শিবলিঙ্গ এবং শিবরাত্রি কথন ।

0

বার পঠিত ovulate twice on clomid

সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বী দের বিশেষ একটি রাত্রির নাম শিব রাত্রি । এদিন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন শিবের মাথায় ফুল বেল পাতা সমেত দুধ গঁঙ্গা জল ঢেলে ও ভোগ হিসেবে বেল চড়িয়ে দিনটি পালন করবে। শিবের প্রনাম মন্ত্র-
ওঁ নমঃ শিবায় শান্তায় কারণত্রয়হেতবে।
নিবেদয়ামি চাত্মানং ত্বং গতিঃ পরমেশ্বর।।
শিব হলেন হিন্দুধর্মের প্রধান তিন দেবতার (ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব) অন্যতম। তিনি সমসাময়িক হিন্দুধর্মের তিনটি সর্বাধিক প্রভাবশালী সম্প্রদায়ের অন্যতম শৈব সম্প্রদায়ের প্রধান দেবতা। এছাড়া শিব স্মার্ত সম্প্রদায়ে পূজিত ঈশ্বরের পাঁচটি প্রধান রূপের (গণেশ, শিব, সূর্য, বিষ্ণু ও দুর্গা) একটি রূপ। তিনি ধ্বংস, সংহার ও প্রলয়ের দেবতা। শিবমূর্তির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল তাঁর তৃতীয় নয়ন, গলায় বাসুকী নাগ, জটায় অর্ধচন্দ্র, জটার উপর থেকে প্রবাহিত গঙ্গা, অস্ত্র ত্রিশূল ও বাদ্য ডমরু। শিবকে সাধারণত ‘শিবলিঙ্গ’ নামক বিমূর্ত প্রতীকে পূজা করা হয়।
শিব আক্ষরিক অর্থে “শুভ” বা “মঙ্গল”।এই শিবলিঙ্গের “লিঙ্গ” শব্দের অর্থ বিশ্লেষণে অনেকেই অনেকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, কেও বলেন লিঙ্গ শব্দের অর্থ “বাস” মানে বাসস্থান। অর্থাৎ শিবঠাকুর যেখানে বাস করেন বা বিরাজ করেন সেটাই আসলে শিবলিঙ্গ।আবার ব্যাকরণে লিঙ্গ শব্দের আভিধানিক অর্থ চিহ্ন বা প্রতীক।তবে সনাতনীরা লিঙ্গ অর্থ চিহ্ন বা প্রতীকই বেশী প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।তবে তারা এই মানতে রাজি না যে, লিঙ্গ অর্থ “নুনু/যোনী”।এখন সনাতনীরা যদি প্রতিকই মানে আর আমি তাই ধরে নিই,তবেও কিন্তু লিঙ্গ মানে “নুনু/যোনী” বলেই প্রমানিত হবে।যেমন, ব্যাকরণে লিঙ্গ শব্দ হচ্ছে স্ত্রী ও পুরুষ ক্লীব ভেদ।এর মানে লিঙ্গটাকে নির্দিষ্ট করে বুঝানো হয়নি।কিন্তু একটু খেয়াল করেন এখানে কিন্তু “শিবলিঙ্গ” বলে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।আরো যদি স্পষ্ট ভাবে বলতে চাই তবে দ্বারায়, স্ত্রী লিঙ্গ বা যোনী হচ্ছে স্ত্রীর প্রতীক, পুংলিঙ্গ বা নুনু হচ্ছে পুরুষের প্রতীক, তেমনি শিবলিঙ্গ হচ্ছে শিবের প্রতীক।তবে হিন্দু ধর্মে শিবলিঙ্গ কে অনেক ক্ষেত্রে পু লিঙ্গই বুঝানো হয়েছে অথবা হিন্দু দেবতা শিবের একটি প্রতীকচিহ্ন কে বুঝানো হয়েছে।কিন্তু শিব লিঙ্গকে খুঁটিয়ে দেখলে তার দুটো ভাগ পাওয়া পায়। উপরের অংশকে বলা হয় লিঙ্গ। নিচের অংশ যোনিপীঠ।আর এ যোনীপীঠ হচ্ছে আদিমাতা পার্বতীর।
কথিত আছে, ঋষিরা একদা এক মহাযজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন সরস্বতী নদীর তটে। এখন, যজ্ঞ করলে তার ফল অর্পণ করতে হয় কোনও এক দেবতাকে। ব্রহ্মা, বিষ্ণু না শিব- কাকে অর্পণ করা হবে এই যজ্ঞের ফল, তাই নিয়েই সমস্যায় পড়েন ঋষিরা। তখন তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন ভৃগু। তিন দেবতাকে পরীক্ষা করার জন্য তিনি হাজির হন কৈলাসে।
কৈলাসে গিয়ে ভৃগু দেখেন, শিবের কোলে বসে রয়েছেন পার্বতী। অন্তরঙ্গ অবস্থায় আদিপিতা আর আদিমাতাকে দেখে তিনি লজ্জা পান। কিন্তু, শিবের কোনও বিকার ছিল না। ভৃগুর সামনেই তিনি সঙ্গম করছিলো পার্বতীকে। তখন ক্রুদ্ধ হয়ে অভিশাপ দেন ভৃগু। তাঁর যুক্তি ছিল, মহাযোগী হয়েও শিব যখন কামনা সংযত করেননি, তখন পৃথিবীতে তাঁর লিঙ্গেরই পূজা হওয়া উচিত। ভৃগুর কথা ব্যর্থ হয়নি। তার পর থেকেই পুরাণ মতে পৃথিবীতে শিবের লিঙ্গ পূজা হয়।
আরো কথিত আছে, কথিত আছে, একদা দূর্গার সাথে সঙ্গমকালে শিব এত বেশী উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন যে, তাতে দুর্গার প্রাননাশের উপক্রম হয়। দুর্গা মনে মনে শ্রীকৃষ্ণকে স্বরন করতে থাকেন, এমন সময় শ্রীকৃষ্ণ আর্ভিভূত হয়ে নিজ হস্তস্থিত সুদর্শন চক্রধারা আঘাত করল উভয়ের সংযুক্ত যৌনাংঙ্গ কেটে আসে। ঐ সংযুক্ত যৌনাঙ্গের মিলিত সংস্করনের নাম বানলিঙ্গ বা শিবলিঙ্গ যা হিন্দু সমাজের একটি প্রধান পূজ্য বস্তু এবং ঐ শিবলিঙ্গের পুজার জন্য বহু বড় বড় শিব মন্দির গড়ে উঠেছে। সেন রাজবংশের সর্বশেষ রাজা ছিলেন লক্ষ্মণ সেন। তিনি শিব ভক্ত পরায়ণ নৃপতি ছিলেন। রাজা লক্ষ্মণ সেন কর্তৃক বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বহু মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে যশোর জেলার মুরলী গ্রামের জোড়া শিব মন্দির দুটি খুবই মনোরম।
হিন্দুরা শিবলিঙ্গ সৃষ্টির পিছনে নারী ও পুরুষ উভয়ের অবদানের কথা স্মরণ করেই শিবলিঙ্গের পূজা করেন । একটি সাধারণ তত্ত্ব অনুযায়ী শিবলিঙ্গ শিবের আদি অন্তহীন সত্ত্বার প্রতীক এক আদি এবং অন্তহীন স্তম্ভের রূপবিশেষ।
কেউ কেউ মনে করেন, লিঙ্গপূজা ভারতীয় আদিবাসী ধর্মগুলি থেকে হিন্দুধর্মে গৃহীত হয়েছে। অথর্ববেদে একটি স্তম্ভের স্তব করা হয়েছে। এটিই সম্ভবত লিঙ্গপূজার উৎস। কারোর কারোর মতে যূপস্তম্ভ বা হাঁড়িকাঠের সঙ্গে শিবলিঙ্গের যোগ রয়েছে। উক্ত স্তবটিকে আদি-অন্তহীন এক স্তম্ভ বা স্কম্ভ-এর কথা বলা হয়েছে; এই স্কম্ভ চিরন্তন ব্রহ্মের স্থলে স্থাপিত। যজ্ঞের আগুন, ধোঁয়া, ছাই, মাদক সোমরস ও যজ্ঞের কাঠ বহন করার ষাঁড় ইত্যাদির সঙ্গে শিবের শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলির যোগ লক্ষিত হয়। মনে করা হয়, কালক্রমে যূপস্তম্ভ শিবলিঙ্গের রূপ নিয়েছিল।
শিবমহাপুরাণের বিদ্যেশ্বরসংহিতা ভাগের তৃতীয় অধ্যায়ের পঁচিশতম শ্লোক,
উক্তং ত্বয়া মহাভাগ লিঙ্গ-বেরপ্রচারণম্‌।
শিবস্য চ তদন্যেষাৎ বিভজ্য পরমার্থতঃ।।
এখানে ব্রহ্মপুত্র সনৎকুমার ব্যাসদেবের শিষ্য সূতর কাছে শিবের লিঙ্গশরীর আবির্ভাবের কারণ এবং কিভাবে তা আবির্ভূত হয়েছে–তা জানতে চান।
তখন সূত বলে,
পুরাকল্পে মহাকালে প্রপন্নে লোকবিশ্রুতে।
অযুধ্যেতাং মহাত্মানৌ ব্রহ্ম-বিষ্ণু পরস্পরম্‌।।২৮
তয়োর্মানং নিরাকর্ত্তুং তন্মধ্যে পরমেশ্বরঃ।
নিষ্কলস্তম্ভরূপেণ স্বরূপং সমদর্শয়ৎ।।২৯
ততঃ স্বলিঙ্গচিহ্নত্বাৎ স্তম্ভতো নিষ্কলং শিবঃ।
স্বলিঙ্গ দর্শয়ামাস জগতাং হিতকাম্যয়া।।৩০
অর্থাৎ লোকবিখ্যাত পূর্ব্বকল্পের বহুকাল অতীত হইলে একদা ব্রহ্মা ও বিষ্ণু পরস্পর সমরাসক্ত হওয়ায় তাঁহাদিগের অভিমান দূরীকরণার্থ ত্রিগুণাতীর ভগবান্‌ মহেশ্বর, উভয় যোদ্ধার মধ্যস্থলে স্তম্ভরূপে আবির্ভূত হইলেন। পরে সেই স্তম্ভে স্বীয় লিঙ্গচিহ্ন নিবন্ধন জগত্রয়ের হিতকামনায় তাহা হইতে নির্গুণ নিজলিঙ্গ প্রকাশ করিলেন।
আবার সপ্তম অধ্যায়,
তুষ্টোহহমদ্য বাং বৎসৌ পূজয়াস্মিন্‌ মহাদিনে
দিনমেতং ততং পূণ্যং ভবিষ্যতি মহত্তরম্‌।
শিবরাত্রিরিতি খ্যাতা তিথিরেষা মম প্রিয়াং।।১০
অর্থাৎ অদ্য আমি এই মহৎ দিনে তোমাদিগের পূজায় পরম প্রীতিলাভ করিলাম, অতএব চিরকাল এই পবিত্র দিন শ্রেষ্ঠতম বলিয়া সমাদৃত হইবে এবং মৎপ্রিয় এই তিথি ‘শিবরাত্রি’ নামে জগতে খ্যাতিলাভ করিবে।

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন * nolvadex and clomid prices

acquistare viagra in internet

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

can your doctor prescribe accutane

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

viagra in india medical stores
walgreens pharmacy technician application online
metformin tablet