বিষন্ন প্রান্তর

0

বার পঠিত

অশরীরী এক নির্জীবতা । ঘড়িতে রাত বারোটা পার হলো! এক অদ্ভুত নিরবতা এখানে। নির্জন নির্জিব ছাদ এর প্রান্তে চেয়ারে গা এলিয়েছে সে! মুহুর্তে এক ঝলক বাতাস, পরশ পাথরের স্পর্শ মনে হয় এই সামান্য বায়ু প্রবাহকে! প্রশান্তিময় দীর্ঘশ্বাস নিয়ে চোখ বন্ধ করে শুভ্র!
অন্ধকার আজ নেই, চাঁদ এর প্রতিসরিত জ্যোৎস্না সংবেদনশীল মলিনতা তৈরি করেছে অন্ধকারের বুকে!সম্ভাব্যতার সূত্রে শুভ্র ঘটে যাওয়া প্রাত্যাহিক ঘটনাসমগ্র বিশ্লেষণ করছিল! শুভ্রর মতে অন্ধকার মানুষের চিন্তাজগতের রাসায়নিক গঠনে প্রভাবক উত্তেজক হিসাবে কাজ করে।
সময় মধ্যরাত ঘড়িতে আড়ায়টা বাজে প্রায়, শেয়ালের ডাক শোনা যাচ্ছে, সাথে পোকামাকড় এর আওয়াজ মিশে গিয়ে নির্জন রাতের বুকে এক অদ্ভুত ধনিব্যঞ্জনা সৃষ্টি করছে! ঘুমিয়ে পড়েছিল শুভ্র, সহসা জেগে ওঠে। জ্যোৎস্না উজ্জ্বল বর্ণ ধারন করেছে, অন্ধকার এর ভেতর মিহি আলো এবং কুয়াশার সংমিশ্রণ এক অসাধারন অনুভুতির সঞ্চারণ করে, শুভ্রর সহসা মনে সে বেমালুম ভুলে গেছে, কেন সে ছাদে এসেছিল, কিসের প্রতীক্ষায় সে বসেছিল, ভাবনার জগতে ছেদ পড়ে অন্ধকারের বুক চিরে ভেসে আসা ভয়ানক এক আর্তনাদের আওয়াজে! হিমবাহের মত শীতল ভয়ানক শব্দে প্রকৃতি এবং প্রাকৃতিক পোকামাকড় নীরব হয়ে যায়,কিন্তু শুভ্রের মধ্যে কর্মব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়, শুভ্র মুহুর্তে তৎপর হয়ে ওঠে! ঘড়ির কাটায় রাত তিনটা বাজে! শুভ্র বেরিয়ে পড়ে, দ্রুত লয়ে বাড়ির গেট ছাড়িয়ে জংগল এর রাস্তা ধরে কুয়াশায় হারিয়ে যায়, তার চাঁদরের তলের হাতে ধরা মলাট বাধা একটি বই!
…জ্যোৎস্না বিদায় নিয়েছে ক্ষনশ্বরে, চাঁদ লুকিয়ে পড়েছে, জমাট বাধা কালোমেঘ বিশাল বক্ষ নিয়ে ঢেকে
দিয়েছে আকাশ, এখন ঘুটঘুটে অন্ধকার, শুভ্র মুহুর্তে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল, রক্ত হিম করা আওয়াজটা এবার থামল। প্রকৃতির বুকে থমথমে নীরবতা বিরাজমান!
****

দিদি,ঐ দেখো আসছে! সবুজাভ বর্নের চোখ সহসা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। খুড়িয়ে খুড়িয়ে ছোট ভাই এর কাধে ভর দিয়ে এগিয়ে যায় “তিথি”। দূরে, প্রান্তরের অগ্রতালব্যে দেখা যাচ্ছে একটা আবছায়া মুর্তি।
হ্যা আসছে সে, তিথি ইশারা করে, আর্তনাদ এর শব্দ বন্ধ হয়ে যায় মুহুর্তে।
অদ্ভুত ভঙ্গি করে হেলেদুলে হেটে আসে একজন প্রবীণা!
“তিথি মা, এই মানুষটা কি সত্যিই পারবে?”
সহসা মাথা আকাশ মুখি করে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে তিথি জবাব দেয়, “পারবে, এই মানুষটাই পারবে”

“কিন্তু সময় শেষের পথে, এবং আশু বিপদে হয়তো ছেলেটার বিপদ হবে তখন নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারবি তো মা?”
তিথির মুখে দু:চিন্তার আভাস ফুটে ওঠে স্পষ্ট!
মহাভারতের পঞ্চপাণ্ডব এই পাচটি প্রাণী অনাগত অনিশ্চিয়তা নিয়ে শুভ্রর গতিপথের মিশকালো অন্ধকারে চেয়ে থাকে। cialis 10mg or 20mg

****
বছর চারেক আগের কথা,শুভ্র রোজকার মত ঘুম থেকে উঠে সকালের মর্নিং ওয়াক শেষ করে নাস্তা বানিয়ে সাম্নের বারান্দায় এসে বসে খবরের কাগজ এর পাতা ওল্টালো।
আজকে ছুটির দিন।
খবরের কাগজ রেখে চায়ের কাপে চুমুক দিলো,সামনের খোলা প্রান্তরের দিকে চেয়ে কঠিন একাকীত্ত চেপে ধরলো তাকে। এতিম খানায় বড়ো হউয়া শুভ্র জানে না তার বাবা মা কে। এই দুনিয়ায় সে একা,ভালো পড়াশুনা করে ভালো চাকরী করলেও বিবাহ করে নাই সে।
কারন সে কাওকে ভালোবাসতে চাই,তাই দিনান্তের অন্তিম ষড়যন্ত্রে সে এখন তার ভালোবাসার মানুষের অপেক্ষায় অপেক্ষেয়মান।
কখন সময় গেলো বলতে পারে সারাদিন কি করলো শুভ্র সন্ধ্যা নেমে এসেছে। শুভ্র বের হলো বাড়ি থেকে। সাথে তার প্রিয় কুকুর। শুভ্রর বাড়ির সামনে একটা ফাকা প্রান্তর,তার পাশেই পরিত্যক্ত জমি জমা এবং সাথে আছে একটা খুদ্র পরিসরের একটা বন, তার ও পাশেই নদী, জায়গাটা সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী কোন একটা জায়গা।
শুভ্র নির্জনতাপ্রিয় মানুষ জায়গাটা তার খুব পছন্দের।

একরাশ মেঘের আড়াল থেকে চাঁদ উকি দিচ্ছে, তারাগুলা নিঝুম হয়ে গেছে। বন পেরিয়ে শুভ্র নদীর ধারে চলে এলো। কুকুরটা কেমন জানি করছে। গর গর আওয়াজ করছে মুখ দিয়ে আর সতর্ক ভাবে শুভ্রর পাশ দিয়ে ঘুরছে। শুভ্রর সেদিকে খেয়াল নাই,সে এক মনে গান ধরেছে।
সহসা তীব্র আলোর ঝলকানিতে পরিবেশ উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে, একটা তীক্ষ্ণ শব্দ অন্ধকারের নিরবতা সরবতায় পরিণত করে। রাতের পোকাগুলা কেমন জানি নীরব হয়ে যায়। শুভ্র অবাক বিস্ময়ে পশ্চিমা আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়, কুকুরটা কেন জানি গুমড়ে যায়। ভয়ে শুভ্রের পায়ের কাছে গোলাকৃতিতে দাঁড়িয়ে থাকে।
***
শুভ্র শুয়ে আছে, মাথার ভেতর যেন ঝি ঝি পোকারা ডাকছে এমন একটা অনুভুতি হচ্ছে, ঘড়ির দিকে তাকায় সে,ঘড়ির কাটাই রাত ৩ টা বেজে আছে, মানে কি?
সর্বনাশ! “কোথায় আমি?”
চারপাশটা অন্ধকার, আবছা চাদের আলোয় ঘন গাছপালার অবয়ব স্পষ্ট। মাথার নিচে দুর্বাঘাস এর অস্তিত্ত টের পেলো শুভ্র। কুকুরটা কোথায়?
হটাত স্মৃতির পাতায় সেই তীব্র চিনচিনে আওয়াজ এবং আলোর কথা মনে পড়লো। উঠে বসলো সে, পকেট থেকে মুঠোফোন এর ফ্ল্যাশলাইট জালিয়ে ডানপাশে ধরতেই আতঙ্ক গ্রস্থ হয়ে চেচিয়ে ঊঠলো সে,তার ঠিক ডান পাশেই পাঁচটা কিম্ভুতকিমাকার প্রাণি তার দিকে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে। শান্তশিষ্ট অবস্থান দেখে শুভ্র নিজেকে সামলে নেই,তার পর পকেট টর্চ ও জালিয়ে ভালোভাবে একটা নির্দিষ্ট অবস্থান থেকে তাদের দেখতে থাকে।
মানুষের মত অবয়ব কিন্তু নাকটা সুচালু, চোখ দুইটা গাঢ় নীলাভ এবং বৃত্তাকার, কান মুখ সবকিছুই অদ্ভুত,কিন্তু ৮০শতাংশ মানুষ নামক জীব এর সাথে মিল আছে।
একটা বড় পার্থক্য এদের চামড়ার রঙ লালচে সবুজভাব মিশ্রিত বর্নের।
শুভ্র যেন কল্পনার জগতে আছে,নিজের হাতে চিমটি কেটে ব্যাথা পেলো সে। এরা এলিয়েন? অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে শুভ্র। শান্ত ভাবেই বসে আছে তারা, অবাক চোখে এবং ভীত সন্ত্রস্ত চোখে দেখছে শুভ্রকে।
শুভ্র কথা বলা শুরু করলো,
“আমি শুভ্র, তোমরা আমার ভাষা বুঝো?”
কোন জবাব এলো না, শুভ্র ইংরেজিতে বললো।
নাহ ওরা নিরব,পরমুহূর্তে ওরা নিজেদের মধ্যে কথা বলা শুরু করলো।
শুভ্র তার একবর্ণ বুঝতে পারলো না। শুভ্র ইশারা করে বুঝানোর চেষ্টা করলো, সেই প্রথম সে সামনে এলো, এই নীলচে বর্ণের বড় বড় চোখ ওয়ালা এলিয়েন মেয়েটার নাম দিছিলো শুভ্র তিথি।
শুভ্র কখনো ভাবে নাই, এ কেমন মায়া, এ কেমন টান। মেয়েটার পোশাকটা ছিলো অসামান্য সুন্দর। এতো সুন্দর কারুকার্য করা পোষাক শুভ্র আগে দেখে নাই।
__ওরা আহত ছিলো, জায়গায় জায়গায় ক্ষতস্থান কালচে বর্ণের রক্ত চুইয়ে পড়ছে। এদের মধ্যে দুইটা বাচ্চা আছে একজন বয়স্ক মহিলাও আছে, শুভ্র বুঝতে পারে এরা একটা পরিবার।
সময় অসময়ের ভিড়ে নানা ইশারা ইঙ্গিত এর সংস্পর্শে এসে শুভ্র বুঝতে পারে এরা কঠিন বিপদে যেহেতু তাদের স্পেসশিপ টাও বিদ্ধস্ত হয়ে গেছে, সুতরাং এই পরিবারটা পৃথিবী নামক গ্রহে মারাত্মক বিপদের সম্মুক্ষিন হয়ে আছে।
এরপর থেকে শুভ্র প্রতিদিন তাদের জন্য খাবার নিয়ে যায়,ওদের চিকিৎসা করে নিজেই, এমনকি বন এর মধ্যে মাটি খনন করে মাটির নিচে বাশ দিয়ে এবং কাঠ দিয়ে বিশাল ঘর বানিয়ে দেই এবং উপর দিয়ে মাটি এবং কাঠের প্রলেপ দিয়ে দেই যাতে কেও বুঝতে না পারে ওখানে কেও বসবাস করে।
সময় অসময়ে তিথি শুভ্রর সাথে বসে থাকে, শুভ্র তাকে গল্প বলে নিজের জীবনের গল্প, শুভ্র জানে এর একবর্ণ মেয়েটা বুঝবে না, কিন্তু মেয়েটি তাকিয়ে থাকে এবং শুভ্র বলতে থাকে কখনো তিথি বলে তার ভাষায় শুভ্র অপলক তাকিয়ে থাকে, তিথির ছোট ভাইটিকে শুভ্র নাম দিয়েছে আকাশ, কখনো আকাশ এসে যোগ দেই,সন্ধার পর তাদের এই অদ্ভুতুড়ে গল্প শুরু হয়ে যায়।
শুভ্র যেদিন প্রথম তিথিকে গান শুনিয়েছিল মেয়েটি কি অপলক মায়া নিয়ে তাকিয়ে ছিল শুভ্রর দিকে, সেই নীলাভ চোখের মধ্যে শুভ্র নিজের অস্তিত্ত খুজে পেয়েছিল।

****
মাস চারেক পার হয়ে গেছে, শুভ্র অফিস থেকে বাড়ি ফিরে দেখে বাড়ির সামনে পুলিশ এর গাড়ি,
বাড়ির কেয়ারটেকার সুজন মিয়া বললো,
“ভাইজান পুলিশ কমিশনার সাব আইছে, আপনার লগে কতা কইবো বইলা,আমি হ্যাগোরে চা নাস্তা দিয়া আসছি”
শুভ্র কিছু বলে না, সোজা ড্রয়িং রুম এ চলে যায়, কমিশনার ফরিদ আহমেদ, এবং সাথে এস আই দুইজন এবং সিভিল ড্রেস এ একজন চশমা পরা ভদ্রলোক বসে আছে।
ফরিদ আহমেদ বলে ওঠে,
“শুভ্র কেমন আছেন, আবার আসলাম আপনার কাছে”
শুভ্র চুপচাপ বসে সুজন মিয়াকে এককাপ কফি দিয়ে যেতে বলে। “জী স্যার বলেন, আবার কি মনে করে আসলেন এখানে”
কমিশনার কিছু বলার আগেই,চশমা পরা ভদ্রলোক বলেন, “শুভ্র সাহেব, কিছু মনে করবেন না,আপনি কিছু লুকাচ্ছেন আমাদের কাছ থেকে! ” viagra generico prezzo farmacia

“আমি লুকাচ্ছি? দেখেন মি: আমি কোন চোর নই,ডাকাত ও নই, গত চারমাসে আপনারা যে প্রশ্ন আমাকে করছেন, তার জবাব আমার জানা নেই,এই তল্লাটে আমার একমাত্র বাড়ি, হ্যা মানছি, ঐ প্রান্তরে আমি হাটতে বের হয়,তার মানে এই নই যে ফ্লায়িং শসার,বা এলিয়েন টাইপ আজগুবি রুপকথার গল্প আমার বিশ্বাস করতে হবে। আর এই সম্পর্কিত প্রশ্ন আমাকে করছেন, সেটার উত্তর আমি কোথা থেকে দিবো বলতে পারেন, প্লিজ শান্তিতে থাকতে দেন আমাকে” – এক নিশ্বাসে শুভ্র বলে দেই কথাগুলা।
“আহা উত্তেজিত হবেন না, শুভ্র সাহেব আসি আমরা, কিন্তু আবার আসবো” – কৌতুহলী হাসি উপহার দিয়ে কমিশনার ফরিদ আহমেদ এবং বাকি সবাই প্রস্থানের উদ্যোগ নেয়।
শুভ্র কিছু না বলে, কফির কাপে মনোযোগ দেয়। নীরবে বসে ভাবতে থাকে আশু বিপদের আশংকায় মনের মধ্যে ঘুর্নিঝড় তৈরি হয়।
শুভ্র দ্রুত রাতের খাবার খেয়ে নেয়, এবার সাথে কিছু খাবার নিয়ে বের হয়ে যায়, বন এর দিকে শুভ্র ঢুকতেই আকাশ অন্ধকার থেকে এসে সামনে এসে পড়ে অস্থির লাগছে বাচ্চাটাকে, কি যেন বলতে চাচ্ছে কিন্তু বোঝাতে পারছে না,ইশারায় কথা বলাতে ছেলেটা এত পটু না।
শুভ্র এগিয়ে যায়, আকাশ এর সাথে গুপ্ত সুড়ঙ্গ দিয়ে চলে যায় সেই কাঠের তৈরি বাসস্থানে। শুভ্র যেতেই সবাই এগিয়ে আসে, সবাই তার দুই হাত ধরে করমর্দন করে, তারপর সে তাদেরকে খাবার দেই, ওষুধ দেই খাওয়ার জন্য।
তিথি এগিয়ে আসে, শুভ্রর সাথে বাইরে বেরিয়ে আসে, ইশারায় জিগাসা করে কি হয়েছে!
“কয়েকজন লোক ঘোরাফেরা করছিলো প্রান্তরে এবং জংগল এর মধ্যেও এসেছিল।তারা কি যেন খুজছিলো! সম্ভবত আমাদের খুজছিলো।”
শুভ্র স্পেসশিপ এর কথা বলে, তিথি বলে, লুকানো আছে। ইশারা ইংগিত এর মাধ্যমে এই দুইটা মানুষ কত কথায় বলে তার ইয়ত্তা নাই।

দুইদিন পর শুভ্র কিছু গোলাপ কেনে, একটা শাড়ি কেনে, তিথিকে দিবে বলে, এই কয়েকমাসের মধ্যে এই ভিনগ্রহের মেয়েটার উপর একধরনের অদ্ভুত মায়া জন্মেছে তার। সে বুঝতে পারেনা কিভাবে? শুভ্র লাল একটা শাড়ি কিনেছে, আচ্ছা মেয়েটা পরবে কিভাবে? সে জানে এই পরিবার টা তাদের পরিহিত পোষাক বদলাবে না তবুও নিয়ে যাচ্ছে সে কেন? এই কেন’র উত্তর খুজে পায়না শুভ্র।
তবে শাড়ি এবং ফুল দেখে একচিলতে হাসি উপহার দিয়েছিল মেয়েটা, এবং ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল, যে দৃষ্টিতে পলক পড়ে না।
শুভ্র কিছু না বলে মেয়েটার হাত ধরেছিলো, চাদটা উকি দিচ্ছিলো মেঘের আড়াল থেকে, নদীর পাড়ে দুইটি প্রানী তখনো হাতে হাত ধরে বসে ছিলো অপ্রিয় দিগন্তের পানে চেয়ে।

******
পঞ্জিকার হিসাবে চার বছর পার হয়ে গেলো। চারজন মানুষ খুব সন্তর্পণে এগুচ্ছে, ঝাপ্সা অন্ধকার, চাদটা মেঘের আড়ালে ঢাকা, প্রান্তর পেরিয়ে বন এর ধারে খুব নীরবে এগিয়ে বসে পড়লো।
“বস আজ কাম হইবো তো?” ফিসফিসিয়ে বলে ওঠে কালাম।
“হইবো, কাম হইবো, খবর লইছি আজ ব্যাপারটার একটা এস্পার ওস্পার করেই ছাড়বো”

আর একজন বলে, “বস কন্ট্রাক লইছি ৬ মাস হইয়া গেলো,কিন্তু ক্যামনে কি, কিছুই তো পারতাছি না,আজ ব্যাটারে ধরমুই, ধইরা মাইরা দিমু নাকি?”

“না, ওরে অজ্ঞান করলেই হইবো, হালাই বজ্জাত বহুত চালু,ওরে মারন যাইবো না তাইলে কাম হইবো না বুঝছোত?

*****
শুভ্র অন্ধকারে হাটতে হাটতে কত শত কথা ভাবছে তার ইয়ত্তা নাই। চাদরের আড়ালে বই, তিথি এখন শুভ্রর ভাষা শিখেছে অল্প অল্প, শুভ্র বই পড়ে শোনাবে তাকে আজ।
রাতের পোকারা এইই অশরীরী নিরবতার মাঝে অন্যরকম এক অবস্থা সৃষ্টি করেছে। একচিলতে শীতল বাতাস বয়ে গেলো। বহমান বিষন্ন এক বাতাস, একটু ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে।
তিথি এবং তার পরিবার শুভ্রর সংস্পর্শে এসেছে তার পর থেকেই এই ভিনগ্রহের পরিবারকে সে রক্ষণাবেক্ষণ করে আসতেছে সে। তিথিকে সে ভালোবাসে কেন,কিভাবে, কিজন্য তার কোনকিছু সে জানে না।
কিন্তু সে তাকে ভালোবাসে তার নিজ জীবনের অধিক সে ভালোবাসে তাকে এটাই সত্য। এই অদ্ভুত আবেগ এই অস্পৃশ্য সম্পর্ক অনির্দিষ্ট ভবিষ্যতের উত্তরাধিকার বটে তবুও শুভ্র ভালোবাসে। কত না বাধা বিপত্তি পার করেছে এই চার বছরে সে নিজেও জানে না, পুলিশ, প্রশাসন, মানুষ সবকিছু থেকে বাচিয়ে এদের রক্ষা করে এসেছে সে। চাদটা বিদায় নিচ্ছে, গাঢ় মেঘ জ্যোৎস্না গিলে খেয়ে ফেলেছে যেন। আচ্ছা তিথি কি তাকে ভালোবাসে?
জানে না শুভ্র,কেন ভালোবাসবে? এটা অসম্ভব। তিথি চলে যাওয়ার আগে শুভ্র বলবে। নিশ্চয় বলবে।

স্পেসশিপ টা মেরামত নাকি প্রায় শেষ, যা যা প্রয়োজনীয় সবই জোগাড় করে দিয়েছে শুভ্র, তাইলে কি তিথি চলে যাবে! বুকটা কেপে উঠলো শুভ্রর। বাধ ভেঙে চোখ নেমে এলো জল। নীরবে কাদছে শুভ্র। চোখ মোছার চেষ্টা করলো শুভ্র। প্রান্তর পেরিয়ে জংগল এ ঢুকতে গেলো সে, কিন্তু পেছনের ঝোপ এ খসখস আওয়াজ শুনে পেছনে তাকাতে গেলো সে, মুহূর্তেই খুট করে শব্দ হলো, মাথার ভেতর আগুনজ্বলা একটি মুহুর্তে, পড়ে যাওয়ার আগে শুভ্র উচ্চারণ করলো “তিথি!”

****
“বস পাইছি শালারে আজ” কালাম ঝাঝিয়ে ওঠে।
“হালায় অজ্ঞান হইছে, লন লইয়া যায় ”
গোমড়া মুখো লোকটি নিচু হয়ে শুভ্রর মাথার কাছে বসে,
মাথার পেছনের ক্ষত পরীক্ষা করে, শুভ্রর গলা,বুক হাত পরীক্ষা করে।
গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠে, “মইরা গেছে”
থমথমে পরিবেশ, চাঁদ টা আবার মেঘের আড়াল থেকে উকি দেয়, বাতাসটা ভারী। রাতের পাখি ডেকে ওঠে, জ্যোৎস্না তে প্লাবিত হচ্ছে প্রান্তর। buy viagra blue pill

***** ampicillin susceptible enterococcus

এখনো আসছে না কেনো, আসছে না কেনো শুভ্র?
তিথি অস্থির হয়ে ওঠে, একটু আগে দূর থেকে দেখেছিলো তাকে কিন্তু আর দেখা যাচ্ছে নাহ। তিথি ফিরে যাবে না তার গ্রহে, আজ শুভ্র কে বলবে সে থাকতে চাই শুভ্রর সাথে, সে যেতে চাই নাহ, সে বলবে আজ কত ভালোবাসে সে? কি বলবে শুভ্র তাকে? জানে না সে। কিমতু সে যাবে না।
অনির্দিষ্ট নিয়তির পথে চেয়ে বসে আছে তিথি অপেক্ষা করছে কখন আসবে তার রক্ষাকর্তা, কখন আসবে তার ভালোবাসার মানুষটি!…….
_______
_______

viagra masticable dosis
viagra type medicine in india

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

viagra para mujeres costa rica

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment. rx drugs online pharmacy

malaria doxycycline 100mg