এক দৌলা মিয়া

140

বার পঠিত

দৌলার জন্ম কুমিল্লা জেলার শালদানদী গ্রামে। দীর্ঘাকৃতি,স্বাস্থ্যবান এবং শক্তসামর্থ দেহের অধিকারী কর্তব্যে সদা নিবেদিতপ্রাণ আমাদের এই দৌলা। চোখে তার লালমাইয়ের বুনোতা। একাত্তরে আমাদের যেকয়টি রণক্ষেত্র পুরো নয় মাসজুড়ে উত্তপ্ত ছিলো তার মধ্যে ছিলো ফেণী-বিলোনিয়া, কামালপুর এবং আমাদের দোলার এই গ্রাম শালদানদী।

দেশ কি? পৌরনীতি,সমাজনীতির কঠিন সেই সংজ্ঞা দৌলা বোঝেনা, দেশ বলতে চেনে সে শুধু নিজ গ্রামকেই, গ্রামের ছোট্ট নোংরা পুকুরকে, বাতাসে সবুজ ধানক্ষেতের সোনালী শীষগুলোর থির থির কাঁপনকে। কিন্তু দৌলা চেনে খাকী পোশাকের সেই পাইয়্যাদের, বোঝে তারা শত্রু,তারা হানাদার, তাড়াতে হবে তাদের এই বাংলার মাটি থেকে ; প্রয়োজনে উৎসর্গ করতে হবে প্রাণ।

যুদ্ধ শুরু হবার পরপরই তাই নিজ স্ত্রী আর কন্যাকে পাকিস্তানীদের কৃপায় ছেড়ে নিজে চলে আসে মুক্তিযুদ্ধে । ক্যাপ্টেন মতিনের অধীনে রচনা করে একের পর বিজয়গাঁথা। কিন্তু একদিন কী যে ভূত চাপলো সেই বোকাটার মাথায় কে জানে? স্ত্রী-কন্যার শোক ভুলতেই হয়তো বা এক অপারেশনে গিয়ে চা-বাগানের শ্রমিকদের দেশী মদ পান করে অপ্রকৃতস্থ হয়ে পড়ে দৌলা। পাকিস্তানীদের যম দৌলা নিজের প্রিয় এসএমজিকে বাগিয়ে ধরে সঙ্গী মুক্তিযোদ্ধাদের দিকেই। ক্যাপ্টেন মতিন প্রজ্ঞার সাথে নিরস্ত্র করেন মাতাল দৌলাকে। venta de cialis en lima peru

বিশ্বের অন্যান্য সুপ্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর আদলে আমাদের মুক্তিবাহিনীও ছিল কিছু সামরিক নিয়মনীতির অধীনে এবং সামরিক আইনে দৌলার এই কর্মকাণ্ড ছিলো মৃত্যুদন্ড যোগ্য অপরাধ। মেজর শফিউল্লাহ অত্যন্ত ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন দৌলার এই কর্মকান্ডে। মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে আদেশ দেন তার সেক্টর এরিয়া ছেড়ে চলে যেতে। মুক্তিবাহিনী ছাড়তে হবে,দেশের জন্য যুদ্ধ করতে পারবে না এই দুঃখে হু হু করে কেঁদে ওঠে দৌলা। এযে মৃত্যুদণ্ড থেকে বড় শাস্তি তার জন্য। কাতর কন্ঠে দৌলা বলে,”স্যার, আমাকে একবার সুযোগ দিন,যদি আমার আরেকবার ভুল হয় আমাকে কিছু না বলেই গুলী করবেন।” দয়াপরবশ হয়ে শফিউল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিয়ে লেঃ মোর্শেদের কোম্পানীতে নিয়োগ দেন।

এর কিছুদিন পর মেজর শফিউল্লাহর সাথে দৌলার আবারো দেখা হয়। এবার দৌলা পড়ে আছে রক্তের ডোবায়,ডান হাত মেশিনগানে, বাম হাতে চেপে আছে পেট কারণ গুলিতে ঝাঁঝড়া হয়ে সেখান দিয়ে বেড়িয়ে আসছে আঁত,পা দুটোও ক্ষতবিক্ষত গুলির আঘাতে। শত্রুদের লাইন অফ ফায়ারে পরেও গুলি থামায়নি আমাদের দৌলা, কভার দিয়ে গেছে মুক্তিবাহিনীকে অসীম সাহসিকতার সাথে। তখনো বেঁচে ছিলো আমাদের দৌলা মিয়া।

শফিউল্লাহকে দেখে ‘জয় বাংলা’ জয়-ধ্বণি করে সে বলে,” স্যার আমি তো আর বাঁচবানো, মুক্ত স্বাধীন দেশ আমার দেখে যাওয়া সম্ভব হবে না। আমার এই রক্তমাখা শার্ট আপনি দেশ স্বাধীন হবার পর শেখ মুজিবকে দিয়ে বলবেন যে আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। আপনার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ যে সেদিন আপনি আমাকে আমার যোগ্যতা প্রমাণ করবার সুযোগ দিয়েছিলেন।” একই সাথে তার অনুরোধ ছিলো মুক্ত-স্বাধীন দেশের মাটিতেই যেন হয় তার শেষ আশ্রয়।

দৌলা বেঁচে যায় সেই যাত্রায়, অপারেশন এবং চারমাস হাসপাতালে থাকার পর পুরোপুরি চিকিৎসা শেষ হবার পূর্বেই সবার নিষেধ সত্ত্বেও সে ফিরে আসে যুদ্ধক্ষেত্রে, হানাদার বদে আরো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে। সেক্টর হেডকোয়ার্টারে কাজ করে কাটায় যুদ্ধের পুরোটা সময়।

দেশ মানেই দৌলা মিয়ার কাছে এক তাল কালো কাঁদা মাটি । সেই মাটিকে বুঝি এভাবেই ভালবাসতে হয়? আমরা আজ অনেক আধুনিক। মুক্তিযুদ্ধ? হ্যাঁ, দুই চারটা গুলি হয়তো ফুটেছিল,তাতেই দেশ স্বাধীন । এই নিয়ে এত বছর পর কথা বলার কি আছে, সামনে তাকাতে হবে বুঝলেন। গ্লোবালাইজেশন,কর্পোরেশন, ব্রান্ডিং কত কঠিন কঠিন শব্দ ভাসে বাতাসে আজ। আজ কোথায় আমাদের সেই দৌলা মিয়া? বেঁচে আছে হয়তো বা লজ্জায় মুখ লুকিয়ে- আল্ট্রা আধুনিক নাক সিঁটকানো মানুষের মাঝে গেঁয়ো বেশে, মরে গেলও মরেছে নিবৃত্তে,কাউকে কষ্ট না দিয়ে । will i gain or lose weight on zoloft

অচেনা সেই মুক্তি যোদ্ধা হারিয়ে গেছে হয়তো! স্মৃতি গুলো রয়েছে আজো! রইবে চিরদিন!

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন * zoloft birth defects 2013

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

para que sirve el amoxil pediatrico

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

doctorate of pharmacy online