বর্ণ মালার “র” আর ভাষা শহিদ রফিক

158

বার পঠিত doctus viagra

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের পারিল গ্রামে ছিলো তাঁর বাড়ি।একই গ্রামের মেয়ে রাহেলা খাতুন পানুর সঙ্গে গড়ে উঠে প্রেমের সম্পর্ক।তাদের এই সম্পর্ক পারিবাড়িক ভাবেই মেয়ে নিয়েছিলেন দুই পরিবার।তাইতো রফিক ঢাকায় এসেছিলেন রাহেলার জন্য বিয়ের শাড়ী-গহনা কিনতে।২১তারিখ বাড়ি ফিরে যাবার কথা ছিলো রফিকের কিন্তু আর কোনদিন বাড়ি ফিরে যাওয়া হয়নি রফিকের,রাহেলার জন্য শাড়ি-গহনা কিনে বিয়ের পিড়িতেও বসা হয়নি তাঁর।
.
ছোট্ট সুন্দর পারিল্ গ্রামে আবদুল লতিফ ও রাফিজা খাতুনের ঘরে ৩০ অক্টোবর ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহন করেন রফিক।পুরো নাম রফিকউদ্দিন আহমদ।তাঁর পিতা আবদুল লতিফ ছিলেন ব্যবসায়ী, কলকাতায় ব্যবসা করতেন।রফিকউদ্দিনের ডানপিঠে শৈশব আর পড়ালেখা শুরু কলকাতার ‘মিত্র ইনস্টিটিউটে’।
.
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর রফিকউদ্দিনের পিতা ঢাকায় চলে আসেন।এখানে বাবুবাজারে আকমল খাঁ রোডে পারিল প্রিন্টিং প্রেস নামে ছাপাখানা চালু করেন।আর রফিকের স্কুলের ঠিকানা হয় বাড়ি থেকে ৫মাইল দূরে বিপ্লবী নেতা ও নেত্রী যথাক্রমে অনিল চন্দ্র ও লীলাবতী রায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বায়রা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন।বায়রা স্কুল থেকে ১৯৪৯ সালে ম্যাট্রিক পাস করে রফিক।

RAFIQCPB_1265262358_1-1098.1226085702.RafiquddinAhmed
.
পরে মানিকগঞ্জ ‘দেবেন্দ্রনাথ কলেজে’ বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হন।আই.কম. ক্লাস পর্যন্ত পড়লেও পরে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।ঢাকায় এসে পিতার সঙ্গে প্রেস পরিচালনা করতে শুরু করেন।পরে ঢাকার জগন্নাথ কলেজে ( বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় )ভর্তি হন।১৯৫২ সালে তিনি জগন্নাথ কলেজের বিপ্লবী নেতা ও নেত্রী যথাক্রমে অনিল চন্দ্র ও লীলাবতী রায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বায়রা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন।১৯৫২ সালে তিনি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন।
.
বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সম্মুখের রাস্তায় ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বিক্ষোভ প্রদর্শনরত ছাত্র-জনতার মিছিলে অংশগ্রহণ করেন রফিক।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হোস্টেল প্রাঙ্গনে পুলিশ গুলি চালালে সেই গুলি রফিকউদ্দিনের মাথায় লাগে।গুলিতে মাথার খুলি উড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
.
মেডিকেল হোস্টেলের ১৭ নম্বর রুমের সামনে তার লাশ পড়ে ছিল।ছয় সাত জন ধরাধরি করে তার লাশ এনাটমি হলের পেছনের বারান্দায় এনে রাখেন।তাদের মাঝে ডাঃ মশাররফুর রহমান খান রফিকের গুলিতে ছিটকে পড়া মগজ হাতে করে নিয়ে যান। রাত তিনটায় সামরিক বাহিনীর প্রহরায় ঢাকার আজিমপুর গোরস্তানে শহীদ রফিকের লাশ দাফন করা হয়।রফিকেই প্রথম ভাষা শহীদ হিসেবে ধরা হয়ে থাকে।
.
পরদিন দৈনিক মিল্লাতের প্রথম পাতায় রফিকের মাথার খুলি উরে যাওয়ার ছবিও ছাপা হয়েছিল481921_10151046638348363_12997776_n 334124_10151046638203363_236469828_o

শহীদ রফিকের পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণআন্দোলনে নিজেদের গভীরভাবে যুক্ত করেছেন এবং নিজেদের জীবনকে কখনোই দেশের স্বার্থের চেয়ে বড় মনে
করেননি।তাইতো ১৬৬৯ এর গণআন্দোলনেও জীবন দিয়েছেন এই পরিবারের সদস্য জনাব ইসহাক।রফিকের ভাই আবদুস সালাম ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।দুর্ভাগ্যের বিষয় তিনিও গুপ্তঘাতকের হাতে নিহত হন।
.
২০০০সালে শহীদ রফিক মরণোত্তর একূশে পদক লাভ করেন।আর সেই পারুল গ্রামের নাম বদলে রাখা হয়েছে রফিকনগর।তাঁর এই অবদানে বিশ্ব জুড়ে বাঙলা ভাষা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে।শহীদের রক্ত ভিজে থাকা ৮ ফাল্গুন আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

amiloride hydrochlorothiazide effets secondaires
thuoc viagra cho nam
achat viagra cialis france
nolvadex and clomid prices