A Power Blanket Around Bangladesh

865

বার পঠিত

একসময় বলা হত যে দেশে সালফিউরিক এসিড উৎপাদন যত বেশী সে দেশের শিল্প তত অগ্রসরমান। এখন বোধহয় যে সব দেশের মাথা পিছু বিদ্যুতের  ব্যবহার যত বেশী সে দেশেই তত বেশী এগিয়ে। এখন ক্ষুদ্র থেকে মাঝারী কিংবা কুটির এমনকি বৃহৎ শিল্প অথবা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিখাত সবই বিদ্যুতের ব্যবহারের সাথেই সম্পৃক্ত। আর তাই শক্তি কিংবা পাওয়ার কনজাম্পশনের মাথা পিছু হার দেখেই বুঝা সম্ভব কোন দেশ কতটা সম্বৃদ্ধ।

List of countries by electricity consumption   Wikipedia  the free encyclopedia

সার্বিক বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহারের তুলনামূলক চার্ট [তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া]

 এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান কততম তা বের করা মুশকিল। তবে মাথা পিছু ২৮ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে ২০১২ সালের তথ্যানুযায়ী। এই তালিকায় শীর্ষে থাকা বেশীরভাগ রাষ্ট্র শীত প্রধান দেশের। তাদের পার ক্যাপিটা বিদ্যুতের প্রয়োজন এমনিতেই বেশী। আমাদের মত নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার দেশের মানুষের মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন এতো বেশী দরকার না হলেও বর্তমানে আমরা প্রয়োজনের থেকে অনেক কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। কীভাবে আমাদের মত স্বল্প রিসোর্সের এই দেশ বিপুল পরিমাণ জনশক্তিকে পরিমিত বিদ্যুৎ দিতে পারবে? এইটা আজ বড় প্রশ্ন এবং চ্যালেঞ্জ। উন্নত বিশ্ব তথা গোটা পৃথিবী যেখানে ফসিল ফুয়েল (Fossil Fuel] বা জীবাশ্ম জ্বালানীর যথেচ্ছাচার ব্যবহারে পরিবেশকে করে তুলেছে বিপদসংকুল। প্রথমে এই বিষয়গুলো একটু যাচাই করেই তিনটি মূল বিষয়কে সামনে আনবঃ

ক) কীভাবে সামগ্রিক একটি বিপর্যয়ের মুখে আছে বিশ্ব পরিবেশ!

খ) কীভাবে আমাদের মত উন্নয়নশীল কিংবা স্বল্প থেকে মধ্যম আয়ে উন্নীত হওয়া প্রত্যাশী দেশগুলো নিজের বিদ্যুৎ চাহিদা মিটাবে?

গ) সর্বশেষে রিনিউবল এনার্জি এবং বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে একটি পরামর্শ।

 সামগ্রিক বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব পরিবেশ viagra vs viagra plus

নাসার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ (Global Climate Change) বিভাগের ‘A blanket around the Earth’ শিরোনামের গুরুত্বপূর্ণ একটি নিবন্ধ বিশ্বের আবহাওয়া পরিবর্তনের মানবসৃষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছে-

“The Intergovernmental Panel of NASA on Climate Change, a group of 1,300 independent scientific experts from countries all over the world under the auspices of the United Nations, concluded there’s a more than 90 percent probability that human activities over the past 250 years have warmed our planet.
The industrial activities that our modern civilization depends upon have raised atmospheric carbon dioxide levels from 280 parts per million to 379 parts per million in the last 150 years. The panel also concluded there’s a better than 90 percent probability that human-produced greenhouse gases such as carbon dioxide, methane and nitrous oxide have caused much of the observed increase in Earth’s temperatures over the past 50 years.”
They said the rate of increase in global warming due to these gases is very likely to be unprecedented within the past 10,000 years or more. সম্পূর্ণ রিপোর্ট পাবেন এইখানে

নাসার (NASA) রিপোর্ট অনুযায়ী গ্রিন হাউজ (Green House Effect) ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলো হচ্ছে- জলীয় বাষ্প (Water vapor), কার্বন-ডাই-অক্সাইড (Carbon dioxide (CO2), মিথেন (Methane),নাইট্রাস অক্সাইড (Nitrous oxide) এবং ক্লোরো-ফ্লোরো-কার্বনস বা সিএসসি(Chlorofluorocarbons (CFCs). এদিকে শিল্পায়ন গত ১৫০ বছরে বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড (Carbon dioxide (CO2) এর পরিমাণ ২৮০ পিপিএম থেকে ৩৭৯ পিপিএমে নিয়ে যায়। তারা আরও যোগ করেন যে গত ১০,০০০ বছরের ইতিহাসে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার বর্তমানে নজিরবিহীন।


A blanket around the Earth শিরোনামের নাসার প্রবন্ধের প্রচ্ছদ

এখন সঙ্গত কারণে গত ২৫০ বছরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির মাইলফলক সহকারে কিছু তথ্য তুলে ধরতে চাইঃ

  • ১৭৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ০.৭ বিলিয়ন বা ৭০ কোটি 
  • ১৮০৪ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি
  • ১৯২৭ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি
  • ১৯৬০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি
  • ১৯৭৪ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ৪ বিলিয়ন বা ৪০০ কোটি
  • ১৯৮৭ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি
  • ১৯৯৯ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ৬ বিলিয়ন বা ৬০০ কোটি
  • ২০১১ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ৭ বিলিয়ন বা ৭০০ কোটি
  • আজ মার্চ ২০১৫-তে বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় ৭.৩ বিলিয়ন বা ৭৩০ কোটি।

[এইখানে উল্লেখ্য শিল্প বিপ্লবের আরম্ভ ১৭৬০ সালে-চিত্রে দেখানো হয়েছে…]

নাসার স্বতন্ত্র ১,৩০০ জন পরিবেশবিজ্ঞানী এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে গত ২৫০ বছরের মানুষের কার্যকলাপই বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য ৯০% এর বেশী দায়ী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে অর্থাৎ গত ২৫০ বছরের জনসংখ্যার এই ক্রম গণবিস্ফোরণই দায়ী এবং তাতে কোন সন্দেহ থাকে না নিচের চার্টটির দিকে একটু লক্ষ্য করলেই বোধগম্য হবে বিষয়টি। ১৭৫০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ৭০ কোটি সেখানে আজ কেবল ভারত বর্ষেই প্রায় তার দ্বিগুণ মানুষের বসবাস। ১৭৬০ সালের শিল্পবিপ্লবের পর থেকে মাত্র ২৫৩ বছরে আজ দুনিয়ার অবস্থা এই, শিল্পবিপ্লবের নামে কি শৈল্পিকভাবেই না প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে বিপর্যস্ত করেছে এই মানব জাতি তা একটু ভাবলেই আঁতকে উঠতে হয়। তারপরও আলাদা আলাদাভাবে একটু দেখার চেষ্টা করব কীভাবে সামুদ্রিক জীব বৈচিত্র্য এবং বনভূমি আজ হুমকির মুখে এবং মানুষের কোন কোন কার্যকলাপ এর পিছনে মূল দায়ী।


চার্টঃ বিশ্ব জনসংখ্যার অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ [বিস্তারিতঃ এইখানে] about cialis tablets

এইবার সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য বিপর্যয়ের কারণসমূহ একনজরে দেখা দরকার

সামুদ্রিক প্রাণীদের জীবন যাপনের পরিবেশ বিপর্যস্ত হলে স্বাভাবিকভাবেই সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য বিপর্যয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বর্তমানে সভ্যতার নামে পরিবেশ ও প্রকৃতির উপর মানব শিল্পায়নের নগ্ন আগ্রাসনে তাবৎ দুনিয়ার সমুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন। অপরদিকে অতিঘনবসতির জনগোষ্ঠী ঘনিষ্ঠ উপকূলবর্তী অঞ্চলসমূহে মানবসৃষ্ট দূষণের তীব্রতা এবং চাপের কারণে বিপর্যয় ত্বরান্বিত হতে দেখা যায়। এইভাবেই সামুদ্রিক প্রাণীর বাসস্থানের ক্ষতি সমগ্র দুনিয়াজুড়ে মহাসাগরের জীব বৈচিত্র্যের উপর প্রভাব ফেলছে। সামুদ্রিক জীবন বিপর্যয়ের কারণ প্রধানত দু’রকমপ্রাকৃতিক  এবং মানবসৃষ্ট।

প্রাকৃতিক কারণে প্রধানত বিপর্যয় দেখা দেয় সেগুলো হারিকেন, টাইফুন, ঝড়, ভূকম্পন, ভূমিধ্বস, সুনামি ইত্যাদি সামুদ্রিক জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

কিন্তু মানুষসৃষ্ট কারণগুলোই প্রধান, যেমন- জলাভূমি ড্রেজিং এবং ভরাট করে শহর, শিল্প, কৃষি উন্নয়ন করা হয়। তাছাড়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনের এবং শিল্পকারখানার নির্গত বর্জ্য সামুদ্রিক জীবনের (প্রাণী এবং উদ্ভিদ জীবনের) সামগ্রিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করে।

  • ভূ-আভ্যন্তরীন বাঁধ স্বাভাবিক প্রাকৃতিক সমুদ্র প্রবাহ বিঘ্ন করে, মাছ চলাচল পথ বন্ধ করে, এবং স্বাদু পানি প্রবাহ বন্ধ করে উপকূলীয় পানির লবনাক্ততার পরিমান বৃদ্ধি করে। তীর থেকে দূরবর্তী জায়গায় বনায়ন উজাড় মাটি ক্ষয় সৃষ্টি করে যার ফলে পলি পরিবহন বেড়ে যায়। যার দরূন অগভীর জলের রিফগুলো পলির নীচে চলে যায় এবং জীব বৈচিত্র্য বিপর্যয়ের সৃষ্টি করে।
  • ক্ষতিকর মাছ ধরার কৌশল যেমন সমুদ্র বা জলাশয়ের গভীর হতে ছেঁকে মাছ ধরা, ডিনামাইট ব্যবহার, বিষ প্রয়োগ উপকূল এবং গভীর উভয় জায়গাতেই সামুদ্রিক জীবনের ক্ষতি করে।
  • ট্যুরিজমের নৌকা, ডুবুরী, স্কুবা ডাইভার ইত্যাদিকে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের খুব সন্নিকটে নিয়ে এসেছে। কনটেইনার জাহাজ ও ট্যাঙ্কারের নোঙ্গর ও বর্জ্য জীব বৈচিত্র্য হুমকির অন্যতম কারন।
  • অশোধিত তেল ও অন্যান্য পদার্থ উপচে পাখি এবং মাছ হাজারে হাজারে মারা যায় এবং কয়েক বছরের জন্য একটি ক্ষতিকর পরিবেশ রেখে যায়।
  • জলবায়ু পরিবর্তন একটি অন্যতম বড় কারণ সামুদ্রিক জীবন বিপর্যয়ের। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃ্দ্ধির সাথে সাথে সমুদ্রও কিছু তাপমাত্রা শোষণ করে। এমনকি অল্প তাপমাত্রা বৃ্দ্ধিও কোরাল থেকে তিমির জীবন চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃ্দ্ধি মেরুর (Polar) আইস ক্যাপ, গ্লেসিয়ার গলিয়ে উপকূলীয় এলাকা তলিয়ে দিতে পারে।
  • জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো উচ্চ মাত্রার কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO2) সমুদ্র দ্বারা শোষিত হয় এবং বিক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বনিক এসিড গঠন করে। এই উঁচু অম্লতা মহাসাগরের প্ল্যাঙ্কটন সহ সামুদ্রিক প্রানীর জীবন ধারন এবং শেল তৈরি ব্যাহত করে, যা মহাসাগরের খাদ্য চক্রে ব্যাপক হারে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। [তথ্যসূত্রঃ NatGeo অনলাইন]


পানি দূষণের কারণসমূহের খাতওয়ারী দূষণের হার

অন্যদিকে গ্রিনিং প্ল্যানেট ডট কম পানি দূষণ নিয়ে একটা বিস্তারিত রিপোর্টে অতিগুরুত্বপূর্ণ এবং সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে আলোকপাত করেছেঃ

পানি দূষণের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ দায়ী, যাদেরকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে পয়েন্ট সোর্স  [Point Source] এবং নন-পয়েন্ট সোর্স [Non point source] বাঙলায় করলে যা দাড়ায় প্রত্যক্ষ্য এবং পরোক্ষ উৎস। পয়েন্ট সোর্স- এইসব দূষণে ক্ষতিকারক উপাদানসমূহ সরাসরি পানির সাথে মিশে যায়, যেমন- চাষাবাদের জন্য ব্যবহৃত সার বৃষ্টির পানিতে মিশে পানির ব্যাপক দূষণ করে। দূষণের পয়েন্ট সোর্সগুলোকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সফল কার্যকারিতায় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব অন্যদিকে নন-পয়েন্ট সোর্স ব্যাপক এবং অতিবিধ্বংসী হওয়া সত্ত্বেও সেগুলো পর্যবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টসাধ্য। সাধারণত নন-পয়েন্ট সোর্স হচ্ছে পানি দূষণের এমনসব উৎস যেসব পরোক্ষভাবে পরিবেশগত পরিবর্তনের মাধ্যমে পানি দূষণ করে থাকে। নিচে কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ তালিকা আকারে দেয়া হল-

১) Pesticides বা কীটনাশক
২) Fertilizers / Nutrient Pollution বা সার / পুষ্টিগত দূষণ
৩) Oil, Gasoline and Additives বা তেল, পেট্রোলজাত দ্রব্য এবং এদের বিশেষ সংযোজনের বস্তু
৪) Mining বা খনিজ দ্রব্যের ব্যপক ব্যবহার এবং উত্তোলন [এইখানে একটা প্রাসঙ্গিক তথ্য না দিলেই নয়; ১৯৬৩ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া The Iron Mountain mine in California, USA খনিজ উত্তোলন ক্ষেত্রটি আগামী ৩০০০ বছর নদীতে pH -3 মাত্রার এসিডিক বর্জ্য নির্গমন করবে যা কিনা সাধারণ ব্যাটারির এসিড থেকেও ১০,০০০ গুন বেশী এসিডিক।]
৫) Sediment বা ক্ষয়িষ্ণু পলি মাটি


চিত্রে দেখা যাচ্ছে মানব সৃষ্ট কি কি কারণ পানি দূষণের জন্য প্রত্যক্ষ্যভাবে দায়ী।

৬) Chemical and Industrial Processes বা রাসায়নিক এবং শিল্প প্রক্রিয়ার দূষণ
৭) Plastics and other plastic-like substances বা প্লাস্টিক এবং অন্যান্য পলিমার
৮) Personal Care Products, Household Cleaning Products, and Pharmaceuticals
৯) Sewage বা নর্দমা অথবা ড্রেনের ময়লা
১০) Air Pollution বা বায়ু দূষণ
১১) Carbon Dioxide বা অতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন
১২) Heat বা অতিরিক্ত তাপ নির্গমন
১৩) Noise বা শব্দদূষণ।

এই তালিকা আর নাসার ১,৩০০ বৈজ্ঞানিকের রিপোর্ট সমন্বয় করলে তথাকথিত শিল্প বিপ্লবের পর থেকে মানুষের ক্রমবৃদ্ধি এবং উপরোক্ত ১৩ রকম প্রত্যক্ষ্য এবং পরোক্ষ উৎস  কীভাবে দুনিয়ার পানি দূষণের কাজ করছে তা স্পষ্ট হয়। এইসকল কারণের সবকটিই জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃদ্ধি পায় এবং অস্বাভাবিক হারে পরিবেশ দূষণে ঋণাত্মক ভূমিকা রাখে। এদিকে মানুষের মৃত্যুও পানি দূষণের জন্য দায়ী বলে আর্টিকেলটিতে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রত্যেকটি পয়েন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে এই সাইট ভিজিট করুণcan levitra and viagra be taken together

ওয়ার্ল্ড রিসোর্স ইনস্টিটিউটের একটি বিষদ হিসেবে দেখাচ্ছে ২০০৫ সালে দুনিয়াজুড়ে নির্গত ৪৪,১৫৩ মেগা টন কার্বন-ডাই-অক্সাইডের (CO2) সমপরিমাণ গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনে মানুষের নানাবিধ খাত কীভাবে অবদান রাখছে তা স্পষ্ট হয় নিম্নের অসামান্য এই চার্টটি দেখলে- acne doxycycline dosage

-

গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনে খাতওয়ারী হিসেব

 এই চার্টের কিছু তথ্য আলাদা করে না বললেই নয়, তাহল-  বিদ্যুৎ অর্থাৎ ইলেক্ট্রিসিটি এবং তাপের কারণে গ্রিনহাউজ গ্যাস ২৪.৯% (যেখানে সকল ধরণের জ্বালানীর ব্যবহার সন্নিবেশিত), অন্যভাবে দেখলে Unallocated বা অব্যবহৃত জ্বালানী পুড়ে হয় ৩.৬% এবং কয়লা উত্তোলনে হয় ১.৩%, আবার ভূমির ব্যাপক ব্যবহার পরিবর্তন (১২.২%), কৃষিখাত (১৩.৮%), যোগাযোগ ব্যবস্থা (১৪.৩%) সর্বমোট ৩০.৬% গ্রিন হাইউজ গ্যাস সৃষ্টির জন্য দায়ী। অনেক তথ্য আর উপাত্ত দিয়ে পাঠকদের বিরক্ত করব না। আমাদের আসলে জেনে রাখা ভাল আমাদের কোন কোন কার্যকলাপ বিশ্ব পরিবেশের এমন সর্বগ্রাসী দূষণ করছে। চার্টটিতে ক্লিক করে বড় করে দেখলেই অনেক ব্যাপার পরিষ্কার হয়ে যাবে।

বনভূমি উজ়াড়ের কারণ সমূহ

লিভ সাইয়েন্স (livescience.com) ডট কমের বন উজ়াড়ের কারণ সমূহ নির্ধারণ করতে গিয়ে তাদের  ‘Deforestation: Facts, Causes & Effects’ শিরোনামের প্রবন্ধটির শুরুর বাক্যে বলছে- ‘Deforestation is the permanent destruction of forests in order to make the land available for other uses.’ প্রতি বছর পানামার সমপরিমান বা ১৮ মিলিয়ন একর বনভুমি উজাড় হয় বসবাস এবং অন্যান্য কাজের জন্য বনভূমি ধ্বংস করে সমভূমি প্রস্তুত করার লক্ষ্যে বলছে জাতিসংঘের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অরগানাজেশন FAO, Food and Agriculture Organization of the United Nations. এমন আরও তিনটি প্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়েছে প্রবন্ধটির ভূমিকায়-

ক) ইতিমধ্যে বিশ্বের প্রায় অর্ধেকের বেশি ট্রপিক্যাল বা ক্রান্তীয় বনাঞ্চল উজাড় হয়েছে বলছে ইউএন-এর ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অরগানাজেশন FAO.

খ) পৃথিবীর মোট স্থলভাগের মাত্র ৩০% যায়গায় বর্তমানে বিদ্যমান কিন্তু প্রতি বছর পানামার সমপরিমান বনাঞ্চল উজাড় হওয়ার ধারা বজায় থাকলে আগামী ১০০ বছরের মাঝেই বিশ্ব বনহীন হয়ে পরবে বলছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক
গ) বর্তমান বিশ্বের মোট নিঃসরিত গ্রিন হাইউজ গ্যাসের ১২-১৭% এর জন্য দায়ী এই সর্বগ্রাসী বনভূমি উজাড়। এই তথ্য দিচ্ছে World Resources Institute, WRI.

বনভূমি উজাড়ের প্রধান কারণগুলো livescience.com ঠিক এইভাবেই তালিকাভুক্ত করেছে- বসবাসের জন্য জমির প্রয়োজনীয়তা, নগরায়ন এবং শহরায়ণ, কাঠ সংগ্রহ, চাষাবাদের জমির প্রয়োজনীয়তা, সয়া এবং পাম ওয়েলের জন্য জমি অধিগ্রহণ, গোচারণভূমির সৃষ্টি এবং শিল্পায়ন। Natural Resources Defense Council এর একজন বন বিশেষজ্ঞ এই নির্বিচারে বনভূমি ধংসের প্রক্রিয়াকে বলছে এটি একটি পরিবেশগত মানসিক আঘাত যা ভয়ংকর কোন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাত ছাড়া প্রকৃতিতে দেখা যায় না।

মানবজাতির সভ্যতার হলিখেলা এতটাই আত্মবিধ্বংসী যে আমরা নিজেরাই বুঝতে পারছি না আমাদের সবুজ পৃথিবীটির ভবিষ্যতকে আমরা কতটা অনিশ্চিত করে দিচ্ছি। এইসব নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে গেলেই সবসময় রেনেসাঁর আজ যে শিশু গানটির কথা মনে পরে যায়। আর শেষতক একটাই পরিসমাপ্তি টানতে হয় তাহল দিনশেষে সব মানুষই চরমভাবে স্বার্থপর, এতটাই স্বার্থপর যে মানবজাতি তার অনাগত প্রজন্মের কথা না ভেবে বর্তমানের উল্লাসে মত্তviagra in india medical stores

এই বিষয়ে অনলাইনে ঘাটাঘাটি করতে এমন উপলব্ধিই বারবার হয়েছে যে ১৭৬০ সালের পর যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে তা শুধু বনভূমিই উজাড় করার জন্য প্রধান দায়ী না গোটা দুনিয়ার তাবৎ জীববৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে চরম নির্লজ্জতায়। আর যেখানে সকল বিশেষজ্ঞরা (Experts) একযুগে বলছে এই শতাব্দীর শেষভাগে (২০৬৫-৭৫) ছাড়া বিশ্বের জনসংখ্যায় স্থিতি আসবে না সেখানে বিশ্বনেতারা স্বেচ্ছাচারী যুদ্ধের দামামায় মত্ত।

অন্যদিকে একাধিক গবেষণা বলছে ২১০০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা হবে ১০ বিলিয়নেরও বেশী। মানব সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে এইপর্যন্ত মোট জন্ম নেয়া মানুষের সংখ্যা ৯০ থেকে ১১০ বিলিয়নের মধ্যে, পপুলেশন রেফারেন্স ব্যুরোর মতে এই পরিমাণ প্রায় ১০৬ বিলিয়নের কাছাকাছি। খ্রিষ্টপূর্ব ৫০,০০০ থেকে এই ৫২,০০০ বছরের ইতিহাসে গত ৫০০ বছরেই মোট পরিমাণের অর্ধেক অর্থাৎ ৫০ বিলিয়ন মানুষ পৃথিবীর সম্পদ ভোগ করেছে। আমরাই কাকতালীয়ভাবে বোধহয় সবচে খারাপ সময়ে দুনিয়ায় আসছি পরিবেশবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে আবার অন্যদিকে সভ্যতার জ্ঞান-বিজ্ঞানের একদম স্বর্ণযুগেই আমাদের পদচিহ্ন এই দুনিয়ার বুকে (হতাশ হওয়ার কিছু নেই…)।ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক  তাদের প্রবন্ধের শেষে বর্তমান সময়ের মানুষের বনায়ন নিয়ে স্বভাবগত, বিধিবৎ বা নিয়মমাফিক আশার বানী শুনালেও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বিশ্বনেতাদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার কোন বিকল্প দেখি না। প্রবলভাবে এবং কঠোরভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনই মানব জাতির অনাগত ভবিষ্যতের উত্তরণের একমাত্র পথ।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ঘাটতিতে করনীয় will i gain or lose weight on zoloft

Tuoketuo Power Station,চীন

এই বিষয়ে বলতে গেলেই প্রথমে আসে রামপালে বর্তমান সরকার দেশের প্রথম কয়লাভিত্তিক তাপ-বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা নিয়ে। এদিকে সম্প্রতি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি  প্ল্যান ক্রাশ,  সুনামি এবং ভূমিকম্পসহ  সকল ঝূঁকি প্রতিরোধের বিষয় মাথায় রেখে রাশিয়ার আর্থিক এবং কারিগরি সহায়তায়  দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপদনের ক্ষমতার আরো ৫ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্রের অনুমোদন করে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে । যার মধ্যে ওরিয়ন গ্রুপের পাওয়া তিনটি কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ঢাকা এলাকায় ৬০০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট ও ১০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি এবং চট্টগ্রাম এলাকায় ১০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কেন্দ্র রয়েছে । আর এস আলম গ্রুপ চট্টগ্রাম এলাকায় ৬০০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট এবং বরিশালে ১০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি কেন্দ্র করবে। metformin synthesis wikipedia

কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কীভাবে কাজ করে? can you tan after accutane

প্রথমে এই বিষয়টি জেনে নেয়া অত্যাবশ্যক। খুব সহজে যদি মূল বিষয়টা দেখি তা অনেকটা এইরকম- কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রথমে পাউডারে বিচূর্ণ করা হয় চক্রের (চিত্রে দ্রষ্টব্য!) কনভেয়র যা পরবর্তীতে বয়লারে যাওয়ার আগে পালভারাইজড হয়। পিসিসি (PCC= Pulverized Coal Combustion) সিস্টেমের কম্বাশন চেম্বার হয়ে বয়লারে উচ্চতাপে পুড়ানো হয়। এইখানে চিনমি (Stack) হয়ে কয়লা পুড়া ধূয়া বের হবে আরভস্মীভূত ছাই নিজ দিয়ে নির্গত হয়। অন্যদিকে পানি থেকে রূপান্তরিত বাষ্প টার্বাইনে উচ্চ চাপে প্রবেশ করে যেখানে হাজার প্রোপেলারকে সে হাইস্পীডে ঘুরাতে থাকে যা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এই বাষ্প টার্বাইন থেকে আবার কনডেনসারে কন্ডেন্সড হয়ে পুনরায় বয়লারে যায় আরেকবার ব্যবহৃত হতে। এই সহজ চক্রে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো তার উৎপাদন চক্র শেষ করে। এইখানে পরিবেশ দূষণের উপাদান নির্গত হয় চিমনি দিয়ে, নির্গত পানির সাথে এবং ভস্মীভূত ছাই হিসেবে। এইখানে উল্লখ্য পানি বিশুদ্ধিকরণের জন্য ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বসানো হলেও আমার জানামতে দুনিয়াজুড়ে চিমনী দিয়ে নির্গত বিষাক্ত ধুঁয়ার কোন প্রকার ট্রিটমেন্ট করা হয় না।

 

কর্মদক্ষতা উন্নয়ন (Efficiency Improvements)

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে অধিকতর কর্মদক্ষতা অর্জন করতে বা Efficiency Improvements বৃদ্ধি করতে কম্বাশন টেকনোলোজিতে ব্যাপক পরিবর্তনের জন্য গবেষকেরা কাজ করে যাচ্ছেন। এই উন্নয়ন কম কয়লা পুড়ে অধিকতর বিদ্যুৎ উৎপাদনে মানব জাতিকে নতুন পথ দেখাবে। এই কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে ন্যুনতম কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণে সাহায্য করবে। সহজ করে বললে ১% পিসিসি (PCC= Pulverized Coal Combustion) সিস্টেমের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ২-৩% কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO2) নিঃসরণ কমাবে।

কয়লার ব্যবহার

২০০০ সালের পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানী হিসেবে কয়লার ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। চীন, ইউএসএ, রাশিয়া, ভারত এবং জাপান সাড়া বিশ্বে ব্যবহৃত কয়লার ৭৬% ব্যবহার করে-


  zovirax vs. valtrex vs. famvir

অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা ব্যবহারে শীর্ষ ১০ টি দেশ- thuoc viagra cho nam

অন্যদিকে কয়লার দহন থেকে কি কি পন্য আমরা বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে পেতে পারি-

-ফ্লাই এশ (fly ash)
-
বোটম এশ (bottom ash)
-
বয়লার স্লাগ (boiler slag)
-flue gas desulphurization gypsum
-others types of material such as fluidized bed combustion ash, cenospheres, and scrubber residues
viagra en uk

ফ্লাই এশ ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কনক্রিটের অন্যতম প্রধান উপাদান সিমেন্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড কোল এ্যাসোসিয়েশন বলছে ‘Fly ash can be used to replace or supplement cement in concrete. In the USA, for example, more than half of the concrete produced is blended with fly ash. Among the most significant environmental benefits of using fly ash over conventional cement is that greenhouse gas (GHG) emissions can be significantly reduced. For every tonne of fly ash used for a tonne of portland cement (the most common type of cement in general use around the world) approximately one tonne of carbon dioxide is prevented from entering the earth’s atmosphere. Fly ash does not require the energy-intensive kilning process required by portland cement.’

এইবার দেখি দুনিয়াজুড়ে মোট উৎপাদিত বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোন কোন জ্বালানী কি হারে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। জীবাশ্ম জ্বালানীর অপর দুই উপাদান তেল এবং গ্যাস যেখানে ২৮% বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় সেখানে কয়লা একাই ৪১% বিদ্যুৎ উৎপাদন করে থাকে। doctus viagra

para que sirve el amoxil pediatrico

এখনও প্রশ্ন আনবিক শক্তির যুগে কেন কয়লার ব্যবহার এত বেশী? কারণ- খরচ অপেক্ষাকৃত অনেক কম আর আনবিক শক্তি থেকে কম বিপদজনক। বিশ্ব কয়লা সংস্থা (WCA) বলছে ‘Continuous improvements in technology have dramatically reduced or eliminated many of the environmental impacts traditionally associated with the use of coal in the vital electricity generation and steelmaking industries.’
তারা সালফার অক্সাইড, নাইট্রোজেন, মার্কারি, গ্রিন হাউজ গ্যাস (GHG), কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO2) নিঃসরণ, এবং মিথেন ইত্যাদির দূষণ নিয়ে বৃহৎ গবেষণা করছেন। তাঁরা বলছেন অতি উচ্চমানের প্রযুক্তির ব্যবহার এই দূষণের হারকে কমাবে। তাদের ভাষ্য চীন এবং ভারতের মত দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক শক্তির উত্থান ও ক্লাইমেট চেঞ্জ দুটার সমন্বয় করতে কয়লা ব্যবহারের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং দূষণ হ্রাসে ব্যাপক গবেষণা অত্যাবশ্যক। আমরা একটা বিষয় লক্ষ্য করছি না কয়লার ব্যবহার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়ে থাকে ষ্টীল ইন্ডাস্ট্রিতে। বাঙলাদেশের ষ্টীল ইন্ডাস্ট্রির সিংহভাগই ব্যপক জনবসতিপূর্ণ চট্টগ্রাম এবং ঢাকা শহরের অতি সন্নিকটে অবস্থিত।

বিশ্বের বিদ্যুৎ ব্যাবহারে সবচে উপরের ২০ দেশের তালিকা একটু দেখুন-

এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৫২স্থানে। আর যদি মাথাপিছু পাওয়ার খরচের হিসেবে আসি তবে আমাদের মাথাপিছু বদ্যুৎ ব্যায় ২৮ ওয়াট (2012), যেখানে তালিকার শীর্ষের দেশ আইসল্যান্ডের মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যায় ৫৮৩৭; এইবার এলাকা ভিত্তিক কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবস্থান একটু দেখে নিই-


এখন দেখি অ্যামেরিকার হালহকিকত

নিউইয়র্ক শহরের ৯.৯% বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে যার পরিমাণ ২৬৮৪ মেগাওয়াট-

বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর তালিকা নিম্নে দেয়া হল-

1 2
নিউইয়র্কের Tonawanda শহরের ৮১৬ মেগাওয়াটের বৃহৎ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি Huntley Generating Station টি নায়াগ্রা নদীর পাড়ে জনবহুল শহরের মধ্যেই। ছবিটি দেখুন-

বিশ্বের কয়লাভিত্তিক বৃহৎ কেন্দ্রগুলো-

 

কয়েকটি ছবি-

Taichung Power Plant

Bełchatów Power Station, Poland.

ইউরোপের বৃহৎ কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হচ্ছে Drax
ছবি-

 যদি পুঁজিবাদী অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ বিকাশ হয়ে থাকে সমাজতন্ত্রের সফলতার একটি অত্যাবশ্যকীয় ধাপ তবে শিল্পের বিকাশ শুধু ইউরোপ এমেরিকায় নয় আমাদের মত বঞ্চিত দেশের মানুষের জন্যও দরকার, তাই আমিও চাই সকল ধরনের শিল্পের সমবিকাশ সারাবিশ্বজুড়ে। নাচতে নেমে ঘোমটা টানা কখনই মঙ্গলময় কিছু নয়। তাদের দূষণে বাংলাদেশ প্লাবিত হয়ে বঞ্চিত মানুষেরা আবার লাঞ্ছিত হবে তার থেকে নিজের দূষণে মৃত্যুর আগে মাথা তুলে বাঁচুক এই নদীমাতৃক বাঙলাদেশের দুঃখী মানুষগুলো।

আর সত্যিই যদি আমরা পরিবেশের ভাল চাই তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মত করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম এমন ঔষধ আবিষ্কারের মত করে বিশ্বজুড়ে পরিবেশ বান্ধব শিল্পের বিকাশে কাজ করা উচিৎ। তা হতে পারে গবেষণার মাধ্যমে হতে পারে রিনিউএবল এনার্জির ব্যপক ব্যবহারে অথবা সবচে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে। কেননা ৫% জনসংখ্যার ইউএসএ সারাবিশ্বের মোট দূষণের ২৫% করবে আর আমাদের মত উন্নয়নশীল রাষ্ট্র ২.৫% জনসংখ্যা নিয়ে ০.৫% দূষণও করবে না কিন্তু ইউরোপ-অ্যামেরিকার দূষণের বলির পাঁঠা হবে এইটা মানা যায় না। আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন যেমন শিল্পের বিকাশের অন্যতম প্রধান নিয়ামক তাই কম ব্যায়ে কয়লাভিত্তিক ব্যাপক বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমাদের সারাবিশ্বের সাথে তাল মিলাতে হবে। না হয় আমরা ক্রমেই পিছিয়ে পরতে থাকব। রামপাল ছাড়াও অন্য সকল সম্ভাব্য সম্ভাবনাময় অঞ্চলে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যাপক উৎপাদন এবং তার ব্যাবহার নিশ্চিত করতে হবে।

 বাংলাদেশের সম্ভাবনাঃ A Blanket Around The Bangladesh

সমাধান কিংবা সম্ভাবনার কথা বলার আগে নিম্নের চার্টটি একটু দেখে নিনঃ

List of largest power stations in the world   Wikipedia  the free encyclopedia

এইখানে লক্ষ্য করলেই দেখবেন বিশ্বের সবচে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ৫ টিই হাইড্রো অর্থাৎ পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। কেবল তাই না উৎপাদনের দিক থেকে সেরা ১০ টির ৮ টিই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র! যা হচ্ছে একটি পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি। সাশ্রয়ী এবং জীব বৈচিত্রের জন্য সবচে কম ঝুঁকিপূর্ণ। এইবার চোখ ধাঁধানো একটি তথ্য দেই-

Screenshot 2015-02-19 01.13.43

বিশ্বের সর্ব বৃহৎ কিছু পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্ররের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডাটা বিশ্লেষণ করে আমি দেখি ১৫ তম বৃহৎ যে পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র তার নাম  Robert-Bourassa generating station, কানাডায়। স্পিলওয়ে ক্যাপাসিটি 17,600 m3/s  অথচ আমাদের কাপ্তাই বাঁধের হচ্ছে স্পিলওয়ে ক্যাপাসিটি ১৬,০০০ মিটার কিউব পার সেকন্ড! তারা উৎপাদন করতেছে ৫৬১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আর আমরা মাত্র ২৩০ মেগাওয়াট! অর্থাৎ আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সংস্কার করলে আমাদের কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকেই উৎপাদন করা যাবে রামপালের মত দুটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিগুণ বিদ্যুৎ। আর যেহেতু অবকাঠামো করা আছে সেক্ষেত্রে আরও কম ব্যায়ে এবং স্বল্প সময়ে এই অসাধ্য সাধন করা সম্ভব।

আমি কোন তড়িৎ প্রকৌশলী (ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার) নই, একজন পুরকৌশলী (সিভিল ইঞ্জিনিয়ার)। কোন দেশপ্রেমিক বিশেষজ্ঞ তড়িৎ প্রকৌশলী এই বিষয়ে বিস্তারিত সহায়তা করবেন এই আস্থার যায়গা থেকেই বিষয়টি সবার নজরে আনা। এই বাঙালীরাই একমাত্র ভাষার জন্যে প্রান দিয়েছে, স্বাধীনতার সংগ্রামে সবচে বেশী রক্ত দিয়েছে দখলদারদের বিতাড়িত করতে। তারপর আজ আমরা বিশ্বের বুকে নিজেদের সদর্প পদাচারন করতে পারি নি। আমাদের বিদ্যুৎ খাতের পাশাপাশি শিল্পখাতের পরিকল্পিত এবং পরিপূর্ণ বিকাশই পারবে কেবল আমাদের মধ্যম আয়ের দেশের পরিণত করতে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের এই বিপুল জলরাশি আরও কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক মানব কল্যাণে ব্যাবহার করা যায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

নদীমাতৃক বাংলাদেশে আমরা এই শক্তির অফুরন্ত উৎসকে যদি কাজে লাগাতে পারি তবে এই নদীই হবে আমাদের এনার্জি ব্ল্যাঙ্কেট!

You may also like...

  1. নি:সন্দেহে আপনার পোস্টটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেকদিন পর আপনার কাছ থেকে প্রত্যাশিত লেখা পেলাম।
    প্রথম বিষয়টা যে আমার কেন জানি মনে হয় আমরা গ্রীন হাউজ ইফেক্টের কথা বলে কার্বন ডাই অক্সাইড বা জীবাষ্ম জ্বালানীর কথা এত বেশি বলি, যে সমাধান হিসসেবে কার্বন ইফেক্ট প্রতিরোধ আসে। উল্লেখ্য green house gas এর মধ্যে জলীয় বাষ্প ২% দায়ী। যদিই খুব সামান্য। কিন্তু আমাদের পাশাপাশি এটি মনেরাখা উচিত যে জলঈয়বাষ্প ৪০০০-৮০০০ nm IR ray, Co2 13000-18000 nm IR ray শোষণ করে। মিথেনের তাপ ধারন ক্ষমতা CO2 এর থেকে ২০-৩০ গুণ বেশি। CFC এর তাপ ধারণ ক্ষমতা এর ২০০০০ গুণ। কিন্তু, আমরা সে কথা স্বীকার করি না। বাড়ির ফ্রিজটি কত বছর টিকল তা নিয়ে গর্ব করি কিন্তু এ ব্যাপারে মোটেই সচেতন নই যে এই ফ্রিজই ঠিক ৫ বছর চলার পর আমার ঘরে আমারই জন্য বিষ হিসেবে প্রচুর পরিমাণে CFC নির্গত করে। IPPC এর এক তথ্য মতে মিথেন, NO,, CFC এর মত উপাদাংুলো ২০৩০ সাল নাগাদ এমন রূপ ধারণ করবে যে তা CO2 এর ৫০% এর অংশটি দখল করে নিয়ে এর মত ক্ষতিকর হবে। সুতরাং অগুলোর বিষয়েও এখনি সচেতন করা প্রয়োজন।
    আপনার সমধানটি খুব ভাল নির্দ্বিধায় বলতে হয়। তবে এটিকে কি আপনি রিনিউবল সমাধান বললেন। বিস্তারিত পরে সময় নিয়ে বলব একদিন।

    • তারিক লিংকন বলছেনঃ

      হাইড্রো ইলেকট্রিক পাওয়ার প্ল্যান্ট রিনিউবেল কিনা সেই ব্যপারেই কি প্রশ্ন করেছেন?
      Renewable power stations কি কি ক্ষেত্রকে বলে একটু বলে নিতে হয় তাহলেঃ
      ক) Biomass
      খ) Geothermal
      গ) Hydroelectric নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা যায়-
      i) Pumped-storage hydroelectricity
      ii) Conventional hydroelectricity
      iii) Run-of-the-river hydroelectricity
      iv) Tidal power

      ঘ) Solar power, এটিও তিনভাগে ভাগ করা যায়-
      i) Flat-panel photovoltaic
      ii) Concentrated photovoltaics
      iii) Concentrated solar thermal

      ঙ) Wave power
      চ) Wind power:
      i) onshore wind power
      ii) offshore wind power..

      আর হ্যাঁ গ্রিন হাউজ নিয়ে আমার আলোচনা কেবলই সচেতনতা মূলক। ঐ বিষয়ে আমি ডিটেইলে যেতে চাই নি। আপনাকে ধন্যবাদ সবিস্তারে আলোচনা করবার জন্যে… tome cytotec y solo sangro cuando orino

  2. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    অবশেষে প্রত্যাশিত মানের পোস্ট… এই না হলে ‘তারিক লিংকন’ এর পোস্ট!

    স্টিকি চাই কুনু কথা হবে না!

  3. অংকুর বলছেনঃ

    পোস্টটা মার্ক করে রাখলাম। পরে পড়ে বিস্তারিত মন্তব্য দিব। আর টাইটেলটা বাংলায় দিলে ভালো হইত না?

    clomid over the counter
  4. অপার্থিব বলছেনঃ

    তথ্য বহুল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি লেখা। ভাল লাগলো।

  5. / ৫% জনসংখ্যার ইউএসএ সারাবিশ্বের মোট দূষণের ২৫% করবে আর আমাদের মত উন্নয়নশীল রাষ্ট্র ২.৫% জনসংখ্যা নিয়ে ০.৫% দূষণও করবে না কিন্তু ইউরোপ-অ্যামেরিকার দূষণের বলির পাঁঠা হবে এইটা মানা যায় না। /

    প্রথমত, কার্বন নিঃসরণ-পরিবেশ দূষণ এর প্রভাবকে আপনি কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছেন?
    আমি হয়ত ভালমতই পেরিয়ে যাব, এই পৃথিবী। কিন্তু আমার সন্তান? ‘অপসংষ্কৃতি’ শব্দের টেকনোলজির অপব্যবহার করে ভবিষ্যত পৃথিবীকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়ার পক্ষপাতী নই। আর সবাই-ই দোষ করছে বলে আমি বসে থাকবো কেন- এটা মানতে পারি নাই।
    বিদ্যুৎ তুলনামূলক বেশি পাই বলেই এই প্রযুক্তি কাম্য নয়, টোটাল আউটকাম দেখেন এখানে। নেগেটিভ।
    আশা করি আপনার পাল্টা যুক্তি ভাল হবে।

    তবে হ্যা, পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কিংবা যে প্রযুক্তিতে বিদ্যুতের পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও তা পরিবেশবান্ধব এমন প্রযুক্তিই কাম্য। প্রয়োজনে সংখ্যা বাড়ানো উচিত এবং গবেষণা।
    আমি বিশ্বাস করি যে, জ্ঞানী ইঞ্জিনিয়ারদের পৃষ্ঠপোষকতা করলে পরিবেশবান্ধব আরও ভাল পদ্ধতি আবিষ্কার হবে। প্রকৃতিকে রক্ষা করলে প্রকৃতিও আমাদের রক্ষা করবে।

    levitra 20mg nebenwirkungen

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

puedo quedar embarazada despues de un aborto con cytotec
side effects of drinking alcohol on accutane