লাবিব #১

202

বার পঠিত

১.

লাবিবকে আমি চিনি ক্লাস ফোর থেকে৷ হুট করেই কোথা থেকে যেন উড়ে এসেছিলো৷ গাট্টাগোট্টা শরীর, গোলগাল একটা মুখ৷ চেহারাটা খুব সাধারন কিন্তু চোখদুটো একেবারে পাথরের মত৷ হাসির কোন চিহ্ন নেই মুখে৷ পিঠে ঝোলানো একটা অনেকদিনের পুরোনো মলিন কিন্তু অক্ষত ব্যাগ৷ ওকে ভর্তি করাতে এসেছিলো ওর কোন এক কাকা৷ যাকে এরপর আর কোনদিন দেখিনি৷ কাকাটা সারাক্ষনই স্যারের সামনে বসে হাসছিলো ফ্যাকফ্যাক করে৷ কিন্তু লাবিব হাসছিলো না৷ চোখমুখ শক্ত করে পাশের চেয়ারটায় বসে ছিল শুধু৷ আমার মনে আছে৷ কেন মনে আছে জানিনা কিন্তু লাবিবের প্রথম দিনগুলোর কথা আমার বেশ ভালভাবে মনে আছে৷

আমাদের স্কুলটার নাম ছিল বুড়িচং আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়৷ হলুদরঙা এল শেইপের তিনটা ভবন৷ একদিকের একটা রুম হেডস্যারের৷ তারপরেরটা বাকি স্যার আপাদের৷ তারপরে ক্লাস৷ সামনে বেশ বড় একটা ধুলোওড়া মাঠ৷ ধুলোওড়া বললাম কারন এই মাঠে আমি কোনদিন ঘাস গজাতে দেখিনি৷ সারাবছর শুধু বাদামী ধুলো উড়তো৷ পেছনে ছিল ভট্টাচার্যদের বিশাল পুকুরটা৷ আমরা বলতাম দিঘী৷ চতুর্দিকে বিশাল বিশাল গাছের ছায়ায় দিঘীটা সবসময়েই থাকতো অন্ধকার৷ ক্লাসের পেছনের জানালা দিয়ে তাকালে পানিটাকে আমরা দেখতে পেতাম মার্বেল রংয়ের সবুজ৷ পেছনদিকে যেতো না তেমন কেউ৷ কেমন যেন একটা গা ছমছম করা পরিবেশ ছিল৷ টু থ্রিতে পড়া ছাত্রদের জন্য ছমছমে পরিবেশ মোটেও উপভোগ্য নয়৷ তাই সবাই সামনের মাঠটাতেই সারাদিন গোল্লাছুট খেলতো৷ সেই বয়সের ছেলেদের ঠিক যেমনটা হওয়ার কথা, উচ্ছ্বল প্রানবন্ত৷ ব্যতিক্রম ছিল শুধু একজন৷ লাবিব৷ venta de cialis en lima peru

লাবিবকে আমি কোনদিন ওদের সাথে গোল্লাছুট খেলতে দেখিনি৷ আমি দৌড় পারতাম না বলে খেলতে চাইতাম না৷ তাও ওরা প্রায়ই আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে খেলাতো৷ কিন্তু লাবিবকে কেউ তেমন জোর করতো না৷ একদিন গৌরব চেষ্টা করেছিলো৷ হাত ধরে জোরে টেনে বলেছিলো চল লাবু আজ তোরে খেলামুই৷ লাবিব আস্তে করে হাতটা ছুটিয়ে নিয়েছিলো৷ তারপর দুই সেকেন্ড তাকিয়ে ছিল শুধু গৌরবের চোখের দিকে৷ অনেকগুলো দিন পেরিয়ে গেছে কিন্তু লাবিবের চোখের সেই শানিত দৃষ্টি আমার আজও স্পষ্ট মনে আছে৷ গৌরব এরপর আর কোনদিন লাবিবকে ঘাটায়নি৷ কেউই ঘাটায়নি আসলে৷

ক্লাসে লাবিব বসতো একেবারে শেষ বেঞ্চে৷ মাঝে বেঞ্চ ফাঁকা থাকলেও শেষ বেঞ্চটাই যেন ওর জন্য নির্দিষ্ট করা ছিল৷ তাই বলে ক্লাসে যে অমনোযোগী থাকতো তা না৷ প্রত্যেকটা কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতো৷ স্যারেরা ক্লাসের মাঝখানে দাড় করিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তরও দিতে পারতো৷ তাই কেউ খুব বেশি মাথা ঘামাতো না ওকে নিয়ে৷ টিফিনের সময় কোনদিন ওকে টিফিন খেতে দেখিনি৷ পেছনদিকের জানালা দিয়ে নিষ্পলক শুধু ভট্টাচার্যদের দিঘীর দিকে তাকিয়ে থাকতো৷ প্রথমদিকে সবার কাছেই ব্যাপারটা কেমন যেন লাগলেও আস্তে আস্তে সবাই খুব স্বাভাবিকভাবে নিতে পেরেছিল৷ চল্লিশজনের ক্লাসের মাঝে আলাদা একটা জায়গা লাবিবের জন্য যেন স্বীকার্য ছিল৷ posologie prednisolone 20mg zentiva

অল্প কিছুদিনেই ক্লাসের সবাই লাবিবের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেললো৷ শুধু আমার একটা চোখ সবসময় থাকতো ওর উপর৷ সবসময় মনে হতো কিছু একটা লুকোচ্ছে৷ ঐ বয়সে অতখানি চিন্তা করার ক্ষমতা আমার ছিল না৷ তবুও ওর আচরনগুলো আমাকে কেন যেন আকৃষ্ট করতো খুব৷

একদিন ক্লাস শেষে সবাই চলে গেছে৷ ক্লাস ক্যাপ্টেন ছিলাম তাই আমাকে বোর্ড মুছে যেতে হবে৷ অথচ আমি ডাস্টার পাচ্ছি না৷ ডাস্টারের জন্য টিচার্স রুমে গেলাম৷ সেখান থেকে ফিরে এসে দেখি লাবিব বেরুচ্ছে৷ কিন্তু বেরিয়ে সবাই যেদিকে যায় সেদিকে যাচ্ছে না ও৷ ক্লাসরুমের পেছনদিক হয়ে হেটে যাচ্ছে স্কুলের পেছনদিকটায়৷

ডাস্টার হাতে নিয়েই দেখতে লাগলাম ও কোথায় যায়৷ ক্লাসের পেছনদিকে শুকনো পাতায় ঢাকা কোনরকমে হাটা যায় এমন সরু একটা মাটির কিনারা আছে৷ তারপরই পুকুর৷ লাবিব ওটা ধরে হেটে যাচ্ছে এক পা এক পা করে খুব সাবধানে৷ আমি অনেকটা পেছনে৷ এমন সরু কিনারা ধরে এগিয়ে যাওয়ার সাহস আমার নেই৷ দুর থেকেই আমি দেখে যাচ্ছি ও কোথায় যায়৷

হঠাৎ কি মনে করে থেমে গেল লাবিব৷ তারপর ঝটকা দিয়েই পেছন ফিরে তাকালো আর আমাকে দেখতে পেয়ে গেল৷ ভেবেছিলাম হয়তো রেগে যাবে৷ কিন্তু ওর চোখজোড়া তখন দুস্প্রাপ্য কিছুর প্রাপ্তিতে জ্বলজ্বল করছিলো৷ দেখতে পেলাম ফিরে আসছে৷ আর দাড়ালাম না৷ ওকে ওখানে ফেলে রেখেই সরে এলাম৷

পরদিন স্কুলে যথারিতি ক্লাস হতে থাকলো৷ টিফিন ব্রেকে আমার মনে হল লাবিব আমাকে কিছু বলতে চায়৷ এবং সেটা সবার আড়ালে৷ সবাই ক্লাস থেকে হুড়োহুড়ি করে বেরিয়ে যাচ্ছে৷ তখন লাবিব আমাকে জানালার কাছে আসতে বললো৷ আমি এগিয়ে গেলাম৷

তুমি যে আমাকে কাল দেখেছো সেটা কাউকে বলোনা৷

কেন ওখানে গেছিলি তুই?

তোমাকে আমি জানাতে পারি৷ কিন্তু তুমি কাউকে বলবেনা৷ ক্লাসের পরে থেকো৷

আমি রাজী হলাম৷ কাউকে বলবোনা৷ ক্লাস কখন শেষ হবে আর লাবিব আমাকে কি দেখাবে সেটার জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকলাম৷
একসময় ঘন্টা দিলো৷ সবাই ব্যাগ বই খাতা গুছিয়ে বেরিয়ে গেল৷ ক্লাসে শুধু আমি আর লাবিব৷ accutane prices

কাউকে বোলোনা কিন্তু৷

আমি মাথা নাড়লাম৷ কাউকে বলবোনা৷ শক্ত প্রমিস৷ আমি নিশ্চিত শুধুমাত্র আব্বুর চরম বেত্রাঘাত ছাড়া কেউ আমার মুখ থেকে এ কথা আর বের করতে পারবে না৷

লাবিব হেটে যাচ্ছে স্কুলের পেছনদিকে৷ আমি অনুসরন করলাম৷ গতকাল যেখানে গিয়ে থেমেছিলাম সেখানে গিয়ে আজও থেমে গেলাম৷ সামনের ঐ সরু কিনারায় যাবার সাহস নেই৷ লাবিব এগিয়ে যাচ্ছিলো৷ তারপর আবার দাড়িয়ে আমার দিকে ফিরলো৷

এসো৷ পড়বেনা৷

ভয় তবুও পাচ্ছিলাম৷ কিন্তু রীতিমত সম্মানের ব্যাপার মনে করে এগিয়ে গেলাম৷ এক পা এক পা করে ফেলছি৷ আর বুকটা দুরুদুরু করছে৷ বিপদের সময় আব্বুর শিখিয়ে দেয়া যেসব দোয়াদরুদ পড়ার কথা সেগুলো মনে মনে আওড়াচ্ছি৷ viagra in india medical stores

একসময়ে লাবিব থামলো৷ আমার দিকে ফিরে ঠোঁটে আঙুল ঠেকিয়ে একদম চুপ থাকতে বললো৷ আমি পাথর হয়ে গেলাম৷ তারপর ও ইশারা করলো সামনে তাকাতে৷ wirkung viagra oder cialis

সামনে এই কিনারাটা আবার চওড়া ভূমির সাথে যুক্ত হয়েছে৷ কিন্তু সেটা স্কুলের বাউন্ডারির বাইরে৷ এই কিনারায় দাড়ালে বাউন্ডারির বাইরের ভট্টাচার্যদের সীমানার কিছুটা অংশ চোখে পড়ে যেটা ভেতর থেকে দেখা যায় না৷

আমি দেখতে পাচ্ছিলাম একটা কুঠুরীমত ঘর৷ ঘরটা কাঠের, দরজাটা খোলা৷ ভেতরে মানুষের নড়াচড়া টের পাওয়া যাচ্ছে৷ একজন না৷ বেশ কয়েকজন মানুষ৷ তাকিয়ে আছি একদৃষ্টিতে৷ তারপর হঠাৎ একটা লোককে বেরিয়ে আসতে দেখলাম৷

বেশ লম্বা মানুষ৷ লাল একটা স্যান্ডু গেঞ্জি আর আর্মিদের মত ট্রাউজার পরনে৷ দেখতে বেশ কদাকার৷ একটা সিগারেট ধরানো ঠোঁটের ফাঁকে৷ আর ডান হাতে ধরা একটা যন্ত্র৷
আমার চোখের সামনে একবার পুরো দুনিয়াটা দুলে উঠলো৷ এই যন্ত্রটা আমি চিনি৷ সিনেমায় দেখেছি৷ এটা একটা পিস্তল! নকল তো সিনেমায় হয়, কিন্তু এটা একেবারে আসল পিস্তল!

যেখানে আমরা দাড়িয়ে ছিলাম লোকটা ভালমত নজর দিলেই আমাদের দেখতে পেতো৷ সেদিন কিভাবে ফিরতি পথে হেটে ফিরেছিলাম আমার এখন সম্পূর্ণ মনে নেই৷ সম্ভবত অনেকটা আধো অচেতন অবস্থায়ই শুধু লাবিবকে অনুসরন করেছিলাম৷ মনে নেই কারন সেদিন ঘরে ফেরার পর আমার গা কাপিয়ে জ্বর এসেছিলো৷ পরবর্তী তিন দিন স্কুলে যেতে পারিনি৷
তবে আসার পথে লাবিবের একটা কথা বেশ মনে আছে৷ ও উত্তেজিত গলায় বলছিলো, চেনো ওকে? জাকির মামা! ওটা আমার জাকির মামা!

২.

তিনদিন পরের ক্লাসে সব ঘন্টা শেষ করে আবার লাবিবের জন্য অপেক্ষা করছিলাম৷ আজও যদি ও যায় আমিও আবার যাবো৷ ভয় পেলেও যাবো৷ আমার শুধু কৌতুহল ছিল৷ আসলেই কি হচ্ছে জানার আগ্রহটা অদম্য হয়ে দাড়িয়েছিলো৷

কিন্তু লাবিব সেদিন আমাকে দেখেও যেন দেখলোনা৷ ব্যাগ বই খাতা গুছিয়ে সোজা রাস্তায় হাঁটা ধরলো৷ আমি ওর পিছু পিছু গিয়ে ডাকলাম৷ লাবিব থেমে আমার দিকে কিছুটা এগিয়ে এল৷

জাকির মামাকে আর দেখতে পাবো না৷ ও মারা গেছে৷ capital coast resort and spa hotel cipro

মারা যাওয়া সম্পর্কে তখনো আমার সম্পূর্ন বুঝার ক্ষমতা হয়নি৷ শুধু জানতাম মরে গেলে কবর দেয়া হয়৷ আর কবরের ভেতর ফেরেশতারা প্রশ্ন করে৷ উত্তর না পারলে কঠিন শাস্তি দেয়৷ মরে যাওয়ার কথাটা ভাবলেই আমি শুধু ভয় পেতাম৷ প্রচন্ড ভয়৷ লাবিবের চেহারায় কোন ভাব ফুটে ওঠেনি৷ ও খুব স্বাভাবিকভাবেই বলেছিলো৷ কিন্তু আমি সহজভাবে নিতে পারলাম না৷ মরে গেছে বললেই হল?
পাল্টা কোন প্রশ্ন করিনি৷ শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলাম৷ লাবিবও আমার উত্তরের অপেক্ষা করেনি৷ উল্টো ঘুরে হাটতে লাগলো৷
এরপর থেকে আর কোনদিন ওকে জানালার পাশে দাড়িয়ে থাকতে দেখিনি৷

প্রাইমারী স্কুল পেরিয়ে হাই স্কুলে উঠলাম৷ আমি সেকেন্ড সেকেন্ডই থেকে গেলাম৷ লাবিব মাঝের সারির ছাত্র ছিল৷ হাইস্কুলেও মাঝের সারিতেই রয়ে গেলো৷ কিন্তু আমাদের মাঝে একটা আত্মীক যোগাযোগ ছিল সবসময়৷
খুব কম কথা বলতো লাবিব৷ হাসতোও খুব কম৷ যা বলার সব আমাকেই বলতো৷ আমিও মনোযোগ দিয়ে শুনতাম৷ দেখতে দেখতে আমিও কিভাবে যেন ফার্স্ট বেঞ্চ থেকে লাস্ট বেঞ্চে বদলি হয়ে গেলাম৷ লাবিব সম্পর্কে আমি যা ভাবতাম সেগুলো যে মোটেও সত্যি ছিল না তা তখনই আমি প্রথম ধরতে পারি৷

আমি ভাবতাম ও হয়তো মনমরা নীরস দার্শনিক টাইপ কিছু একটা৷ কিন্তু ওর ভাবলেশহীন চোখের নিচে ছিল আরো অনেককিছু৷ যেমন, কোনকিছুই ও কোন কারন ছাড়া করতো না৷ প্রত্যেকটা কাজের পেছনে কোন না কোন উদ্দেশ্য থাকতো৷

লাস্ট বেঞ্চে বসার বিশেষ সুবিধাগুলো প্রথম আমি ওর কাছ থেকেই বুঝেছিলাম৷ সবচেয়ে বড় সুবিধা হল ক্লাসের সবার উপর নজরদারী করা যায়৷ যেমন এখান থেকেই দেখা যাচ্ছে ডান সারির প্রথম মেয়েটা ক্লাস চলাকালীন সময়েই লুকিয়ে লুকিয়ে বাড়িরকাজ কপি করছে৷ দুই বেঞ্চ সামনে দেলোয়ার নামের ক্লাসের পাতি সর্দারের জ্যামিতি বক্সের ভেতর থেকে ছোটখাট একটা মরচে পড়া ছুরি বেরিয়ে আসছে৷ সেটা দেখিয়ে তার চ্যালাপ্যালাদের মাঝে ও সমীহ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে৷ আবার দেখা যাচ্ছে বাম সারির রাফি হাফিজুল্লাহ স্যারের বেতের ভয়ে সূরা ইখলাস একটানা গুনগুন করে পড়ে যাচ্ছে আর দরদর করে ঘামছে৷

আমরা সব দেখতাম৷ কোনকিছুই আমাদের চোখ এড়াতো না৷ যদি আমি আকর্ষনীয় কোনকিছু মিস করে যেতাম লাবিব ধরিয়ে দিতো৷ শুধু পর্যবেক্ষন করে যে মজা নেয়া যায় সেটা লাবিব আমাকে শেখাতে পেরেছিল খুব সফলভাবে৷

ক্লাস এইটে উঠে গেছি তখন৷ চার বছর একসাথে পার করে দিয়েছি৷ কিন্তু লাবিবের পরিবার সম্পর্কে তখনো জানতে পারিনি৷ কোথায় থাকে, মা বাবা কারা, কিছুই না৷ স্কুলের বেতন সবসময় নিজে পরিশোধ করতো ও৷ যতবার প্রশ্ন করতাম এ ব্যাপারে, ওর মুখ শুধু থমথম করতো৷ কিছু না বলে চুপ করে থাকতো৷ কিন্তু তাই বলে আমার আগ্রহ কমেনি৷ বরং আমি আরো বেশি কৌতুহলী হয়ে পড়লাম৷ শুধু বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য আর জোর করলাম না৷ কিন্তু মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলাম একদিন ওকে আবার ফলো করবো৷ এবার শুধু আরেকটু সাবধান হতে হবে৷

লাবিব বই পড়তো খুব বেশি৷ কোথা থেকে বইগুলো আনতো জানিনা কিন্তু এনে আমাকে দেখাতো৷ আমার আবার পাঠ্যবইয়ের বাইরের বই পড়া ছিল নিষিদ্ধ৷ কিন্তু ঐ বয়সে নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতিই আগ্রহটা থাকে বেশি৷ আমি তাই লুকিয়ে লুকিয়ে ওর বইগুলো নিতাম৷ বাসায় পাঠ্যবইয়ের ফাঁকে লুকিয়ে রেখে পড়তাম৷ জাফর ইকবাল থেকে শুরু, দেখতে দেখতে সেটা তিন গোয়েন্দা হয়ে রানা পর্যন্ত পৌছে গেল৷ এরমাঝেই একদিন ধরাও খেয়ে গেলাম৷
একেবারে হ্যান্ড ইন দ্যা কুকি জার যাকে বলে৷

রাত সাড়ে বারোটার মত বাজে৷ জলদস্যুর দ্বীপ পড়ছি৷ একবার যে বইয়ের ভেতর ঢুকে গেছি আর বেরুতেই পারছিনা৷ সেইসাথে চারপাশ সম্পর্কেও কিছুটা অসতর্ক হয়ে পড়েছিলাম৷ হঠাৎ খেয়াল হল পেছনে কেউ একজন দাড়িয়ে আছে৷ ঘুরে তাকিয়েই রুদ্রমূর্তি আব্বুকে আবিষ্কার করলাম৷

হাতের কাছেই একটা কাপড় ঝোলানোর হ্যাঙ্গার ছিল৷ সেটা দিয়েই প্রাথমিক রাউন্ড দেয়া হল৷ রাত যে সেটারও তোয়াক্কা করেননি আব্বু৷ নিজের ছেলেকে বখে যেতে দেখে বোধহয় সহ্য করতে পারেননি একদম৷ সমানে গালিগালাজ করছিলেন আর বেতিয়ে যাচ্ছিলেন৷ আমিও সমানতালে ভেড়ার মত চেঁচাচ্ছিলাম৷ অবশেষে বাড়িওয়ালা নানাভাইয়ের হস্তক্ষেপে সেদিনের মত বন্ধ হল৷ শুধু একটা প্রশ্ন করেছিলেন আব্বু, বলে দিলে হয়তো অনেক আগে থেমে যেতেন৷ আমি আরো কয়েকরাউন্ড নিতে তৈরী ছিলাম৷ কিন্তু দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম কোনভাবেই বলবোনা বইটা আমাকে কে দিয়েছে৷

পরেরদিন সকালে আব্বু বইটা আমার চোখের সামনে পুড়িয়ে ফেললেন৷ খুব কষ্ট পেলাম৷ আমার জন্য না৷ বইয়ের প্রতি যে অকৃত্রিম ভালবাসা ছিল তাও না৷ কষ্ট পেয়েছিলাম শুধু লাবিবের কথা ভেবে৷ ওকে এখন আমি কি জবাব দেবো?

সেদিনই স্কুলে বইটা খুঁজেছিলো লাবিব৷ যার থেকে এনেছে তাকে নাকি জমা দিতে হবে৷ কিন্তু আমার চুপ করে থাকা দেখে সাথে সাথেই বুঝে গেছিলো কিছু একটা সমস্যা হয়ে গেছে৷ কোনরকম প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে স্রেফ ব্যাপারটাকে এড়িয়ে গেল৷ পরে আরো অনেক বই নিয়ে পড়েছি ওর থেকে৷ ও আমাকে কিছুই বলতোনা, কিন্তু পোড়া বইটার কথা মনে হলে প্রতিবারই অস্বস্তিবোধ করতাম৷ আরেকটা ব্যাপারে অস্বস্তি ছিল আমার৷ লাবিব কোনদিন আমাকে তুই করে বলতো না৷ আমিও তুই বলাটা এড়িয়ে থাকতে পারতাম না৷ পরে অবশ্য এটা দুজনের জন্যই স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিলো৷

সেই ক্লাস এইটেই আমরা প্রথম রহস্যের সন্ধান পাই৷ সেখান থেকেই শুরু৷ এরপর রহস্য খোঁজাটাই আমাদের নেশা হয়ে দাড়িয়েছিলো৷ রাকিব দলে এসেছিলো অনেক পরে৷ তার আগে আমরা তিনটা রহস্যের সমাধান করতে পেরেছিলাম৷ তিনটা না আসলে, দুটোর সমাধান করতে পেরেছিলাম৷ আরেকটা আজও আমাদের জন্য রহস্যই রয়ে গেছে৷

নিয়মিত ঘুরতাম আমরা৷ কখনো স্কুলের পরে, কখনো স্কুল পালিয়ে৷ নতুন নতুন জায়গা ঠিক করা থাকতো৷ সেদিন গিয়েছিলাম রেইসকোর্স৷ উদ্দেশ্য ছিল শুধু হাঁটবো৷ একটানা একঘন্টা৷ zovirax vs. valtrex vs. famvir

খুব সাধারন একটা এলাকা৷ ভাল দিক বলতে আছে এলাকাটা খোলামেলা৷ এখনো কনস্ট্রাকশন কোম্পানির নজর এদিকে পড়েনি৷ আর বিশ্রী দিক বলতে আছে বিশাল একটা ড্রেইন৷ পুরো কুমিল্লা শহরের ড্রেইনের সমাধিস্থল৷ ড্রেইনের পাশে দোতলা তিনতলা বাড়ি৷ রাস্তা নিয়মিত উঁচু হওয়ার কারনে কিছু কিছু বাড়ির নিচতলার অর্ধেক আবার রাস্তার নিচে চলে গেছে৷ হঠাৎ একটা বাড়ি আমার মনোযোগ কেড়ে নিল৷

তিনতলা বাড়ি এটা৷ হলুদ রঙ জায়গায় জায়গায় উঠে সৌন্দর্য বলতে কিছু অবশিষ্ট নেই৷ নিচতলার দুই তৃতীয়াংশ মাটির নিচে চলে গেছে৷ তারমানে বেশ আগেই করা৷ জানালাগুলো লোহার৷ কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হল লোহার ফ্রেমের মাঝের কাঁচগুলো ভাঙা৷ যেনতেনভাবে ভাঙা না৷ দেখেই বুঝা যায় কেউ দুর থেকে ঢিল মেরে ভেঙেছে৷ শুধু একটা জানালার না৷ প্রায় সবগুলো জানালার কাঁচই একইরকম করে ভাঙা৷

লাবিবকে দেখালাম৷ একনজর দেখেই ও বললো চল যাই৷

রাস্তার পরো বিশাল ড্রেইনটা৷ তারপর ঐ বাড়ি৷ রাস্তার ওপারের বাড়িগুলোর প্রতিটার জন্যই এক্ষেত্রে বাঁশের বা কাঠের পুল করা আছে৷ কেউ কেউ আবার কংক্রিট দিয়ে পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করে নিয়েছে৷ এই বাড়িটায়ও আছে একটা বাঁশের পুল৷ কিন্তু অবস্থা মোটেও সুবিধার না৷ যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে৷

লাবিব একমুহূর্ত ভেবেই বলে দিলো ভাঙা পুল দিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না৷ শুধু ভেঙে পড়ার ভয় না৷ এলাকার লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়ে যাবে৷ এরা এমনিতে এমন একটা পরিত্যক্ত বাড়ির প্রতি কৌতুহলী না হলেও দুইজন বাইরের ছেলেকে হাতের নাগালে পেলেই চেপে ধরবে৷ আর সুযোগ পেয়ে গেলে কাধেঁর উপর আরো কিছু চালিয়ে দিতেও দ্বিধা করবে না৷

সিদ্ধান্ত নিলাম অন্য বাড়ির ভেতর হয়ে যাবো৷ রিস্ক তাতেও আছে৷ কিন্তু প্রথমেই চোখে পড়ে যাওয়ার থেকে ভাল হবে৷ will i gain or lose weight on zoloft

(…) zoloft birth defects 2013

metformin gliclazide sitagliptin

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

metformin synthesis wikipedia
metformin tablet