আড়ালে যে সাম্প্রদায়িকতার হাসে!

120

বার পঠিত

আমরা উপরে উপরে যে যেমনি হই, ভিতরে ভিতরে সবাই কমবেশী সাম্প্রদায়িকতা পোষন করি।হোক সে মুসলিম আর হোক সে হিন্দু।আমার বাস্তবে জীবনে ঘটে যাওয়া একটা কথা বলি।আমার যেহেতু ধূমপান করার বদ অভ্যাস আছে।সেই সুবাদে বিভিন্ন দোকানদারের সাথে একটা ভালো সম্পর্ক থাকে অনেক জাগায়।যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ধূমপান করতে পারি এবং কোন বিধি নিষেধ ছাড়াই দোকানের ভিতর প্রবেশ করে নিজের হাতেই সিগারেট নিয়ে খেতে পারি দোকানদেরকে না বলেও।কারণ এই জায়গায় একটা বিশ্বাস আছে আমার প্রতি এবং তার প্রতি আমারো।তবে ভদ্রতার খাতিরে বলেই নিজের হাতে নিই যা নিবার কিন্তু দোকানদার ভাইদের বলেই।তবে আমার মত অনেকেই কিন্তু সে দোকানগুলায় যাওয়া আসা করে তারাও যেন স্বাচ্ছন্দ্যে একটু সময় নষ্ট করে চলে আসে।সেই সুবাদে অনেক অপরিচিত লোকের সাথে কিংবা আমাকে চিনে আমি চিনি না বা আমি চিনি তারা চিনে না এমন লোকের সাথেও পরিচয় হয়,কথা হয় সিগারেটও খাওয়া হয়।আবার অনেক সময় অনেক ব্যক্তিগত কথাও হয়।সেরকমই ভাবে আমার এক বড় ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয়,যে আমাকে চিনতো আমার বাপ-দাদার সুবাদেই।তো একদিন আমার সাথে কথা বলে এবং আমার ফ্যামিলিকে চিনে বলেই।আমার দাদু বেচে থাকতে আমাদের বাড়ীতে আসতো,পূজার সময় এসে খই,মোয়া,মুড়ী,নাড়ু খেতে।সে এই কথা গুলা নিজ থেকেই বললো।এবং সে ওইদিন কথাগুলা এমন ভাবেই আমার কাছে বললো যে, তার মাঝে কোন ভেদাভেদ নাই মানুষের মাঝে।আসলে সে এই কথাটা যদিও মুখে বলে নাই,তবে সেটা আমি ধারণা করে নিছি তার কথা বলার ধরণেই।সেই সুবাদে লোকটাকে আমার কাছে ভালোই লাগতো আর খারাপ লাগারো কোন কারণ নাই।কারণ লোকটা যথেষ্ট পরিমান ভদ্রও আছে।তাও সেটা আমার অনুমান।যাই হোক,গতকাল সন্ধ্যার পরে যখন আমি বাসা থেকে বের হয়ে কাওকে নাই পাই তখন আমার শেষ আশ্রয়স্থল হয় এক দোকানদার ভাইয়ের দোকান।যেখানে আমাদের আড্ডার জায়াগাও বলা যায়।তাই সেই জাগায় গেলাম সিগারেট ফুকার জন্যই।সিগারেট ফুকতে ফুকতেই সেই ভদ্র লোকের আগমন।সেও এসে বিড়ি ফুকা শুরু করে দিলো।কিন্তু তার সাথে আমার কোন কথা হচ্ছে না।সে তার মত আমি আমার মত নিজের কাজে ব্যস্ত।তো দোকানদার ভাই এক লোকের সাথে কথা বলতেছিলো কোন এক বিষয় নিয়ে।বলতে বলতে কথাটা আমার কানেও আসে।তবে কথায় বাম হাত দেওয়া কিংবা হঠাৎ করে কোন কথায় কান দেওয়া বা মাঝখানে কথা বলাটা আমি খুবই কম করি।আবার বলি না যে,তা কিন্তু ঠিক না।তবে লোক, সময় বুঝেই বলি।যাই হোক কাল তাদের কথায় আমি কোন কথা বলি নাই।কিন্তু ভদ্রলোকটা দোকানদারের একটা কথার তীব্র প্রতিবাদ করে মাঝখান থেকে কথা শুনে হোক আর পুরুপুরি কথা শুনেই হোক।কারণ দোকানদার ভাই একটা পর্যায়ে বলতেছিলো খ্রীষ্টানরা,হিন্দুরা সৎ আছে।এই কথাটা ভদ্রলোক মেনে নিতে পারে না।সে বলে প্রশংসা কইরেন না।এই কথাটা শুনেই আমার হাসি পায়।প্রশংসা করতে মানা করার কারণে।কিন্তু হাসিটা আমার কাছেই লুকিয়ে রাখি।আর কারণটা নিজে নিজেই বের করে নিই হয়তো সে খ্রীষ্টানদের সৎ বলছে এই কারণেই ভদ্রলোকটার মনে লাগছে(ধর্ম ফ্যাক্ট)।তবে দোকানদার ভাইও কম যায় না।ও তার আগে দোকানদার ভাই সম্পর্কে ১ লাইনের একটা কথা বলে নিই।সে আসলে তরিকের লোক এবং অনেকটা লালণ পাগল বলা যায়।যার কারণেই সে সত্যিকার অর্থে সৃষ্টিতে বিশ্বাস করে ভেদাভেদে না।যাই হোক আবার মূল আলোচনায় আসি,দোকানদার ভাই ভদ্রলোককে বললো আপনি কেন এই কথা বললেন যে ওদের প্রশংসা করা যাবে না?ভদ্রলোকের প্রত্যুত্তরে উত্তর ছিলো তারা বিধর্মী।তারা যতই ভালো হোক তারাতো আপনার ধর্ম নেয় নি।আপনি কি এটা মানেন যে,আপনার ধর্মের উপরে কোন ধর্ম নাই।তো দোকানদার ভাই স্বভাবগত ভাবেই বলে হুম মানি।কিন্তু এরা কাদের সৃষ্টি,আমরা আল্লাহ ডাকি আর তারা গড,ভগবান ডাকে।কিন্তু কাকে ডাকে তারা?ওই এক জনকেই তো ডাকে।কিন্তু ভদ্রলোকের একটাই কথা,তারা মুসলিম না,তারা আমার আপনার ধর্ম নেয় নি।এটাই তাদের বড় ভুল আমার কথায় বিশ্বাস নাভলে বড় যেকোন হুজুরকে জিগাইতে পারেন।তাহলে দেখুন একটা ভদ্রলোক,যে কিনা হিন্দুদের বাড়িতে খাইতো,যাইতো;সেই আজ ব্যক্ত করলো মনে মনে সে কেমন ঘৃণা পোষন করে বিধর্মীদের প্রতি!আসলে তাহলে সে কি সাম্প্রদায়িকতা ভুলে হিন্দুদের বাড়ীতে যেত মানে আমাদের বাড়িতে নাকি খাবার জন্য যেত?আসলে এখন আমার যা মনে হচ্ছে তা হলো,জিহ্বার লোভ বড় লোভ।যদি লালা ঝরা শুরু করে তাহলে বারবার ডুক গিলেও লালা নিঃস্বরন বন্ধ করা যাবে না।যাই হোক,এখন শেষের কথাটা বলি যখন ভদ্রলোকটা তার কথায় অটল এবং আত্মবিশ্বাসী তখন দোকানদার ভাই শুধু একটাই কথা বললো আপনি তো গান শুনেন, বারী সিদ্দিকির?কিন্তু কিছু কিছু তার গান আছে মনযোগ সহকারে শুইনেন তাহলেই আপনি আপনার উত্তর পাবেন অথবা লালনের গান শুনলে আপনার ধারনা পাল্টাতে পারে।এই কথা বলা শেষে তারা তাদের কাজে ব্যস্ত হয়ে গেল কিন্তু দোকানদার ভাই সেই পূর্বের লোকের সাথে আবার একটা কথা বললো সেটাও আমার খুব মনে ধরেছে(পুর্বের লোক বলতে যার সাথে কথা বলার প্রসংগেই ভদ্রলোকের সাথে লেগে যায়)।তাকে বললো যে, আমরা সবাই একজনেরই সৃষ্টি এই কথা যদি বিশ্বাস করো তাহলে মুচি,চামার,ঢুলি,মেথর,হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রীষ্টান মানে সৃষ্টির কোন জীবকেই অবহেলা করা ঠিক না।কারণ তুমি ইচ্ছা করলেই আল্লাহকে দেখতে পারবা।সে আমাদেরই মাঝে থাকে।এই বলে সে তার কথার ইতি টানলো আর আমি তাদের কথা মনযোগ সহকারেই শুনলাম।দোকানদার ভাইয়ের কথা শুনে অনেক কথাই মনে পড়লো আমার,তবে লালনের এই কথাটাই আমার কানে বেশী বেজে উঠলো-
এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে
যেদিন হিন্দু-মুসলমান,বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান
জাতি গোত্র নাহি রবে……….
বি. দ্র:গান শোনা,নেশা জাতীয় কিছু খাওয়াও কিন্তু হারাম তাও আবার সেটা বিধর্মী কম্পানির পণ্য।আবার আর একটা কথা বলি হিন্দুরা দেখুন কেমন,তাদের রান্না ঘরে যদি কোন নিচু বর্নের লোক কিংবা মুসলিমরা প্রবেশ করতে নেয় তাহলে রাম রাম করে মুখে ফেনা তুলে ফেলে।যদিও এখন আর আগের মত এই আচরনটা গোড়া হিন্দু ব্যতীত খুবই কম দেখা যায়।কালের বিবর্তনে অনেক কিছুই লোপ পাচ্ছে যা,মানব সভ্যতার জন্যই সুফল।

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong> levitra 20mg nebenwirkungen

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment. about cialis tablets

viagra vs viagra plus
can you tan after accutane
will i gain or lose weight on zoloft
can levitra and viagra be taken together glyburide metformin 2.5 500mg tabs