গৌতম বুদ্ধের দর্শনঃ কিছু কথা

193

বার পঠিত

ফেসবুকে আমার একটি লেখায় প্রশ্ন করেছিলাম, “জীবন যেখানে যুদ্ধ, সেখানে গৌতম বুদ্ধ হওয়াটাই শ্রেষ্ঠ সমাধান কিনা?” একটি মতামত সেখানে পাওয়া গিয়েছিল। মতামতটি এরকম, “গৌতম বুদ্ধ হওয়াটাই সহজ”। এখানে বুদ্ধের দর্শনটা একটু বলে নেওয়া দরকার। না হলে, সহজ বা কঠিনের তুলনামূলক বিচারের মাধ্যমে একটি গ্রহনযোগ্য সমাধানে আসা সহজ হবে না।

গৌতম বুদ্ধের আসল নাম, সিদ্ধার্থ গৌতম। নেপালের লুম্বিনি রাজ্যের রাজপুত্র হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন সিদ্ধার্থ, সময় ৫৬৩ খ্রিস্টপূর্ব। রাজপুত্র হিসেবে নয়, তবে একটি বিশেষ দর্শনের জন্মদাতা হিসেবেই তিনি বেশী পরিচিত। পরবর্তীতে তিনি বুদ্ধ নামেই ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। রাজ্য আর একটি সুখী জীবন ছেড়ে এই রাজপুত্র কেন সারাজীবন আপাতদৃষ্টিতে একটি সুখবিচ্ছিন্ন জীবন বেছে নিলেন? আকাঙ্ক্ষা, কামনা, বাসনা, চাহিদা কেন তার মনে জায়গা করল না? কিসের ওপর বিরক্ত ছিলেন তিনি?

বুদ্ধ যখন তরুণ, তখন আমাদের এই দক্ষিণ এশিয়ায় ব্রাহ্মণদের বেশ ভাল কদর, তাদের ধর্মীয় বিধানে হিন্দুধর্ম তখন রাজত্ব করছে মানুষের মনে। তখনকার ব্রাহ্মণেরা মানুষের ভাল করা থেকে নিজেদের ভাল করার দিকেই বেশী নজর দিতেন, ধর্ম তাদের প্রধান হাতিয়ার। আর তাদের এই হাতিয়ারের সম্পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য রাজাদের তাঁবেদারি, তোষামোদমূলক কর্মকাণ্ড করতেন, বিনিময়ে শাসকেরা ব্রাহ্মণদের সামাজিক প্রতিপত্তি টিকিয়ে রাখার নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। ব্রাহ্মণদের লাভ হল, সাধারণ মানুষ পড়ল জাঁতাকলে। ধর্মের বিধান কায়েম হল, কিন্তু শান্তি এল না। puedo quedar embarazada despues de un aborto con cytotec

স্বাভাবিক কারণেই এই অরাজকতা একদল ভিন্ন মতের অধিকারী শ্রেণি সৃষ্টি করল। এরা সবাই ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে কিন্তু একবাক্যে ব্রাহ্মণদের চিন্তাকে প্রত্যাখ্যান করলেন। ব্রাহ্মণেরা সেসময় দেবতাদের উদ্দেশ্যে প্রাণী উৎসর্গ করতে হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের বাধ্য করতেন। কিন্তু এই রীতিও প্রত্যাখ্যাত হল ভিন্নমতাবলম্বীদের দ্বারা। তারা বললেন, “ঈশ্বর কেবলই একটি সার্বজনীন ধারণা, তিনি কোন অতিমানব নন”। এদলের বাইরে আরেকটি ধারণা নিয়ে হাজির হন বুদ্ধ আর মহাবীর। মহাবীর পরবর্তীতে জৈন ধর্মের প্রবর্তন করেন। will metformin help me lose weight fast

গৌতম বুদ্ধ কেবল এই প্রাণী উৎসর্গের রীতিকেই প্রত্যাখ্যান করলেন না, তিনি ব্রাহ্মণদের “সম্প্রসারিত সৃষ্টিতত্ত্ব”-কেও প্রত্যাখ্যান করলেন। এটি হচ্ছে, Metaphysics বা অধিবিদ্যার একটি শাখা, যার মাধ্যমে একদল ব্রাহ্মণ বৈশ্বিক শৃঙ্খলা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে নিজেদের নিয়োজিত করেছিলেন। এরাও মানবকল্যানের থেকে ক্ষমতাধারীদের চাটুকারিতায় বেশী মনোযোগী ছিলেন।

বুদ্ধ একদিন নিজে একটি ধর্ম প্রবর্তন করবেন, এটা কখনোই ভাবেননি। ২৯ বছর বয়সে যখন তিনি ঘর ছাড়লেন, তখন তিনি সন্ধান করছিলেন সত্য ও আলোর পথ। কেন মানুষের মনে দুঃখ আসে?- এই ছিল তার একমাত্র প্রশ্ন। কিভাবে এই দুঃখ দূর করা যায়?- এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য।

আমার পুরো লেখায় আমি সেই উত্তরগুলোই সামনে তুলে ধরব। আমাদের পক্ষে আদৌ কি সেই উত্তরগুলো যে পথের নির্দেশ করে, সে পথে চলা সম্ভব কিনা?- এটা নিয়েও একটা ধারণা দেবার চেষ্টা করব। এখানে বএল রাখা প্রয়োজন, সময়ের পরিবর্তন হলেও বুদ্ধের চিন্তা ও দর্শনের কার্যকারিতা আজও রয়েছে অম্লান। তবে তার অনুসরণ? হুম, বড় কঠিন, ক্ষেত্রবিশেষে অসম্ভব।

বুদ্ধ সারাজীবন জ্ঞানের পথে নিরলস বিচরণ করেছেন, কঠিন তপস্যা করেছেন। এর সবকিছুর যোগফল তাকে একটি নতুন ধর্মমত প্রচারে উদ্বুদ্ধ করে বলে উপসংহারে আসা যায়। তার যাবতীয় জ্ঞান ও পর্যবেক্ষণকে ৪ টি সত্যে প্রকাশ করা যায়ঃ

 

১। জীবন, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, দুঃখে পরিপূর্ণ

২। সকল দুঃখ জন্ম নেয় কামনা, আকাঙ্ক্ষা থেকে

৩। সকল দুঃখ অতিক্রম করার একমাত্র উপায়, ইচ্ছা ত্যাগ করা

৪। অষ্টমার্গের পথ নিরবিচ্ছিন্ন অনুসরণই সাধারণ মানুষকে দুঃখ থেকে মুক্তি দিতে পারে।

অষ্টমার্গ আসলে কি? আটটি উপাদান নিয়ে এটি গঠিত। এগুলো হল আত্মজ্ঞান (সঠিক অভিমত, সঠিক উদ্দেশ্য), নৈতিক আচরণ (সঠিক আচরণ, সঠিক বক্তব্য, সৎ জীবিকা) এবং মানসিক শৃঙ্খলা (সৎ প্রচেষ্টা, সঠিক চিন্তা, ধ্যান)। বুদ্ধের মতে, এই আটটি উপাদানের সঠিক ব্যবহারই কেবল আমাদের দুঃখের হাত থেকে মুক্তির উপায় এনে দিতে পারে, একটি ভিন্ন পরিচয়ের বিভ্রম থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে। আমাদের সর্বশেষ গন্তব্যকে বুদ্ধ অভিহিত করেছেন “নির্বাণ” নামে, যা একটি তৃপ্তি ও প্রশান্তিময় পরিবেশের সন্ধান দেয়।

আমরা সবাই সংসারী, প্রতিদিন নানা দুঃখ আমাদের হানা দিচ্ছে। আর এতসব দুঃখের মাঝে, সত্যি কথা হচ্ছে, অষ্টমার্গ অনুসরণ করা-একটি অসম্ভব ব্যাপার। কারণ, অষ্টমার্গের পথে চলার পূর্বশর্ত হচ্ছে সংসার ত্যাগ। তবে গৌতম বুদ্ধ হওয়াটা সহজ কি? না, মোটেই সহজ নয়।

তাত্বিক আলোচনা টা এখানে কঠিন মনে হতে পারে। তাই একটি সহজ কিন্তু সম্মানিত উদাহরন টানা যেতে পারে। আমি এখন সত্যজিৎ রায় পরিচালিত “গুপী গাইন বাঘা বাইন” চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত “এক যে ছিল রাজা” শীর্ষক গানের উল্লেখ করব, যা বুদ্ধের দর্শনের একটি শৈল্পিক রূপ, ধারক ও বাহক। zithromax azithromycin 250 mg

গানের মুখরাঃ

“এক যে ছিল রাজা, তার ভারী দুখ, ভারী দুখ।

দেখ রাজা, কাঁদে রাজা, আহা রাজা, বেচারা রাজার,

ভারী দুখ, ভারী দুখ”।

এই স্তবকে একজন রাজার উল্লেখ আছে, যিনি অত্যন্ত দুখী। কিন্তু সাধারণ মতে, রাজাদের তো দুঃখ থাকার কথা নয়। তবে রাজা দুঃখে কেন? কারণ অনুসন্ধান করা দরকার।

১ম অন্তরাঃ

“দুঃখ কিসে হয়? দুঃখ কিসে হয়?

অভাগারা ভাবে জেন শুধু নয়,

যার ভাণ্ডারে রাশি রাশি, সোনা-দানা ঠাসাঠাসি, buy kamagra oral jelly paypal uk

তারও হয়, জেন সেও সুখী নয়, সুখী নয়”।

প্রথমেই চিরকালীন প্রথাকে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, যে অভাবীরাই শুধু তাদের অভাবের কারণ খোঁজে না। রাজার মতন ধনী ব্যাক্তিও দুঃখের কারণ অনুসন্ধান করতে বাধ্য হন। প্রচুর সম্পদ থাকলেই সুখী হওয়া যায় না। কারণ, প্রচুর সম্পদ আরও অনেক সম্পদ উপার্জনের জন্য আমাদের তাড়িত করে। ঠিক যেন, চাই চাই, আরও চাই। all possible side effects of prednisone

২য় অন্তরাঃ

দুঃখ যাবে কি? দুঃখ যাবে কি? বিরস বদনে রাজা ভাবে কি?

বলি যারে তারে দিয়ে শাস্তি, রাজা কখনো সোয়াস্তি (স্বস্তি) পাবে কি?

দুঃখ যাবে কি।

এখন যা দাঁড়াল, টা হচ্ছে, রাজার যে সম্পদ আছে, তা রক্ষা করা প্রয়োজন। রাজার সবাইকেই সন্দেহ হয়, এই বুঝি তার সম্পদ চুরি করতে কেউ আসবে। তাই তিনি সন্দেহের বশবর্তী হয়ে সবাইকেই শাস্তি দিচ্ছেন। কিন্তু তবু, তার মনে সুখ আসছে না। তিনি গোমড়া মুখে ভেবেই যান, সুখ কিভাবে আসবে? সুখ তো আসে না………

শেষ অন্তরাঃ

দুঃখ কিসে যায়? দুঃখ কিসে যায়? প্রাসাদেতে বন্দী রওয়া বড় দায়, বড় দায়।

একবার ত্যাগী এ সোনারও গদি, রাজা মাঠে নেমে যদি, হাওয়া খায়, walgreens pharmacy technician application online

ত্যাগী এ সোনারও গদি, রাজা মাঠে নেমে যদি, হাওয়া খায়,

তবে রাজা শান্তি পায়, শান্তি পায়। posologie prednisolone 20mg zentiva

রাজাকে এই শেষ অন্তরায় এসে পরম আরাধ্য সুখের সন্ধান দেওয়া হচ্ছে। রাজা যদি নিজেকে প্রাসাদে আবদ্ধ রাখেন, তবে সুখের দেখা পাবেন না। তাকে প্রাসাদ ছেড়ে বাইরে আসতে হবে। রাজ্যশাসনের দায়িত্ব ঘাড়ে নিয়ে নয়, সবকিছু ত্যাগ করে। এই হচ্ছে সেই অষ্টমার্গ, যেখানে রাজ্য তথা সংসার ত্যাগের মধ্য দিয়ে পথে নেমে রাজা প্রকৃত জ্ঞান ও আলোর সন্ধান লাভে সক্ষম হবেন, যেমন টা হয়েছিলেন, বুদ্ধ। পৌঁছেছিলেন গন্তব্যে, যার নাম, “নির্বাণ”।

সমাধান সেটাই, যা সমস্যা দূর করে। তবে সবসময় আমাদের পক্ষে সর্বোত্তম সমাধান বেছে নেওয়া সম্ভব হয় না। আমরা বেছে নিই “বাস্তবায়নযোগ্য সমাধান”- যা আমাদের আয়ত্তে আছে, যা আমাদের পক্ষে করা সম্ভব। সেদিক দিয়ে বিচার করলে বুদ্ধের পথে হাঁটা, আর যাই হোক, সহজ বলা চলে না।

ভেবে দেখুন, ভাল থাকুন, স্বুস্থ থাকুন।

 

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

metformin synthesis wikipedia

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

synthroid drug interactions calcium
glyburide metformin 2.5 500mg tabs