লেবুর শরবত, একটি সম্পর্ক এবং নির্মম একটি রসিকতা

420 metformin gliclazide sitagliptin

বার পঠিত

মালিবাগ রেল গেট থেকে খিলগাঁয়ের দিকে যেতেই রাস্তার ডানদিকেই পড়ে মিলন হেয়ার কাটিং এন্ড সেলুন। সেই দোকানের নরসুন্দর রুবেল মিয়া আজ বেশ সকালবেলায় দোকানের সামনে এসে হাজির হয়েছে। দোকানের মালিক মিলন তখনও গভীর ঘুমে। গত কিছু দিন ধরেই রুবেল সকাল ৮ টার আগেই দোকানের আশেপাশে ঘুরঘুর করে। সবাই জানে যে সে মিলন হেয়ার কাটিং এর কর্মচারী তাই সাত সকালে দোকানের সামনে ঘোরাঘুরিতে কেউ কিছু মনে করে না। অবশ্য বিনা কারনে সাত সকালে রাস্তার মোড়ে ঘোরাঘুরি করার মত মানুষ রুবেল না। সকাল বেলা রাস্তার মোড়ে উপস্থিত হবার পিছনে তার একটা উদ্দেশ্য আছে। প্রতিদিন সকালে গার্মেন্টসের মেয়েরা দল বেধে সব কাজে যায়। একই বস্তিতে থাকার সুবাদে কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয়ও আছে তার। রুবেল প্রতিদিন সকালে রাস্তার  মোড়ে দাঁড়িয়ে সেই মেয়ে গুলোকে দেখে, কখনো ঠোটের কাছে আঙ্গুল দিয়ে শিষ মারে , পরিচিত দু একজনকে দেখলে দু চারটি কথাও ছুড়ে দেয়। পরিচিত মেয়ে গুলো রুবেলের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে, অপরিচিত গুলো কট কট করে তাকায় কিন্ত কাজে যাওয়ার তাড়া থাকায় কেউ কিছু বলে না। গতকাল এদের সঙ্গে একটা নুতুন মেয়েকে যেতে দেখেছে রুবেল। সেই মেয়েটিকে প্রথম বার  দেখাতেই রুবেলের বুক খানি ছলাত করে উঠেছিল। প্রতিদিন সে  এই রাস্তা দিয়ে কত মেয়েকে  আসা যাওয়া করতে দেখে কিন্ত এই মেয়েটিকে দেখে কেন তার বুক খানি মোচড় দিয়ে উঠছে তা  নিয়ে সে খানিকটা চিন্তিত। ইতমধ্যে মেয়েটার ব্যাপারে কিছু খোঁজ  খবর করাও শুরু করেছে সে। জানতে পেরেছে মেয়েটির নাম ঝর্ণা, মায়ের সঙ্গে নুতুন ঊঠেছে রেলগেট বস্তিতে। মেয়েটিকে দেখলে এফডিসির হিরোইন মাহিয়া মাহীর কথা মনে পড়ে রুবেলের। যেমন ফেস কাটিং ,তেমনই ফিগার। শুধু গায়ের রং অতটা উজ্জ্বল না তবে যা আছে হেইটাও খারাপ না। কত আর বয়স হবে মাইয়াটার ১৬ কি সতের। কিন্ত এই বয়সেই সারা শরীরে যৌবনের তেজ যেন উছলায়ে পড়তাছে। রুবেল মনে মনে বলে- মাইয়া লোকের শরীর আল্লাহপাকের অশেষ রহমত। আল্লাহ পাক সবাইরে সব জিনিস দেন না।

অবশ্য সুন্দরী মেয়ে রুবেল তার এই জীবনে কম দেখে নি ।  আগে যখন কাকলীর মোড়ের সামনে এক দোকানে কাজ করত তখন প্রতিদিন রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে প্রাইভেট ভার্সিটি পড়ুয়া আপুদের আসা যাওয়া করতে দেখত সে । জিন্স টপ পড়া সেই আপুদের  দেখলে সাক্ষাৎ কোন হুর পরী বলে মনে হত রুবেলের। মাঝে মধ্যে তাদের সঙ্গে কিছু ছেলেকেও ঘুরতে  ফিরতে দেখত সে । সবাই বলাবলি করত হেরা নাকি ফ্রেন্ড। রুবেলের মাথায় ঢোকে না একটা যুবক পোলা আর একটা যুবতী মাইয়া ফ্রেন্ড হয় কেমনে, নিশ্চয় হেগো মধ্যে কিছু একটা আছে। কৈশোরে একবার টিভিতে সালমান খান-ভাগ্যশ্রী অভিনীত ম্যায়নে পেয়ার কিয়া সিনেমা দেখেছিল সে। সেই সিনেমার আইকনিক ডায়লগ “লাড়কা অউর লাড়কি কাভি দোস্ত  নেহি হো সাখতি” তখন থেকেই তার মাথায় গভীর ভাবে গেথে আছে। দৃষ্টি শক্তিকে যতদুর প্রসারিত করা যায় তার সবটুকু দিয়ে ঐ আপুদের দেখত রুবেল। পা থেকে মাথা পর্যন্ত বাদ দিত না কিছুই। নিজের সকল কামনা বাসনা সে যেন তার ঐ দৃষ্টি শক্তি দিয়েই মেটাতে চাইত। তবে আপাতত গার্মেন্টস কন্যা ঝর্না বেগমের মধ্যেই রুবেল তার হুরপরীর সন্ধান পায়। ঝর্না বেগমের শরীরের দিকে তাকালে রুবেলের অঙ্গ প্রতঙ্গে বিদ্যুৎ খেলা করে ।   নিজের কামনা বাসনা পূরণের স্বার্থে  তাই আপাতত ঝর্না বেগমের শরীরের উপর উঠার উপায় অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে তার সকল ভাবনা চিন্তা আবর্তিত হয়।

অনেক ক্ষণ গলির মোড়ে দাড়িয়েও আজ ঝর্ণা বেগমের দেখা পায় না রুবেল। ব্যাপার কি ? মাইয়াটাকি আজ কামে যাইব না । নাকি আগেই চইলা গেছে এ জাতীয় ভাবনা চিন্তা খেয়াল করে রুবেলের মনে। খানিকটা হতাশ হয়েই সে ফিরে মিলন হেয়ার কাটিং এন্ড সেলুনে। দোকানের মালিক মিলন তখনও গভীর ঘুমে। রুবেলের ডাকাডাকিতে ঘুম ভাঙ্গে মিলনের। আধো ঘুম অবস্থায় সে বলে- কিরে রুবেইল্যা আইছস?

-হ ভাই।

-এত সকাল সকাল আইছস যে ? kamagra pastillas

-ইদানীং সকালেও ভাল কাষ্টমার পাওন যায় ভাই। glyburide metformin 2.5 500mg tabs

-তাই নাকি ? ঘর খান ঝাড় দে, আর দেখ তো পেপার দিছে নাকি ? levitra 20mg nebenwirkungen

-না ভাই, অহনো দেয় নাই ।

মিলন হেয়ার কাটিং এন্ড সেলুনে ঢাকা প্রতিদিন নামে একটা দৈনিক পত্রিকা রাখা হয় । অল্পবয়সী একটা ছেলে প্রতিদিন সকালে এসে পত্রিকা দিয়ে যায়। এছাড়া গত মাস থেকে তাদের দোকানে সানন্দা নামের একটা ম্যাগাজিনও রাখা হচ্ছে। সুন্দরী  মডেলদের ছবি থাকায় সেই ম্যাগাজিন নিয়ে যুবক কাষ্টমারেরা টানাটানি করে। গত মাসের পুরনো ম্যাগাজিনটা চুরি করে খাটের তোশকের নিচে রেখে দিয়েছে রুবেল। রাতে ঘরে ফিরে যখন সে মোবাইলে এক্সএক্সএক্স  দেখে তখন সে চুরি করা ম্যাগাজিনটিও বের করে সামনে রাখে। সাদা বিদেশিনীর ভিডিও আর দেশী মডেলের ছবি ছবি এই দুটোর মিথস্ক্রিয়া তার মধ্যে অদ্ভুত এক ভাললাগা বোধের জন্ম দেয়।

২)

সামিয়া অনেক ক্ষণ ধরে ক্যাফেটেরিয়ায় বসে আছে। “উত্তর-দক্ষিন” ইউনিভার্সিটির  বিবিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সে। ফার্মেসীর এশা , রিফান , সি এস ইর রাকা, তৌফিক , আর তার ডিপার্টমেন্টের ফারিয়া ও রকিকে নিয়ে একটা গ্যাং আছে তার , আছে একটা ফেসবুক গ্রুপ এই গ্রপের মাধ্যমে ইভেন্ট তৈরী করে বিভিন্ন সমাজ সেবা মুলক কাজের সঙ্গে যুক্ত তারা। সামিয়াকেই এই গ্রুপের লিডার বলা যায়। তাদের লাষ্ট ইভেন্ট “কনসার্ট ফর বদনা” ছিল বিশাল সাকসেসফুল। এই ইভেন্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে কয়েকটা গ্রামে স্বাস্থ্য সম্মত বদনা বিতরন করেছে তারা । তাদের এই ইভেন্টটি অনলাইনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। কয়েকটা পত্রিকায় এটা নিয়ে নিউজও হয়েছিল। এই ইভেন্টের পর থেকে তাদের প্রত্যেকের ফলোয়ার লিষ্ট কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে, সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সামিয়ার। প্রতিদিন তার একাউন্টে গোটা দশেক ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসে, আর ফলোয়ার প্রায় বিশ হাজার। আগামী ইভেন্টের প্লান নিয়ে আজ তাদের জরুরী মিটিং এ বসার কথা। একারনেই একটু আগে ভাগেই ক্লাস থেকে বেরিয়েছে সামিয়া। সমাজ সেবা করার এই গুণটা সামিয়া পেয়েছে তার বাবার কাছ থেকে। সামিয়ার বাবা আবুল কাশেম পাটোয়ারী ওরফে এ কে পাটোয়ারী খাদ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালক পদ থেকে সম্প্রতি রিটায়ার্ড করেছেন। ত্রিশ বছরের চাকরী জীবনে কাবিখা, বন্যার ত্রাণ, জাতিসঙ্ঘের খাদ্য কর্মসুচী সহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে মাশাল্লাহ ভালই কামিয়েছেন। ঢাকা শহরে তার তিন খানা বাড়ি,বসুন্ধরায় দুটো প্লট, গ্রামের বাড়িতে শ বিঘা জমি আছে তার । বিশিষ্ট সমাজ সেবী ও শিক্ষানুরাগী হিসেবেও তিনি সুখ্যাত। তিনি শুধু স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় দান করেন না , এলাকার ৫টি মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনের মাসিক বেতন দেওয়া হয় তার দেওয়া মাসিক অনুদান থেকে, সেই সুবাদে সবকটি মসজিদ কমিটির সভাপতি তিনি। ইত মধ্যে দু বার হজ করে আবুল কাশেম পাটোয়ারী  থেকে পদোন্নতি পেয়ে  আলহাজ মোঃ আবুল কাশেম পাটোয়ারীও  হয়েছেন । সামিয়ার তার বাবার জন্য  প্রচন্ড গর্ব অনুভব করে।

কিছুক্ষণ পর ফোনে কথা বলতে বলতে সি এস ইর তৌফিককে ক্যাফেটেরিয়ার দিকে আসতে দেখা যায়। তৌফিককে দেখে সামিয়া বলে – কিরে তৌফিক ? তুই একা যে তোর ক্লাস মেট রাকা কই ?

-রাকাকে দেখলাম ক্লাস থেকে বের হয়েই বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ফোনে ঝগড়ায় মগ্ন। আসতে মনে হয় দেরী হবে।

-এই মেয়েটা এত ঝগড়া করে কেন ? ম্যাচ না করলে রিলেশন রাখার দরকারটা কি ?

-রাকা ওর বফকে খুব ভালবাসে তাই ঝগড়া করে। ঝগড়া করলে মোহাব্বত বাড়ে। বুঝলি কিছু ? tome cytotec y solo sangro cuando orino

-ছাই বাড়ে । এক কাজ কর ফারিয়া , রকি , এশা , রিফান এদেরকে একটু ফোন দে তো ? আর কতক্ষণ ওয়েট করব ?

-দাড়া দিচ্ছি।

তৌফিক একে একে সবাইকে ফোন দেয়।

কিছুক্ষণের মধ্যেই সামিয়ার গ্রুপের সবাই ক্যাফেটেরিয়ায় একত্রিত হয় । সামিয়া  তাদের প্রত্যেকের জন্য কফির অর্ডার দিয়ে মিটিং শুরু করে। doctorate of pharmacy online

-হায় গাইজ, এজ ইউ অল নো আওয়ার লাষ্ট ইভেন্ট ওয়াজ এ হিউজ সাকসেস । দিজ টাইম উই আর গোয়িং টু ডু সামথিং ডিফ্রেন্ট ।

সি এস ইর রাকা বলে – সেটা কি ?

-সেটাই তো বলছি। তোরা তো জানিস যে ঢাকা ইজ আ সিটি অফ ট্রাফিক জ্যাম। সেই জ্যাম থেকে আমাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে রোদ ঝড় বৃষ্টিতে দায়িত্ব পালন করে ট্রাফিক পুলিশেরা। তাই আমাদের এই ইভেন্টটা পরিচালিত হবে তাদেরকে কেন্দ্র করে। আমরা দল বেধে ঢাকা শহরের মোড়ে মোড়ে ঘুরে ট্রাফিক কনষ্টেবলদের হাতে বানানো লেবুর শরবত খাওয়াব। হাউ ইজ দিজ আইডিয়া ?

সামিয়ার কথায় সবাই চমকিত হয়। প্রথম সাড়া দেয় ফার্মেসির রিফান। বলে – ইট সাউন্ডস গুড বাট হোয়াই দিজ ফাকিং লেবুর  শরবত ? উই ক্যান বাই দেম সাম কোল্ড ড্রিঙ্কস ইভেন হার্ড ড্রিঙ্কস ।

-ইয়েস উই ক্যান। বাট হাতে তৈরি শরবতের মধ্যে একটা আন্তরিকতার ব্যাপার থাকে যেটা কোল্ড ড্রিঙ্কসের মধ্যে পাওয়া যাবে না । ইফ উই সার্ভ লেবুর   শরবত,    উই উইল গেট মাচ বেটার  মিডিয়া কাভারেজ ।  অনলাইনে এবং অফলাইনে এটা অনেক বেশি সাড়া ফেলবে বলে আমার ধারনা।

তৌফিক বলে – দ্যাটস গ্রেট সামিয়া ।

তৌফিকের সঙ্গে তাল মেলায় ফারিয়াও। সামিয়ার উদ্দেশ্যে সে বলে -আচ্ছা সামিয়া আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দে তো ?

-বল কি প্রশ্ন?

-তোর মাথায় এত সব অসাধারন বুদ্ধি আসে কি করে ? শাফাতের সঙ্গে তোর ব্রেক আপের পর থেকেই দেখছি তোর মধ্যে একটা পরিবর্তন এসেছে। এক্সামে রেজাল্টও ভাল করছিস , সমাজ সেবা মুলক কাজ করে দিন কে দিন সেলিব্রেটি হয়ে যাচ্ছিস। ব্যাপারটা কি ?

-ব্যাপার কিছু না। এটা অনেকটা আত্ব উপলব্ধির ব্যাপার। আর সমাজ সেবা করার এই শিক্ষাটা পেয়েছি আমি আমার আব্বুর কাছ থেকে। তিনি তার এলাকায় অনেক সমাজ সেবা মুলক কর্ম কান্ডের সঙ্গে যুক্ত।

রিফান বলে – আংকেল কে আমাদের সবার পক্ষ থেকে স্যালুট পোঁছে দিস। আর ভাল কথা সামিয়া, তুই আংকেলের সমাজ সেবা মুলক কর্ম কান্ডের বর্ণনা দিয়ে একটা নোট লিখে ফেসবুকে পোষ্ট করতে তো পারিস ? সবারই জানা উচিত আংকেলের কাজ সম্পর্কে।

- হ্যা তা পারি বটে কিন্ত আব্বু এসব পছন্দ করেন না, তিনি নীরবে নিভৃতে মানুষের সেবা করে যেতে চান ।

দ্যাটস দ্য সাইন অফ আ গ্রেট ম্যান- রিফান উত্তর দেয়।

সামিয়া বলে -ঠিক আছে ফ্রেন্ডস । এই ইভেন্টটা তাহলে আমরা করছি। রিফান তুই আজকেই ফেসবুকে একটা ইভেন্ট খুলে ফেলবি। নাম দিবি গ্রেটিংস টূ দ্য ট্রাফিক পুলিশ। আশা করি আমাদের এবারের ইভেন্টটাও অনেক সাকসেসফুল হবে। আজকের মিটিং তাহলে এখানেই ক্লোজ করছি। সি ইউ এগেইন ।

এতক্ষণ তাদের মিটিং বিরক্তি নিয়ে শুনছিল ফার্মেসির এশা। এবার মুখ খোলে সে । বলে – গাইজ, আই উইশ ইউ অল দ্য বেষ্ট। বাট তোদের এই ইভেন্টে এবার আমি থাকছি না।

সবাই এক সঙ্গে বলে- কেন?

-আমার কাছে এই কনসেপ্টটা ভাল মনে হচ্ছে না – এশা উত্তর দেয়।

সামিয়া জিজ্ঞেস করে-কেন ভাল মনে হচ্ছে না কাইন্ডলি বলবি ?

-তোরা সব দল বেধে ট্রাফিক পুলিশদের পিছনে শরবতের গ্লাস নিয়ে ঘুরবি। পুলিশেরা কাজ কাম ফেলে তোদের দিকে হা মেলে তাকিয়ে থাকবে এই দৃশ্যটা আমার কাছে মোটেও সুখকর বলে মনে হচ্ছে না। তাছাড়া…

-তাছাড়া কি ?

-তোরা তো জানিস আমি মডেলিংএর সাথে যুক্ত। পরিচালক সাদমান আল সজীব ভাই আমাকে নিয়ে একটা নুতন  সিনেমা বানাতে চান । তিনি চান না আমি এভাবে মাস পিউপলের সামনে আসি।

-সাদমান আল সজীব, এইটা আবার কে?

-তুই সাদমান ভাইকে চিনিস না ? metformin synthesis wikipedia

-নাতো।

-ওনার লেটেষ্ট বিজ্ঞাপনটা তো হেবি হিট হইছে ?

-কোন বিজ্ঞাপন ?

- ঐ যে ক্রিকেটার আবেল হোসেন রে নিয়ে বানানো “ডাইরেক্ট খাইয়া ফেলামু” বিজ্ঞাপনটা।

সামিয়া হাসতে হাসতে বলে- ও আচ্ছা আচ্ছা । ক্রিকেটারের মুখ দিয়ে তো খাইয়া ফেলামু বলাইছে এবার দেখ তোর মুখ দিয়ে কি বলায় ?

-দেখ সামিয়া, তুই সাদমান ভাইরে নিয়ে ঊল্টা পালটা কিছু বলবি না। এশার কন্ঠে খানিকটা রাগ ঝরে।

- বাব্বা সাদমানের জন্য দেখি প্রেম একেবারে উতলায়ে পড়ছে । তা তোর বয়ফ্রেন্ড রাজীব জানে এই সব ?

-তোরা না কিসের মধ্যে কি টেনে আনিস ? রাজীব আবার বয়ফ্রেন্ড হল কবে ? ও তো স্রেফ নরমাল ফ্রেন্ড।

এবার কথা বলে ফারিয়া -তাই নাকি রে এশা ? তা নরমাল ফ্রেন্ডের সঙ্গে কেউ কি হোটেল রিজেন্সিতে ডেট করে নাকি ?

এশা ফারিয়ার দিকে রাগত দৃষ্টিতে তাকায় । চোখ মুখ কাল করে বলে – একচুয়ালি তোরা যেমন আনস্মার্ট, তোদের দৃষ্টিভঙ্গীও সেরকম আনস্মার্ট। তোদের কাছ থেকে স্মার্ট কোন চিন্তা ভাবনা আশা করা যায় না। আমি আজ উঠি ।

এশা ব্যাগ গুছিয়ে গট গট করে চলে যায়। এশার শেষ কথাটা সামিয়ার মনে কাটার মত বিঁধে। সে কি পরোক্ষ ভাবে তাকে উদ্দেশ্য করে আনস্মার্ট শব্দটা উচ্চারণ করেছে ? সে সমাজ সেবা মুলক কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত তাই বলে কি সে আনস্মার্ট নাকি ? আজ কাল কার স্মার্ট মেয়েদের সকল শর্ত সামিয়া স্বার্থক ভাবে পুরণ করে। আজকালকার স্মার্ট মেয়েদের মত সেও ইংরেজীর সাথে বাংলা মিশিয়ে কথা বলে। প্রতিদিন ফেসবুকে অন্তত একটি করে সেলফি আপলোড করে, ষ্ট্যাটাস লিখে। বন্ধুমহলে সেলফি কুইন হিসেবে তারও কিঞ্চিৎ সুখ্যাতি রয়েছে। তার “প্রচন্ড মাথা ধরেছে “, “বাথরুমের জানালা দিয়ে জ্যোছনা দেখছি” টাইপের ষ্ট্যটাস গুলোতে লাইকের বন্যা বয়ে যায় , শেয়ারও হয় অসংখ্য । আজকালকার স্মার্ট মেয়েদের মত সে একজন খাটি তাহসানিয়ান মানে নব্য প্রেমদেবতা  তাহসানের অন্ধ ভক্ত । ফেসবুকে তাহসানের পেজে গিয়ে “আই লাভ ইউ “,  “মিথিলা নামের ঐ হ্যাংলা মেয়েটার মধ্যে তুমি পাইলা কি , গ্রো আপ ম্যান” টাইপের কমেন্ট করে । তার এই মন্তব্য গুলোতে লাইক পড়ে অসংখ্য। আজকালকার স্মার্ট মেয়েদের মত তার ফোনও জাষ্টিন বিবার,লিংকিন পার্কের ইংরেজী গানে ভর্তি। তবুও এশার ভাষ্য মতে সে নাকি আন স্মার্ট । এর চেয়ে বড় অপমান আর কি হতে পারে?

“চাটনী আচারের বিজ্ঞাপন করে নিজেকে খুব বড় মডেল ভাবছিস না ? তুই কি করে এই সব কাজ পাস সেসব কি আমরা বুঝি না নাকি ? তুই আনস্মার্ট , তোর চোদ্দ গোষ্ঠী আনস্মার্ট” – এশার উদ্দেশ্যে মনে মনে বলে সামিয়া।

৩)

সাইফুল ইসলাম সাফি ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। অনলাইনে লেখক হিসেবে তার সুখ্যাতি রয়েছে। গল্প ,কবিতা, প্রবন্ধ সবই লেখে সে। নারীর অধিকার আর মুক্তিযুদ্ধ এই দুটো তার লেখার প্রিয় বিষয়। এই দুটো বিষয়েই অনলাইনে তার অসংখ্য লেখা রয়েছে যার মধ্যে অনেক গুলি আবার ফেসবুকে তুমুল জনপ্রিয়। নারীর অধিকার নিয়ে লেখার কারনে বন্ধু মহলে নারীবাদী হিসেবে তার কিঞ্চিৎ পরিচিতিও আছে। এই পরিচয়ের কারণে সাফি খুবই গর্ব বোধ করে। সাফি এক কালে ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালাতো মানে ব্লগে লিখত । সেখান থেকে বর্তমানে ফেসবুকে হিজরত করেছে। মত প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ইদানীং ফেসবুক এদেশে খুবই জনপ্রিয়। দেশ বিদেশের যে কোন ইস্যুতে এদেশে ফেসবুকে রীতিমত ঝড় বয়ে যায়। কে কত ব্যতিক্রমি ভাষায় , জ্বালাময়ী ষ্ট্যাটাস লিখতে পারেন তার প্রতিযোগিতা চলে। শুধু ষ্ট্যাটাস লিখেই  আজকাল অনেক সেলিব্রেটি নাস্তিক  দেশে নাস্তিকতা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন, বিপ্লবীরা বিপ্লব  ঘটাতে চান , সাঈদী- নিজামীর নুরানী চেহারার গোপন রহস্য যে “পাকি ফেয়ারনেস ক্রিম” বাশেরকেল্লাওয়ালারাও সেটার বিজ্ঞাপন চালান সমান তালে। সাফিও হাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফেসবুকে আস্তানা গেড়েছে। ব্লগ অপেক্ষা ফেসবুকে লেখার সুবিধা অনেক। এখানে কেউ লেখার সমালোচনা করলে তাকে সসম্মানে ব্লক মারা যায়। তার চেয়েও বড় সুবিধা হল এখানে সিরিয়াস বিষয় নিয়ে সিরিয়াস টাইপের লেখাও যেমন লেখা যায় তেমনি আবার লুতুপুতু মেয়েদের সঙ্গে লুতুপুতু চ্যাটও করা যায়। আর সেই মেয়ে যদি হয় আপনার লেখার ভক্ত তাহলে তো কথাই নেই। এ তো একেবারে এক টিকিটে দুই ছবি। স্কুলে পড়া কালীন এক টিকিটে দুই ছবি দেখার যে অভ্যাস গড়ে উঠেছিল সেই অভ্যাসটা যে এখনো কাজে লাগছে ভেবে খুশি হয় সাফি। আল্লাহর রহমতে সাফির মেয়ে ভক্তের সংখ্যা নেহাত কম নয় । তাদের অনেকের সঙ্গে সাফির ইনবক্সে নিয়মিতই কথা হয় । এই তো গতকাল নবনীতা নামের একটা নুতুন মেয়ে তাকে নক করে জিজ্ঞেস করেছে- ভাইয়া আপনার লেখায় না জাদু আছে ? কি করে এত সুন্দর লেখেন ?

মেয়েটার কথা শুনে গর্বে সাফির বুক সাড়ে তিন ফিট চওড়া হয়ে যায়। তবুও বিনয়ের অবতার সেজে সে রিপ্লাই দেয়- না, না এ আর এমন কি ? আমার চেয়ে কত ভাল লেখক আছে এদেশে ।

-না না ভাইয়া, আপনি একটা জিনিয়াস। আপনার লেখা পড়লে মনে হয় যেন হুমায়ুন আহমেদের লেখা পড়ছি।

নবনীতার এই কথা শুনে মেজাজ বিগড়ে যায় শাফির। সে লেখে – ছিঃ নবনীতা , তুমি আমারে  এই বাজাইর‍্যা লেখকটার সঙ্গে কমপেয়ার করলা। buy kamagra oral jelly paypal uk

-সরি ভাইয়া, আমি জানতাম না হুমায়ুন আহমেদের প্রতি আপনার এলারজি আছে।

-হু আ কোন লেখক হইল নাকি ? ওর লেখা কোন সাহিত্যই না । তোমার সাহিত্য সম্পর্কে কোন ধারণা নেই তাই একথা বলতাছ।

-সেটা অবশ্য ঠিক বলেছেন, ভাইয়া।

- তুমি এক কাজ কর । তোমার ফোন নাম্বারটা আমারে দাও। তোমারে আগে সাহিত্য বুঝাইতে হইব । সাহিত্য হচ্ছে উপলব্ধির ব্যাপার। উপলিব্ধি না করলে পইড়া মজা আসে না,বুঝলা ।

- জ্বি ভাইয়া , বুঝছি । আমার নাম্বারটা হল ০১৭৪৩…

এরপর থেকে প্রতিদিন ফোনে ফেসবুকে নবনীতার সঙ্গে সাফির মিষ্টি মধুর চ্যাট হয় । অবশ্য নবনীতা শুধু একাই নয়, চ্যাট করার আরো অনেক সঙ্গী আছে সাফির। এরা প্রত্যেকেই সাফির লেখার দারুণ ভক্ত। সাফি এদের সঙ্গে তার বিচিত্র সব ভাবনা চিন্তা গুলো শেয়ার করে । বিনিময়ে এই মেয়েগুলো তাদের ব্রায়ের সাইজ , আন্ডারওয়ারের কালার ইত্যাদী মুল্যবান তথ্য সাফিকে জানায়। সাফী নারীবাদী মানুষ, নারী দেহের অংগ প্রত্ঙ্গের আকার আকৃতি বিষয়ে তার আগ্রহ থাকতেই পারে তবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখার সঙ্গে নারী দেহের সম্পর্ক কি তা এক রহস্য বটে । অবশ্য সব কবি সাহিত্যিক মানুষেরা তাদের চার পাশে এক ধরনের রহস্যের আবরন রাখতে পছন্দ করেন। তাছাড়া সব রহস্যের সমাধান করা যে আমাদের মত সাধারন মানুষের কম্ম নয় সেটাও তো  আমাদের বুঝতে হবে। এছাড়া সপ্তাহে দুই দিন এক বড় ভাইয়ের কাছে গিটার বাজানো শিখছে সাফি। আমাদের দেশের মেয়েরা গিটার বাজানেওয়ালাদের প্রেমে পড়তে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না ।  এই কারনেই বোধ হয় উঠতি বয়সী ছেলেদের ঘাড়ে আজকাল  স্কুল ব্যাগের পরিবর্তে গিটারের ব্যাগই বেশি ঝুলে । প্রায়ই অনেক মেয়ে সাফিকে জিজ্ঞেস করে -ভাইয়া আপনি কি গিটার বাজাতে পারেন?  নাসুচক উত্তর দিতে দিতে  সাফি আবিষ্কার করেছে যে গিটার বাজাতে না পারার কারণে তার জীবন মোটামুটি ব্যর্থ হবার পথে।  তাই অনেক বলে কয়ে এক বড়ভাইকে গিটার বাজানো শেখানোতে রাজী করিয়েছে সে। এর বাইরে সপ্তাহে তিন দিন গুলশানে গিয়ে ক্লাস সেভেনের একটা মেয়েকে পড়ায় সাফি। সাফি স্টুডেন্টদের সাথে প্রাইভেট টিউটরের ফষ্টিনষ্টি কে মোটেও সমর্থন করে না। তাই সে কখনোই তার ছাত্রীকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখে না। তবে টিউশনির ফাকে ফাকে আড়ালে আবডালে ছাত্রীর মা অর্থাৎ আন্টিকে দেখার চেষ্টা করে। ভদ্র মহিলার বয়স চল্লিশের কাছাকাছি কিন্ত এখনো যা ফিগার না!! একেবারে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ ! ভদ্র মহিলার উচু বুক গুলোকে ক্রেওকারাডং পর্বতের চাইতেও খাড়া বলে মনে হয় সাফির কাছে। সেই আন্টিকে ঘিরে এক ধরনের রোমান্টিক ফ্যান্টাসি করতে করতে লোকাল বাসে ঝুলে হলে ফিরে সাফি । তারপর “কাঙ্ক্ষিত নারী” সানি আপুর হার্ডকোর দেখে বাথরুমে ঢুকে নিজেকে হালকা করে সে, কিছু ষ্পার্মের   সঙ্গে মিলে মিশে একাকার হয় তার কিছু গভীর দীর্ঘ শ্বাস।

৪)

সামিয়ার বাবা আবুল কাশেম পাটোয়ারি বারান্দায় বসে পত্রিকা পড়ছেন। সামিয়া এক কাপ চা নিয়ে বারান্দায় যায় ।

-গুড মর্নিং আব্বু । side effects of quitting prednisone cold turkey

-গুড মর্নিং মাই ডিয়ার। metformin tablet

-এই নাও তোমার চা , আমি নিজে বানিয়েছি ।

-তুমি কেন সাত সকালে কষ্ট করতে গেলে ? কাজের বুয়া ছিল না ?

-ছিল । ভাবলাম আমি আজ নিজেই চা বানাই ।

-ও আচ্ছা ।

সামিয়া চায়ের কাপটা বাবার হাতে দিয়ে বলে -আব্বু তোমাকে তো আমাদের নেক্সট ইভেন্ট সম্পর্কে বলেছি । কেমন লেগেছে তোমার কাছে আইডিয়াটা ?

-ভাল।

-সত্যি করে বলছ তো ?

- সত্যি করে বলছি খুবই ভাল। তোমার মত চিন্তাভাবনা আজকাল কজন করে ? সবাই তো আজকাল নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত।

-সেটাই। সবাই কেমন যেন আত্বপ্রেমী হয়ে যাচ্ছে দিন কে দিন। আব্বু আজ থেকে আমাদের ইভেন্টটা শুরু। তোমার গাড়িটা কি একটু দেবে ?

-গাড়ি লাগবে ?

-হ্যা , গোটা ঢাকা শহরে আজ আমরা ঘুরে বেড়াব ।

-ঠিক আছে, ড্রাইভারকে বলে দিচ্ছি।

- না আব্বু , আজকে আমি নিজেই ড্রাইভ করব ।

-তুমি ড্রাইভ করবে? কিন্ত ড্রাইভার যে বলল তোমার কন্ট্রলিং এ নাকি প্রব্লেম আছে ?

-কই না তো। সেদিন তো ঠিক মতই ড্রাইভ করলাম।

-ঠিক আছে , সাবধানে গাড়ি চালাবে কেমন ?

-ওকে।

-থ্যাংক ইউ আব্বু। আজ আমি উঠি ।

আবুল কাশেম পাটোয়ারী মেয়ের কপালে একটা চুমু দিয়ে বলেন- আই এম প্রাউড অফ ইউ ডিয়ার ।

বাবার গাড়ি নিয়ে সিদ্ধেশরীর বাসা থেকে বের হয় সামিয়া । বেইলি রোড থেকে বান্ধবী ফারিয়াকে পিক আপ করে সে। সেখান থেকে গুলশানের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় তারা । মালিবাগ রেলগেটে রেল ক্রসিং এর জন্য খানিকক্ষণ আটকা পড়ে তাদের প্রাইভেট কারটি।

৫)

সাফি আজ নবনীতার সঙ্গে দেখা করার জন্য আশুলিয়ায় যাচ্ছে। মেয়েটার বাড়ি টঙ্গী ,সেখান থেকে সে আশুলিয়ায় আসবে। মেয়েটাকে পটানোর কাজ যতটা সহজ হবে বলে সে ভেবেছিল ততটা সহজ হয়নি। মেয়েটাকে প্রেমের কথা বললেই সে বলত -ভাইয়া এই সব প্রেম টেম আমার ফ্যামিলি এলাউ করবে না। তার চেয়ে যদি বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারেন তাহলে আমি আছি। অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েই নবনীতার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবে এরকম একটা প্রতিশ্রুতি দিয়েই আজ নবনীতাকে দেখা করতে রাজী করিয়েছে সাফি । এদিকে আবার ঐদিনই খালার বাসায় একটা দাওয়াতও আছে তার। কাকরাইলে খালার বাসা থেকে খাওয়া দাওয়া করে একটা সি এন জি নিয়ে আশুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় সাফি। মালিবাগ রেলগেটে রেল ক্রসিং এর জন্য তার সিএনজিটিও আটকা পড়ে।

৬)

রুবেলের মন মেজাজ আজ খুবই ভাল। সেলুনের মালিক মিলন ভাই দেশে গেছে তাই আপাতত দোকান পরিচালনার ভার তার হাতে। নিজেকে একদিনের রাজা বলে মনে হতে থাকে রুবেলের । এছাড়া তার মন ভাল হবার আরো একটি কারণ আছে। আজ সকালে সে ঝর্ণা বেগমের পথ আটকে বলেছে -ঝর্ণা আমি তোরে অনেক লাব করি । আই লাব ইউ…

জবাবে ঝর্ণা কিছুই বলে নি শুধু চলে যাবার সময় পিছনের ফিরে তাকিয়ে মিষ্টি করে একটা হাসি দিয়েছে। রুবেল যা বুঝার এতেই বুঝেই নিয়েছে। সেই আনন্দে আজকের দিনটিকে তার  কাছে ঈদের দিন বলে মনে হচ্ছে । নাইট শোতে শাকিব খান-অপু বিশ্বাস অভিনীত “মাই নেম ইজ খান বাট অপু আমার জান” ছবি দেখে এই আনন্দটুকু উদযাপন করা যায় কিনা সেই ভাবনাটাও খেয়াল করছে রুবেলের মনে। আপাতত উচ্চস্বরে হিন্দী গান ছেড়ে এই আনন্দটুকু উদযাপন করছে সে। কিছুক্ষণ পর পত্রিকা বিলি করা অল্প বয়সী ছেলেটি রুবেলের সেলুনের সামনে এসে বলে -ভাই আমার পেপারের বিলটা দেন । walgreens pharmacy technician application online

রুবেল দোকানের মধ্য থেকে বলে – টাকা নাই , পরে নিস।

-পরে কহন? টাকা আমার আজই লাগব । মায়ের অসুখ, ওষধ কিনন লাগব । clomid over the counter

-কইতাছি না টাকা নাই , পরে মিলন ভাইয়ের কাছ থাইক্যা নিস।

-মিলন ভাই কই ?

-হেয় নাই ।

-কই গেছে ?

রুবেলের মনে হয় এই পিচ্চিটাতো বড়ই ত্যক্ত করছে । এরে একটা উপযুক্ত শিক্ষা দেওন দরকার।রুবেলের মাথায় একটা দুষ্ট বুদ্ধি খেলা করে। সে ছেলেটির উদ্দেশ্যে বলে – দেখ রাস্তার ঐ পাড়ে মুকিতের ষ্টলে মিলন ভাইয়ের দেখা পাস কি না ?

ছেলেটি কাল বিলম্ব রাস্তা পার হতে শুরু করে। হতভাগ্য ছেলেটি খেয়ালই করেনি যে ততক্ষণে রেলগেট ওঠে সব গুলো গাড়ি এক সঙ্গে চলা শুরু করেছে। রেলগেটে অনেক ক্ষণ আটকে থাকায় বিরক্ত সামিয়া তার গাড়ির স্পিড অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।

সামিয়ার চালানো গাড়িটি প্রবল বেগে ধাক্কা মারে ছেলেটিকে। ছেলেটি ছিটকে পড়ে যায় রাস্তার মাঝখানে। মুহূর্তেই লাল তাজা রক্তে ভেসে যায় রাজপথ । সামিয়ার গাড়ী থেমে যায় । সামিয়ার বান্ধবী ফারিয়া গাড়ির মধ্য থেকে চিৎকার করে উঠে – সামিয়া তুই কি এক্সিডেন্ট করেছিস?

-মনে হচ্ছে তাই ।

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সামিয়ার গাড়িকে ঘিরে জটলা জমে যায় । ফারিয়া চিৎকার করে উঠে- সামিয়া তুই চুপকরে বসে আছিস কেন ? গাড়ী স্টার্ট দে ?

ফারিয়ার ডাক শুনে সম্বিত ফিরে সামিয়ার । তার মনে হল আসলেই তো সে চুপ করে বসে আছে কেন ? তার এই মুহূর্তেই এখান থেকে চলে যাওয়া দরকার। একটা বড় ইভেন্টের সঙ্গে জড়িত সে। সে একজন সেলিব্রেটি।  ছোট একটা  ভুলে তার এত দিনের অর্জিত ভাবমূর্তি আজ ধবংস হওয়ার পথে।

মুহূর্তের মধ্যেই গাড়ি স্টার্ট দেয় সামিয়া । গাড়ীর ষ্পিড আরো বাড়িয়ে দেয় সে। সেই গাড়িতে ধাক্কা খেয়ে আরো দু জন রাস্তার দু দিকে ছিটকে পড়ে । দ্রুত চোখের সামনে থেকে আড়াল হয়ে যায় সামিয়ার গাড়ি। মারাত্নক আহত ছেলেটিকে ঘিরে অচিরেই ভিড় লেগে যায়। মধ্য বয়সী এক লোক ছেলেটিকে কোলে তুলে সাফির সিএনজির সামনে দাড়ায় । বলে- ভাই দেখতেই তো পাচ্ছেন। অবস্থা খুবই খারাপ। আপনার সি এন জি তে করে একে দ্রুতই হাসপাতালে নেওয়া দরকার।

সরি ভাইয়া, আমার তাড়া আছে। আমার আম্মা খুবই অসুস্থ তাই তাকে দেখতে চাচ্ছি, আপনারা অন্য কাউকে দেখেন-সাফি উত্তর দেয়।

-ভাই প্লিজ, ছেলেটার অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল।

-আই এম এক্সট্রিমলি সরি ভাইয়া। can you tan after accutane

লোকটা ফ্যাল ফ্যাল করে সাফির তাকিয়ে থাকে। all possible side effects of prednisone

সাফি সিএনজি ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য করে বলে – ভাই আপনি বসে আছেন কেন? স্টার্ট দেন ।

সি এন জি ছেড়ে দেয় । মুমুর্ষ ছেলেটিকে সাহায্য করতে না পারায় একটু খারাপ লাগে সাফির তবে  “ছেলেটা ইতমধ্যেই মারা গেছে, হাসপাতালে নিয়ে কোন লাভ হবে না” এই সব বলে নিজেকে সান্তনা দেয় সে। তাছাড়া অনেক কষ্ট করে আজ সে নবনীতাকে ডেটে রাজী করিয়েছে । এই ডেট উপলক্ষ্যে গতকাল বসুন্ধরা থেকে ১৭০০ টাকা দিয়ে নেভি ব্লু  কালারের একটা নুতুন শার্ট কিনেছে সে। রক্তে ভিজে এই শার্টটি নষ্ট হক তা সে চায় না , চায় না নবনীতার সঙ্গে ডেট করার এই সুবর্ণ সুযোগটা হাতছাড়া করতে। অনুশোচনাবোধ গুলোকে এক পাশে সরিয়ে দিয়ে নবনীতার কথা ভেবে একটু হাসার চেষ্টা করে সাফি। posologie prednisolone 20mg zentiva

এদিকে রুবেলের দোকানে তখনও উচ্চস্বরে গান বাজছে -উচুওয়ালী হিল পেহেনকে ড্যান্স বাসন্তী…

(কৃতজ্ঞতাঃ মহিনের ঘোড়াগুলি ব্যান্ডকে , “পৃথিবী” শিরোনামের অসাধারন গানটির জন্য)

You may also like...

  1. ভালো লাগল,তবে প্রোক্ষভাবে অনেক কেই মেনশন করা হয়েছে :smile:

    • আমি এই লেখাটি কোন ব্যক্তিকে কটাক্ষ করার উদ্দেশ্যে লিখিনি। ফেসবুকের মত ভার্চুয়াল দুনিয়া যে দিন কে দিন আমাদের আমাদের কতটা জনবিচ্ছিন্ন করছে সেটাই কিছুটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র । (কতটা পেরেছি জানি না।) আমরা সবাই আজ যে কোন মুল্যে প্রচার চাই, ফেসবুকে লাইক চাই , হাজার হাজার ফ্রেন্ড ফলোয়ার চাই ,হতে চাই যে কোন মুল্যে বিখ্যাত । কিন্ত এই বিখ্যাত হওয়ার তাড়নায় আমরা দিন কে দিন হয়ে উঠছি নৈতিকতা বিহীন স্বার্থপর, আমাদের মানবিক বোধ গুলোও হয়ে উঠছে অনলাইন কেন্দ্রীক , বাস্তবে যার ছিটে ফোটাও দেখা যায় না। অভিজিৎ রায় হত্যার পর ফেসবুকে ব্লগে প্রতিবাদের অভাব নেই কিন্ত ঘাতকের আঘাতে আহত হয়ে যখন তিনি রাস্তায় পড়েছিলেন তখন কিন্ত তাকে সাহায্য করার জন্য দু একজন ছাড়া কেউই এগিয়ে আসে নি । এই লেখাটিকে কোন ব্যাক্তির উদ্দেশ্যে লেখা বলে বিবেচিত না করে গল্পের মুল থিমটিকে বিবেচনাই মনে হয় উপযুক্ত হবে। যাই হোক পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

viagra in india medical stores
zithromax azithromycin 250 mg