পরিবর্তন

1714

বার পঠিত

আমি প্রথম ফেসবুক চালানো শুরু করি ২০০৭ সালে। তখনও ফেসবুক বেশ জনপ্রিয় তবে আজকের মত হাতে হাতে না। ২০০৭-২০১৫ এই ৮ বছরে ফেসবুক নিজে যেমন বদলেছে তেমনি ফেসবুকের ব্যবহার, ব্যবহারকারীদের আচরণ সবই বদলেছে। সব তেমন মনে নেই তবে কিছু পরিবর্তন বেশ চোখে পড়ে। zithromax azithromycin 250 mg

২০০৭ সালে যখন আমি ফেসবুকে account খুলি তখন বেশ ছোট বলে বাবার কাছে অনুমতি নিয়েছিলাম। অনুমতি নিতে গিয়ে বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘ বাবা আমি ফেসবুকে একটা account খুলি? মামা, আপু, ফুপা, ভাইয়াকে ছাড়া আর কাউকে add করব না।’ এই বলে ফেসবুক খোলার পর অবশ্য ভাইয়ার এক বন্ধুকে অতিরিক্ত add করেছিলাম। ২০০৮-এ এসে আমি অচেনা মানুষদের সাথে বন্ধুত্ব করলাম। তাও তেমন বেশি না ৫/৬ জন, যাদের সাথে আপু বা ভাইয়ার সুত্রে পরিচয় হত। তখন আমাদের মধ্যে একটা বিষয় কাজ করত যে বেশি ফ্রেন্ড রাখব না। বেশি ফ্রেন্ড রাখা ভাল না। আমার মনে পড়ে তখন ফেসবুকের একটা জনপ্রিয় উক্তি ছিল যে ১০০ জন ফ্রেন্ড ৫ দিন থাকার চেয়ে ৫ জন ফ্রেন্ড ১০০ দিন থাকা ভাল। ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্ট তখনকার দিনে যাদের সাথে বন্ধু হতে চাই কেবল তাদের জায়গাই ছিল। যাই হোক এখন এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। এখন ফেসবুকে কতজন ফ্রেন্ড রাখলাম না রাখলাম সে ব্যাপারে মোটেও সচেতন না। বরং বেশি বন্ধু থাকলেই খুশি হই আমরা। বস্তুত সত্যিকার অর্থেই ফেসবুককে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিণত করার চেষ্টা করছি আমরা। ২০০৭-১৫ তে ফেসবুক ফ্রেন্ডের সংজ্ঞা বদলেছে। তখন ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্টে কেবল পরিবার, স্কুল- কলেজের বন্ধু বান্ধব বা পরিচিত জনদের জায়গা হত। ২০১২-১৩ এর দিকে এসে ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্ট কমিউনিটির স্থান নিয়েছে।– যাই হোক এটা খুব সাধারণ এবং নিরর্থক উদাহরণ। মূল বিষয়ে ঢোকার আগে হালকা আলোচনার জন্যই বিষয়টি তোলা।

এবার একটু নজর দিব নারী ফেসবুক user-দের দিকে। আমার যতটুকু মনে পড়ে ২০০৭ এ আমি একটা anime এর ছবি দিয়ে account চালু করেছিলাম। তখন মেয়েরা তেমন ছবি দিত না ফেসবুকে। একটা ছেলে অনেক সাধনা করে একটা মেয়ের একটা ছবি পেত। তাও কত শর্তুসাপেক্ষে!_ যে কাউকে দেখানো যাবে, save করা যাবে, দেখে delete করে দিতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।। আমার মনে আছে অনিন্দিতা নামে এক মেয়ে তখন অর্ধেক মুখ চুল দিয়ে ঢেকে ৩টা sepia ছবি দিয়েছিল তা নিয়ে বড় ভাইয়াদের কত জল্পনা, কল্পনা। ঐ ছবিগুলো তখন আজকের popularity freak-দের পোস্টের মত জনপ্রিয়।

আজকের দিনে আমরা অনেক স্বচ্ছন্দে ফেসবুকে ছবি প্রকাশ করি। নিজেদের ছবি, পরিবারের ছবি, কোথাও ঘুরতে যাবার, প্রিয়জনের সাথে কাটানো সুন্দর স্মৃতি সবই আমাদের প্রোফাইলে থাকে। ‘frnds, which dress suits me best?’ বলে ছবি প্রকাশ অনেকটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।

২০০৮-০৯ এর দিকে ফেসবুকের কাউকে ফোন নাম্বার দেওয়াটা মোটেও ইতিবাচক কিছু ছিল না। একান্ত কাছের বন্ধু, অনেকদিনের পরিচয় ছাড়া কাউকে আমরা ফোন নাম্বার দিতাম না। দিলেও তা বেশ গোপনীয়তার সাথে। আজকে অনেকের profile info –তে ফোন নাম্বার দেয়া থাকে। আমাদের অপরিচিত জনদেরও ফোন নাম্বার দেই। ফোন নাম্বার সেরকম সাত রাজার ধন আর নেই। বরং কমিউনিটি ধারনার স্বার্থেই আমাদের বিভিন্ন জনের সাথে যোগাযোগের প্রয়োজন এবং তাই ফোন নাম্বার আদান প্রদানও জরুরী।

শেষ একটা উদাহরণ- ২০০৭-এ যখন আমরা ছবি ফোন নাম্বার দিতাম না তখন কাউকে আমাদের ঠিকানা দেবার প্রশ্নই উঠত না। মানে আমরা ভাবতেই পারতাম না যে অন্যান্য, অপরিচিতজনদের জানাব যে আমরা কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার মনে আছে আমাদের এক বড় আপু এক কোচিং-এ পড়ত। আরেক ভাইয়াও ঐ কোচিং-এ পড়ত কিন্তু আপু কখনো বলত না সে কোন ব্যাচে। এমনকি একদিন ভাইয়া আপুর ব্যাচ জেনে ফেলায় আপু কোচিং বন্ধ টন্ধ করে কি তুমুল কান্ড!

আজকে এই বিষয়টা পুরোই যেন উলটো। আমরা প্রতিনিয়ত জানিয়ে দিচ্ছি আমরা কোথায় যাচ্ছি, কোথায় থাকছি অন্যান্য আরো অনেক তথ্য। check in করা এখন খুবই সাধারণ একটি বিষয়। একটু দেরি হলেই বরং মন্তব্য চলে আসে

তুমি ওখানে ছিলে_ আগে বলবে না?

না ভাই, খাওয়ায় এত ব্যস্ত ছিলাম যে চেক ইন করতে দেরি হয়ে গেল। side effects of quitting prednisone cold turkey

এভাবেই সময়ের সাথে মানুষের আচরণ যেমন বদলায়। ফেসবুকেও আমাদের ব্যবহার বদলেছে। যাই হোক, এখন মূল প্রসঙ্গে আসি। আমার এখন প্রায়ই মনে হয় ২০০৭-০৮ এ আমরা কেন ছবি দিতাম না, কেন মোবাইল নাম্বার বা ঠিকানা দিতে এত দ্বিধা কাজ করত? এর সহজ উত্তর নিরাপত্তা। তখন ছবি দেয়াটা আমরা নিরাপদ মনে করতাম না, মোবাইল নাম্বার দেয়াও না, ঠিকানা দেবার প্রশ্নই ওঠে না। তাহলে আজকে কেন আমরা ছবি দেই? আজকে কি আমরা নিরাপদ। হ্যাঁ, আজকে আমরা সেদিনের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ।

ফেসবুকে ছবি দেয়ার প্রতি আমরা ঝুঁকেছি যখন ফেসবুক strong privacy-র সুযোগ তৈরি করে দিল। যদিও আমরা আজকের দিনে এই privacy সুযোগ ব্যবহার করি না, অনেক ছবিই public করে দেই। এটা কেবল অনুঘটকের মত কাজ করেছে। মোবাইল নাম্বার যোগ করার অপশন তৈরি হবার কিছু পরে এটাকে personal information হিসেবে যুক্ত করেছি। check in নিয়ে বলাই বাহুল্য। আমরা স্পষ্টত নিজেদের backdated প্রমাণ করতে চাইনা। তাই modern amenities এর সর্বোচ্চ ব্যবহার করি এই নিশ্চয়তায় যে আমরা নিরাপদ।

কেন আমরা এখন মনে করছি যে আমরা নিরাপদ? ফেসবুকের নিরাপত্তা আমরা ব্যবহার করি না, রাষ্ট্র কোন নিরাপত্তা দেয়নি, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কোন পরিবর্তন হয়নি- তবে কি এমন হল যার জন্য আমরা নিরাপদবোধ করছি? মনোবিশ্লেষক Shri Sharma-র মতে সংখ্যা একটি অন্যতম নিরাপত্তা নির্ধারক। যখন আমরা দেখি অধিক সংখ্যক মানুষ একটি বিষয়ে ঝুঁকেছেন আমরা সেটাইকে নিরাপদ মনে করি। সংখ্যার পাশাপাশি এখানে social conformity-ও ভূমিকা রাখে। মানুষ আদিকাল থেকেই দলে থাকতে চায়; সামাজিক জীব হিসেবে। তাই দলগত আচরণ আমরা অনুসরণ করি।

বিষয়টা অনেকটা এমন যে আগে কম সংখ্যক মেয়ে ফেসবুক ব্যবহার করত, তার চেয়ে কম সংখ্যক মেয়ে ছবি দিত ফেসবুকে। তাই আমরা নিজেদের নিরাপদ মনে করতাম না। তাছাড়া এই প্রকাশ না করার সংস্কৃতি ছবি বা ঐ জাতীয় বিষয়ের প্রতি আলাদা আগ্রহ তৈরি করত এবং এসব নিয়ে blackmail, bad offence তাই প্রায়ই ঘটত। এমনকি তখন ঘটলে ছবি দেয়াটাই দোষ হয়ে দাঁড়াত।

এখনো যে দূর্ঘটনা ঘটছে না তা না। তবে সংখ্যানুপাতে কম। তাছাড়া এখন ঘটলে মেয়েটাকে প্রকটভাবে দোষী করা হয় না। দোষী করা হয় অন্যায়কারীকেই। এখানে স্পষ্টত আমরা দেখতে পারি রাষ্ট্র তেমন কোন ভূমিকাই রাখেনি। আইন থাকলেও তার সুষ্ঠ প্রয়োগ তখনো ছিল না , এখনো নেই। ফেসবুকও তেমন কোন সহযোগীতা করেনি। যদি কিছু সত্যিই ভূমিকা রাখে তবে তা হল সম্মিলিত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন বা সম্মিলিত প্রয়াস। ফেসবুকে এই সম্মিলিত প্রয়াসই সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বৈষম্য অনেক কমিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আমরা তূলনামূলক অনেক বেশি নিরাপদ, স্বাধীন এবং সচেতন (যদিও সব ক্ষেত্রে নয়)। অনলাইন বিভিন্ন সমস্যাগুলোকে আমরা উন্নত প্রযুক্তি এবং জ্ঞান দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করি। এটা আমাদের জন্য অনেক সুখের বিষয় যে সামাজিক যোগাযোগে আমরা এসব বৈষম্য কাটিয়ে উঠতে পারছি। একজন নারী তার ছবি, ফোন নাম্বার, ঠিকানা, অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে দিবে কি দিবেনা এটা একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়। এ নিয়ে আমাদের তাকে কিছু বলবার, মূল্যায়ন করবার কোন সুযোগ নেই। সেসব তথ্য দেবার জন্য তাকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হবার প্রশ্নই এসে না। আমরা এখন এসব জায়গায় নারীকে স্পেস দেবার মত উদার হয়েছি। যারা এসব তথ্যের জন্য নারীকে বিপদে ফেলছে তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের অবস্থান মূর্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের ৮ বছরে তাই অগ্রগতিও অনেক।

তবে দূঃখের বিষয় বাস্তব জীবন অনলাইনের থেকে অনেক আলাদা। যার কারণে ৮ বছর কেন ৮০ বছরেও আমরা অফলাইনে নারীর এসব স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারিনি। ৮০ বছর আগেও যে অবরোধবাসিনী নারী ছিল আজও তাই রয়ে গেছে। এখনো তাই বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়, রাতে কোন নারী বাইরে একা ঘুরতে পারে না, একা কোন নারী একটা বাসা পর্যন্ত দেয়া হয় না। আমি যে সম্মিলিত প্রয়াসের চিত্র ফেসবুকের ক্ষেত্রে দেখিয়েছি অফলাইনে আমরা তা নিশ্চিত করতে না পারার পেছনে একটা বড় কারণ অনৈক্য। একথা খুব বলা হয় যে নারীদের নিজেদের মধ্যে ঐক্যের বড় অভাব। ‘নারীর পক্ষে পুরুষ’ ধারনা প্রবর্তন করে আমরা প্রায়ই দেখাই পুরুষেরাই নারীর পাশে বেশি দাঁড়ায় নারীদের চেয়ে। আচ্ছা, একবার কি ভেবে দেখেছেন যে আসলে নারীর পাশে কেন নারী দাঁড়ায় না? কেন আমাদের মাঝে এত ঐক্যের অভাব? কেন নারীই নারীর বিপক্ষে? এও পুরুষতন্ত্রের ষড়যন্ত্র। পুরুষতন্ত্র তো নারীর মাঝে ঐক্য তৈরির সব পথই বন্ধ করে রেখেছে।

একটা কথা স্পষ্ট আমরা সবাই জানি জীবনের সাথে সম্পৃক্ততা না থাকলে কোন দর্শন, নীতি, শিক্ষা কিছুই আমরা মানিনা। এটাই মানুষের জীবন। আমাদের মস্তিষ্ক অপ্রয়োজনীয় কোন কিছুই নিতে চায় না। তাই আপনি যত ভাল মতবাদই দিন না কেন, যত সঠিক কথাই বলুন না কেন জীবনের সাথে সম্পৃক্ত না হলে তা কেউই গ্রহন করবে না। আমাদের নারীদের ক্ষেত্রে ঠিক এটাই কাজ করে। জীবনের সাথে এসব দর্শন, নীতির মিল থাকে খুব কম নারীর। বিষয়টা খুলে বলি, মেয়েদের জীবন দেখিয়ে।

আমরা আশৈশব অন্য নারীদের পেয়ে আসি অনুভূতির আশ্রয়স্থল হিসেবে। আপনি battle of sexes2- documentary তে দেখতে পারবেন অন্যের অনুভুতি অনুধাবনের ক্ষেত্রে নারী বেশি পারদর্শী হয়। ( একই সাথে মনে রাখুন, ঝুঁকি নেবার প্রবণতাও নারীদের বেশি,  কিন্তু সমাজ ব্যবস্থাপনায় মনে হয় ছেলেরাই বশি ঝুঁকি নেয়। হারিয়ে ফেলেছি আমাদের সেই পারদর্শীতা )। ঠিক এই জায়গাটা থেকে আমাদের মন খারাপ হলে, খারাপ লাগলে আমরা নারীর মুখাপেক্ষি বেশি হয়ে থাকি। কিন্তু প্রতিবাদ, নিরাপত্তা, স্বাধীনতার সাথে নারী মুখাপেক্ষি বিষয়টা যায় না।

একদম ছোটবেলা থেকেই আমরা যখন কোন সমস্যার মুখোমুখি হই, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বা স্বাধীনতা বিষয়ক। আমরা আমাদের মায়েদের কাছে প্রথম খুলে বলি। কারণ অনুভূতির প্রথম ও প্রধান আশ্রয় ‘মা’। কিন্তু সমস্যার সমাধান কি মায়েরা করে থাকেন? আমি যদি ভুল না করে থাকি তবে আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমাধানের পথটী বাবার কাছ থেকে পেয়ে থাকি। এখানে একটা উদাহরণ দেই। প্রায় সব মেয়ের জীবনেই সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট ঘটে থাকে। যখন আমরা কারো দ্বারা এধরনের নির্যাতনের শিকার হই এরপর মা-র কাছে খুলে বললে মা স্বান্তনা দেয়, বুকে টেনে নেয়, আদর করে। এবং সবচেয়ে কমন যে কথাটা বলে, ‘সব মেয়ের জীবনেই এমন হয় মা।’ ( সব মেয়ের জীবনে হয় মানেই ব্যাপারটি বৈধ? বিষয়টা মেনে নিতে হবে সেজন্য আমাকে? হাস্যকর!) কিন্তু কি হয় যখন বিষয়টা বাবার কানে যায়। কিছু পুরুষতান্ত্রিক বাবা মেয়ের সম্মান, সমাজের মাথা ব্লা ব্লা বলে বসে থাকেন। কিন্তু বাবা যদি সচেতন হন এবং সত্যিই মেয়ের পাশে দাঁরাতে চান তবে ঠিকই তিনি সেই নরপিশাচের মুখোমুখি হন এবং তাকে একরাশ কথা শুনিয়ে আসেন। অবশ্য কথা শুনানো পর্যন্তই। খুব কম মেয়ের জীবনেই ধর্ষন ছাড়া অন্যান্য নিত্য নৈমিত্তিক হ্যারাসমেন্টের বিচার পাবার সুযোগ হয়। যাই হোক এখানে তাই বাবাকে আমরা সমস্যা সমাধানের চরিত্রে পাই আর মাকে পাই সান্ত্বনা দানকারী হিসেবে। দূর্ভাগ্যের বিষয় আমরা আমাদের মায়েদের যতই গুণকীর্তন করি না কেন এখনো এসব বিচারিক ক্ষেত্রে মা মতামত দিতে, প্রতিবাদ করতে পারে না।

ভাই- বোন??? বোন! হুম, আমার জীবনে বোন একটা বড় আশ্রয়ের জায়গা। ভাল লাগার জায়গা। কিন্তু এখানে অনুভূতির ক্ষেত্রেই। ভাইয়ের সাথে আমরা কখনোই অনুভূতির আদান প্রদান করতে পারিনা। সেক্ষেত্রে বোনই বেশি প্রিয় ( নারীর জীবন যখন অনুভূতিসাপেক্ষ তখন ভাইপ্রীতির প্রশ্নই এসে না )। তারপরও ভাই দেবতা, বোন আশ্রয়দাত্রী। আমার এক বড় বোন একদিন গল্পের ছলে বলছিলেন, ভাগ্যিস আমার বড় ভাই ছিল। ভাইয়া NSU তে পড়ায়ই আমাকে র‍্যাগ খেতে হয়নি। বেঁচে গেছি। – এটা যদিও ব্যতিক্রমী উদাহরণ। সমস্যা সংক্রান্ত একটা উদাহরণ দেই। আমার এক বান্ধবী বড় ভাই বোন দুইই আছে। ওর ক্ষেত্রেই আমি প্রথম এই পার্থক্য দেখতে পেরেছি। ওকে রাস্তায় একবার বেশ কিছু ছেলে উক্ত্যক্ত করছিল। বেশ বাজেভাবেই। বাসায় এসে সে তার বড় বোনকে বলেছিল। আপু শুনে ওকে বোঝাচ্ছিল , ‘ছেলেগুলো খারাপ। এতে তোমার তো কোন দোষ নেই। তুমি কেঁদ না। এরপর থেকে ওদের দেখলে এড়িয়ে চলবে। রাস্তায় সাবধানে চলবে।’ কোন কারণে ভাইয়া সেবার ঘটনাটা জানতে পারেনি। পরে আরেকবার ও এইধরনের নিপীরণের মুখোমুখি হল। সুখের বিষয় তখন ভাইয়াও ওর আশাপাশে ছিল। ভাইয়া এই ঘটনা দেখে সাথে সাথে গিয়ে ছেলেগুলোকে ধরেছিল। ভালভাবে শাসিয়ে পাড়ায় ঢুকতে মানা করে দিয়েছিল। এরপরে ওকে আর বিরক্ত করা হয়নি। ( যদিও সবার ক্ষেত্রে এই সৌভাগ্য হয় না। কেউ কেউ প্রতিশোধ নিতে আরো বড় নির্যাতন করে )। এভাবে প্রতিবাদের জায়গায় আমরা ভাইকে পাই আর বোনকে পাই অনুভবের জায়গায়।

পরিবারে যদিও অনুভুতি বা আশ্রয়, সেবা, যত্নের কারণে মা, বোনদের স্থান আছে। কিন্তু পরিবারের বাইরে নারীর সাথে নারীর সম্পর্ক কেমন? সেই দৃঢ় সম্পর্ক কি নারীদের মাঝে কখনো গড়ে ওঠে?

আমরা ছোটবেলা থেকে বন্ধুত্বহীনতায় ভুগি। ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের মধ্যে বন্ধুত্ব দীর্ঘকালীন হলেও, ছেলেদের বন্ধুত্বই দৃঢ় হয়। এর কারণ আমরা মেয়েরা বান্ধবীদের পাই কেবল সুখ- দুঃখের কথা শুনাতে, গল্প গুজব করতে কিংবা দাপ্তরিকতার জন্য যতটুকু দরকার ততটুকুই। ছেলেদের ক্ষেত্রে কি তাই হয়? তারা বন্ধুদের পায় ঠিক সঙ্গীর মত করে। ধরুন, কোন মেয়ের বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ল। কখনো এমন শুনেছেন যে সাথে সাথে তার বান্ধবীকে ফোন করে বলেছে যে বাবা অসুস্থ, তুই তাড়াতাড়ি চলে আয়।? আর ছেলেদের বেলায়? আমার মনে আছে আমার বাবা যখন অসুস্থ তখন মামার বন্ধু পুরো এক মাস বাবার সাথে হাসপাতালে থেকেছে। কত দূরের সম্পর্ক, কিন্তু কত মমতা দিয়ে যত্ন দিয়েছে। একটা মেয়ের ক্ষেত্রে কোন একটা ছেলে তাকে বিরক্ত করছে সেটা সে তার বান্ধবীদেরকে বলে রিলিফ পেতে পারে কিন্তু কোন সমাধান তেমন পায় না। কিন্তু যদি সে কোন বন্ধুকে বলে? তবে ছেলে বন্ধুটি গ্যাং নিয়ে যেয়ে পিটিয়ে এসে। ছেলেদের ক্ষেত্রে কোন এক স্কুলের কোন এক ছেলেকে অন্য স্কুলের ছেলে পিটিয়েছে সাথে সাথে এই স্কুল থেকে এক ঝাক ছেলে গিয়ে তার প্রতিবাদ করতে নেমে পড়েছে। বাসে কোন এক ছেলেকে কেউ কিছু বলল পরবর্তী স্টপেজে তার বন্ধুরা এসে তার পাশে দাঁড়িয়ে গেল। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে কোন এক মেয়েকে বাসে ধর্ষণ করা হলেও কেউ থাকেনা। অন্তত মেয়েরা। যদি কেউ পাশে দাঁড়ায় তবে সেও কোন দেবদূত পুরুষ। তাই আমাদের বন্ধুত্বে সেরকম আন্তরিক বন্ধনটি কখনই তৈরি হয় না। ১২ বছর ধরে যে বান্ধবীটির সাথে এত খাতির। তার বাবার অসুস্থতার খবর আমি আগে পাইনা। পায় ৭ দিনের ছেলে বন্ধুটি। কারণ সে জানে আমাকে বলে কোন লাভ নেই। আমি কোন উপকারে ছুটে যেতে পারব না। আমি আমার ভাইয়ের মত রাত না দিন কিছু না ভেবে বিপদে পাশে দাঁড়াতে পারব। খুব বেশি হলে বলব, দেখ তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে পারিস কিনা। কিন্তু বিপদে এসব ফালতু কথার মূল্য নেই। তাই ৭ দিনের ছেলে বন্ধুটি যখন ত্রাণকর্তা হয়ে ছুটে এসে ওর বাবাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায় তখন সে আসলেই বন্ধুত্বের মূল্য দিতে পারে। বিপদে প্রকৃত বন্ধু চেনা যায় বলে’ সত্যিকার বন্ধু হতে পারে। আর আমি থেকে যাই আড়ালে, অন্তপুরবাসিনী হয়ে। তাই আমাদের আর বন্ধু হয়ে ওঠা হয় না। হলেও সেই শূন্যস্থান আর পূর্ণ হয় না। সুখে-দুখে যদি পাশেই না দাঁড়াতে পারি তবে বন্ধুত্বের ঐক্য তৈরি হবার সুযোগটা কোথায় বলুন তো?

এ তো গেল ছোটবেলার কথা। একটূ বড় হয়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয় গন্ডিতে আসি তখনো কিন্তু আমাদের এই শুণ্য স্থান পূর্ণ হয়না। এমনকি তখন যদিও আমরা হলে থাকার ফলত বা অন্যান্য সখ্যতার দরুন আরো ঘনিষ্ট হই কিন্তু জীবনের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারিনা। এর প্রমাণ পরের অংশে দিব। তার আগে অন্য একটা কথা বলে নেই। এই যে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে এবার যৌন নিপীরণের ঘটনা ঘটল তাতে কিন্তু আমরা কোন মেয়েকে একা পাইনি। কিন্তু আমাদের সঙ্ঘবদ্ধতাও আমাদের কোন উপকার করতে পারেনি। আমরা উপকার যাদের কাছ থেকে পেয়েছি তারা লিটন নন্দীর মত ব্যক্তিরা। viagra in india medical stores

যাই হোক, আমাদের দৃঢ় বন্ধুত্ব যে কোঠাও তৈরি হয়নি তার প্রমাণ পাওয়া যায় কোন এক মেয়ের বিয়ে হয়ে যাবার সাথে সাথেই। বিয়ে হয়ে যাবার পরই অধিকাংশ মেয়ের কোন বন্ধু থাকেনা। থাকলেও বছরে একবার তার সাথে দেখা হয় বা জানা হয়। সত্যি বলতে জীবনে প্রয়োজনের বাইরে আমরা কিছুই করি না। বিয়ে হয়ে যাবার পর আমরা নিজেদের এক গন্ডি তৈরি করে নেই। সেই গন্ডি থেকে আমরা বুঝতে পারি এই মেয়ে বন্ধুদের আমরা শুধু মাত্র সুখ-দুঃখের কথা ভাগাভাগি করা ছাড়া অন্য তেমন কোন বড় প্রয়োজনে পাইনি। বিয়ের পর আমরা এমন এক matured world এ এসে পড়ি যে সেখানে আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল বিষয়ের মুখোমুখি হতে হয়। তাই অধিকাংশ মেয়েদের আর বন্ধু থাকে না। থাকলেও বরের বন্ধু হিসেবে বন্ধু বা এ জাতীয়। কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে পুরোই বিপরীত চিত্র। বরং ছেলেরা ভাবতে বসে বিয়ে করে কি এখন বন্ধুদের কম সময় দিচ্ছি? এতদিনের প্রিয় বন্ধুরা- যারা সবসময় পাশে ছিল। জীবনের ২৪-২৫ বসন্ত তাই মা বা বোন ছাড়া তেমন কারো সাথে আমাদের দৃঢ় বন্ধন তৈরি হয় না। হলেও বিয়ের পরের দৃশ্যপটে তা আর টিকে থাকে না। যাই হোক এই বিষয়টা আর টানার প্রয়োজন মনে করছি না। kamagra pastillas

আমার মনে হয় এই বিষয়টা পরিস্কার কেন প্রতিবাদের সময় নারীর পাশে নারী নেই। কেনই বা নারী সংগ্রামস্থলে পুরুষের পাশে দাঁড়ায় অথবা দাঁড়ায়ই না। আমরা যতই স্বাধীনতার কথা বলি পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোতে পড়ে পুরুষের মুখাপেক্ষিতা ছাড়তে পারিনা। একারণেই প্রতিবাদের ডাকে আমি আমার বাবাকে সাথে নিব, ভাইকে নিব কিন্তু মাকে নিব না। আসলে মা যেতেই চান না। সংগ্রামের জায়গায় ছেলে বন্ধুরা যত এগিয়ে এসে মেয়ে বন্ধুরা সেই তুলনায় কম আসে। nolvadex and clomid prices

আমি মনে করি স্পষ্টতই এখানে ফুটে উঠেছে কেন আমরা মেয়েরা মেয়েদের পাশে দাঁড়াই না। আমরা প্রয়োজনবোধ করিনা। দেখুন, কেবল কিছু দর্শনের বুলি জীবন চালাতে পারেনা। যতই একজন নারীর বিপদে একজন নারীর এগিয়ে আসা কর্তব্য হোক না কেন যদি আগে আমার জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকে, যদি পূর্বাপর আমি কোথাও নারীর দ্বারা তৈরি নারীর নিরাপত্তার চিহ্ন না দেখি তবে সেই কর্তব্যবোধকে রূঢ় বাস্তবতা ছাপিয়ে যায়। বরং আমরা করি কি এতদিন যে পুরুষগুলো আমাদের পাশে ছিল একটু আধটু কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে তাদেরই তোষামোদ করি। ভেবে দেখুন একবার, এই পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো নারীকে কতটা একা, অসহায় হিসেবে উপস্থাপন করেছে আক্ষরিক অর্থেই।

( off topic- বাবারা দেখুন, আপনি আপনার মেয়ের সাথে নিশ্চিতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করলেও তার একাকীত্ব কাটেনি। প্রেমিকেরা দেখুন, সময়ে অসময়ে আপনি আপনার প্রেমিকার পাশে থাকলেও সে নিশ্চিতভাবেই আপনার মত বন্ধু সহচার্য পায় না। বরেরা দেখুন, আপনার সঙ্গীকে আপনি যতই সময় দিন না কেন তার একটা অংশ বড়ই শুণ্যতায় ভরা। আজকের হৈমন্তীদের দেখুন আপনারা। অবশ্য আমাদের এমনই হাল, আমরা এগুলোকে শুণ্যতা বলেও ভাবিনা। আলো দেখতে না পারলে আলোর অস্তিত্বের কথা জানব কিভাবে বলুন? আজকে যদি এমন সুযোগ থাকত নারী রাত বিরাতে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে যেখানে ইচ্ছা যেতে পারছে। যদি রাত ১টায় অসুস্থ বাবাকে নিয়ে ছুটে আসতে পারত গ্রাম থেকে শহরে তবে মেয়ে হিসেবে কতটা সফল হত সে? যদি বন্ধুর আবদারে সন্ধ্যায় মংলায় ইলিশ খেতে চলে যেতে পারত বাইক নিয়ে তবে কতটা দৃঢ় হত বন্ধুত্ব? যদি জ্বরে কাঁপতে থাকা ভাইকে অফিস থেকে তুলে আনতে পারতাম বাসায়? যদি প্রেমিকের মেসে রাত ১২টায় গিয়ে জন্মদিনের উইশ করতে পারত তবে প্রেমিকা হিসেবে সে কি সম্মানটা পেত? ভাবুন তো তখন মেয়েকে নিয়ে, বন্ধুকে নিয়ে, বোনকে নিয়ে, প্রেমিকাকে নিয়ে কতটা গর্ব করা যেত! যাই হোক প্রয়োজনই যখন পূরণ হয় না সেখানে এসব বিলাসী কলনা নাই বা আনলাম )

যাই হোক এলেবেলে অনেক প্রসঙ্গ টেনে মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে এসেছি অনেকদূর। কেন ফেসবুকের কথা লিখে পোস্ট শুরু করেছিলাম। আমি আসলে ফেসবুকের থিওরি অনুসরণ করতে চেয়েছিলাম। দেখুন, ফেসবুকে ছবি দেবার মত অধিকার, স্বাধীনতা যেমন মেয়েদের আছে। তেমনি রাত ১২টায় ইচ্ছে হলে বেরিয়ে যেতে পারাটাও আমাদের অধিকার। বন্ধুর সাথে বসে মাঝরাস্তায় প্রোজেক্টরে বিশ্বকাপ খেলা দেখার অধিকার আমাদেরও আছে। ভিড়ের মাঝে মিশে গিয়ে উতসব উদযাপনের অধিকার আমাদেরও আছে। আজ নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে যেসব থেকে সমাজ আমাদের দূরে রেখেছে সেসব প্রশ্নকে নিকুচি করে আমরাও আমাদের অধিকার পেতে পারি। ‘india’s daughter’ – documentary টিতে আমরা দেখতে পারি যে একজন মেয়ে রাতে বাসার বাইরে বলে ট্যাক্সি ড্রাইভার বলছে ‘যে মেয়ে রাতে বাসার বাইরে থাকে সে কখনো ভাল হতে পারে না।’ পরোক্ষভাবে এই ট্যাক্সি ড্রাইভারেরাই এই পুরুষেরাই গণ ধর্ষনকে সমর্থন দিচ্ছেন। আমাদের শিক্ষা আমাদের বলে এসব ধারনা ভুল। একজন ভাল মেয়েও প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বাইরে থাকতে পারে, রাত কিংবা দিন যখন ইচ্ছা তখন। ভাল নারীর সন্ধ্যার পর বাইরে থাকা যায় না, রাত ১২টার পর তো প্রশ্নই আসে না। যা আজ ভাবাই যায় না, তাকে আমরা সত্য করতে পারি; যা আজ কল্পনার অতীত তাকে আমরা বাস্তব করতে পারি_ যদি সম্মিলিত প্প্রয়াস থাকে।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি অবশ্যই এসবকে উস্কানী দেয়। যদি রাষ্ট্রের আইনের সঠিক প্রয়োগ দেখা যেত, যদি নারীর পক্ষে থাকা আইনগুলোর দু’ধরনের শাস্তির বিধান রেখে অসাংবিধানিক ব্যবস্থাপনায় না ফেলা হত, যদি সত্যিই সেসব নরপিশাচদের শাস্তির কিছু উদাহরণ সামনে মূর্ত হত তবে ফেসবুক privacy-র মত অনুঘটকের কাজ করত তা। এর উপর আস্থা করে নারী বেরিয়ে আসতে সাহস করত।

ধর্মের দোহাই দিবেন না। কারণ, অন্তত আপনার ধর্ম নারীকে প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হবার অনুমতি দেয়। রাত দিন কোন কিছুর উল্লেখ ছাড়াই। কিন্তু আজ এসব ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে আপনারা প্রয়োজনেও নারীর বের হবার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। নারীর জন্য প্রয়োজনের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছেন।

সমাজের কথাও বলবেন না। এই সমাজ আপনার, আমারই তৈরি। আমি একাই মুক্তচিন্তা করলে জীবনেও আগানো যাবে না। মানুষ সামাজিক জীব। আমাদের প্রত্যেকের জীবন অন্যজনের স্বারা প্রভাবিত। সুতরাং আমার পাশে আপনি এবং আপনারা মুক্ত চিন্তা না করলে কখনই আমরা আগাতে পারব না।

তারপরও যদি বুদ্ধুর দল রাষ্ট্র, সমাজ, ধর্মের কথা টেনে আনে তখন আমি শেষ একটা যুক্তি টেনে আনব। আমি বিশ্বাস করি- রাষ্ট্র যদিবা আইন করে, ধর্ম যদিবা সম্মতি দেয়, সমাজ যদিবা একমত হয় তবুও এসব প্রচেষ্টা বৃথা হয়ে যাবে যদি এবং কেবল যদি সেখানে সম্মিলিত প্রয়াস না থাকে। নাস্তিকদের কতল করার পক্ষে নিশ্চয়ই রাষ্ট্র নয়, নিশ্চয়ই সমাজও তার পক্ষে নয় তারপরও নাস্তিকতা নিয়ে লেখালিখি করলে মেরে ফেলা হবে এটা যেন রীতিতে পরিণত হয়েছে। কারণ আইন, নীতি থাকলেও এখানে আমাদের সম্মিলিত অবস্থান নেই। সম্মিলিত প্রয়স সবার উপরে। রাষ্ট্র যেসব বিষয়ে নিরাপত্তা দেয় না, ধর্ম যেসব বিষয়ে বৈধতা দেয়না, সামাজিক প্রথা যা মেনে নেয় না- একমাত্র সম্মিলিত প্রয়াস সেখানে সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে টিকে থাকতে পারে। আওনি নিশ্চয়ই এটা অনুধাবন করেন রাষ্ট্র যদি আইন করে নিরাওত্তা দেবার চেষ্টা করে তারপরও আপনি নিরাপদ নন। কারণ আইনের সুবিধা এখানে দুষ্প্রাপ্য। কিন্তু সম্মিলিত প্রয়াস এগুলোকে আমাদের দ্বারপ্রান্তে আনতে পারে।

ফেসবুকে যেভাবে আপডেট হবার নেশায়, জনপ্রিয় হবার ইচ্ছায় অসচেতনভাবেই নিজেদের অধিকার আদায় করে ফেলতে পেরেছেন এখানেও সম্ভব। শুধু কিছু চিন্তা ছড়িয়ে দিতে হবে। আধুনিকতার সংজ্ঞায় লক্ষ্মী মেয়ে, ভাল মেয়ে কেন যে ঘরের কাজ ভাল করে, রান্না ভাল করে সে হবে? ভাল মেয়ে সেই হবে যে বাবা- মাকে সব সুযোগ সুবিধা দিতে পারে। বাবার আইনী লড়াইটা যে চালিয়ে নিয়ে যেতে পারে। যে গ্রামের ভিটে মাটিটা মাস্তানদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে সে কেন ভাল মেয়ে হবে না? আপডেটেড মেয়ের সংজ্ঞা কেন এমন হয় না? কেন প্রেমিকাকে তার মেকাপ আর সৌন্দর্য দিয়ে বিচার করবেন? ভাল প্রেমিকা কেন সেই হবে যে গুটিগুটি পায়ে আপনার কোল ঘেষে বসে থাকে? যে আপনার সাথে এভারেস্টে ওঠার স্বপ্ন দেখে, ঢাকা থেকে খুলনা হঠাত রাতে গিয়ে আপনাকে চমকে দিতে পারে। সে কেন উড়নচন্ডী বলে আক্ষা আবে ভাল প্রেমিকা হবার বদলে? আর আপনিই বা কেন শুধু নিরাপত্তা নিরাপত্তা বলে তাকে ঘরকুনো করে রাখবেন? ভাল বউ কেন সে হবে যে পরিবারের সবার খেয়াল রাখে, যত্ন নেয়? বন্ধুদের ভাল ভাল রান্না দাওয়াত করে খাওয়ায়। কেন সে হবে না যে আপনার সাথে বকুলতলায় ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দেয় বা বাংলা একাডেমীতে আলোচনায় মেতে ওঠে? আপনার ভাগনা ভাগনীরা বাসায় আসলে তাদের ভাল যত্ন আত্তি করে খাওয়ালেই ভাল বউ? আর যে বউ আপনার ভাগনা ভাগনীদের একা বইমেলা নিয়ে যায় বা সন্ধ্যা রাতের চন্দ্রগ্রহন দেখিয়ে আনে। সে কেন বউ-এর বেশি সাহস বলে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের শিকার হবে?

( এখানে একটা অন্য কথা বলে রাখি, আমরা সমাজে ভাল মেয়ে, মা , বোনের সংজ্ঞা বড়ই বিকৃত করেছি। আজ যে মাকে নিয়ে এত গূণকীর্তন করছেন সেই মায়েদের কি আপনারা এই অবস্থানে দেখতে চেয়েছিলেন? আমার ব্যক্তিগত পরিচয়ের জায়গা থেকে একটা উদাহরণ দিচ্ছি। ফারজানা রুপার মেয়ের স্কুলে একদিন মায়ের ছবি আঁকতে বলেছে। ফারজানা রুপার মেয়ের বান্ধবী তখন মাইক হাতে এক মহিলা একেছে। বাচ্চা মেয়েটা তখন বলে কিনা, ‘এটা তো আমার মায়ের মত।’ উত্তরে ঐ মেয়ে বলেছে, ‘আমার মাকেও আমি এভাবে দেখতে চাই।’ এবং ঐ ক্লাসে প্রায় সব বাচ্চাই মায়েদের ছবি ডাক্তার কিংবা ম্যাজিশিয়ান বা ব্যারিস্টার- এভাবে এঁকেছেন। আমরা সত্যি বলতে আমাদের মায়েদের, বোনদের, স্ত্রীদের এভাবেই পেতে চাই। কিন্তু বড় হতে হতে চাওয়াগুলো সামাজিক প্রথার দ্বারা অবদমিত হয়। একটা সময় ভুলেই যাই মায়েদের কি ছবি এঁকেছিল স্বকীয় স্ততাটি। )

যাই হোক, কেউ মনে করবেন না। আমি মেয়েদের রান্না করা, আঁকা বা যত্ন আত্তির বিপক্ষে কিছু বলছি। তা তো নয়ই বরং আমি বলতে চাচ্ছি আপনাদের পৃথিবীটা একটু বড় করুন। মেয়েদের গন্ডিটা এত ছোট করে দিবেন না। আপনি এত বড় গন্ডিতে ঘুরবেন আর আপনার মেয়ে, বোন, স্ত্রী ঘরকুনো হয়ে থাকবে? কেন গো? তারাও তো ‘আপনার’ সাথেই জড়িত। স্বার্থের ক্ষেত্রেও স্বার্থপরতা???

দৃষ্টিভঙ্গির এই পরিবর্তনগুলো নিজেদের মধ্যে এনে একটু চেষ্টা করুন না। সম্মিলিতভাবে এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা গেলে সব দৃশ্য পালটে যাবে। আজ যা অসম্ভব মনে হচ্ছে। কাল তা থাকবে না। সম্মিলিতভাবে এই পরিবর্ত্ন আনলে আইন সহায়তা দেবেই দেবে, সমাজ আর কতটা আটকাবে? সম্মিলিত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন যে সব কল্পনাকে সত্য করতে পারে তার উদাহরণ দিয়েই শেষ করব।

কিছুদিন আগে আমাদের এক ব্লগার ফেসবুকে প্রোফাইল পিকচারে এই ছবিটি দিয়েছিল-
10365774_609475149151400_3384524633865633369_n

এরপর সেখানে কত অনেক অদ্ভুত, খারাপ মন্তব্য এসেছে। তার মধ্যে একটা মন্তব্যে এক মেয়ে বলেছিল ভাইয়া আপনার এই ছবি দেবার রুচি হল কিভাবে? বলি, অরুচি হবার মত কোন ছবি কি? না জানে কতজন মেয়ে এই ছবি হোম থেকে হাইড করে দিয়েছে! ঠিক তখন আমার একটা কথা মনে পড়ে গেল, বেগম রোকেয়া তার অবরোধবাসিনীতে একটা বাস্তব ঘটনা তুলে ধরেছিলেন। কোন এক মুসলিম বাড়িতে নামাজের সময় কুমারী মেয়ে ওজু করছিল। তখন হঠাত এক মহিলা আয়জামা আর বড় আলখাল্লা পড়ে মাঝ উঠানে এসে দাঁড়িয়েছিল। বাড়ির সবাই তাকে প্রথমে মরদ ভেবেছিল পড়ে যখন জানল যে সে মরদানা তখন ঘরের বয়োজেষ্ঠ্যদের বলার সাথে সাথে তারা বলে উঠল, ‘বাড়ির কুমারী মেয়েরা তাকে দেখেনি তো? এখনি দরজা বন্ধ করে দাও।’ ভাবুন একবার, আমাদের আজকের সালোয়ার কামিজ ( যদিও তার চেয়ে অনেক পর্দাশীল ) তা দেখে ঘরের দুয়ার এটে দিয়েছিল। যেন তা দেখা নিষিদ্ধ! কিন্তু আজ আমরা বেশ সেসব জামা পড়ে বেড়াচ্ছি। শুধু তাই না জিন্স, শার্টও পড়ছি।

অতএব তখন যা নিষিদ্ধ ছিল আজ তা প্রচলিত কারণ সমাজের সবাই তা গ্রহন করেছে। আর আজ যা নিষিদ্ধ কাল তা সবার দ্বারা গৃহীত হবে যদি আপনি আমি এই দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে পারি। wirkung viagra oder cialis

ফেসবুকে শুধু স্বাধীনতার বুলি ঝেরে কি হবে বলুন? ওটা সেই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি যা বাস্তব জগতের সব না পাওয়াকে এক আলগা আস্তরণে মুড়িয়ে আপনাকে সেসব থেকে ভুলিয়ে রেখেছে। সুতরাং ওখান থেকে বের হয়ে একটু অফলাইন জগতে স্বাধীনতার চিন্তা করুন। যা অনলাইনে পেয়েছেন, আশা করি একদিন তা অফলাইনেও পাওয়া যাবে।

( ব্লগার অনন্ত বিজয় দাসের মৃত্যুতে শোকাহত, লজ্জিত, ক্ষুব্ধ )

You may also like...

  1. কৃষ্ণ গহ্বর বলছেনঃ

    চমৎকার বিশ্লেষণ। নারীদের অগ্রগতির ক্ষেত্রে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের ক্ষেত্রেও যে মনস্তাত্ত্বিক কিংবা চেতনার জায়গাগুলি বন্ধ্যার মতো হয়ে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তা খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরছেন।

  2. অপার্থিব বলছেনঃ

    অনলাইন বা ফেসবুক কেন্দ্রীক সামাজিক মাধ্যম গুলোতে নারীরা অনেক এগিয়েছে এটা সত্য এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে অনলাইনে নারীরা পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি প্রভাব বিস্তারকারী । যেমন উদাহরন হিসেবে বলা ফেসবুকে মেয়েদের ফ্রেন্ড ফলোয়ার লিষ্ট অনেক বড় হয়। মেয়েদের ষ্ট্যাটাসেও অনেক বেশি লাইক কমেন্ট পড়ে। ব্লগেও আমরা দেখি যে নারী ব্লগার দের লেখা অনেক বেশি পঠিত হয়। নারীদের এই অনলাইন স্বাধীনতার সঙ্গে অফলাইন পরাধীনতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে , বলা যায় যে এটা নারীদের অফলাইন পরাধীনতার এক ধরনের কাউন্টার ইফেক্ট । এবার মূল প্রসঙ্গে আসি। আপনার লেখায় যে বিষয়টি বলতে গেলে উঠেই আসেনি সেটি হল নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি।বর্তমান সময়ে আমরা দেখি যে অনেক ক্ষেত্রেই মুলত নারীর শরীরের স্বাধীনতাকে হাইলাইট করে নারীর স্বাধীনতা দাবী তোলা হয় । এটাকে বলা যায় সাম্প্রতিক কালের জনপ্রিয়তম কর্পোরেট নারীবাদ। দীপিকা পাডুকোণের বলা ” আমার শরীর আমার স্বাধীনতা ” শীর্ষক শর্ট ফিল্মটি এই ধারার নারীবাদকেই প্রমট করে। কিন্ত বাস্তবতা হল এই জাতীয় নারীবাদে পুরুষতন্ত্রের বিন্দুমাত্র ক্ষতি নেই , পুরুষতন্ত্রকে শুধু প্রচলিত মুখোশের উপর নুতুন একটি মুখোশ পরে নিতে হয় । হ্যা একজন নারীর শরীরের স্বাধীনতা অবশ্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিন্ত তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ একজন নারীর কর্মের স্বাধীনতা , অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ।নারীরা অর্থনৈতিক ভাবে স্বাধীন না হলে তাদের শরীরের স্বাধীনতাও পরোক্ষভাবে পুরুষতন্তের পারপাস সার্ভ করেবে। পুরুষতন্ত্র তার পুরুষতান্ত্রীক দৃষ্টিকোণ থেকে ভাল মেয়ে খারাপ মেয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণ করবে। আপনার ভাইয়ের চেয়ে আপনার বোন যদি অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষমতাশালী হয় তবেই হয়তো বিপদে পড়লে আপনি আপনার বোনকেই স্মরন করবেন। কাজেই সবার আগে এই বিষয়টিকে হাইলাইট করা জরুরী। সম্পত্তিতে ছেলে মেয়ের সমান অংশিদারিত্ব প্রতিষ্ঠা এই ক্ষেত্রে একটা বড় অগ্রগতির সুচনা করতে পারে। কিন্ত বাংলাদেশে যখন এটার বিরুদ্ধে কওমি মাদ্রাসা কেন্দ্রীক হুজুরেরা আন্দোলন শুরু করেছিল তখন সরকারের সমর্থনে খুব কম সংখ্যক নারীকেই রাস্তায় নামতে দেখা গেছে। নববর্ষে নারী লাঞ্জনার যতটা প্রতিক্রিয়া হয়েছে তার অর্ধেক প্রতিক্রিয়া সেসময় নারীদের মধ্যে হয়নি। আবার আমরা দেখি যে একালের নারী-পুরুষ সকলের প্রতিবাদ বিক্ষোভ গুলো শুধু ফেসবুক আর ব্লগে সীমাবদ্ধ। রাস্তায় প্রতিবাদ বিক্ষোভে খুব সংখ্যক নারীকেই দেখা যায়। সমাজে গড়ে উঠা এই আত্বকেন্দীকতার কারনেই আজকাল কার এই রিভল্ট গুলো শেষ পর্যন্ত রিভ্যুলিউশন ষ্টেজে পৌছায় না। কাজেই নিজেদের অধিকার প্রশ্নে নারীদের অফলাইনে আরো বেশি সক্রিয় হতে হবে তবেই একদিন সত্যিকারের নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব ।

    irbesartan hydrochlorothiazide 150 mg
    • মাশিয়াত খান বলছেনঃ

      আমি ঠিক আপনার মন্তব্যের সাথে একমত নই। আপনার মন্তব্যের প্রথম অংশের সূত্র ধরলে আমাকে বলতেই হবে আপনি সামগ্রিক চিত্র দেখেছেন কি? কেবল ফেসবুকের পপুলার সোসাইটির দিকে নজর দিয়ে কথা বলছেন্না তো? আপনি যদি শুধু পপুলার অংশের কথা চিন্তা করেন তবে সামগ্রিক চিত্র কোনদিন পাবেন না। আমার কখনই একে কাউন্টার ইফেক্ট মনে হয়নি। কাউন্টার ইফেক্ট তখন হত যদিই সত্যিই নারী তা কাউন্ট করতে পারত। কাউন্ট করতে পারলে সে অবাস্তব এই জগতে তেমন কিছু পাচ্ছেনা জেনেও সময় ব্যয় কেন করবে? আমরা সত্যি যদি আমাদের মস্তিষ্কের displacement জানতাম তবে তো সেধরনের আচরণ করতাম না। কেউ কি নিজেই নিজেকে মিথ্যে সান্ত্বনা দেয়? যাই হোক, দ্বিতীয় অংশে অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলেছেন। দেখুন অর্থ’ অর্থ যদি টাকা হয় তবে আমাকে বলতেই হবে i strongly oppose it. নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি নেই- এ কথাটা কে বলল? নারী কিন্তু পুরুষের মতই আয় করছে এখন অনেকটাই। আগে মিডল ক্লাসে এই প্রবনতা কম ছিল। কিন্তু লোয়ার ক্লাস নারী সবসময়ি পরিশ্রম করত। অর্থ উপার্জন কর। এখন মিডল ক্লাস নারীও করে। কিন্তু অর্থ থেকেও। সে মুক্ত নয়। ধরুন, স্বামী পংু স্ত্রী অর্থ উপার্জন করে; ঘরে ফিরে সেই উপার্জিত অর্থ পুরুষ কর্তাটি নিয়ে নেয়। একমাত্র যদি অঢেল টাকা থাকে তবে নারীর ঐ উপার্জনে কেউ হাত দেয়না। আজকের দিনে মেয়েরা চাকরি করছেনা? আমি তো দেখি আমার ভাইয়ের চেয়ে বোনই বেশি উপার্জন করে। তবু তো সে মুক্ত না। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে অধিকাংশই নারী তারা কি স্বাধীনতা অর্জন করেছে। অর্থনৈতিক মুক্তি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু এটাই প্রধান উপায় না। কারণ যতই আপনি অর্থনৈতিক মুক্তি দিন না কেন যদি দৃষ্টিকোণ না বদলায় তবে নারী সেই মুক্তিও ভোগ করতে পারবে না। যেমন রবির যে প্রধান নির্বাহী তিনি একা সন্তান বড় করছেন। তিনি অর্থনৈতিক ভাবে স্বাধীন কিন্তু তার গন্ডি খুবই সীমাবদ্ধ কারণ এর বাইরে তাকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। কেন সে একা ইত্যাদি ইত্যাদি।।। ঠিক এই জায়গা থেকেই বলেছিলাম, নারী যদি অঢেল অর্থ উপার্জন ও করে তবুও সে স্বাধীন না যদি না দৃষ্টিভংি পরিবর্তিত হয়। এজন্যই একটা সময় খুব করে অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলা হলেও এখন বলা হয় ক্ষমতায়নের কথা। কারণ এটা স্পষ্ট অর্থনৈতিক মুক্তিই নারীকে একা স্বাধীন করতে পারেনা

    • মাশিয়াত খান বলছেনঃ

      আর কর্পোরেট নারীবাদ বিষয়টা প্রথম শুনলাম। দেখুন, আমার শরীর আমার স্বাধীনতা এই ধারনার শুরু হয় বিংশ শতাব্দী থেকে। এর সাথে পুরুষতন্ত্রের কোন সম্পর্ক নেইই বরং বিবাদ আছে। এই ধারনা প্রবর্তন করার পেছনের কারণ নারীর স্বাধীনতা বলতে এখন কেবল এবং কেবল মাত্র যৌনতার স্বাধীনতাকে বোঝানো হয়। বিষয়টা অনেকটা এমন যে আপনি যেই কওমী বা ধর্মের কথা টানলেন না। ধর্ম কেন নারীকে অর্ধেক দেবার প্রয়োজন বোধ করল? কোন যুক্তিতে ধর্মগুলো এসে নারীকে নিচু মনে করতে শুরু করল? এর পেছনের কারণ তখনকার সামাজিক অবস্থা। ততকালীন অবস্থা কোনমতেই নারীকে উচু মনে করবার কোন সুযোগ ছিল না। এখন প্রশ্ন কেন এই সুযোগ ছিল না? কারণ তখন ঠিকই সমাজের রন্ধ্রে পুরুষতন্ত্র ঢুকে গেছে। তাহলে পুরুষতন্ত্র কিভাবে নারীকে ছোট করল? যৌনতার দিক থেকে, পেশির দিক থেকে পুরুষতন্ত্র খুব সহজেই এ দু’টোকে অবলম্বন করে দেখাতে পারল নারী একা অসম্পূর্ণ। এরিস্টটল, ফ্রয়েডের মত দার্শনিকেরা এগুলো সমর্থন করত। যার কারণে পরবর্তিতে আমরা দেখি যে নারী পুরুষের হাড় থেকে সৃষ্ট – এমন গল্প ফাদতে পেরেছে ধর্ম। পেশির ভূনিকায় পুরুষের শ্রেষ্টত্ব যদিও এখন বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল প্রমাণ করা গেছে। কিন্তু যৌনতার ক্ষেত্রে যায়নি এখনো। তাই যৌনতার স্বাধীনতা চাবার অর্থেই এই ‘ আমার শরীর আমার স্বাধীনতা ‘ ধারনার প্রবর্তন। ভাবুন, নারী যৌনতার ক্ষেত্রে স্বাধীন হলে তাকে ফুল হিসেবে তুলনা করা যেত কি? তখন কি বলা যেত ফুলের চারপাশে ভ্রমর তো গুনগুন করবেই? নারীর যৌনতাকে অক্রিয় হিসেবে প্রকাশ করেই তাই pseudoscience, pseudophylosophy, social constrains আধিপত্য করেছে। এই যৌনতার স্বাধীনতা পেতেই নারী তার শরীরকে ঢেকে রাখা কোন অমূল্য রতন হিসেবে দেখতে নারাজ। তাই এই ধারনার প্রবর্তন। বিংশ শতাব্দীর সব পাশ্চাত্য নারীবাদীরা তাই এর জন্যই লড়াই করেছে। পশ্চিমে তাই কিছুটা এই স্বাধীনতা পাওয়া গেলেও প্রাচ্য তা থেকে অনেক দূরে। শুধু তাই নয় প্রাচ্য এর মূল মর্ম না বুঝে branding এ নেমেছে

      শেষ কথা, আপনার শেষ লাইনটির সাথে একমত। আমি তো বাপু ঐ কথাই বলেছিলাম পোস্টে। বড় খিচুরি পেকে গেছে কিনা, তাই মনেহয় ধরতে পারেননি। উপস্থাপনার ত্রটি স্বীকার করছি। ধন্যবাদ আপনাকে

      • কাউন্ট করতে পারলে সে অবাস্তব এই জগতে তেমন কিছু পাচ্ছেনা জেনেও সময় ব্যয় কেন করবে? আমরা সত্যি যদি আমাদের মস্তিষ্কের displacement জানতাম তবে তো সেধরনের আচরণ করতাম না। কেউ কি নিজেই নিজেকে মিথ্যে সান্ত্বনা দেয়?
        এটা মোটেও অস্বাভাবিক নয় । আমরা দেখি যে একজন নারী অফলাইনে যে সুযোগ সুবিধা গুলো থেকে বঞ্ছিত অনলাইনের ভার্চুয়াল দুনিয়া তার সামনে সেই সুযোগ গুলো উম্নোচিত করে । আমাদের সমাজে একজন নারীর উপর শৈশব থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা রকম সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয় । সে কার সাথে বন্ধুত্ব করবে, কোন পোশাক পরবে , এমনকি কাকে বিয়ে করবে সেসবও পরিবার থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কিন্ত ফেসবুকের মত সামাজিক মাধ্যম গুলোতে সে অন্তত এই বিধি নিষেধ গুলো থেকে মুক্ত। সে এখানে তার নিজের ইচ্ছেমত বন্ধু নির্ধারণ করতে পারে , কাউকে ভাল না লাগলে আনফ্রেন্ড করতেও পারে । অনলাইনের এই ভার্চুয়াল দুনিয়া নারীদের সামনে স্বাধীনতার একটা নুতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করে। তারা ফ্রেন্ড লিষ্ট নির্বাচনে সতর্ক হয়ে নিজেদের স্বাধীনতার সর্বচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায়। একারনেই দেখবেন যে অধিকাংশ নারীই (পপুলার এবং আনপপুলার উভয়ই ) ফেসবুকে ফ্রেন্ড লিষ্টের ব্যাপারে খুবই খুতখুতে হয়। অনলাইনের এই ভার্চুয়াল দুনিয়ার সাথে বাস্তব দুনিয়ার কোন মিল না থাকলেও এক ধরনের জাদু বাস্তবতার মাঝে বাস করে তারা এর মাঝেই নিজেদের মুক্তি খোজে।
        //দেখুন অর্থ’ অর্থ যদি টাকা হয় তবে আমাকে বলতেই হবে i strongly oppose it. নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি নেই- এ কথাটা কে বলল? নারী কিন্তু পুরুষের মতই আয় করছে এখন অনেকটাই।//
        আপনি সম্ভবত নারীর অর্থ নৈতিক মুক্তি বলতে শুধু নারীর অর্থ উপার্জনকেই বোঝেন তা নাহলে উপরের কথা গুলো বলতেন না। কর্ম জীবি নারীদের উপার্জনের অর্থ যে তাদের স্বামীরা নিয়ে নেয় এই উদাহরণও দিতেন না । নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি বলতে শুধু একজন নারীর অর্থ উপার্জনকে বোঝায় না , একই সঙ্গে সেই অর্থের উপর নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকেও বোঝায়। অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নারীর ক্ষমতায়নের পথে সবচাইতে প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। মুলত এর পরেই আসে সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ। কাজেই এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত সবার আগে।পাশাপাশি নারী ও পুরুষের মাঝে সামাজিক সচেতনতা তৈরীও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্ত এটি একটি দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া ।

        নারীবাদ বর্তমান পৃথিবীর সবচাইতে জনপ্রিয় টপিক গুলোর একটি । যে পুজিবাদ চিরকাল নারীকে শোষণ করেছে সেই পুজিবাদও আজ নিজেদের স্বার্থে নিজেদের মত করে নারীবাদ ডিফাইন করে নিয়েছে । এটাকেই বলছি কর্পোরেট নারীবাদ। পাশ্চাত্যের নারীবাদও এ থেকে মুক্ত নয়। এই নারীবাদে মুলত নারীর সত্তাকে নারী শরীরের সমতুল্য করে দেখানো হয় । নারী মানেই যেন নারীর শরীর। তাই শরীরের স্বাধীনতাতেই নারীর স্বাধীনতা এরকম বক্তব্যকে সমাজে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করানো হয় । এই নারীবাদের হর্তা কর্তা রা মনে করেন যে, নারীর মনস্তত্ত্বকে যদি তার নিজের কাছেই ‘কেবল নারী শরীর’ বলে প্রতিপন্ন করে দেওয়া যায়, তাহলে একজন নারী তার স্বাধীনতা বলতে বুঝবে শুধু তার শরীরের স্বাধীনতা। অবাধ যৌনতাই তখন তার স্বাধীনতার প্রকাশ হয়ে দাঁড়াবে। যেদিন এই কাজে সফলতা আসবে সেদিন পুরুষকে নারী শরীর পেতে আর কষ্ট করতে হবে না। এই নারীবাদের বিজ্ঞাপনগুলোতে তাই নারীর শরীরের উপর বেশি জোর দেওয়া হয়। নারীর ক্ষমতায়নের নামে আয়োজিত সৌন্দর্য প্রদর্শন প্রতিযোগিতা গুলোতে তাইতো আজ আর পুজির অভাব হয় না । এভাবেই এই জাতীয় নারীবাদ পরোক্ষ ভাবে পুরুষতন্ত্রের পারপাস সার্ভ করে যায়। এই বিজ্ঞাপনের মায়া জালে আটকা পড়ে যে আজকাল অনেকে ফেসবুকে মেয়েদের ন্যুড ছবি আপলোড করে নিজেদের নারীবাদী বলে প্রতিপন্ন করার হাস্যকর চেষ্টা চালাচ্ছে সেটাই সবচাইতে হতাশাজনক ।

        • আমি দু:খিত অপার্থিব দাদা বা বোনজি, আপনার সাথে একমত হতে পারলাম না। আপনি নারীর যে মনস্তাত্তিক ব্যাখ্যা দিলেন তার কোন উপযুক্ত প্রমাণ আছে? আপনি নিজে নারী হয়ে অভিজ্ঞতা থেকে বললে বলতে হবে আপনার একার মনস্তাত্তিক ব্যাখ্যা সবার সাথে মিলে কিনা তা বিচার করেছেন কি? আর পুরুষ হলে ‘ পুরুষের চোখে নারী’ এই ধারনা থেকে বেরিয়ে আসুন। আর যদিবা ধরে নেই আপনার কথা সত্য তবে বলতে হবে নারীর সময় এসেছে এই মিথ্যে মায়াজাল থেকে বেরিয়ে সত্যের মুখোমুখি হবার। কেন নারী এমন করে এটা জেনে এই ধ্বংসাত্মক প্রবনতা জাস্টিফাই করার কিছু নেই।
          অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন- এর জন্য দৃষ্টিভংির পরিবর্তন দরকার বাপু। দৃষ্টিভংি পরিবর্তিত হলে সেই স্বাধীনতা এমনিতেই পাবে নারী। বিষয়টা ‘অর্ধাংীর’ ঐ রমনী নারী আর কালীর পুজো পাবার মত। একটু চিন্তা করবেন। এখন আবারো ব্যাখ্যা দিতে চাইছিনা।
          আর শেষ কথা। নারী স্বাধীনতার সাথে কেন শরীরের স্বাধীনতা বিষয়টা জড়িত এটা আপনি বুঝতে পারছেন না। হ্যা, আমি স্বীকার করছি এখানেও অনেক রকম অযাচিত বিষয় ঢুকেছে। হ্যা, এটা নিয়ে ব্যাবসা হচ্ছে। তবে সেটাকে আপনি এভাবে রুখতে পারবেন না। আপনাকে ব্যক্তিগত একটা পরামর্শ দেব? কিছু মনেনা করলে? আপনি বোভয়ারের দ্বিতীয় লিং বইটা পড়বেন। এতে কেন আমরাযৌনতার স্বাধীনতা চাই তা পরিস্কার হবে। আমরা নারীবাদ যে জনপ্রিয় একটি মতবাদ কথাটা ঠিক না। পশ্চিমে নারীবাদ মোটেও সমর্থন করেনা অধিকাংশই। তা সেখানে সমর্থন নআ করার অনেক যৌক্তিকতা আছে ( pseudophylosophy) . কিন্তু আমাদের এখানে তো পশ্চিমের মত স্বাধীনতা টুকুও নেই। তারপরও আম।। সুযোগ নেই। তারিক লিংকনের লোকাল খেয়ে গ্লোবাল ভাবনার মত। যাই হোক। আপনার ধারনাটা আমি বুঝতে পেরেছি। তবে সত্য বলতে কি, আপনাকে বুঝতে হবে পুরুষতন্ত্র কখন কিভাবে কোনটার সুযোগ নিল। নয়ত আপনি কেবল খারাপ দেখে শরীরের স্বাধীনতার বিপক্ষে দারাবেন

          • অপার্থিব বলছেনঃ

            আমি ঠিক বুঝলাম না আপনি কি মন স্তাত্বিক ব্যাখ্যার ব্যবহারিক প্রমাণ চান ? সেটা কি সম্ভব ? আমি যেটা বলছি সেটা কিছু নমুনার উপর ভিত্তি করে একটা জেনারেল কনসেপ্ট। সবার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না , ব্যতিক্রম থাকবে। তাছাড়া আমার ব্যাখ্যাটি ভুলও হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার উচিত প্রতিব্যাখ্যা দিয়ে এটিকে ভুল প্রমাণিত করা। আর আপনি যে আমার মতের সঙ্গে একমত নন তাতে কোন সমস্যা নেই । কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে পৃথিবীর সব মানুষকে একমত হতে হবে এরকম কোন কথা নেই । doctorate of pharmacy online

            আপনার মন্তব্য গুলোর মুল সুর অনেকটা এরকম যে পাশ্চাত্যের নারীবাদই একমাত্র সহীহ নারীবাদ। পাশ্চাত্যের নারীবাদের উপর লেখা বইগুলো একেকটা সহীহ আসমানী কিতাব। আপনি যে আমাকে হুমায়ূন আজাদের অনুবাদে সিমন দ্য বোভয়ারের দ্বিতীয় লিঙ্গ বইটি পড়ার ”ব্যক্তিগত পরামর্শ” দিচ্ছেন এখান থেকেও বিষয়টা প্রমাণিত। আমি বইটি আগেই পড়েছি ,আজ কয়েকটা অধ্যায় আবার পড়লাম। সেখান থেকে একটা লাইন উদ্ধৃত করছি। “নারী পুরুষকে পৃথক করেছে যে দুরত্ব, অর্থ কর চাকুরীর মাধ্যমে নারী সে দুরত্ব অনেকটাই পেরিয়ে এসেছেএবং বাস্তবে এ ছাড়া আর কোন কিছুই নারীর মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে না । যখন সে আর পরজীবি নয় তখন ভেঙ্গে পড়ে তার পরনির্ভরতার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা সকল সংশ্রয়” ( পৃষ্ঠা -৩৭২)
            আপনি সামাজিক সচেতনতার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন ,ঠিক আছে কিন্ত কোন বিষয়টিকে মুল ফোকাস করে সামাজিক সচেতনতা তৈরী করতে হবে সেটি নির্ধারণ করা আগে জরুরী। আপনি পাশ্চাত্যের অনুকরণে নারী বাদী আন্দোলন চালাতে চান কিন্ত আপনি জানেন কিনা জানি না এই উপমহাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসও কম পুরনো নয় । রোকেয়া সাখাওয়াত, সরলা দেবী এবং পন্ডিত রমাবাঈ উনিশশতকের শুরুর দিকে বাস্তবতা মেনে এই উপমহাদেশে নারীর অধিকারের স্বপক্ষে আন্দোলন শুরু করেছিলেন । প্রাচ্যের নারীবাদ অনেক ক্ষেত্রে পশ্চিমা নারীবাদ থেকে অনুপ্রাণিত হলেও তাকে সবক্ষেত্রে আক্ষরিক ভাবেপশ্চিমা নারীবাদকে অনুকরণ করতে হবে বলে মনে করি না। তাছাড়া প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের সমাজ কাঠামো , সংস্কৃতি এক না। আপনি যে কথাটি প্যারিস কিংবা বার্লিনে বসে অবলীলায় বলতে পারেন সেই কথাটি ঢাকার কুড়িল বস্তিতে বসে বলতে পারবেন না। এটাই আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা । আপনি চান বা না চান এটা আপনাকে মানতে হবে। যে দেশের অধিকাংশ প্রান্তিক নারী তাদের শ্রমের ন্যায্য মজুরি পান না , যেটুকূ পান সেটার উপর নিজেদের পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না সেখানে শরীরের স্বাধীনতাকে হাইলাইট করে নারী স্বাধীনতার ধুয়া তোলা সম্পূর্ণ অবাস্তব। মনে রাখবেন যে এদেশের শহর কেন্দ্রীক শিক্ষিত নারীরাই শুধু নারী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন না। এর বাইরেও রয়েছে বিপুল সংখ্যক প্রান্তিক নারী।
            শুধু শরীরের স্বাধীনতা হয়তো কিছু অবাধ যৌনতার কাঙ্গাল পারভার্ট নারী পুরুষকে উপকৃত করবে , এই সব প্রান্তিক নারীর জীবনে কোন পরিবর্তন আনবে না।

            আপনি যে অজনপ্রিয় নারীবাদের কথা বলতে চাইছেন সেটার মুলত র‍্যাডিকাল নারীবাদ।( আমাদের তসলিমা নাসরিন যে নারীবাদের চর্চা করেন)। এই জাতীয় নারীবাদের অজনপ্রিয় হবার পিছনে অনেক কারন আছে । এমনকি এই মতবাদ কে ট্যাকল করতে পশ্চিমা বিশ্বতে রিভার্স ফেমেনিজম নামে এক বিপরীত মতবাদের উদ্ভব ঘটেছে । কিন্ত র‍্যাডিকাল নারীবাদের বাইরেও নারীবাদের আরও অনেক শ্রেনীবিভাগ আছে। সারা পৃথিবী জুড়ে মুক্ত চিন্তার মানুষের কাছে নারীবাদ একটা জনপ্রিয় টপিক। পৃথিবী জুড়েই যেখানে মুক্ত বুদ্ধির চর্চা এবং মুক্ত চিন্তার মানুষের সংখ্যা বাড়ছে সেখানে নারীবাদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে ধরে নেয়াই যায়।

          • অপার্থিব বলছেনঃ

            আমি ঠিক বুঝলাম না আপনি কি মন স্তাত্বিক ব্যাখ্যার ব্যবহারিক প্রমাণ চান ? সেটা কি সম্ভব ? আমি যেটা বলছি সেটা কিছু নমুনার উপর ভিত্তি করে একটা জেনারেল কনসেপ্ট। সবার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না , ব্যতিক্রম থাকবে। তাছাড়া আমার ব্যাখ্যাটি ভুলও হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার উচিত প্রতিব্যাখ্যা দিয়ে এটিকে ভুল প্রমাণিত করা। আর আপনি যে আমার মতের সঙ্গে একমত নন তাতে কোন সমস্যা নেই । কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে পৃথিবীর সব মানুষকে একমত হতে হবে এরকম কোন কথা নেই ।

            আপনার মন্তব্য গুলোর মুল সুর অনেকটা এরকম যে পাশ্চাত্যের নারীবাদই একমাত্র সহীহ নারীবাদ। পাশ্চাত্যের নারীবাদের উপর লেখা বইগুলো একেকটা সহীহ আসমানী কিতাব। আপনি যে আমাকে হুমায়ূন আজাদের অনুবাদে সিমন দ্য বোভয়ারের দ্বিতীয় লিঙ্গ বইটি পড়ার ”ব্যক্তিগত পরামর্শ” দিচ্ছেন এখান থেকেও বিষয়টা প্রমাণিত। আমি বইটি আগেই পড়েছি ,আজ কয়েকটা অধ্যায় আবার পড়লাম। সেখান থেকে একটা লাইন উদ্ধৃত করছি। “নারী পুরুষকে পৃথক করেছে যে দুরত্ব, অর্থ কর চাকুরীর মাধ্যমে নারী সে দুরত্ব অনেকটাই পেরিয়ে এসেছেএবং বাস্তবে এ ছাড়া আর কোন কিছুই নারীর মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে না । যখন সে আর পরজীবি নয় তখন ভেঙ্গে পড়ে তার পরনির্ভরতার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা সকল সংশ্রয়” ( পৃষ্ঠা -৩৭২)
            আপনি সামাজিক সচেতনতার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন ,ঠিক আছে কিন্ত কোন বিষয়টিকে মুল ফোকাস করে সামাজিক সচেতনতা তৈরী করতে হবে সেটি নির্ধারণ করা আগে জরুরী। আপনি পাশ্চাত্যের অনুকরণে নারী বাদী আন্দোলন চালাতে চান কিন্ত প্রাচ্যের নারী আন্দোলনের ইতিহাসও কিন্ত কম পুরনো নয় । রোকেয়া সাখাওয়াত, সরলা দেবী এবং পন্ডিত রমাবাঈ উনিশশতকের শুরুর দিকে বাস্তবতা মেনে এই উপমহাদেশে নারীর অধিকারের স্বপক্ষে আন্দোলন শুরু করেছিলেন । প্রাচ্যের নারীবাদ অনেক ক্ষেত্রে পশ্চিমা নারীবাদ থেকে অনুপ্রাণিত হলেও তাকে সবক্ষেত্রে আক্ষরিক ভাবেপশ্চিমা নারীবাদকে অনুকরণ করতে হবে বলে মনে করি না। তাছাড়া প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের সমাজ কাঠামো , সংস্কৃতি এক না। আপনি যে কথাটি প্যারিস কিংবা বার্লিনে বসে অবলীলায় বলতে পারেন সেই কথাটি ঢাকার কুড়িল বস্তিতে বসে বলতে পারবেন না। এটাই আমাদের সামাজিক বাস্তবতা । আপনি চান বা না চান এটা আপনাকে মানতে হবে। যে দেশের অধিকাংশ প্রান্তিক নারী তাদের শ্রমের ন্যায্য মজুরি পান না , যেটুকূ পান সেটার উপর নিজেদের পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না সেখানে শরীরের স্বাধীনতাকে হাইলাইট করে নারী স্বাধীনতার ধুয়া তোলা সম্পূর্ণ অবাস্তব। মনে রাখবেন যে এদেশের শহর কেন্দ্রীক শিক্ষিত নারীরাই শুধু নারী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন না। এর বাইরেও রয়েছে বিপুল সংখ্যক প্রান্তিক নারী।শুধু শরীরের স্বাধীনতা হয়তো কিছু অবাধ যৌনতার কাঙ্গাল পারভার্ট নারী পুরুষকে উপকৃত করবে , এই সব প্রান্তিক নারীর জীবনে কোন পরিবর্তন আনবে না।

            আপনি যে অজনপ্রিয় নারীবাদের কথা বলতে চাইছেন সেটার মুলত র‍্যাডিকাল নারীবাদ।( আমাদের তসলিমা নাসরিন যে নারীবাদের চর্চা করেন। এই নারীবাদীরা নারী পুরুষের সমানাধিকার চান না, সব ক্ষেত্রে তারা পুরুষকে পরাজিত করতে চান, যৌনতার ক্ষেত্রে এরা মুলত সমকামী)। ফলে নানা কারনে এই জাতীয় নারীবাদের অজনপ্রিয় হবার পিছনে অনেক কারন আছে । এমনকি এই মতবাদ কে ট্যাকল করতে পশ্চিমা বিশ্বতে রিভার্স ফেমেনিজম নামে এক বিপরীত মতবাদের উদ্ভব ঘটেছে । কিন্ত র‍্যাডিকাল নারীবাদের বাইরেও নারীবাদের আরও অনেক শ্রেনীবিভাগ আছে(যেমনঃ লিবারেল ফেমিনিজম, মার্ক্সিষ্ট ফেমিনিজম ইত্যাদী)। সারা পৃথিবী জুড়ে মুক্ত চিন্তার মানুষের কাছে নারীবাদ একটা জনপ্রিয় টপিক। পৃথিবী জুড়েই যেখানে মুক্ত বুদ্ধির চর্চা এবং মুক্ত চিন্তার মানুষের সংখ্যা বাড়ছে সেখানে নারীবাদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে ধরে নেয়াই যায়।

    • যেমন উদাহরন হিসেবে বলা ফেসবুকে মেয়েদের ফ্রেন্ড ফলোয়ার লিষ্ট অনেক বড় হয়। মেয়েদের ষ্ট্যাটাসেও অনেক বেশি লাইক কমেন্ট পড়ে—- ব্যপারটা ভেবে দেখুন কেন হয়। আমরা ছেলেরা নারী সঙ্গ অতিমাত্রায় কামনা করি এখান থেকেই এটা হয় বলে আমার মতা মত

      • অপার্থিব বলছেনঃ

        আপনি খেয়াল করলে দেখবেন যে ব্লগে মেয়েদের লেখা অনেক বেশি পঠিত হয় । ব্লগে মেয়েদের লেখা পোস্টগুলোতে প্রাসঙ্গিক এবং ‘লুতুপুতু মার্কা ‘ এই দুই টাইপের মন্তব্য প্রচুর জমা হয়। বিশেষ করে যে সব মেয়েদের নামের আগে নাস্তিক তকমা লাগানো থাকে তারা এ ক্ষেত্রে অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে থাকে। এর প্রধান কারন হল এই ধরনের মেয়েরা তুলনামূলক স্বাধীন চেতা ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হওয়ায় অনেকে ভাবে এই জাতীয় মেয়েদের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো কিংবা বিছানায় নেয়া বোধ হয় খুবই সহজ কাজ।বিয়ের জন্য অধিকাংশ পুরুষ নম্র ,ভদ্র, ভার্জিন মেয়ে খুজলেও প্রেম কিংবা যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে এ ক্ষেত্রে তাদের কোন বাছ বিচার নেই।আবার অনেকে ‘হেদায়েতের স্বার্থে’ নারী ব্লগারদের প্রেম কিংবা বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এরাই মুলত অনলাইনে নারী ব্লগারদের নিয়মিত ফলো করে। আর আমাদের সমাজ কাঠামো পুরুষতান্ত্রিক হওয়ায় পুরুষেরা তাদের ভাল লাগা ,মন্দ লাগা যৌন আকাঙ্ক্ষার অনুভূতি খোলাখুলি প্রকাশ করতে পারে। ফেসবুক এক্ষেত্রে তাদের কাছে একটা সুবিধাজনক মাধ্যম। কিন্ত মেয়েদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি হয় উল্টো। অফলাইনে মেয়েরা অধিকার বঞ্চিত হওয়ায় হওয়ায় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের উপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ায় তারা এ থেকে মুক্তির উপায় খোজে। ফেসবুকের এই ভার্চুয়াল দুনিয়া আপাত দৃষ্টিতে অবাস্তব মনে হলেও তাদের কাছে এক ধরনের বাস্তব হিসেবে ধরা দেয় । তারা নিজেদের ইচ্ছেমত ফ্রেন্ড নির্বাচন করে নিজেদের স্বাধীনতার প্রকাশ ঘটাতে চায়। আপনি এই চাওয়াটিকে রুপক হিসেবেও ধরে নিতে পারেন। ইদানীং দেখবেন যে ফেসবুকে কেউ উত্যক্ত কিংবা অশ্লীল ইঙ্গিত পূর্ণ কথা বার্তা বললে সেটার স্ক্রীন শট নিয়ে ফেসবুকে প্রকাশ করাটা মেয়েদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এর কারনটি হল বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারনে নারীদের পক্ষ থেকে উত্যক্ত কিংবা লাঞ্জনার প্রতিবাদ করা অধিকাংশ সময়ই সম্ভব হয় না। আবার যথাযথ প্রতিবাদ করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর উপযুক্ত বিচার হয় না। তাই তারা নিজেদের মত করে অপরাধীকে শাস্তি দেবার একটা উপায় উদ্ভাবন করেছে । তারা উত্ত্যক্তের স্ক্রীন শট প্রকাশ করে অপরাধীকে শাস্তি দেয় , নিজেরাও বিনোদন পায়। আর একটা ব্যাপার হল সাহিত্য , সিনেমা সহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন সময়ে কোন যোগা যোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে দুজন অপরিচিত নারী পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠাকে দেখানো হয়েছে। এক সময় এই মাধ্যমটি ছিল চিঠির আদান প্রদান। পরবর্তীতে এই স্থান দখল করেছে মেইল এবং সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক,ভাইবার ইত্যাদী। ব্যাপারটা এতটাই জনপ্রিয় হয়েছে যে উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েরা এ নিয়ে এক ধরনের ফ্যান্টাসিতে ভোগে। রিয়েল লাইফে সম্পর্ক গড়ার চেয়ে ফেসবুকে সম্পর্ক গড়া তাদের কাছে অনেক বেশি কৃতিত্বের বলে মনে হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে আবার দেশি নারী পুরুষের তুলনায় ভিনদেশীদের প্রতি আগ্রহটা বেশি। এভাবেই দিন কে দিন ভার্চুয়াল পৃথিবীর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডের এই রঙ্গিন পৃথিবীটাকেই অনেকে বাস্তবের পৃথিবী হিসেবে ভাবতে শিখছে।

        • মাশিয়াত খান বলছেনঃ

          আমিও যদিও আপনার অনেক কথার সাথে একমত না। তারপরও শেষ কথার সাথে একমত। এজন্য ফেসবুককে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মত বলে। তবে এই বিষয়টা মূল প্রসংের সাথে অত বেশি যায় না। কারণ এটা ফেসবুক কমিউনিটির অল্প সং্খ্যক নারীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যারা অনলাইন এক্টিভিস্ট শুধু তারাই। অন্যরা নয়। মনে রাখবেন, দেশের অধিকাংশ মেয়ে যারা ফেসবুক ব্যবহার করলেও অনলাইন একটিভিস্ট নন

        • আপনি খেয়াল করলে দেখবেন যে ব্লগে মেয়েদের লেখা অনেক বেশি পঠিত হয় । ব্লগে মেয়েদের লেখা পোস্টগুলোতে প্রাসঙ্গিক এবং ‘লুতুপুতু মার্কা ‘ এই দুই টাইপের মন্তব্য প্রচুর জমা হয়। বিশেষ করে যে সব মেয়েদের নামের আগে নাস্তিক তকমা লাগানো থাকে তারা এ ক্ষেত্রে অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে থাকে। এর প্রধান কারন হল এই ধরনের মেয়েরা তুলনামূলক স্বাধীন চেতা ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হওয়ায় অনেকে ভাবে এই জাতীয় মেয়েদের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো কিংবা বিছানায় নেয়া বোধ হয় খুবই সহজ কাজ।বিয়ের জন্য অধিকাংশ পুরুষ নম্র ,ভদ্র, ভার্জিন মেয়ে খুজলেও প্রেম কিংবা যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে এ ক্ষেত্রে তাদের কোন বাছ বিচার নেই।আবার অনেকে ‘হেদায়েতের স্বার্থে’ নারী ব্লগারদের প্রেম কিংবা বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এরাই মুলত অনলাইনে নারী ব্লগারদের নিয়মিত ফলো করে। আর আমাদের সমাজ কাঠামো পুরুষতান্ত্রিক হওয়ায় পুরুষেরা তাদের ভাল লাগা ,মন্দ লাগা যৌন আকাঙ্ক্ষার অনুভূতি খোলাখুলি প্রকাশ করতে পারে। ফেসবুক এক্ষেত্রে তাদের কাছে একটা সুবিধাজনক মাধ্যম। কিন্ত মেয়েদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি হয় উল্টো। অফলাইনে মেয়েরা অধিকার বঞ্চিত হওয়ায় হওয়ায় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের উপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ায় তারা এ থেকে মুক্তির উপায় খোজে। ফেসবুকের এই ভার্চুয়াল দুনিয়া আপাত দৃষ্টিতে অবাস্তব মনে হলেও তাদের কাছে এক ধরনের বাস্তব হিসেবে ধরা দেয় । তারা নিজেদের ইচ্ছেমত ফ্রেন্ড নির্বাচন করে নিজেদের স্বাধীনতার প্রকাশ ঘটাতে চায়। আপনি এই চাওয়াটিকে রুপক হিসেবেও ধরে নিতে পারেন। ইদানীং দেখবেন যে ফেসবুকে কেউ উত্যক্ত কিংবা অশ্লীল ইঙ্গিত পূর্ণ কথা বার্তা বললে সেটার স্ক্রীন শট নিয়ে ফেসবুকে প্রকাশ করাটা মেয়েদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এর কারনটি হল বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারনে নারীদের পক্ষ থেকে উত্যক্ত কিংবা লাঞ্জনার প্রতিবাদ করা অধিকাংশ সময়ই সম্ভব হয় না। আবার যথাযথ প্রতিবাদ করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর উপযুক্ত বিচার হয় না। তাই তারা নিজেদের মত করে অপরাধীকে শাস্তি দেবার একটা উপায় উদ্ভাবন করেছে তারা

          শুনতে খুব অদ্ভুত শোনালেও এটাই বাস্তব আজ… চমৎকার পর্যবেক্ষণ…

          • দুরন্ত জয় বলছেনঃ

            ///এর প্রধান কারন হল এই ধরনের মেয়েরা তুলনামূলক স্বাধীন চেতা ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হওয়ায় অনেকে ভাবে এই জাতীয় মেয়েদের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো কিংবা বিছানায় নেয়া বোধ হয় খুবই সহজ কাজ/// এটা কি বললেন…!!!

    para que sirve el amoxil pediatrico
  3. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    ৮০ বছর আগেও যে অবরোধবাসিনী নারী ছিল আজও তাই রয়ে গেছে আপনি নিজের নিজের পোস্টটি পড়ুন তারপর বলুন অবস্থার পরিবর্তন কি হয় নি???

    এও পুরুষতন্ত্রের ষড়যন্ত্র। – ব্যপারটা ব্যক্ষা করবেন প্লিজ??? metformin gliclazide sitagliptin

    কিছু পুরুষতান্ত্রিক বাবা মেয়ের সম্মান, সমাজের মাথা ব্লা ব্লা বলে বসে থাকেন। -কথায় কথায় পুরুষতান্ত্রিকতাকে নিয়ে আসার জন্যেই কি পোস্ট লিখেছেন কি না! এটা হয়েছে রক্ষনশীল দৃষ্টিভঙ্গির জন্য। আমাদের সমাজে সেক্স এখনও একটু ট্যবু এর মত দেখা হয়। কনজার্ভেটিভ দৃষ্টিভঙ্গির ফলেই এমন হচ্ছে।

    বাবা যদি সচেতন হন এবং সত্যিই মেয়ের পাশে দাঁরাতে চান তবে ঠিকই তিনি সেই নরপিশাচের মুখোমুখি হন এবং তাকে একরাশ কথা শুনিয়ে আসেন।- ব্যপারটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সাহসের, ঝামেলে মনে করে বেশিরভাগই এড়িয়ে যান,…

    পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোতে পড়ে পুরুষের মুখাপেক্ষিতা ছাড়তে পারিনা – সহমত প্রকাশ করছি, নারীরা নিজেদের গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ রাখতে চাইলে কেউ তাকে বের করে আনতে পারবে না… অধিকাংশই রান্না ঘরকে নিজের চুড়ান্ত লখ্য করে নেয় এতে পুরুষেরা তাকে বাইরে কাজ করার সুবিধা দিতে আগ্রহী হলেও নারীই আগ্রহী থাকে না্‌…

    এতদিন যে পুরুষগুলো আমাদের পাশে ছিল একটু আধটু কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে তাদেরই তোষামোদ করি। ভেবে দেখুন একবার, এই পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো নারীকে কতটা একা, অসহায় হিসেবে উপস্থাপন করেছে আক্ষরিক অর্থেই। – কোন স্থানই শূন্য থাকে না, নারীর সাহায্যে নারী আসে না পুরুষ আসে, আপনি কি চান এরাও আসবে না? প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ অনেক কিছুই শিখে নেয়, পুরষ যদি এগিয়ে না আসতো তবে নারীরাই আসতো তাদের নিজেদের তাগিদে। আপনার এখানে এতটুকু পর্যন্ত পড়ে মনে হল পুরুষের সাহায্য করতে আসাটা দোষ হয়ে গিয়েছে।

    যদি প্রেমিকের মেসে রাত ১২টায় গিয়ে জন্মদিনের উইশ করতে পারত তবে প্রেমিকা হিসেবে সে কি সম্মানটা পেত? ভাবুন তো তখন মেয়েকে নিয়ে, বন্ধুকে নিয়ে, বোনকে নিয়ে, প্রেমিকাকে নিয়ে কতটা গর্ব করা যেত! যাই হোক প্রয়োজনই যখন পূরণ হয় না সেখানে এসব বিলাসী কলনা নাই বা আনলাম ) – আগের চেয়ে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, আশা করি এটি বিলাশী কল্পনা হয়ে থাকবে না বাস্তবেই হবে।

    ফেসবুকে যেভাবে আপডেট হবার নেশায়, জনপ্রিয় হবার ইচ্ছায় অসচেতনভাবেই নিজেদের অধিকার আদায় করে ফেলতে পেরেছেন এখানেও সম্ভব – কথাটির মাধ্যমে কি সেই সব নারিদের অপমান করছেন না???

    পোস্টির শেষের অংশের আহবানের সাথে একমত।
    আর একটি কথা আমরা এখনও রক্ষনশীল দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী। তাই আস্তে আস্তে ঠিক হবে। লোহার দন্ডকে বাকাতে আস্তে আস্তে চাপ প্রয়োগ করতে হয়। বেশি চাপ প্রয়োগ করলে ভেঙ্গে যেতে পারে।

    • মাশিয়াত খান বলছেনঃ

      এও পুরুষতন্ত্রের ষড়যন্ত্র। – ব্যপারটা ব্যক্ষা করবেন প্লিজ???

      ব্যাখ্যা তো করলামই, তাও না বুঝলে অচিরেই আরেকটি পোস্ট দিব চোখে আংুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে। অপেক্ষা করুন। আসলে আমার পরীক্ষা চলায় সময় করতে পারছিনা।
      আপনার মন্তব্য দেখে মনে হচ্ছে আপনি গভীরভাবে বিষয়গুলো দেখেন না। আমাদের সমাজে রক্ষণশীল দৃষ্টিভংির পেছনে দায়ী কে? কেন সমাজ সেক্স কে ট্যাবু মনে করল?? এই প্রশ্নগুলো ঘেটে দেখা জরুরী। সেক্স কি পুরুষের জন্য ও ট্যাবু। ২ আজ থেকে প্রায় ৩০০০ বছর আগে কামসূত্র বইটা রচনা করা হয়। কাদের জন্য? এই বই নারীর জন্য নয়। কিন্তু এই বই থেকে এত বছর সমাজ সেক্সের ধারনা নিয়েছে। সমাজ নয় আসলে পুরুষ। এরপর সেই ধারনা মত নারীর উপর যৌনতা চাপিয়ে দিয়েছে। সেক্স কে ট্যাবু হিসেবে রাখাই পুরুষতন্ত্রের ষড়যন্ত্র। বিষয়টা বুঝতে চাইলে হুমায়ুন আজাদের নারী বই কিংবা মাসুদুজ্জামানের নারী যৌনতা রাজনীতি বইগুলো পড়তে পারেন।
      কোন স্থানই পূর্ণ থাকে না। এটা আমিও জানি। আজকে যে নারীকে গন্ডিবদ্ধ করছেন সে কখনোই গন্ডিবদ্ধ থাকবে না। কাল নারী ঐ পোশাকেই বেরিয়ে আসবে। গ্যালিলিও না আসলেও এই সত্যি কেউ না কেউ প্রমাণ করতই যে পৃথিবী ঘূর্নায়মান। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে একদিন সব হবে ভেবে কি আপনি বসে থাকবেন। আপনি এগিয়ে আসলে হওওয়ার পথটা সহজ হয়। পুরুষকে নারীর পাশে দাড়াতে মানা করলাম কোথায়? আমি তো দেখালাম নারীর পাশে কেন নারী নেই। শুনুন জনাব এ কথা স্পষ্টত মনে রাখবেন আমাদের পাশে নারী বন্ধুটি আপনারো মত সক্রিয় হলে আমার পুরুষ মুখাপেক্ষি হতাম না।
      না, কোন অপমান করছি না। চোখের পট্টি খুলুন। আপডেট হবার নেশায় কি শুধু মেয়েরাই পড়েছে? জনপ্রিয় হিবার নেশা কি মেয়েদের ধরেছে? না, এ নেশা পুরুষেরো। কিন্তু পুরুষ তাতে নতুন কিছু পায়বি। নারী পেয়েছে। তাই বলা।
      আর আপনার শেষ কথা! কি বলব ভাই, এসব ফালতু যুক্তি ছাড়েন। জীবন লোহার দন্ড না। ৮০ বছর আপোষ করে কি পেয়েছেন না না কি পেয়েছি – ভাবলে আমার গা কাটাদেয়

      clomid over the counter
      doctus viagra
  4. প্রথম যে বিষয়টি চোখে পরল তা অপার্থিবও বলেছেন যদিও একটু ভিন্ন ভাবে!! আচ্ছা আজকে আমাদের শেলাই দিদিমনিরা কেন তাদের অধিকার সচেতন বলেন তো?
    কারণ তাদের অর্থনৈতিক মুক্তি! আমাদের ভার্সিটি পড়ুয়া যতটা না স্বাধীনতা ভোগ করে তার থেকে বেশি স্বাধীন তারা। কিছু গ্রন্থ যারা দাবী করে।মানুষকে দুনিয়াতে আনছে স্বর্গ থেকে সেখানেও বলা আছে যেহেতু নারীরা পুরুষের উপার্জনের উপর নির্ভরশীল সেহেতু তারা পরনির্ভরশীল অর্থাৎ নারীরা পুরুষের উপর নির্ভরশীল। পরবর্তী বক্স হচ্ছে নারীর সতীপর্দা যাকে হুমায়ুন আজাদ স্যার একে বলেছিলেন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের জাতীয় পতাকা!! এই ধারণা থেকে আগে নারীকেই বের হতে হবে। এই পতাকা রক্ষা করতেই নারী নিজেকে খোঁজে পাচ্ছে না!! ঠিক যেভাবে মানব সভ্যতা রাষ্ট্রীয় জাতীয় পতাকা রক্ষা করতে গিয়ে আর স্বাধীনতা কি বুঝতে পারছে না…

  5. পোস্টে দ্বিমত হওয়ার মত তিনটা টপিক খুঁজে পেয়েছি।

    ১)ধর্মের দোহাই দিবেন না। কারণ, অন্তত আপনার ধর্ম নারীকে প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হবার অনুমতি দেয়। রাত দিন কোন কিছুর উল্লেখ ছাড়াই। কিন্তু আজ এসব ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে আপনারা প্রয়োজনেও নারীর বের হবার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। নারীর জন্য প্রয়োজনের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছেন।

    ২)আচ্ছা, একবার কি ভেবে দেখেছেন যে আসলে নারীর পাশে কেন নারী দাঁড়ায় না? কেন আমাদের মাঝে এত ঐক্যের অভাব? কেন নারীই নারীর বিপক্ষে? এও পুরুষতন্ত্রের ষড়যন্ত্র। পুরুষতন্ত্র তো নারীর মাঝে ঐক্য তৈরির সব পথই বন্ধ করে রেখেছে।

    ৩)দূর্ভাগ্যের বিষয় আমরা আমাদের মায়েদের যতই গুণকীর্তন করি না কেন এখনো এসব বিচারিক ক্ষেত্রে মা মতামত দিতে, প্রতিবাদ করতে পারে না।

    প্রথম যে জিনিসটা আইডেন্টিফাই করেছি সেটা নিয়ে অনেক ব্যাখ্যা বিশ্লেষন করা যায় যা সম্ভবত পোস্টের আউট টপিক হয়ে যাবে। তাও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটা করে ফেলি যেটা না করলেই নয়। আজ এসব ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে আপনারা প্রয়োজনেও নারীর বের হবার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। এই অপব্যাখ্যাটা কে দিচ্ছে সেটার কোনো ক্লিয়ার ইন্ডিকেশান আপনি দেন নি। অপব্যাখ্যা বলতে কি বুঝাচ্ছেন আসলে? ধর্ম সত্যিকার অর্থেই নারী স্বাধীনতা রুদ্ধ করে রেখেছে। আপনি যে বললেন, আপনার ধর্ম নারীকে প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হবার অনুমতি দেয়। এটা একটা ভুল কথা বলেছেন। ধর্মের এই প্রয়োজন ব্যাপারটা যথেষ্ট ঘোলাটে। উদাহরণ দিইঃ

    - আমি পিঁয়াজ কিনতে যাচ্ছি।
    - তুমি নারী। এইটা তেমন কোনো প্রয়োজন না। পুরুষকে বল।
    - বাজারে যাবো।
    -তুমি নারী। এইটা তেমন কোনো প্রয়োজন না। পুরুষকে বল।
    - সাজগোজ করবো।
    -সাজগোজ করে কি লাভ? এটা তেমন কোনো প্রয়োজন না।

    এরকম হাজার হাজার “প্রয়োজন” আমি দেখাতে পারি। ধর্ম ঠিক কোন “প্রয়োজন” পড়লে নারীকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয় একটু জানাবেন। প্লিজ। ধর্মের এই “প্রয়োজন” নামক ইস্যুটা অত্যন্ত ঘোলাটে এবং ত্যানা প্যাঁচানো। আপনাকে কয়েকটা ফতোয়ার ভিডিও লিঙ্ক দিচ্ছি। আমার এই মন্তব্যের প্রতি উত্তর দেয়ার আগে লিঙ্কে গিয়ে ভিডিও গুলো দয়া করে দেখে আসবেন।

    ১) নারীকে কেন সৃষ্টি করা হয়েছে।
    বিয়েতে যা যা হারাম
    ৩) নারী নেতৃত্ব হারাম
    ৪) নারী নেতৃত্ব মানে গজব

    এই হচ্ছে ভিডিও সমূহ। দেখে আসুন দয়া করে। সেগুলোকে “অপব্যাখ্যা” বলবেন নাকি “ব্যাখ্যা” বলবেন সেই সিদ্ধান্ত আমি আপনার কাছ থেকে শুনতে চাইবোনা। শুধু জেনে রাখুন ৯০% মুসলিমের দেশে ৮০% এর চেয়েও বেশি এই মনোভাব ধারণ করে এবং হোক সেটা ব্যাখ্যা বা অপব্যাখ্যা দ্যাট ডাজন্ট ম্যাটার। ক্ষতিটা নারীরই হচ্ছে।

    এইবার দ্বিতীয় দ্বিমতের প্রশ্নে আসি। আমি পুরোপুরি একমত হতে পারিনি দুইটি শর্তে। নারী কেন নারীর বিপক্ষে এই কথাটা আরো বিশ্লেষনের প্রয়োজন আছে। যতটা না পুরুষতন্ত্র তারচেয়েও বেশি ধর্মের প্রভাব। আপনি বলতে পারেন, ধর্মটাও তো পুরুষতন্ত্র। কিন্তু এখন বলে কাজ নেই। উপরে যা যা বললাম সেখানে আপনি ধর্মের ইফেক্টকে এতটাই খাটো করে ফেলেছেন যে, পুরুষতন্ত্রের মত ভারী শব্দের সাথে আপনি ধর্ম মেশাবেন এমনটা অন্তত এই পোস্টের ক্ষেত্রে ভেবে নিতে পারছিনা। দ্বিতীয়ত, নারীরা নারীর বিরুদ্ধে কেন সেটার কিছু ইফেক্ট পরোক্ষ নয়, বরং প্রত্যক্ষভাবেই পুরুষতন্ত্র বহন করে। কিন্তু এসব ভেবে বসে থাকলেও চলবেনা। অনেক প্রতিবাদী নারী উঠে আসছে বর্তমান সমাজে। আরো আসবে সামনে। achat viagra cialis france

    তৃতীয়ত, আমি এইপর্যন্ত এসব ক্ষেত্রে যা যা দেখেছি, মেয়েদের উপর যৌন নির্যাতনে সবচেয়ে প্রতিবাদী ভূমিকাটা মায়ের পক্ষ থেকেই আসে। বাবাও অনেকসময় ব্যাপারটা মায়েদের হাতে ছেড়ে দেয়, কারণ মা ভালো হ্যান্ডেল করতে পারবে ভেবে। কিরকম? যেমন, আমার ছোটো বোনকে দীর্ঘদিন যাবত আম্মু কলেজে নিয়ে যেত। দুইবার ইভটিজিং এর স্বীকার হওয়ায়। এমনকি আব্বু যখন বাসায় থাকতো, আব্বু যেতে চাইতো। আম্মু দিতোনা। আম্মুই যেত, কারণ দেখাতেন যে, এসব ব্যাপার মায়েরা ভালো মিমাংসা করতে পারবে, আম্মুর ভাষায়, ” আমি পা থেকে জুতা খুলে দুইটা বাড়ি মারলেই সোজা হবে, তুমি বললে তোমার সাথে তর্ক করবে।” বস্তুত এটাই সত্যি। এসব ঘটনায় একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারীর প্রতিবাদটা বেশিই ইফেক্টিভ হয়। আমার ফ্রেন্ডলিস্টে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের একটি মেয়ে ইভ টিজিং এর প্রতিবাদে একটা ছেলেকে ধরে প্রচন্ড মেরেছে। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, কাজটা যদি একটা ছেলে করত ব্যাপারটা মিমাংসা করা সহজ হতনা। পাল্টা মার খেত। কিন্তু ভিকটিম নিজেই যখন চড়াও হয়, তখন সেখানে সমর্থন পাওয়া যায়। মেয়েটাও পেয়েছিলো সমর্থন। এখানে, আপনি যদি এটাকেও পুরুষতন্ত্রের ইফেক্ট বলে চালিয়ে দিতে চান, আমি কঠোর ভাবে অগ্রাহ্য করবো। ভিকটিম প্রতিবাদ করবে, এবং সেই প্রতিবাদই সবচেয়ে কার্যকরী হবে। সিম্পল। ভিকটিম যদি পুরুষও হয়, তাহলে সেই পুরুষ যদি প্রতিবাদ করে সেটা ইফেক্টিভ হবে। এই পয়েন্টে আমি তাই নারী পুরুষ আলাদা করে দেখছিনা। নারী নাকি পুরুষ ডাজন্ট ম্যাটার। সে ভিকটিম, প্রতিবাদ সে করলেই সেটা কার্যকরী এবং উপযুক্ত।

    এইবার দ্বিমত প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে আপনার পোস্টে যে জিনিসটার অভাব সেটা বলি। আপনি সম্মিলিত প্রয়াসকে এখানে হাইলাইট করেছেন। অথচ, একবারও অর্থনৈতিক মুক্তির কথা উল্লেখও করেন নি। যা উপরে কয়েকজন মন্তব্যে জানিয়ে দিয়েছে। পুরুষের অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমেই পুরুষতন্ত্র স্থাপিত হয়েছে পৃথিবীতে। এইটার একটা কাউন্টার করার জন্য আপনার সর্বাগ্রে যা প্রয়োজন সেটা সম্মিলিত প্রয়াস নয়, সেটা অর্থনৈতিক মুক্তি। কিভাবে? সম্মিলিত প্রয়াসটা হবে কিভাবে বুঝিয়ে বলতে পারবেন? যেখানে এক এক জন মেয়েই দাঁড়াতে চাচ্ছেনা, প্রতিবাদ করতে চাচ্ছেনা, মেয়েরাই মেয়েদের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে সেখানে সম্মিলিত প্রয়াসটা কিভাবে গঠিত হবে বলুন তো। একটা সাহস তো তাদের দেখাতে হবে, সেই সাহসের মাধ্যমে স্বপ্ন পূরণের নিশ্চয়তা তাদের দিতে হবে। আর সেটা নিশ্চিত করবে অর্থনৈতিক মুক্তি। অর্থনৈতিক চাকা যত বেশি ঘুরবে, নারী তত অধিকার সচেতন হবে। নিজেদের টা বাগিয়ে নিতে শিখবে। এখানে যদি আপনি আমার সাথে একমত নাও হন, আমার কিছু করার নেই। কারণ আমি জানি কোনটা স্বতঃসিদ্ধ। আমি জানি কিভাবে পুরুষতন্ত্র মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে এবং নারীকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে আঁটকে রেখেছে। আর এই প্রচলিত ব্যবস্থার কাউন্টার দিতে হলে অবশ্যই অর্থনৈতিক মুক্তি সর্বাগ্রে প্রযোজ্য। অন্য কিছু ক্যাটালিস্ট। এটিই এজেন্ট।

    • তারিক লিংকন বলছেনঃ

      নারী মুক্তির সর্বাংশেই আমি অর্থনৈতিক মুক্তির আবশ্যকতা অবধারিত মনে করি, এই বিষয়টি এড়িয়ে নারীর স্বাধীনতা কোনভাবেই সম্ভব না। এই বিষয়ে আপনার মতামত জানাবেন…

      আর “ধর্মগ্রন্থগুলো কীভাবে হিপ্নোটাইজ করেছে সমাজের প্রথাগত নারীদের ?” এই বিষয়ে আসলেই বিষদ গবেষণা হওয়া জরুরী। যে কিনা তাঁকে বন্ধী করার যাবতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ করে রেখেছি সেই নারী কিনা তার জন্যে ঘুমরে কাঁদে? মুক্তি হবে হচ্ছে না সাধে? ব্যপারটা অনেকটা এমন যে নারী ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে পড়তে উদগ্রীব হয়ে আছে…

      খুব সংক্ষেপে একটা উদাহরণ দেই মৌলবাদের অর্থনীতি বলে ১৯৭৮ থেকে জামাতি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় লক্ষ কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে এবং এই অর্থই আজও তাদের টিকিয়ে রেখেছে। তারা জানে পাকিস্তান থেকে আমরা মুক্ত হলেও কীভাবে তারা আমাদের এই বাঙলায় পাকিনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে। যাহোক, তারা কিন্তু বুঝে গেছে টাকায় কেবল মাত্র দুনিয়ার আসল রাজদণ্ড!! তাদের মূল শক্তির যায়গা হচ্ছে অর্থ আজ। অথচ সে জামাতিদের হাতিয়ারই হচ্ছে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে সমাজে অবদমিত করে রাখা। আর আমাদের অবলা নারীরা ভাবে এই হাতিয়ারেই তাদের মুক্তি নিবিষ্ট আছে? অথবা একে সাথে নিয়েই মুক্তি ঘটানো সম্ভব। এ কেবলই ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর একটি বক্স থেকে বের হয়ে বৃহৎ পরিসরে বন্ধী হওয়া…
      আপনার পরিবর্তনের এই প্রয়াস বা ভাবনা তাই চিরস্থায়ী কোন চিন্তা না। এইটা কেবলই একটি বক্স থেকে বের হওয়ার চিন্তা বলে আমার মনে হয়েছে…

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

venta de cialis en lima peru

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

posologie prednisolone 20mg zentiva

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.