ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনে বিরোধীতাদের কথার জবাব

173 doctorate of pharmacy online

বার পঠিত

আমরা জাতি হিসাবে কতটা যে একদাবদ্ধা তা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট নিয়ে আন্দোলনের উল্টা সাফাই গেয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অবস্থান এবং কিছু সরকার দলীয় দলকানার অবস্থান দেখেই বুঝা যায়।তাদের ভাবসাব এমনি যে,সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই সব অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা কাঁচকলা,পোল্ট্রি মুরগী,ধনীর দুলাল,গরু-ছাগল কিন্তু তারাও যে ছাত্র কিংবা মানুষ হতে পারে তা মনে হচ্ছে না।হ্যাঁ সরকার দলীয় দলকানা এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদেরই বলছি,আমাদের আন্দোলনে আপনাদের সাপোর্ট লাগবেনা,আমাদেরও স্টুডেন্ট পাওয়ার আছে,আপনাদের মত হয়তো আন্দোলন করতে পারি না কিন্তু আমরাও যে একেবারে অক্ষম তা ভাববেন না দয়া করে।আবার এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের একতাবদ্ধ হয়ে আন্দোলনকে অসমর্থন করে বিভিন্ন ভাবে আন্দোলনের বিপরীতে সাফাই গেয়ে দেশের বুদ্ধিজীবী কিংবা সেই লেবেলের দেশপ্রেমিক বা দেশের উন্নয়নের চিন্তা করেন বলে নিজেদের দাবি করছেন।যাই হোক এখন কিছু অপ্রিয় সত্য কথায় চলে আসি।
প্রথমেই আসা যাক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে।বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এইভাবে রাস্তা আটকিয়ে সাধারন মানুষকে ভুগান্তিতে ফেলে নাকি এটাকে আন্দোলন বলে না!আন্দোলন মানে সাধারন মানুষকে জিম্মি করা না।এই আন্দোলন নাকি হেফাজতের আন্দোলন হয়ে গেছে।কতটুকি নিচু মনমানসিকতার উদয় হলে একটা মৌলিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনকে রাজনৈতিক প্রকটলে ফেলে তা বাঞ্চাল করার পায়তারা যায়।পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দাবি তারা এতো এতো আন্দোলন করে।কিন্তু তারা কখনো সাধারন মানুষদের ভুগান্তিতে ফালায়ে আন্দোলন করে না বলে সাফাই গাচ্ছেন।আরে ভাই থামেন,আপনারা এত এত আন্দোলন করেন তা আমরাও জানি।এটাও জানি আপনার কিছু সময়ের জন্য আপনার বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার রাস্তাগুলা সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রেখে আন্দোলন করেন এবং তা কিছুক্ষন পরেই আবার সচল হয়ে যায়।একদম সত্যি কথাই বলছেন।কিন্তু আপনাদের মাথায় এই কথাটা ঢুকে নাই যে,আপনারা যে আন্দোলন করেন সেটা শুধুমাত্র আপনাদের একান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক।যদি সবগুলা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একই সাথে একই সমস্যা হতো তাহলে তখন দেখা যেত,আপনারা কি করতেন?কিন্তু আজ আমাদের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যে সমস্যা তা কোন নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক না বরং তা সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক।সেহেতু এই আন্দোলনে রাস্তা বন্ধ হবেই আর সাধারন মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়বে সেটাও অবাস্তব কিছু না।আচ্ছা একটা কথা বলি আপনাদের কেমন?খুব সম্ভবত ২০১২ সালের শেষদিকে প্রাইমারি স্কুলের অনিবন্ধিত শিক্ষক এবং যাদের স্কুল বেসরকারি ছিল এবং শিক্ষকরা যারা ঠিকমত বেতন পাচ্ছিল না তারা তাদের নিবন্ধন এবং সরকারি বেতনের অধিকার আদায়ের জন্য শাহবাগে একটা দীর্ঘ আন্দোলনের পথে নেমেছিল।সেটা কি আপনারা কেও বলতে পারেন?যদি বলতে পারেন তাহলে তারা অবশ্যই এটাও বলতে পারবেন কিভাবে সেই শিক্ষকদের দমনের চেষ্টা করেও আটকাতে পারেনি শিক্ষকদের এবং তারা কিভাবে রাস্তা আটকিয়ে সাধারন মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে আন্দোলন করে নিজেদের অধিকার আদায়ে সফল হতে পেরেছিল এবং সেই আন্দোলনে কয়েকজন শিক্ষকের মৃত্যুও হয়েছিল।তারপর এটাতো ভুলেন নাই শাহবাগের যুদ্ধাপরাধী বিচারের আন্দোলনের কথা।সেই সময় সাধারন মানুষকে ভোগান্তিতে কি পরতে হয় নাই?আর সরকারি দলের দলকানা এবং চাটুকারিতা সুশীলদের বলছি,আপনারা এমন কোন সরকার বিরোধী আন্দোলন করছেন যেটাতে সাধারন মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে নাই।এবং কি আপনাদের জন্য সাধারন মানুষের প্রান যায় নি পুলিশের কিংবা আপনাদের গুলি অথবা অগ্নিসংযোগের মত সন্ত্রাসবাদ করে।এখন হয়তো বলবেন আপনারা এসব করেন নাই এসব সবই বিরোধী দলের চক্রান্ত।আমিও তাই বলি কিন্তু আমিও আপনাদের সরকার বিরোধী কিছু ছোট আন্দোলন দেখছি ছোট থাকতে।এতেও সাধারন মানুষ চরম ভোগান্তি এবং প্রান নাশের চিন্তায় থাকছে।আমিও আওয়ামী-লীগ করি।কিন্তু আপনাদের মত অন্যায় কে অন্যায় বলতে ভয় করি না।আমি যেমন আমাদের দলের সমালোচনা করতে পারি তেমনি আমার দলের চরম দুর্দশায় পাশে দাঁড়িয়ে বুকে আকড়ে ধরতে পারি।কিন্তু অপরদিকে আপনাদেরই দেখা যাবে দলের দুর্দিনে রং বদলাতে।বাদ দেই ভুলভাল প্যাঁচাল।তবে এটা মাথায় ঢুকান যে,আমরা সরকার বিরোধী আন্দোলন করছি না বরং সরকারের চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষার উপর ভ্যাট বিরোধী আন্দোলন করছি।
আবার এই অতি সুশীল সমাজ আমাদের সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ধনীর দুলাল ভেবে মানে ধনীর দুলাল বানিয়ে সাফাই গাচ্ছেন যে,বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এত এত টাকা টিউশন ফি,দামী জিন্স প্যান্ট,শার্ট,সালোয়ার কামিজ,দামী ব্যান্ডের সিগারেট খায়,কার ভার্সিটির কত টাকা টিউশন ফি,কে কত টাকা পার্টি করে উড়ায়,কার বাপের কয়টা গাড়ি,কে কত দামি গিফট করলো তার প্রেমিক/প্রেমিকাকে,কে কত দামি লেটেস্ট মোবাইল,ল্যাপটপ পিসি ব্যবহার করে তা নিয়ে যে প্রতিযোগীতা হয় তা নিয়ে সাফাই গেয়ে আপনারা সকলকে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে সাফাই গাচ্ছেন।হ্যাঁ আপনি এসব যাদের কথা বলছেন তারা সত্যি ধনীর দুলাল/দুলালী।এদের এখন সরকারকে ৭.৫% ভ্যাট দিতেই ফাটে।কিন্তু আপনারা এটা বুঝতে পারছে না যে,আমাদের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের পরিবারের সিংহ ভাগই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তারা জানে না সেমিস্টারের শুরুতে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য মোটা অংকের টাকা যোগাড় করতে কতশত ছাত্রের আর তাদের অভিভাবকদের এক বুক হতাশা হতে হয়। তারা জানে না যে রেজিস্ট্রেশন করতে মোটা অংকের টাকা দেওয়ার পর মাসিক খরচ চাইতে না পারা কতশত ছাত্ররা শুধু চা-রুটি খেয়েই আহার শেষ করে। তারা জানে না মধ্যবিত্ত পরিবারটি একখন্ড ভবিষ্যত নিশ্চিত করার জন্য ঋন করে টিউশন ফী জোগাড় করে। তারা জানে না যে এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু উচ্চবিত্তদের পড়ালেখার জায়গা না, ছাত্রদের সিংহভাগই মধ্যবিত্ত।! প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ে কারা ? বেশীর ভাগই মধ্যবিত্তের পরিবারের সন্তান। অনেকেই আছে ঠিক মত বেতনই দিতে পারেনা, অনেকেই আবার জমি বিক্রি করা টাকা দিয়ে পড়াশুনা করে।যা অপ্রিয় হলেও সত্য।আমিও একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্র।আমিও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি।আমারা এক ক্লাসে মানে এক সেকশনে ৪০ জন ছাত্র ক্লাস করি।এই ৪০ জনের মধ্যে একজন কি দুই জনের বাপের গাড়ি আছে আর ৩ জন আছে মোটামুটি উচ্চবিত্তশালীর ছেলে।কিন্তু বাকী ৩৫ জনই মধ্যবিত্ত পরিবারের।আরো ৫ জন দিলাম উচ্চবিত্ত পরিবারে ঢুকিয়ে।তারপরেও মধ্যবিত্ত পরিবারের ৩০ জন ছাত্র।এই ১০ জন ছাত্রের জন্য কিন্তু বাকী ৩০ জন ছাত্রকে এক লেবেলে মনে করা কোন সুস্থ্য মস্তিষ্কের কাজ না।
আবার অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ছাত্রই ভাবতাছেনা।বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা নাকি Physics,Chemistry বানান লিখতে পারেনা আবার তারাই নাকি গর্ভ করে বলে যে,আমি উত্তর-দক্ষিন,পূর্ব-পশ্চিম বিশ্ববিদ্যালয়ে CSE,EEE পড়ছি।বাহঃ কি যুক্তি।দুনিয়ার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই সব জানে আর বেসরকারি গুলা কিছুই জানে না।এরা যে কেন ছাত্রর খাতায় নাম লিখাল বুঝে পাইনা।আচ্ছা পাবলিক ছাত্র ভাইয়েরা আপনারা কি জানেন কেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ছাত্রের খাতায় নাম লিখালো?আচ্ছা একটা উদাহরন দেই আমার চোখে দেখার কেমন?আমার এক বন্ধু কুমিল্লা মেডিকেলে চান্স পেল,রাজশাহীতে ‘ল’তে চান্স পেল,জগন্নাথেও পেল ‘ল’তে,ঢাবিতে পদার্থ বিজ্ঞান পেল।মানে যে কয়টা পাবলিকে ভর্তি পরীক্ষা দিছে সবকটাতেই সে চান্স পেল।কিন্তু সে ভর্তি হইনি।কারন তার স্বপ্ন মেরিনে পড়বে।কিন্তু মেরিনে চান্স না পেয়ে প্রাইভেটে ভর্তি হয়।সে কোন উচ্চবিত্তের ছেলে না।বরং মধ্যবিত্তের ছেলে।আশা করি আপনাদের মত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের থেকে তার যোগ্যতা কোন অংশে কম না।অপরদিকে আমারই আরেক বন্ধু ঢাবিতে চান্স পাওয়ার পর থেকে তার থেকে ভালো ছাত্রকে দাম দেয় না এড়িয়ে চলে।যেন তার পা মাটিতেই পরতে চায় না।এরকম হাজারো ছাত্র আছে যারা নিজের এবং পরিবারের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই প্রাইভেটে ভর্তি হয়।আর আপনি এমন কোন বড় প্রতিষ্ঠান দেখাতে পারবেন যেখানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যোগ্যতায় পৌছাতে পারে নাই?বরং আপনারা বিসিএস না পেলে হতাশায় ভুগেন।সেহেতু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও মেধাবী ছাত্র তা তাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আসন এবং যোগ্যতাই বলে দেয়।পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের একটা লাক।এখানে অনেক সময় কম তুলনামুলক ছাত্র চান্স পায় অন্যদিকে ভালোরা হতাশা হয়।
এখন আবার একদল স্লোগান,প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিরোধীতা করছেন।যেমন-জয় বাংলা ভ্যাট সামলা;গুলি কর ভ্যাট দিমুনা;নো মাল;দেহ চাইলে দেহ পাবি,মন চাইলে মন কিন্তু ভ্যাট চাইলে ভ্যাট দিমুনা।এগুলা কোন প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না।হ্যাঁ আমিও তাই বলি।কিন্তু প্রতিটা আন্দোলনেই এরকম অনেক ভাষার ত্রুটিগত ভুল দেখানো যাবে।অপরদিকে কিন্তু যে এই স্লোগানের মালিক তার কাছে কিন্তু সেটার সঠিক ব্যাখা পাওয়া যায়।তবে এটাও ঠিক যে,যেটা মানুষের মাঝে গ্রহনযোগ্য ভুলভাবে প্রকাশ পাবে সেটা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।কিন্তু এই সুশীলদের কিন্তু তখন প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না,যখন জয় বাংলা বলে বিশ্বজিৎ কে কুপিয়ে হত্যা করা হলো,যখন জয় বাংলা বলে শিক্ষকদের উপর হামলা করা হয়,যখন জয় বাংলা বলে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর হামলা করা হয়।যখন আপনার পাশের সিটে বসে পাকিস্তানের সাফাই গায় তখন আপনার মুখ চুপ থাকে কেন?তখন বাংলার অপমান হয় না।আমিও জয় বাংলা স্লোগান,মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান যেখানে সেখানে ব্যবহার করতে চাই না।তবে প্রতিবাদ করবেন ভালো,কিন্তু অন্যায় বেশী কোনটা?জয় বাংলা ভ্যাট সামলা নাকি জয় বাংলা বলে আক্রমন করা।আমার কাছে দুইটাই ঘৃন্য।তবে প্রতিবাদ করলে দুইটারই করতে হবে।শুধু মাত্র একটা যৌক্তিক আন্দোলনকে বাঞ্চাল করার উদ্দ্যেশেই আপনারা এসব বলতাছেন যে,জয় বাংলার অপমান করা হচ্ছে আন্দোলনের নামে।একটা কথাতো জানেন,মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্‍্যন্ত।আপনাদেরই ঐ কাঠ মোল্লার মতই অবস্থান নিয়ে আন্দোলন বিরোধী সাফাই গাচ্ছেন।
আবার একদল বলে বেড়াচ্ছে আন্দোলনরত ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বাস যাইতে দেইনি,এই নিয়েও অপবাদের শেষ নাই।এত বড় অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস আটকায় প্রাইভেটের লুতুপুতু পোল্ট্রি মুরগী গুলা।হায় হায়,একি হলো?প্রাইভেটের ছাত্রদের যদি পাবলিকের ছাত্ররা চিপায় চাপায় থেকে ধরে এনে মুরগী কাটা করে তবেই বুঝবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি?আরে ভাই থামেন,অনেক বকছেন,আন্দোলনে যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা করে তাদের বাসই যেতে দিতে হয়,তাহলে সেটা কিসের আন্দোলন?আন্দোলন মানেই অধিকার না আদায় হওয়া পর্যন্ত নিজেদের অবস্থানে অটল থাকা।উচিত ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আমাদের সাথে একত্রিত হয়ে আন্দোলন করার।বরং উল্টা সাফাই গাচ্ছেন।তার মধ্যে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট হ্যাক করছে আন্দোলনরত ছাত্ররা।হ্যাঁ,এটা অন্যায় করেছে তারা।কারন আন্দোলন মানে কারো ক্ষতি করা না।তারমধ্যে আবার ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে কিছুদিন পর।তবে এখানেও কথা আছে।আপনারা যারা সাফাই গাইলেন যে,বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা নাকি Physics,Chemistry বানান লিখতে পারেনা আবার তারাই নাকি গর্ভ করে বলে যে,আমি উত্তর-দক্ষিন,পূর্ব-পশ্চিম বিশ্ববিদ্যালয়ে CSE,EEE পড়ছি।আচ্ছা তারা এতোই মুর্খ বলে তিরষ্কার করলেন।কিন্তু তারা কিভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট হ্যাক করে?এথেকেও কি বুঝা যায় না,প্রাইভেটের ছাত্ররাও মেধাবী।কিন্তু আপনাদের মত যারা না বুঝে কথা বলে এবং সাফাই গায় তারাই গণ্ড মুর্খ।
এখন আসি ভার্সিটির অভ্যন্তরীন ব্যাপারে।অনেকেই বলছেন যে কিছুদিন পরপর যখন ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ টিউশন ফি বাড়ায় তখন তাদের আন্দোলন কোথায় যায়।তখন তারা কেন চুপ থাকে।হ্যাঁ কথায় যুক্তি আছে।কিন্তু একটু বাড়তি প্যাঁচাল পারি তবেই বুঝবেন।ধরেন আমি সামার সিজনে ভর্তি হইছি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে।তার আগে আরো একটা কথা জানিয়ে দেই,আমাদের কিন্তু টিউশন ফি নির্ভর করে ক্রেডিট ফি এর উপর।ধরেন আমি যখন ভর্তি হইছি তখন প্রতি ক্রেডিট ফি ১০০ টাকা।তার মানে আমার উপর ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ আমার উপর ক্রেডিট ফির টাকা বাড়াতে পারবেনা।অপরদিকে উইন্টারে যারা ভর্তি হলো তাদের ক্রেডিট ফি করল ১১০ টাকা।কিন্তু আমরা তখন আন্দোলন করি না।কারণ ভার্সিটি কর্তৃপক্ষের ক্রেডিটের দেওয়ার সামর্থ যাদের আছে তারাই ভর্তি হবে।অন্যদিকে আমরা এ নিয়ে কথা বলি না,এর অনেক কারনও আছে।যেমন জিনিসের দাম যে হারে বাড়ছে ঐ হারে না হলেও কিন্তু সব কিছুতেই ভার্সিটির খরচ বেশী বহন করতে হয়।কারন পাবলিক ভার্সিটির মত সরকারি কোন অনুদান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পায় না।অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়েরও অনেক উপযুক্ত খাত আছে।আর অন্য দিকে সব ভার্সিটি একসাথে ক্রেডিট ফি বাড়ায় না।তাই একসাথে কোন আন্দোলন করা হয় না।তবে ভার্সিটি কেন্দ্রিক অনেক সময় আন্দোলন হয় ফি নিয়ে।এতে অনেক সময় সফল এবং বিফল দুইটাই হয়।আশা করি আমার কথা বুঝতে পারছেন কি বলতে চাইছি।
আপনারা মানে সুশীল চাটুকারিতারা এখন সর্বশেষে যে খেলায় মেতেছেন তাহলো,জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং মাননীয় সরকাল স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে,”এই ভ্যাট প্রদান করবে মালিকপক্ষ,শিক্ষার্থীরা নয়।ভ্যাটের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আলাদা করে টাকা নেয়া যাবে না।“এই কথা বলার পরেও কেন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে এখনো?ও হ্যাঁ আপনি হয়তো এটা জানেন না যে,একটা আন্দোলনের ইস্যু ধরেই আরেকটা আন্দোলনের সূত্রপাত হচ্ছে।আর তা হলো ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ যে,এই ভ্যাট ছাত্রদের নিকট থেকে অন্য কোন উপায়ে যেন আদায় না করতে পারে কোন ফন্দি এটে এবং কিছুদিন পরপর যে ভার্সিটির টিউশন ফি না বাড়ায় তার জন্য যেন সরকারি কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
আবার অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এ আন্দোলনের সাপোর্ট না দেওয়ার কারন বলতাছে,তাদের নাকি অনেক প্রাইভেটের ছাত্ররা টিপ্পনী কেটে বলে তোরাত আমাদের টাকায় পড়স।কারন আমরা আমাদের ভার্সিটিতে টিউশন ফি দেই আর ওইখান থেকে আমাদের ভার্সিটির কর্তৃপক্ষ সরকারকে যে রাজস্ব দেয়,তা থেকেই সরকার তোদের খরচ চালায়।হুম কথা সত্যি,যদি এরকম কথা প্রাইভেটের ছাত্র বলে আপনাদের তাহলে কেন আপনারা আমাদের সাথে সামিল হবেন তাই তো।আমি যদি আপনাদের সাথে থাকতাম তাহলে আমিও হতাম না।কিন্তু কেন এই কথা প্রাইভেটের ছাত্ররা আপনাদের বললো?সেটা বলবেন কি দয়া করে?যাই হোক,আমি বলি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কেমন?প্রত্যেকটা পাবলিকের ছাত্রকে প্রাইভেটের ছাত্ররা এক্সট্রা একটা দাম দেয়।আমিও দেই,কারন পাবলিকের ছাত্ররা সত্যি ব্রিলিয়ান্ট হয়।কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমারা একে বারে জ্ঞানহীন।কিছু বুঝি না।টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট নিচ্ছি নামে মাত্র।ও কথা যেটা বলব সেটা হলো,আমি এবং আমার কিছু পরিচিত বড়ভাই বন্ধু মিলে ঢাকায় একটা বাসার ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকি।কিন্তু মাঝে মাঝে একটা পাবলিকের(ঢাবি) ছাত্র আসে আমাদের বাসায়।কারন সে আমাদের বন্ধু।যাই হোক সে মাঝে মাঝেই বলে প্রাইভেটে কি পড়ায় তোদের?প্রাইভেটে পড়া মানেই টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট কিনা।মানে এক কথায় সে আমাদের ছাত্রই ভাবে না।এই ভাবে কিছুদিন একই কথা ঘুরে ফিরে বলার পর একদিন এক বন্ধু বললো ওকে,তোরা কি বুঝবি প্রাইভেটের মর্ম।তোরাতো আমাদের টাকায় পড়স।আমরা আমাদের ভার্সিটিতে টিউশন ফি দেই আর ওইখান থেকে আমাদের ভার্সিটির কর্তৃপক্ষ সরকারকে যে রাজস্ব দেয়,তা থেকেই সরকার তোদের খরচ চালায়।ওকে এরকম কথা বলে সে ওই দিনের মত পাবলিকের ছাত্রকে দমিয়ে দেয়।কারন স্কুল,কলেজে পাবলিকের ছাত্রটা প্রাইভেটের ওই ছাত্রের থেকে অনেক খারাপ ছিল মেধায়।কিন্তু ওর পাবলিকে চান্স হলো আর ও প্রাইভেটে ভর্তি হলো।এই হলো আপনাদের মত পাবলিকের ছাত্রদের মানসিকতা।এটা শুধু আমি না,আপনাদের অহংকার দেখে,সবাই বলে যে আপনাদের পা মাটিতে পরতেই চায় না।এই ব্যাপারে আপনার কাছের বন্ধুই আপনার খবর ভালো রাখে।এখন বলতে পারেন এই দুই একজনের জন্য সবাই কে এক করা কোন সুস্থ্য মস্তিষ্কের কাজ না।আমিও তাই বলি।কিন্তু আপনারাইতো এমনটা শিখাইলেন আমাকে।
অল্প জ্ঞানে যা মাথায় ধরে,ভ্যাট অহরহ ফাঁকি দেয় এরকম অনেক খাদ রয়েছে।কিন্তু সরকার সে দিকে নজর না দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে দিল কেন?যাই হোক তবে কিছুদিন আগে কি যেন একটা,মানে ব্যাংক সংক্রান্ত ঝামেলায় আমাদের মন্ত্রী মহোদয় বলছিল যে,৩০০/৪০০ কোটি কোন টাকা না।তাহলে এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থেকে যে ভ্যাট আসবে সেটাও কোন টাকা না বলে বাতিল করে না কেন?
সর্বশেষে একটা কথাই বলব সকলের উদ্দ্যেশে যে,যে কোন যুক্তিসঙ্গত এবং গ্রহনযোগ্য আন্দোলনকে সকল স্তরের মানুষের সাপোর্ট দেওয়া প্রয়োজন।হোক সেটা রাজনৈতিক,সুশীলতা কিংবা যে কোন অনৈতিক আন্দোলনের পথে সকলের একত্রিত হওয়া।আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উদ্দ্যেশে বলব,বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়ে তাদের মাঝে প্রচুর পরিমানে মেধাবী আছে।সেহেতু আপনাদের অহংকার কমান।
[কেও ব্যক্তিগত ভাবে লিখাটা নিবেন না,তবে তারা যারা এই আন্দোলনের বিরোধী সাফাই গাচ্ছেন তারা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই নিতে পারেন।]
অ.টঃভ্যাট আর ট্যাক্সের পার্থক্য কেও জানলে একটু জানাবেন দয়া করে।

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong> metformin gliclazide sitagliptin

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

clomid over the counter
missed several doses of synthroid
amiloride hydrochlorothiazide effets secondaires