মানুষ চেনা সম্ভব? মোটেও না!
1058
বার পঠিতবড়ই বিচিত্র এই পৃথিবী ।তার চেয়েও বড় বিচিত্র এই পৃথিবীতে বসবাসকারী মানুষ ।এক কথায় পৃথিবীতে বিধাতার অমোঘ সৃষ্টি; হাজার প্রজাতির আজব প্রাণীর মধ্যে সবচাইতে আজব প্রাণীটির নাম হচ্ছে মানুষ। প্রাণীকুলের মধ্যে মানুষই খুব অল্প সময়ের মধ্যে তার রূপ বদলাতে পারে। রেকর্ড সময়ের মধ্যে বদলে যায় মানুষ। একটু আগেও যে ছিল হাবাগোবা ধরনের, মুহুর্তে সে হয়ে যায় ধূর্ত প্রকৃতির। মিষ্টি হাসির মানুষটির চেহারায় ফুটে ওঠে হিংস্রতা। আর এ জন্যই প্রাণীদের মধ্যে শুধু মানুষকেই বারবার আয়না দেখতে হয়! অন্য প্রাণীরা কিন্তু আয়নায় নিজের চেহারা দেখে না। প্রতিনিয়ত রূপ বদলায় বলেই মানুষের আয়না দেখতে হয় চেহারা মনে রাখার জন্য। অন্যতায় হয়তো সে নিজেকেই নিজে চিনবে না। আবার একমাত্র মানুষই রূপ বদলাতে মেকআপ করে, প্লাষ্টিক সার্জারী করে, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপন করে। আর না পারলে বাহ্যিক পোশাক-আশাক এবং ব্যবহারেও মানুষ বদলাতে চেষ্টা করে, বদলায়। কোন কোন ক্ষেত্রে সফলও হয় বৈকি। মোদ্দা কথা মানুষ বদলে যেতে চায়, বদলাতে ভালোবাসে। এক খোলসের ভেতর থাকা তাদের অপছন্দ। তাই প্রতিনিয়তই বদলায় মানুষ।বদলাতে বদলাতে এমন অবস্থা হয় যে, এক সময় মানুষ নিজেকেই নিজে চিনতে পারে না। নিজেকেই সন্ধান করে ফেরে কাল থেকে বহুকাল।
আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত নিজেকে বা কেউ কাউকে সমূলে চিনতে পারেনি ।
এই তো ক’দিন আগে রহিম চাচা তার চার সন্তানের গর্ভধারিণী স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিলেন! ৪২ বছরের সাংসারিক জীবনেও চাচা উনার স্ত্রীকে চিনতে পারেননি। শত লঞ্চনা সহ্য করেও যে মহিলাটি চাচার সংসারে কয়েকটি যুগ কাটিয়ে দিলেন তিনিও রহিম সাহেবকে চিনেননি!
আর সেজুতি? প্রায় ৯ বছর প্রেম করেও মাহিদুল কে ছেড়ে পালিয়ে গেল বাসিতের সঙ্গে! মাহিদুলও কম কিসে, সেও সেজুতিকে মনে প্রাণে ভালবেসে, একমাত্র অর্ধাঙ্গী করবে এই অঙ্গিকার সত্ত্বেও কুলসুমা, মনিকা আরো কত’র সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করলো! কিন্তু দীর্ঘ নয়টি বছর এক বাধনে জড়িয়ে থেকেও কেউ কাউকে স্বমূলে জানতে পারেনি!
শুধু কি তাই, কুড়ি বছর বাবার ঐশ্চর্য্য আর মায়ের স্নেহ আদরে লালিত হয়েও ঐশী চিনেনি তার বাবা-মা কে এবং বাবা-মা ও চিনেন নি ঐশীকে। সময়ের সম্পর্ক তো দুরের কথা, রক্তও একে অপরকে চেনাতে পারেনি।
তবুও থেমে নেই মানুষ। কিঞ্চিত ধারণা আড়ষ্ট করে বিভিন্ন সম্পর্কের বদৌলতে একে অপরের সাহচর্যে আসার চেষ্টা করছে, নিজের অজান্তে এসে পড়ছে। প্রাণে প্রাণ মিলাবার আগে, পরে মধ্যখানে একে অপরকে চেনার চেষ্টা করতেছে, জানার চেষ্টা করতেছে। সফলতা-বিফলতার ধার না ধেরে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। প্রেম-ভালবাসা, বন্ধুত্ব, টাকা, বিশ্বাস, ব্যবহার এমনকি সবক’টির সম্মিলিত প্রয়োগ ঘটিয়েও অপরকে চেনার চেষ্টা করতেছে, আপন করে নেবার ধান্ধা করতেছে, করে যাবে!
বিজ্ঞান, সাহিত্য, কাব্যিক কিংবা রাজনীতি যে ভাষায়ই বিবেচনা করা হোক না কেন মানুষের এই চেনা-জানা-আপন করে নেবার প্রচেষ্টাকে কখনোই খারাপ বা অর্থহীন বলা যাবে না। অমূলক হলেও মানুষের জন্য এই প্রক্রিয়াটি চলমান থাকবেই এবং থাকাটা জরুরী ও যৌক্তিক বটে ।
অন্ধকার দেখে রাত চেনা যায়, সূর্যের আলো দেখে দিন কে চেনা যায়, কিন্তু রুপ দেখে মানুষ চেনা অনেক কঠিন। আমরা মানুষের বাহ্যিক রুপ দেখে, ব্যবহার দেখে, পূর্ব পুরুষের খান্দান….. দেখেই ধারণা করি মানুষটা খারাপ কিংবা ভাল। আবার অহেতুক সেই ধারণা থেকে বিভিন্ন রকম মন্তব্য ও করে ফেলি পজেটিভ বা নেগেটিভ ধরণের। প্রথাগত আবেশে যদিও এই সিষ্টেমটি একেবারে খারাপ নয় তবুও প্রশ্ন হচ্ছে, সেটা কতটা যৌক্তিক?
হ্যা, স্বমূলে চেনা অসম্ভব হলেও ভার্চুয়ালি হোক আর বাস্তবিক হোক জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদেরকে একে অপরকে অবশ্যই মুল্যায়ন করতে হয়। এক্ষেত্রে আমরা অনেকটা বাধ্যই বলা যায়! আমাদেরকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হয়, বন্ধুত্ব করতে হয়, প্রেম করতে হয়; এবং এই সম্পর্কগুলির প্রতিটির সাথেই চেনা-জানা বিষয়টি প্রকটভাবে জড়িত। তাছাড়া প্রকাশ করার প্রয়োজন পড়ুক আর নাই পড়ুক আমাদের চারপাশের ঐ ব্যাক্তি/ব্যাক্তিসমূহ সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা হৃদয়ে পোষণ করতে হয়। প্রয়োজনে কথায়, কাজে, ব্যবহারে, লেখনীতে কাউকে কাউকে তার কর্ম অনুসারে মূল্যায়ন বা স্বীকৃতি দিতে হয়, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সেই মূল্যায়নটা কিসের ভিত্তিতে করা উচিৎ, সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চেনা-জানার প্রক্রিয়া কি ধরণের এবং কতটুকু পর্যন্ত হওয়া বাঞ্চনীয়??
মানুষের সাময়িক কথা-বার্তা বা আচার-আচরণ কখনোই তার প্রকৃত অবস্থান নির্দেশ করে না। মানসিকভাবে সদা পরিবর্তনশীল এই স্বজাতির মূল্যায়নও তাৎক্ষনিক অনুমানে করা অযৌক্তিক। যে কোন ক্ষেত্রে মূল্যায়নের আগে মানুষের ভাল খারাপ দুটি স্বত্ত্বা এবং দুটি স্বত্ত্বারই পরিবর্তনশীল অবস্থান বিবেচনায় কিছু সময়, কিছু দিন, বছর, যুগ….অপেক্ষা করা উচিৎ। স্থান, ক্ষেত্র, ব্যাক্তি, প্রেক্ষিত, সময় বিশেষে ভাল মানুষের খারাপ পরিচয় প্রকাশ হতে পারে আবার খারাপ প্রকৃতির মানুষও ভাল বনে যেতে পারে। মানুষ হয়ে স্বজাতির প্রতি যে কোন ধরণের মন্তব্য/মূল্যায়নের আগে, যে কোন ধরণের সম্পর্ক স্থাপনের আগে অহেতুক অনুমান বা ধারণা পরিহারের পাশাপাশি সাবধানতা অবলম্বন ও সময় নেয়াটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং অবশ্যই করণীয়। বিশেষ করে বায়বীয় অনুমান একেবারে ত্যাগ করা উচিৎ।
এ ব্যাপারে আল-কোরআনের সূরা হুজরাতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,”হে ঈমানদারগন তোমরা বহু অনুমান থেকে বেঁচে থাক। নিঃসন্দেহে কোন কোন অনুমান হচ্ছে গুনাহ”।
আর রাসুল (সাঃ) বলেছেন,”তোমরা অনুমান পরিহার কর, কেননা অনুমান হচ্ছে নিকৃষ্টতম মিথ্যা।”(বুখারী)
মানুষে মানুষ নাই চিনুক মনুষ্য প্রজাতির মধ্যে সৃষ্ট প্রতিটা সম্পর্ক হোক বিশ্বাসে ভরপুর আর প্রতিটা মূল্যায়ন হোক ন্যায়সঙ্গত যৌক্তিক এই কামনা নিরন্তর……
দুরন্ত জয় বলছেনঃ
venta de cialis en lima peru#-o #-o #-o
মানুষ এক আজব চিড়িয়া!!!
স্বাগতম শাহিন ভাই।
এসজিএস শাহিন বলছেনঃ
ধন্যবাদ জয় ।
পুরোনো সব বন্ধুদের একসাথে সভ্যতায় পেয়ে ভালোই লাগছে ।
দুরন্ত জয় বলছেনঃ
আমারও অনেক ভাল লাগছে।
মুখরিত হয়ে উঠুক সভ্যতার উঠান……
একজন আইজুদ্দিন বলছেনঃ
এসজিএস শাহিন বলছেনঃ
ধন্যবাদ আইজুদ্দিন ভাই ।
চাতক পাখি বলছেনঃ
viagra en ukমানুষ বড়ই বিচিত্র প্রাণী। চিনা মুশকিল।
ভাল লাগলো আপনার লিখা। :কুপায়ালাইছ মামা-ভিক্টরি: :কুপায়ালাইছ মামা-ভিক্টরি: :কুপায়ালাইছ মামা-ভিক্টরি: :কুপায়ালাইছ মামা-ভিক্টরি: :কুপায়ালাইছ মামা-ভিক্টরি:
:এতো দিন কই ছিলি?: :এতো দিন কই ছিলি?: :এতো দিন কই ছিলি?: acquistare viagra in internet
এসজিএস শাহিন বলছেনঃ
can your doctor prescribe accutaneআমার পক্ষ থেকে আপনিও হাজার হাজার কোটি কোটি বৃষ্টির ফোটায় জলসিক্ত হোন! achat viagra cialis france
মাশিয়াত খান বলছেনঃ walgreens pharmacy technician application online
কিছু বলার নেই
এসজিএস শাহিন বলছেনঃ
পরিণত শিশুমানব বলছেনঃ
ঠিক বলেছেন ভাই।।লেখাটা অনেক ভালো হয়েছে।।
:-bd
আসলেই আজকের আমিকে যে কালকের আমি চিনবে তারতো কোন নিশ্চয়টা নেই।। :/