শহীদুল্লাহ কায়সার

396 buy kamagra oral jelly paypal uk

বার পঠিত

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বসে তিনি সৃষ্টি করছিলেন সেই কালজয়ী উপন্যাস ‘সারেং বউ’। যার জন্য পেয়েছিলেন ‘আদমজী পুরষ্কার’। বলেছিলেন “আইয়ুব আমাকে জেলে পাঠিয়েছিলেন, আর আমি হয়ে উঠেছি সাহিত্যিক”।
জ্বী, বাংলাদেশের সেই কিংবদন্তী সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক শহীদুল্লাহ কায়সারের(১৬ ফেব্রুয়ারী, ১৯২৭-১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১) কথাই বলছি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে যখন পাকিস্তানী বাহিনী বাঙালী নিধনযজ্ঞে মেতে ওঠে ইনি তখন ঢাকা ছেড়ে পালাননি। দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যেতে সাহায্য করেছিলেন অনেককেই।দেশ ত্যাগ করেননি মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করবেন বলে। তাঁর দেশ ত্যাগ না করার আরও একটি কারণ মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ চিত্র নিজে প্রত্যক্ষ করে তা ইতিহাসে বিধৃত করতে চেয়েছিলেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর শিল্পী-সাহিত্যিক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীদের অনেকে দেশ ছেড়ে গিয়েছিলেন, আবার অনেকে ঢাকা তথা দেশের মধ্যেই আত্মগোপন করেছিলেন। ‘সংবাদ’ পত্রিকার সাংবাদিক ছিলেন শহীদুল্লাহ কায়সার। এই পত্রিকার অফিস ভস্মীভূত হওয়ার পর তার ডাক আসে ভারতে যাবার। তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গের কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে বার বার লোক আসে তাঁকে নিয়ে যেতে। এরপর কমরেড মণি সিংহ ‘আর এখানে থাকা সঙ্গত নয়’- এ কথা জানিয়ে তাঁর কাছে পত্র লেখেন এবং লাল কালিতে তা নিম্নরেখ করে দেন। রাশিয়ান দূতাবাসও বার বার তাঁকে আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু শহীদুল্লা কায়সার দেশ ছেড়ে যাননি। কারণ তিনি ভাবেন সবাই দেশ ছেড়ে গেলে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সাহায্য করবে কে? আর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করার জন্যই রয়ে গেলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার পূর্বে অনেকেই কবি সুফিয়া কামালের কাছে রেশন কার্ড রেখে যান। কবি সুফিয়া কামাল সেইসব রেশন কার্ড দিয়ে চাল, ডাল, ঔষধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক জিনিস তুলে এনে তাঁর বাসায় জড়ো করতেন এবং পরে শহীদুল্লাহ কায়সারকে খবর দিতেন। শহীদুল্লা কায়সার সেসব জিনিস মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে দিতেন।

১৩ ডিসেম্বর তিনি পরিবারের চাপে নিরাপত্তার জন্য বাসা ছাড়তে বাধ্য হলেন। তবে ঢাকাতেই কোথাও আত্নগোপণে থাকবেন। কিন্তু বাসা ছাড়ার আধঘন্টা পর আবার ফিরে এলেন। মাকে বললেন, “আমি একা থাকবোনা। তোমাদের নিয়ে একসাথে থাকবো!”
রাতে খাওয়ার পর সিগারেটের কাগজের উল্টো পিঠে বউকে একটা চিঠি লিখলেন- ‘প্রিয়তমা সুপান্না কায়সার, আমার ছেলে-মেয়েগুলোকে তুমি যত্নে রেখো। আমি জানি, তুমি পারবে। তুমি ভালো থেকো। আমি কখনো কোথাও তোমার কাছ থেকে হারিয়ে যাবো না।’

১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা। পুরান ঢাকার কায়েতটুলির বাসায় শহীদুল্লা কায়সার মোমবাতি জ্বালিয়ে বিবিসি শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। স্ত্রী পান্না কায়সার মেঝেতে বসে মেয়েকে ফিডারে দুধ খাওয়াচ্ছেন। এমন সময় দরজায় ঠক ঠক করে কড়া নাড়ার শব্দ হল। তাঁর ছোট ভাই ওবায়দুল্লা এসে শহীদুল্লাহ কায়সারকে বললেন, ‘বড়দা দরজায় কে যেন কড়া নাড়ছে খুলে দিব?’ তিনি উত্‍ফুল্লভাবে বলে উঠলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা এসেছে, তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দাও।’ একথা বলে তিনি আলমারি খুলে টাকা বের করলেন মুক্তিযোদ্ধাদেরকে দেওয়ার জন্য। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পর মুক্তিযোদ্ধারা নয় চার-পাঁচজন লোক কাল কাপড়ে মুখ ঢেকে ঘরে প্রবেশ করল। তারা ঘরে ঢুকেই জিজ্ঞাসা করল, ‘শহীদুল্লা কায়সার কে?’ শহীদুল্লাহ কায়সার এগিয়ে এসে বললেন, ‘আমিই শহীদুল্লা কায়সার।’ সেই কাল কাপড়ে মুখ ঢাকা লোকগুলি তাঁর হাত ধরে তাঁকে নিয়ে যেতে শুরু করল। সঙ্গে সঙ্গে পান্না কায়সার মেয়ের দুধের ফিডার ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে স্বামীর হাত চেপে ধরলেন, অন্য ঘর থেকে শহীদুল্লা কায়সারের বোন ছুটে এসে ভাইয়ের হাতটি চেপে ধরলেন। কিন্তু তাঁরা শত শক্তি প্রয়োগ করেও ধরে রাখতে পারলেন না স্বামী ও ভাইকে। আল-বদররা স্ত্রী ও বোনের হাতের বাঁধন ছিন্ন করে ধরে নিয়ে গেল তাঁকে। শহীদুল্লা কায়সার যাবার সময় স্ত্রী ও বোনের দিকে তাকিয়ে স্মিত হেসে বলেছিলেন, ‘ভাল থেকো’। কারফিউ-এর অন্ধকারে তিনি চিরকালের জন্য হারিয়ে গেলেন। তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁর মৃতদেহও পাওয়া যায়নি!

জানা যায়, তাঁকে মিরপুরেরর কোনো বধ্যভূমিতে হত্যা করা হয়েছে। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, মিরপুরে হত্যা করা হয়েছে- কবি মেহেরুন্নেসা, আবু তালেব, ড. সিরাজুল হক, সন্তোষ ভট্টাচার্য্য, ড. ফয়জুল্লাহ, ডা. মুর্তজা, ড. এমএ খয়ের, অধ্যাপক রাশিদুল হাসান, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, প্রকৌশলী আবু সালেহ, মোহাম্মদ এরশাদুল্লাহ প্রমুখকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মিরপুরে ২৩টি বধ্যভূমির মধ্যে সংরক্ষিত হয়েছে মাত্র তিনটি!

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

doctus viagra

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

thuoc viagra cho nam