‘গণহত্যা অস্বীকার’ ও ‘নব্য-হানাদারি মানসিকতা’ রোধে আইন এবং এর তাৎপর্য

2172

বার পঠিত zovirax vs. valtrex vs. famvir

“Denial of the Holocaust is not an opinion, it is a political act which

tries to bring Nazi thought into the mainstream.”

-  Hans Rauscher, Columnist, Vienna Newspaper ‘Der Standard’

-দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে নাৎসি প্রোপ্যাগান্ডার বিপরীতে আইন প্রণয়ন প্রেক্ষাপটে ভিয়েনার জনৈক কলাম লেখক।

১) ভূমিকা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালেও নাৎসি’দের অমানবিক নির্যাতন আর গণহত্যাকে অস্বীকার করার মত গোষ্ঠীর অভাব ছিল না। একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর যখন দেশীয় বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা আর বিদেশী চরদের সমন্বয়ে পঁচাত্তরের পটপরিবর্তন হল, সেই থেকে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশে। তাই অনেক কিছুই শিক্ষণীয় আছে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর পদক্ষেপ থেকে। আমাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালও সেই রুয়ান্ডা, নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনাল কিংবা বসনিয়ার আইনের আদলেই করা। একই পথ ধরে ইউরোপের দেশসমূহ আর কী কী করেছে নাৎসিদের অপরাধ এবং গণহত্যার বিষয়ে তা জানা অতীব জরুরী।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ইউরোপে পুনরায় নব্য নাৎসিজম (Neo-Nazism) এর চর্চা বা প্রচার শুরু হয়। তাদের অন্যতম হাতিয়ারই ছিল নিজেদের নৃশংসতম কৃতকর্মগুলোকে অস্বীকার করা। শুরুর উক্তিটির দিকে খেয়াল করুন-  ‘গণহত্যা অস্বীকার কেবলই একটি মতামত না এটি একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া যা গণহত্যা সংগঠকদের পুনরায় রাজনৈতিক ধারায় ফিরিয়ে আনে’। ভিয়েনার এই কলামিস্ট তার সুদীর্ঘ গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা থেকেই এই উক্তিটি করেন। নির্মম হলেও সত্য, এই প্রক্রিয়াটি আমাদের বাঙলায়ও হানাদারের দোসররা সফলভাবে করছে। ইউরোপিয়ান দেশগুলো নব্য নাৎসি’দের কূটকৌশল আঁচ করতে পেরেই একটা পদক্ষেপ নেয় যাকে বলে “To tip it in the bud”  অংকুরেই বিনাশ এরই  সুদূরপ্রসারী ফলাফল নাৎসিদের সকল গণপ্রচারনা বা প্রতারণাকে নস্যাৎ করতে প্রণীত ‘গণহত্যা অস্বীকার আইন’ বা ‘Holocaust Denial Law’.

এই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল গণহত্যার সঠিক ইতিহাসকে গণমানুষের সামনে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা এবং নব্য নাৎসি’দের প্রসার আর প্রচারকে অংকুরে বাধাপ্রাপ্ত করা কিংবা বিনষ্ট করা।

নাৎসি বিরোধী আইন ইউরোপের সকল দেশে না থাকলেও সরাসরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি’দের গণহত্যার শিকার দেশসমূহে কঠোরভাবে প্রণীত হয়। এই আইনের আরেকটি ধারা ছিল যেটি বর্ণবাদ এবং হিংসা’র (racism & hate speech) বাণীকে নিরুৎসাহিত করে। বর্তমানে যে সকল দেশে ‘জেনসাইড ডিনায়েল ল’ কিংবা ‘হলোকাস্ট ডিনায়েল ল’ আছে সেসব দেশ সমূহঃ অস্ট্রিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ফ্রান্স, জার্মানি, লিস্টেনস্টেইন, লিথুনিয়া, নেদ্যারল্যান্ড, পোল্যান্ড, রোমানিয়া, স্পেন ও সুইজারল্যান্ড।

এই ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নাৎসিদের প্রচার, তাদের স্বস্তিকা চিহ্ন ব্যবহার, নব্য নাৎসিবাদ নিয়ে লেখালেখি, গণহত্যা অস্বীকার এবং তাদের আদর্শকে ধারণ করে কাজ করাকে নিষিদ্ধ করে। এই পথ ধরে পর্তুগাল, হাঙ্গেরি, লাটভিয়া, জার্মানি, নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড এবং ইসরায়েল হিটলারের দাম্ভিক আত্মজীবনীকেও নিষিদ্ধ করে।

২) প্রাসঙ্গিক টীকাসমূহ

ক) জেনোসাইডঃ Among other things, the killing of people by a government because of their indelible group membership (race, ethnicity, religion, language)  অর্থাৎ “গণহত্যা হচ্ছে এমন একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড যা কোন সরকার বা শাসক কোন অমোচনীয় জাতিগত, নৃতাত্ত্বিক, ধর্মীয় বা ভাষাগত জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালনা করে”; এই সংজ্ঞাটি হাওয়াই ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ‘রুডলফ জুলিয়ানি রামেল’ এর।

উইকিপিডিয়ার সংজ্ঞাটা দেখা যায়, ‘Genocide is the systematic elimination of all or a significant part of a racialethnicreligious, or national group’’ ;  অর্থাৎ ‘গণহত্যা হচ্ছে কোন নির্দিষ্ট  জনগোষ্ঠীর উপর চালানো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ irbesartan hydrochlorothiazide 150 mg

খ) জেনোসাইড  ডিনায়েলঃ“Genocide denial is an attempt to deny or minimize statements of the scale and severity of an incidence of genocide”(উইকিপিডিয়া) অর্থাৎ- ‘গণহত্যা অস্বীকার হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে গণহত্যাকে অস্বীকার করা হয় কিংবা গণহত্যাকে বা গণহত্যার ভয়াবহতাকে বা প্রভাবকে লঘুকরণের চেষ্টা চালানো হয়’। যেমন – Holocaust denial, the Armenian Genocide denial and the Bosnian Genocide denial কিংবা  দক্ষিণ এশিয়ায়র মধ্যে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংগঠিত গণহত্যাকে অস্বীকার বা ভয়াবহতাকে ভারসাম্য দেয়ার অপচেষ্টা প্রভৃতি।

গ) জেনোসাইড  ডিনায়েল লঃ গণহত্যা অস্বীকার করা কিংবা যুদ্ধের নৃশংসতাকে বিকৃতি করা  বা যুদ্ধের ইতিহাসকে পুঁজি করে হিংসা ছড়ানো কিংবা এইসব লঘূকরণে কাজ করে গণহত্যাকারীদের রাজনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসার অপচেষ্টা কারীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আনতে যে আইন করা হয় সেটাই মূলত  জেনোসাইড ডিনায়েল ল‘ নামে পরিচিত। যেহেতু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সংগঠিত ইহুদী নিধন হলোকাস্ট নামে পরিচিত সে জন্যেই ইউরোপে এইরূপ বেশীর ভাগ আইনই হলোকাস্ট ডিনায়েল ল নামে পরিচিত।  দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আদালতে, সংসদে, সকল ধরণের গণমাধ্যমে যে ভুঁড়ি ভুঁড়ি গণহত্যাকে অস্বীকার করার নজির আমরা দেখেছি তাতে করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধে এই আইন প্রণয় অনিবার্য হয়ে পড়েছে।  এছাড়াও নব্য নাৎসিদের মত করে তারা গানের বদলে ধর্মকে পুঁজি করে নতুন প্রজন্মে দেশের মুক্তির সংগ্রামের প্রতি যে হিংসা বাক্য রচনা করে চলেছে আমাদের অর্জন এবং সার্বভৌম রক্ষার্থেই এই আইন করা অত্যাবশ্যক।

৩) পূর্ব ইউরোপের Holocaust Denial Law

ক) জার্মানিঃ

i) আইনঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালে যখন নুরেমবার্গ আন্তর্জাতিক আপরাধ ট্রাইব্যুনাল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল দুনিয়া জুড়ে তখন তাদের নাৎসিবাদ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়াটা অত্যাবশ্যক ছিল। ১৯৪৬ সালেই নুরেমবার্গ নাৎসিকে নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণা করে। এইখানে নাৎসিদের চিহ্ন ব্যবহার, আদর্শ প্রচার এবং তাদের কৃতকর্ম অস্বীকার অর্থাৎ Genocide/Holocaust Denial-কে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ‘জার্মান পেনাল কোড, সেকশনঃ ১৩০’ গণহত্যাকে অস্বীকার এবং গণহত্যাকে হেয় করে কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।

১৯৮৫ সালে নথিভুক্ত হওয়ার আগে একাধিক সংশোধন এবং পরিমার্জনের ভিতর দিয়ে যায় উক্ত আইনটি। Holocaust Denial ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে পরিগণিত হয় জার্মানিতে। চূড়ান্তভাবে এই অপরাধে অভিযুক্তকে ১ বছর কারাদণ্ড বা অনাদায়ে জরিমানা বিধান রেখে আইনটি চূড়ান্ত করা হয় একই বছর। ১৯৯৪ সালে এই অপরাধের সাজা ১ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর (কারাদণ্ড) করা হয়। এমনকি অনূর্ধ্ব-১৮ বছরের মানব সন্তানের জন্যেও এই আইনকে কার্যকর হিসেবে বিধাতব্য হয় ১৯৯৪ সালের সংশোধনীতে একই সাথে হিটলারের ‘মাইন ক্যাম্প’কে নিষিদ্ধ করা হয়। clomid over the counter

ii) ব্যবহারঃ নাৎসি দমনে উক্ত আইনটি ব্যাপক শক্তিশালীভাবে কার্যকর করা হয়। সেপ্টেম্বর ২০০৬ সালে নাৎসিদের স্বস্তিকা চিহ্নকে ক্রস দিয়ে ব্যবহার করায় আন্দোলনরত এক মানবাধিকারকর্মীকে দোষী সাব্যস্ত করে স্টুটগার্ড আদালত। যদিও সে মানবাধিকার কর্মী স্বস্তিকা চিহ্নকে কেটে দিয়ে ব্যবহার করেছিলেন নাৎসি বিরোধী আন্দোলনে। জার্মান স্টেট প্রসিকিউটর পরবর্তীতে এই নাৎসি-বিরোধী টি-শার্ট এবং ব্যাজ উৎপাদককে ৬০০০ ইউরো (প্রায় ৭,৬১০ ডলার) জরিমানা করেন। যদিও সেই উৎপাদক জার্গেন কাম (Jurgen Kamm) দাবী করেন “It should not be illegal to use the symbols against Nazis.’

এইদিকে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর বার্ণহার্ড হাসলার (Bernhardt Haussler) রায়ে বলেন; “Swastika shouldn’t be displayed in such a striking way.”  একপর্যায়ে তিনি আরও যোগ করেন   “…He hopes the outcome of this trial will bring about a complete ban of Nazi symbols in public spaces.”

অর্থাৎ এটিই ‘‘নাৎসি চিহ্ন ব্যবহারের সম্পূর্ণ এবং কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা দলিল হয়ে থাকল’’।

iii) নতুনভাবে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে আইনঃ

২০০৫ সালে ‘ল্যান্ডসার’ (Landser) নামক গানের দলের মূল গায়ক মাইকেল রেগেনার (Micheal Regener) কে বর্ণবাদী গান গাওয়া এবং একটি অপরাধী সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সাথে স্কিনহেড মিউজিক যা নাৎসিজম বা ‘নিওনাৎসিজম’ ভাব প্রকাশ করত তাদেরও নিষিদ্ধ করা হয়।

একই সাথে ইন্টারনেটে হেইট স্পীচ বা হিংসার বাণী এমনকি গানসহ সকল প্রকার বর্ণবাদী বিষয় ইন্টারনেটে প্রকাশ নিয়ে ‘জার্মান পেনাল কোড’ কঠোর আইন প্রণয়ন করে।

খ) অস্ট্রিয়াঃ

i) আইনঃ ১৯৪৫ সালের মূল আইনের সংশোধনে ১৯৯২ সালে অষ্ট্রিয়া জার্মান পেনাল কোডের মত করে নাৎসিজম প্রচার এবং গণহত্যা অস্বীকার রোধকে নির্মূল করতে আইন প্রণয়ন করে। অষ্ট্রিয়া’র আইনে সর্বোচ্চ এর কারাদণ্ড রেখেই এই আইন করা হয়। এই আইন গণহত্যা অস্বীকার, গণহত্যাকে হেয় বা তুচ্ছ করে কথা বলা কিংবা গণহত্যাকে জায়েজ করার জন্যে অজুহাত দাঁড় করানো এবং করার সকল প্রকার চেষ্টা বা প্রচারকে নিষিদ্ধ করে। (প্রচার বলতে লিখিত কিংবা টিভি বা রেডিওতে অথবা ইন্টারনেটসহ সকল প্রকার গণমাধ্যমে প্রকাশ)

ii) ব্যবহারঃ অস্ট্রিয়ার ইতিহাসে সবচে’ জনপ্রিয় এক মামলায় ইংল্যান্ডের এক ইতিহাসবেত্তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গ্যাস চেম্বারে সংগঠিত গণহত্যাকে বিচার করা কিংবা justify করতে চান । ফেব্রুয়ারি ২০০৬ এ জুন্ডেল ট্রায়াল (Zundel Trial) তার চাঞ্চল্যকর রায় দেয়। ডেভিড আর্ভিং (David Irving) পরবর্তীতে ভিয়েনায় আপিল করলে তাকে ১৩ মাস কারাদণ্ড ভোগ করার পর লন্ডনের কাছে হস্তান্তর করে।

গ) ফ্রান্সঃ

i) আইনঃ ফ্রান্সে সরাসরি গণহত্যা অস্বীকার রোধে আইন নেই তবে ‘Law No 90-615 of 13 July 1990 tending to repress any racist, anti-Semitic or xenophobic acts’;  এআইন ফ্রান্সে ‘গেসট ল’ (‘Gayssot law’) নামেই সমাধিক পরিচিত যেখানে মানবতার বিরুদ্ধে সংগঠিত কোন অপরাধকে প্রশ্নবিদ্ধ করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এদিকে ফ্রান্স পেনাল কোড আর্টিকেল আর৬৪৫-১ এ নাৎসি প্রতীক, পোশাক এবং মতবাদ প্রকাশকে নিষিদ্ধ করা আছে।

আবার অক্টোবর ২০০৬ এ ফ্রান্সের সিনেটে একটা বিল আনা হয় যাতে করে ১৯১৫ সালে আর্মেনিয়ান উপর অটোম্যান সাম্রাজ্যের গণহত্যাকে অস্বীকার করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। যা পরবর্তীতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাক ২০০৭ সালে পাস করে আইনে পরিণত করেন। এরপর তুরস্ক অর্থাৎ আর্মেনিয়ানদের উপর গণহত্যাকারী অটোম্যান সম্রাজ্যের মূল হোতা ২০০৭ সালে ফ্রান্সের সাথে সামরিক সম্পর্ক চিহ্ন করে।

ii) ব্যবহারঃ

অক্টোবর ২০০৬ সালে এক ফ্রান্সের এক মানবাধিকার কর্মী ‘জ্যা মেরী লা পেন’ নাৎসি গণহত্যাকে লঘুকরণে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন যা পরে আদালত ‘যুদ্ধাপরাধ অস্বীকার’ করার দায়ে তাকে অভিযুক্ত করে। তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হওয়া অভিযোগগুলো হচ্ছে, “justifying war crimes’, ‘complicity in consisting crimes against humanity’ & “denial of the history of World War-II.”

ফ্রান্সের ইতিহাসের সবচে দুর্ধর্ষ গণহত্যা অস্বীকারকারী হিসেবে ধরা হয় ‘ইউনিভার্সিটি অব লিওন’ (University of Lyon) এর সাহিত্যের প্রাক্তন অধ্যাপক রবার্ট ফুরেসনকে (Robert Faurisson)। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গণহত্যাকে ভারসাম্য দেয়ার জন্যে নিবন্ধ লিখেছিলেন। যার জন্যে তাকে ২,৫০,০০০ ফ্রা (৫০,০০০ ইউরো) জরিমানা গুনতে হয় যা থেকে পরে ১,০০,০০০ ফ্রা জরিমানা অব্যাহতি পান। একই সাথে তিনি বর্ণবাদ প্রকাশের জন্যে তিন মাস কারাদণ্ড ভোগ প্রাপ্ত হন।

ঘ) ইংল্যান্ডঃ

মনে আছে অষ্ট্রিয়াতে সাজাপ্রাপ্ত সেই ডেভিড আর্ভিং (David Irving) এর কথা? যদিও ইংল্যান্ডে গণহত্যা অস্বীকার কোন অপরাধ না তবুও এই আর্ভিং লন্ডনে বিচারের সম্মুখীন হন এবং দুই মাস শুনানি শেষে আদালত ৩৩৩ পৃষ্ঠার রায় দেয়। রায়ের সমাপ্তিতে আদালত বলে,

“…My conclusion [is] that Irving displays all the characteristics of a Holocaust Denier. He repeatedly makes assertions about the Holocaust which are offensive to Jews in their terms and unsupported by or contrary to the historical records… Irving has for his own ideological reasons persistently & deliberately misrepresented and manipulated historical evidence; that for the same reasons he has portrayed Hitler in an unwarrantedly favorable light, principally in relation to his attitude towards & responsibility for the treatment of Jews; that he is an active Holocaust denier; that he is anti-Semitic & racist and that he associates with right wing extremist who promote neo-Nazism.”

 ৪) কোনটি সঠিক পথ?

নাৎসিদের করা গণহত্যা অস্বীকার এর ক্ষেত্রে প্রণীত ‘Genocide/Holocaust Denial Law’ কিংবা ‘গণহত্যা অস্বীকার আইন’-কে যারা সমর্থন করেন তাদের প্রধান যুক্তি হল ‘’এই নিষেধাজ্ঞা হল একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উত্তর ইউরোপে বিশেষ করে নাৎসি চরমাভাপন্ন কিংবা নিওনাৎসিজমের ঝুঁকিতে থাকা দেশসমূহকে বিপথগামী হবার হাত থেকে রক্ষা করে’। আর্মেনিয়ান গণহত্যা এবং Holocaust- দু’টোকেই মাথায় রেখে আর্মেনিয়ান ফেডারেশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ‘হিল্ডা চোবিয়ান’ (Hilda Tchobian) বলেন; “the hydra of denial is a tumor of freedom of expression…”.

এই গণহত্যা অস্বীকার কেবল নতুন গণহত্যাকে উৎসাহিত করে না বরং একটা আদর্শহীন জনগোষ্ঠীকে গণহত্যাকারীদের প্রতি দুর্বল করে তোলে। যা পরবর্তীতে সমাজ এবং রাষ্ট্রকে ঝুঁকির মাঝে ফেলে দেয়।

এই বিষয়ে ভিয়েনার সেই কলামিস্টের ‘হ্যান্স রাছের’-এর বিখ্যাত উক্তিটিই যথার্থ যা দিয়ে লেখা শুরু করেছিলাম, “Denial of the Holocaust is not an opinion, it is a political act which tries to bring Nazi thought into the mainstream”.

অপরদিকে উক্ত আইনবিরোধীদের মতে,এ আইন গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার পরিপন্থী’  অর্থাৎ গণতন্ত্রের মৌলিক দিকই হচ্ছে দ্বন্দ্ব; দ্বান্দ্বিক তর্কের মাধ্যমেই সত্যের বিকাশ হবে- এটিই গণতন্ত্রের মূল কথা। গণতন্ত্র কেবল সমমত পোষণকারীদের নিয়ে নয় বরং সকল মতামতের সহাবস্থানকারীদের জন্য গণতন্ত্র। এই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দোহায় দিয়েই মূলত গণহত্যাকারীরা এবং তাদের দোসররা কিংবা তাদের নব্য-প্রচারকেরা ‘Benefit of doubt’ নিতে চায়।

কিন্তু গণহত্যা অস্বীকৃতি আইন’ সমর্থনকারীদের বক্তব্যানুযায়ী, গণতন্ত্র মিথ্যা বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে না। হিংসার বাণী কিংবা মানবতা বিরোধী অপরাধকে বিচার করার মত কিংবা ভারসাম্য দেয়ার মত অপলাপকে নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের মোদ্দা কথা না। যে আদর্শ কিংবা মোহ গণহত্যাকারীদের একতাবদ্ধ করেছে মধ্যযুগ থেকে বছরের পরও বছর তাদের অপকর্মকে লঘুকরনে কিংবা কোন অজুহাতে সরলীকরণের প্রক্রিয়া কেবল সেই মোহাচ্ছন্নদের একতাবদ্ধ করবে না বরং তাদের মূল ধারায় নিয়ে আসবে এবং পুনরায় মানব সভ্যতাকে ঝুঁকির মাঝে ফেলবে। নাৎসি’দের এবং নব্য নাৎসিদের দমনে ইউরোপ এত কঠোর হয়েছে বলেই আজকে ইউরোপীয় সভ্যতা তাদের স্বর্ণশিখরে। গণতন্ত্রের মোদ্দা কথা হচ্ছে, ভবিষ্যৎ মানবজাতির ভবিষ্যত নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ করা এবং এটিই গণতন্ত্রের শিক্ষা। আর এ জন্যেই গণহত্যা অস্বীকারকারীদের আইনের এবং সাজার আওতায় নিয়ে আশা আইনের বিরোধীরা যতটা অগণতান্ত্রিক ভাবছে তার থেকে ঢের বেশী গণতান্ত্রিক এবং মানবতাকামী।

৫) একাত্তরের গণহত্যা অস্বীকার এবং সমসাময়িক রাজনীতি

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে একটি নতুন রাষ্ট্রের মানচিত্র অঙ্কিত হয়। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত, ৪ লক্ষ মা বোনের উপর নির্মম অত্যাচার আর ১ কোটি ১০ লক্ষ শরণার্থীর এক বছরের মানবেতর জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এই ভূখণ্ড। মূলত ৭ই মার্চের ভাষণ ও ২৫ মার্চ কালরাতের বঙ্গবন্ধুর শেষ টেলিবার্তা এবং তার পর বিভিন্ন পর্যায়ের পেশাজীবী এবং শ্রমজীবী মানুষের একতাবদ্ধ আন্দোলন এবং সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুক্তিকামী বাঙালীর স্বাধীনতা অর্জিত হয়। ৯ মাসব্যাপী এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে প্রাণ দেয় ৩০ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা। গণহত্যার হারের হিসেবে যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নৃশংসতাকেও হার মানায়!

অথচ অত্যন্ত পরিতাপ এবং গ্লানির বিষয় এই যে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করার পর দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বদলাতে শুরু করে। যে হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে ঐতিহাসিক সংগ্রাম পরিচালনা করে স্বাধীনতা অর্জন করে স্বাধীনতাকামী বাঙালী সেই হানাদারের দোসররা বাংলার রাজনীতিতে একই হানাদারি আদর্শ বাস্তবায়নে প্রচারণা করতে শুরু করে। আজ জাতীয় সংসদে হানাদারের দোসররা মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যাকে লঘু করতে চায় এবং এভাবেই সেই জামাতি রাজনীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৭৮ সালে যখন জামাত বাংলাদেশে পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ পেলো, লক্ষ্য  করলেই দেখা যাবে,  তখন থেকেই মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির শুরু এবং একাত্তরের গণহত্যাকে ভারসাম্য দেয়ার চেষ্টার সূচনা।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের সকল বড় বড় হত্যাকাণ্ডের সাথে সেই জামাতি বর্ণবাদী রাজনীতি দায়ী। সিনেমা হলে বোমা হামলা, সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা, ২১আগস্টের গ্রেনেড হামলা, পহেলা বৈশাখের বোমা হামলা, বানিয়ার চরে গির্জায় বোমা হামলা, আদালত প্রাঙ্গণে বোমা হামলাসহ ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের দেশজুড়ে নারকীয় তাণ্ডব কিংবা এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের তিনমাস ব্যাপী মানুষ পোড়ানোর ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সবই সেই একইসূত্রে গাঁথা। একাত্তরের পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের দেশীয় দোসরদের গণহত্যাকে যারা গত ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে ছোট করে এসেছে তারাই আজকের মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোর জন্যে দায়ী। এই অপরাধগুলোকে ইউরোপে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে এইভাবেঃ

i) Justifying war crimes,

ii) complicity in consisting crimes against humanity,

iii) denial of the history of World War-II,

iv) racism & hate speech &

v) denial of the holocaust.

এখানে ইউরোপের একটা প্রাসঙ্গিক উদাহরণ না দিলেই নয়: ২০০৪ এ জার্মানির নিও-নাৎসি’রা সরকারের কাছে ১৩৭ টি কনসার্ট করার অনুমতি চায়, স্থানঃ পূর্ব জার্মানির অপেক্ষাকৃত দরিদ্র প্রদেশসমূহ। মূলত কম শিক্ষিত এবং বেকারত্বে ভরা হতাশাগ্রস্ত যুবসম্প্রদায়কে লক্ষ করে নব্য-নাৎসি’রা। একইভাবে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ২০০৫ সালেও অনুরূপ ১০০ টি অনুরোধ পায় ফেডারেল অথরিটি। তারা জানায় এইসময়ই সর্বাধিক পরিমাণ নাৎসি অডিও এবং ভিডিও মিউজিক বাজেয়াপ্ত করা হয়। কট্টর পন্থী ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক (NDP) জার্মানিতে ব্যাপক হারে বর্ণবাদ ছড়াচ্ছে আর বর্ণবাদ এবং হিংসার বানী দিয়ে। এমনকি তারা স্কুলের সামনে বিনামূল্যে সিডি বিতরণও শুরু করেছিল।

‘Dissau Crime’ নামের একটি র‍্যাপ ধারার গানের দল ‘Zyklon D’ নামে একটি ট্র্যাক গায়। এই ‘Zyklon D’ হচ্ছে নাৎসি’দের দ্বারা ব্যবহৃত একটি গ্যাস যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ইহুদী নিধনে গ্যাস চেম্বারে ব্যবহার করা হত। এইভাবেই ২০০৪ সালের অঞ্চলিক নির্বাচনে তারা ৯.২% ভোট পায়। খেয়াল করলেই দেখা যায় ১৯৭৫ থেকে ১৯৯১ সালের রাজনৈতিক ইতিহাস বিকৃতির সাফল্যে জামাত ইসলামি ১৯৯১ সালে প্রায় ১২.১% ভোট পায় বাংলাদেশে। ফ্রান্সের গবেষক প্যাট্রিক মর‍্যু জার্মানিতে NDP’র উপর গবেষণা করে এক রিপোর্টে বলেন সঙ্গীত-গান, বন্ধুত্ব এবং উচ্ছ্বাসের জীবনের মধ্য দিয়ে মন্থর রাজনীতিকরণের কাজটি করে। সেই একই কাজটি জামাতি ইসলামী বাংলাদেশে করছে নিজস্ব ঢঙ্গে। তাদের মূল হাতিয়ার ধর্ম, এই হাতিয়ার ব্যবহার করেই গত ৩৯ বছরে তারা নিজেদের যায়গা করে নিয়েছে। মাদ্রসা ভিত্তিক এই রাজনীতিকরণের বলি আজ দেশের বিশাল একটি যুবসমাজ।

যেসব গবেষণা এবং তথ্য প্রমাণ থেকে জার্মানি, অস্ট্রিয়া এবং ফ্রান্সের মত দেশ নাৎসি’দের সকল প্রকাশ প্রচার, প্রসার এবং রাজনীতিকরনের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে সেই একই পথে আমাদের না আগালে আগামীতে বিশাল মূল্য দিতে হবে ৩০ লক্ষ শহীদদের রক্তে কেনা এই বাঙলাকে।

৬) বাংলাদেশের করনীয়

২১ বছর ধরে পুড়েছে বাংলার ইতিহাস। মাকসুদ ও ঢাকা ‘র  প্রাপ্ত বয়সে নিষিদ্ধ এ্যালবামের ‘বাংলাদেশ’৯৫’ গানটির কথা মনে আছে? নজর দেই তার কোরাসের দিকে। তৎকালীন জামাত-বিএনপি সরকার এই এ্যালবামটি নিষিদ্ধ করেছিল। যেভাবে বেজে উঠলো মাকসুদ এর গীটার? তার কোন তুলনা হয় না।  নব্য-হানাদারদের এবং ছদ্মবেশী রাজনীতিবীদদের উদ্দেশ্যে ছোড়া কিছু সুতীব্র ও সুতীক্ষ্ণ শব্দ বুলেট ছিল পঙ্কতিগুলো। (এখানে বলে রাখা ভালো,  যুগ অর্থাৎ ইংরেজিতে Decade আমরা বাঙলায় বার বছর ধরলেও আসলে দশক অর্থে ব্যবহৃত হয়, দু’যুগ বলতে গীতিকার এবং সুরকার মাকসুদ ১৯৭৫-১৯৯৫ সালের ২০ বছরকে বুঝিয়েছেন।)

“বাংলাদেশ, মাগো, আমি তোমার সোনার ছেলে ,
আগুনে পুড়েছি দু-যুগ ধরে ,
এ দেশ রক্তে ভেজা, অশ্রু ভেজা এ বাংলাদেশ ,
আগলে রেখেছি মাগো শত লোভে প্রলোভনে,
আমি শত্রু চিনি মাগো তুমি ঘুমাও নির্ভয়ে…”

[ কৃতজ্ঞতা- শিরোনামঃ বাংলাদেশ ৯৫কথাঃ মাকসুদকন্ঠঃ মাকসুদঅ্যালবামঃ প্রাপ্ত বয়স্কের নিষিদ্ধব্যান্ডঃ মাকসুদ ও ঢাকা]

প্রকৃতপক্ষে, নব্য-হানাদারি আদর্শের পুনরুত্থান যা ঘটেছিল এক মহাকলঙ্কিত হত্যার মধ্যদিয়ে ১৯৭৫ সালে। তার প্রতিবাদই ছিল মাকসুদের উক্ত এ্যালবামটি।

যা হোক…গণহত্যা অস্বীকারের যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং ব্যাপক কার্যক্রম অপশক্তিরা শুরু করেছিলতার মূল হাতিয়ারই ছিল একাত্তরের গণহত্যাকে খেলো মরা এবং ইতিহাসকে বিকৃত করা। যার মাধ্যমেই মূলত এই অপ-রাজনৈতিক শক্তির আজকের শক্ত ভীত।  গোটা ইউরোপ জুড়ে সকল রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের গবেষণায় প্রাপ্ত সারাংশানুযায়ী, ‘এই অস্বীকার প্রক্রিয়া হচ্ছে গণহত্যাকারীদের আবারো মূল ধারায় নিয়ে আসা’। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে আমাদের বাংলাদেশে। তাহলে এখন করণীয় কী? আর্মেনিয়ান গণহত্যা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জার্মান গণহত্যা, কিংবা ফ্রান্স এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশে যেভাবে গণহত্যাকারীদের আদর্শ নির্মূলে আইন করেছে আমাদেরও সে পথেই হাঁটতে হবে! একমাত্র অনুরূপ আইন প্রণয়নই এই অপশক্তিকে নির্মূল করার একমাত্র হাতিয়ার। এই আইনে যে যে অপরাধকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিৎ সেগুলো হলঃ

*গণহত্যাকে অস্বীকার করা কিংবা ভারসাম্য দেয়ার চেষ্টা করা অথবা লঘুকরণের প্রচেষ্টা করা।

*১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসকে কটাক্ষ করা বা ইতিহাস বিকৃতি করা।

*মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধসমূহকেও অস্বীকার করা কিংবা ভারসাম্য দেয়ার চেষ্টা করা অথবা লঘূকরণের প্রচেষ্টা করা।

*১৯৭১ সালে যে আদর্শে আমাদের মুক্তির সংগ্রাম পরিচালিত হয় সে আদর্শের প্রতি অনুরূপ ভাব প্রকাশ করা।

*যেকোনো প্রকারের গণমাধ্যমে বর্ণবাদ  কিংবা হিংসার বানীর প্রচার করা।

*যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামাতে ইসলামের সকল প্রকার সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা সাথে সাথে তাদের আদর্শের প্রচার, মিডিয়াতে বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের প্রকাশসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নাৎসি এবং নব্যও-নাৎসিজমের মত করে নিষিদ্ধ করা।

মূল এই বিষয়গুলোকে মাথায় রেখেই আইনটি করতে হবে। সাহায্য নেয়া যেতে পারে অনুরূপ জার্মান, ফ্রান্স কিংবা অষ্ট্রিয়ার পেনাল কোডের। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিচারবিভাগীয় কমিটি বর্তমানে চলমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালদ্বয়ের রায়ের সাথে সমন্বয় রেখেই এই আইন করতে পারে এবং করাটাই সমীচীন।                                            

৭) শেষকথা

আমরা বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্যে ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করিয়াছি;

আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হইবে গনতান্রিক পদ্ধতিতে এমন একটি শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা…” side effects of quitting prednisone cold turkey

কথাগুলো খুব পরিচিত মনে হচ্ছে?

হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। আমাদের সংবিধানের প্রস্তাবনার প্রথম দুই স্তবকের কিছু অংশ। এই সুমহান অর্জন যাদের ত্যাগে তাঁদের প্রতি একদল দুই-পেয়ো পশু অসম্মানের স্পর্ধা করবে তা আমরা কিছুতেই মেনে নেবো না। আমরা উপরোক্ত অনেক উদাহরণে দেখেছি সর্বাঙ্গীণ বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী রাষ্ট্রসমূহ কীভাবে তাঁদের দেশের সংগঠিত গণহত্যাকারীদের এবং তাদের সকল কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করেছে। আজ স্বাধীনতার প্রায় ৪৫ বছর পর আমরা একে একে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি, ট্রাইব্যুনাল এরই মধ্যে একটি তথাকথিত ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনকে ১৯৭১ সালের তাদের ভূমিকার জন্যে সাজা দিয়েছে এবং অপরাধী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কেবল একটি দেশের যুদ্ধে ১০ মাসে এই বিপুল পরিমাণ গণহত্যা নাৎসিদের ৬ বছর ব্যাপী গণহত্যাকেও হাড় মানায়। অথচ নাৎসিদের সকল কর্মকাণ্ড আজ জার্মানিসহ ইউরোপের অনেক দেশে নিষিদ্ধ হলেও আমরা বাংলাদেশে এই নৃশংস মানবতাবিরোধী সংগঠন জামাতকে নিষিদ্ধ করতে পারছি না।

যে পথ ধরে আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি সে পথেই আমাদেরকে গণহত্যা অস্বীকারকারীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আর এ জন্যে ‘জেনোসাইড ডিনায়েল ল’ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিরোধে আইন এখন সময়ের কঠোর দাবী। কেবল আজ কিংবা আগামীকালের জন্যে নয়, বরং আগামী প্রতিটা কালের, প্রতিটা যুগের, প্রতিটা সভ্যতার প্রত্যেক লহমার জন্য একটি শোষণমুক্ত গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যমুক্ত সমাজতান্ত্রিক নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি অনিবার্য দাবী। can levitra and viagra be taken together

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধে Genocide Denial Law চাই …

kamagra pastillas

You may also like...

  1. মাশিয়াত খান বলছেনঃ

    নিঃসন্দেহে খুব ভাল লিখেছে। অনেক বড় পোস্ট। তবে আমার মনে হয়েছে যদি জামাতের এই বিষ ছড়ানোর বিষয়টা আরো কিছু উদাহরণ দিয়ে পরিস্কার করতেন তাহলে হয়ত পোস্টটাকে আরো পূর্ণ লাগত। একজন সাধারণ পাঠককে পড়তে দিলে ঐ শূণ্যতা বড় চোখে পড়বে। সে জামাতের অভিশাপ ঠিকমত অনুধাবনই করবে না। এখানে এরকম উদাহরণ হলে ভাল হত।
    তবে সত্যিই খুব ভাল লিখেছেন। অনেকদিন পর আপনার লেখা পড়ে টুপি পড়ে গেল।

  2. আমার মনেহয় এই আইনটা আরও অনেক আগেই করা উচিৎ ছিল। তাহলে ইতিহাসের অনেক অনেক অংশই বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা পেতো । কিন্তু গত কয়েকদিনে আমি লক্ষ্য করেছি, স্বাধীনতার পক্ষ নেয়া অনেক লেবাসধারীও এই আইনের বিরোধিতা করছে। তাদের কথা হল, ” কি দরকার এসব আইনের”… আমি অবাক হয়ে যাই এদের কথা শুনে। আমি আশাবাদী এই ব্যাপারে একবার যখন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তখন জয় আমাদের হবেই।
    আপনার লেখাগুলো বরাবরই তথ্যসমৃদ্ধ হয়। আমি এই বিষয়ে এতো গোছানো লেখা এর আগে খুঁজেও পাইনি। সংগ্রহে রাখার মতো লেখা।

    পোস্টটাকে স্টিকি করার দাবি জানাই…

    accutane prices
    • তারিক লিংকন বলছেনঃ

      অনেক অনেক ধন্যবাদ! আমি আসলে বিএনপি’র এক নারী নেত্রি সংসদে এ নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছিল তা খোজছিলাম! সকল দেশের ইতিহাস ঘেঁটে সব জড়ো করে এক সাথে লিখা আসলেই সময় সাপেক্ষ ব্যাপার! যার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অপূর্ণ রেখে পোস্ট করতে হল। তাও সময় মত পারি নি! আমিও বুঝি আরও ২/৩ দিন আগে হলে ভাল হত…

    private dermatologist london accutane
  3. দারুণ সময়োপযোগী লেখা। অন্তত, এই বর্তমান সময়ে, যখন দেশের স্বাধীনতা বিরোধীরা ফ্রন্টলাইনে দাঁড়ানোর সুযোগ হারিয়ে, এখন পেছন থেকে আমাদের নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে, আর যখন তাদের এই মিথ্যাচারের প্রতিক্রিয়া কী হওয়া উচিৎ – মতপ্রকাশের অধিকারের বুলি না’কি “তথাকথিত নিরপেক্ষতা” থেকে বেরিয়ে এসে সত্যের পক্ষালম্বন, এই নিয়ে অনেকেই দ্বিধান্বিত, তখন এই লেখাটা দারুণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করি। অন্তত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যে কখনই মিথ্যাচারের স্বাধীনতা হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, হতে পারে না, তার ইতিহাস খুব সুন্দরভাবে ফুঁটে উঠেছে লেখাটায়।

    The darkest places in hell are reserved for those who maintain their neutrality in times of moral crisis. – Dante Alighieri walgreens pharmacy technician application online

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

metformin gliclazide sitagliptin

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

doctorate of pharmacy online