর পর প্রকাশ করার কথা ছিল। পরে কি ভেবে তিনি এটা মৃত্যুর আগেই প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং সবধরনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেন। এই ব্যাপারে বন্ধুমহলের বেশ কয়েকজনের সাথে তিনি আলাপ ও করেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তিনি বইটি প্রকাশের আগেই মারা যান। পত্রিকাটির ভাষ্যমতে, তিনি মারা যাবার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল এরশাদ উনাকে দেখতে উনার বাসায় আসেন এবং পরিদর্শন শেষে যাবার সময় অপ্রকাশিত বইটির পান্ডুলিপিটি নিয়ে যান। সেই থেকে বইটির পান্ডুলিপির আর কোন হদিস আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। লেখকের ধারনা, পান্ডুলিপিটি পেলে শেষদিকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ওসমানীর দুরত্বের কারন ও সেই সময়কার সেনা অফিসারদের নানা কর্মকান্ড ও ষড়যন্ত্রের কথা হয়তো জানা যেত। কিন্তু পান্ডুলিপিটি না পাওয়ায় এখন আর সেটা সম্ভব নয়”।
শুধু ওসমানী নয়, এরকম অনেকের লিখা বিভিন্ন বইয়ের পান্ডুলিপি, সংগৃহীত পেপার কাটিং, দেশের বিভিন্ন স্থানে রক্ষিত নানা রকম আলামত বা দলিল-দস্তাবেজ সংরক্ষনের অভাবে হারিয়ে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে অথবা কেউ ইচ্ছা করেও নষ্ট করে ফেলেছে।
বর্তমানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর তদন্তকারী দল দেশের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে নতুনভাবে কিছু আলামত সংগ্রহ করেছেন। তাছাড়া অনেক জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া জবানবন্দিও তারা রেকর্ড করেছেন। অপরাধ প্রমানের স্বার্থে নতুন পুরাতন এসব ডকুমেন্ট ও দলিল-দস্তাবেজ তদন্ত কর্মকর্তা, আইনজীবি ও আদালতের হাতে রয়েছে। এসব গুরুত্বপুর্ন দলিলগুলি অবশ্যই সংরক্ষন করা প্রয়োজন। নয়তো পট পরিবর্তন হলে এসব ডকুমেন্ট যে হারিয়ে যাবে না বা নষ্ট করা হবে না তার কোন নিশ্চয়তা নেই।
শিল্পি নচিকেতা তার এক গানের একটি লাইনে বলেছেন, “রাম যদি হেরে যেত – রামায়ন লিখা হত রাবণ দেবতা হত সেখানে….”
হ্যা, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, কারবালার প্রান্তরে ইয়াজিদ যখন জয়লাভ করে তখন ইসলামের প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করে সে তার ইচ্ছা অনুযায়ী একটি ভ্রান্ত ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্টা করে এবং সেই থেকে পবিত্র ইসলাম ধর্মে অনেক মত, গোত্র ও দলের সৃষ্টি হয় যা আজ অবধি বিদ্যমান। যদি ইয়াজিদ হেরে যেত তবে, ধর্মীয় এত দল-মতের সৃষ্টি হত না।
সর্বক্ষেত্রে ইতিহাস জয়ীদেরই গান গায়, বিজয়ীদেরই কথা বলে, নির্মম হলেও এটাই সত্য!
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বড়ই করুন ও তাৎপর্যপুর্ন। এত কম দিনে এত প্রানের বিনিময়ে পৃথিবীর আর কোন দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেনি।
মুক্তিযুদ্ধের অস্বীকৃতিকারীদের দ্বারা আমাদের এই স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাসকে নানাভাবে বিকৃত করা হয়েছে এবং এই প্রচেষ্টা এখন ও অব্যাহত রয়েছে। ইতিহাস বিকৃতির ফলে অনেক নায়ক হয়েছেন খলনায়ক আবার অনেক খলনায়ক ও সেজেছেন নায়ক! শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য অনেক হয়েছেন ঘৃনিত আবার ঘৃনিতদের করা হয়েছে শ্রদ্ধার পাত্র!
কিন্তু আর না! আমরা আর কোন ডকুমেন্ট হারাতে চাই না। আমরা আর কোন ইতিহাস বিকৃতি চাই না। আমাদের বর্তমান ইতিহাসের সঠিক অংশের যতটুকুই অবশিষ্ট আছে ততটুকুই সংরক্ষিত করা হবে এটাই প্রত্যাশা, এটাই একমাত্র দাবী …..
জয় বাংলা

[পূর্বে অন্যত্র প্রকাশিত]

You may also like...

  1. পরবর্তী প্রজন্মগুলোকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হলে এর কোন বিকল্প সত্যিই নেই

    doctorate of pharmacy online
  2. //// ইতিহাসকে নানাভাবে বিকৃত করা হয়েছে এবং এই,প্রচেষ্টা এখন ও অব্যাহত রয়েছে। ইতিহাস বিকৃতির ফলে অনেক নায়ক হয়েছেন খলনায়ক আবার অনেক খলনায়ক ও সেজেছেন নায়ক! শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য অনেক হয়েছেন ঘৃনিত আবার ঘৃনিতদের করা হয়েছে শ্রদ্ধার পাত্র! কিন্তু আর না! আমরা আর কোন ডকুমেন্ট হারাতে চাই না। আমরা আর কোন ইতিহাস
    বিকৃতি চাই না। আমাদের বর্তমান ইতিহাসের সঠিক অংশের যতটুকুই অবশিষ্ট আছে ততটুকুই সংরক্ষিত করা হবে এটাই প্রত্যাশা, এটাই একমাত্র দাবী …..
    জয় বাংলা……//

    সম্পূর্ণ সহমত।

  3. আমরা আর কোন ডকুমেন্ট হারাতে চাই না। আমরা আর কোন ইতিহাস বিকৃতি চাই না। আমাদের বর্তমান ইতিহাসের সঠিক অংশের যতটুকুই অবশিষ্ট আছে ততটুকুই সংরক্ষিত করা হবে এটাই প্রত্যাশা, এটাই একমাত্র দাবী …..
    জয় বাংলা — সহমত ১০০%
    ভাল বলেছেন! :দে দে তালি: :দে দে তালি: :দে দে তালি:

    private dermatologist london accutane
  4. আমরা আর কোন ডকুমেন্ট হারাতে চাই না। আমরা আর কোন ইতিহাস বিকৃতি চাই না। আমাদের বর্তমান ইতিহাসের সঠিক অংশের যতটুকুই অবশিষ্ট আছে ততটুকুই সংরক্ষিত করা হবে এটাই প্রত্যাশা, এটাই একমাত্র দাবী …..

    সহমত… :-bd :-bd :-bd

    খুবই সময়োপযোগী এবং চমৎকার একটি লেখা… :দে দে তালি: :দে দে তালি: :দে দে তালি: :দে দে তালি: :দে দে তালি:

wirkung viagra oder cialis

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong> thuoc viagra cho nam

zoloft birth defects 2013

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

walgreens pharmacy technician application online
kamagra pastillas
achat viagra cialis france
renal scan mag3 with lasix