এক গুচ্ছ কামিনী এবং বড় হবার গল্প!

206

বার পঠিত

কামিনী ফুল কেন প্রিয় এইটা একটা প্রশ্ন বটে। আমি নিজেও জানিনা এই ফুল কেন এতো পছন্দ করি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই পছন্দের ব্যাপারে কারন গুলি দিনদিন গুরুত্ব হারায়। একসময় ভুলে যাই কেন পছন্দ করতাম কিংবা করি। তখন শুধু পছন্দ করি, ভালো লাগে, ভালোবাসি এই ব্যপারগুলিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।
ভালোবাসার ক্ষেত্রেও ব্যাপার টা অনেকটাই এমন। দেখা যায়, যে সব কারনে একজনকে ভালোবাসতাম সেই কারনগুলিই একসময় ঐ মানুষটার ভিতর থেকে বিলুপ্ত হতে থাকে। কিন্তু মানুষটার প্রতি ভালোবাসা কিংবা ভালো লাগা আগের মতোই থাকে।

কামিনী ফুল প্রথম চিনেছি আমি যখন চতুর্থ শ্রেণী তে পড়ি। আমার প্রাইমারি স্কুল জীবন কেটেছে একটা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের আন্ডারে অবস্থিত প্রাইমারি স্কুলে। একই বাউন্ডারির ভিতর দুইটা স্কুল। একটা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, আর হচ্ছে আমাদের প্রাইমারি স্কুল।
দুই স্কুলের মাঝে ছোট একটা মাঠ। টিফিনের সময় হলে বালিকাদের চিল্লাপাল্লায় কান ঝালাপালা হয়ে যেতো। তখন স্কুলের প্রধান ছিলো বড় আপা! বিশাল লম্বা একটা বাশের ফালি হাতে নিয়ে মাঠে নামতো বালিকাদের নিয়ন্ত্রন করতে। বড় আপাকে ভয় পেতো না, এমন সাহসী বালিকা স্কুলে ছিলো না। তাকে দেখলেই মাঠে সুনসান নিরবতা! আমরা প্রাইমারির ছাত্র ছাত্রীরাও ভয় পেতাম খুব।

একদিন দুপুরে ঝুম বৃষ্টিতে মাঠ জুরে বালিকাদের ভিজে ভিজে ছুঁয়াছুঁয়ি খেলা চলছে। আমরাও দল ভেদে ভিজতে নেমেছি। বালিকাদের খেলায় তাল দিচ্ছি। হঠাৎ বড় আপা কি মনে করে যেন ক্ষেপে গিয়ে তিনিও বাশের ফালি হাতে নিয়ে নেমে পরলেন মাঠে। উদ্দেশ্য সেই একই। সবুজ মাঠ কাঁদায় পরিপূর্ণ! কোথাও পা ফেলার জো নেই। সবুজ ঘাসের চিহ্ন নেই। বালিকাদের মাঠ থেকে না তাড়ালে মাঠ পিচ্ছিল হবে।
বড় আপার দৌড়ানি খেয়ে আমিও দৌড়ে মাঠের এক পাশে একটা চিকন চাকন গাছের নিচে এসে দাড়াই। হঠাৎ দেখি গাছটা জুরে খুব মিষ্টি একটা গন্ধ মৌমৌ করছে। গাছটা বেশি বড় না। গাছটা আগে কখনো এভাবে খেয়াল করিনি। গাছের উপর দিকে তাকিয়ে দেখি ছোট ছোট পাতা, শাখা, তারমাঝে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সাদা সাদা গুচ্ছ ফুল। ফুলের ছোট ছোট গুচ্ছে বৃষ্টিজল… দেখতে এতো সুন্দর লাগছিলো, যা এখনো মনে গেঁথে আছে।
সেই থেকে কামিনী ফুল ভালো লাগে। কিন্তু ঐ রকম ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফুলের সমষ্টি মিলে বড় গোল গুচ্ছ কামিনী এখন আর দেখা যায়না। এখনকার কামিনী গুলি কেমন বড় বড় ছারাছারা ভাব। গাছের পাতাগুলিও কিছুটা বড় মনে হয়! গাছগুলিও আগের দেখা গাছের চেয়ে অনেক বেশি ডালপালা বিস্তৃত, সাস্থবান। দেখে মনে হয় কেউ একজন কামিনী গাছ গুলিকে কলকাতা হারবাল খাইয়ে দিয়েছে।

বালিকার প্রতি প্রথম মোহ টাও এভাবেই তৈরি হয়েছিলো। সবুজ সাদা স্কুল ড্রেস বৃষ্টিজলে লেপ্টে ছিলো চিকন চাকন দেহে। চুল গুলি ভিজে গালে মুখে একাকার! চোখের স্থির পাপড়িতে একটু পরপর বিন্দু বিন্দু বৃষ্টিজল জমে যাওয়া! ব্যস্ত হাতে থুতনি হতে চিবুক গড়িয়ে পরা বৃষ্টিজল মুছে নেওয়া। অতঃপর আমাকে ছুঁয়ে দিবে বলে ক্ষিপ্রতার সাথে দৌড় দেওয়া… সেদিন আমি ইচ্ছে করেই বালিকার কাছে হেরে গিয়েছিলাম। পা পিচ্ছিলের অজুহাতে পড়ে গিয়েছিলাম তার সামনে। কাঁদায় মাখা কপালে তার বৃষ্টিস্নাত শীতল পরশ আমাকে প্রথম বারের মতো জানান দিয়েছিলো, আমি বড় হতে চলেছি!
সেই থেকে বালিকার বাড়ির আশপাশ ঘুরঘুর করা। বিকেল হলে বালিকার বাড়ির সামনে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেওয়া, শ্রেণীকক্ষে বইয়ের ফাঁকে লুকিয়ে চিঠি দেওয়া আরো কত কি!

এতোকিছুর পড়েও বালিকার মন গলাতে পাড়ছিলাম না। তবে টিফিন চলাকালে নুরু নামে এক ছেলে স্কুলের ভীতর ঝালমুড়ি নিয়ে আসার অনুমতি পেতো। আমি নুরু কে হাত করলাম। নুরু কে একদিন বলে দিলাম, ও যদি ঝালমুড়ি খায় তবে টাকা নিবি না। আমি পড়ে দিয়ে দিবো! নুরু খুব মজার লোক ছিল। ও বুঝতে পেরেছিল আমি কি চাইছি! বালিকা ঝালমুড়ি খেতে চাইলে নুরু টাকা নিতো না। টাকা নিচ্ছে না কেন জানতে চাইলে নুরুও রহস্য করতো, আমার কথা সরাসরি বলতো না, আবার ঠিকই বুঝিয়ে দিত আমার কাজ!
একদিন বালিকার মা আসে স্কুলে। টিফিনের সময় নুরুর দোকানে মেয়ে কে ঝালমুড়ি খাওয়াতে আসলে নুরু অভ্যাস বসত ঝালমুড়ির টাকা নিতে চায়না। বালিকার মা কিছু একটা সন্দেহ করে। নুরু কে কয়েক হুমকি ধামকি দেওয়ার পরেই নুরু সব বলে দেয়! এরপর শুরু হয় স্কুলের অংক আপার হাতের বিচার! বালিকা এবং বালিকার মায়ের সামনে সেদিন আচ্ছা করে বেত দিয়ে অংক আপা পিটিয়েছিলো। কে জানতো, এই পিটুনি থেকেই ভালো কিছু হয়ে যাবে?
সেদিন একটা সহজ কথা খুব কঠিন করে বুঝতে পেরেছিলাম, শক্ত মাটি ভিজিয়ে নরম করতে হলে প্রচুর জল ঢালতে হয়! আর বালিকার মন গলাতে হলে অংক আপার হাতের পিটুনি খেতে হয়!

thuoc viagra cho nam

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন * doctus viagra

ovulate twice on clomid

can your doctor prescribe accutane

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

all possible side effects of prednisone

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.