স্বাধীনতা-উত্তর ভাষ্কর্য (পর্ব-১ )

2304

বার পঠিত

স্বাধীনতা পরবর্তীকালীন জীবনের সকল ক্ষেত্রে যেমন পরিবর্তন এসেছে, শিল্পকলার ক্ষেত্রেও এ পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। স্বাধীনতোত্তরকালে কুসংস্কার, অশিক্ষা, ধর্মীয় গোঁড়ামি সত্ত্বেও এদেশে আধুনিক স্থাপত্য ও ভাস্কর্য চর্চায় এক নতুন উদ্দীপনায় অগ্রসর হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে বিশাল আকৃতির স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের মাধ্যমে আমাদের শিল্পীরা সামাজিক নিয়ম-নীতির প্রচলিত গোড়ামির শিকল ভাঙ্গতে সক্ষম হয়েছেন।

বিশ শতকে, বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বাপর সময়ে সমাজতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন রাষ্ট্রসমূহে গণবিপ্লব ও তার বিজয়ের গাথামূলক বৃহদায়তন বহিরাঙ্গন ভাস্কর্য নির্মাণের ব্যাপক প্রবণতা লক্ষ করা যায়। বিশ শতকের সত্তরের দশকে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও জনমনেও একইভাবে মুক্তিযুদ্ধ ও তার বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে বহিরাঙ্গনে বৃহদায়তন সৌধ ভাস্কর্যের চাহিদা তৈরি হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বৈশ্বিক পটভূমি বিচারে দেখা যায় যে, ততকালীন ধনতান্ত্রিক এবং সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে শক্তির সুস্পষ্ট মেরুকরণ। স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল ততকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশসমূহ। স্বাভাবিকভাবে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সদস্যরা, কুটনীতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রসাশনিক ব্যক্তিরা সেসব দেশে ভ্রমনে যান। সেসব দেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ভাষ্কর্যগুলো তারা প্রত্যক্ষ করেন এবং এ অভিজ্ঞতা ভাষ্কর্য সম্পর্কে তাদের ধারনাকে প্রভাবিত করে। এ প্রসঙ্গে জেনারেল আমিন আহমেদ চৌধুরী বলেন যে, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তার পূর্ব জার্মানী ও পূর্ব ইউরোপীয় সমাজতান্ত্রিকদেশসমূহে যাওয়ার সুযোগ হয়। সেখানকার ভাষ্কর্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি শিল্পী আব্দুর রাজ্জাককে জয়দেবপুর চৌরাস্তায় মুক্তিযোদ্ধা ভাষ্কর্য নির্মাণ করতে উতসাহ দেন এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। মেজর জেনারেল আমিন আহমেদ চৌধুরী গ্যালারী ডটস আয়োজিত শিল্পী আব্দুর রাজ্জাক স্মৃতিচারণে এ বিষয়ে আলোকপাত করেন ৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৬ তারিখে।

মুক্তিযুদ্ধের ভাষ্কর্য পর্যালোচনা করলে দু’টি স্বতন্ত্র ধরন সুস্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। একটি ধারা পূর্বালোচিত সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতাকে আদর্শ ধরে সমাজতান্ত্রিক ভাষ্কর্যের বিপ্লবী ভাবধারা প্রকাশেচ্ছু। অপর ধারাটি বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে, প্রতীক দিয়ে স্বাধীনতার আদর্শ ও নানান তথ্য উপস্থাপন করেছে।

 

স্থায়িত্ব, প্রতিক্রিয়া, সম্ভাবনা সব মিলিয়ে ভাষ্কর্যের চেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম আর নেই। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশের বিভিন্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধের ভাষ্কর্যগুলো তাদের বিশালতা নিয়ে ধারন করে আছে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

 

জাগ্রত চৌরাঙ্গী

মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের অসামান্য আত্মত্যাগের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য। ভাস্কর আবদুর রাজ্জাক জাগ্রত চৌরঙ্গীর ভাস্কর। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ১৯৭২-৭৩ সালে এটি নির্মাণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় নির্মিত এটিই প্রথম ভাস্কর্য। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চের আন্দোলন ছিল মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ। আর এই প্রতিরোধযুদ্ধে শহীদ হুরমত উল্যা ও অন্য শহীদদের অবদান এবং আত্মত্যাগকে জাতির চেতনায় সমুন্নত রাখতে স্থাপন করা হয় দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যকর্ম জাগ্রত চৌরঙ্গী।

জাগ্রত চৌরাঙ্গী

অবস্থানঃ

জয়দেবপুর চৌরাস্তার সড়কদ্বীপে ।

 

আকারঃ

রি-ইনফোর্সড সিমেন্ট ঢালাইয়ে নির্মিত আঠারো ফুট উঁচু এ ভাষ্করটি ২২ ফুট উঁচু একটি বেদীর ওপর প্রতিষ্ঠিত।দৃঢ়ভাবে ভূমির সঙ্গে আবদ্ধ দুই পায়ে স্থির অচঞ্চল দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাম্য মুক্তিযোদ্ধার এই অবয়বধর্মী ভাস্কর্যটির এক হাতে রাইফেল অন্য হাতে উদ্যত গ্রেনেড। যে-কোনো আক্রমণ প্রতিরোধে প্রস্তুত এমন বোধের জন্ম দেওয়াই বোধহয় ভাস্করের উদ্দেশ্য ছিল। বেদির চারদিকে ২০৭ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম লেখা রয়েছে। ভাষ্কর্যটির শিল্পরীতি সম্পর্কে স্থপতি রবিউল হুসাইন বলেন, হয়তো সেটা গিতিহীন, আরো দূর্বার শক্তিতে সঞ্চারিত হবার অপেক্ষা রাখে- এরকম সমালোচনা করা যায়। তবুও এটির উজ্জ্বল উপস্থিতিকে অস্বীকার করা যায় না।

 

অপরাজেয় বাংলা

 

উদয়ের পথে শুনি কার বাণী

ভয় নাই ওরে ভয় নাই

নি:শেষে প্রাণ যে করিবে দান

ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান : ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৯

 

উদ্বোধক : মুক্তিযুদ্ধে আহত একজন মুক্তিযোদ্ধা

অপরাজেয় বাংলা

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবন প্রাঙ্গণে ত্রিকোণ বেদীর উপর দাঁড়ানো তিন-মুক্তিযোদ্ধা আমাদের ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়কে বিবৃত করছে, আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তাক্ত সময়, বাঙালী জাতির গৌরবময় ঐতিহ্যের বাণী যেন কথা বলে উঠছে। আর অন্যদিকে তার সময় যেন ১৯৭১-এর সীমা ছাড়িয়ে আমাদের সমস্ত সংগ্রামের ভেতরে বিস্তৃত হয়েছে। আমাদের সমস্ত আন্দোলনের প্রতিভূ এই অনন্য-উজ্জ্বল ভাস্কর্য- আমাদের জাতির পরিচয়কেই ব্যক্ত করছে ‘অপরাজেয় বাংলা’ শিরোনামে।

‘অপরাজেয় বাংলা’ সকল শোষণ-শাসনের বিরুদ্ধে শাণিত সাহসে দাঁড়িয়েছে বারবার- পরাজয়ের কাছে মাথা নত করে নি সে, পরাজয়ই মাথা নত করেছে তার কাছে। এই ভাস্কর্যও তেমনি আঘাতের সামনে উদাধত হয়ে দাঁড়িয়ে থেকেছে- ঋজু এবং সাহসী ভঙ্গিতে। তাঁর দর্পিত মাথা ধুলি স্পর্শ করেনি, যে রকম বাঙালী করে নি তার হাজার বছরের ইতিহাসে। রক্তপাত ঘটেছে, প্রতিক্রিয়াশীলদের রুখে দাঁড়িয়েছে ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজ। achat viagra cialis france

স্বাধীনতার চেতনা যখন ভূলুন্ঠিত তখন ঊনআশির বাংলাদেশে ‘অপরাজেয় বাংলা’ বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে এই রকম প্রতিবাদী, সাহসে উজ্জ্বল অমিততেজ যোদ্ধাদের কথা, আমাদের চেতনায় ঘা দিচ্ছে- ‘জাগবার দিন আজ দুদিন চুপি চুপি আসছে’।

এই ভাস্কর্য হাজার বছর ধরে কথা বলবে। আমরা এবং আমাদের উত্তরসূরীরা প্রেরণার উৎসমূলে স্থাপন করব এই ভাস্কর্যকে। নীলক্ষেতের সবুজ চত্বর পেরিয়ে যেতে যে কোনো বাঙালী পথিক একবার, অন্তত একবার বাংলাদেশের ইতিহাসকে স্মরণ করবে, বাঙালীর ইতিহাসকে স্মরণ করবে-‘স্পর্ধায় নেয় মাথা তুলবার ঝুঁকি’।

 

অপরাজেয় বাংলা স্বাধীনতার স্মারক ভাস্কর্য

১৯৭৩ থেকে ১৯৭৯- সাত বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম, বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে শেষ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য নির্মাণ। একদিন যা ছিল শুধুই কল্পনা, বুঝি বা স্বপ্ন, পাথর কেটে তা মূর্ত করে তুলেছেন শিল্পী আব্দুল্লাহ খালিদ। এই ভাস্কর্যকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্কের ঝড় উঠেছিল, ধর্মান্ধরা এসেছিল নিশ্চিহ্ন করে ফেলতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রক্ত ঢেলে প্রতিহত করেছে সে হামলা, রুখে দাঁড়িয়েছে গোঁড়ামির বিরুদ্ধে।

একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রতিরোধ, মুক্তি ও সাফল্যকে ধারণ করছে এই পাথুরে শিল্প। অল্প দূরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা, যার ধূলি-মাটিতে গেঁথে আছে বাঙালী জাতির অজেয় ইতিহাস। একাত্তরে এখানেই প্রথম উড়েছিল স্বাধীনতার পতাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ইতিহাসে পালন করেছে শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য তার অহঙ্কারে সংযুক্ত করে দিল নতুন গৌরব। levitra 20mg nebenwirkungen

কলাভবনের সামনে আইল্যান্ডের উপর তৈরি হয়েছে ত্রিকোণ বেদী- মাটি থেকে ১৮ ফুট উঁচু, বেদীর উপর ১২ ফুট উঁচু তিনটি ফিগার। দৃপ্ত ভঙ্গিতে দাঁড়ানো সশস্ত্র দুই যোদ্ধা-পুরুষ, ফার্স্ট এইড বক্র নিয়ে শুশ্রুষার উৎস এক নারী। এদের শরীর পাথরের নয়, একটি জাতির অভ্যুদয়, বলিষ্ঠ আত্মপ্রত্যয় সঞ্চালিত হচ্ছে এদের হৃৎপিন্ডে, শিরা-উপশিরায়।

দীর্ঘ প্রায় সাত বছর দেশের সার্বিক ক্ষেত্রে ঘটেছে পালাবদল, এই ভাস্কর্যের ওপরও তার প্রত্যক্ষ-অপ্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া পড়েছে। অর্থনৈতিক কারণ ছাড়াও নানাবিধ কারণে এর নির্মাণ কাজ ব্যাহত হয়েছে একাধিক বার। স্বাধীনতাযুদ্ধের উত্তাল স্মৃতিকে শিল্পরূপে মন্ডিত করে তুলতে অপরিসীম শ্রম করেছেন আব্দুল্লাহ খালিদ, সহকারী বদরুল আলম বেণু। এই কাজের সঙ্গে সব পর্যায়ে সংযুক্ত ছিলেন ম. হামিদ। দেশপ্রেমের উজ্জীবনে তাড়িত এই শিল্পীরা দিনের পর দিন, বছরের পর বছর অনলস শ্রম, মেধা ও দু:সাহস দিয়ে করেছেন এর প্রাণ সঞ্চার। এই পথপরিক্রমা প্রচন্ডভাবে বিঘ্নিত করেছে তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন। অনিশ্চয়তা তাদের আক্রান্ত করেছে বারবার, চক্রান্তের কালোহাত বহুবার গ্রাস করতে এগিয়ে এসেছে। কিন্তু পিছিয়ে যান নি তারা, দুর্জয় মনোবলে পদদলিত করেছেন সব ধরণের প্রতিবন্ধকতা। একটি জাতির আত্মচেতনার উন্মেষ, তার বিকাশ ও উপলব্ধি সার্বক্ষণিক প্রেরণা ছিল বলেই এটা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়েছে।

১৯৭৭ সালে প্রতিক্রিয়াশীলরা জিপিও’র সামনে থেকে একটি ভাস্কর্য অপসারিত করে। তাদের দ্বিতীয় শিকার হয়েছিল এ ভাস্কর্য। ১৯৭৭ সালের ২৮ আগস্ট তারাই ভাস্কর্যটি নির্মূল করার উদ্যোগ নেয়। স্বাভাবিক ও সঙ্গত কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্ররা তা প্রতিহত করে। অনিবার্য সেই সংঘর্ষে ৩০ জন ছাত্র আহত হয়, চারজন গ্রেফতার হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে ছাত্রসমাজ, দাবী ওঠে অসম্পূর্ণ ভাস্কর্যটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করার। glyburide metformin 2.5 500mg tabs

স্বাধীনতা এসেছে লাখো শহীদের রক্তের পথ বেয়ে, সেই স্বাধীনতার স্মৃতিকে মর্যাদা দিতে প্রয়োজনে আরো রক্তপাত হবে- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ এ ব্যাপারে কোনোদিন কুন্ঠিত ছিল না, থাকবেও না। irbesartan hydrochlorothiazide 150 mg

 

নেপথ্যের কথকতা

১৯৭৩ সালে তদানীন্তন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ স্মরণে একটি ভাস্কর্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। সে সময়ের ডাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক ম. হামিদ শিল্পী আব্দুল্লাহ খালিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রয়োজনীয় আলাপ আলোচনার পর ভাস্কর তিন ফুটের একটি মডেল তৈরির কাজ শুরু করেন্ প্রতিদিন ১২/১৩ ঘন্টা খেটে তিনমাস পর পিসটি তৈরি হয়। তিনটি ফিগারের জন্য তিনজনকে মডেল হিসেবে নেওয়া হয়। এরা হচ্ছেন- বদরুল আলম বেণু, সৈয়দ হামিদ মকসুদ ফজলে এবং হাসিনা আহমেদ।

ভাস্কর্যটির নির্মাণ কাজের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও তদারকের জন্য সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কে.এম. সাদউদ্দিন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ড. বেলায়েত হোসেন এবং ম. হামিদকে (ডাকসু’র প্রতিনিধি) নিয়ে ৩ তদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

একটি বেদীর উপর ভাস্কর্যটি নির্মাণের পরিকল্পনা দিয়েছিলেন স্থপতি কবি রবিউল হুসাইন। তিন ফুটের মডেল চারগুণ বড় করে তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মেসার্স শহীদুল্লাহ এন্ড এসোসিয়েটস প্রসারিত করলো সহযোগিতার হাত। মডেলটির আনুপাতিক সম্প্রসারণের পদ্ধতি উদ্ভাবন করলেন ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল্লাহ। ভাস্কর্যটির জন্ম থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত জনাব শহীদুল্লাহর ফার্ম কোনোরূপ পারিশ্রমিক ছাড়াই কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে। তাঁর সক্রিয় ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ভাস্কর্যটি জন্মাবধি পেয়েছে।

লোহা এবং পাথরের সমবায়ে এই মনুমেন্টাল ভাস্কর্যটির ভিত এত শক্ত যে হাজার বছরেরও বেশি স্থায়িত্ব হবে এর, যদি কোনো ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে। চৌদ্দশ মাইল বেগের ঝড়তুফানেও এর কিছু হবে না। ফিগার হচ্ছে লাইফ সাইজের দ্বিগুণ (১২ ফুট), প্রস্থ ৮ ফুট, ব্যাস ৬ ফুট। মাটি থেকে উচ্চতা ১৮ ফুট। ফিগারে ব্যবহৃত লোহার রড মাটি থেকে শুরু, ভিতরে ফ্রেম ছাড়া পুরোটাতেই ব্যবহৃত হয়েছে পাথর। ঢালাই হয়েছে ৩৬ বার, প্রতিবার চার ইঞ্চি করে।

১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি কাজ শুরু হয়। ১৯৭৯ সাল অব্দি একাধিকবার নির্মাণকাজ বিঘ্নিত হয়েছে। কারণ অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রিকও অনেকটা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়- ঢালাই তখন শেষ পর্যায়ে। ভাস্কর্য কমিটি, শিল্পী চেষ্টা করলেন আবার কাজ শুরু করার, ফল হয় নি। এ সময়ের ভাস্কর আব্দুল্লাহ খালিদ মেটাল স্কাল্পচার বিষয়ে পড়াশোনার জন্য লন্ডন যান। লন্ডনে বেশিদিন থাকা হয় নি, অসমাপ্ত শিল্পকর্মের হাতছানিতে দেশে ফিরে আসেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভাস্কর্যটির নির্মাণ কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেন- নানাবিধ্ কারণে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া বিলম্বিত হয়। ১৯৭৮ সালের সেপ্টম্বর কর্তৃপক্ষ কাজটি শেষ করার অনুমোদন দেন। নতুন করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয় অধ্যাপক এ কিউ এম বি করিমকে সভাপতি ও জনাব কে এম সাদউদ্দিনকে সম্পাদক করে। কমিটির অন্যান্যরা হলেন : কোষাধ্যক্ষ জনাব এ এ এম বাকের, সদস্য- ড. এ বি এম মাহমুদ, সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ, ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, ড. আখতারুজ্জামান, জনাব শফিউল্লাহ ভূঁইয়া, জনাব শামসুল আলম, জনাব ম. হামিদ। ১৯৭৯ সালে ডাকসু নির্বাচনের পর ডাকসু’র সহ-সভাপতি জনাব মাহমুদুর রহমান মান্না এবং ডাকসু’র সাধারণ সম্পাদক জনাব আখতারউজ্জামান ভাস্কর্য কমিটির সদস্য হন।

১৯৭৯ সালের ১৯ জানুয়ারী পুর্ণোদ্যমে কাজ শুরু হয়। রোদে পুড়ে, জলে ভিজে গড়ে প্রতিদিন ৭/৮ ঘন্টা খেটে কাজটি সম্পূর্ণ হয়।

ভাস্কর্যের মূল মডেলটি রাখা হয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল হোস্টেলের একটি কক্ষে। যথোপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা নষ্ট হয়ে যায়। সমঋতির উপর নির্ভর করে শিল্পী কাজটি শেষ করেন।

 

তিন ফিগার viagra in india medical stores

শুশ্রুষার কোমলতা শুধু নয়, ফার্স্ট এইড বক্সের বেল্ট ধরা তরুণীর মুখাবয়বের দৃপ্ত কাঠিন্য চমৎকার। মুক্তিযুদ্ধে নারীসমাজ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সম্পন্ন করেছে, যুগিয়েছে সাহ, আর্তের চিৎকারে শুশ্রুষা সেবায় হয়েছে ভাস্বর। সহযোদ্ধার সঙ্গে একাত্মতা ত্বরাণ্বিত করেছে স্বাধীনতা। মডেল- হাসিনা আহমেদ।

এর পরের ফিগার গ্রামীণ মুক্তিযোদ্ধার। হাতে তার উষ্ণ গ্রেনেড, ডান হাত দৃঢ় প্রত্যয়ে ধরে রেখেছে রাইফেলের বেল্ট। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এই মুক্তিযোদ্ধার চোখ-মুখ স্বাধিকার চেতনায় উদ্দীপ্ত, নিরাপোষ। মডেল- বদরুল আলম বেণু।

তার পরের ফিগারটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের। থ্রি নট থ্রি রাইফেল হাতে দাঁড়ানো, সাবলীল কিন্তু তেজী ভঙ্গি। ভায়োলেন্সের চিহ্ন তার অস্তিত্বে প্রকাশিত, শত্রু হননের প্রতিজ্ঞায় অটল। মডেল- সৈয়দ হামিদ মকসুদ ফজলে।

 

ভাস্কর

সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ বি এফ এ পাস করেন বাংলাদেশ চারু ও কারুকলা কলেজ থেকে। ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার অব ফাইন আর্টস পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান লাভ করেন। ফাইন আর্টসের ছাত্র হলেও বরাবরই মনোযোগ ও আগ্রহ ছিল ভাস্কর্যের দিকে।

তিনি বলেন, আমাদের সংস্কৃতি সভ্যতার শাশ্বত উত্তরাধিকার তার এ শ্রমসাধ্য নির্মাণের মূল প্রেরণা। স্বাধীনতা ও তারুণ্যের অনমনীয় মনোভাব এ ভাস্কর্যের খাঁজে খাঁজে প্রস্ফুটিত। তিনি মনে করেন যে এ ভাস্কর্যের নির্মাণ, কল্পনা, শরীর কাঠামো সবই বাংলাদেশের জল-হাওয়ার সস্নেহ লালন, ফিগারগুলোর মডেলও এ দেশের মানুষ, রক্ত-মাংসের মানুষ। সুগঠিত দেহসৌষ্ঠব আমাদের হতে পারে না- এ হীনমন্যতা অনুমোদন করা যায় না। ভাস্কর্য নির্মাণে যেখান থেকে বাধা পাওয়ার কথা সেখান থেকে বাধা আসে নি। বিস্ময়ের সঙ্গে দেখেছি, যাদের উৎসাহ দেয়ার কথা তারাই বাধা দিয়েছেন। সেই প্রতিবন্ধকতা এসেছে কখনো প্রত্যক্ষ হুমকি হয়েও। দেশ, জাতি, বৃহত্তর ছাত্রসমাজের প্রতি আমার দায়িত্ব উপলব্ধি করে সব নীরবে সহ্য করেছি আমি। আমার মনে হয়েছে, কাজটি আমি সম্পূর্ণ না করলে হয়তো কোনোদিনই তা শেষ হবে না। বিভিন্ন স্তরের মানুষ আমাকে যে ভালবাসা দিয়েছেন, তা-ই আমার শক্তি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- কোনো শক্তি, কোনো দুর্যোগ আমাদের স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে পারবে না।

 

 

সংশপ্তক

মুক্তিযুদ্ধের ভাষ্কর্যচর্চায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন ভাষ্কর হামিদুজ্জামান। তাঁর অন্যতম বড় মাপের কাজ ‘সংশপ্তক’। সংশপ্তক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতর্পণমূলক ভাস্কর্যগুলোর অন্যতম। accutane prices

সংশপ্তুক

অবস্থান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক পায়ের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে এ ভাস্কর্যটি।১৯৯০ সালের ২৬ মার্চ এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়। এটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন জাবির উপাচার্য অধ্যাপক কাজী সালেহ আহম্মেদ।

আকার

বেদূঈর উচ্চতা ১৫ ফুট এবং মূল ভাষ্কর্যের উচ্চলা ১৩ ফুট। মূল ভাস্কর্যটি ব্রোঞ্জ ধাতুতে তৈরি। এছাড়া এটি নির্মানে লাল সিরামিক ইট ব্যবহার করা হয়েছে। ভাষ্কর্যটির জ্যামিতিক ভঙ্গি এনেছে গতির তীক্ষ্ণতা।

স্থাপত্য তাপর্য

১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৩০ লক্ষ শহীদের তাঁজা প্রাণ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল বাঙালি জাতি। তাদের এ আত্মত্যাগের বিনিময়ে জন্ম হয়েছে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। ১৯৭১ সালের বিজয় দিবস কে স্মরণ রাখার জন্য বিভিন্ন জায়গায় তৈরি করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ । সেই রকম ভা+৬বে বাঙালি জাতির এই গৌরব ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ধরে রাখতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হয়েছে স্মারক ভাস্কর্য ‘সংশপ্তক’। শিল্পী হামিদুজ্জামান খান ভাস্কর্যটিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্রোঞ্জের শরীরে প্রতীকী ব্যঞ্জনায় প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবজ্জল ইতিহাস, ঐতিহ্য ও চেতনাকে এতে দৃশ্যমান করা হয়েছে।‘ সংশপ্তক’ হলো ধ্রুপদী যোদ্ধাদের নাম। মরণপন যুদ্ধে যারা অপরাজিত। এ ভাস্কর্যটির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যুদ্ধে শত্রুর আঘাতে এক হাত, এক পা হারিয়েও রাইফেল হাতে লড়ে যাচ্ছেন দেশমাতৃকার বীর সন্তান। মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করা যাদের স্বপ্ন, শত্রুর বুলেটের সামনেও জীবন তাদের কাছে তুচ্ছ। সংশপ্তকের গায়ে প্রতিফলিত হয়েছে ধ্রুপদী যোদ্ধাদের দৃঢ় অঙ্গীকার। যুদ্ধে নিশ্চিত পরাজয় জেনেও লড়ে যান যে অকুতোভয় বীর সেই সংশপ্তক। আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চেতনাকে দৃশ্যমান করার লক্ষেই ‘সংশপ্তক’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় বীরদের স্মরণেও এটি নির্মাণ করা হয়েছে।আরো অনেক পরে সংশপ্তক অনুসরণে ঢাকার পান্থপথে ইউটিসি সেন্টারে একটি ঝুলন্ত-ভাস্কর্য তৈরি করেন। স্টেনলেস ইস্পাতের সরু নলকে পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে নির্মিত এই ভাস্কর্যটিও অনবদ্য।

স্বাধীনতোত্তরকালে এই তিন ভাষ্করের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ভাষ্কর্যঃ

আব্দুর রাজ্জাক- শিল্পী আব্দুর রাজ্জাক সিলেট জালালাবাদ সেনানিবাসে তৈরি করেছেন ‘অনূশীলন’ নামক একটী ভাষ্কর্য। সিমেন্ট দিয়ে তৈরি এ ভাষ্কর্যটি শত্রুর অপেক্ষায় ওত পেতে থাকা একজন মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক।

আব্দুল্লাহ খালিদ- ‘অপরাজেয় বাংলা’-র পর আব্দুল্লাহ খালিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি চাঁদপুর রেলওয়ে লেকে স্থাপিত ‘অঙ্গীকার’ ভাষ্কর্য। ১৯৮৮ সালে এটির নির্মাণ শেষ হয়। ২২ ফুট ৭ ইঞ্চি স্টেনগানসহ একটি মুষ্টিবদ্ধ হাত ভাষ্কর্যের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। মুষ্টিবদ্ধ হাতে ধরা স্টেনগানে রয়েছে দৃঢ়তা ও প্রত্যয়ের প্রতিচ্ছবি।

হামিদুজ্জামান- হামিদুজ্জামান ফরিদপুর জজকোর্ট প্রাঙ্গনে ‘স্বাধীনতা’, বাংলা একাডেমীতে ‘মুক্তিযোদ্ধা’, আশুগঞ্জ জিয়া সার কারখানার প্রবেশমুখে মুষ্টিবদ্ধ হাতে রাইফেল উঁচিয়ে ধরা ৫০ ফুট উঁচু ‘জাগ্রত বাংলা’ এবং সিলেট জালালাবাদ সেনানিবাস গেইটে ৮ ফুট ধাতব ভাষ্কর্য স্থাপন করেছেন। এছাড়া ব্রোঞ্জে একাত্তরের স্মরনে নির্মিত ‘দরজা’, ‘ঝুলন্ত মানুষ’, ‘হামলা’, ‘মুক্তিযোদ্ধা-১’ ও ‘মুক্তিযোদ্ধা-২’ তাঁর উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্য। এগুলো ব্রোঞ্জ, তামা ও ইস্পাতে তৈরি।

 

তথ্যসূত্রঃ চারু ও কারু কলা, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি

উইকিপিডিয়া

অফিশিয়াল পেজ ডাকসু

doctorate of pharmacy online

You may also like...

  1. বাহ লেখাটি অনেক সুন্দর হয়েছে । স্বাধীনতা পরবর্তী শিল্পকলা নিয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ধন্যবাদ । তবে প্রতিটি ভাস্কর্যের বর্ণণার সাথে ছবি সংযুক্ত করলে মনে হয় আরো ভালো হত । চালিয়ে যান । আশা করি বিষয়টার প্রতি লক্ষ করবেন ।

  2. অসংখ্য ধন্যবাদ। ভাস্কর্য সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানানোর জন্য।

  3. চমৎকার তথ্যসমৃদ্ধ একটি পোস্ট… :-bd অনেক কিছু জানতে পারলাম। লেখিকাকে ধন্যবাদ এমন একটি পোস্ট দেবার জন্য… %%- %%- %%-

    nolvadex and clomid prices
  4. ভাস্কর্য নিয়ে চমৎকার একখান লিখা!

    স্বাধীনতা পরবর্তীকালীন জীবনের সকল ক্ষেত্রে যেমন পরিবর্তন এসেছে, শিল্পকলার ক্ষেত্রেও এ পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। স্বাধীনতোত্তরকালে কুসংস্কার, অশিক্ষা, ধর্মীয় গোঁড়ামি সত্ত্বেও এদেশে আধুনিক স্থাপত্য ও ভাস্কর্য চর্চায় এক নতুন উদ্দীপনায় অগ্রসর হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে বিশাল আকৃতির স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের মাধ্যমে আমাদের শিল্পীরা সামাজিক নিয়ম-নীতির প্রচলিত গোড়ামির শিকল ভাঙ্গতে সক্ষম হয়েছেন।

    অসাধারণ… ^:)^ ^:)^ ^:)^ ^:)^ ^:)^ ^:)^ ^:)^ ^:)^ ^:)^
    পরেছি!!শেয়ার দিয়েছি…
    স্যালুট ইমো নাই ক্যারে!! স্যালুট সকল ভাস্করকে…

  5. কৃষ্ণ গহ্বর বলছেনঃ

    সভ্যতায় আমার প্রথম প্রবেশ।এবং আমার পড়া প্রথম ব্লগ।লেখাটি ভালো লেগেছে।

    can your doctor prescribe accutane
  6. অনেক ভাল হয়েছে লেখাটি। আশা করি ভবিষ্যতে তোমার কাছ থেকে এরকমই ভাল ও উন্নতমানের লেখা পেতে থাকব। :x :x :x

  7. শঙ্খনীল কারাগার বলছেনঃ

    তথ্য নির্ভর একটি চমৎকার লেখা পড়ে ভাল লাগলো। wirkung viagra oder cialis

  8. অসাধারণ পোস্ট…
    আমার পড়তে এতক্ষণ লাগলো তাহলে আপনার তথ্য সংগ্রহ ও লিখতে কত ক্ষন লেগেছে কে জানে…
    পোস্টটি স্টিকি করার জন্য মডারেশন প্যনেলকে ধন্যবাদ।

    আর পোস্ট কর্তাকেও :জয় গুরু: :জয় গুরু:

  9. ইলেকট্রন রিটার্নস বলছেনঃ

    চমৎকার পোস্ট দিয়েছো মাশিয়াত। কিপ ইট আপ!

  10. লেখিকা একই সাথে আমাদের রক্তাক্ত জন্মইতিহাস এবং অসাধারন শিল্পকলার ম্যাগনিফিসেনস চমৎকার লেখনীর টানে একসাথে বেধেছেন… :x :x :)>- :জয় গুরু: :জয় গুরু:

    অসাধারন লেখনীর এই ধারা বহমান থাকুক… :-bd :-bd :-bd :গোলাপ নিন:

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

buy kamagra oral jelly paypal uk

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

metformin tablet

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

zoloft birth defects 2013