সংবাদ ভ্যাট সম্পর্কিত কিন্তু সমস্যার অন্তরালে শুধুই অজ্ঞতা ও অবহেলা!!

181

বার পঠিত

বেশ কয়েকদিন যাবৎ বাংলাদেশে একটি ইস্যু নিয়ে অনেক কানাঘুষো চলছিলো। কেউ অন্য রকম তীব্র যন্ত্রণা থেকে বলছিল আর কেউ বলতে হয় তাই বলছিল। কিন্তু সকল কানাঘুষোর চূড়ান্ত দুই দিন আগেই দেশের মানুষ দেখেছে। দেশের সকল নিউজপেপারের প্রধান শিরোনাম ঠিক তেমনটারই ইঙ্গিত দেয়। cialis new c 100

“বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আরোপিত ৭.৫ % ভ্যাট বন্ধের দাবিতে ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির আন্দোলনে পুলিশের গুলি, আহত আন্দোলনরত একজন শিক্ষক”! এই ধরনের শিরোনাম গতকাল মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের সকল সংবাদমাধ্যম, টেলিভিশন চ্যানেল বা ফেসবুকের মত সামাজিক মাধ্যমে। এরই রেশ ধরে এই কয়দিন শিরোনাম “বিক্ষোভে অচল ঢাকায় চরম ভোগান্তি”।

viagra en uk

এই শিরনামগুলোকে কেবলই তথাকথিত সংবাদ ভাবলে ভুল হবে। সংবাদের গভীরে যাবার আগে একটু দুই যুগ পিছন থেকে ঘুরে আসি। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শুরুর দিককার সময়। যখন উচ্চ শিক্ষা বলতে পাবলিক ইউনিভার্সিটিকেই বোঝানো হত। আর সাথে ছিল জাতীয় ইউনিভার্সিটির মত এক প্রকার উৎপটান শিক্ষা ব্যবস্থা। যেখান থেকে একজন শিক্ষার্থীকে পড়াশুনা শেষ করে বের হতে হতে চুল দাঁড়িতে পাকন ধরে যেত। একটা সময় শিক্ষাকে আরও তরান্বিত করার লক্ষে দেশে প্রাইভেট নামক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবির্ভাব ঘটে। এখানে প্রশ্ন দুইটা। এক, কেন পাবলিক ইউনিভার্সিটি থাকা সত্ত্বেও জাতীয় ইউনিভার্সিটির পদচারণ? দুই, কেন এই দুইটা থাকা সত্ত্বেও প্রাইভেট নামক শিক্ষা ব্যবস্থার আবির্ভাব? কেন?

উত্তরটা এক বাক্যে দেওয়া টা খুবই কঠিন। লিখতে শুরু করলে কয়েক পৃষ্ঠা শেষের সাথে সাথে লেখাটা মুল বিষয়ে আসার আগেই লেখকের সকল এনার্জি নষ্ট হবার সমূহ সম্ভবনা রয়েছে। তাই কয়েক বাক্যে দেবার চেষ্টা করা যেতে পারে। ইবনে বতুতা এই দেশে ভ্রমণে এসে উক্তি করে বলেছিলেন, “এই বাংলার মাটি এতটাই উর্বর যে, পাখির বিষ্ঠা থেকেও নতুন গাছ গজিয়ে যায়”। এরপর হুমায়ূন আজাদ আর একটু রস মিশিয়ে উক্তি করেছিলেন, “উর্বর মাটির সাথে সাথে এ দেশের মানুষের শিশু গর্ভধারণও অনেক বেশি উর্বর।” হ্যাঁ, রসিকতা হলেও ঘটনা সত্য। এখন কথা হচ্ছে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াটা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তির ভিতরে পড়ে। আর সেই এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হোল শিক্ষা। এখানে উল্লেখ্য, “আপাত দৃষ্টিতে শিক্ষা; সঠিক কি ভুল সেটা পরের বিবেচ্য।” তাল মেলাতে শুরু হোল শিক্ষা শিক্ষা খেলা। উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডী পার হয়েই শুরু যুদ্ধ। প্রথম চয়েজ পাবলিক ইউনিভার্সিটি। অনেকের আবার এমন যে পড়তে এখন ঢাকা বা অন্য খানে যেতে হবে, তার থেকে বাড়ির পাশে অমুক ডিগ্রি কলেজ আছে ওখানেই ভর্তি হয়ে যায়। পাশ করাটায় মুখ্য। পিঠে একটা সার্টিফিকেট তোঁ লাগবে। এটাই বা কম কিসের। এর মধ্যে কিছু থেকে যায় যাদের পাবলিকেও যায়গা হয় না, জাতীয় তেও পড়তে মন সাই দেয় না। তাদেরকে সাপোর্ট দেবার ছদ্মনামেই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির আবির্ভাব ঘটে। শুরু হয় শিক্ষা নিয়ে সবার অগোচরে রমরমা একটা ব্যবসা! প্রথমে উচ্চবিত্তদের টার্গেট করে এটা গড়ে উঠলেও, পরে সেটা এই গণ্ডী পার হয়ে উচ্চ মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্ন মধ্যবিত্তদের কাতারে চলে আসে। তাদের দোষ দেয়াটাও এক ধরেনর বোকামি। প্রত্যেক মা বাবায় চায় তাদের সন্তান ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বড় অফিসার হউক। আর সে জন্য প্রয়োজন হলে জায়গা জমি যা আছে সব বিক্রি করে দিতেও দ্বিধাবোধ করে না। উল্লেখ্য, “সন্তান সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে কিনা সেটা ঠিক কতটা বিবেচ্য, সে বিষয়ে দ্বিধা থেকেই যায় ”। এভাবে প্রথমে সঠিক শিক্ষার খোঁজে পাবলিক ইউনিভার্সিটি, পরে অতিরিক্ত জনসংখাকে তথাকথিত শিক্ষিত করার প্রয়াসে জাতীয় ইউনিভার্সিটি, এরপর অবশেষে শিক্ষাকে পণ্য করে সেটা চড়া দামে অতি উৎসুক জনগনের মাঝে বিক্রি করা। এখানে কয়েকটা সমস্যা নোট করে নিয়া যেতে পারে।

১) ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত জনসংখ্যা।

২) শিক্ষাকে পণ্য মনে করে ব্যবসায়িক এক মনোভাব।

৩) সর্বোপরি সরকারের দূরদর্শিতার অভাব।

উল্লেখ্য, “পয়েন্টগুলো মাথায় ঢোকানোর বিনীত আবেদন করা হচ্ছে।”

 

এখন তাহলে মুল সেই ৭.৫ % ভ্যাট সম্পর্কিত সংবাদের ভীতর থেকে ঘুরে আসা যাক। তাহলে চলুন পাঠক গন।

প্রথমেই একটা ছোট গল্প বলি। এক দেশে ছিল এক রাজা। রাজার একদিন একটি ছেলে হোল। ছেলের গায়ের রঙ কিছুটা কৃষ্ণ বর্ণ। কিন্তু রাজ্যে রটিয়ে গেল রাজার নাহ একটা কাক হয়েছে!! এই ধরনের পুরাণ রসিক গল্পের মত উদ্ভট চরিত্রের মানুষদের এক জীবন্ত উদাহরণ এখনো এই মর্তে বিরাজ করে। কি ভাবছেন বলুন তো, আরে ভাই সেটা আমরাই! যে কোন গল্পে রস না মেশালে আমাদের বাঙ্গালীদের কবে রাতের ভাত হজম হইছে! আর সেই রস মেশাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত এক একটি সাধারন সংবাদকে মুহূর্তে করে দিচ্ছি এক বড় প্রোপ্যাগান্ডা।

ভাবছেন এই সংবাদের সাথে এই গল্পের মিল কোথায়! মিল তোঁ অবশ্যই আছে। সরকার দেশ চালায়। তারা প্রতিটি পণ্যের বিক্রয়ের উপর যদি ভ্যাট ধার্য করে সেটা দোষের কিছু নয়। কেননা এই ভ্যাট ই একটি দেশের উন্নয়নে অনেক অবদান রাখে। ব্যাপারটা স্বাভাবিক এবং খুবই স্বাভাবিক। এদিকে পান, বিড়ি, বিস্কুট, লজেন্সের মত শিক্ষাকে তো আমরাই পণ্য করেছি। উল্লেখ্য, “এখানে আমরা বলতে সাধারন জনগন, ব্যবসায়ী বা সরকার সকল কেই বোঝানো হয়েছে”। এখন সেই সরকার যদি পণ্য হিসাবে শিক্ষার উপর ভ্যাট ধার্য করে তাহলে অন্যায় টা কোথায় ? এখন বাংলাদেশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড খুবই স্পষ্টভাবে তাদের নোটিশে উল্লেখ করেছে যে,

১) নতুন করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়ের লক্ষে ভ্যাট আরোপ করা হয় নায়।

২) বিদ্যমান টিউশন ফি সের মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত।

৩) ভ্যাট বাবদ অর্থ সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করার দায়িত্ব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের, কোন ক্রমেই শিক্ষার্থীদের নয়।

৪) বিদ্যমান টিউশন ফিসের মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় টিউশন ফিস বাড়ার কোন সুযোগ নেই।

এই নোটিশ পড়ার পর রাজার কাক হইছে বা কান চিলে নিয়ে গেছে মনে হচ্ছে।  উপরের চারটি পয়েন্ট পড়লে সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণীর বাচ্চারাও বলে দিতে পারবে যে, ভ্যাট দিবে ইউনিভার্সিটি, স্টুডেন্ট নয়!!

কিন্তু, মাঝখান থেকে হোল টা কি? ভ্যাটের নোটিশ পেয়েই প্রতিটা ইউনিভার্সিটি তাদের ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে মোটা অংকের একটা টাকা হাতিয়ে নিতে শুরু করল। মাঝখান থেকে কিছু শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করল, আবার মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে পুলিশ ভাইয়েরা তাদের উপর গুলি চালালো! এরপর সেই ভ্যাট বন্ধের দাবিতে ছাত্রছাত্রী ঢাকার বিভিন্ন সড়ক বন্ধ করে দিল! আপাত দৃষ্টিতে ইহা একটি নিছক কৌতুক ছাড়া কিছুই নয়।

কিন্তু, ঘটনার অন্তরাল বিশ্লেষণ করলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তাহলে আরও একটু গভীরে যাওয়া যাক কি বলেন। আবার একটি কাহিনী বলব, কিন্তু বাস্তবিক। আমাদের দেশে ব্যবসায়ী নামক এই তথাকথিত শ্রেণীর মানুষদের ব্যপক সমস্যা আছে। এক প্রকার ওৎ পেতে বসে থাকে কখন সরকারী মন্ত্রণালয় থেকে কোন একটি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করবে। বিড়ি সিগারেটের দোকানী থেকে বড় বড় ব্যবসায়ী সকলেই এক ঘাটের জল। এই ধরুন, সংবাদপত্রে নিউজ হোল আগামীকাল বাজেটে বিড়ি বা পানের দাম বাড়তে পারে, অবাক করার বিষয় তৎক্ষানক নিজেদের ইচ্ছামত এই সকল পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় সবাই। এটা খুবই প্রচলিত একটা ইস্যু আমাদের দেশে। যদিওসরকার পর্যায় থেকে সেই পণ্যের মূল্য তখনও বৃদ্ধি করা হয় নাই। তারপর ও একদল নিয়ে নিচ্ছে অন্য দল দিয়ে যাচ্ছে।শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম কিছুই নয়।

এখানে পক্ষ তিনটা। সরকার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আমার আপনার মত সাধারন জনগন। দোষ কার? একটু ভাবুন, ভাল করে ভাবুন। কেউ বলবেন, জনগনের। কেউ আবার সরাসরি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দিকে আঙ্গুল তুলবেন। আর বাকি সংখ্যা গদ বাধা একই কথা সরকারের দোষ। এইভাবে অজ্ঞতার সাথে এঁকে অন্যকে দোষারোপ করার প্রবণতা বন্ধ করা উচিৎ। এই রকম সমস্যায় গভীরে আনার কারন একটায়, নতুন করে ভাবতে শেখা। তবে বাস্তবতা এটাই যে, এই সমস্যার জন্য সকলেই ওৎপ্রোত ভাবে জড়িত। metformin synthesis wikipedia

প্রথমেই আসা যাক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে। তাদের অন্যায় টা কোথায়? তারা তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের মুখোশ পরে থাকলেও স্বভাব চরিত্র চা, পান, বিড়ির দোকানদার ব্যবসায়িক মনমানসিকতা থেকেও অতিরিক্ত নিচ। তারা ভদ্রতার মুখোশের নিচে শিক্ষাকে বিক্রি করে প্রতি চার মাস অথবা ছয় মাসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এরপর ও তারা সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।   একটু আগে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ঘোষণা করেছে যে, তারা ভ্যাটের নাম করে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দিবে! প্রশ্ন হোল, টাকাটা নেয়া হয়েছেই বা কেন? এই নোটিশ তো তারাও পড়েছিলেন। কিন্তু তারা যেহেতু সকল প্রকার ধরা ছোয়ার বাইরে সুতরাং এই রকম বুঝে শুনে গর্হিত কাজ করা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে কি হবে না সেটা সব সময় পর্দার অন্তরালে থেকে যাবে।

দ্বিতীয় কাতারে সকল দোষের দোষী সরকার। তাদের সমসসাটা যে কি সে ব্যাপারে আলোকপাত করতে হলে অনায়াসে দুই তিনটা মহাগ্রন্থ লিখে ফেলা যাবে। সেই রিস্কে নাই গেলাম। সাম্প্রতিক এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বলতে গেলে বলা যায় এখানে সরকারের কোন এক অজানা কারনে দুর্বলতা আর দূরদর্শিতা অভাব অনেক বেশি দৃশ্যমান। আসলে এক পক্ষ নির্বাচন এ টাকা দেয় আর এক পক্ষ নির্বাচনে ভোট দেয়। সরকারের দুর্বলতাটা টাকার কাছে নাহ মানুষের কাছে সেটা নতুন করে বলার কিছুই নাই। তবে এই সরকারের অন্যান্য যে কোন সময়ের থেকে বা অন্যান্য যে কোন সরকার থেকে অনেক বেশি দায়িত্ব পালন করতে হবে। আর সেই দায়িত্বটা যদি মানুষের জন্য না হয় তবে তার খেসারৎ তাদেরই দিতে হবে।

শেষ আঙ্গুলটা তুলি নিজের দিকে, তোমার দিকে, আপনার দিকে, আমাদের দিকে, তোমাদের দিকে। আমাদের সমস্যাটা কি?? মাঝে মাঝে বিভিন্ন জাতীয় সমস্যায় আমার কেন যেন মনে হয় আমার সেই সমস্যা নিয়ে বন্ধুদের আড্ডায়, চা এর দোকানে, অফিসে কাজের ফাঁকে গাল গপ্প জুড়ে দিতেই ভালোবাসি। প্রতিযোগিতাটা এমন যে, একই সমস্যাকে কে কত সুন্দর ও নিখুঁতভাবে গল্প আকারে বলতে পারি। সমাধান নিয়েও যে গাল গপ্প হচ্ছে না তা কিন্তু নয়। সমাধান দিতে গিয়ে যেটা হচ্ছে সেটা আরও ভয়ংকর। যে যার বিশ্বাস, আদর্শকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে মন গড়া সব সমাধানের কথা বলে যাচ্ছে। যেগুলো আপাত দৃষ্টিতে হয়ত ঠিক কিন্তু একটি রাষ্ট্র বা ১৬ কোটি মানুষের হিসাবে রীতিমত ভয়ংকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। side effects of drinking alcohol on accutane

তার মধ্যে থেকে এখনো অনেকে আছেন যারা সকলের কথা মাথায় রেখেই একটি সার্বজনীন সমাধানের পথ বের করে। আর তাই হয়ত আজও বাংলাদেশ টিকে আছে স্বমহিমায়। আজও হয়ত মনের ভিতর থেকে অনুভব করি, অনেক ভালোবাসি এই দেশটাকে !!

missed several doses of synthroid
synthroid drug interactions calcium

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

tome cytotec y solo sangro cuando orino
all possible side effects of prednisone