বিবর্তনবাদ , জীবের বংশানুক্রমিক ক্রমবিকাশ

431

বার পঠিত

প্রাণের দুইটি প্রধান সত্ত্বা থাকে। একটি হচ্ছে ইন্সট্রাকশান সেট। এবং অপরটি ইনস্ট্রাকশান গুলোকে ফলপ্রসু করার জন্য একটি বায়ো-কেমিক্যাল মেকানিজম। জীববিজ্ঞানের ভাষায় অন্যভাবে বলা যায় জেনেটিক্স এবং মেটাবলিজম। মহাবিশ্বে সবকিছুই মূলত ক্যায়োটিক ফেইজে ধাবিত হয়, যেটাকে ফিজিক্সের ভাষায় বলে এনট্রপি। মহবিশ্বের মাঝে যদি আমরা আলাদা একটি সিস্টেম বিবেচনা করি তাহলে সেই সিস্টেমে শৃঙ্খলার পরিমাণ বাড়তে পারে অর্থাৎ এনট্রপির মান কমতে পারে। সেটা শুধু ঐ সিস্টেমের জন্য প্রযোজ্য সামগ্রিক মহাবিশ্ব তার আওতাধীন নয়। কিন্তু বস্তুত, ঐ সিস্টেমে এনট্রপির মান যে হারে কমে পারিপার্শ্বিক সিস্টেমে তার চেয়ে অনেক বেশি হারে বাড়তে থাকে।

ধরে নিই প্রাণের সৃষ্টি একটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া এবং এটি এনট্রপির বৃদ্ধির বিপরীতে গড়ে উঠছে এবং এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি রি প্রোডাক্টিভ। তার মানে দাঁড়ায় এটি সিমিলার সিস্টেমের পাশাপাশি নিজস্ব স্বাধীন সুশৃঙ্খল সিস্টেমকে অতিক্রম করে যায়না। কিন্তু এই সিস্টেমটা টিকিয়ে রাখতে খাদ্য সৌরালোক এই জাতীয় সুশৃঙ্খল শক্তিকে তাপের মত বিশৃঙ্খল শক্তিতে রূপান্তর করতে হয় আর এভাবেই মহাবিশ্বে এনট্রপি বৃদ্ধির মেকানিজমটা অক্ষুণ্ণ থাকে। প্রাণসত্ত্বা কি শুধুই জৈব ভিত্তিক হতে হবে? আমরা কম্পিউটার ভাইরাসের দিকে লক্ষ করতে পারি। এর মাঝে সুনির্দিষ্ট ইনস্ট্রাকশান সেট আছে। এবং মেমরিতে এটি প্রতিলিপি সৃষ্টিতেও সক্ষম যা একটি মেকানিজমের ভিত্তিতে হয়ে থাকে সেটা যেমনই হোক। তার মানে কম্পিউটার ভাইরাস প্রাণের দুইটি সত্ত্বা অর্থাৎ ইনস্ট্রাকশান এবং মেকানিজমকে সিদ্ধ করছে। কিন্তু আমরা যদি বায়ো কেমিক্যালি চিন্তা করি তাহলে এর মাঝে মেটাবলিজম নেই। তবে, কম্পিউটার ভাইরাস প্যারাসাইটস। যদিও আমরা সামগ্রিক ভাবে তাকালে নিজেরাও প্রাণধারনের জন্য অন্যান্য সত্ত্বার উপর নির্ভরশীল। এটাকে প্রাণের ইলেকট্রিক্যাল ফর্ম বলে অভিহিত করা হয়। আর আমরা স্বাভাবিক ভাবে প্রাণ বলতে যা বুঝি সেটা হচ্ছে প্রাণের বায়োলজিকাল ফর্ম।

অ্যান্ট্রপিক প্রিন্সিপাল নামক একটি সেলফ এভিডেন্স সূত্র মহাবিশ্ব নিয়ে গবেষনা করার ক্ষেত্রে সুদূর প্রসারী ভূমিকা রাখে। এটি একটি সেলফ এভিডেন্স। এই সূত্রের একটা উপপাদ্য অনুসারে মহাবিশ্বে পদার্থবিজ্ঞানের ধ্রুবক গুলো সমান ধরে নেয়া হয়। কিভাবে? নভোবিজ্ঞানে মাল্টি ইউনিভার্সের ধারণা নতুন নয়। ধরা যাক আমাদের মহাবিশ্বে পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র গুলো একরকম, তাহলে অন্যান্য মহাবিশ্বে কি একই রকম হবে? যদি একই রকম না হয়, যদি সূত্র এবং ধ্রুবক সম্পর্কিত অ্যাজাম্পশান গুলো ভুল হয়, তাহলে সেটা তো আমাদের মহাবিশ্বের ফিজিক্সের উপর প্রভাব ফেলছেনা। আমাদের গুলো আমাদের মতই আছে। তাহলে আমাদের সূত্র গুলোও প্রভাবিত হচ্ছেনা। renal scan mag3 with lasix

মহাবিশ্বে প্রাণের স্বয়ংক্রিয় উৎপত্তির মূলে রয়েছে আর এন এ এবং সমগোত্রীয় সরল শিকল পলিমার। তবে, সেখানেও উৎপত্তির অনেক মারপ্যাঁচ থেকে যায়। আশার ব্যাপার হচ্ছে কিছুকাল আগেই কয়েকজন গবেষন এক্স এন এ নামের নতুন ছয়টি সহজ শিকল পলিমারের ধারণা দিয়েছেন। এন এ মানে নিউক্লিক এসিড। আর এক্স দ্বারা বোঝানো হয় বিজারিত চিনি। তবে, এই চিনি গুলো কিন্তু আমাদের অক্সি রাইবোজ বা ডি অক্সি রাইবোজ গোত্রের নয়। রাইবোজ এবং ডিঅক্সিরাইবোজ কে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে পাঁচ কার্বনের চিনিআরাবিনোজ (এএনএ ),২- ফ্লরোআরাবিনোজ (এফএএনএ),চার কার্বনের চিনি থ্রিওজ (টিএনএ),লকড রাইবোজ (এলএনএ),ছয় রিংয়ের কাঠামোর সাইক্লোহেক্সিন (সিএএনএ) এবং আনহাইড্রোহেক্সিটোল (এইচএনএ) দিয়ে। আশার কথা হচ্ছে ছয়টিএক্স এন এ-র সবকটিতে জৈব নিউক্লিসঘটিত ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা লক্ষ্য করা গেছে। এক্স এন এসংশ্লেষিত জেনেটিক পলিমারের ভূমিকায় কাজ করছে। এক্স এন এর প্রতিলিপি তৈরী করা হয়ডি এন এ তে রিভার্স ট্রান্সক্রাইব করেডিএনএ কে এ্যাম্প্লিফাই করা হয় পিসিআর পদ্ধতি প্রয়োগ করে । এরপরে সেই ডি এনএ কে আবার এক্স এন এ তে ফরওয়ার্ডট্রান্সক্রাইব করা হয়। প্রতিটি স্তরেপলিমার ব্যবহৃত হয় এবং এ্যামপ্লিফিকেশনে ব্যবহার করা হয় ডি এন এ।সংশ্লেষন এবং এবং রিভার্স ট্টান্সক্রিপশন প্রক্রিয়া বংশগতি প্রতিষ্টা করেএবং ছয়টি এক্স এন এ-র সব কটিই এ উদ্দেশ্যে সফল। এর পরেই আসে বিবর্তনেরপ্রশ্ন।‌ এক্ষেত্রে এইচ এন এ পলিমার পরীক্ষাগারে বিবর্তিত হয়ে কার্যক্ষমঅনু এ্যাপ্টামারে পরিনত হয় যা নির্দিষ্ট প্রোটিন টার্গেটের সাথে শক্তবন্ধনে আবদ্ধ হয়। অর্থাৎ ছয়টির মধ্যে অন্তত একটি এক্স এন এ – বিবর্তনপ্রক্রিয়া সংশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে ‘এক্সএনএজাইম’ তৈরীরসম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে যা সাধারণ প্রোটিন কিংবা নিউক্লিয়িক এসিডের পরিবর্তেএক্সএনএ ভিত্তিক হবে। levitra 20mg nebenwirkungen

এই ধারণাটি দ্বারা আর এন এ এর চেয়ে বাস্তবে আরো সহজ পলিমারের একটা গাঠনিক ধারণা পাওয়া গেল যেটা প্রাণের স্বয়ংক্রিয় সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট বিকাশকে আরো অগ্রসর করতেও পারে।

জৈবিক বিবর্তনের প্রক্রিয়াটি প্রথম দিকে অনেক ধীর গতিতে হয়েছিলো। প্রথম দিকের এক কোষী প্রাণী বহুকোষীতে পরিণত হতে প্রায় আড়াই বিলিয়ন বছরের মত সময় লাগে। এবং আরো এক বিলিয়ন বছর ধরে মাছ ও সরীসৃপ প্রাণী হতে স্তন্যপায়ীতে বিবর্তিত হয়। এরপরই বিবর্তনের গতি তরান্বিত হয়। প্রথম দিকের স্তন্যপায়ী প্রাণী হতে মানুষের বিবর্তনে সময় লাগে প্রায় একশো মিলিয়ন বছর। মোটামুটি এটি হল আরো সুস্থির একটি কাঠামোতে রূপান্তর প্রণালী। কিন্তু এরকপর কি হল? মানুষের বিবর্তন কেন সংকট ময় পর্যায়ে এসে পৌঁছায়? মূলত এর মূলে আছে দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির অসামান্য ব্যবহার। শুরুটা হয়েছিলো ভাষার আবিষ্কারের মাধ্যমে। আরো নির্দিষ্ট করে বললে লিখন পদ্ধতির ফলে। পূর্বে প্রাণ সত্ত্বা সমূহে তথ্য ছড়াতো কেবলমাত্র ডিএনএ কোডনের মাধ্যমে। কিন্তু এখন সেটা ডিএনএ এর মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। বিগত দশ হাজার বছর ধরে মানুষের ডিএনএ তে জৈবিক বিবর্তনের কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা পাওয়া যা যাওয়ার এটাই একমাত্র কারণ হিসেবে সর্বাগ্রে বিবেচ্য। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জ্ঞান ধারণের পিছনে তথা উন্নত বুদ্ধিমত্তার বিকাশে এখানে ডিএনএ এর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলে নেমেছে প্রযুক্তি-ভাষা যা একসময় ছিলোনা। অথচ বর্তমানে প্রতি বছর গড়ে কেবল ইংরেজি ভাষায় ৫০ হাজারের মত বই ছাপা হয় যা প্রায় একশো বিলিয়ন বিট তথ্য বহন করে। তথ্যের একটি বড় অংশ প্রাণের বিকাশে কোনো কাজে লাগেনা তা সত্য। তবে। প্রয়োজনীয় তথ্য বৃদ্ধির হার বিলিয়ন না হলেও যদি মিলিয়ন ছুঁয়ে ফেলে সেটাও ডিএনএ তে তথ্য যুক্ত হওয়ার হারের চেয়ে অনেক বেশি।

প্রথম দিকে বিবর্তন ছিলো কেবলই রেন্ডম সিলেকশানের অন্তর্ভূক্ত। কিন্তু এই ধারাটা বিগত দশ হাজার বছরে পরিবর্তন হয়েছে যাকে বায়োলজিস্টরা বলেন এক্সটার্নাল ট্রান্সমিশান। কিছু কিছু মানুষ বিবর্তন প্রণালীটাকে কেবল জীনগত সম্প্রচার বলে ভাবেন। কিন্তু এটি কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে অগ্রসর হয়েছি। তাই এক্সটার্নাল প্রবাহিত তথ্য হিসেবে ইন্টার্নাল তথ্য অর্থাৎ জীনগত তথ্যের সাথে যুক্ত হওয়ার মতই একটা পরিবর্তন।

এটিই সহজ কথায় মহাবিশ্বে প্রাণের বিকাশ সাধনের সংক্ষিপ্ত ভূমিকা। যদিও এটি আরো বিস্তর আলোচনার দাবী রাখে, তবে আমরা যদি সংক্ষিপ্ত একটি সিদ্ধান্তে আসতে চাই সেখানে এই স্বয়ংক্রিয় উৎপত্তির ধারণাটি অনেক অবদান রাখবে। আর প্রাণের বিকাশ সাধনে বিবর্তনবাদ একটি বড়সড় মিরাকলকে বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণ করে দিয়েছে। প্রাণের উৎপত্তি সাধন তথা সহজ শিকল পলিমারের বিকাশ নিয়ে বিজ্ঞান কতটুকু এগুতে পারে সেটাই এখনকার হট টপিক।

জীববিবর্তন তত্ত্ব মূলত তিনটি ভিন্ন বক্তব্যকে প্রকাশ করে। এবং এগুলো পরস্পর সম্পর্কিত।

১) বিবর্তনের বাস্তবতা, অর্থাৎ প্রতিটি জীব একই পূর্ব পুরুষের মাধ্যমে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।

২) ক্রমবিকাশের মাধ্যমে জীবের বংশানুক্রমে বৈচিত্র্য cialis new c 100

৩) জীবজগতে একটি ক্রিয়াশীল বিবর্তন প্রক্রিয়া

প্রথম বিষয়টি সবচেয়ে মৌলিকভাবে স্বীকৃত এবং সর্বোচ্চ নিশ্চয়তার সাথে জীববিজ্ঞানীরা এটি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন। বিজ্ঞানীরা এটি নিয়ে একটি পরিষ্কার উপসংহারে পৌঁছাবেন অদূর ভবিষ্যতেই। বিজ্ঞানীদের এই সন্দেহহীনতার কারণেই তারা বিবর্তনবাদকে “ফ্যাক্ট” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

জার্মানির ব্যাভারিয়ার চুনাপাথরে খনি থেকে আবিষ্কৃত ১৫ কোটি বছর পুরাতন আর্কিওপটেরিক্সের ফসিল যার লিভিং রেকর্ড হচ্ছে জুরাসিক যুগের শেষ দিককার। ব্যাভারিয়া অঞ্চলের সলেনহোফেন চুনাপাথরের খনি থেকে বেশ কয়েকটি আর্কিওপটেরিক্সের ফসিল পাওয়া গেছে। ১৮৬০ সালে প্রথমটি পাওয়া যায় এবং শেষটি ২০০৫ সালে। এটি কাকের সমান ছোট্ট একটি প্রাণী। এর শারিরীক বিন্যাসে একই সাথে ডাইনোসর ও পাখির বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।

ইউসথেনোপ্টেরন নামের মাছ সদৃশ জীব বাস করতো আজ থেকে ৩৮.৫ কোটি বছর পূর্বে এবং ৩৫.৯ কোটি বছর পুরাতন ইকথিওস্টেগা তে পুরোপুরি উভচর প্রাণীর বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। ২০০৬ সালে কানাডার উত্তর মেরুবর্তী ইলেসমেয়ার দ্বীপ থেকে ৩৮ কোটি বছর পুরাতন টিকটালিক ফসিলের একাধিক নমুনা উদ্ধার করা হয়েছে। টিকটালিকরা ডেভোনিয়ান যুগের শেষ দিকে নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করতো যা সরীসৃপ ও মৎসের ট্রানজিশনাল ফসিল।

জীববিবর্তন তত্ত্ব কেবল জীবের ক্রমবিকাশ প্রতিষ্ঠার মাঝে আঁটকে নেই। আরো অনেক দূর বিস্তৃত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বিবর্তনের দৃষ্টিতে শিম্পাঞ্জিরা মানুষের অধিকতর নিকটতম আত্মীয়। এবং বেবুন ও অন্যান্য বানররের সাথে এদের নৈকট্য তুলনামূলক কম। প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের বর্তমানে সহজতম একটি প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ডিএনএ এর মিউটেশান। ডিএনএ এর মাঝে আমরা প্রাথমিক ভাবে তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই।

প্রথমত বলা যায়, ডিএনএ জীবের সকল জৈবিক প্রক্রিয়া পরিচালনকারী বংশগতির তথ্যগুলো ধারণ করে আছে। এই তথ্যগুলো সংরক্ষিত রয়েছে চারটি নিওক্লিয়টাইডের দীর্ঘ সারিতে অনেকটা ইংরেজি বর্ণমালার অক্ষরগুলোর অর্থপূর্ণ ধারাবাহিকতার মত। দ্বিতীয়ত বৈশিষ্ট্য হিসেবে আমরা উল্লেখ করতে পারি তা হচ্ছে জৈবিক বংশগতির যথার্থতার পেছনে এটি দায়ী। এর দ্বিসূত্রক সিঁড়ি একে অন্যের পরিপূরক। উভয়ে বহন করে একই বংশগতির তথ্য। সংশ্লেষনের সময়ে দ্বিসূত্রক সিঁড়ির কোনো একটি অংশ মূল সিঁড়ির টেমপ্লেট হিসেবে কাজ করে। চারটি নিওক্লিওটাইড জোড়ার প্রতিটি জোড়া অন্য তিনটি জোড়ার মধ্যে কেবলমাত্র একটি নিওক্লিয়োটাইডের সাথে যুক্ত হয়। A যুক্ত হয় T এর সাথে, C যুক্ত হয় G এর সাথে।

ডিএনএ এর একটি সিঁড়ির ক্ষুদ্র একটি ক্রম যদি …ATTCAGCA… হয় তবে এর পরিপূরক সিঁড়িটি হবে …TAAGTCGT…

ডিএনএ এর তৃতীয় মৌলিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মিউটেশান বা পরিব্যক্তি। বিবর্তন তথা ন্যাচারাল সিলেকশানের ক্ষেত্রে এই তৃতীয় বৈশিষ্ট্যই সরাসরিভাবে কাজ করে। অনেকক্ষেত্রে ডিএনএ অণুতে যে মিউটেশন ঘটে থাকে তার ফলে উৎপন্ন কোষগুলো তাদের মাতৃ কোষের নিওক্লিয়োটাইডের ক্রিমে এবং ডিএনএ এর দৈর্ঘ্যও ভিন্ন হয়ে থাকে। মিউটেশন প্রায়ই একটি মাত্র নিউক্লিয়োটাইডে হয়ে থাকে আবার কোনো কোনো সময় একাধিক নিওক্লিয়োটাইডেও ঘটতে পারে।

ইতিহাস থেকে জানা যায় ইংল্যান্ডের রাণী ভিক্টোরিয়ার দেহে একটি X ক্রোমোসমে হিমোফিলিয়া নামক মিউটেশান ঘটেছিলো। এই মিউটেশান পরবর্তীতে রাণীর কন্যা এবং পৌত্রাদির মাধ্যমে রাশিয়া, স্পেন এবং ইউরোপের অন্যান্য রাজপরিবারের সঞ্চারিত হয়। রাশিয়ার জার দ্বিতীয় নিকোলাসের একমাত্র পুত্র জারেভিজ অ্যালেক্সিজ তাঁর আতা আলেকজান্দ্রার কাছ থেকে এই রোগের উত্তরাধীকারী হন। এছাড়াও এই রোগের উত্তরাধীকারী হয়েছিলেন স্পেনের আলফনসো, আলফনসোর মাতা (স্পেনের রাজা ত্রয়োদশ আলফনসোর স্ত্রী) ইনা ব্রিটেনের রানী ভিক্টোরিয়ার আরেক পৌত্রী। ঐতিহাসিকরা বিশ্বাস করেন দুই রাজপরিবারে উত্তরাধিকারী হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে তাদের রাজবংশের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

একটি জনপ্রিয় প্রশ্ন হচ্ছে মানুষ কি বানর থেকে এসেছে? উত্তর না। জীবজগতে মানুষ হচ্ছে প্রাইমেট বর্গের। বানরও প্রাইমেট বর্গের। তবে মানুষরা মোটেও বানর নয়। মানুষ এবং বানরের মাঝে বেশ কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। জীববিবর্তনের দৃষ্টিতে মানুষদের সাথে বানরের চেয়ে এইপদের সাথে অধিক আত্মীয়তা বিদ্যমান। আজ থেকে প্রায় ষাট বা সত্তর লক্ষ বছর আগে মানুষ ও শিম্পাঞ্জির পূর্বপুরুষদের বংশধারা দুটি আরেক সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। জীববিজ্ঞানীরা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনটি পদ্ধতিতে পরীক্ষার মাধ্যমে। প্রথমত বর্তমান কালের জীবিত প্রাইমেটদের মাঝে মানুষের দৈহিক গঠনের তুলনামূলক পার্থক্য, দ্বিতীয় হচ্ছে অতীতকালের প্রাইমেটদের ফসিল পরীক্ষার মাধ্যমে এবং তৃতীয় পদ্ধতি হচ্ছে মানুষদের সাথে এইসকল প্রাইমেটদের ডিএনএ, প্রোটিন ও অন্যান্য জৈব অনুর তুলনামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে।

চার্লস ডারউইন তাঁর অরিজিন অব স্পিসিস গ্রন্থে মানব বিবর্তন নিয়ে কিছু না বললেও ১৮৭১ সালে প্রকাশিত আরেকটি বিশ্বখ্যাত গ্রন্থ “ডিসেন্ট অব ম্যান” এ তিনি দৃঢ় ভাবে ঘোষনা করেছিলেন মানুষ ও এইপরা সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। এবং ঐ সাধারণ পূর্বপুরুষরা মোটেও মানুষ ছিলোনা, তবে মানুষের সদৃশ ছিল। ডারউইনের এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে সমকালীন ধর্মীয় নেতারা এবং সংশয়বাদী বিজ্ঞানীরা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলেন যে “তাহলে মানুষ এবং এইপদের মাঝে মধ্যবর্তী জীব (ট্রানজিশনাল লিংক) কোথায় যাদের মাঝে মানুষ এবং এইপ উভয়ের বৈশিষ্ট্য আছে?” এই প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব আরেকদিন দেয়ার চেস্টা করবো। আজ এই পর্যন্ত। metformin gliclazide sitagliptin

You may also like...

  1. অনেক কিছু শিখলাম।
    আর “তাহলে মানুষ এবং এইপদের মাঝে মধ্যবর্তী জীব (ট্রানজিশনাল লিংক) কোথায় যাদের মাঝে মানুষ এবং এইপ উভয়ের বৈশিষ্ট্য আছে?”
    এ প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় থাকলাম।

    can your doctor prescribe accutane
  2. অসাধরন পোস্ট!! ডিটেইলসে পরে মন্তব্য ফোন করতেছি…

  3. বিজ্ঞানের এই জটিল বিষয়গুলো সহজে / গল্পে বলা কি সম্ভব নয় দাদা?

  4. মাশিয়াত খান বলছেনঃ

    আমাকে ক্ষমা করবেন আমার পোস্টটি অনেক জটিল্ লেগেছে। যেমন আপনি যখন নিউক্লিওটাইড ক্রিম বলেন। বিষয়টা পরিস্কার হয় না। কিভাবে এরপরের বিষয়গুলো হয়, দৈর্ঘবৃদ্ধি বুঝতে পারিনা। এরচেয়ে সহজিভাবে বই বিবর্তন পড়েছিলাম। দু:খিত half a viagra didnt work

    • এই পোস্টটা পিওর সায়েন্সের উপর ভিত্তি করে লিখা।

      সায়েন্সের দুইটি অংশ। একটা পিওর, অন্যটি পপুলার। আমাদের দেশের অধিকাংশ বিজ্ঞান লেখক পপুলার সায়েন্স কে ভিত্তি করে লিখা লিখি করেন। আমার এই লিখার অধিকাংশ অংশ নেয়া হয়েছে বিজ্ঞান সম্পর্কিত বিভিন্ন জার্নাল থেকে, কিছু ধারণা যুক্ত করা হয়েছে ডকিন্সের কিছু থিসিস থেকে। আর কিছু কিছু বিশ্লেষণ ছিলো একান্ত আমার নিজের। আমি ভালো করেই জানি পিওর সায়েন্স নিয়ে লিখালিখি সবাই সহজ ভাবে নিবেনা।

      অদূর ভবিষ্যতে পপুলার সায়েন্সকে বেইস করে লিখবো কিনা বা লিখলেও সেটা কিভাবে তা নিশ্চিত করতে পারছিনা। ব্যক্তিগত ভাবে আমি পপুলার সায়েন্সকে এড়িয়ে চলি ভালোভাবেই। সেটা নিজের জন্যেই, বিজ্ঞান শেখার প্রয়োজনে। প্রাথমিক ধারণা গুলো আমার আছে। তাই আমার লক্ষ্য হচ্ছে আরো বেশি গভীরে প্রবেশ করা। all possible side effects of prednisone

      এই পোস্টটি আমি করেছি ব্যক্তিগত তৃপ্তির জন্যে। পাঠক চাহিদার কথা মাথায় রেখে নয়। আপনার মন্তব্যের জন্যেও আপনাকে ধন্যবাদ।

  5. অপার্থিব বলছেনঃ

    লেখা ভাল লাগলো তবে লেখায় ডি এন এ , আর এন এ, এক্স এন এ, এন্ট্রপির মত শব্দ গুলোকে বাদ দিয়েও প্রচুর ইংরেজী শব্দ(যেমনঃ অ্যাজাম্পশান , মেকানিজম ইত্যাদি )। একারনেই অনেকের কাছে লেখাটি সহজ বোধ্য বলে মনে নাও হতে পারে।

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

zithromax azithromycin 250 mg

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

missed several doses of synthroid

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

synthroid drug interactions calcium