কামারুপুত্রের আফসোস এবং কিছু রূপকথার গল্প…

204

বার পঠিত

হাসান জামান শাফি নামের একজনের ওয়ালে একটা লেখা পড়লাম। কামারুরে তিনি বাপ বইলা সম্বোধন করছেন, নিষ্পাপ নিরপরাধ ইসলামী সমাজের আদর্শ তার বাপরে নাকি হাসিনা সরকার আরেকজনের অপরাধে মেরে ফেলছে। ওই যে এই কাদের সেই কাদের না টাইপের ব্যাপার আর কি, উনি বলতে চাইতেছেন এই কামারুও সেই কামারু না…

বেশ আবেগঘন একটা লেখা, পাবলিকের ইমোশনে ধাক্কা দেওয়ার মত সব উপাদানই আছে। আরেক রাজাকার মীর কাশেম আলির মেয়ে সুমাইয়া রাবেয়াও তার সাথে গলা মিলায়া বলতেছেন আমার বাপ যুদ্ধাপরাধী হইতেই পারে না, সব মিডিয়ার সৃষ্টি, প্রোপাগান্ডা মাত্র। কামারুজ্জামানের ব্যাপারে উনারা বিস্ময় প্রকাশ করে বলতেছেন ১৯ বছরের একটা কিভাবে এহেন অত্যাচার আর নৃশংসতা চালাইতে পারে, এইটা তাদের বুঝে আসে না। কামারু নাকি ইসলামী নেতা ছিল বইলাই, ইসলামের বাগানের ফুটন্ত গোলাপকলি ছিল বইলাই তারে ঝুলতে হইল বইলা সিদ্ধান্তও দিছেন তারা। ছেলে হিসেবে বাপরে ফাসির দড়ি থেইকা বাঁচাইতে পারলেন না, হাসান জামান সাহেবের বিশাল আফসোস…

উনারে সামনে পাইলে জিজ্ঞাসা করার ইচ্ছা ছিল, ৪৪ বছর আগে শেরপুর শহরের শেরী ব্রিজের নিচে গোলাম মোস্তফা নামে একজন ব্যক্তিরে ধইরা আনা হইছিল, উনারে হাসান সাহেব চিনেন কিনা… রামদা দিয়া চাক চাক মাংস কাইটা নেওয়া হইছিল তার শরীর থেইকা, হাতের –পায়ের রগ কাইটা শেষে ইসলামের নামে পাকিস্তান কায়েমের খাতিরে তারে গরু জবাইয়ের মত জবাই দেওয়া হইছিল, এই ঘটনা হাসান সাহেব জানেন কিনা… জবাইটা দিছিল তার বাপ… কসাই কামারু …

হাসান সাহেব জিজ্ঞাসা করতে চাইতেছিলাম উনি কখনো সোহাগপুর গেছেন কিনা… ১২০ জন মানুষরে লাইন ধরায়া দাড় করানো হইছিল, হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে গ্রামের সব পুরুষরা, পাকিস্তানী শুয়োরগুলা ট্রিগার চাইপা ধরল, মুহূর্তের মধ্যে ১২০ টা তরতাজা প্রান নিশ্চল লাশ হয়ে গেল। হাসান সাহেব কি জানেন ১৯৭১ সালের ৩০শে এপ্রিলের সেইদিন তার ফুলের মত নিষ্পাপ বাপ পাকিস্তানী শুয়োরগুলোর সাথে কত অসংখ্য নারীর উপর জিভ চাটতে চাটতে ঝাপায়া পড়ছিলেন? পৈশাচিক গনধর্ষণ শেষে ওই গ্রামের পুরুষদের ইন্ডিয়ান দালাল হিসেবে ব্রাশফায়ার করা হইছিল, নেতৃত্ব দিছিল কামারু, দেখায়া দিছিল জয় বাঙলার লোক কারা কারা… হাসান সাহেব কি জানেন, সোহাগপুর গ্রামের বেশিরভাগ নারী সেদিন স্বামী হারাইছিল? গ্রামটার নাম যে বিধবাপল্লী হয়ে গেছিল, সেই বিধবাদের অঝোর অশ্রুর ধারা যে নিদারুন অপেক্ষার প্রহর তৈরি করে যাইতেছে আজ ৪৪ বছর ধরে, প্রতিক্ষনে, এইটা কি হাসান সাহেব জানেন?

হাসান সাহেব কি দারারে চিনেন? জহুরুল ইসলাম দারা? বাপ টেপা মিয়া আর ছেলে দারারে দড়ি দিয়ে বেঁধে টানতে টানতে নিয়ে গেছিল কামারু আর আলবদরের সদস্যরা, দিনটা ছিল ২৮ শে রমজান, এক লাইনে সার বেঁধে দাড় করানো হইছিল বাপ-ছেলেসহ সাত জনরে, বেয়নেট দিয়া কুচি কুচি করে মোরব্বা বানানো হইছিল মানুষগুলারে, ছেলেরে নিজের চোখের টুকরা টুকরা হইতে দেখছে টেপা মিয়া, কিচ্ছু করতে পারে নাই… হাসান সাহেব কি কল্পনা করতে পারেন, তার নিষ্পাপ বাপ, ইসলামের মহান নেতা ইসলামরে ব্যবহার করে জলজ্যান্ত মুসলমানদের টুকরা টুকরা করতেছে? কল্পনা করতে কি হাসান সাহেবের বুক কাঁপে? viagra in india medical stores

আমার নানা মোহাম্মদ আলী প্রামানিক ছিল জয় বাঙলার লোক, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি মানুষটারে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবাই ভালবাসতো। ২রা মে যখন মাওলানা সুবহান পাকি মিলিটারি নিয়া সাহাপুর গ্রামে হামলা চালাইল, তখন নানা বাড়ি ছিল না। ১৬টা ফ্যামিলির বিশাল যৌথ পরিবার ছিল নানাদের, সবাইরে এক লাইনে দাড় করানো হইল। তারপর মেয়েগুলারে আলাদা করে সবার সামনেই ঝাপায়া পড়ল শুয়োরগুলা, ছিঁড়ে-খুবলে খাইতে লাগলো। নানার ছোট্ট একটা বোন ছিল, পেট থেকে যোনি পর্যন্ত বেয়নেট দিয়ে এক টানে ছিঁড়ে ফেলা হইল।বাকিদের গুলি করে বাড়িতে আগুন ধরায়া দেওয়া হইল। গ্রামের বেশিরভাগ ছিল হিন্দু পরিবার, প্রথমে রাজাকাররা গনিমতের মাল হিসেবে প্রত্যেকটা বাড়ি লুট করল, তারপর ব্রাশফায়ার কইরা মারলো সবাইরে, শেষে বাড়িতে আগুন ধরায়া দিল। নানা এসে দেখে, সব পুড়ে ছাই। সহ্য করতে পারে নাই, একটা দা হাতে ঝাপায়া পড়ছিল পাকি শুয়োরগুলার উপর। ব্রাশফায়ার কইরা মারার পর আলবদর কমান্ডার সুবহান তার শরীর থেকে চামড়া ছিলে গাছে টাঙ্গায়া রাখছিল, সবাইরে দেখায়া বলছিল, এইটা হইল গাদ্দারের শাস্তি, ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলে এই পরিনতি হবে…

হাসান সাহেব, আপনার বাপেরে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে দেইখা আপনার কষ্ট লাগতেছে? সোহাগপুরের বিধবা পল্লীর অসংখ্য ধর্ষিতা নারীরও কিন্তু কষ্ট হইছিল, স্বামীরে ব্রাশফায়ার করতেছে, তাকায়া তাকায়া দেইখাও কিচ্ছু করতে পারে নাই। কষ্ট হইছিল জাহাঙ্গীরের, বন্ধু টুনুরে বাঁচাইতে পারে নাই, লাশটাও খুইজা পায় নাই। কষ্ট হইছিল টেপা মিয়ার, নিজের পোলারে বেয়নেট দিয়া টুকরা টুকরা করা হইতেছে, রক্তে ভেসে যাইতেছে তার পুরা দেহ, একবিন্দু নড়তে পারে নাই সে… টেপা মিয়া তার ছেলেরে বাঁচাইতে পারে নাই, কিচ্ছু করতে পারে নাই… কষ্ট হইছিল আমার নানীর, ঝোপের আড়ালে লুকায়া ছিল, স্বামীর চামড়া ছেলা নিথর দেহটারে কসাইয়ের দোকানে মাংসপিণ্ড ঝুলায়া দেওয়ার মত কইরা ঝুলতে দেখলো, কিন্তু কিচ্ছু করতে পারে নাই। আম্মু তখন পেটে, নয়টা মাস… কি কষ্ট, কি যন্ত্রণা…

না হাসান সাহেব, তারপরেও আপনি বলবেন আপনার বাপ কামারু নির্দোষ ছিল, নিষ্পাপ ছিল, গণহত্যা তো দূরে থাক, একটা পিঁপড়া পর্যন্ত মারে নাই কোনোদিন, গনধর্ষণ তো দূরে থাক, বেগানা নারীর দিকে চোখ তুইলা তাকায় নাই পর্যন্ত কোনোদিন। তারপরেও আপনি বলবেন, এইটা হইল জুডিশিয়াল কিলিং,আপনার বাপ ইসলামী নেতা ছিল, ইসলামী আন্দোলনের লাইগাই তারে এই নাস্তিক সরকার ফাঁসী দিছে… তারপরেও আপনি বলবেন আমি শহীদ কামারুজামানের পোলা,আমি একটা শুয়োরের বাচ্চা… ovulate twice on clomid

posologie prednisolone 20mg zentiva
accutane prices

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

side effects of quitting prednisone cold turkey
capital coast resort and spa hotel cipro
can you tan after accutane
buy kamagra oral jelly paypal uk