স্পার্টাকাস। পর্ব ১

707

বার পঠিত

 

ধারনা অনুযায়ী খ্রিস্টপূর্ব ৭১-৭৩ এর সময়কাল।‘কাপুয়া’ শহর।হঠাৎ অস্ত্রের ঝনঝনানি,হুংকার আর গোঙ্গানির শব্দে কিছুটা হুঁশ ফিরে পায় সে।চোখ দুটো ঝাপসা ঝাপসা।হাতে পায়ে মোটা মোটা শিকল আর অপরিচ্ছন্ন শ্যাওলা ধরা খুপরির মত ঘরে নিজেকে আবিস্কার করে বুঝতে পারে সে বন্দী।

কলোসিয়ামে ( ক্রীতদাস যোদ্ধাদের আমরণ খেলার মাঠ স্বরূপ, অনেকটা স্ট্যাডিয়ামের মত) মৃত্যুর আগে এক ক্রীতদাস যোদ্ধার শেষ আর্ত চিৎকার।ভয় পেয়ে যায় বন্দী থ্রেসিয়ান যোদ্ধা।হঠাৎ করে গত কয়েকদিনে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলি মনে করার চেষ্টা করে সে,মনে পরে যায় তার একমাত্র স্ত্রী ‘সূরা’র কথা। domperidona motilium prospecto

অল্প কিছু মানুষ নিয়ে ছোট একটা থ্রেসিয়ান গ্রাম।হঠাৎ সেখানে ‘লেগাটাস’ নামক এক অভিজাত রোমান, সৈন্য সামন্ত নিয়ে হাজির হয়।যদিও রোমানদের সাথে থ্রেসিয়ানদের সম্পর্ক ভালো ছিল না।তাই রোমানদের এই আগমন সম্পর্কে জানতে চাইলে লেগাটাস জানায় ‘গ্যাটাই’ নামক এক জায়গায় হাজার হাজার বারবারিয়ান সৈন্য এসে ভিড়েছে রোম আক্রমন করতে।এবং তারা এই গ্রাম হয়েই ঢুকবে।তাই গ্যাটাই থেকেই বারবারিয়ানদের যুদ্ধে পরাস্থ করে তাড়িয়ে না দিলে থ্রেসিয়ান গ্রাম ধ্বংস হয়ে যাবে।থ্রেসিয়ানরা নিজেদের গ্রাম বাঁচাতে চাইলে যেন রোমানদের সাথে ‘গ্যাটাই’ যুদ্ধে যোগ দেয়।বিনিময়ে চুক্তি হয় গ্যাটাই এর অর্ধেক জমি থ্রেসিয়ানদের হবে।

‘গ্যাটাই’ যুদ্ধে বারবারিয়ানদের সাথে যুদ্ধ চলছে।কিন্তু রোমানরা তাদের যুদ্ধের প্ল্যান পরিবর্তন করে।কিন্তু এই প্ল্যান থ্রেসিয়ানদের জন্য এক অশুভ ফল বয়ে নিয়ে আসবে ভেবে তারা অসম্মতি জানালে সেখানে লেগাটাসের সাথে থ্রেসিয়ান যুদ্ধাদের মাঝে তর্ক এবং যুদ্ধ বেঁধে যায়।

সেই যুদ্ধে লেগাটাসের দেহরক্ষীরা নিহত হলেও তারা রোমানদের পক্ষ থেকে পাঠানো লেগাটাস কে না মেরে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে চলে আসে গ্রামের দিকে।গ্রামের দিকে এসে দেখে বারবারিয়ানদের আর একটি ছোট গ্রুপ গ্রামে প্রবেশ করেছে।খালি গ্রামে তারা নারীদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে।তখন তারা এই বারবারিয়ানদের কচুকাটা করে।

‘গ্যাটাই’ যুদ্ধে বেশিরভাগ থ্রেসিয়ান যোদ্ধা নিহত হয়।লেগ্যাটাসের সাথে তাদের যে মনোমালিন্য তা থেকে বুঝা যায় যে কোন সময় গ্রামে রোমানদের আক্রমন হতে পারে। হইয়ো তাই।রাতের অন্ধকারে থ্রেসিয়ান যোদ্ধারা পালাতে থাকে।‘সূরা’ স্বামীও সূরা কে নিয়ে এক গুহায় রাতে থাকার জন্য তাবু ফেলে।এই সুরা’র স্বামীই রোমান গ্যাটাই যুদ্ধের সেনাপতি লেগ্যাটাসের সাথে তর্ক করে তার রক্ষীদের মেরে তাকে ফেলে রেখে চলে এসেছিলো।

রোমান লেগ্যাটাস তখন হন্যে হয়ে খুঁজা শুরু করেছে এই দুঃসাহস দেখানো থ্রেসিয়ান যোদ্ধাকে।পেয়েও যায় তারা থ্রেসিয়ানকে।অন্ধকারে ঘুমন্ত অবস্থায় তারা সূরা এবং তার স্বামী থ্রেসিয়ান যোদ্ধাকে বন্দী করে নিয়ে যায় দাস হিসেবে।কারন ঐ সময়টায় সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ছিল ক্রীতদাস যোদ্ধাদের ‘আমরণ যুদ্ধ’ খেলা।এবং রোমান সিনেটররা প্রতি বছর সেই খেলা আয়োজন করে থাকে।বিভিন্ন শহরের ক্রীতদাস ব্যবসায়ীরা গড়ে তুলে ক্রীতদাস যোদ্ধা তৈরির প্রশিক্ষন কেন্দ্র।এবং সেইসব দাস ব্যবসায়ীরা তাদের সবচেয়ে সেরা সেরা ক্রীতদাস যোদ্ধাদের নিয়ে শুরু হতো টুর্নামেন্ট।

সত্যি! দাসরা যেন মানুষ ছিলো না,ছিলো রোমানদের খেলার পুতুল।তাদের রক্তে দর্শকদের মনে আনন্দ জাগত, চিৎকার করতো।

যাইহোক, সেই সময় একজন রোমান সিনেটর ছিল যে কিনা লেগ্যাটাসের শ্বশুর।তাই তার শ্বশুর, রোমান সিনেটরকে খুশি করতে থ্রেসিয়ান যোদ্ধা কে ক্রীতদাস হিসেবে তাকে উপহার দেয়।এবং এরপরেই সেই থ্রেসিয়ানকে নিয়ে যাওয়া হয় কলোসিয়ামের ক্রীতদাস বন্দীশিবিরে।

সবকিছু মনে পড়ে যেতেই থ্রেসিয়ান যোদ্ধা যেন স্ত্রী ‘সূরা’র জন্য পাগল প্রায় হয়ে যায়।তার খুঁজ জানার জন্য অস্থির হয়ে পড়ে। কিন্তু কে দিবে সূরা’র খুঁজ?

সূরা’র কথা ভাবতে ভাবতেই থ্রেসিয়ানের পালা শুরু হয়ে যায়।কলোসিয়ামের ভিতর পুর্বের চ্যাম্পিয়ন এক ক্রীতদাস যোদ্ধা তার অপেক্ষায়।লেগ্যাটাস খুব ভালো করেই জানে থ্রেসিয়ান অনেক বড় মাপের যোদ্ধা। একজন চ্যাম্পিয়নকে হারানো থ্রেসিয়ানের জন্য কোন ব্যাপার না।তাই সে আগে থেকেই ক্রীতদাস যুদ্ধ পরিচালনাকারীদের বলে রাখে, যেন তার জন্য আরও পাঁচ/ছয় জন যোদ্ধা কলোসিয়ামে আনা হয়। hcg nolvadex pct cycle

সূরা কে হারিয়ে বিমুর্ষ থ্রেসিয়ান একা পাঁচ/ ছয়জন যোদ্ধার সামনে দাঁড়িয়ে।তার হাত যেন চলে না।প্রথমেই খুব আঘাত প্রাপ্ত হয়।আঘাত পেয়ে মাটিতে পড়ে যায় থ্রেসিয়ান।একজন তলোয়ার উচিয়ে থ্রেসিয়ানের ঘারে মারতে গেলেই সূরা’র মুখ ভেসে উঠে চোখের সামনে।যেন কানে কানে কিছু একটা বলে যায় সূরা।মুহুর্তেই গড়ান দিয়ে তলোয়ারের আঘাত ঠেকিয়ে উঠে দাঁড়ায় সে এবং উন্মাদের মত সব কয়টা যোদ্ধা কে খুন করে রক্তের বন্যা বইয়ে দেয় সারা কলোসিয়াম জুড়ে।

কলোসিয়াম থেকে সাধারন দর্শকদের মুখে রব উঠে, থ্রেসিয়ানকে বাঁচিয়ে রাখার।কিন্তু লেগ্যাটাস যেন ব্যাপারটা মেনে নিতে চায়না।কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী যে শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে বেঁচে থাকবে এবং দর্শকদের মন জয় করতে পারবে তাকে মেরে ফেলা যাবে না।

ঠিক এই সময়ে রোমান সিনেটরের পাশেই বসে থাকা ‘কাপুয়া’র এক দাস ব্যবসায়ী নাম ’বাটিয়াটাস’ ক্রীতদাস যোদ্ধা হিসেবে থ্রেসিয়ানকে কিনে নিতে আগ্রহ জানায়।এতে করে থ্রেসিয়ান মুক্তিও পাবে না ফলে রোমানদের সেনাপতি লেগ্যাটাসের জন্য হুমকিও হয়ে থাকবে না।

সিনেটর বাটিয়াটাসের কথায় রাজি হয়।এবং থ্রেসিয়ানের নতুন নাম দেওয়া হয় ‘স্পার্টাকাস’সেই থেকে শুরু হয় বাটিয়াটাসের ক্রীতদাস যোদ্ধা প্রশিক্ষন কেন্দ্রে স্পার্টাকাসের নতুন জীবন।

সুত্রঃ হিস্টরি চ্যানেল (টিভি শো  স্পার্টাকাস )

পাঠকদের ভালো লাগলে,চলবে…

You may also like...

  1. কলোসিয়ামের বর্বর হত্যাকান্ড সম্পর্কে আরো জানার আগ্রহ ছিল ।চালিয়ে যান ।

    cialis online australia
  2. শেহজাদ আমান বলছেনঃ

    মানুষের ভাই আমি স্পারটাকাস!

  3. অংকুর বলছেনঃ

    অনেক কিছু জানলাম । অনেক ধন্যবাদ । :-bd :-bd :-bd

প্রতিমন্তব্যকৃষ্ণ গহ্বর বাতিল

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন * lasix tabletten

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

metformin er max daily dose

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

cialis 10 mg costo

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.