শাড়ি কথা

177

বার পঠিত

*আমার লিখা গুলো মূলত আমি কেন্দ্রিক, নিজের জীবনকে ঘিরেই অনেকটা। কারো যদি অতি সাধারণ একটি মেয়ের গল্প পরতে ইচ্ছা করে তবেই বাকিটুকু পড়ুন। অন্যথা অযথা সময় নষ্ট হবে, সময়ের মুল্য অনেক। আমার লিখা আমার পরিচিত দু চার জনের খুব পছন্দ, মাঝে সাঝে তারাই আমাকে লিখতে অনুপ্রেরণা যোগায়। অনেকে বলে, বেঁচে থাকার খোঁড়াক জুগিয়েছি তাঁদের জন্যে। আমি বলি সে রকম কিছুই বোধ হয় না। আমি মূলত আমার জন্য লিখি, কারো যদি তা পরে তা ভালো লাগে, আমি সেই আনন্দেই কিছু চুড়ি ভাঙবো। এটি আমার স্মৃতিচারণ আর ভবিষ্যৎ ইচ্ছার গল্প। আপাতত অনুগল্প হয়েই থাক। লিখাটি ঠিক কোন বিভাগে যাবে বুঝতে পারছি না, এবং জোর করে বুঝতে চাচ্ছিও না। (এটি মূল লিখা নয়, সেটি নিচে)।

 

আমার নানির শাড়ি কেনার মুহূর্তগুলি আমার ছোটবেলার অতি প্রিয় দৃশ্যের মধ্যে কিছু।নিত্য নৈমিত্তিক ভাবে এই ঘটনা টি ঘটত আমাদের বাসায়।প্রায় পাঁচ রকম বয়সী, পাঁচ জন নারী হাতে ঝোলা করে শাড়ি নিয়ে আসত, আর আমার নানি উঠোনে মাদুর পেতে- শরবত, মুড়ি-খই আর পান তুলে ধরত তাদের আতিথিয়তায়, নিজে সামনের বেতের তৈরি মোড়ায় বসে।নানির এই রাজকীয় শাড়ি কেনার অনুষ্ঠান ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকত তার ছেলের বউ, মেয়ে, নাতিনাতনি, দেবরের বউয়েরা।কেও শাড়ি দেখছে, কেও দাম নিয়ে হাকডাক দিচ্ছে, অথবা কেও এমনিতেই দাঁড়িয়ে আছে।যারা শাড়ি কিনছে তারা নিজেদের পছন্দ বাদ দিয়ে কেন যেন অন্য নির্দিষ্ট রঙের শাড়ি দেখত, এখন যেমন আমি নিজের পছন্দের রঙ ছেড়ে অন্য কারো রঙ দেখি সবকিছুতে। শাড়ি নিয়ে যে পাঁচজন আসতেন, তাঁদের আমি নাম দিয়েছিলাম স্বপ্নদেবী।ঝোলা-ঝোলা স্বপ্ন নিয়ে তারা আমাদের বাড়ির উঠোনে পারি জমাত।তাঁদের মধ্যে বয়সে যিনি সবচেয়ে ছোট ছিল, তাঁকে রীতিমতো কৃষ্ণকলি বলা চলে।ছিপছিপে গড়ন, এক প্যাঁচই শাড়ি, মাথার একপাশে খোঁপা আর পান খাওয়া লাল ঠোঁটের হাসি।তার খিলখিল হাসির শব্দ এখনো কখনো কখনো আমার কানে ভাসে।তার হাসি শুনে মনে হত এক রাশ কাঁচের চুড়ি টুংটাং শব্দ করে নিচে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পরছে।ইস কেন যে ধরলাম না কয়েকটা ভাঙ্গা কাঁচের চুড়ি! আজ তাহলে নিজেই টুংটাং শব্দ করে হাসি শুনতে পারতাম আমার কৃষ্ণকলির! চতুর্থ যিনি, তিনি প্রচণ্ড পান চিবুতেন, আর শাড়ির আঁচলে নানির দেয়া পান গুলি বেঁধে নিতেন।তৃতীয় জন খানিক টা চুপচাপ প্রকৃতির ছিল, কম এবং মার্জিত কথা বলা সে নারীর দু চোখে আমি প্রথম সমুদ্র দর্শন করি।দ্বিতীয়জনের কথা তেমন মনে নেই, শুধু তিনি আমার নানিকে নাকি সুরে টান দিয়ে আম্মা বলে ডাকতো, ওটা এখনো মনে পরে, আর প্রথম জন হাতে দুটি দুটি করে চারটি লাল চুড়ি পড়ত, আর শাড়ি দেখানোর সময় সেগুলো টুংটাং করে বাজত।আমার নানি শাড়ি কেনার সময় তার ছোটবেলার গল্প বলতেন।কিভাবে তার বাবা চাঁদরাতে তাঁদের তিন বোনের জন্য শাড়ি কিনতেন, কিভাবে তার মা, বাবা মেয়ের আল্লাদ দেখে দুয়ারের পেছনে দাঁড়িয়ে হাসতেন, আর অপেক্ষায় থাকতেন কখন বের হবে তার শাড়ি।শাড়ি কেনার সেই সময়ে আমার নানা দু হাত পেছনে দিয়ে জমিদার ভঙ্গিতে হেঁটে যেতেন আর নানির দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে মাথা নাড়তেন।ছোটদের সবার শাড়ির খুব কাছে যাওয়া বারণ ছিল, পাছে শাড়ি নষ্ট হয়ে যায়! আমি তখন নানার কাছে গিয়ে তার পাঞ্জাবী ধরে হ্যেচকা টান মেরে, শাড়িগুলোকে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতাম, আর নানা আমাকে ওগুলোর কাছে নিয়ে, যাও বলে নিজে চলে যেতেন।আমি ধপ করে সবগুলো শাড়ির মাঝে গিয়ে লাফিয়ে পরতাম।নানা নানির মাঝে সেই খনিক সময়ে যে রাগ ও ভালোবাসাময় চাহনি আদান প্রদান হত তা অবশ্য আমি কখনই দেখি নি! আমি ছিলাম তখন আমার শাড়ির জগত নিয়ে।হয়তোবা অনেকগুলি শাড়ি একসাথে খুলে, প্রত্যেকটির এক একটি অংশ নিয়ে আমি গায়ে জড়িয়ে ধরছি, অথবা সব শাড়ির মধ্যে হুটোপুটি খাচ্ছি, এছাড়া আমার প্রিয় ছিল, একটি পুরো শাড়ি দিয়ে নিজেকে গলা থেকে পা পর্যন্ত পেঁচিয়ে মমি হয়ে শুয়ে থাকা।আমার কৃষ্ণকলি তখন অসংখ্য চুড়ি ভাংতে ভাংতে আমাকে একপাশ হতে অন্য পাশে ঠেলে দিত, আর অন্য পাশ হতে যদি কেও আমাকে ধাক্কা না দিত, তাহলে আমি নিজেই গড়িয়ে চলে আসতাম।আর আমার কৃষ্ণকলি আবারও কিছু চুড়ি ভাঙ্গত। যে দিন গুলিতে আম্মু থাকত না সাথে, সেই অসম্ভব কষ্টের সময়ে নিজেকে আমি অসংখ্য শাড়ির ভেতরে অনেক লুকিয়েছি, এখন যেমন মোটা নকশী কাঁথার ভেতরে নিজেকে লুকিয়ে রাখি সারাটা দিন।আমার স্বপ্নের শাড়িগুলো, তখন আমার ছোট্ট বুকের, ছোট্ট কষ্ট গুলো আপন করে নিতো।রঙ্গিন সব শাড়ির ভেতরে লুকিয়ে থাকা আমি শাড়ির নকশার আদলের নূতন সূর্যালোক দেখতাম, আর একদিন ঠিক এভাবেই শাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখতাম।আমি আমার হাজারও কষ্ট ভুলেছি সেই শাড়ির নিচে।আজ সেই শাড়িগুলোর নিচে নিজেকে আবার লুকতে ইচ্ছা করছে।আমি সারাজীবন আমার ছোটবেলার স্মৃতি থেকে পালিয়ে বেরিয়েছি, তবে শাড়ি কেনার মুহূর্ত গুলি, মনের তেজরিতে পরম যত্নে গুছিয়ে রেখেছি।সেই সময়গুলোতে কেবল মাত্র শাড়ি কেনা হত না, কেনা হত তের হাতের এক একটি স্বপ্ন, পারিবারিক মূল্যবোধ, অতিতের টানপোড়নের স্মৃতি আর ভবিষ্যতের খোঁড়াক।সেই পাঁচ নারীর সাথে আমার আর দেখা হয় না।চট্টগ্রামে চলে আসার কিছু দিন আগে প্রথম জন কে দেখেছিলাম নানুবাসায়।তিনি এখন আর স্বপ্ন বিক্রি করেন না।আমাকে দেখা মাত্রই বলে উঠল, এইডা আমাদের ছোট আম্মা না? আমার নানি তখন বুক দশ হাত ফুলিয়ে আমার এ.ইউ.ডাব্লিউ তে পরার কথা জানালেন।তিনি বুঝতে না পেরেও খানিক টা থতমত খেয়ে পেছনে সরে গেলেন।আমি নিজে গিয়ে তাঁকে পায়ে ধরে সালাম করে জড়িয়ে ধরলাম, আমার লাল চুড়ি তখন হু হু করে কেঁদে আমাকে আরও কাছে টেনে নিলেন।তখন আর অবশ্য তারহাতে লাল চুড়ি শোভা পায় নি, সোনার একগাছি চুড়ি এসেছে তার বদলে।তারপর তাঁদের কারো সাথে আমার আর দেখা হয়নি।এখন আর স্বপ্নদেবীরা স্বপ্নের ঝোলা নিয়ে আমার দুয়ারে আসে না, নানার এলজাইমারস- তিনি আমাকে আর চেনেন না।নানুকে খানিক টা উঠে বসতে অনেক বেগ পেতে হয়।কিছু দিন আগে শুনলাম, তার বুকের মাঝে ডাক্তার সাহেব যে পেস মেকার বসিয়েছিলেন, তা অনেক আগেই কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। ইদানিং আমার আবার নিজেকে শাড়ির ভেতরে লুকতে ইচ্ছা করে। দানবকায় এই পৃথিবী যখন অল্প অল্প করে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে, তখন আবার আমার শাড়ির ভেতর দুর্গা রূপ ধারণ করতে ইচ্ছা করে। আমার কষ্টগুলোকে বিলিয়ে দিয়ে রঙ্গিন শাড়ির ভেতরের সূর্য নকশা দেখতে ইচ্ছা করে। আমি ঠিক করেছি, আমার কখনো একটি মেয়ে হলে তাকে আমি শাড়ি কিনতে শেখাবো, আর আমার গল্পগুলো শোনাবো। তবে যত্ন করে শাড়ি(স্বপ্ন) কেনা শেখাবো, কেননা একটি ভালো শাড়ি(স্বপ্ন) কিনতে পারা অনেক জরুরি!!! glyburide metformin 2.5 500mg tabs

walgreens pharmacy technician application online

You may also like...

  1. কিরন শেখর বলছেনঃ

    অনুভূতির সাথে সময়ের আরো একটু বর্ননা থাকলে বেশি ভাল লাগতো। তবে স্বপ্ন দেখা থামাবেন না। স্বপ্নই মানুষকে ভ্যবিষ্যতের জন্য বাঁচিয়ে রেখেছে।

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন * acquistare viagra in internet

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

capital coast resort and spa hotel cipro
irbesartan hydrochlorothiazide 150 mg