আলোচনার শীর্ষে যখন ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ !!

133

বার পঠিত

গত রোববার চার অস্ত্র ও গ্রেনেডধারী উরির সামরিক ঘাঁটিতে ঢুকে হামলা চালিয়ে ১৭ ভারতীয় সেনাকে হত্যা করে; হামলায় আহত হন আরও ৩৫ জন। পরে হামলাকারীরাও পাল্টা গুলিতে মারা যান।কাশ্মীরে হামলা চালিয়ে ১৭ জন ভারতীয় সেনাকে হত্যার পর ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশে উত্তেজনা বিরাজ করছে।উরি সেনাঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করেছে ভারত ।অন্যদিকে এই হামলা ভারতেরই সাজানো ঘটনা।আর পাকিস্তান পাল্টা অভিযোগ করছে কাশ্মীরে তীব্র সহিংস গণবিক্ষোভ থেকে দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টা করছে ভারত। যে বিশেষ সময়ে ঘটনাটি ঘটেছে, তা থেকেই সেটা স্পষ্ট বলে পাক সংবাদপত্রগুলোর দাবি।বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুক-টুইটারের মাঝেও ক্রমশ উত্তেজনার ফলেই চুলচেরা বিশ্লেষন করছে বিভিন্ন দেশের সাধারণ রাজনৈতিক সচেতন মানুষ থেকে সকলস্তরের মানুষেরা ।এই দুই দেশের উত্তেজনা ছড়িয়েছে বহি:র্বিশ্বেও।

মঙ্গলবার এমন একটি বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি বাংলা। বিশ্লেষণটি করেছেন ভারতে বিবিসি’র সংবাদদাতা সৌতিক বিশ্বাস।

বিশ্লেষণে বলা হয়, ভারতের অনেক রাজনীতিবিদ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বেশ কড়া ভাষায় কথা বলছেন। পাকিস্তানকে ‘সমুচিত জবাব’ দেবার হুমকি দিচ্ছেন অনেকে।

বিজেপির একজন সিনিয়র নেতা রাম মাধব বলেছেন, ‘তথাকথিত কৌশলগত কারণে সহ্য করার সময় শেষ হয়ে গেছে।’ about cialis tablets

ভারতের সাবেক সেনা কর্মকর্তারাও একই ধরনের মনোভাব পোষণ করছেন। তারা মনে করেন, ভারতের পাল্টা আঘাত করা উচিত।

দিল্লির সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ-এর প্রতাপ ভানু মেহতা মনে করেন কৌশলগতভাবে ভারত এতদিন ধরে যে সংযম দেখানোর ভূমিকা নিয়েছে, সেটা ভালোই কাজে দিয়েছে।

তার মতে, ‘একমাত্র চীন ছাড়া অন্য সবার কাছ থেকে পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমরা অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের আহবানও জানাতে পারি।’

মেহতা মনে করেন, এ ধরনের কৌশল ভারতকে দীর্ঘ মেয়াদে লাভবান করবে। তবে এ ধরনের চিন্তা-ভাবনার বিপরীতেও কথা আছে।

কৌশলগত সংযমের নীতি ভারতের উপকারে আসছে না মন্তব্য করে প্রতিরক্ষা বিষয়ে আরেক বিশেষজ্ঞ সি ক্রিস্টিন ফেয়ার বলেন, ‘ভারতের উদ্দেশ্য যদি হয় পাকিস্তানের সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ করা, তাহলে এটা কাজে দিচ্ছে না।’

লেখক ব্রাহ্মা চেলেনি মনে করেন, ভারত যদি নিশ্চুপ থাকে তাহলে সেটি তার পারমাণবিক এবং সামরিক শক্তিকে অবজ্ঞা করা হবে এবং শত্রুরা তাদের হামলা অব্যাহত রাখবে। কিন্তু একই সঙ্গে একথাও ঠিক নয় যে, ভারত তার মাটিতেই পাকিস্তানের হামলার বিরুদ্ধে লড়াই করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। puedo quedar embarazada despues de un aborto con cytotec

বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রতিশোধ নেবার কথা জনসম্মুখে না বলে ভারতের ভিন্ন উপায় বের করতে হবে। এর মধ্যে একটি বিষয় হতে পারে, ইসলামাবাদের সঙ্গে দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনমন করা।

এছাড়া চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। কারণ এ দেশগুলো থেকে পাকিস্তান নানাভাবে উপকৃত হয়।

দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক স্টিফেন কোয়েন মনে করেন, ‘ভারত-পাকিস্তান বৈরিতা এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে পাকিস্তান কখনোই জিতবে না এবং ভারত কখনোই হারবে না।’

আবার, অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভারতের জন্য এটা সহজ হবে না কারণ পাকিস্তানের রয়েছে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

ভারতের একজন নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অজয় শুক্লা মনে করেন, নরেন্দ্র মোদি সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নানা রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম রেখেছে। কিন্তু কোনো সন্ত্রাসী হামলার বিপরীতে কড়া জবাব দেবার মতো সামরিক শক্তি এবং পরিকল্পনা তৈরি করেনি নরেন্দ্র মোদির সরকার।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাবেক দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রুস রিডেল ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন,‘সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালালেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখে পড়বে ভারত। ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক পদক্ষেপ ভারতের জন্যই কাল হয়ে দাঁড়াবে। হামলার ঘটনায় দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তো বাড়বেই, এমনকি ওয়াশিংটনও ভারতের পাশে দাঁড়াবে না।তবে ভারতে সন্ত্রাসী হামলায় পাকিস্তানের হাত থাকার বিষয়ে দ্বিমত নন রিডেল।‘অন্যদিকে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভারতের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি দেশ রাশিয়া।আর অন্যদিকে পাকিস্তানকে সহযোগীতা করতে প্রস্তুত চীন। viagra en uk

ভারতের রাজনৈতিক এবং সামরিক মহলের একটা বড় অংশ গত কয়েকদিন ক্রমাগত বলছেন, পাকিস্তানকে একটা শিক্ষা দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আরো একটি যুদ্ধ কি আসলেই হতে পারে ? পাকিস্তান কি সেরকম কোনো আশঙ্কা করছে ?

ড: আয়েশা সিদ্দিকা বলছেন পাকিস্তানের ভেতর একটা চিন্তা কাজ করছে যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা যেখানে রয়েছে, সেখানে ভারত, পাকিস্তানের ভেতর দু:সাহসিক কোনো অভিযানের আগে দশবার চিন্তা করবে।

কিন্তু তারপরও পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে এরকম কথা ঘোরাফেরা করছে যে ভারত হয়তো সামরিক পন্থা নিতেও পারে।পাকিস্তানের এরকম আশঙ্কার একটা কারণ যে কাশ্মীরে বিপুল সৈন্য সমাবেশের খবর ।

ড: আয়েশা সিদ্দিকা বলছেন তিনি মনে করেন পাকিস্তানের জন্য এখন যেটা জরুরি সেটা হলো আফগানিস্তান বা বাংলাদেশের মত প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ট করা।তবে এই মুহূর্তে পাকিস্তানের সামনে পথ চীন এবং মুসলিম কিছু দেশের শরণাপন্ন হওয়া। তার বাইরে রয়েছে তুরস্ক।কিন্তু সেনাঘাঁটিতে হামলায় হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে কঠিন এই সময়ে ভারতের পাশেই রয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাঠানো এক বার্তায় আশ্বাস দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘সন্ত্রাসী এই হামলায়’ নিহত ও আহত সৈনিকদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদী সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবেই বাংলাদেশ এই কঠিন সময়ে ভারতের পাশে থাকবে। ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে এই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ও সীমানাজুড়ে চলমান সব হুমকি নির্মূলে আমরা একসঙ্গে কাজ করব। সব ধরনের সন্ত্রাস ও উগ্রবাদী ধ্যান-ধারণা এবং এর সহিংস প্রকাশের নিন্দা জানিয়ে এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। metformin tablet

ভারতের সংবাদমাধ্যমের শিরোনামগুলো দেখলে একটি বিষয় পরিষ্কার – এ হামলা নিয়ে ভারতের ক্রোধ এখন চরমে। এ হামলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেয়ার বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটা অংশ সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে সীমিত আকারে হলেও প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে উচিত শিক্ষা দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে সরকারে প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।তবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নির্ধারকরা এখনই কৌশলগত আক্রমণের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।যদিও পাকিস্তানের অভ্যন্তরে যেকোনো সাঁড়াশি আক্রমণ, গোপন সামরিক অভিযান বা ধাওয়া করে হামলা চালানোর বিষয়টি এখনও বিবেচনা করেনি সরকার। তবে নিয়ন্ত্রণ রেখা পার না হয়েই পাকিস্তানি সেনাদের রক্ত ঝরানোর বিষয়ে ভারতীয় সেনাদের সামনে কোনো বাধা নেই।

সোমবার দিনভর দফায় দফায় বৈঠক শেষে ভারতীয় নীতি নির্ধারকরা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, পাকিস্তানে সামরিক হামলার পরিবর্তে কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করে দিয়ে জবাব দেয়ার কথা ভাবছে ভারত।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ভারতের বিরুদ্ধে আগাম কূটনৈতিক অস্ত্র প্রয়োগ করতে শুরু করেছেন।জানা গেছে, ভারত যদি ড্রোন বিমান দিয়ে পাকিস্তানে আক্রমণ করে তাহলে দেশটি পরমাণু অস্ত্র দিয়ে এর জবাব দেয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে।পাকিস্তানে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে যে ভারতের সেনাবাহিনী পাকিস্তানের সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় ক্রমশই সরে আসছে।শরিফ বলেন, পাকিস্তান ওই এলাকায় কৌশলগত স্থিতিবস্থা আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল । পাকিস্তান ভারতের সাথে অস্ত্র প্রতিযোগিতা চায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আরো অভিযোগ করে আলোচনায় বসার মতো অগ্রহণযোগ্য শর্ত ভারত নিয়ে আসছে। সেনাপ্রধান রাহিল শরীফ বলেছেন, তার দেশ সব ধরনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুত। পাকিস্তান আক্রান্ত হলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন রাহিল।পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফও ভারতকে সতর্ক করেছেন।

ভারত পাকিস্তানে হামলা চালাতে পারবে কিনা এবং পারলেও পাকিস্তানের পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। পাকিস্তান ইতোমধ্যেই তাদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। শোনা যাচ্ছে দুই দেশের পরমাণু অস্ত্রের প্রস্তুতির কথাও। সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীকে সতর্ক প্রহরায় রাখা হয়েছে।

এরই মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে ৭৭৮ কিলোমিটার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ রেখায় আর্টিলারি ব্যারেজ ও স্নাইপার রাইফেলধারী সেনা মোতায়েনসহ অন্যান্য অভিযান পরিচালনায় প্রস্তুতি নিতে মনোযোগী হতে বলা হয়েছে।

এদিকে ভারতীয় প্রতিরক্ষা দফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, পাকিস্তানকে মোকাবেলায় একাধিক সামরিক উপায় বেছে নেয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকার ইচ্ছা করলে সংক্ষিপ্ত আকারে পূর্ণ যুদ্ধে জড়াতে পারে। এক্ষেত্রে দুই দেশের সীমান্তে পদাতিক বাহিনীর বা অপ্রচলিত যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষিত বিশেষ বাহিনীর অভিযানের বিষয়টি আমলে আনা যেতে পারে।

কর্মকর্তারা বলছেন, বড় দূরত্বের আক্রমণের ক্ষেত্রে ৯০ কিলোমিটার রেঞ্জের স্মার্ট রকেট বা ২৯০ কিলোমিটার রেঞ্জের ব্রাহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করা যেতে পারে। সাঁড়াশি বিমান হামলার ক্ষেত্রে মিরেজ-২০০০, জাগুয়ার এবং সুখই-৩০ কেআই বিমানযোগে লেজার নিয়ন্ত্রিত স্মার্ট বোমা অথবা ক্লাস্টার বোমা ব্যবহৃত হতে পারে।

তবে পাকিস্তানে হামলার বিষয়টি ভারতকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কারণ পাকিস্তানের সম্পূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই ভারতের লক্ষ্য করে মোতায়েন করা আছে।

ভারত পাকিস্তানে যেকোনো মুহূর্তে হামলা চালাতে পারে এমন একটি আশংকাও তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান প্রথমে হামলা চালাবে না। তবে ভারতের হামলা প্রতিরোধে সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। পাকিস্তান ভারতকে সীমান্তের রেড লাইন পার হতে দেবে না।

মার্কিন পরমাণু বিশেষজ্ঞ হ্যানস ক্রিসটেনসেন টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, পাকিস্তান যদি ভারতের সঙ্গে সামরিক দিক দিয়ে কোনভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয় তাহলে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না। আর সেক্ষেত্রে ভারতীয় বাহিনী সমস্যায় পড়তে পারে, যদি না তাদের কোন প্রস্তুতি না থাকে। পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে এনিয়ে বেশ সতর্ক অবস্থা অবলম্বন করা হচ্ছে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা পিআইএ’র মুখপাত্র ডেনিয়েল গিলানি জানিয়েছেন, বুধবার সকাল থেকে গিলগিট, স্কার্দু ও চিত্রাল এলাকায় ‘বিমান পথ বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ভারত পাকিস্তানে আক্রমণ করতে পারে এমন আশংকায় এসব ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসলামাবাদ ও পেশোয়ারের মধ্যকার মূল মহাসড়কের কিছু অংশও বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, সংস্কারের জন্য মহাসড়ক বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এই মহাসড়ক যুদ্ধবিমানের ওঠানামায় ব্যবহার করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পরমাণু অস্ত্র হ্রাসের পদক্ষেপ নিতে বললেও পাকিস্তান তা সরাসরি প্রত্যাখান করেছে বলে গনমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ ভারত ও পাকিস্তান। এছাড়াও দুই দেশের সামরিক বাহিনীই জনবল ও অত্যাধুনিক অস্ত্রসম্ভারে সমৃদ্ধ।
সিআইএ, দুই দেশের পাবলিক ডোমেইনসমূহ, সংবাদমাধ্যম এবং উইকিপিডিয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে দুই দেশের সমর শক্তির তুলনামূলক চিত্র তৈরি করেছে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ডটকম।

জনবল
ভারত: ১২৫ কোটি ১৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮৪ জনসংখ্যার দেশটিতে ৬১ কোটি ৬০ লাখ জনশক্তি রয়েছে। এর মধ্যে সার্ভিসের জন্য উপযুক্ত ৪৮ কোটি ৯৬ লাখ জন। দেশটিতে প্রতি বছর সামরিক দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত বয়সী হন ২২ কোটি ৯ লাখ ব্যক্তি। ভারতে ১৩ লাখ ২৫ হাজার সেনা রয়েছে। সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল ২১ লাখ ৪৩ হাজার।

পাকিস্তান: ১৯ কোটি ৯০ লাখ ৮৫ হাজার ৮৪৭ জনসংখ্যার দেশটিতে ৯ কোটি ৫০ লাখ জনশক্তি রয়েছে। এর মধ্যে সার্ভিসের জন্য উপযুক্ত ৭ কোটি ৫৩ লাখ ২৫ হাজার জন। দেশটিতে প্রতি বছর সামরিক দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত বয়সী হন ৪ কোটি ৩ লাখ ৪৫ হাজার ব্যক্তি। পাকিস্তানে ৬ লাখ ২০ হাজার সেনা রয়েছে। সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল ৫ লাখ ১৫ হাজার। viagra vs viagra plus

বিমান বাহিনী
ভারত: সব মিলিয়ে ভারতের দুই হাজার ৮৬টি বিমান রয়েছে। এছাড়াও দেশটির ৬৪৬টি হেলি কপ্টার, ১৯টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ৮০৯টি নির্ধারিত পাখাযুক্ত অ্যাটাক বিমান, ৬৭৯টি যুদ্ধ বিমান, ৩১৮টি প্রশিক্ষণ বিমান এবং ৮৫৭টি ট্রান্সপোর্ট বিমান রয়েছে।দেশটির ৩৪৬টি ব্যবহার যোগ্য বিমানবন্দর রয়েছে।

পাকিস্তান: সব মিলিয়ে পাকিস্তানে ৯২৩টি বিমান রয়েছে। এছাড়াও দেশটির ৩০৬টি হেলিকপ্টার, ৫২টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ৩৯৪টি নির্ধারিত পাখাযুক্ত অ্যাটাক বিমান, ৩০৪টি যুদ্ধ বিমান, ১৭০টি প্রশিক্ষণ বিমান এবং ২৬১টি ট্রান্সপোর্ট বিমান রয়েছে।দেশটির ১৫১টি ব্যবহার যোগ্য বিমানবন্দর রয়েছে।

সেনা বাহিনীর অস্ত্র সম্ভার
ভারত: দেশটির ছয় হাজার ৪৬৪টি ট্যাংক, ছয় হাজার ৭০৪টি আর্মার্ড ফাইটার ভেহিক্যাল, ২৯০টি সেল্ফ প্রপেল্ড গান, সাত হাজার ৪১৪টি টানা কামান এবং ২৯২টি মাল্টিপল লাঞ্চার রকেট সিস্টেম রয়েছে। achat viagra cialis france

পাকিস্তান: দেশটির দুই হাজার ৯২৪টি ট্যাংক, দুই হাজার ৮২৮টি আর্মার্ড ফাইটার ভেহিক্যাল, ৪৬৫ টি সেল্ফ প্রপেল্ড গান, তিন হাজার ২৭৮টি টানা কামান এবং ১৩৪টি মাল্টিপল লাঞ্চার রকেট সিস্টেম রয়েছে।

নৌ বাহিনীর শক্তি
ভারত: দেশটির ৩৪০টি মার্চেন্ট মেরিন জাহাজ রয়েছে। প্রধান সমুদ্রবন্দর রয়েছে সাতটি। এছাড়া দুটি বিমানবাহী ক্যারিয়ার, ১৪টি সাবমেরিন, ১৪টি ফ্রিগেট, ১০টি ডেস্ট্রয়ার, ২৬টি কর্ভাটি, ছয়টি মাইন ওয়ারফেয়ার ক্রাফ্ট এবং ১৩৫টি পেট্রোল ক্রাফট রয়েছে।

পাকিস্তান: দেশটির ১১টি মার্চেন্ট মেরিন জাহাজ রয়েছে। প্রধান সমুদ্র বন্দর রয়েছে দুটি। এছাড়া পাঁচটি সাবমেরিন, ১০টি ফ্রিগেট, তিনটি মাইন ওয়ারফেয়ার ক্রাফ্ট এবং ১৩৫টি পেট্রোল ক্রাফট রয়েছে।

অথর্নীতি
ভারত: সামরিক শক্তি অনেকটাই অর্থনৈতিক শক্তির উপর নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভারতই পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ভারতের ৪৫ হাজার ৯১০ কোটি মার্কিন ডলার বিদেশী ঋণ রয়েছে।ভারতের বার্ষিক সামরিক বাজেট চার হাজার কোটি মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ হাজার ৭০ কোটি মার্কিন ডলার। পার্চেজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি) ৭৪ লাখ এক হাজার একশ’ মার্কিন ডলার। শ্রমশক্তি ৪৯ কোটি ২৪ লাখ। জ্বালানি তেল উৎপাদন সাত লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ ব্যারেল, জ্বালানি তেল ব্যবহার ৩৫ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল/দিন এবং জ্বালানি তেলের প্রমাণিত রিজার্ভ ৫৬৭ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল/দিন। সড়ক পথ ৩৩ লাখ ২০ হাজার ৪১০ মাইল, রেলপথ ৬৩ হাজার ৯৭৪ কিলোমিটার, নৌপথ ১৪ হাজার পাঁচশ’ কিলোমিটার, উপকূলীয় এলাকা সাত হাজার কিলোমিটার, যৌথ সীমান্ত ১৩ হাজার ৮৮৮ কিলোমিটার এবং আয়তনক্ষেত্র ৩২ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৩ কিলোমিটার।

পাকিস্তান: দেশটির ৫৮ হাজার ১৭০ কোটি মার্কিন ডলার বিদেশী ঋণ রয়েছে।পাকিস্তানের বার্ষিক সামরিক বাজেট সাতশ’ কোটি মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ এক হাজার সাতশ’ ৩০ কোটি মার্কিন ডলার। পার্চেজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি) আট লাখ ৮৮ হাজার ৪২০ মার্কিন ডলার। শ্রমশক্তি ছয় কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার জন। জ্বালানি তেল উৎপাদন ৯৩ হাজার ৬৩০ ব্যারেল, জ্বালানি ব্যবহার ৪ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল/দিন এবং জ্বালানি তেলের প্রমাণিত রিজার্ভ ৩৭ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল/দিন। সড়ক পথ দুই লাখ ৬০ হাজার ৭৬০ মাইল, রেলপথ ৭ হাজার ৭৯১ কিলোমিটার, নৌপথ ২৫ হাজার ২২০ কিলোমিটার, উপকূলীয় এলাকা এক হাজার ৪৬ কিলোমিটার, যৌথ সীমান্ত ৭ হাজার ২৫৭ কিলোমিটার এবং আয়তনক্ষেত্র ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫ কিলোমিটার। private dermatologist london accutane

এ ছাড়া ২০১৩ সালের হিসাব অনুযায়ী ভারতের কাছে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে ৯০-১১০ টি এবং পাকিস্তানের কাছে ১১০-১৩০টি।
ভারত-পাকিস্তান কয়েকবারই মুখোমুখি হয়েছে।তবে প্রতিবারের যুদ্ধই হারজিতের পরিবর্তে সমঝোতার মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে।

১৯৪৭-এ কাশ্মিরে ঢুকে পরে পাকিস্তানের সেনারা ।তখন কাশ্মিরের মহারাজা ভারতের সামরিক সহায়তা চান। তাই ভারতীয় সেনারা অনুপ্রবেশকারী পাকিস্তানি বাহিনীকে ঠেকাতে ঢুকে পরল কাশ্মিরে। প্রায় এক বছর যুদ্ধের পর যখন অস্ত্র বিরতি হল, দেখা গেল কাশ্মিরের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ রয়েছে ভারতের দখলে, এক তৃতীয়াংশ আছে পাকিস্তানের দখলে। সেনা ক্ষয়ক্ষতি, পাকিস্তানের পক্ষে ৬০০০ নিহত, ১৪০০০ আহত, ভারতের পক্ষে ১৫০০ নিহত এবং ৩৫০০ আহত।

১৯৬৫-এ আবার কাশ্মীর দখল করার জন্য ‘অপারেশন জিব্রাল্টারের’ নামে প্রায় ৩০ হাজার পাকিস্তানি সেনা গোপনে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কাশ্মীরে ঢোকে।এবং স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বেশ ধরে এই সেনারা যুদ্ধ করবে ভারতীয় সৈন্যদের সাথে।কিন্তু কাশ্মীরের জনগন তাদের এ গোপননীতি এবং অবস্থান জানিয়ে দেয় ভারতীয় সৈন্যদের। ফলাফল ১৭ দিনের যুদ্ধ শেষে পাকিস্তানের ১৮০০ বর্গ কি:মি: উর্বর এলাকা দখলে নিল, আর পাকিরা দখল করে নিল ভারতের ৫০০ বর্গ কি:মি: মরুভুমি এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত ৯৭টা প্যাটন ট্যাংক ফেলে চলে যায় পাকিস্তানি সৈন্যরা।

১৯৭১-এ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে পাকিরা ভারতের সীমান্ত এলাকা দখল করতে এসে ‘একটি’ মাত্র সীমান্ত ফাঁড়ি দখলের ব্যর্থ চেষ্টায় ৩৪টা ট্যাংক হারানোর পাশাপাশি একটি মোবাইল ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের প্রায় ৫০০ গাড়ি ফেলে যেতে বাধ্য হয়।

১৯৯৯-এ ভারতের পরিত্যক্ত কিছু হাই অল্টিচ্যুড বর্ডার পোস্ট দখল করে নেয় পাকিস্তান।দুই মাস যুদ্ধের পর ৪০০০ সৈন্য হারিয়ে বিদায় নিতে বাধ্য হয় পাকিস্তানি সৈন্যরা।

এবার আসি আমাদের হুজুগে বাঙ্গালীর অনলাইন বিপ্লব নিয়ে।একদল আছে যারা পাকিস্তান বিরোধী অন্যদল আছে ভারত বিরোধী।পাকিস্তান বিরোধী হওয়ার কারণ অনেক আছে তার মধ্যে হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে মূলত। কিন্তু ভারতবিরোধীর কারণ ভারত হিন্দুয়ানী রাষ্ট্র এবং অনেক মুসলিম মুমিন ভাইদের ধারণা ১৯৭১ সালে ভারতই চক্রান্ত করে পাকিস্তান থেকে মানে মুসলিম ভাইদের মাঝে দ্বন্দ লাগিয়ে দিয়ে আলাদা করে বাংলাদেশ নামক একটা রাষ্ট্র করে দিছে এবং ভারতের গোলাম হয়ে থাকার জন্য।এজন্যই যখন বাঙ্গালী পাকিস্তানপন্থী সমর্থকরা জানতে পারলো আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতের পাশে আছে যে কোন ধরনের সন্ত্রাস মোকাবেলায় তখনই যেন তাদের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা পরলো।এবং আমার বাংলাদেশকে অপমান করে ফেসবুকে ট্রল করতে দ্বিধাবোধ করলো না কিঞ্চিত পরিমান।

পাকিস্তানপন্থীদের ধারণা, পাকিস্তান এক মহাশক্তিধর দেশ, ইচ্ছে হলেই ভারতকে শেষ করে দিতে পারে।আর পাকিস্তানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র আছে বলে কথা।কিন্তু অভাগারা এটা জানে না যে,পাকিস্তানের আর্থিক অবস্থাটা বর্তমানে কোন হালে রয়েছে ! আমাদের ছোট্ট এই দেশের তূলনায় পাকিস্তানের ফরেন রিজার্ভ অতি সামান্য। অনবরত জঙ্গিহামলা আর আভ্যন্তরীণ কোন্দলে দেশটি এখন দিশেহারা। প্রতিটা শুক্রবারে মসজিদে মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা।আর পাকিস্তানী রূপীর বিপরীতে ভারতীয় রূপীর মূল্য দ্বিগুণ।
একসময় পাকিস্তানের সাথে ছিলো আমেরিকা কিন্তু আজ তারাই পাকিস্তানকে একটা সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যেহেতু তাদের কাছে অর্থবিত্ত নাই সেহেতু তাদের আর অস্ত্র কেনার সামর্থ নাই এবং আমেরিকার অস্ত্র ব্যবসাও তাদের কাছে আর আগের মত হবে না।বরং এখন ভারত অর্থে অনেক বেশী স্বয়ংসম্পূর্ণ।তাই আমেরিকা এখন ভারতকে হাত করতেই বেশী ব্যস্ত অন্যদিকে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসীরাষ্ট্র হিসাবে ঘোষনা করায় ব্যস্ত।

তাই পাকিস্তানপন্থী বাঙ্গালীদের বলি, বাস্তবতা বিচার না করেই পাকিস্তানের অনেক পারমাণবিক বোমা আছে, শত শত যুদ্ধবিমান আছে, জাদরেল জাদরেল পাকি সৈন্য আছে ।সবই ঠিক আছে,কিন্তু এসব সৈন্যের ভূড়িভোজ এবং যুদ্ধের পরিচালনার জন্য মানে যুদ্ধের গোলাবারুদ কেনার মতো তহবিলও তাদের স্বয়ংসম্পুর্ন না দীর্ঘদিন যুদ্ধ চালনা করার জন্য।অন্যদিকে চীন এবং আরবের সহায়তা ছাড়া অন্যকোন দেশ তাদের সহায়তা দিচ্ছে না।অন্যদিকে ভারতের প্রেক্ষাপট তা বাস্তবিক হলেই খেয়াল করতে পারবেন।বন্ধুবিহীন একটা দেশ কোন দেশের মিডিয়া সাপোর্ট পাবে না।তাহলে পাকিস্তানের অবস্থা কতটাই করুন হতে পারে তা একবার না ভাবলে হয় না সাধু!

তবে,ভারত এবং পাকিস্তান দুইটাই বুদ্ধিদীপ্ত দেশ। যুদ্ধবিগ্রহের কুফল কমবেশি সবারই গায়ে লাগে। ব্যাবসা বানিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমার ধারণা ঠান্ডা মাথার ভারতীয় রাজনৈতিক শক্তি রক্তপাত এড়িয়ে চলতে চাইবে এবং পাকিস্তানও তেমন বেশী আগাতে চাবে না এখন আর।

সূত্রঃ দৈনিক ইনকিলাব,যুগান্তর,বিবিসি বাংলা,জি নিউজ,এই সময়,জনমত বিডি,এমটি নিউজ,পিএনএস নিউজ,বিবার্তা,ইন্ডিয়ান টাইমস,আনন্দ বাজার,এগিয়ে চলো।

doctus viagra

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

half a viagra didnt work

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

will i gain or lose weight on zoloft posologie prednisolone 20mg zentiva