Author: মুক্ত

metformin gliclazide sitagliptin

দিয়া (৫)

#দিয়া ৫ -”বাবু”! আমি বাবু না, রীতিমত দাড়ি গোফ গজানো যুবক। পুরো যুবকও বলা যাবে না, লোকে যাকে বলে ম্যাচিউরড সেটা এখনো হয়ে উঠেনি। বালক কিশোর এবং যুবকের অদ্ভুত এক জগাখিচুড়ী হয়ে মাঝ পথে ঝুলে আছি। যে কোনো দিন যুবক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সমুহ সম্ভাবনা বিরাজমান। পাশ ফিরে তাকিয়ে এদিক ওদিক খুজলাম। একবার উপরে একবার নিচে, ডানে বায়ে। হাতের ডান পাশে দুতলায় এক মেয়ে ফোনে কথা বলছে। কথা বলে আর হাসে। ধানমন্ডি লেক পাড়ের আড়াই কোটি টাকা দামের ফ্লাটের বারান্দায় দাঁড়িয়ে অচেনা কোনো বালিকা আদর মাখা কন্ঠে বাবু ডাকবে তাও আমার মত ছাল বাকলহীন ব্যাক্তিকে এটা পাগলে বিশ্বাস করলেও আমি...

হাসি

মেয়েটা সিপির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সিপি মানে ফ্রাইড চিকেনের দোকান । আট কি নয় বছর বয়স হবে । গায়ে আধ ময়লা ফ্রক। ফ্রকের কাপড়ে ছোট ছোট অক্ষরে কিছু একটা লেখা। রঙ জ্বলে যাওয়ায় এখন আর পড়া যায় না। মাথার চুল গুলোও নোংরা, উড়ে আসা মরা ঘাসের টুকরো লেগে আছে। রঙচটা ফ্রকের সাথে রঙচটা চুল, মানিয়ে গিয়েছে চমৎকার । সাথে গলায় রঙচটা পুতির মালা। সুন্দর, অদ্ভুত সুন্দর। মেয়েটার হাতে অনেক গুলো খুচরো টাকা। দুই টাকা পাচ টাকা দশ টাকার নোট। শক্ত করে মুঠো করে ধরা। মুঠো ভরা বাংলাদেশ সরকারের ‘চাহিবা মাত্র দিতে বাধ্য থাকিবে’ ছাপ মারা নোট নিয়ে হাসি হাসি মুখ...

দিয়া(৪)

#দিয়া ৪ আমি বললাম, দিয়া? -উমম দিয়ার উত্তর শুনে আমি বিরক্ত চোখে তাকাই। বিরক্ত চোখে তাকাই,কিন্তু বিরক্তি ধরে রাখতে পারি না। দিয়া নামক মেয়েটার প্রতি বিরক্তি ধরে রাখা আমার মত অধমের পক্ষে সম্ভব না। -তুমি এভাবে উত্তর দাও কেন? বাপ মা আর কোনো শব্দ শেখায় নাই? -উমম -থাপ্পড় মারব একটা বুঝলা এবার দিয়া মুখটা বাড়িয়ে দিল, কানের কাছে ফিস ফিস করে উমম শব্দ করছে। ভয়ে গলা শুকিয়ে গেল আমার। এখন যদি বলে দাও একটা থাপ্পড়, কত দিন থাপ্পড় খাই না! তখন আমি কি করব? দিয়া থাপ্পড় দিতে বলল না, কানের কাছে অদ্ভুতস্বরে উমম উমম শব্দ করে যাচ্ছে। -ফুসকা খাবা? দিয়া...

মায়া/মুগ্ধতা

ইদানিং মুগ্ধতা রোগে ধরেছে। সব কিছুতেই মুগ্ধ হই। রিক্সাওয়ালা বিড়ি টানছে। রিক্সার হ্যান্ডেলের রাখা বাম হাতের দুই আঙুলের মাঝে সিগারেট ধরা, কি স্টাইল। কিছুক্ষন প্যাডেল মারে, রিক্সা চলে, লম্বা এক টান। আবার প্যাডেল, তার পর আয়েশ করে আরেক টান। প্রতি টানে সুখ উড়ে যাচ্ছে। সুখের আবেশে রিক্সাওয়ালা ভাইয়ের চোখ বুঝে আসছে। বিড়ি টানার স্টাইল দেখে আমি মুগ্ধ। চোখে মুখে নিখাদ মুগ্ধতা নিয়ে আমি বিড়ি টানা দেখছি। ইচ্ছে করছে বলি, “ভাই আমাকে এক টান দেয়া যায় না?” বললে এক টান না পুরো সিগারেটাই গছিয়ে দিবে, আমি জানি। মুগ্ধতার ধাক্কায় সিগারেট খেতে ইচ্ছে করছে। পায়ের উপর পা তুলে একটা সিগারেট ধরাবো, চোখ...

দিয়া (৩)

“দিয়া, আমার দিয়া” শব্দ দুটো মাথার ভেতর ভন ভন করে ঘুরছে। ডান থেকে বায়ে, বা থেকে ডানে ঘুরে। ঘুরা থামানো উচিত। থামাতে ইচ্ছে করছে না। শব্দটা মাথার খুলির গায়ে বাড়ি খেয়ে টুংটাং শব্দ তুলছে। কেপে উঠছে বুকের বাম পাশটা। কাপা উচিত নয়। হৃদয়ঘটিত বিষয়কে বেশি লায় দিতে নেই। লায় দিলে বানরের মত ঘাড়ে উঠে যাবে। বুকে থাকা ভাল,ঘাড়ে উঠা বিপদজনক। বিড়বিড় করে বললাম, “থেমে যাও দিয়া” লক্ষ্মী মেয়ে, দিয়া থেমে গেল। দিয়াকে ঠান্ডা করে সামনে বসা রাফি সাহেবের দিকে তাকালাম আমি। সত্যিটা হল আমি তার সামনে বসে আছি। জড়সর হয়ে বসে আছি। রাফি সাহেব দিকে কটমট করে তাকিয়ে আছেন আমার...

দিয়া (২)

হুমায়ুন আহমেদ খুব বড় একটা অন্যায় করে গেছেন। পরকালে বায় চান্স তার সাথে দেখা হয়ে গেলে জোরেশোরে একটা ধমক দেয়ার ইচ্ছা আমার। আমার বাবা কোনো দিন আউট বই পড়েননি। পড়ার মাঝে বিশিষ্ট কিছু মানুষের হাতে গুনা দুয়েকটা বই। সেগুলোও আসলে তিনি পড়েন না । বলা উচিত মুখস্ত করেন। তার একটা ছোট্ট ডায়রি আছে। বই গুলো থেকে স্পেসিফিক কিছু লাইন তিনি ডায়রিটাতে টুকে রাখেন,পরে যেন রেফারেন্স হিসেবে ব্যাবহার করা যায়। প্রতিটি লাইনগুলোর নিচে তার ইংরেজি অনুবাদ লেখা। বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠানে টুক টুক দুয়েকটা লাইন ঝেড়ে দেন। ধীরে সুস্থে সময় নিয়ে একটা লাইন শেষ করেন। আশেপাশের টুকাটাকি নেতারা ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে... about cialis tablets

দিয়া (১)

বসুন্ধরা সিটির ভেতরে দাঁড়িয়ে আছি। কোন ফ্লোর বুঝতে পারছি না। বুঝা উচিত। সপ্তাহে নিয়ম করে তিন দিন এসে হাজিরা দিয়ে যাই। একই জায়গা, একই দোকান, একই চেয়ার। দু বছর হয়ে গেল। প্রথম প্রথম পছন্দের সিটটা পেতে ঝামেলা হত। মাঝে মাঝেই এসে দেখতাম আমার সিটে কোনো জুটি বসে আছে। সামনে মুরগীর রান। মেয়েটা কসরত করেও রানের ব্যাবচ্ছেদ করতে পারছে না। বাধ্য হেইয় মার টান স্টাইলে রান ফালাফালা করে প্রেয়সীর মুখে তুলে দিচ্ছে। মাঝে মাঝে উল্টোটাও দেখা যেত, প্রেয়সী উল্টো বালককে খাইয়ে দিচ্ছে। ছেলে মেয়েকে খাইয়ে দিচ্ছে এর থেকে উল্টোটা দেখতে ভাল লাগে। ছেলেদের খাইয়ে দেয়ায় কেমন একটা কপটতা থাকে। কিন্তু মেয়েদের...

আমরা

#আমরা -এই শোন! আমি ফিরে তাকালাম। কি অদ্ভুত! তোকে কেমন যেন অন্যরকম লাগছে আজ। সবই আগের মত আছে, গায়ের রঙ শ্যামলা থেকে ধবধবে ফর্সাও হয়ে যায় নি, লম্বায়ও দুয়েক ইঞ্চি বেড়ে যায় নি। হাত দিয়ে কপালের উপর থেকে চুল গুলো সরিয়ে দেখলাম, নাহ শিং টিংয়ের অস্তিত্বও নেই। তবুও কি একটা যেন একটু অন্য রকম। চোখ মুখ ফুটে কেমন অদ্ভুত সুন্দর আভা ফুটে বের হচ্ছে। আভার রঙটা একটু লালচে। সেই আভাতে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে তোকে. আচ্ছা আমি তোকে কত দিন ধরে চিনি? এক বছর, দু বছর-চার বছর? কি যেন!! হিসেবটা বড্ড খটমটে, মেলাতে গেলেই গুলিয়ে যায়। ইচ্ছে করেই গুলিয়ে ফেলি, হিসেব...

নিউক্লিয়ার যুদ্ধাস্ত্র, বর্তমান বিশ্ব এবং কিছু ফাও প্যাচাল

হিরোসিমা নাগাসাকিতে নিউক্লিয়ার বোমার ধংশযজ্ঞ দেখার পর একদিকে যেমন সারা বিশ্ব আতকে উঠেছিল এত ভয়াবহতা দেখে অন্য দিকে সারা দুনিয়ার ধংশের সমর নায়ক মোড়লদের চুলকানি বেড়ে গেল,যেভাবেই হোক সবার চাই এই জিনিস। শুরু হয়ে গেল এমন এক প্রতিযোগিতা যা মানব ইতিহাসে কেও কোনো দিন দেখেনি। শুধুমাত্র এই নিউক্লিয়ার অস্ত্র পাল্টে দেবে শক্তির ভারসাম্য।কে কার থেকে কত বেশি বিধ্বংসী বোমা বানাতে পারে শুরু হবে তার প্রতিযোগিতা। এ পর্যন্ত সব থেকে বেশি বিধ্বংসি নিউক টেস্ট করেছে রাশিয়া!! দা গ্রেট Tsar Bomb !! বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে স্রেফ এই একটা বোমা নাগাসাকি,হিরোসিমা তে ব্যাবহার করা বোমার ১৭৫০ গুন বেশি শক্তিশালী। তুলনা করা...

levitra 20mg nebenwirkungen

নিউক্লিয়ার যুদ্ধ এবং একজন বীরের উপাখ্যান

Give me the judgment of balanced minds in preference to laws every time. Codes and manuals create patterned behavior. All patterned behavior tends to go unquestioned, gathering destructive momentum. — Darwi Odrade You can’t make history by following rules. ২৭ অক্টোবর ১৯৬২- সম্ভবত স্নায়ু যোদ্ধের সব থেকে মারাত্মক সময়, সোভিয়েতদের কিঊবাতে মিডিয়াম রেঞ্জ ICBM (আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপনাস্ত্র/ব্যালেস্টিক মিসাইল) ঘাটি করা নিয়ে আমেরিকার সাথে উত্তপ্ত অবস্থা। যে কোনো মুহুর্তে শুরু হয়ে যেতে পারে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ। এদিকে কিঊবা তে একটা U-2 (SPY PLANE) গুলি করে নামানো হয়,আরেকটা গায়েব হয়ে গিয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেতরে। সব মিলিয়ে মাথার ঘায়ে কুত্তা পাগল অবস্থা আমেরিকার। সেই সময়ে...

ক্ষমা করো মা

বহু দিন আগে একটা গল্প পড়েছিলাম বীরাঙ্গনাদের নিয়ে। গল্পের মুল কাহিনি অনেকটা এরকম, এক জন মুক্তিযুদ্ধা নয় মাস যুদ্ধ শেষে বাড়ি ফিরে এসে দেখেন তারা স্ত্রীর খুজ নেই। অনেক খুজাখুজির পর স্থানীয় একটি পাকিস্তানি সৈন্যদের ক্যাম্পে তার অর্ধমৃত দেহের খুজ পান তিনি। অনেক চিকিৎসার পর তার স্ত্রী কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেন। স্বাভাবিক হয়ে উঠতে শুরু করে তাদের জীবন। কিন্তু বাধ সাধে স্থানীয় লোকজন, তারা রোজ এসে ভিড় জমায়, ধর্ষিতার মুখে শুনতে চায় রগরগে গল্প, মায়ের যোনি নিসৃত রক্তের স্বাদ পেয়ে নিষিদ্ধ আনন্দ পেতে চায় তারা। বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান তিনি। বহু কাল পরে এক রেল স্টেশনে...

নাম

–স্নিগ্ধা –সুন্দর নাম তো, কে? কেও না, স্রেফ নাম। এর বাইরে আর কোনো পরিচয় নেই। পরিচয় থাকার কথা ছিল কিন্তু কোনো একটা কারনে তা আর হয়ে উঠেনি। স্নিগ্ধা হত বেলি ফুলের মত স্নিগ্ধ। তার জন্য আলাদা বেড শিট কিনতে হবে। বড় বড় বার্বিডল আকা থাকবে তার পুরোটা জুড়ে। কোনোটার মাথায় লাল চুল, কোনোটার সোনালি। কিন্তু স্নিগ্ধার কালো চুলের স্নিগ্ধতা ছাড়ানোর সাধ্য হবে না তাদের। তার জন্য ছোট্ট একটা পালঙ্ক বানাতে হবে। সেটার গায়ে আকা থাকবে আকাশ ভাঙা জ্যোৎস্নার দৃশ্য। ড্রিম লাইটের মৃদ্যু আলোয় চিক চিক করবে সেই জ্যোৎস্না। অবাক চোখে দেখে আধো আধো বুলিতে জিজ্ঞেস করবে সে, -বাবাই, এতা কি?...

পরজন্ম

আমার খুব প্রিয় একটা কবিতা ছিল(অদ্ভুত কোনো কারনে কবিতা এবং কবির নাম দুটোই ভুলে গেছি, শুধু ছন্দটা মনে আছে) তার উপর নিজের মত করে রিরাইট করা! বলা বাহুল্য ইহাই আমার প্রথম এবং শেষ কবিতা। ছন্দ বানান সহ মাত্রা জাতীয় যাবতীয় ভুল বীনা প্রশ্নে মেনে নেয়া বাধ্যতামূলক :3 ——————————————————————————————- পরের জন্মে আরও কাছাকাছি জন্ম নিব , স্বর্নলতার মত গায়ে গা জড়িয়ে বেড়ে উঠব দুজনে জন্ম থেকেই প্রেমটা করে ফেলব. তুই হবি আমার প্রথম প্রেম,প্রথম মুগ্ধতা আমার প্রথম কষ্ট,আমার গালে আঁচড়ে দেয়া প্রথম বালিকা স্বপ্নে দেখা প্রথম কিশোরি, ছুয়ে দেয়া প্রথম হাত আমার ছোয়া প্রথম নারী, রক্তে বান ডেকে যাবে যার রুপে...

নিশিকন্যা কিংবা রুপা

ফুটপাথের উপর দিয়ে ধীরে ধীরে হাটছে সাইফ।হাতে একটা শপিং ব্যাগ। নির্দিষ্ট কোন গন্তব্য নেই। রাত গভীর হয়ে আসছে।পকেট থেকে মোবাইল সেটটা বের করে সময় দেখল,দশটা পঁচিশ। এর মাঝেই রাস্তাঘাট ফাকা হতে শুরু করেছে। মোবাইলের চার্জও প্রায় ফুরিয়ে এল বলে। একটু পর পর টুট টুট করে শব্দ করছে।বিরক্তিকর শব্দ, মস্তিষ্কের ভিতরে গিয়ে লাগে। মোবাইলটা অফ করে পকেটে রেখে দিল সে।থাক বন্ধ হয়ে, আজ আর কেও কল দিবে না, মোবাইল অফ থাকলে কিছু যায় আসে না। পাশ দিয়ে ক্রিং ক্রিং বেল বাজিয়ে একটা রিক্সা চলে গেল,বেশ জোরে চালিয়ে যাচ্ছে রিক্সাওয়ালা। বুঝাই যাচ্ছে তাড়া আছে। নিশ্চয়ই ভাতের থালাটা সামনে নিয়ে কেও বসে আছে...

wirkung viagra oder cialis

অভিশপ্ত

সিলিংয়ের সাথে বাধা ওড়নাটা,টাংস্টেন পুড়া আলোয় ঝিকমিক করে উঠে হঠাৎ হঠাৎ, আধো আলোতে ফুটে উঠে কারও হাতের ছাপ। অভিমানগুলো অন্ধকার হাতরে ঘুরে ফিরে চারদেয়ালের মাঝে। দুচোখ ভরা কাজল,নোনা জলে লেপ্টে যায়। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা একা বালিকা এক সময় ক্লান্ত হয়ে যায়, নরম ফাসটা আলতো করে এটে যায় অভিমানের গায়ে. অন্ধকার ভেদ করে চেয়ে থাকে রাত জাগা টিকটিকিটা-বুড়ো ঘড়িটাও সময় ভুলে ঠায় দাঁড়িয়ে। জেগে থাকা হাজারও রাতের ক্লান্তি ভর করে তাদের উপর। ছাদের কার্নিশে দাড়িয়ে ফুঁপিয়ে কাদে স্বপ্নেরা, ঝাপসা হয়ে আসে বহু নিচের জমিন,ঝাঁপিয়ে পড়ার অদম্য ইচ্ছেটা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। শীরা ছুয়ে থাকা মন খারাপ করা ব্লেডটা আরও গভীরে... para que sirve el amoxil pediatrico

সে

রাত একটু বাড়ার সাথেই খিদেটা আবার মাথা চাড়া দিল । দু মাস আগেও এমনটা হত না, দশটার আগ পর্যন্ত দিব্বি সিগারেট দিয়ে চালিয়ে নেয়া যেত,ভাতের প্রয়োজন হত না। এখন লাগে, সন্ধে নামার সাথে সাথেই মাথা খারাপ হয়ে যায়। ভাতের সাথেও আরও কিছু একটার খিদে জানান দিয়ে যায় একটু পর পর। শরীরের প্রতিটি কনা চেঁচামেচি শুরু করে দেয় – ঘরে যা, ঘরে যা। ঘরের টানে ঘরে ফিরে যাচ্ছি আমি। দরজা খুলেই নবাবজাদার মত বললাম – খুদা লাগছে, ভাত দাও। রাজকন্যা ভাত বাড়ছে। রাজকন্যা বললাম এ কারনে, সে সত্যিই রাজকন্যার মতই। সারা দেহে, চিন্তা মননে। তার তুলনায় আমি গোলামের পুত । পথ...

থ্রিলারঃ বদলা (শেষ পর্ব)

থ্রিলারঃ #বদলা শেষ পর্ব মেজর কামরুল আহত বাঘের মত পায়চারী করছেন নিজের অফিস রুমে। কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না ঘটনাটা। দুদিন আগেও কথা হয়েছিল শরীফের সাথে। স্কুলগামী তিনটা বাচ্চা আছে তার। কিছুদিন আগেও তাদের ছবি দেখিয়েছিল তাকে। একজন রিজিওনাল কমান্ডারকে এত অল্পতে চিন্তিত হলে মানায় না,তবু…. যুদ্ধাবস্থা হলে না হয় মানা যায়,যুদ্ধে সৈনিকের জীবন যাবে এটা চিরন্তন সত্য কিন্তু কোনো কারন ব্যাতিত স্রেফ কাপুরুষের মত আক্রমন করে গুলি করে আবার লাশ টেনে নিয়ে যাওয়া কিছুতেই মানা যায় না, -বাস্টার্ড গুলার উপর এয়ার স্ট্রাইক করা উচিত, মনে মনে ভাবলেন তিনি। তিনি রুমের এক মাথা থেকে আরেক মাথা পায়চারী করছেন এমন সময়...

থ্রিলারঃ বদলা (পর্ব ৩)

থ্রিলারঃ #বদলা পর্বঃ৩ অ্যাকুরেসি ইন্টারনেশনাল L-115A3 রাইফেলটা বাইপডের উপর বসিয়ে একটু স্থির হল সোহেল। লং রেঞ্জ প্রিসাইসন শুটিংয়ে এর জুড়ি মেলা ভার। ৩০০ গ্রেনের .338 লুপুয়া ম্যাগনাম বুলেট প্রায় .৫০ ক্যালিবারেরবুলেটের সমান ধ্বংসাত্মক। যদিও ওজনে অনেক কম। এক কিলোমিটার দুর থেকেও যেকোন টার্গেটকে নির্ভুল ভাবে আঘাত করে ছিন্নভিন্ন করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে এটি। সাধারনত এন্টিম্যাটারিয়াল স্নাইপার রাইফেল গুলোর ওজন প্রায় দশ কেজির ওপরে হয় কিন্তু এই রাইফেলেরওজন মাত্র সাড়ে ছয় কেজি। শত্রু সীমার ভেতরে ভারি রাইফেল এবং তার অ্যামো (বুলেট) বহন করা কষ্টসাধ্য বিষয়। একারনেই ওজন কম কিন্তু তুলনামূলক হাই পারফরমেন্স রাইফেল হিসেবে এর কদর পৃথিবীর সব বাহিনীতেই। তাছাড়া এই...

থ্রিলারঃ বদলা (পর্ব ২)

থ্রিলারঃ #বদলা পর্বঃ২ ——— আঠার ঘন্টা আগে, সিলেট. সকাল দশটা, টপ সিক্রেট স্নাইপিং ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি. একটু পর পর হেবি ক্যালিবার রাইফেলের গর্জনে কেঁপে উঠছে পুরো এলাকা।। রাইফেলের শক্তিশালি স্কোপে চোখ রেখে টার্গেটের দিকে চেয়ে আছে বিশাল দেহি কর্পোরাল সোহেল আহমেদ। পাশেই হালকা পাতলা দেহের স্পটার জাহিদ কারেকশন দিচ্ছে, ফাইব ইঞ্চ লেফট, টু ইঞ্চ হাই,অন মায় মার্ক-ফায়ার!! সুপারসনিক বেগে হেবি ক্যালিবারের বুলেট বেরিয়ে গেল ব্যারেল ছেড়ে । ভারী রাইফেলটার রিকয়েলের ধাক্কায় মুখ কুঁচকে গেল কিছু সময়ের জন্য। ৩০ বছর বয়সী কর্পোরাল সোহেল সেকেন্ড জেনারেশন মিলিটারি সার্ভিসম্যান। তার বড় ভাই বিজিবিতে কর্মরত, ল্যান্স কর্পোরাল শরীফুর রহমান।বলা উচিৎ সৎ ভাই,যদিও সারা জীবন আপন...

থ্রিলারঃ বদলা (পর্ব ১)

সভ্যতা ব্লগে লেখা আমার প্রথম গল্প এটি। চার পর্বে সমাপ্ত থ্রিলার গল্প। বাকি পর্বগুলো পর্যায়ক্রমে সভ্যতায় প্রকাশিত হবে। আশা করি ভাল লাগবে সবার. ———— মে ২৯, ২০১৪ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট জাওয়ারা আহমেদ ককপিটের হেভি ডিউটি গ্লাসের মধ্য দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছেন। এত উচু থেকে আকাশ ফুড়ে থাকা পাহাড়গুলোকেও সমতল ভুমি মনে হচ্ছে। কেমন গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে আছে সব,অনেকটা প্রহরীর মত। রুপসী বাংলার পড়নের শাড়ির সবুজ পাড় যেন। -বিউটিফুল, নিজের অজান্তেই শব্দটা বেরিয়ে আসল! মিলিটারি লাইফে প্রতিটি মুহুর্তে কিছু না কিছু ত্যাগ করতে হয় জননী মাতৃভূমির জন্য,এতে কোনো আফসোস নেই তার।তবু মাঝে মাঝে হাপিয়ে উঠেন কিন্তু যখনই এ ধরনের দৃশ্য দেখেন...