স্মৃতিচারণ এবং পাকবধের উচ্ছ্বাস

718

বার পঠিত

১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল…..

১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল বাংলাদেশের যে অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সেই বাংলাদেশ সরকার -এর আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার (বর্তমানে জেলা) বৈদ্যনাথতলার অন্তর্গত ভবেরপাড়া আম্রকাননে (বর্তমান মুজিবনগর)  শপথগ্রহণের মাধ্যমে।

শেখ মুজিবুর রহমান এর অনুপস্থিতিতে তাকে রাষ্ট্রপতি করে এই সরকার গঠন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী করা হয় তাজউদ্দীন আহমদকে। achat viagra cialis france

আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে এইদিন বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে  ঘোষণা করা হয় এবং আমরা বিশ্বের সামনে আরো বেশি গ্রহণযোগ্যতা লাভ করি।

ঘোষণাপত্রের একটি অংশ: “সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যে ম্যান্ডেট দিয়েছেন সে ম্যান্ডেট মোতাবেক আমরা, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আমাদের সমবায়ে গণপরিষদ গঠন করে পারষ্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষণা করছি এবং এর দ্বারা পূর্বাহ্নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা অনুমোদন করছি; এবং এতদ্বারা আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন…..”

এই সরকারের অধীনেই মুক্তিযুদ্ধ এগিয়ে যেতে থাকে এবং আমরা বিজয়ের দিকে ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে থাকি।

 

১৯৭১ সালের ২৯শে আগস্ট….

আজাদদের বাড়িতে তাস খেলছে কাজী কামাল, জুয়েল, আজাদ আর বাশার। কিছুদিন আগে সিদ্ধিরগঞ্জ অপারেশনে গিয়ে গুলি লাগে ক্রাকপ্লাটুনের গেরিলা জুয়েলের তিনটি আঙ্গুলে। আঙ্গুলের অবস্থা খুবই খারাপ।

কাজী কামাল তার নিজের কার্ডগুলো গোছাচ্ছে আর জুয়েলের দিকে তাকিয়ে আছে। জুয়ের একহাত দিয়ে কার্ড গোছাচ্ছে আর শাফল দিচ্ছে।

হঠাৎ কামাল বলে উঠলো, “জুয়েল, তুই তো জিনিয়াস রে। এক হাত দিয়েই কত সুন্দর করে শাফল দিচ্ছিস।”

সদারসিক জুয়েল বলে ওঠে, “আমি তো ভাবছি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে একহাত দিয়েই নিজেদের টিমে ওপেনিং করমু।”

আজাদ, কামালের মুখ মলিন হয়ে যায়। তারা জানে এই হাত দিয়ে কখনো খেলা সম্ভব না।

 

১৯৬৯সালে জুয়েল বিএসসি করে বের হয় জগন্নাথ থেকে। নিউজিল্যান্ডেের বিপক্ষে অল পাকিস্হান ক্যাম্পে ডাকও পেয়েছিলো, কিন্তু মূল টিমে জায়গা হয় নি। তাতে তার কোন আক্ষেপ ছিল না।

আঙ্গুলে গুলি লাগার পরে জুয়েল থাকতো হাবিবুল আলমদের দিলু রোডের বাসায়। তার হাত ড্রেসিং করে দিতো আলমের মেজ বোন আসমা। যাকে সবাই মেজপা বলতো। missed several doses of synthroid

ড্রেসিং করার সময় খুব কষ্ট হত। এজন্য মেজপা জুয়েলের মনযোগ ঘোরানোর জন্য বলতো, “জুয়েল, রকিব আল হাসান তো অল পাকিস্তান টিমে চান্স পেয়েছে। তোমারে তো নিল না।” will i gain or lose weight on zoloft

জন্মরসিক জুয়েল বলতো, “এজন্যই তো অল পাকিস্তান ভেঙে দিচ্ছি। নিজেদের টিম করবো। সেখানে ওপেনিং এ নাইমা এমুন পিডানি পিডামু…।”

দেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু জুয়েল খেলতে পারি নি। তাস খেলার ঐ রাতেই তারা ধরা পড়ে যায়।

এক পাকিস্তানি  অফিসার জুয়েলকে এসে বলেছিল, “তুমি সব স্বীকার করো। তোমার উজ্জ্বল ভবিষ্যত। পাকিস্তান টিমে খেলার অনেক সুযোগ তোমার। সব স্বীকার করো। তোমার সাথীদের নাম বলে দাও।”

জুয়েল স্বীকার করে নি। ঐ পাকি অফিসারটা জুয়েলের জখম হওয়া আঙ্গুল তিনটা মুচড়ে দিয়েছিল। যন্ত্রণায় ছটফট করেছিল জুয়েল কিন্তু স্বীকার করে নি।

জুয়েলদের আর খোঁজ পাওয়া যায় নি। গুম করে দিয়েছিল পাকি শূয়োরগুলো। খেলতে পারে নি সে। ওপেনিংএ নেমে অবাক করে দিতে পারে নি দেশের মানুষগুলোকে।

 

২০১৫ সালের ১৭ই এপ্রিল….

বাংলাদেশের মাটিতে জন্মশত্রু পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের ম্যাচ। ষোল বছর আগে পাকিস্তানকে ক্রিকেটে পরাজিত করেছিলো বাংলাদেশের টাইগাররা। তারপরে জিততে জিততেও জেতা হয় নি আর। thuoc viagra cho nam

আজ কি জেতা হবে? চুয়াল্লিশ বছর আগে ঠিক যেদিন আমাদের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথগ্রহণ করে আমাদের বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাড়াতে শিখিয়েছিলো ঠিক সেই একই তারিখে হবে কি ব্যাট-বলের খেলায় পাকবধ? irbesartan hydrochlorothiazide 150 mg

স্বর্গের একটা জায়গায় বসে আছে ক্রাকপ্লাটুনের গেরিলা জুয়েল। হঠাৎ রুমী দৌড়াইতে দৌড়াইতে এসে বললো, “জুয়েল, রেডি হ। তোর স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পথে। পাকি মারখোরগুলারে বিটলা পোলারা হেভি পিটানি দিতাছে। চল, ছুটি নিয়ে আজকে স্টেডিয়াম থেকে ঘুরে আসি।”

জুয়েল আর রুমী চলে ছুটি নিয়ে চলো আসলো মিরপুরে। গ্যালারির একটা পিলারের ওপর বসলো দুজনে। তামিমের সেঞ্চুরি ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। তামিম প্যাভিলিয়নে।

জুয়েল বললো, “দেখছোস, কইছিলাম না এই পোলা আবার ফর্মে আসবে। একটু খারাপ খেললে শুধু পাব্লিক চিল্লাই।”

রুমি- আরে রাখ তোর তামিম! মুশিরে দেখ।এইটুখানি পোলা কি পিটানিডা দিতেছে। ঠিক তোর মত। বোলারের কোন পাত্তাই নাই। যেন হাওয়ায় মশা মারতেছে!

জুয়েল-আমার মত?

রুমি- হ, তোর মতই তো। এই পোলা তো পিটানির সাথে সাথে আবার কিপিং ও করে। viagra in india medical stores

জুয়েল বেদনাভরা কন্ঠে বলে ওঠে, আমার স্বপ্নটা তো পূরণ হয়নি। আঙ্গুলগুলো এখনও ঝুলানো। আচ্ছা, স্বর্গে আসার আগে তো আমাদের বলা হয়েছিল এখানে কোন কষ্ট নেই। তবে আমার আঙ্গুলে আজ এখনো ব্যাথা করে কেন রে রুমী!!! আমি কেন পাকবধে মাঠে নামতে পারি না??? ব্যাটগুলো যে আমাকে এখনো ডাকে। উইকেটের পিছনের কিপারের ঐ জায়গাটা যে আমাকে ইশারা করে। আমি যে আঙ্গুলগুলোরে এখনো টেনে সোজা করতে চায়। আমার যে ভীষণ ইচ্ছা স্বাধীন বাংলাদেশের টিমে ওপেনিং করবো… রুমি আমি কি আরেকবার ফিরতে পারবো না!!!

রুমী কিছু বলতে পারে না। অঝোরে কাঁদতে থাকে রুমী। তার ছোট ভাই জামীর কথা তার খুব মনে পড়ছে আজ। আরেকবার সেও যদি তার সাথে গিয়ে খুনসুটি করতে পারতো!!!

হঠাৎ করে স্টেডিয়ামের চতুর্পাশ থেকে জয়বাংলা ধ্বনি ওঠে। সাগরের গর্জন শোনা যায় গ্যালারি থেকে। জুয়েল জড়িয়ে ধরে রুমীকে। সেও কাঁদতে থাকে। ১৬ বছর পরে তার নিজের টিমের পাকিবধের আনন্দে কাঁদতে থাকে জুয়েল….

আচ্ছা চুয়াল্লিশ বছর আগে শপথ নেওয়া সেই সরকারের পিছনে যে মানুষগুলো ছিলো, এই দেশের সাথে যে মানুষগুলোর আত্মার সম্পর্ক ছিল স্বর্গে  তাদের কানে কি এইদিনের জনসমুদ্রের গর্জন পৌঁছেছিল? তারা কি আরেকবার সেই শপথগ্রহণের স্মৃতিচারণ করেছিলো? ইতিহাসের একই তারিখে আমাদের আনন্দের গর্জন শুনে তাদেরও কি চোখে পানি এসেছিলো?

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

kamagra pastillas

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.