স্বপ্নের খোঁজে

194

বার পঠিত

মানুষটার সাথে পরিচয় আমার কোনো কালেই ছিলোনা! প্রথম পরিচয় রিফিউজি ক্যাম্পে!
হঠাৎ হঠাৎ কোথা হতে উদয় হতো! পিছে দু বস্তা চাল, 2 টিন তেল আর সামন্য চালনীতে পেঁয়াজ!
পেঁয়াজ গুলো রেখেই আমগাছের নিচে বসে খানিকটা জিরিয়ে নিতো! পুরো রিফিউজি ক্যাম্প সারাক্ষম গমগম করে! সকাল বিকাল খাওয়ার সময় এলেই সবার ডাক পড়ে!

সবাই সারিবদ্ধ ভাবে বসে পড়ে! দুটো মগ দিয়ে সদ্য পাকানো হলদে চালের পানি বিলোয়! কারো প্লেটেই খানিকটা বাড়ে না! একমুঠো চালের খিচুড়ি বহু আরাধ্য! সবাই চেটে পুটে খায়!

এক বৃদ্ধাকেও প্রায়ই দেখতাম! গালের চামড়া ঝুলে গেছে! কিছুক্ষণ পরপর মাছি উড়তে থাকে! হাত দিয়ে তাড়ানোর শক্তি ও নেই! মাছি নির্ভয়ে গালের উপর বসে পড়ে!

একটা ছোট্ট বাচ্চা মেয়েকেও দেখতাম! ছোট্ট ভাইটার সাথে খেলতো! গায়ে কালচে ধরা ফ্রক! উপরে সুতা দিয়ে বাড়তি লাগানো ফুলটি নেই তবে দাগ আছে!
একদিন মেয়েটিকে ডেকেছিলাম! মেয়েটি চুপিচুপি পায়ে আসলো! আমি ওর ফ্রকটার দিকে তাকিয়ে বললাম “ফুলটা কোথায়”?

মেয়েটি খানিকক্ষণ তাকালো! একটু লজ্জা পেলো বোধহয়! আবার আমার দিকে তাকিয়ে বললো ঝরে গেছে!

ওও! কাপড়ের ফুল ঝরে যায়?
হুম ঝরে যায় যখন ফুটো হয়!

মেয়েটি চলে গেলো! আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম!! metformin tablet

আমি ঘুমোতাম রিফিউজি ক্যাম্পের রান্না ঘরের পাশে একটি ঘরে! আমরা মোট 7জন রিফিউজি ক্যাম্পে খাবার দেখাশোনা করতাম!

সকাল হলে মাঝেমাঝে টং দোকানের সামনে গিয়ে বসতাম! টং দোকানী দু কাপ চা এগিয়ে দিতেন! এক দেড় বছরের আগের পাতা! গরম পানিতে চা পাতা গুলিয়ে দিতেন!

মাঝেমাঝে পিছন দিক দিয়ে দূরে দেখতাম! বিশাল মাঠে অসংখ্য তাঁবুর চট!

ছোট্ট মেয়েটির সাথে শেষ দেখা হয়েছিলো শেষ বুধবারে! ওর ছোট্ট ভাইটির নাকি হঠাৎই বমি করছে! আমি আর ডাক্তার দৌড়ে গেলাম! রাত থেকেই নাকি ডায়রিয়া ছিলো! শিশুটির গালের একপাশ অন্যপাশের সাথে লেগে গেছে! পুরো শরীরের হাড্ডি দেখা যাচ্ছিলো! পাঁজর নেই বললেই চলে!

ডাক্তার খানিকক্ষণ দেখে বললো অবস্থা খুবই খারাপ!

মেয়েটির তাঁবুর এককোনে বসে রইছে! দুপাশে নারিকেল আর বালুর মালা দিয়ে হয়তো কিছুক্ষণ আগে খেলছিলো! হঠাৎই দৌড়ে একটু দূরে গিয়ে মন খারাপ করে বসে রইলো! can your doctor prescribe accutane

2দিন পরে আমাদের আমি সহ তিনজন চলে যাবো! সবাই রান্নার জিনিসপত্র বুঝিয়ে দিতে লাগলো!

আমরা যেদিন চলে যাবো ঐদিন দেখলাম মেয়েটি চুপটি করে ওদের তাঁবুর একপাশে বসে আছে! আমি ডাক দিলাম! তাকালোনা! glyburide metformin 2.5 500mg tabs

একবারে সামনে চলে গেলাম! মেয়েটি একটু সরে গেলো.! ফিরেও তাকালো না! আমি এগিয়ে গেলাম! মেয়েটি এবার সরলো না!

মেয়েটি কাঁদছে! কাঁদছ কেনো?

আমাদের বাবু আজ সকালে মারা গেছে!
কি বলো! চলো ভিতরে চলো!

সদ্য মৃত শিশুটিকে পাশে রেখে মা কাঁদছেন!! ক্রমশ ভারী হয়ে আসছে আমার চোখ! যুদ্ধে র সময় কাঁদতে নেই! কতো শিশুই তো মারা যাচ্ছে! এই শিবিরে প্রতিদিনই প্রায় পঁচিশ জন শিশু মারা যায়!

আমি চোখ মুখ ধুলাম! শরীরটা খুব ক্লান্ত লাগছে! একটু পরই বেরোতে হবে! para que sirve el amoxil pediatrico

আমরা যখন চলে যাচ্ছি তখন বৃদ্ধা র তাঁবুর দিকে তাকালাম!
কাউকে দেখলাম না!

হয়তো কখনো আর দেখা হবেনা! লোকটি নাকি চলে গেছে ক্যাম্প ছেড়ে! viagra in india medical stores

আমি রাস্তা য় চলে এসেছি! আমার চোখে এখনো ছোট্ট মেয়েটির কান্না ভাসছে!

———–
—————-

অনেকদিন ধরে জোসনা দেখিনা! কাজের চাপে জোসনা দেখা হয়না! সন্ধ্যা য় একটা অপারেশন শেষ করে এসেছি! আজ আর কোনো কাজ নেই!

মতি ভাই, নাসির কে আজ আমরা হারালাম! ইদানীং কেউ মারা গেলে কষ্ট লাগেনা!

সেদিন বাজারের পাশ দিয়ে আসছিলাম! বাজারের পাশে নদীর পাড়ে কিছু লোকের ভিড়!

ভিড় ঠেলে সামনে এগিয়ে গেলাম! লোকজন এখনো জটলা করে আছে!

কি হইছে ভাই?
লাশ ভাই লাশ! নদীতে লাশ ভাসছিলো!
কয়ডা?

সাতখান!
ওও! প্রতিটি লাশের পিছন থেকে দুহাত বাঁধা!
মাঝ বরাবর বুলেট ঢুকেছে! পুরো এফোঁড় ওফোঁড়! viagra en uk

সময়ের সাথে সাথে কত কিছুই না বদলে যায়!

জালাল ভাই পাশে এসে বসলেন! ক্যাম্পের পিছন দিকে অথৈ প্রান্তর! পুরো খালি জায়গাটিতে যেনো স্বর্গ নেমে এসেছে! পুরো পৃথিবী জুড়ে পূর্ণিমা র জোসনা তাল মেলাচ্ছে! দূর থেকে সুদূর প্রান্তর!

কতো কিছুই না এই পৃথিবী তে হারালাম! প্রাপ্তি র খাতা এখনো ফাঁকা!

মাকে খুব মনে পড়ছে! মা হয়তো নেই! হয়তো আছে! এতোক্ষণে মা যদি থাকে হয়তো ঘুমিয়েই পড়েছে! রাত আটটা না বাজতেই আমাদের গ্রামটা ঘুমিয়ে পড়তো! মা চেরাগ পাশে রেখে কাঁথার উপর আলপনা করতো!

মাকে শেষ চিঠি লেখেছিলাম গত মাসে!
এখনো কোন উত্তর পাইনি! হয়তো কোনো এক মাসে আমিও হারিয়ে যাবো! হয়তো কখনো আর দেখা হবেনা!

ক্যাম্পে রসদ আসেনা কয়েকদিন যাবদ! দুদিন আগে পাশের গ্রামের এক লোক পাঁচটি মোরগ এনে দিয়েছে! ক্যাম্প কমান্ডার প্রথমে দেখেই জিজ্ঞেস করলো আপনাদের লাগবে না?

না স্যার! আমরা ইন্ডিয়া চইলা যামু কাইল! দুইবার হামলা হইছে বাড়িত!

আর পারিনা!!

ওও! যাওয়ার সময় কি নিবেন?
তেমন কিছু নিমু না! আপনেরা ডাব টাব পাইড়েন!

যুদ্ধ শেষ হইলে ফিরুম! তহন তো বাংলা স্বাধীন হইবো না কমান্ডার সাব?

জ্বি!

আইচ্ছা আসি!

লোকটি চলে গেলো! আমি অবাক চোখে লোকটির দিকে তাকিয়ে রইলাম! কাল আমাদের রসদ শেষ হতো!

গতকালের অপারেশনে আরো দুজন চলে গেছে! এখন আমরা সাতাশ জন! অথচ এক সপ্তাহ আগেও ছিলো তেত্রিশ জন!

অথচ আমার সামান্য মন খারাপ হয়েছে!

হয়তো কোন এক আশা এখনো বুনি! about cialis tablets

——-
—————

মজিদ মিয়ার সাথে কথা বলে বের হলাম! মজিদ মিয়া আমার আত্মীয় না! ভাই ও না! দূরের কারও আত্মীয় ও হয়না! তবুও আমরা ভাই! একটা মুহূর্তে আমরা ভাই হয়েছি!

মজিদ মিয়ার পায়ে গুলি লেগেছে! একটা বের হয়েছে আরেকটা এখনো পায়ে আছে!
এক খাবলা গোশত উড়ে গেছে পায়ের একপাশ থেকে! রক্ত বের হয়েছিলো অনেকক্ষণ কিন্তু এখন আর রক্ত বের হবেনা!

ক্যাম্পে ঔষধ নেই! কয়দিন আগেই ঔষধ এনেছিলো কিন্তু পরশুর অপারেশনে চারজন শহীদ হয়েছেন আর পাঁচজনের পা কাটতে হয়েছে! লুলা, ফয়েজ, রতন, চেরাগ আলী আর মজিদ মিয়া! পাঁচজনের নাম মুখে মুখে!

গতকাল তরাব চাষী মারা যাওয়ার পর থেকে একটা বারের জন্য ও কথা বলেননি কমান্ডার! তরাব চাষী সারাক্ষণ কমান্ডারের পিছেপিছে ঘুরঘুর করতো! অথচ তরাব চাষী মরার আগে যেবার পানি চাইলো কমান্ডার সাব যেনো নুয়ে পড়লো! অনেকের চোখে অবাক ঠেকলেও আমি অবাক হইনি!

মজিদ মিয়ার পা গামছা ছিঁড়ে একাংশ দিয়ে বাঁধা হয়েছে! ডাক্তার যখন পা কাটছিলো মজিদ মিয়া অবাক হয়ে পায়ের দিকে তাকিয়ে রইলো! দেখলাম চোখ দুটো থেকে কোনো জলই পড়ছে না!

ডাক্তার একটু পরপর বলে “এইটা গোশত নাকি পাথর! কাটে না কিল্লে! আঁর ছুরি ভোঁতা অঁই যাইবো!

ডাক্তারের অহেতুক উৎপাত কমান্ডারের কাছে ভালো ঠেকলো না! ঐ কি ছে! তোয়ার কাম তুঁই করো! পাথর নাকি রড তোয়ার কি কাম!

এবার ডাক্তার যেনো ঠান্ডা হয়ে গেলো! অথচ ডাক্তারের মেজাজ গরম হওয়া আমাদের উপযুক্ত মনে হলো!

মদন, কাওসার আর জামিলের লাশ বাঁশ ঝাড়ের এককোনে পুঁতেছি আমরা কজন মিলে! চাটাই দিয়ে দেহ ঢেকে যখন কবর খুঁড়ছিলো কাওসার যেনো হেসে উঠলো! হাসিটা এখনো আমার চোখে লেগে আছে! amiloride hydrochlorothiazide effets secondaires

বাউলা রে নিয়ে যুদ্ধের পরে ঘর বাঁধতে চেয়েছিলো কাওসার! কিন্তু যেবার বাউলারে পাকিরা ধরে নিয়ে যায় একটা বারের জন্য ও কাওসার কাঁদেনি! মাকেও যখন গাছের সাথে বেঁধে ব্রাশফায়ার করলো একবারের জন্য ও কাঁদেনি!

প্রতিশোধ যেনো ওকে প্রতিমুহূর্তে ই তাড়া করতো ওকে! বাউলার বোন এসেছিলো কদিন আগে! কাওসার কে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ কেঁদেছিলো! অথচ কাওসার একটি বারের জন্য ও কাঁদেনি! দেখে বাউলার বোন অবাক হয়েছিলো!

বাউলার বোন ইন্ডিয়া চলে যাবে দাদীর কাছে! হাওড়া বাড়ি! বাউলার বাপ ও সেই যে গেলো আর এলোনা!
কাউসারের ডান হাতের মধ্যমাতে বাউলার একটা আংটি ছিলো! যাবার সময় আংটিটা রুমালে মুড়িয়ে দিয়েছিলো কাওসার!

প্রথমে নিতে চায়নি! কিন্তু এখন আংটি দিয়া কি হইবো! হঠাৎই ঝরঝর করে কেঁদে ফেললো কাউসার! levitra 20mg nebenwirkungen

মজিদ মিয়া মারা গেছে! অনেকক্ষণ
ধরে আকুপাকু করেছিলো! ধপ করে বসা থেকে শুয়ে গেলো! বারকয়েক চোখ উল্টালো! হঠাৎই চোখটা সোজা হয়ে গেলো! মাথাটা বাঁকা করে হারানো পায়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলো! viagra vs viagra plus

আঁরে আঁর মার কবরের লগে দি কবর দিবা! একবারের জন্য ও আকুতিটা কাউকে গ্রাস করলো না!

মজিদ মিয়ার লাশটা যখন কবরে রাখলাম কিছুদূর থেকেই হঠাৎ গুলি বর্ষন শুরু হলো!
দুভাগ থেকে আটজন কবরের পাশ থেকে দাঁড়িয়ে গেলো!

সূর্য টা নেমে আসছে! সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে!
আমার কাছ থেকে ধুপ করে কি যেনো পড়লো! চোখে ভেসে উঠলো মজিদ মিয়ার ছিন্ন পা টি!

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.