কালপুরুষ এবং ঘোড়া (১ম)

133

বার পঠিত

৩ বছরের মধ্যে বেশ কয়েকটা বড় কেইস সলভ করে গোয়েন্দাগিরির জগতে ইতোমধ্যেই বেশ হইচই ফেলে দিয়েছে একজন ২১ বছরের টগবগে তরুণ। কালপুরুষ ছদ্মনামধারী তরুণ ছেলেটি একজন শখের গোয়েন্দা। নিজেকে পরিচয় দেন একজন প্রাইভেট ডিটেকটিভ হিসেবে।জন্ম কলকাতার মেদিনীপুর এ। আসল নাম যদিও এইটা না।ডাকনাম রবি, নামটা অবশ্য মায়ের রাখা। আসল নাম রুদ্র প্রতাপ সিংহ, মায়ের মুখেই শুনেছেন নামটা নাকি তার ঠাকুরদা প্রতাপনারায়াণ চট্টোপাধ্যায় রেখেছেন শখ করে।যদিও বাপ ঠাকুরদাদার নামে চট্টোপাধ্যায় আছে কিন্তু এই নামটা রাখার পিছনে সুন্দর একটা কাহিনী আছে বটে।

ঠাকুরদাদার বাবা নাকি গ্রামের জমিদারগোছের ব্যক্তি ছিলেন। ঠাকুরদাও ছিলেন গ্রামের সম্মানিত ব্যক্তি,শিকারে নাকি তাঁর হাত পাকা ছিল।সেই সময় দুইটা মানুষখেকো বাঘ নাকি তিনি নিজ হাতে গুলি করে মেরেছিলেন।যার মধ্যে একটার পাকা করা ছাল বাসার বৈঠকখানাতে আজও শোভা পাচ্ছে।শেষ বাঘটা যেদিন মারলেন তার ২ দিন পরেই রবির জন্ম তাই ঠাকুরদা এমন ভারিক্কি একখানা নাম রেখেছেন। রবির বাবা প্রদীপনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় সেই সময় বিলেতফেরত ছিলেন, ব্যারিস্টারিও পাশ করেছিলেন। কিন্তু ঠাকুরদার মত প্রভাব প্রতিপত্তি ছিল না।

ছোটবেলা থেকেই পড়াশুনাতে খুব ভাল ছিল রবি। পঞ্চম শ্রেণি পার করার আগেই সংস্কৃত ভাষার কঠিন কঠিন শ্লোকগুলো মুখস্ত করে ফেলেছিল। কিন্তু এত ভালো ব্রেইন নিয়েও রবি কেন যেন পড়াশুনা শেষ করে নি, পাঠ্যবইয়ের প্রতি তার ঝোক একদমই ছিল না। তার ভাষ্য হল পড়াশুনার জন্য প্রতিষ্ঠান বা সার্টিফিকেট নাকি দরকার নেই। কিন্তু নানা বিষয়ে তার জ্ঞ্যান শিক্ষকদের কাছেও আশ্চর্যজনক ছিল। ম্যাট্রিক পাশ করার আগেই হাত সাফাইয়ের প্রায় ৫০ টার মত খেলা শিখে ফেলেছিল।ইংরেজি পত্রিকার বড় বড় আর্টিকেল হুবহু মুখস্ত বলতে পারতো।অর্নগল ইংরেজিতে কথা বলতে পারতো।বড় বড় গুনফল মুখে মুখে বের করে ফেলতে পারত। পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা আশ্চর্যজনকভাবে বেশি ছিল, কোন অপরিচিত মানুষকে প্রথমবার দেখেই বেশ অবাক করার মত তথ্য বলে দিতে পারতো।আকাশের তারা নিয়েও তার খুব আগ্রহ, কালপুরুষ নামটা ওইখান থেকেই নেওয়া।

রবির বন্ধু একদম ছোটবেলা থেকেই খুব কম। খুব কাছের বন্ধু বলতে একজনই আছে, নাম হরিহরণ চৌধুরী। রবি তাকে মশকরা করে হরিণ ডাকতো।সেই ছোটবেলা থেকেই দুইজনের একসাথে উঠাবসা। তো পরিচিতি পর্বটা এই পর্যন্তই না হয় থাক।

একদিন পড়ন্ত বিকেলে রবি আর হরি মিলে তাস পিটাচ্ছিলো। যদিও রবির কাছে হাত সাফাইয়ে একদমই বাচ্চা ছিল হরি আর তাই হারছিলো বারবার। এমন সময় বাড়ির চাকরটা এসে বললো,

-দাদাবাবু আপনার জন্য চিঠি এয়েছে।
-আমার চিঠি!! কে পাঠাল?
-তা তো জানিনে দাদাবাবু। আপনি নিজেই দেকে নিন।
-কই দাও দেখি।

ওডিশা প্রদেশের মতিনগর গ্রামের শিবশংকর প্রসাদ নামে কেউ একজন পাঠিয়েছিল চিঠিখানা। wirkung viagra oder cialis

শ্রদ্ধাস্পদ কালপুরুষ,
আপনাকে দেখার খুব সাধ আমার। আপনার খ্যাতির কথা যেন সমগ্র ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পরেছে। কিছুদিনের জন্য যদি আমাদের গ্রামে পদধূলি দিতেন তবে ধন্য হতাম। ওডিশার ট্রেনের একখানা টিকিট পাঠালুম। বাড়ির ঠিকানাও চিঠির সাথে পাঠিয়ে দিলুম।গ্রামে পৌছানোর পর কোন গাড়োয়ানকে আমার কথা জিজ্ঞেস করলেই আমার বাড়িতে নিয়ে আসবে।আপনার অপেক্ষাতে রইলুম।

আপনার গূণমুগ্ধ ও শুভাকাঙ্ক্ষী,
শিবশংকর প্রসাদ

রবি চিঠিটা পড়ে হরিকে বললো,
-তুই একটা ওডিশার টিকিট ম্যানেজ কর তো।
-হঠাৎ ওডিশা !!
-এমনে হাতে তো কোন কেইস নেই। আর এক ভদ্রমহোদয় নেমন্তন্ন করলেন। চিন্তা করলাম এই সুযোগে একটা ট্যুর হয়ে যাক। তুই দ্রুত টিকিট ম্যানেজ কর।
-ওডিশা? কোন পরিচিত মানুষ তো নেই সেখানে। বাড়ির ঠিকানা কি লিখে দিয়েছে?
-বাড়ি খুজে পেতে কোন কষ্ট হবে না। চিঠি পড়ে বুঝলাম যে লোকটা এলাকার পরিচিত আর প্রভাবশালীও বটে। তোকে যা বললাম তাই কর, আমরা ওডিশা যাচ্ছি।

চলবে _________®

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

cialis new c 100

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong> can levitra and viagra be taken together

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

viagra vs viagra plus
all possible side effects of prednisone
side effects of drinking alcohol on accutane