অর্থনৈতিক মুক্তি ও নারী স্বাধীনতা

499

বার পঠিত

পরিবর্তন পোস্টটায় বেশ কিছু সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বিশেষ করে অর্থনৈতিক মুক্তির বিষয়টি উল্লেখ না করায় বেশি সমালোচিত হয়েছিলাম। তাতক্ষনিক উত্তর দেবার ইচ্ছা থাকলেও যথেষ্ট সময় না পাওয়ায় প্রতিউত্তর দেয়া হয়নি। তাই আন্তরিকভাবে দুঃখিত। সময় করে আজ বসেছি সেসব সমালোচনার উত্তর দিতে।

মার্ক্সের একটি বহুল প্রচলিত উক্তি- Economy determines everything.  তবে এটি মনে হয় আমাদের জন্য প্রযোজ্য।  মানবসভ্যতার ইতিহাসে prehistoric, ancient, slave social constitution পর্যন্ত অর্থের আবির্ভাব ঘটেনি। অর্থের প্রচলন ও প্রয়োজন প্রথম দেখা যায় feudal social constitution-এ এবং এর পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্নভাবে অর্থের ব্যবহার চলে আসছে। বর্তমানে ব্যবস্থা এমন যে, money is the one and only god. যাই হোক অর্থের প্রচলন যদিও সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় কিন্তু পুরুষতন্ত্রের আগমন ঘটেছে এরও অনেক আগে। কৃষি সমাজব্যবস্থার পরবর্তী সময়ে female dominated society-র পতন দেখা যায় এবং পেশির জোরে ভিটে গাড়তে শুরু করে পুরুষতন্ত্র। ancient এবং slave – এই দুই সামাজিক কাঠামোর মধ্যবর্তী সময়েই পশুপালন, কৃষি সমাজ ব্যবস্থার আবির্ভাব। অর্থাৎ এটা স্পষ্ট যে পুরুষতান্ত্রিকতার আবির্ভাব অর্থকে পুঁজি করে নয়। বরং পরবর্তী সময়ে সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তনের সাথে সাথে পুরুষতন্ত্রের হাতিয়ার বদলের ফলতই আজকে অর্থ নারীকে শোষনের অন্যতম এক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। খুব সরল করে ভাবলে এখানেই বোঝা যায় পুরুষতন্ত্রের মূল উৎপাটন করতে অর্থের শোষণ থেকে মুক্ত করলেই নারীকে মুক্ত করা যাবে না। কারণ এটি শিকড় নয়। তবে আপনাদের জন্য খুশির খবর এই যে হিসেব এত সরল নয়।

আমাদের আজকের সামাজিক কাঠামোতে অর্থ জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই কোনভাবেই অর্থকে বিচ্ছিন্ন করে জীবন চিন্তা করা সম্ভব নয়। বর্তমান সামাজিক কাঠামো অর্থকে শুধু জীবনের একটী অংশে পরিণত করেনি বরং বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। তাই অর্থ ছাড়া জীবন কল্পনা করাই অসম্ভব, মুক্তির কথা তো বাদই দিলাম। তবে এর সাথে নারীর মুক্তির সম্পর্ক তৈরি করা বাহুল্য মাত্র এবং নারী মুক্তির অন্যতম প্রতিবন্ধকগুলোকে অস্পষ্ট করে দেবার নামান্তর। দেখুন, অর্থ প্রত্যেক মানুষের মুক্তির জন্যই প্রয়োজন। এটি পৃথকভাবে নারীর জন্য আবশ্যকীয় বলাটা ঠিক নয়। নারী যেহেতু মানুষ এবং বর্তমান মানুষের সামাজিক কাঠামোতে যেহেতু অর্থ ছাড়া জীবন অচল সেহেতু নারীর জন্যও অর্থ প্রয়োজন। সরল হিসেবে দেখলে- খাদ্য প্রয়োজন সবারই, নারীর জন্য আলাদাভাবে বলবার কিছু নেই। আজ সমুদ্রবুকে যে অসহায় মানুষগুলো ভাসছে তারাও অর্থের অভাবেই এই নির্মমতার শিকার। খেতে না পারলে মানুষ যেমন ক্ষুদার্ত হয়ে উঠবে, অর্থ না থাকলেও মানুষ সেরকম দাস হয়ে যাবে- এটা খুব সরল সমীকরণ; অন্তত আজকের সমাজব্যবস্থায়। নারী শোষণের ক্ষেত্রে এ মৌলিক কোন হাতিয়ার নয়। মানুষ মাত্রই এর শিকার হবে- এই কাঠামোতে এটিই সত্য। সুতরাং এটি বলা ভুল যে নারীকে মুক্তি দিতে হলে অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে হবে তাকে। মানুষকে মুক্ত হতে হলেই অর্থাভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

নারীর মুক্তির সাথে সাধারণ চাহিদা হিসেবে অর্থের সম্পর্ক থাকলেও স্পষ্টত এটি কোনভাবেই নারীকে মুক্তি দিতে পারে না। এর ঢের উদাহরণ আপনি চোখ খুললেই দেখতে পারবেন। ধরুন, আপনার আজ বিশাল অর্থ রয়েছে। আপনি সমসাময়িক সবার চেয়ে বেশি উপার্জন করেন এবং নিজের ইচ্ছামত তা ব্যয় করার সুযোগও আপনার আছে। আপনি কি তাতে মুক্ত- স্বাধীনভাবে চলতে পারবেন? সত্যি বলতে যত বেশি উপার্জনই করুন একা একজন নারী একটি ঘর ভাড়া করে থাকার মত স্বাধীনতাটুকুও পায় না। single women এখনো এ সমাজে একটি কালিমা। middle class society তে আমরা প্রতিনিয়ত এর মুখোমুখি হই।

গত পোস্টে খুব সম্ভবত তারিক লিংকন বলছিলেন সেলাই দিদিমণিদের কথা। তারা বর্তমানে উপার্জন করে এবং তারা আমাদের চেয়ে তুলনামূলক বেশি স্বাধীন। মন্তব্যটি পড়ে আমি হতাশ হয়েছি। দায়িত্বশীল কারো কাছ থেকে এরকম মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়।

বেগম রোকেয়া তার সময়ে অবরোধবাসিনী লেখার সময় মেয়েদের প্রয়োজনে লেডি ডাক্তার, লেডি ব্যারিস্টার হতে বলেছিলেন। কেননা মেয়েদের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রয়োজন ছিল। বিংশ শতাব্দীর মধ্য সময় পর্যন্ত এই উপমহাদেশে নারী মুক্তির জন্য অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলা হত। তাই সেই সময়ের নারীবাদকে middle class phenomena হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কেননা, অর্থনৈতিক মুক্তি প্রসঙ্গটা কেবল middle class নারীদের জন্যই প্রযোজ্য। নিম্নবিত্ত নারী বরাবরই অর্থনৈতিক কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিল, উচ্চবিত্ত নারীর সে বিষয়ে কোন ভাবনাই ছিল না। অর্থের জন্য পুরুষের মুখাপেক্ষিতা কেবল মধ্যবিত্ত নারীর জন্যই প্রযোজ্য। যে সেলাই দিদিমণিরা আজকে গার্মেন্টসে কাজ করছে বলে তাকে আপনি স্বাধীন ভাবছেন গতকাল তারা গৃহকর্মী হিসেবে বাড়িতে বাড়িতে কাজ করেছেন, গত পরশু তারা ছিলেন কৃষাণী হিসেবে। সুতরাং অর্থনৈতিক কাজের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা সবসময়ই ছিল। আজ তারা সেলাই দিদিমণি হিসেবে অর্থ উপার্জন করার জন্য তুলনামূলক স্বাধীন বিষয়টা সত্য নয়। আর উচ্চবিত্ত নারীদের স্বাধীনতার সাথে অর্থের অভাব না থাকায় অর্থের সম্পৃক্ততাই তেমন ছিল না। সুতরাং, অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে মধ্যবিত্ত নারী। তবে তা নারীর শোষণের পদ্ধতি পরিবর্তন করিয়েছে নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে পারেনি। তাই বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত যে অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলা হত শতাব্দীর শেষে এসে তার পরিবর্তে বলা হয়েছে ক্ষমতায়নের কথা।

কেন অর্থনৈতিক মুক্তির পরিবর্তে ক্ষমতায়নের কথা বলা হল? এই প্রশ্নটিই গুরুত্বপূর্ণ। সত্যি বলতে পুরুষতান্ত্রিক অবকাঠামোতে অর্থনীতির মানদন্ডগুলোও তো পুরুষতান্ত্রিক। অর্থনীতিক অবকাঠামো পুরুষতন্ত্রের তৈরি করা অবকাঠামোগুলোরই একটি। এজন্য এই মানদন্ডে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হিসেবে মূল্যায়িত হয় পুরুষের সব কর্মকান্ডগুলো। গৃহের বাইরে প্রায় সব ধরনের কাজে সামাজিক মূল্যায়ন রয়েছে, এমনকি অধিকাংশের রয়েছে অর্থনৈতিক মূল্যও। যেহেতু নারীর কাজ একটা সময় পর্যন্ত অন্দরমহলে ছিল তাই অন্দরমহলের কাজ কখনোই তেমন মূল্যায়ন পায়নি।

সামাজিক বিবর্তন কাঠামোতে এটি চলে এসেছে। কোন নারী ঘরে রান্নার কাজ করলে তার অর্থনৈতিক মূল্য নেই কিন্তু বাইরে রেস্তোরায় করলেই তা মূল্য পায়। ঘরে সে সন্তান লালন করলে তার মূল্য নেই কিন্তু বাইরে করলে আছে। সামাজিক বিবর্তনের ধারায় একটা সময় যেহেতু নারীর অন্দরমহলে বন্দি ছিল তাই অন্দরমহলের কোন কাজই অর্থনৈতিক মানদন্ডে স্থান করতে পারেনি। এমনকি সামাজিক মানদন্ডেও না। যদিও আজকের সেলাই দিদিমণিরা স্বাধীন বলে আমি মনে করিনা তারপরও আপনারা যে অর্থে স্বাধীন বলছেন এর কারণ  গত পরশু তিনি যে কৃষাণীর কাজ করত তার মূল্যায়ন তখনও করা হত না। এমনকি গৃহকর্মি থাকা অবস্থায়ও না। কিন্তু আজকে তারা অর্থনৈতিক মানদন্ডের থাকা কর্মকান্ডগুলোর সাথে যুক্ত বলে অনেকাংশেই তুলনামূলক স্বাধীন বলে মনে হয়। তবে এই স্বাধীনতা বাহ্যিক, বস্তুত নারীর মুক্তি এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

নারীকে এভাবে পুরুষতান্ত্রিক অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে যুক্ত করে স্বাধীনতা দেবার চেষ্টা বিপর্যয়ের নামান্তর মাত্র। আপনি ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন আমরা চেষ্টা করছি পুরুষতান্ত্রিক অবকাঠামোতে নারীকে স্বাধীনতা দিতে। পুরুষতন্ত্রের মাঝে নারীকে মূর্ত করতে। অনেকটা এক বাটি পায়েসে কিসমিস ছিটিয়ে চাল আর কিসমিস এক সমান করার চেষ্টা। উদাহরণটা খিচুরিতে চালের মাঝে ডাল দেবার মত করে ধরা যেতে পারে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না খাদ্যটি কিন্তু আসলে পায়েসই এবং পায়েসে আপনি যতই কিসমিস দেন মূখ্য উপাদান চালই থাকে। সুতরাং এই অবকাঠামোতে আপনি চাইলেও নারীর মুক্তি দিতে পারবেন না, অর্থনৈতিক মুক্তিও না। নারীকে মুক্ত না করতে পারলে, অর্থনৈতিক মুক্তির চিন্তা বাতুলতা।

নারীর কর্মের স্বীকৃতি যে সে পায় না তার মোক্ষম উদাহরণ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের সময় পুরুষেরা যখন যুদ্ধ ময়দানে চলে গেছে তখন এই সমাজ, ঘরগুলোকে টিকিয়ে রেখেছে নারী। নারীর মুক্তিযুদ্ধ ছিল সমাজকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ায়। আশ্রয় দেওয়ায়, খাদ্য দেবার মাঝে। তখনকার সময়ে পরিবার এবং সমাজকে চালিয়ে নিয়ে গেছে নারী। নারীর জন্য এটিই যুদ্ধ। পুরুষের মত মূর্ত রাইফেল হাতে নয়, বিমূর্ত হাতিয়ার দিয়ে। কিন্তু সেই কাজটিকে আমরা কখনই সামাজিক স্বীকৃতিই দেইনি। যেন এটা আর এমন কি কাজ! নারী না থাকলেও সমাজ চলত! কিন্তু পুরুষ মাঠে যুদ্ধ না করলে কি স্বাধীনতা হত? নারীর কাজগুলো কখনই মর্যাদা পায়নি, সামাজিকভাবেই না। অর্থনৈতিকভাবে পাবার তো প্রশ্নই ওঠে না। আর তার অর্থনৈতিক মূল্য পাওয়া যাবে কিভাবে?

আবার কোন একটা প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় আপনি দেখতে পারবেন নারী আগলে ধরে রাখছে পরিবারকে। মাচার উপর ঘর বেঁধে পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষা করা, ত্রাণ আনতে যাওয়া, পরিবারের সবাইকে খাবার দেওয়া- প্রধান কাজগুলো নারীই করে। এই সময়ে পুরুষের কাজ তেমন থাকে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দূর্যোগ পরিসংখ্যান কর্মকর্তাই একদিন বলছিলেন, এই যে দূর্যোগের সময় নারী আগলে ধরে রাখে সব- তার কোন ধরনের মূল্যায়ন কি আমরা করি? সামাজিক মানদন্ডেই তার স্থান নেই। সুতরাং অর্থনোইতিক মানদন্ডে তা আসবে কি করে? thuoc viagra cho nam

দূর্যোগের বা সংকটকাল বাদ দিয়ে নিত্য জীবনে যদি লক্ষ্য করি তাহলে দেখতেই পারি মায়েদের কাজের কোন মূল্যায়ন আমরা করিনা। এটি যেমন স্বাভাবিক তেমনি অনিবার্য। এটি নারীর উদারতা যে সে এর জন্য কোন অর্থনৈতিক মূল্য চায় না। কিন্তু তার এই কর্মের কি সামাজিক, অর্থনৈতিক মূল্যায়ন থাকার প্রয়োজন ছিল না? পরবর্তী প্রজন্মকে যে লালন করছে তার আঁচলের তলে- তার কাজকে বাধ্যতামূলক বলে আবজ্ঞা করা কতটা যৌক্তিক?

আপনি যদি নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে এই মানদন্ডের পতন না ঘটাতে পারেন তবে কোন মতেই নারীকে মুক্তি দিতে পারবেন না, এমনকি অর্থনৈতিক মুক্তিও না। এবার সেটার কিছু বাস্তব উদাহরণ দেই। উন্নত বিশ্ব অস্বীকার করে যে সেখানে কর্মক্ষেত্রে নারীর কাজকে কম মূল্য দেয়া হয়। নারীবাদীরা এক সময় বলত পুরুষ যেখানে ১ ডলার পায় নারী সেখানে .৬৯ ডলার পায়। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো তা অস্বীকার করে। এবং তারা দেখিয়েছে নারীকে কখনই কম মূল্য দেয়া হয় না কিন্তু পুরুষের তূলনায় তাদের working hour কম হওয়ায় তারা উপার্জন কম করে। এখন নারী যদি মনে করে সে বেশি সময় তার পরিবারে দিবে, সন্তানদের কাছে দিবে তাতে তার উপার্জন কমে গেলে নিশ্চয়ই দোষটি সামাজিক ব্যবস্থাপনার নয়?

ঠিক এখানেই আমি সমস্যাটি দেখি। মানদন্ড যেহেতু তৈরি হয়ে আছে পুরুষতান্ত্রিক কর্মক্ষেত্র দ্বারা সুতরাং সেখানে নারী সমান সমান প্রবেশাধিকার থাকলে নারীর নিজস্বতা, জৈবিকতার কারণেই সেখানে কম পরিশ্রম, সময় দিবে। একজন মা অবশ্যই তার সন্তানকে সঠিকভাবে গড়ে তোলাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে অধিক অর্থ উপার্জনের চেয়ে ( অধিকাংশ মা)। শুধু তাই নয় নারী নিজের স্বাধীনতাও ত্যাগ করতে পারে পরবর্তী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে চেয়ে। সুতরাং অধিকাংশ নারীই অস্বীকৃতি জানাবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে কর্মক্ষেত্রে শুধুমাত্র পুরুষের সমকক্ষতা অর্জনের জন্য। এখন যদি ব্যবস্থাপনা এমন হত যে নারী সন্তান লালন পালনের জন্য ভাতা পাচ্ছে। তবে? চিত্রটি উলটে দিন। এমন একটা সমাজ কল্পনা করুন, যেখানে ঘরে রান্না করার জন্য টাকা পাওয়া যায়, সন্তান লালন পালনের জন্য টাকা পাওয়া যায়, সন্তানদের সাথে সখ্যতার উপর সামাজিক মর্যাদা নির্ভর করে ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনার কি মনে হয় সেখানে পুরুষ হাজার চেষ্টা করলেও নারীর চেয়ে বেশি উপার্জন করতে পারত। দু’একজন ব্যতিক্রম হতে পারে। তবে অধিকাংশই ব্যর্থ হত। কারণ বৈশিষ্ট্যগতভাবেই নারীর দক্ষতা রয়েছে এসব ক্ষেত্রে। তার মানে এই নয় যে অন্য ক্ষেত্রে তার দক্ষতার অভাব। এসব দক্ষতাও সামাজিকভাবে বিবর্তিত হতে পারে।  তবে সেই আলোচনা এখানে করা অপ্রয়োজনীয়। viagra en uk

সুতরাং এই মানদন্ডে নারীর পুরুষের ন্যায় সমান উপার্জনের সুযোগ থাকলেও নারীর বৈশিষ্ট্যগতভাবে এই মানদন্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করে স্বকীয়তা হারাতে চায় না। যেসব নারী সব ঠিক রেখে পুরুষের ন্যায় উন্নত অবস্থায় উঠতে পারে তারা সেদিকে মনোনিবেশ করে, বাকি কিছু  ব্যতিক্রম থাকে। তাই working hour নারীর কম দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে উপার্জনের খাতায়ও কিছুটা অপূর্ণতা থাকে। সুতরাং, পুরুষতান্ত্রিক অর্থনৈতিক মানদন্ডে আপনি নারীকে সম্পূর্ন মুক্তি দিতে পারেন না। এমনকি যতক্ষণ না আপনি এই অবকাঠামো পরিবর্তন করছেন ততক্ষণ আপনি নারীকে অর্থনৈতিক মুক্তিও দিতে পারেন না। can you tan after accutane

এবার এবার একটু নিজ দেশে ফিরে আসি।

খুব সম্ভবত অপার্থিব গত পোস্টে হূমায়ূন আজাদ স্যারের নারী বই থেকে একটী উদ্ধৃতি কোট করে দিয়েছিল। যদিও আমি বইটিতে ৩৭২ পৃষ্ঠাই খুঁজে পাইনি। পৃষ্ঠার স্বলতাই হয়ত আমার জ্ঞানের স্বল্পতার কারণ। নারী’ বইয়ের একটি উদ্ধৃতি আমার খুব মনে পড়ে।

‘দেশের প্রধানমন্ত্রীও পঙ্গু পুরুষের কাছে নিরাপদ নয়।”

বিষয়টা এখানেই, আমাদের দেশে নারীর জন্য আইন, মর্যাদা, স্বাধীনতা সবকিছুর সংজ্ঞা ভিন্ন। সব কিছুর উপরে নারীর প্রধান এবং একমাত্র যোগ্যতা তার সতীত্ব। যে নারী বিশাল উপার্জন করে তাকেও সমাজ একঘরে করে রাখতে পারে শুধুমাত্র সতীত্বের প্রসং তুলে। তাই বিশাল উপার্জন করলেও আমি স্বাধীন নই। খুব বেশি হলে স্বামীর উপর দু’একটা সিদ্ধান্ত জানাতে পারব, দু’চারটা চড় থাপ্পর কম খাবো। কিন্তু যে স্বাধীনতা প্রাপ্য তার কানাকড়িও পাবো না।

বাস্তব জীবনে আমি এমন অনেক উদাহরণ দেখাতে পারব যেখানে অর্থ উপার্জন করেও নারী স্বাধীন নয়। রবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা একজন নারী। তিনি একাই তার ছেলে মেয়েদের লালন পালন করছেন। তাকে যখন প্রশ্ন করা হল বাইরের পরিস্থিতি তিনি কিভাবে সামলান? তিনি বলেছিলেন, আমার গন্ডি খুব ছোট। অফিস আর পরিবার। পরবর্তীতে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে, তার গন্ডি এত সীমিত কারণ তিনি বাইরের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চান না জন্য তা থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। অর্থাৎ, নারীর জীবন এমন। সে যত উচ্চপদস্থ হোক বা বেশি উপার্জন করুক সে নিজে যেমন সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে না তেমনি নিজেকে দূরে রাখতে চেষ্টা করবে সব অপ্রীতিকর বাস্তবতা থেকে।

তসলিমা নাসরীনের আত্মজীবনীতে দেখা যায় জনপ্রিয় হবার আগে তার যখন যথেষ্ট অর্থ ছিল তখনো নিজের জন্য একটা বাসা খুঁজতে তাকে কতটা ধর্না দিতে হয়। এই বাস্তবতা আমাদের প্রত্যেক নারীর জীবনেরই। ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিনীর আত্মজীবনীতেও আমরা দেখতে পারি তাকে কত কটু কথা শুনতে হয়েছে ধর্ষিত হবার কারণে। যতই অর্থ বিত্ত, মেধা থাকুকু_ নারীর মর্যাদা মাপ্পা হয় সতীত্বে। এই মৃত মহাদেশে প্রত্যেক নারীর গল্পই এমন।

সুতরাং অর্থনৈতিক মুক্তিই নারীকে মুক্তি দিতে পারে কথাটি অবান্তর। এটা আপনাদের বউদের জন্য প্রযোজ্য হলেও হতে পারে। সামগ্রিক নারী সমাজের জন্য তা কখনই নয়।

বরং আপনি ভাবুন তো এমন একটা সমাজ যেখানে কেউ জানেই না নারীর গায়ে হাত তোলা যায়, নারীকে পীড়ন করা যায়। সেখানে কি নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি না থাকলে নারী শোষণের শিকার হত? হত না। প্রায় সবারই জানা যে , উন্নত বিশ্বে সন্তানদের গায়ে হাত তুললে ৯১১ এ ফোন করে অভিযোগ করার সুযোগ আছে। সেখানে আমেরিকান বা কানাডীয় বাবা মা-রা সন্তানদের উপর তেমন হাত তুলেন না। কিন্তু প্রবাসী অনেক বাংলাদেশীই তাই করেন। একই নীতি দু’শ্রেণির জন্য থাকলেও বাংলাদেশী আমরা এই সামাজিক রীতিতেই বড় হয়েছি জন্য এই ধারনা আমাদের মাথা থেকে উঠতে পারেনি। আইনও তা পুরোপুরি দূর করতে পারেনি। নারী মুক্তির ক্ষেত্রে অবকাঠামো ঠিক একই রকম ভূমিকা পালন করে।

অর্থনৈতিক মুক্তিকে নারী মুক্তির পথ হিসেবে চিহ্নিত করলে ভুল হবে এইজন্য যে তখন তা পুরুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। যে শ্রেণির পুরুষকে অর্থের প্রভুত্ব স্বীকার করে তারা বিত্তশালী নারীদের সমীহ করবে। যারা পুরুষের কতৃত্বে বিশ্বাসী তারা বিত্তশালী- বিত্তহীন কোন কিছুরই ধার ধারবে না।

নারী মুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা সতীত্বের ধারনা। নারী সব কিছু থেকে মুক্তি পেলেও সতীত্বের ধারনা থেকে মুক্তি না পেলে অর্থাৎ যৌনতার স্বাধীনতা না পেলে কোনভাবেই মুক্তি লাভ করবে না। বরং নতুনরুপে সামাজিক অবকাঠামো পরিবর্তনের সাথে সাথে নারীর প্রতি শোষনের পদ্ধতি বদলাতে থাকবে। কিন্তু শোষণ চলতেই থাকবে। অর্থনৈতিক মুক্তিও কোন কাজে আসবে না।

এখানে আমার এক জনৈক বন্ধু আমাকে বলেছিল যৌনতার স্বাধীনতার সাথেও অর্থনৈতিক মুক্তি বিষয়টা জড়িত। যেমন সেলাই দিদিমণিরা তুলনামূলকভাবে যৌনকর্মে স্বাধীন আমাদের চেয়ে কারণ আমাদের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে তারা বেশি স্বাধীন। বড্ড হাসি পেয়েছিল তার কথায়। এত সরল ‘গরল’ সমীকরণ এর আগে কম দেখেছি। যৌনতার স্বাধীনতা বিষয়টাই যারা বোঝেন না তারা কেন এই সমীকরণ মিলাতে বসেন এটাই আমি বুঝতে পারিনা। আমাদের সেলাইদিদিমণিরা কখনই যৌনতার স্বাধীনতা উপভোগ করেনি। যৌন কর্ম এবং যৌনতার মধ্যে বিশাল ব্যবধান আছে। এই বিষয়টি সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা থাকা প্রয়োজন যৌনতার স্বাধীনতা বুঝতে।

কামসূত্র রচনার ইতিহাসে পড়েছিলাম আজ থেকে ৩০০০ বছর আগে এটি লেখা শুরু হয়। তৎকালীন ব্রাক্ষ্মণরা কিভাবে নিচুবর্ণের নারীদের, পরিচারিকেদের সাথে যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হতেন সেই পদ্ধতিই পরবর্তীতে লিপিবদ্ধ হয়েছে। এবং বিধান হিসেবে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যদিও তখন সেসব নারী অধিক পরিমাণে সঙ্গমে লিপ্ত হত এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বেচ্ছায়ও তারপরও এটি চিহ্নিত ধর্ষণ হিসেবে। নারীর জন্য এটি ধর্ষন ব্যতিত কিছুই না। তবে জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে নারী তা উপলব্ধি করে না। এমনকি এখনো না। যার কারণে সেলাইদিদিমণিরা তুলনামূলক বেশি যৌনকর্মে লিপ্ত হতে পারলেও যৌনতার স্বাধীনতা তারা পান না। ( একই সাথে এখনো যেহেতু কামসুত্রের বিধান প্রচলিত সমাজে তাই নারী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বলি হয় যৌনতার।) can levitra and viagra be taken together

আমি পোস্টের শুরুতেই বলেছি মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের যেরকম স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে অর্থের চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়া প্রয়োজন নারীরও তেমন প্রয়োজন। কিন্তু এটি নারীকে কোনভাবেই মুক্তি দিতে পারেনা। নারীর জন্য আইন বিধান যেহেতু পৃথক সেহেতু মুক্তির পথটিই ভিন্ন। আপনি যতই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করুন সামাজিক কাঠামো থেকে সতীত্বের ধারনা তুলতে না পারলে, পুরুষতন্ত্রের মূল উৎপাটন করতে না পারলে কোনভাবেই তাকে মুক্তি দিতে পারবেন্ না। তাই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, সামাজিক অবকাঠামোর পরিবর্তন ছাড়া কোনভাবেই নারীকে মুক্তি দেয়া সম্ভব নয়। will metformin help me lose weight fast

আমার ঐ বন্ধু আরেকটা কথা ভাল ব বলেছিল। নারীর সব ধরনের স্বাধীনতার জন্য, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের জন্যও অর্থের প্রয়োজন। এই কথাটি আংশিক সত্য। অর্থনৈতিক মুক্তির অভাবের কারণে আমরা ধর্মীয় গোঁড়ামি, সামাজিক প্রথা অনেক কিছু থেকে বেরিয়ে আসতে পারছি না। যেখানে রাষ্ট্রই সম্পপূর্ণ মুক্ত নয় সেখানে নারী কিভাবে মুক্তি পাবে? তবে এই সূত্রে আপনি বলতে পারেন না যে অর্থনৈতিক মুক্তিই নারীকে মুক্তি দিতে পারে। নারীসমকামী চার্লি ক্লার্ক বলেছিল, ‘ কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ ও শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদ উভয়ের দ্বারাই আমি নিপীড়িত- নির্যাতিত হয়েছি।’ বিষয়টা এখানেই নারী অন্যের অধীন থাকলে সে দু’ভাবে নির্যাতিত হয়, মানুষ হিসেবে এবং নারী হিসেবে। অর্থনৈতিক মুক্তি তাকে মানুষ হিসেবে নিপীড়ন থেকে মুক্তি দিতে পারে কিন্তু নারী হিসেবে সে প্রতি নিয়ত যে নির্যাতনের শিকার তা থেকে মুক্তি দিতে পারেনা। এজন্যই নারী স্বাধীনতার জন্য অর্থনৈতিক মুক্তিকেই আলাদাভাবে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয় না। সাম্যবাদই সেই জায়গায় বৈষম্য কমাতে পারে, নারীবাদ তা পারেনা। অর্থের নিগুঢ় থেকে মুক্তির এই আন্দোলন তাই সাম্যবাদিতার খাতায় গিয়ে ঠাঁই নিয়েছে। সাম্যবাদের সাথে নারীবাদের কোন্দল নেই। বরং নারীবাদ একাংশের কথা বললে সাম্যবাদ সব মানুষের কথা বলে। তবে আমার অত শিক্ষা বা জ্ঞান না থাকায় আমি অত বিশাল অংশের মানুষের মুক্তির জন্য চিৎকার করতে পারিনা। বরং আমি কথা বলি আমাকে নিয়ে, নারীকে নিয়ে, নারী হিসেবে শিকার হওয়া নির্যাতনকে নিয়ে। তাও চিৎকার করে নয় বলি মৃদ্যু স্বরে যা কারো কানে পৌঁছায়, কারো কর্ণকুহরে গেলেও বাকি পথটি পাড়ি দিতে পারে না, কারো বা সে পর্যন্তও যায় না। accutane prices

শেষে একটি কথা বলতে চাই। আক্ষেপের জায়গা থেকেই বলছি। আমাদের সমাজে ইদানিং অনেক নারী স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ দেখা যায়। নারীর পক্ষে পুরুষের সংখ্যা অনেক। নারীবাদ বা নারী স্বাধীনতা এমনই সস্তা হয়ে গেছে যে যেকোন পুরুষ যদি মনে করে সে তার স্ত্রীকে স্বাধীনতা দিতে চায় তবেই সে নারীবাদী হয়ে গেল। খাতা কলম নিয়ে লিখতে বসে গেল নারীর পক্ষে। সত্যি বলতে আমার এটা বলতে দ্বিধা হয় যে আমি নারীবাদী। হ্যা, আমি নারী স্বাধীনতা চাই তবে নারীবাদী নই এখনো সম্পূর্ণ। কারণ, নারীবাদ দর্শনের একটি অংশ। এবং ক্ষুদ্র কোন অংশ নয়। মানবসমাজের অর্ধেকের বেশি অংশ জুঁড়ে যে মানুষগুলোর উপস্থিতি তাদের ইতিহাস, বাস্তবতা, অবস্থান সর্বোপরি যে দর্শন তা মোটেও ক্ষুদ্র নয়। সুতরাং নারীবাদী হতে নারীকে সত্যিই স্বাধীনতা দিতে চাইলে আপনাকে নারীর অতীত অবস্থান, শোষনের ইতিহাস, বর্তমান, ভবিষ্যত সব সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। তা না হলে দিন দিন নারীবাদ সস্তা থেকে আরো সস্তা, তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের বিষয় হবে। এবং আপনি সেই অন্যায়ের অন্যতম প্রশ্রয়দাতা হিসেবে চিহ্নিত হবেন পরবর্তী প্রজন্মের কাছে।

এখানে একটা অপ্রয়োজনীয় উদাহরণ দেই। আমাদের বর্তমান পুরুষেরা যেমন নারীকে স্বাধীনতা দিতে চায় তাদের তুলনা করা যায় বর্তমান পেমিকদের সাথে। যেমন তারা চায় তাদের প্রেমিকাদের সূখী করতে। ভালবাসার ফলত প্রত্যেক প্রেমিকই চায় তার সঙ্গীটি অন্তরঙ্গতায় আনন্দ পাক। এবং একটা ডকুমেন্টারিতে দেখেছিলাম পুরুষেরা তাদের সঙ্গীদের হাসিমুখ, শরীরের বিভিন্ন ইঙ্গিত দেখে ভেবেছিল তাদের সঙ্গীরা যথেষ্ট খুশি। মোটামোটি সব পুরুষই তাই মনে করে। পরবর্তীতে সেই সঙ্গী নারীগুলো যখন নিজেদের মধ্যে কথা বলছিল তখন তারা একজন অন্যজনকে বলাবলি করছিল, ‘১ম ৩ মাস আমি কোন আনন্দই পাইনি বরং প্রথম দিকে প্রচন্ড কষ্ট হত, ভয় হত। পুরুষটিকে দেখে কেমন হাসি পেত। আরো বেশি রাগ লাগত নিবৃত্তিতে। নিরর্থক মনে হত’। বিষয়টা আসলেই এখানেই আপনি যতই আপনার সঙ্গীকে খুশি করতে চান সঙ্গীর মনস্তত্ব সম্পর্কে আপনার ধারনা না থাকলে আপনি নিশ্চিত ব্যররথ হবেন কিন্তু এই ব্যর্থতা সম্পর্কে আপনার জানাও থাকবেনা। বরং ভুল সন্তুষ্টি নিয়ে ভ্রান্ত ধারনা ছড়াতে থাকবেন। একই রকমভাবে নারী স্বাধীনতা বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনার পরিস্কার ধারনা না থাকলে আপনি যতই আগ্রহী হোন না কেন কোন লাভ হবে না। বরং আপনার কল্পনাপ্রসূত ধারনাগুলো ছড়াতে থাকবেন এবং প্রসারিত করবেন সিউডফিলোসফির পথ। হয়ত আপনার অজান্তেই, আপনার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও নিতান্তই অজ্ঞতার কারণে তা করে বসবেন।

  walgreens pharmacy technician application online

যেহেতু নারীবাদ দর্শনের একটি অংশ তাই আমি আশা করব নারীবাদকে এত খেলো করবেন না একই সাথে দর্শনকেও নয়।

[ কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণের কোন উদ্দেশ্য ছিল না। তারপরও যাদের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে তাদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। ]

[ পুরো পোস্ট লেখার পর আমার বারবার মনে হয়েছে আমি হয়ত আপনাদের বোঝাতে পারিনি কেন আমি অর্থনৈতিক মুক্তির বিষয়টি টানিনি। সত্যি বলতে নারীর নির্যাতন এতই প্রসারিত আর এত বৈচিত্রতায় ভরা যে আমার পক্ষে সব তুলে ধরা সম্ভব না। শুধু তাই না আমার সন্দেহ হয় আমি নিজেই তা সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারি কিনা! ]

zithromax azithromycin 250 mg

You may also like...

  1. আমি যেটি উদ্ধৃত করেছিলাম সেটি ছিল সিমন দ্য বোভয়ারের লেখা “দ্য সেকেন্ড সেক্স” বই থেকে, হুমায়ূন আজাদ যেটিকে “দ্বিতীয় লিঙ্গ” শিরোনামে অনুবাদ করেছিলেন। হুমায়ূন আজাদ এর বাইরেও “নারী” শিরোনামে আরো একটি মৌলিক বই লিখেছিলেন । আপনি মহাশয়া তো এই দুটোকে এক বানিয়ে ফেলেছেন !!!!!! পৃষ্ঠার স্বল্পতা নয়, মনে হয় দৃষ্টি শক্তির স্বল্পতাই এখানে সমস্যা তৈরী করেছে।

    যাক সে প্রসঙ্গ … আপনার এই লেখাটি আগের লেখাটির তুলনায় আকৃতিতে অনেক ছোট হলেও তুলনামুলক বেশি মান সম্পন্ন। আপনি ঠিকই বলেছেন যে পুরুষতান্ত্রীক অর্থনৈতিক অবকাঠামো নারী মুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা। এখন সঙ্গত কারনেই প্রশ্ন আসে পুরুষতান্ত্রীক অর্থনৈতিক অবকাঠামো আজকের মত এভাবে জেকে বসলো কিভাবে? আমরা জানি যে আদিম সমাজে নারী পুরুষের মধ্যে কোন ভেদাভেদ ছিল না বরং সন্তান জন্মদানের জন্য নারীকে সম্মানের চোখে দেখা হত। ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই মুলত পুরুষতন্ত্রের উদ্ভভ হয়। ফ্রেডারিক এঙ্গেলস তার ‘দ্য ওরিজিন অব দ্য ফ্যামিলি, প্রাইভেট প্রপার্টি অ্যান্ড দ্য স্টেট’ বইয়ে লেখেন “শিকার ও খাদ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে যেসব সমাজ প্রতিষ্ঠিত, যেখানে জনজাতির সবাই শ্রম দান করে এবং সব সম্পত্তি সম্প্রদায়ের মালিকানাভুক্ত, সেখানে নারী কোনো দ্বিতীয় স্থান ভোগ করত না। নারীর অধঃস্তনতার অভ্যুদয় ঘটে ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর ভিত্তি করে যখন নির্দিষ্ট শ্রেণীসমাজ গড়ে ওঠে। পুরুষ প্রাধান্য কম-বেশি বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতায় পরিলক্ষিত হয়,তা দুই লিঙ্গের মধ্যে কোনো দেহগত বৈশিষ্ট্যের জন্য নয়, বরং কালক্রমে তা ঐতিহাসিকভাবে নির্ধারিত হয়ে গেছে। শ্রেণীবিভক্ত সমাজে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পুরুষের ওপর বর্তালে নারীর অধঃস্তনতা বিকাশ লাভ করে।” এরপর সভ্যতা যতই এগিয়েছে উৎপাদনের উপকরনের উপর পুরুষের নিয়ন্ত্রন আরো বেড়েছে। নারীদের শোষণ করার উদ্দেশ্যে পুরুষতন্ত্র তার সুবিধা মত আইন প্রণয়ন করেছে আবার সময়ের প্রয়োজনে সেগুলোর কিছু অংশ বাতিলও করেছে। মুলত এভাবেই গড়ে উঠেছে আজকের এই শক্তিশালী পুরুষতান্ত্রীক অবকাঠামো। এখন বাস্তবতা হল এই পুরুষতান্ত্রীক অবকাঠামো ভাঙ্গার জন্য কোন জাদুর কাঠি নেই । আপনি বললেন আর পুরুষতান্ত্রীক অর্থনৈতিক অবকাঠামো ভেঙ্গে পড়ল ব্যাপারটি এমন নয়। যে ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তির উপর অধিকার হারানোর ফলে নারীর শোষনের যাত্রা শুরু সেই সম্পত্তির উপর নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠাই এই পুরুষতান্ত্রীক অবকাঠামো ভাঙ্গার সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়।

    //অর্থনৈতিক মুক্তি প্রসঙ্গটা কেবল middle class নারীদের জন্যই প্রযোজ্য। নিম্নবিত্ত নারী বরাবরই অর্থনৈতিক কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিল, উচ্চবিত্ত নারীর সে বিষয়ে কোন ভাবনাই ছিল না।// para que sirve el amoxil pediatrico

    সম্পূর্ণ ভুল কথা । আপনি সম্ভবত অভিজাত শপিং মলে কেনা কাটার উপর ভিত্তি করে উচ্চবিত্ত নারীদের বিচার করেছেন। এখন প্রশ্ন হল আপনি যাদের উচ্চবিত্ত নারী হিসেবে চিহ্নিত করছেন আমাদের সমাজে সেই সব নারীদের সংখ্যা কত ? তারা কি নিজেরাই উচ্চ বিত্ত নাকি স্বামী কিংবা পিতার পরিচয়ে উচ্চবিত্ত? তারা শপিং মলে যে অর্থ খরচ করে সেই অর্থের মালিক কে সে নিজেই ? খেয়াল করলে দেখবেন যে নিম্ন ও মধ্য বিত্ত নারীদের তুলনায় এই সব তথাকথিত উচ্চবিত্ত নারীরাই পুরুষতন্ত্রের উপর বেশি নির্ভরশীল। হ্যা নিম্ন ও মধ্য বিত্ত নারীদের তুলনায় তারা কিছু বেশি স্বাধীনতা উপভোগ করে বটে কিন্ত এই স্বাধীনতাও পুরুষতন্ত্রের ডিফাইন করা। আর একটা কথা। আপনি বারবার নারীর অর্থ উপার্জন আর অর্থনৈতিক মুক্তিকে এই দুটোকে এক করে ফেলছেন। নিম্ন বিত্ত নারীরা আগেও উপার্জন করত, এখনো করে। কিন্ত সেই অর্থের উপর তাদের নিয়ন্ত্রন আগেও ছিল না, এখনো নেই । অর্থাৎ তারা অর্থনৈতিক ভাবে মুক্ত নয়। ঠিক এই জায়গাটিতে সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে নারীদের আত্ন উপলব্ধির প্রয়োজন। এক সময় নারীদের গার্মেন্টসে কাজ করাকে গ্রামাঞ্চলে চরম হেয় চোখে দেখা হত। কিন্ত সাম্প্রতিক সময় এই দৃষ্টি ভঙ্গীর ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। গত কয়েক বছরে আমাদের দেশে এমন কোন সামাজিক বিপ্লব হয়ে যায় নি তাহলে এই পরিবর্তনের ব্যাখ্যাটা কি ? ব্যাখ্যা সম্ভবত এটাই যে গার্মেন্টসের নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তি সমাজের একটা বড় অংশের তাদের প্রতি দৃষ্টি ভঙ্গীর পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করেছে। পরিবর্তনতা প্রথম শুরু হয়েছে পরিবারে এবং পরবর্তীতে ছড়িয়ে পড়েছে সমাজে। পেটে ভাত না জুটলে প্রেম কিংবা মুল্যবোধ কোনটারই আর কোন মুল্য থাকে না। হ্যা এটা সত্য যে অর্থ উপার্জনের পরও এই সব নারীরা সব ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারছে না কিন্ত তাদের এই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা চিন্তার স্বাধীনতা, সিদ্ধান্ত গ্রহনের স্বাধীনতা সহ আরো অনেক ক্ষেত্রেই যে তাদের বেশ খানিকটা এগিয়ে দিয়েছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই ।

    আপনি আর এক জায়গায় বলতে চাইছেন যে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাধীন হওয়া স্বত্বেও অনেক নারীকে সমাজে চলার পথে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয় কিন্ত এর পিছনে মূল কারণটি হল সামগ্রিক ভাবে নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তি না ঘটা। সামগ্রিক ভাবে যদি নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তি না ঘটে তাহলে এক দুজন নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি আপাত দৃষ্টিতে সমাজে কোন ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না । খেয়াল করলে দেখবেন যে ঢাকা শহরের বাড়িওয়ালাদের চেয়ে বাড়িওয়ালার স্ত্রীরা বাড়ি ভাড়া দেবার ব্যাপারে অনেক বেশি খুতখুতে হয়। বাসায় যেহেতু অধিকাংশ সময় নারীরাই থাকে, বাড়ির মালিক পুরুষটিও বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ব্যাপারে সাধারণত স্ত্রীর মতামতকে একটু বেশিই গুরুত্ব দেয়। ঘরে তরুনী মেয়ে থাকলে তারা সাধারণত ব্যাচেলর পুরুষদের বাড়ি ভাড়া দিতে চায় না কারন এক্ষেত্রে ভাড়াটিয়া ব্যাচেলরটিকে তার কাছে তার মেয়েদের জন্য হুমকি বলে মনে হয়। এক্ষেত্রে নানা অজুহাত দেখানো হলেও যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি কাজ করে সেটি হল নিরাপত্তাবোধের অভাব। আমাদের দেশের অধিকাংশ নারীই বেড়ে উঠার পথে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতাকে সংগী করে বড় হয়। তাদের মনস্তত্বে এই জিনিসটির প্রভাবও ব্যাপক। কর্মজীবি যে নারীটি শিক্ষা ও অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে এই নিরাপত্তাবোধের অভাবকে জয় করেছে সেই সৌভাগ্য তাদের সবার ভাগ্যে জোটে না। তাই তারা তাদের চোখ দিয়েই পৃথিবী দেখে। তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যবোধ তৈরী করে। তাদের চোখের সামনে একজন নারী সাবলম্বী হয়ে চলাফেরা করছে এটা তাদের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন হয়।

    সতীত্বের ধারনা দিয়ে নারীকে আটকে রাখার উপায় উদ্ভাবন করেছে কে ? পুরুষতন্ত্র। নারী যদি সতীত্বের ধারণা থেকে মুক্তি পায় পুরুষতন্ত্র যে নারীকে বদ্ধ করে রাখার অন্য কোন উপায় উদ্ভাবন করবে না তার কি কোন গ্যারান্টি আছে ? আর আগেই একদিন বলেছি যে শুধু নারীর যৌনতার স্বাধীনতাতে পুরুষের ক্ষতির কিছুই নেই । কারন একজন নারী যদি সমকামী না হয় তাহলে তাকে যৌনতার জন্য অবশ্যই পুরুষের উপর নিরভরশীল হতে হবে (স্বমেহনকে আপাতত হিসেবে ধরছি না)। আগে শুধু স্বামী নামের একজন পুরুষ তার সঙ্গে যৌনতার সুযোগ পেত, এখন হয়তো সে চাইলে ৫ জন , দশ জন কিংবা তারও অধিক সংখ্যক পুরুষ তার সঙ্গে যৌনতার সুযোগ পাবে। আর এম্নিতেই আমাদের সমাজে কিছুটা অপ্রকাশ্য ভাবে হলেও পুরুষের
    বহুগামীতা ব্যাপক ভাবে প্রচলিত , এটি এক্ষেত্রে আরো বিস্তৃত হবে। পুরুষ তন্ত্র নারীকে বদ্ধ করে রাখার নুতুন কোন উপায় উদ্ভাবন করে ফেলবে। এজন্যই বলছি যে একজন নারীর শরীরের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ কিন্ত অবশ্যই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ নয়। doctus viagra

    শেষের দিকে এসে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন , সেটি হল ক্ষমতায়ন। ক্ষমতায়নের জন্য প্রধানত দুটি জিনিস প্রয়োজন।
    ১) সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে নারীদের মনে ক্ষমতায়নের প্রক্রিয়া শুরু।
    ২) নারীদের রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়া।

    দ্বিতীয়টি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত না হওয়া পর্যন্ত নারীর ক্ষমতায়ন কখনোই সমাজকে রূপান্তরিত করতে পারবে না। আর শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি না থাকলে নারীদের পক্ষে কখনই শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হওয়া সম্ভব নয় কারণ সমাজ ও রাস্ট্রব্যবস্থার মুলই হচ্ছে অর্থনীতি, এই জাতীয় আশা করাই বরং দুরাশার নামান্তর।

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন * renal scan mag3 with lasix

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

ovulate twice on clomid

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.